সাউন্ড সিস্টেমে যান্ত্রিক বিভ্রাটের কারণে জাতীয় সংসদের অধিবেশন ৪০ মিনিটের জন্য মুলতবি করা হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেল ৫টা ৫৬ মিনিটে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমাদ এই মুলতবি ঘোষণা করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের অষ্টম দিনে আজ শুরু থেকেই মাইক ও স্পিকার সিস্টেমে সমস্যা দেখা দেয়। বিকেল সাড়ে ৩টায় স্পিকারের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলেও সংসদ সদস্যরা একে অপরের কথা শুনতে পাচ্ছিলেন না। একপর্যায়ে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, "মাননীয় স্পিকার, আমাদের মাইকে সমস্যা দেখা যাচ্ছে, আপনার মাইকেও সমস্যা হচ্ছে।" পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে স্পিকার মাগরিবের আজানের জন্য ২০ মিনিট এবং সাউন্ড সিস্টেম মেরামতের জন্য আরও ২০ মিনিটসহ মোট ৪০ মিনিটের বিরতি ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর দিনও একই ধরনের মাইক বিভ্রাট দেখা দিয়েছিল। ওইদিনও সাময়িকভাবে অধিবেশন মুলতবি করতে হয়েছিল। একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় সংসদের কারিগরি ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অধিবেশন শুরুর প্রথম দিন থেকেই এমন বিভ্রাট সংসদীয় কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০ মিনিট পর মাগরিবের নামাজ ও বিরতি শেষে কারিগরি ত্রুটি সারিয়ে পুনরায় অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের প্রকৌশলীরা দ্রুত সমস্যা সমাধানের কাজ করছেন।
ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আজম খান। রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল মালিকের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ৪৮১ জনের মুক্তিযোদ্ধা গেজেট বাতিল করা হয়েছে। সংসদ সদস্য আব্দুল মালিক অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছরে অনেক অসাধু ব্যক্তি ভুয়া তথ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। এতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা বঞ্চিত হয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা দেশের গর্ব ও শ্রেষ্ঠ সন্তান। তবে কিছু ব্যক্তি অসাধু উপায়ে তালিকায় ঢুকে পড়েছে, যাদের চিহ্নিত করতে নিয়মিত তদন্ত চলছে। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) অভিযোগের ভিত্তিতে শুনানি ও যাচাই-বাছাই করে প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্টদের গেজেট বাতিল করছে। মন্ত্রী আরও জানান, প্রবাসে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ডিজিটাল সনদ ও স্মার্ট আইডি প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সিলেট অঞ্চলে মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন।
নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে ওয়াজ মাহফিলে আপত্তিকর ও কুৎসিত বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এই ঘটনার প্রতিকার ও স্পিকারের কাছে বিচার দাবি করেন। একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে তিনি জানান, বর্তমান সংসদেরই একজন সদস্য অপর তিনজন নারী সহকর্মীর বিরুদ্ধে জনসমক্ষে কদাকার ভাষায় মন্তব্য করেছেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে রুমিন ফারহানা বলেন, “আজকে খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, এই সংসদে উপস্থিত আমি এবং আমার আরও দুজন নারী সহকর্মীর বিরুদ্ধে আরেকজন সংসদ সদস্য কুৎসিত ভাষায় ওয়াজ মাহফিল করেছেন। যে ভাষায় তারা বক্তব্য দিয়েছেন, আমি আপনার কাছে এই ব্যাপারে বিচার চাইছি। আমি বিষয়টি সংসদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।” তিনি স্পিকারকে ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানান। রুমিন ফারহানার এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, কার্যপ্রণালি বিধি (রুলস অব প্রসিডিউর) অনুযায়ী সংবাদপত্রের রিপোর্টিং নিয়ে সরাসরি পয়েন্ট অব অর্ডার উত্থাপন করার সুযোগ নেই। তবে নারী সংসদ সদস্যদের প্রতি এমন অবমাননাকর বক্তব্যের বিষয়টি নিয়ে সংসদ আঙিনায় এবং রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করেছে। তবে এই অধ্যাদেশ পর্যালোচনার সময় ১৪ থেকে ১৫টি বিষয়ে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী সরকারি দলের সঙ্গে একমত হয়নি এবং তারা নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) জমা দিয়েছে। রোববার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে তৃতীয় দিনের মতো বৈঠক করে বিশেষ কমিটি। কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। এতে অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এ এম মাহবুব উদ্দিন, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, মো. মুজিবুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম খান ও জি এম নজরুল ইসলাম। এছাড়া কমিটির আমন্ত্রণে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমানও বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে বক্তব্য দেন বিশেষ কমিটির সদস্য ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, অধ্যাদেশ যাচাইয়ের সময় সরকারি দল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কিছু বিষয়ে পাস করানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু বিরোধী সদস্যরা ১৪-১৫টি বিষয়ে একমত হয়নি। রফিকুল ইসলাম খান জানান, বিশেষ কমিটি বৈঠকে মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার মতো সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সরকারি দল এগুলোকে দলীয়করণের চেষ্টা করছে। দুর্নীতি দমন কমিশন সম্পর্কেও একই পরিস্থিতি, যেখানে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগে স্বাধীনতা সীমিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হয়েছে। সংবিধানে না থাকলে গণভোটের বৈধতা কীভাবে কার্যকর হবে? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশের প্রতিটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অনেকগুলো অধ্যাদেশ সেভাবেই পাস করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সংশোধিত আকারে বিল আনা হবে। কিছু অধ্যাদেশের জন্য পরবর্তী অধিবেশনে বিল আকারে প্রণয়ন করা হবে। তিনি আরও জানান, নোট অব ডিসেন্ট যথাযথভাবে প্রতিবেদনে প্রতিফলিত হবে এবং বিল আকারে উত্থাপনের সময় সংসদ সদস্যরা মতামত দিতে পারবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণভোট অধ্যাদেশের ব্যবহার হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে আর কোনো গণভোট হবে না। তাই এটাকে বিল আকারে আনা প্রয়োজন নেই। কমিটি আগামী ২ এপ্রিল সংসদে এই অধ্যাদেশ যাচাই সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেবে।
জাতীয় সংসদে আজ বিরোধী দলের জোরালো আলোচনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব সালেহী তার বক্তব্যে ‘জুলাই বিপ্লব’-এর গুরুত্ব তুলে ধরে সরকারের অবস্থান নিয়ে কঠোর প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেশে ফেরা—সবকিছুর পেছনে মূল ভূমিকা ছিল জুলাই বিপ্লবের। তার ভাষায়, “জুলাই কোনো আবেগ নয়, জুলাই একটি বাস্তবতা, যার ভিত্তিতেই আজকের এই সংসদ গঠিত হয়েছে।” মাহবুব সালেহী দাবি করেন, বর্তমান সংসদ কোনো সাধারণ সংসদ নয়। এখানে এমন সদস্য রয়েছেন যারা ফাঁসির সেল থেকে ফিরে এসে নির্বাচিত হয়েছেন, আবার কেউ কেউ ‘আয়নাঘর’ থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এছাড়াও একজন নারী সদস্য তার স্বামীর অনুভূতি ধারণ করেই সংসদে এসেছেন—যা এই সংসদের ব্যতিক্রমী চরিত্রকে তুলে ধরে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় সরকারি দল তাদের মেনিফেস্টোর সপ্তম পাতায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত ৫ অক্টোবর গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছিলেন, আইনের কোনো বাধা নেই এবং গণভোট পাস হলে সরকার তা বাস্তবায়ন করবে। বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী রংপুরে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে জনগণের কাছে ‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়েছিলেন। জুলাই সনদের গণভোটে চতুর্থ প্রশ্নে সব রাজনৈতিক দলের তা মেনে চলার বিষয়ে ৬৯ শতাংশ মানুষ সমর্থন জানায়। কিন্তু এখন সরকার সেই গণরায় অস্বীকার করার পথে হাঁটছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার প্রশ্ন, “জনগণের স্পষ্ট রায় থাকার পরও কেন সরকার পিছু হটছে?” এই বক্তব্যের পর সংসদে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, যা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আজ রোববার (২৯ মার্চ) রাতে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সংবিধান সংস্কার এবং গণভোটের বৈধতা নিয়ে আলোচনার সময় বাধা পেয়ে স্পিকারের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের বাধার মুখে তিনি সরাসরি স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “মাননীয় স্পিকার, আপনি যদি ফ্লোর দেওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য করেন, তবে আমাদের আর এখানে থাকার দরকার নেই।” নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, তারা সংসদে সংবিধান 'সংশোধন' করতে আসেননি, এসেছেন সংবিধান 'সংস্কার' করতে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, বর্তমান সংসদ দুটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গঠিত হয়েছে—একটি গণভোট এবং অন্যটি সাধারণ নির্বাচন। এই গণভোটের ভিত্তি ছিল ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’। কিন্তু সংসদে বারবার সেই গণরায় এবং আদেশকে অসাংবিধানিক বলার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। বক্তব্য চলাকালে সরকারদলীয় এক সংসদ সদস্য বারবার বাধা দিলে নাহিদ ইসলাম উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “যে আদেশের ভিত্তিতে আমরা আজ সংসদে এসেছি, সেটাকে অসাংবিধানিক বলা হচ্ছে—এটা মেনে নেওয়া যায় না।” পরে স্পিকারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হুঁশিয়ারি দেন যে, জনগণের রায় ও জুলাই সনদকে অবমাননা করলে সংসদের কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ ও ‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’ নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক বাকবিতণ্ডা ও বিতর্ক হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানালে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশের অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী আমি এই নোটিশ উত্থাপন করছি। স্পিকারের পরামর্শ অনুযায়ী যথাযথ বিধি মেনেই এটি আনা হয়েছে।” তবে সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সংসদীয় রীতির দোহাই দিয়ে ৭১ বিধি (জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়) শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার অনুরোধ জানান। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রদান নিয়ে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা তীব্র আপত্তি ও শোরগোল শুরু করেন। বিতর্কে অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, “সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি দেশে গণভোট হয়েছে, যা জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই সংসদকে জনগণের সেই রায় ও জুলাই সনদকে সম্মান দিতে হবে।” দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই বিতর্কে ৬৪ ও ৭১ বিধির ব্যাখ্যা নিয়ে উভয় পক্ষ অনড় অবস্থানে থাকে। শেষ পর্যন্ত ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, নোটিশটি গৃহীত হয়েছে এবং সংসদীয় বিধি অনুসরণ করে নির্ধারিত সময়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। স্পিকারের এই আশ্বাসের পর সংসদের পরিস্থিতি শান্ত হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে আজ রাতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে সরকারি দলের সংসদীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত সংসদীয় বিশেষ কমিটির বৈঠক আজ রাতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে সংসদীয় বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন জানিয়েছেন, মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২৪টি নিয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট ঐকমত্য হয়নি। এই বিতর্কিত অধ্যাদেশগুলো নিয়েই আজ বিশেষ কমিটিতে বিস্তারিত আলোচনা হবে। প্রায় ১৩ দিন বিরতির পর আজ থেকে শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। আজ বিকাল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। অধিবেশনে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান উপস্থিত রয়েছেন। ঈদ ও অন্যান্য ছুটির পর সংসদের এই অধিবেশন শেষে রাতে বিশেষ কমিটির বৈঠকে অধ্যাদেশগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।
জাতীয় সংসদের চলমান প্রথম অধিবেশন মুলতবির পর আজ থেকে পুনরায় শুরু হতে যাচ্ছে। বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ১২ মার্চ শুরু হওয়া অধিবেশন ঈদুল ফিতর এবং অন্যান্য সরকারি ছুটির কারণে ১৫ মার্চ মূলতবির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের তৃতীয় দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। সরকার এবং বিরোধী দলের সদস্যরা এই আলোচনায় অংশ নেবেন। পাশাপাশি মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ উত্থাপন ও সেই নোটিশের ওপর আলোচনা করার কর্মসূচিও রয়েছে। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর মোট ৫০ ঘণ্টার আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। সরকারি এবং বিরোধী দলের সদস্যরা এতে অংশগ্রহণ করবেন। সংসদের কার্য-উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্যদের জন্য আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে বাসভবন বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। শনিবার (২৮ মার্চ) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদ কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। বৈঠকে সংসদ সদস্যদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনাকাটা সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগামী ৩০ মার্চ কমিটি পুনরায় বৈঠকে বসবে। এদিকে সংসদের প্রথম অধিবেশনে শব্দযন্ত্রের বিভ্রাট ও সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্যরা। এই সমস্যার কারণ অনুসন্ধানে সার্জেন্ট অ্যাট আর্মসের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। চিফ হুইপ জানান, অধিবেশনে কোনো 'সাবোটাজ' বা নাশকতামূলক কাজ হয়েছে কি না এবং সাউন্ড সিস্টেমের কারিগরি ত্রুটি কী, তা খতিয়ে দেখবে এই কমিটি। এছাড়া সংসদ সদস্যদের ব্যবহারের অনুপযোগী ভারী হেডফোনগুলো দ্রুত পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ ১১ সদস্যের এই সংসদ কমিটি গঠিত হয়।
জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সম্বোধন করতে গিয়ে ‘মাননীয় স্পিকার’-এর পরিবর্তে কয়েকবার ‘মাই লর্ড’ বলে ফেলেন সমাজকল্যাণ ও নারীবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল। তবে পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সাবলীলভাবে প্রশ্নের উত্তর দেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আজ দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য সমাজকল্যাণ ও নারীবিষয়ক মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেনকে খোঁজা হয়। তিনি অনুপস্থিত থাকায় প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল দাঁড়িয়ে প্রশ্নের উত্তর দেন। প্রথম প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে সম্বোধনের সময় ‘মাননীয় স্পিকার’-এর বদলে কয়েকবার ‘মাই লর্ড’ বলে ফেলেন তিনি। পরে সম্পূরক প্রশ্নের উত্তর দিতে উঠে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমি পেশায় আইনজীবী। অভ্যাসবশত ‘মাই লর্ড’ বলে ফেলেছি। এ জন্য আমি দুঃখিত।” এরপর তিনি মূল প্রশ্নসহ চারটি সম্পূরক প্রশ্নের উত্তর দেন। তাঁর জবাব ছিল সাবলীল ও প্রাণবন্ত। সংসদে প্রথমবারের মতো এমপি ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বক্তব্য দিলেও তাঁর উপস্থাপনায় সেই নবীনতার ছাপ খুব একটা দেখা যায়নি বলে উপস্থিত সংসদ সদস্যদের অনেকে মন্তব্য করেন। এ সময় প্রথম সম্পূরক প্রশ্ন করার সুযোগ পান সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নাল আবেদীন ফারুক। দ্বিতীয় সম্পূরক প্রশ্ন করেন জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। তৃতীয় সম্পূরক প্রশ্ন করেন জামায়াতের সাতক্ষীরার সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। চতুর্থ সম্পূরক প্রশ্ন করার সুযোগ পান জামায়াতের নড়াইল–২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আতাউর রহমান। প্রতিমন্ত্রী এসব প্রশ্নেরও ধারাবাহিকভাবে উত্তর দেন।
সংবিধান অনুযায়ী বর্তমানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর কোনো অস্তিত্ব নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিষয়টি এখনো বিচারাধীন এবং এটি আইনে পরিণত হলে তখন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। রোববার (১৫ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরুর আগে সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের নয়। সংবিধান অনুযায়ী এমন কোনো পরিষদের অস্তিত্ব নেই। এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে যদি কোনো সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয় আসে, তাহলে প্রথমে সংবিধানে সংশোধনী আনতে হবে। সেই সংশোধনী সংসদে আলোচনা ও অনুমোদনের মাধ্যমে পাস হতে হবে। সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরই এ ধরনের কোনো পরিষদ গঠন বা শপথ গ্রহণের বিষয় বিবেচনায় আসতে পারে। এ সময় তিনি আরও জানান, সংসদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার তাঁদের দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে বিষয়টি সংসদে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদে ক্রিকেটের মতোই নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা জানান। মেজর হাফিজ বলেন, “রাষ্ট্রপতির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তারা গতকাল তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। আশা করি জাতীয় সংসদে তারা শৃঙ্খলা বজায় রাখবেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “অনেক ত্যাগ এবং ধৈর্যের বিনিময়ে আমরা একটি গণতান্ত্রিক সংসদ পেয়েছি। আশা করি আগামী দিনগুলোতে জনগণের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সক্ষম হব। একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।” সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় বিরোধী দলের ওয়াকআউট নিয়ে জানতে চাইলে স্পিকার বলেন, “সংসদে ওয়াকআউট একটি প্রচলিত রীতি। তারা মোটামুটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ছিলেন, তবে সংসদে স্লোগান দেওয়া ঠিক নয়, এটি সংসদের রেওয়াজের বাইরে।” নিরপেক্ষ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, “সংসদে আমরা—স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার—নিরপেক্ষ থাকব। ক্রিকেট খেলায় যেমন আম্পায়ার থাকে, আমরা তেমনি নিরপেক্ষভাবে সংসদ পরিচালনা করব।” গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আহ্বানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে সংসদীয় নেতা তারেক রহমান প্রস্তাব দেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার জন্য। সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা এবং বিরোধী দলীয়রাও সমর্থন দেন। এরপর ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে স্পিকার নির্বাচনের প্রস্তাব আসে। বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম হাফিজ উদ্দিনের নাম প্রস্তাব করেন, যা সমর্থন পেয়ে কণ্ঠভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়। এর ফলে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ স্পিকার নির্বাচিত হন।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী হোসেইনী খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এই শোকপ্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। শোকপ্রস্তাবে তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা জানানো হয়। অধিবেশনের শুরুতে আয়াতুল্লাহ খামেনির কর্মময় জীবন ও রাজনৈতিক সংগ্রামের ওপর একটি বিস্তারিত প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। সংসদীয় প্রস্তাবে তাকে একজন মহান নেতা, বিচক্ষণ ব্যক্তিত্ব ও বিশ্বজুড়ে প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, এই শোকপ্রস্তাবটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভাষান্তর করে তার পরিবারের কাছে পাঠানো হবে। আলী খামেনি ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল ইরানের মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ৮৬ বছর বয়সে শাহাদাৎ বরণ করেন। তার মৃত্যুতে ইরানে ৭ দিনের সরকারি ছুটি ও ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে। মাশহাদের ইসলামী বিদ্যালয়ে শিক্ষা শুরু করে তিনি পরবর্তীতে নাজাফ ও কোমে উচ্চতর ধর্মতাত্ত্বিক শিক্ষা লাভ করেন। সেখানে থাকাকালীন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির সান্নিধ্যে শাহ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে জড়িয়ে তিনি একাধিকবার কারাবরণ করেছিলেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮০ সালে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এবং ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় আইআরজিসি-র তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৮৯ সালে খোমেনির মৃত্যুর পর তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন। তার দীর্ঘ শাসনামলে আইআরজিসি একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
তীব্র প্রতিবাদ, প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন এবং বিরোধী দলের ওয়াকআউটের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনের কার্যক্রম। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ শেষ হওয়ার পর স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশন আগামী রোববার (১৫ মার্চ) বেলা ১১টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন। অধিবেশনের বিধি অনুযায়ী স্পিকার রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার জন্য মঞ্চে আহ্বান জানালে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল— ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’, ‘গণতন্ত্র চাই, ফ্যাসিজম নয়’ এবং ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ করো’। পরিস্থিতি শান্ত করতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বারবার সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তবে বিরোধী দলের সদস্যরা স্লোগান দিতে থাকেন এবং একপর্যায়ে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি ও ভাষণের প্রতিবাদ জানিয়ে সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন। বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে কিছুটা বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার লিখিত ভাষণ পাঠ করেন। ভাষণে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার দল বিএনপি ও মিত্রদের অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রপতির বক্তব্য চলাকালে সরকারি দলের সদস্যদের টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানাতে দেখা যায়। অধিবেশন শেষে সংসদ কক্ষের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি রাষ্ট্রপতির সমালোচনা করে বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের সময় অভিভাবক হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন কোনো কার্যকর ভূমিকা নেননি এবং এই সংসদে বক্তব্য দেওয়ার নৈতিক অধিকার তার নেই। বিরোধী দলের অন্য নেতারাও অভিযোগ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার রক্তের সঙ্গে যারা বেইমানি করেছে, তাদের কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষ হওয়ার পর স্পিকার অধিবেশন আগামী রোববার বেলা ১১টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।
গণ-অভ্যুত্থানে পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের কোনো দোসর জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ শুরু হলে প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াকআউট করার পর সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির আগমনের ঘোষণা দেওয়া হলে বিরোধী দলের সদস্যরা বিক্ষোভ শুরু করেন। প্ল্যাকার্ড হাতে তারা প্রতিবাদ জানান। পরে জাতীয় সংগীত শুরু হলে সবাই দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেন। এরপর রাষ্ট্রপতি ভাষণ শুরু করলে বিরোধী দলীয় সদস্যরা স্লোগান দিতে থাকেন এবং টেবিল চাপড়ে প্রতিবাদ জানান। এর মধ্যেই রাষ্ট্রপতি তার ভাষণ চালিয়ে যান। উল্লেখ্য, সংসদের প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিয়ে থাকেন।
বিএনপি জুলাই সনদ ভঙ্গ করে জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়াম চত্বরে একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে তিনি এ কথা বলেন। সারজিস আলম বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জন্য বিএনপি ভালো বার্তা দেয়নি। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন অনুযায়ী সংসদে স্পিকার সরকারি দল থেকে হলেও ডেপুটি স্পিকার বিরোধীদল থেকে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ডেপুটি স্পিকার করা হয়েছে ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে, যিনি বিএনপি সমর্থিত একজন এমপি। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে শপথ পড়ানোর বিষয়টি উল্লেখ করে সারজিস বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় পরিবেশগত পরিস্থিতির কারণে কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। তবে দীর্ঘদিন পর নির্বাচন হওয়ার পরও বিএনপি ফ্যাসিস্ট সরকারের রাষ্ট্রপতির মাধ্যমেই শপথ নিয়ে তাদের সরকারের কার্যক্রম শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, তারা আবারও পূর্বের স্বৈরাচারী ধারার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করছে এবং সেই স্বৈরাচারী লেজ টেনে ধরা শুরু করেছে, যা তাদেরকে মর্মাহত করেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে হট্টগোলের মধ্যেই ভাষণ শুরু করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ভাষণ শুরুর আগে প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ জানিয়ে পরে ওয়াকআউট করেন বিরোধী দল জামায়াতের সংসদ সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদে রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা নিজেদের আসন থেকে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’, ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ কর’ সহ বিভিন্ন স্লোগান। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে স্পিকার সংসদ সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। এরপর রাষ্ট্রপতি সংসদ কক্ষে প্রবেশ করে স্পিকারের পাশে নির্ধারিত আসনে বসেন এবং হট্টগোলের মধ্যেই তার বক্তব্য শুরু করেন। রাষ্ট্রপতির বক্তব্য চলাকালে সরকারদলীয় সদস্য ও বিএনপির সংসদ সদস্যদের টেবিল চাপড়াতে দেখা যায়। অন্যদিকে বিরোধী দলের সদস্যরা কিছুক্ষণ পর সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন। ভাষণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটেছে। তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং সেই আন্দোলনে নিহত শহীদদের স্মরণ করেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বিষয়েও তথ্য তুলে ধরেন। কৃষি ও অর্থনীতির উন্নয়নে সরকার জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন পদক্ষেপ নেবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। একই অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন সংসদ সদস্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টার পর জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। স্পিকার পদে নির্বাচনের সময় একমাত্র মনোনয়ন জমা পড়েছিল বলে অধিবেশনে জানান সভাপতি খন্দকার মোশাররফ হোসেন। মনোনয়নটি ছিল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের। সংসদ সদস্যদের সমর্থনের ভিত্তিতে তাকে স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। পরে ডেপুটি স্পিকার পদেও একমাত্র মনোনয়ন জমা পড়ে বলে জানান তিনি। ওই মনোনয়নটি ছিল সংসদ সদস্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নামে। সংসদের সমর্থনের মাধ্যমে তাকেও ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার জাতীয় সংসদের কার্যক্রম পরিচালনা ও সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন। ডেপুটি স্পিকার স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদের অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন এবং সংসদ পরিচালনায় সহযোগিতা করেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের সেই অদম্য সাহসের প্রতীক, রিকশাচালক নূর মোহাম্মদ এবার পা রাখছেন দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা, জাতীয় সংসদে। গুলিবিদ্ধ কিশোর গোলাম নাফিজকে রিকশার পাদানিতে করে হাসপাতালে নেওয়ার সেই হৃদয়বিদারক ও সাহসী দৃশ্যের নায়ককে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য বিশেষ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিতব্য এই ঐতিহাসিক অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে আজ বুধবার জাতীয় সংসদ ভবন থেকে নিজের আমন্ত্রণপত্র সংগ্রহ করেছেন নূর মোহাম্মদ। জীবনের এই অভাবনীয় প্রাপ্তিতে আবেগাপ্লুত নূর মোহাম্মদ বলেন, এটি তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান ও পাওয়া। ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ৪ আগস্ট বিকেলে ফার্মগেটে পুলিশের গুলিতে বিদ্ধ হন মেধাবী ছাত্র গোলাম নাফিজ। অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে পুলিশ যখন নিথরপ্রায় নাফিজকে একটি রিকশায় তুলে দেয়, তখন নিজের জীবনের পরোয়া না করে তাকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন নূর মোহাম্মদ। পথে রাজনৈতিক বাধার সম্মুখীন হলেও দমে যাননি তিনি; বরং নাফিজকে নিয়ে বিকল্প পথে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে ছুটে চলেন। ফটোসাংবাদিক জীবন আহমেদের ক্যামেরায় ধরা পড়া রিকশার পাদানিতে ঝুলন্ত নাফিজের সেই ছবিটি নাড়িয়ে দিয়েছিল পুরো বিশ্বকে। সেই ছবির সূত্র ধরেই মা-বাবা খুঁজে পেয়েছিলেন তাদের প্রিয় সন্তানের মরদেহ। নাফিজের সেই স্মৃতিবাহী রিকশাটি গত ৭ নভেম্বর জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে হস্তান্তর করা হয়েছে। এক সাধারণ শ্রমজীবীর এই অসাধারণ মানবতা ও সাহস আজ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সম্মানিত হতে যাচ্ছে।
আগামী ১২ মার্চ শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন–এর ভাষণ নিয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর গুলশানে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি কোনো ব্যক্তি নন; তিনি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। দেশের সংবিধান অনুযায়ী সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় সংসদকে স্মরণীয় করে রাখতে হলে এর কার্যকারিতা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে ছাত্র-জনতার প্রত্যাশা পূরণে সংসদের ভূমিকা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বিরোধী দলের প্রসঙ্গে বলেন, ডেপুটি স্পিকারকে লিখিত প্রস্তাব দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সরকার এ বিষয়ে উদারতা দেখিয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews