বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার প্রেক্ষাপটে দেশে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান। শফিকুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম নিম্নমুখী থাকলেও বাংলাদেশে দর সমন্বয়ের নামে আগামীকাল থেকে মূল্য বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা জনস্বার্থের পরিপন্থী। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ে সাধারণ মানুষ এমনিতেই চাপে রয়েছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলে তা মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়াবে। তার ভাষায়, এই মূল্যবৃদ্ধি হবে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’। তিনি সরকারের প্রতি জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান। অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচসহ নিত্যপণ্যের বাজারেও এর প্রভাব পড়ে, যা সামগ্রিকভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেয়।
ভারতের নয়ডা শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে বিভিন্ন কারখানাকেন্দ্রিক এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, যার মধ্যে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বহু শ্রমিককে আটক করা হলে পরিস্থিতি আংশিক নিয়ন্ত্রণে এলেও অন্তর্নিহিত অসন্তোষ এখনো কাটেনি। শ্রমিকদের অভিযোগ, জ্বালানি তেল ও রান্নার গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে তাদের মাসিক বেতন ১০ থেকে ১৫ হাজার রুপির মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। ফলে ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা। পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে প্রতিবেশী হরিয়ানা রাজ্যের সাম্প্রতিক ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি। সেখানে প্রায় ৩৫ শতাংশ মজুরি বাড়ানো হলেও নয়ডার শ্রমিকরা একই সুবিধা থেকে বঞ্চিত বলে অভিযোগ করছেন। এতে তাদের মধ্যে বৈষম্যের অনুভূতি তীব্র হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ সরকার সাময়িকভাবে মজুরি বৃদ্ধির আশ্বাস দিলেও শ্রমিকদের একটি বড় অংশ এটিকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে দেখছেন না। তাদের দাবি, এটি কেবল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার একটি অস্থায়ী উদ্যোগ। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই আন্দোলনের একটি বড় দুর্বলতা হলো শক্তিশালী কোনো ট্রেড ইউনিয়নের নেতৃত্বের অভাব। ফলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে হাজার হাজার শ্রমিক রাস্তায় নামলেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব না থাকায় আন্দোলন দ্রুত সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে। এদিকে, নয়ডার অধিকাংশ কারখানা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পভিত্তিক হওয়ায় মালিকপক্ষও চাপের মুখে রয়েছে। কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের অতিরিক্ত সময় কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা অসন্তোষকে আরও উসকে দিচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, এই বিক্ষোভ শিল্পাঞ্চলের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইতিমধ্যে গৃহকর্মীসহ অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীরাও বেতন বৃদ্ধি ও উন্নত জীবনমানের দাবিতে সরব হতে শুরু করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের ১১তম কংগ্রেসনাল আসনে শূন্য পদে প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে স্থানীয় সময় রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছে আইউইটনেস নিউজ। এই আসনটি শূন্য হয় মিকি শেরিল গভর্নর পদে দায়িত্ব নেওয়ার পর কংগ্রেসের আসন ত্যাগ করলে। ফলে নতুন প্রতিনিধি নির্বাচনে তিন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন প্রগ্রেসিভ নেতা অ্যানালিলিয়া মেজিয়া। রিপাবলিকান প্রার্থী জো হ্যাথাওয়ে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন অ্যালান বন্ড। নির্বাচনী প্রচারণায় অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা এবং জ্বালানি খরচ প্রধান ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে। রিপাবলিকান প্রার্থী জো হ্যাথাওয়ে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য কর স্থগিতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার মতে, নিউ জার্সিতে বাড়ির মালিক হওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী অ্যানালিলিয়া মেজিয়া অভিযোগ করেছেন, রিপাবলিকান নীতির কারণে স্বাস্থ্যসেবা ও জ্বালানি খাতে কর সুবিধা কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ব্যয় বেড়েছে। জাতীয় রাজনীতির প্রভাবও এই নির্বাচনে স্পষ্ট। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি নিয়ে দুই প্রার্থীর অবস্থান ভিন্ন। হ্যাথাওয়ে জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে তিনি নিজের দল ও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কাজ করবেন, যদি তা তার এলাকার জন্য উপকারী হয়। অপরদিকে মেজিয়া অভিযোগ করেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাম্পের নীতির সমর্থক। নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যক্তিগত আক্রমণও দেখা গেছে। ইসরায়েল ও ইহুদি সম্প্রদায় নিয়ে একে অপরের অবস্থানকে কেন্দ্র করে সমালোচনা করেছেন দুই প্রার্থী। ভোটারদের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা বড় ইস্যু হিসেবে সামনে এসেছে। অনেক ভোটারই বাড়তি খরচের চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল নগরী নিউইয়র্ক সিটি—এ কথা নতুন নয়। উচ্চ ভাড়া, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের কারণে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য এই শহরে টিকে থাকা বেশ কঠিন। প্রতি বছর অনেক বাসিন্দা কম ব্যয়ের শহরে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও, অধিকাংশ মানুষ এই শহর ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবতেই পারেন না। এর প্রধান কারণ, সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্রের অন্য যেকোনো শহরের চেয়ে আলাদা। অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ- সব ক্ষেত্রেই শহরটি এগিয়ে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের মিলনস্থল হওয়ায় এখানে গড়ে উঠেছে এক বৈচিত্র্যময় সমাজ, যেখানে যে কেউ নিজের সংস্কৃতি, খাবার ও ধর্মীয় চর্চার পরিবেশ খুঁজে পায়। নিউইয়র্ক সিটিকে ইমিগ্রান্টবান্ধব শহর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শহরের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশই অভিবাসী, যারা শ্রমবাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অদক্ষ থেকে দক্ষ- সব ধরনের মানুষের জন্য কাজের সুযোগ থাকায় এটি কর্মসংস্থানের এক বড় কেন্দ্র। যোগাযোগ ব্যবস্থাও শহরের অন্যতম শক্তি। Metropolitan Transportation Authority (এমটিএ)-এর বিস্তৃত সাবওয়ে ও বাস নেটওয়ার্ক শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সহজ যাতায়াত নিশ্চিত করে। ফলে কম আয়ের মানুষও শহরতলীতে বসবাস করে সহজেই কর্মস্থলে যেতে পারেন। ব্যবসার ক্ষেত্রেও নিউইয়র্ক অনন্য। জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি হওয়ায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার জন্য এটি একটি বড় বাজার তৈরি করেছে। কমিউনিটি ভিত্তিক ব্যবসাও এখানে জনপ্রিয়, যা অভিবাসীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করে। শিক্ষাব্যবস্থাও এই শহরের আরেকটি বড় আকর্ষণ। পাবলিক স্কুলগুলো অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং বিশেষায়িত কিছু স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে উত্তীর্ণ অনেক শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পায়। ব্যয়বহুল হওয়া সত্ত্বেও সুযোগ, বৈচিত্র্য এবং জীবনমানের কারণে নিউইয়র্ক সিটি এখনো অনেকের কাছে ‘স্বপ্নের শহর’ হিসেবেই রয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল শহর নিউইয়র্ক সিটি-তে জীবনযাত্রার খরচ ক্রমেই নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, শহরের প্রায় ৬২ শতাংশ বাসিন্দা দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। শহরের মেয়র অফিস অব ইক্যুয়িটি অ্যান্ড রেসিয়াল জাস্টিসের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কে স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে একটি পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় আয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। গবেষণা অনুযায়ী, সন্তানবিহীন একটি মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য বছরে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার ডলার আয় প্রয়োজন। আর সন্তানসহ পরিবারের ক্ষেত্রে এই ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ডলারে। তবে বাস্তবে অনেক পরিবারই এই আয়ের স্তরে পৌঁছাতে পারছে না। এই গবেষণাটি ২০২২ সালে অনুমোদিত ‘ট্রু কস্ট অব লিভিং’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়। এতে বাসস্থান, খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিশু যত্ন ও পরিবহনসহ বিভিন্ন মৌলিক খরচ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, শহরের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬১.৮ শতাংশ অর্থাৎ ৫০ লাখের বেশি মানুষ তাদের আয় দিয়ে পূর্ণ জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করতে পারছেন না। অথচ প্রচলিত দারিদ্র্য সূচক অনুযায়ী এই হার মাত্র ১৮ শতাংশ ছিল, যা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে বড় ধরনের ফারাক নির্দেশ করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যেসব পরিবার ব্যয় মেটাতে পারছে না, তাদের বার্ষিক গড় আয়ের ঘাটতি প্রায় ৩৯ হাজার ৬০০ ডলার। এছাড়া প্রায় ৮ শতাংশ মানুষ সব খরচ মেটাতে পারলেও কোনো সঞ্চয় করতে পারছেন না—যা তাদের আর্থিক অনিশ্চয়তাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। জাতিগত বৈষম্যও এই সংকটে স্পষ্ট। হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৭৭.৬ শতাংশ, কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে ৬৫.৬ শতাংশ এবং এশীয় ও প্যাসিফিক আইল্যান্ডারদের মধ্যে ৬৩.৩ শতাংশ মানুষ ব্যয় মেটাতে পারছেন না। শ্বেতাঙ্গদের ক্ষেত্রে এই হার তুলনামূলকভাবে কম, প্রায় ৪৩.৭ শতাংশ। শিশুদের ওপরও এর প্রভাব পড়ছে। ১৮ বছরের নিচের প্রায় ৭২.৫ শতাংশ শিশু এমন পরিবারে বসবাস করছে, যারা তাদের পূর্ণ জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করতে পারছে না। অঞ্চলভেদে এই সংকটের তীব্রতা ভিন্ন। দ্য ব্রঙ্কস-এ সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৭৫.১ শতাংশ মানুষ এই সমস্যায় ভুগছেন। ব্রুকলিন-এ এই হার ৬১.৫ শতাংশ এবং কুইন্স-এ ৬১.১ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে ম্যানহাটন-এ ৫৫.৬ শতাংশ এবং স্ট্যাটেন আইল্যান্ড-এ ৪৮.২ শতাংশ মানুষ এই ব্যয়ের চাপে রয়েছেন। এই চিত্র নিউইয়র্ক সিটির অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও বৈষম্যের গভীরতা তুলে ধরছে, যেখানে উচ্চ ব্যয় ও সীমিত আয়ের কারণে বহু পরিবার আর্থিক নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।