তালেবান

ছবি: সংগৃহীত
ঈদ উপলক্ষে পাকিস্তান-আফগানিস্তান পাঁচ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ উদযাপনের জন্য পাকিস্তান ও আফগানিস্তান পাঁচ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদ এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে তালেবান সরকারও তাদের সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জাতিসংঘ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।   ঘটনার প্রেক্ষিতে, গত সোমবার (১৬ মার্চ) কাবুলের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে বিমান হামলায় চার শতাধিক মানুষ নিহত এবং অন্তত ২৬৫ জন আহত হয়। নিহতদের মধ্যে অনেকের গণজানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং পরে কাবুল উপকণ্ঠে গণকবরে দাফন করা হয়।   তালেবান সরকার হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করলেও পাকিস্তান অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, তারা শুধুমাত্র সন্ত্রাসী অবকাঠামো ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে লক্ষ্য করে নির্ভুল হামলা চালিয়েছে। পরিস্থিতির উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান ১৮ মার্চ রাত ১২টা থেকে ২৩ মার্চ রাত ১২টা পর্যন্ত আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়।   তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদও নিশ্চিত করেছেন, ঈদ উপলক্ষে তারা সামরিক তৎপরতা স্থগিত রাখছে। জাতিসংঘ উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
কাবুলের হাসপাতালে হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান পাকিস্তানের

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে সোমবার রাতে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানের এই হামলায় একটি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র (হাসপাতাল) ধ্বংস হয়েছে এবং কয়েকশ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে পাকিস্তান এই অভিযোগকে পুরোপুরি 'ভিত্তিহীন' বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, তাদের বিমানবাহিনী কাবুলের নির্দিষ্ট কিছু 'সন্ত্রাসী আস্তানা' এবং 'কারিগরি সহায়তা অবকাঠামো' লক্ষ্য করে নিখুঁত (precision) হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যেসব স্থাপনা থেকে পাকিস্তানে আন্তঃসীমান্ত হামলার পরিকল্পনা ও পরিচালনা করা হচ্ছিল, কেবল সেগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।  কোনো হাসপাতাল বা বেসামরিক এলাকায় হামলা চালানোর তথ্য নাকচ করে দিয়ে পাকিস্তান দাবি করেছে, তালেবান সরকার বিশ্ববাসীর সহানুভূতি পেতে এবং সন্ত্রাসীদের মদত দেওয়ার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে, আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তানের যুদ্ধবিমানগুলো কাবুলের ‘উমিদ’ (Omid) নামক একটি ২,০০০ শয্যার মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র ও হাসপাতালে বোমাবর্ষণ করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত এবং ২৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই চিকিৎসাধীন রোগী ছিলেন। তালেবান প্রশাসন এই ঘটনাকে ‘মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন’ এবং ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের দাবি, নিষিদ্ধ ঘোষিত টিটিপি (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে, যা দমনে তালেবান সরকার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান ‘অপারেশন গজব লিল-হক’ (Operation Ghazab lil-Haq) শুরু করে আফগানিস্তানের ভেতরে বিমান হামলা চালাচ্ছে। জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দুই পক্ষকেই ধৈর্য ধারণ করার এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। তবে দুই দেশের বর্তমান যুদ্ধংদেহী অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
হাসপাতালটিতে হাজারো মানুষ মাদকাসক্তির চিকিৎসা নিচ্ছিলেন বলেন জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা
কাবুলে হাসপাতালে বিমান হামলা শতাধিক হতাহতের অভিযোগ, দায় অস্বীকার পাকিস্তানের

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্রে বিমান হামলার ঘটনায় শতাধিক মানুষের হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করেছে তালেবান সরকার, যদিও ইসলামাবাদ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।    তালেবান সরকারের এক মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, সোমবার সন্ধ্যায় কাবুলের ওমিদ নামে একটি আসক্তি চিকিৎসা হাসপাতালে হামলা চালানো হয়। এতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।   তাদের অভিযোগ, পাকিস্তানি বিমানবাহিনীর হামলায় চিকিৎসাধীন রোগীরাই হতাহতের শিকার হয়েছেন। প্রায় দুই হাজার শয্যার এই হাসপাতালটি মাদকাসক্তদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হতো। হামলার ফলে হাসপাতালের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং হতাহতের সংখ্যা কয়েকশ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   তবে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, কাবুল ও পূর্ব আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশে “সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তাকারী অবকাঠামো” লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে, কোনো হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলা করা হয়নি।   বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অন্তত ৩০টি মরদেহ দেখা গেছে এবং তখনও ভবনের কিছু অংশে আগুন জ্বলছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে প্রায় দুই হাজার রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।   আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শারাফাত জামান আমরখাইল জানান, হাসপাতালের আশপাশে কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না।   তালেবান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত দাবি করেন, এ হামলায় প্রায় ৪০০ জন নিহত এবং ২৫০ জন আহত হয়েছেন।   ঘটনার নিন্দা জানিয়ে আফগানিস্তানের সাবেক কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ বলেন, এটি আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের পরিপন্থী। একই সঙ্গে আফগান ক্রিকেটার রশিদ খানও হামলাকে “অত্যন্ত লজ্জাজনক” বলে মন্তব্য করেছেন।   স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত সাড়ে আটটার দিকে কাবুলজুড়ে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, পরে আকাশে বিমান ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়।   উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তান জঙ্গি গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তুললেও তালেবান তা অস্বীকার করে আসছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ইতোমধ্যে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তান-আফগানিস্তানে চলছে পাল্টাপাল্টি হামলা, সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে তিন দিন ধরে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। ইসলামাবাদ দাবি করেছে, আফগানিস্তানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা এবং ‘সন্ত্রাসীদের’ ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে পূর্ণমাত্রার সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে।   পাকিস্তানের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন চ্যানেলের খবরে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের দক্ষিণের কান্দাহার প্রদেশে তালেবান ও পাকিস্তানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো গোষ্ঠীর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া কান্দাহারের একটি সুড়ঙ্গকেও বিমান হামলার লক্ষ্য বানানো হয়েছে, যা তালেবান ও সন্ত্রাসীরা ব্যবহার করছিল বলে দাবি করা হয়েছে।   পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আফগান সরকার যতদিন পর্যন্ত পাকিস্তানের মূল নিরাপত্তা উদ্বেগগুলো সমাধান করবে না, তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।   কান্দাহারের এক বাসিন্দা এএফপিকে জানিয়েছেন, শনিবার রাতে শহরের আকাশে যুদ্ধবিমান উড়তে দেখেছেন। বিস্ফোরণের শব্দ এবং ধোঁয়া দেখা গেছে। তিনি বলেন, “পর্বত অঞ্চলের ওপর দিয়ে একাধিক সামরিক বিমান উড়ে যায়। ওই এলাকার একটি সামরিক স্থাপনা বিস্ফোরিত হয়েছে।”   তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এএফপিকে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের হামলায় কান্দাহারের একটি মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্র এবং খালি কনটেইনার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাকিস্তান যে সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করেছিল, হামলার প্রকৃত এলাকা সেগুলো থেকে অনেক দূরে।   এর আগে পাকিস্তান দাবি করেছিল, শুক্রবার রাতে আফগানিস্তানের তিনটি এলাকায় তারা ড্রোন হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ওই হামলার প্রতিশোধ নেবার হুমকি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতেও আফগানিস্তানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী হামলা চালিয়েছিল।   উল্লেখ্য, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সর্বশেষ বড় সংঘাতে জড়িয়েছিল গত মাসে। তখন দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় ৯৯ জন নিহত হয়েছিলেন। নিহতের মধ্যে পাকিস্তানে ১৩ সেনা ও ১ বেসামরিক, আর আফগানিস্তানে ১৩ সেনা ও ৭২ বেসামরিক ব্যক্তি ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
রণক্ষেত্র কান্দাহার: পাক বিমান হামলার পর পাল্টা আঘাত তালিবানের

ডুরান্ড লাইন পেরিয়ে আফগান সীমান্তে ফের চরম সংঘাত শুরু হয়েছে পাকিস্তান ও তালিবান বাহিনীর মধ্যে। শনিবার রাতভর আফগানিস্তানের কান্দাহারে পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর ভয়াবহ বোমাবর্ষণের পর পাল্টা জবাবে পাকিস্তানের ওয়াজিরিস্তানে একটি সেনা ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করেছে তালিবান প্রশাসন। সীমান্ত জুড়ে এই পাল্টাপাল্টি হামলায় দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইসলামাবাদ সূত্র অনুযায়ী, সীমান্তে সক্রিয় জঙ্গিঘাঁটি নির্মূল করতেই এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেছেন, কান্দাহারে রাতভর অভিযানে বেশ কিছু জঙ্গি আস্তানা ধ্বংস করা হয়েছে এবং একাধিক সন্ত্রাসীকে খতম করা হয়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান মাটি ব্যবহার করে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP) ক্রমাগত সীমান্ত এলাকায় হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, পাকিস্তানি হামলায় একটি পুনর্বাসন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই আগ্রাসন মুখ বুজে সহ্য করেনি আফগান বাহিনীও। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, পাকিস্তানের হামলার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে অবস্থিত একটি পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্প লক্ষ্য করে পাল্টা গোলাবর্ষণ করা হয়, যাতে ক্যাম্পটি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, গত মাস থেকেই দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ। ২৬শে ফেব্রুয়ারি রাতে আফগান ফৌজের পালটা হামলায় পাকিস্তানের ৫৫ জন জওয়ানের মৃত্যু এবং ১২টি পাক পোস্ট দখলের দাবি করেছিল তালিবান। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই কান্দাহারে এই বিমান হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল। সীমান্ত এলাকায় এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং দুই পক্ষই অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন করেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৫, ২০২৬ 0
ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বাড়িটির। স্থানীয়রা বলছেন, ড্রোন আঘাত হেনেছে বাড়িটিতে। শনিবার পাকিস্তানের কোয়েটার সারাহ গারগাই এলাকায়। ছবি: রয়টার্স
পাকিস্তানের দাবি: আফগানিস্তান থেকে ড্রোন হামলা, রাওয়ালপিন্ডি ছিল লক্ষ্য

পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে আফগানিস্তান থেকে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ। শুক্রবার রাতে এ হামলা হয় বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী।   পাকিস্তানের সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ইসলামাবাদের কাছে অবস্থিত সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর এলাকাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার চেষ্টা করা হয়। তবে তা প্রতিহত করা হয়েছে। এ ছাড়া Quetta অঞ্চলে একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুই শিশু আহত হয়েছে। আর Kohat এলাকায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন বেসামরিক নাগরিক আহত হন।   হামলার পর রাজধানী Islamabad–এর আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বলছেন, আফগানিস্তানের তালেবান বাহিনীর কাছে উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি নেই। সাধারণত স্থানীয়ভাবে তৈরি ড্রোন ব্যবহার করে তারা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে হামলা চালাতে পারে।   এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তান আফগানিস্তানের রাজধানী Kabulসহ তিনটি অঞ্চলে বিমান হামলা চালায়। ওই হামলায় অন্তত চারজন নিহত হন। এরপরই প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দেয় Taliban।   ড্রোন হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট Asif Ali Zardari নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা পাকিস্তান মেনে নেবে না। প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করা যাবে না।”   এর আগে গত মাসে পাকিস্তান আফগানিস্তানের ভেতরে কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল। ইসলামাবাদের দাবি ছিল, পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার জবাবে ওই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে আফগানিস্তানে এমন সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতির কথা অস্বীকার করেছে তালেবান।   জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় চলমান সংঘর্ষে গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত আফগানিস্তানে অন্তত ৭৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১৯৩ জন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত ৬, আহত ১২

আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ছয় জন নিহত ও বারো জন আহত হয়েছেন। আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।   ঘটনা বৃহস্পতিবার রাতে ঘটে। কান্দাহার বিমানবন্দরের নিকটবর্তী বেসরকারি বিমান পরিবহন প্রতিষ্ঠান কাম এয়ার-এর জ্বালানি তেলের ডিপোতে হামলা চালানো হয়। পাশাপাশি হামলা হয়েছে রাজধানী কাবুল এবং নানগারহার প্রদেশেও।   স্থানীয় বাসিন্দা মুরসেলিন জানান, হামলার সময় তার স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানসহ ঘুম ভেঙে যায়। চারপাশ ধুলা-মাখানো হয়ে যায় এবং তার শিশু সন্তানরা চিৎকার করতে থাকে। হামলায় তার বোন এবং দুই শিশুসন্তানও আহত হয়েছেন।   তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ পাকিস্তানের এই হামলার জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের ওই ডিপো থেকে বেসরকারি বিমানগুলো তেল সরবরাহ করে, যেখানে জাতিসংঘের বিমানও তেল নেয়। তিনি সতর্ক করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই হামলা অঞ্চলের অস্থিরতা আরও বাড়াবে।   এর আগে গত মাসে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সংঘাত দেখা দেয়। প্রথমে হামলা চালায় ইসলামাবাদ, পরে আফগানিস্তান পাল্টা প্রতিহত করে। চীনের মধ্যস্থতায় সংঘাত কিছুটা কমলেও, বৃহস্পতিবারের হামলা আবার উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে।   পাকিস্তানের সামরিক সূত্র জানিয়েছেন, কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশের চারটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। কান্দাহারে তেলের ডিপোতে হামলার কথাও তারা স্বীকার করেছে। তবে পাকিস্তান সরকার এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের ব্যাপক সামরিক অভিযান: ৪৬৪ তালেবান যোদ্ধা নিহত, ১৯২ ট্যাংক ধ্বংস

আফগানিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর চলমান 'গজব লিল-হক' অভিযানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। আজ বিকেল ৪টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৪৬৪ জন আফগান তালেবান সদস্য নিহত এবং ৬৬৫ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় এই অভিযানের সর্বশেষ আপডেট নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ৩ মার্চ বিকেল ৪টা পর্যন্ত অভিযানে তালেবানের ১৮৮টি চেকপোস্ট ধ্বংস করা হয়েছে এবং ৩১টি পোস্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে পাকিস্তানি বাহিনী। মন্ত্রী আরও বিস্তারিত তথ্যে জানান, অভিযানে আফগান তালেবানের অন্তত ১৯২টি ট্যাংক, সাঁজোয়া যান এবং কামান ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া আফগানিস্তান জুড়ে ৫৬টি কৌশলগত অবস্থানে 'কার্যকরভাবে' আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তান সরকার। সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই অভিযানকে একটি বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৪, ২০২৬ 0
তালেবানের ড্রোন
পাকিস্তানের সেনা ক্যাম্পে তালেবানের ড্রোন হ/মলা: সামরিক ক্যাম্পে ভয়াবহ আগুন

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘাত এবার নতুন মাত্রা নিয়েছে। খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের মিরানশাহ ও স্পিনওয়াম এলাকায় অবস্থিত পাকিস্তানি সামরিক ক্যাম্পে শক্তিশালী ড্রোন হামলা চালিয়েছে আফগান তালেবান বাহিনী। গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তান বিমানবাহিনীর অভিযানের সরাসরি প্রতিশোধ হিসেবে এই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করছে আফগান কর্তৃপক্ষ।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা ও আফগানিস্তানের টোলো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এই ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হয়। একটি উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ড্রোন হামলার পরপরই স্পিনওয়াম সেনা ঘাঁটির একটি অংশে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে এবং ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। পাকিস্তান সীমান্ত এলাকায় বিমান হামলা চালানোর মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তালেবান সরকার এই দুঃসাহসিক সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল, যা ওই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতার সংকেত দিচ্ছে।   তালেবান কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট দাবি, তাদের আকাশসীমা ও ভূখণ্ডে পাকিস্তানের অবৈধ অনুপ্রবেশের সমুচিত জবাব দিতেই এই ড্রোন মিশন পরিচালনা করা হয়েছে। যদিও এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতির খবর এবং সামরিক ঘাঁটিতে আগুনের বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় উভয় দেশের সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণার নেপথ্য কারণ

দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে এবার সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী দুই দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে ‘অপারেশন গজব লিল হক’ বা ‘ন্যায়ের হামলা’ শুরুর ঘোষণার পর থেকে সীমান্ত ছাপিয়ে যুদ্ধ এখন কাবুলের দোড়গোড়ায়।  পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, তাদের বিমান হামলায় ইতোমধ্যে ২৭০ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে। অন্যদিকে আফগান বাহিনীর পাল্টা হামলায় ১২ পাকিস্তানি সেনার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার দুপুরে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ তালেবান প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে জানান, তাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে পাকিস্তান এখন জঙ্গি আস্তানার পাশাপাশি সরাসরি তালেবান সরকারের বিভিন্ন স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করছে। সংঘাতের নেপথ্যে দীর্ঘমেয়াদি কারণ: বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পেছনে রয়েছে কয়েক দশকের অমীমাংসিত ইস্যু। ডুরান্ড লাইন বিতর্ক: ২,৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্তরেখাকে কাবুল কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে মেনে নেয়নি। ফলে সীমান্ত এলাকায় সার্বভৌমত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। টিটিপি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি: পাকিস্তানের অভিযোগ, নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি) আফগান মাটিতে আশ্রয় নিয়ে পাকিস্তানে নাশকতা চালাচ্ছে। সম্প্রতি খাইবার পাখতুনখোয়ায় আত্মঘাতী হামলায় উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা নিহতের ঘটনায় ক্ষোভের আগুনে ঘি পড়ে। আক্রমণাত্মক কৌশল: বিশেষজ্ঞ মাইকেল কুগেলম্যানের মতে, পাকিস্তান এখন আর কেবল সন্ত্রাসীদের দমন নয়, বরং সরাসরি তালেবান শাসনব্যবস্থাকেই চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। সামরিক শক্তিতে পাকিস্তান এগিয়ে থাকলেও বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন যে, তালেবানরা ‘অপ্রচলিত’ পদ্ধতিতে বা আত্মঘাতী হামলার মাধ্যমে পাল্টা আঘাত হানতে পারে। পরিস্থিতি যেদিকে মোড় নিচ্ছে, তাতে দক্ষিণ এশিয়ায় এক দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
আফগানিস্তান এখন ভারতের ‘উপনিবেশ’: পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ

আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসন দেশটিকে ভারতের একটি ‘উপনিবেশে’ পরিণত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। পশ্চিম প্রতিবেশী আফগানিস্তানে পাকিস্তানের সামরিক হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।   শুক্রবার পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী আফগানিস্তানের রাজধানী  কাবুল সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে বোমা হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টা পর বার্তাটি প্রকাশ করা হয়। এতে তিনি দাবি করেন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান এখন ‘পুরোদমে যুদ্ধের’ অবস্থায় রয়েছে।   বার্তায় তিনি বলেন, ন্যাটো বাহিনী প্রত্যাহারের পর আশা করা হয়েছিল আফগানিস্তানে শান্তি ফিরবে এবং তালেবান আফগান জনগণের স্বার্থে কাজ করবে। কিন্তু তার অভিযোগ, তালেবান আফগানিস্তানকে ভারতের প্রভাববলয়ে নিয়ে গেছে এবং দেশটিকে কার্যত ‘উপনিবেশে’ পরিণত করেছে।   খাজা আসিফ আরও দাবি করেন, তালেবান আফগানিস্তানে বিশ্বের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে এবং সেখান থেকে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে দিচ্ছে। পাকিস্তান সরাসরি ও মিত্রদেশগুলোর মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করলেও তালেবান ভারতের ‘প্রতিনিধি শক্তি’ হিসেবে কাজ করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।   ভারতের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এর আগেও পাকিস্তান কাবুল–ইসলামাবাদ উত্তেজনায় ভারতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছিল। তবে ভারত বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।   ২০২১ সালের আগস্টে একটি বাস বিস্ফোরণে ৯ জন চীনা নাগরিকসহ ১৩ জন নিহতের ঘটনার জন্য পাকিস্তান ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা Research and Analysis Wing (র) এবং আফগানিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা অধিদপ্তর National Directorate of Security-কে দায়ী করেছিল।   এদিকে গত অক্টোবরে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে কাবুলে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো ওই বিস্ফোরণকে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেছিল।   তালেবান ২০২১ সালের আগস্টে ক্ষমতা গ্রহণের পর গত অক্টোবরে ভারত ও আফগানিস্তান পুনরায় কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে সম্মত হয়।   শুক্রবার পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর আহ্বান জানান।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
আফগানিস্তান-পাকিস্তান সরাসরি যুদ্ধে, কাবুলে বিমান হামলা ও সীমান্তে তীব্র সংঘর্ষ

আফগানিস্তানের তালেবান সরকার ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এবার সরাসরি যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে এখন পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ চলছে। শুক্রবার কাবুলে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় আফগান ও পাকিস্তানি বাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।   তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানান, শুক্রবার ভোরে ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের আক্রমণাত্মক অভিযান শুরু করে আফগান বাহিনী। এর কয়েক ঘণ্টা পর পাকিস্তান পাল্টা হামলা চালায়। পাকিস্তান বিমানবাহিনী কাবুলে বিমান হামলা চালানোর পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় ভারী কামান ও গোলাবর্ষণ শুরু করে।   পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্রের দাবি অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ২২৮ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত এবং ৩১৪ জন আহত হয়েছে। এছাড়া তালেবানের ৭৪টি চৌকি ধ্বংস ও ১৮টি দখল করার কথা জানানো হয়েছে। অপরদিকে, আফগান হামলায় পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদ, সোয়াবি ও নওশেরা শহরে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে, তবে এতে কোনো প্রাণহানির খবর নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার। সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানের অন্তত ২৭ জন আহত হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।   পেশোয়ার থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, লান্ডি কোতাল সীমান্ত অঞ্চলে এখনো গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।   এদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বেসামরিক হতাহতের আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সামরিক উত্তেজনা কমাতে দ্রুত রাজনৈতিক সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন।   এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ভারতের পক্ষ থেকেও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল পাকিস্তানের বিমান হামলার নিন্দা জানিয়ে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। তিনি এটিকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা আড়াল করার প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন।   পাকিস্তানের সাবেক অর্থমন্ত্রী মিফতাহ ইসমাইল বলেন, আফগান জনগণের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের কোনো ক্ষোভ নেই, তবে তালেবানদের কর্মকাণ্ডই দেশটিকে এই সংঘাতে জড়িয়েছে। তিনি সীমান্তের উভয় পাশে নিরীহ মানুষের কথা বিবেচনা করে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানান।   বর্তমানে ডুরান্ড লাইন ও কাবুলসহ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, যা গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।   সূত্র: আল জাজিরা

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
ডুরান্ড লাইনে যুদ্ধাবস্থা
আফগানিস্তানে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান: ২২৮ আফগানি নিহত

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার সীমান্ত উত্তেজনা এখন এক ভয়াবহ যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। শুক্রবার ভোরে তালেবান বাহিনীর বড় ধরনের আক্রমণের জবাবে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান বিমানবাহিনী। ডুরান্ড লাইন বরাবর শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দুই দেশই একে অপরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির দাবি করেছে। তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এই অভিযানকে পাকিস্তানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘বড় ধরনের আক্রমণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।   পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযানে এখন পর্যন্ত ২২৮ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত এবং ৩১৪ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া তালেবানের ৭৪টি নিরাপত্তা চৌকি ধ্বংস এবং ১৮টি দখল করার দাবি করেছে ইসলামাবাদ। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে আফগানিস্তান পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদ, সোয়াবি এবং নওশেরা শহরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। যদিও পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, ড্রোন হামলায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি, তবে সীমান্ত এলাকায় অন্তত ২৭ জন পাকিস্তানি নাগরিক আহত হয়েছেন। বর্তমানে লান্ডি কোতাল সীমান্ত এলাকায় ভারী কামান ও বিমান হামলা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।   এই সংকটের মধ্যে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল পাকিস্তানের এই বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। তিনি একে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা আড়ালের চেষ্টা হিসেবে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বেসামরিক মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সামরিক শক্তির পরিবর্তে রাজনৈতিক সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন। পাকিস্তানের সাবেক অর্থমন্ত্রী মিফতাহ ইসমাইলও এক বিবৃতিতে তালেবানদের সহিংসতা বন্ধের অনুরোধ জানিয়ে নিরপরাধ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। পুরো অঞ্চলে এখন এক অস্থিতিশীল ও চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
কান্দাহারের আকাশে পাক যুদ্ধবিমানের টহল, ধ্বংস বহু সামরিক স্থাপনা

আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে তালেবানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর (পিএএফ) ভয়াবহ বিমান হামলার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।   হামলার পর থেকে আফগানিস্তানের কান্দাহারসহ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন অঞ্চলের আকাশে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানগুলোকে টহল দিতে দেখা গেছে। পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম পিটিভি নিউজ এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা সূত্র এই অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, ‘অপারেশন গাজব লিল-হক’-এর আওতায় কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়ায় অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৩৩ জন তালেবান সদস্য নিহত এবং দুই শতাধিক আহত হয়েছেন। তবে হতাহতের এই সংখ্যা কোনো স্বাধীন মাধ্যম থেকে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ ও বর্তমান পরিস্থিতি:   পাক মন্ত্রীর দেওয়া তথ্যমতে, এই হামলায় তালেবানের বিপুল পরিমাণ সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:   ২৭টি চেকপোস্ট সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং ৯টি পোস্টের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ।   ২টি কর্পস সদর দপ্তর ও ৩টি ব্রিগেড সদর দপ্তর ধ্বংস।   বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ডিপো, লজিস্টিক ঘাঁটি এবং ৩টি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর গুঁড়িয়ে দেওয়া।   প্রায় ৮০টিরও বেশি ট্যাংক, আর্টিলারি গান এবং সাঁজোয়া যান ধ্বংস করার দাবি করেছে পাকিস্তান। নিরাপত্তা সূত্রগুলো বলছে, যেকোনো ধরনের পাল্টা আক্রমণ মোকাবিলায় পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। এই বিমান হামলার পর দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
পাকিস্তান-তালেবান সংঘাত কি শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে রূপ নেবে? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তজুড়ে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বিশ্বরাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   তবে দুই দেশের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ বা প্রচলিত যুদ্ধের সম্ভাবনা কতটুকু? বিবিসি উর্দুর এক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আফগান তালেবানের পক্ষে পাকিস্তানের মতো পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রচলিত সম্মুখ যুদ্ধে জয়ী হওয়া প্রায় অসম্ভব। বিশ্বের সামরিক শক্তিধর দেশগুলোর তালিকায় পাকিস্তান নিয়মিতভাবে শীর্ষ ১৫-তে অবস্থান করে। অন্যদিকে, তালেবান বাহিনীর সক্ষমতা মূলত তিনটি উৎসের ওপর নির্ভরশীল: সাবেক আফগান সেনাবাহিনীর ফেলে যাওয়া অস্ত্র। মার্কিন ও বিদেশি বাহিনীর রেখে যাওয়া সামরিক সরঞ্জাম। কালোবাজার থেকে সংগৃহীত অনিয়মিত অস্ত্রশস্ত্র। প্রচলিত বনাম গেরিলা যুদ্ধ সীমান্ত সংঘর্ষের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, তালেবানরা সাধারণত হালকা অস্ত্র ব্যবহার করে। তবে তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো দীর্ঘদিনের গেরিলা যুদ্ধের অভিজ্ঞতা।  আফগান নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি যুদ্ধের বদলে তারা অতর্কিত হামলা এবং সড়কপথে বোমা পেতে রাখার (IED) মতো কৌশলেই বেশি অভ্যস্ত। মূলত অর্থনৈতিক সংকট এবং আধুনিক যুদ্ধবিমানের অভাব তালেবানদের একটি বড় আকারের যুদ্ধ থেকে বিরত রাখবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
পাকিস্তানের হামলায় নিহতদের মরদেহ কফিন
পাকিস্তানের ‘যুদ্ধ ঘোষণা’, আফগানিস্তানজুড়ে অতর্কিত হামলা

আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণার দাবি উঠেছে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতজুড়ে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ শুরু হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।   কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-র লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার আফগানিস্তানের কাবুল, কান্দাহারসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান বাহিনী। কাবুলে অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।   এর আগে পাকিস্তান অভিযোগ করে, আফগান বাহিনী তাদের সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ লেখেন, “আমাদের ধৈর্যের সীমা পেরিয়ে গেছে। এখন আমাদের এবং তোমাদের মধ্যে প্রকাশ্য যুদ্ধ।”   অন্যদিকে আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বলেন, আফগানরা ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের মাতৃভূমি রক্ষা করবে এবং আগ্রাসনের জবাব দেবে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, সহিংসতা ও বোমা হামলার নীতি থেকে পাকিস্তানকে সরে এসে সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।   উভয় দেশই নিরাপত্তা বাহিনীর বহু সদস্য নিহত হওয়ার দাবি করেছে। তবে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
পাকিস্তানের পাল্টা হামলায় নিহত ৪৪ আফগান সেনা

পাকিস্তান–আফগান সীমান্তে অনিয়ন্ত্রিত গুলিবর্ষণের পর পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী শক্ত ও সমন্বিত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অন্তত ৪৪ জন আফগান তালেবান যোদ্ধাকে হত্যা করেছে বলে স্থানীয় নিরাপত্তা সূত্র বৃহস্পতিবার জানিয়েছে।   সূত্র অনুযায়ী, খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন স্থানে আফগান তালেবান বাহিনীর গুলির ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর জবাবে পাকিস্তানি সেনারা দ্রুত অপারেশন “গজব-লিল-হক” শুরু করে। অভিযানের সময় তালেবান বাহিনীর পরিচালিত একটি কুয়াডকপ্টার হামলা সফলভাবে প্রতিহত করা হয় এবং সব হুমকিস্বরূপ ড্রোন ধ্বংস করা হয়। কোনো ড্রোনই লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি বলে জানানো হয়েছে।   জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনারা ছোট ও ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে ব্যাপক পাল্টা গুলি চালায় এবং আকাশ থেকে ড্রোনের মাধ্যমে তালেবান অবস্থানগুলোতে আঘাত হানে। চিত্রাল সেক্টরে একটি তালেবান চেকপোস্ট ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি বজাতুরের নওগাই, খাইবারের তিরাহ, মোহম্মদ জেলা ও আরণ্দু খাতে ধারাবাহিক পাল্টা হামলা চালানো হয়।   বজাতুর এলাকায় দুটি আফগান পোস্ট ধ্বংস করা হয়েছে। হামলার তীব্রতায় তালেবান যোদ্ধারা তাদের অবস্থান ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় এবং টর্কহাম ক্রসিংয়ে সরঞ্জাম ও রসদ ফেলে রেখে সরে যায় বলে সূত্র জানিয়েছে।   এই সংঘর্ষে বেসামরিক নাগরিকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বজাতুরের লাগরি এলাকায় মর্টার শেল বিস্ফোরণে পাঁচজন আহত হন, যাদের মধ্যে তিনজন নারী। আহতদের খার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি মসজিদও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানান, সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   এর আগে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জানায়, আফগান তালেবান বাহিনী সীমান্তজুড়ে অপ্রয়োজনীয় গুলিবর্ষণ করে ভুল হিসাব করেছে। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, চিত্রাল, খাইবার, মোহম্মদ, কুর্রাম ও বজাতুরে পাকিস্তানি সেনাদের তাৎক্ষণিক ও কার্যকর প্রতিক্রিয়ায় আফগান বাহিনী বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।   কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে বলেন, ভবিষ্যতে যে কোনো আগ্রাসনের জবাব দ্রুত ও দৃঢ়ভাবে দেওয়া হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
পাকিস্তানের ভয়াবহ হামলার পর ‘যথাযথ প্রতিশোধের’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল আফগানিস্তান । ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তান–আফগানিস্তান সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলা, ডুরান্ড লাইনে উত্তেজনা বৃদ্ধি

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় উত্তেজনা বেড়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে সীমান্তজুড়ে তীব্র সংঘর্ষের দাবি করেছে আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষ।   আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক মিডিয়া অফিসের ভাষ্য, নাঙ্গারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তানি বিমান হামলার জবাবে তারা সীমান্তবর্তী পাকিস্তানি সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালায়।   তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, “ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বৃহৎ আকারের অভিযান শুরু হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, আফগান বাহিনী একাধিক ফাঁড়ি দখল করেছে এবং পাকিস্তানি সেনাদের হতাহত করেছে।   দুই দেশের মধ্যে ২,৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তটি ডুরান্ড লাইন নামে পরিচিত, যা আফগানিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় না।   অন্যদিকে পাকিস্তানের তাৎক্ষণিক বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া না মিললেও পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় জানায়, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কয়েকটি সেক্টরে তালেবানদের গুলিবর্ষণের ‘তাৎক্ষণিক ও কার্যকর জবাব’ দিয়েছে পাকিস্তানি বাহিনী।   এর আগে রোববার পাকিস্তান সেনাবাহিনী সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৭০ জন যোদ্ধা নিহতের দাবি করেছিল। তবে আফগানিস্তান বলেছে, ওই হামলায় নারী ও শিশুসহ বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন।   সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

Top week

ফাইল ফটো।
আমেরিকা

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0