সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

নেপাল

বাংলাদেশের মতো ভারতে অরাজক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস
বাংলাদেশের মতো ভারতে অরাজক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপির

ভারতে বিরোধী দল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ও নেপালের মতো অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ তুলেছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলটির দাবি, ক্ষমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। আর সেই উদ্দেশ্যে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে তাঁর দল।   বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এক ভিডিও বার্তায় এসব অভিযোগ করেন বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি। বুধবার নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোর জোট ইন্ডিয়ার বিক্ষোভের কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ তুলে ধরে তিনি এ অভিযোগ করেন। ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের বরাতে বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এ খবর জানিয়েছে।   বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারির অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে আন্দোলনের নামে কংগ্রেস দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, বিরোধীদের আন্দোলনের ধরন দেখে বোঝা যাচ্ছে, তারা বাংলাদেশ ও নেপালের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়।   ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, কংগ্রেসের কৌশল হলো বাংলাদেশ ও নেপালের মতো ভারতে অরাজকতা ছড়িয়ে দেওয়া। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেসের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য শুধু নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা নয়, বরং আন্দোলনের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলা।   বুধবারের বিক্ষোভের কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে প্রদীপ ভান্ডারি দাবি করেন, আন্দোলনের সময় রাহুল গান্ধী, তাঁর বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং কংগ্রেসের কর্মীরা পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়েছেন।   একটি ভিডিওর প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেসের কয়েকজন কর্মী দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের ধাক্কা দিয়েছেন এবং লাথি মেরেছেন। অন্য একটি ভিডিওতে পুলিশ সদস্যরা রাহুল গান্ধীকে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার অনুরোধ জানাচ্ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।   প্রদীপ ভান্ডারির আরও অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের উপযোগী ভিডিও তৈরির উদ্দেশ্যে রাহুল গান্ধী নিজেও একজন পুলিশ সদস্যকে ধাক্কা দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর বিরুদ্ধেও পুলিশ সদস্যদের ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি।   তবে এসব অভিযোগ বিজেপির মুখপাত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতে উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট ভিডিওগুলোর মাধ্যমে তাঁর সব অভিযোগ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   ভারতে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম, যা এসআইআর নামে পরিচিত। এই প্রক্রিয়ায় ভোটারদের নাম বাদ পড়া এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো।   বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বৈধ ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট।   অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান হলো, ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য হচ্ছে মৃত ব্যক্তি, অযোগ্য ভোটার এবং একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত নাম শনাক্ত করে তালিকা হালনাগাদ করা। ক্ষমতাসীন বিজেপিও বিরোধীদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।   গত মঙ্গলবার থেকে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ জোরদার করেন বিরোধী নেতারা। বুধবারও রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ ইন্ডিয়া জোটের নেতারা রাজপথে নামেন।   বিক্ষোভের একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তি হয়। পরে রাহুল গান্ধীসহ কয়েকজন বিরোধী নেতাকে আটক করে পুলিশ। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের প্রতিবাদের মধ্যেই দিল্লিতে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।   এদিকে বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি দাবি করেছেন, নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিষয়টি ইতোমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিবেচনাধীন রয়েছে। ফলে রাজপথে বিক্ষোভের মাধ্যমে আদালতের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করা সম্ভব নয়।   তাঁর অভিযোগ, রাহুল গান্ধী আন্দোলনের দৃশ্য ব্যবহার করে বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।   এমনকি ভারতের অভ্যন্তরে অস্থিরতা তৈরিতে কিছু আন্তর্জাতিক শক্তি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কাজ করছে বলেও অভিযোগ করেন বিজেপির এই মুখপাত্র। তবে তাঁর এ দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ উপস্থাপনের তথ্য পাওয়া যায়নি।   প্রদীপ ভান্ডারি বলেন, ভারতের গণতন্ত্র শক্তিশালী ও নিরাপদ রয়েছে। তাঁর দাবি, কংগ্রেস নেতৃত্ব দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের রাজনৈতিক ক্ষমতায় ফেরার বিষয়টিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।   তবে বিজেপির এসব অভিযোগের বিষয়ে কংগ্রেসের সুনির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।   বিরোধী দলগুলোর বক্তব্য, তাদের আন্দোলন নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে পরিচালিত হচ্ছে। রাহুল গান্ধীও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অবস্থান জানিয়েছেন।   ভারতের চলমান রাজনৈতিক সংঘাতে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে বিজেপির নতুন অভিযোগ দুই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির তুলনাকে আবারও আলোচনায় এনেছে। তবে বাংলাদেশ ও নেপালের উদাহরণ দিয়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অরাজকতা তৈরির যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেটি বিজেপির রাজনৈতিক বক্তব্য। এ ধরনের পরিকল্পনার অস্তিত্ব স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।   ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধীদের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যে ভারতের রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। একদিকে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা, অন্যদিকে আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। ফলে আগামী দিনগুলোতে ভোটার তালিকা ও নির্বাচন কমিশন ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৪:০
নির্বাচনের অভিজ্ঞতা নিতে ঢাকায় নেপালের নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি দল
নির্বাচনের অভিজ্ঞতা নিতে ঢাকায় নেপালের নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি দল

প্রবাসী নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ যে উদ্যোগ নিয়েছে, সেই অভিজ্ঞতা জানতে ঢাকায় এসেছে নেপালের নির্বাচন কমিশনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। দুই দেশের নির্বাচন কমিশনের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার এবং নির্বাচনি ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের অংশ হিসেবে ৭ ও ৮ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী ‘লার্নিং অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।   বুধবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ও নেপাল নির্বাচন কমিশনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন।   সভায় নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাসুদ, বেগম তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ উপস্থিত থাকবেন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এবং অতিরিক্ত সচিব মো. শামসুল আলমও আলোচনায় অংশ নেবেন।   এ ছাড়া দেশের বাইরে ভোটদান ব্যবস্থা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন প্রকল্পের টিম লিডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত ড. সালীম আহমদ খান এবং উপপ্রকল্প পরিচালক মামুনুর হোসেন বৈঠকে অংশ নেবেন। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি বা ইউএনডিপির নির্বাচনি সহায়তা কার্যক্রমের প্রতিনিধিরাও এ সময় উপস্থিত থাকবেন।   নেপালের প্রতিনিধি দলে দেশটির দুজন নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়েছেন। ইউএনডিপির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এই সফর ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।   সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে নেপালের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন বাস্তবায়নাধীন ‘দেশের বাইরে ভোটদান সিস্টেম উন্নয়ন এবং বাস্তবায়ন’ প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করবে। ৭ ও ৮ অক্টোবর তারা প্রকল্পটির কারিগরি ও প্রশাসনিক বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেবে।   বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন প্রবাসী নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে যে পদ্ধতি, প্রযুক্তি এবং প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে কাজ করছে, নেপালের প্রতিনিধিরা সেসব বিষয়ে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ, প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি এবং ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হবে।   নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের নির্বাচন কমিশনের মধ্যে পেশাগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বাড়ানো। বিশেষ করে প্রবাসীদের ভোটাধিকার বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও উত্তম চর্চা নেপালের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের চলমান ওসিভি-এসডিআই প্রকল্প সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কীভাবে কাজ করছে, নেপালের প্রতিনিধিদের সফরের অন্যতম প্রধান আগ্রহের জায়গা সেটিই।   দুই দিনের এই কর্মসূচিতে শুধু কারিগরি বিষয় নয়, ভোটার ব্যবস্থাপনা, প্রবাসী ভোটার শনাক্তকরণ, নিরাপত্তা, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার সম্ভাব্য উপায় নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।   বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন আশা করছে, এই অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের নির্বাচনি ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে আরও নিয়মিত সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক পর্যায়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির নতুন পথও খুলতে পারে।   সূত্র: ইত্তেফাক

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৪:০
‘কিডনি বিক্রি করেও তোকে ডাক্তার বানাব’, বাবার স্বপ্ন পূরণ করে তুরস্কের খ্যাতিমান চিকিৎসক ছেলে
‘কিডনি বিক্রি করেও তোকে ডাক্তার বানাব’, বাবার স্বপ্ন পূরণ করে তুরস্কের খ্যাতিমান চিকিৎসক ছেলে

গুরুতর অসুস্থ বাবার জীবন বাঁচাতে লড়াই করছেন এক চিকিৎসক সন্তান। ৬০ বছর বয়সী বাবা হৃদরোগ ও কিডনি বিকল হয়ে ধুঁকছিলেন। নেপালে চিকিৎসা সম্ভব না হওয়ায় তাঁকে তুরস্কে নিয়ে যান ছেলে। টানা ২৫ দিন আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে চোখ খোলেন বাবা।   ছেলেকে দেখে হাসিমুখে বলেন, "তুই আমাকে বাঁচিয়ে নিলি।" এই চিকিৎসক ছেলের নাম ডা. বিনোদ সাহ। বাবার জীবন বাঁচানোর এই মুহূর্তটি তাঁর কাছে অন্য যেকোনো সফল চিকিৎসার চেয়ে অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা এই মানুষটিই একসময় পড়াশোনায় অমনোযোগী এক দুষ্টু ছেলেকে জোর করে চিকিৎসক বানিয়েছিলেন।   ডা. বিনোদ সাহের শৈশব কেটেছে নেপালের সিরাহা জেলার গোলবাজারে। বইপত্রের চেয়ে খেলাধুলা আর দুষ্টুমিতেই তাঁর বেশি আগ্রহ ছিল। কিন্তু তাঁর দরিদ্র বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলেকে চিকিৎসক বানাবেন। বাবা ছেলেকে কড়া শাসনে রাখতেন, এমনকি পড়াশোনার জন্য তাঁকে বোর্ডিং স্কুলেও পাঠিয়েছিলেন।   কিন্তু স্বাধীনচেতা বিনোদ মাত্র দুই মাস পরেই সেখান থেকে পালিয়ে আসেন। তবে বাবা হাল ছাড়েননি। তিনি বলেছিলেন, "প্রয়োজনে কিডনি বিক্রি করে দেব, তবু তোকে ডাক্তার বানাব।" বাবার এই অদম্য জেদ আর কঠোর শাসনই শেষ পর্যন্ত বিনোদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।   এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় প্রথমবার অকৃতকার্য হলেও বাবার উৎসাহে দ্বিতীয়বার মেধা তালিকায় ২৩তম স্থান অধিকার করে তুরস্কে পড়ার পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি পান বিনোদ। কিন্তু সেখানে গিয়েও তাঁকে নতুন সংগ্রামের মুখোমুখি হতে হয়। ভাষা না জানা এবং আর্থিক সংকটের মাঝেও তিনি তুর্কি ভাষা শিখে নেন এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানে টানা তিন বছর নিজের ক্লাসে প্রথম স্থান অধিকার করেন।   পরবর্তীতে শিশু চিকিৎসায় উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে তিনি তুরস্কের হ্যাসেটেপ ইউনিভার্সিটিতে যোগ দেন এবং নবজাতক চিকিৎসায় বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গবেষক হিসেবে স্বীকৃতি পান। ২০১৫ ও ২০২৪ সালে তুরস্ক সরকার তাঁকে 'বর্ষসেরা চিকিৎসক' সম্মাননায় ভূষিত করে।   চিকিৎসক হিসেবে অসংখ্য শিশুর প্রাণ বাঁচিয়েছেন ডা. বিনোদ। একবার টানা ৪৮ মিনিট সিপিআর দিয়ে এক নবজাতককে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছিলেন তিনি। বিদেশে তুমুল সফল হলেও মাতৃভূমি নেপালের প্রতি তাঁর টান কখনোই কমেনি।   নেপালের শিশুদের জন্য আধুনিক চিকিৎসার আশায় ২০১৬ সালে দেশে ফিরে তিনি গ্র্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে দেশের প্রথম পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (পিআইসিইউ) প্রতিষ্ঠা করেন। তবে নেপালের চিকিৎসাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, প্রশাসনিক জটিলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক হস্তক্ষেপের কারণে তিনি পরবর্তীতে পুনরায় তুরস্কে ফিরে যান এবং সেখানে একটি আধুনিক শিশু ক্লিনিক গড়ে তোলেন।   জীবনের এই দীর্ঘ যাত্রায় ডা. বিনোদ সাহ প্রমাণ করেছেন, সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে যেকোনো বাধাই জয় করা সম্ভব। যে বছর তিনি তুরস্কে তাঁর বাবার প্রাণ বাঁচান, সে বছরই তিনি বর্ষসেরা চিকিৎসকের পুরস্কার নিচ্ছিলেন। হুইলচেয়ারে বসে সেই দৃশ্য দেখে তাঁর বাবা বলেছিলেন, "এখন মারা গেলেও আমার কোনো আক্ষেপ নেই।   আমার ছেলে আমাকে বাঁচিয়েছে, আমার স্বপ্ন আজ সত্যি হয়েছে।" দুষ্টু ছেলে থেকে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিকিৎসক হয়ে ওঠার এই যাত্রাকে বিনোদ তাঁর বাবার প্রতিই উৎসর্গ করেন। তাঁর ভাষায়, "স্বপ্ন দেখার চোখগুলো ছিল আমার বাবার, আর সেই স্বপ্ন পূরণের পথে হাঁটার পা ছিল আমার।"

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৪:০
নেপালের লাংটাং অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও হিমবাহ ধসের পর দুর্গম পাহাড়ি এলাকা
নেপালে বন্যায় নিখোঁজের ৩৭ দিন পর অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার মালয়েশিয়ান পর্যটক

নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও হিমবাহ ধসের ৩৭ দিন পর অবশেষে জীবিত অবস্থায় খোঁজ মিলেছে এক মালয়েশিয়ান পর্যটকের। দীর্ঘ সময় ধরে নিখোঁজ থাকার পর তিনি নিরাপদে মালয়েশিয়ায় ফিরে গেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।   শুক্রবার (২ অক্টোবর) ‘মালয়েশিয়া সলিডারিটি: ফ্যামিলিজ ইন হোপ’ (মাসফি)-এর মুখপাত্র মনিভান্নান রেথিনাম এক বিবৃতিতে জানান, ওই পর্যটক নেপালের কাঠমান্ডুতে থাকা মালয়েশিয়ার দূতাবাসে গিয়ে নিজের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এরপর তিনি নিরাপদে দেশে ফিরে যান।   ৩৭ দিন পর নিখোঁজ ওই পর্যটকের জীবিত থাকার খবর স্বাভাবিকভাবেই তার পরিবারের জন্য স্বস্তি বয়ে এনেছে। একই সঙ্গে এখনো নিখোঁজ থাকা অন্যদের পরিবারগুলোর মধ্যেও নতুন করে আশা তৈরি হয়েছে।   গত ২৫ আগস্ট বিকেল ৩টা ২৬ মিনিটে, ভয়াবহ বন্যার এক দিন আগে, ওই পর্যটককে নাগথালি ভিউপয়েন্টে দেখা গিয়েছিল বলে জানানো হয়। পরে স্থানীয় রাস্তাঘাট ও সেতু ধ্বং স হয়ে যাওয়ায় তিনি দুর্গম এলাকায় আটকা পড়েন। সেখানে বিদ্যুৎ ও খাবার পানিরও তীব্র সংকট তৈরি হয়েছিল।   হিমালয়ের লাংটাং লিরুং পর্বতে হিমবাহ ও বরফ ধসের পর ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ওই হিমবাহ ও বরফ ধসের ফলে তৈরি কম্পনের মাত্রা ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য ছিল।   এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেপাল ও সংলগ্ন তিব্বত অঞ্চলে ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রা ণ হা নি হয়েছে। এখনো পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।   দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা ভে ঙে পড়ায় উদ্ধার তৎপরতাও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। দুর্গম অঞ্চলগুলোর অনেক জায়গায় রাস্তা ও সেতু ধ্বং স হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জরুরি পরিষেবাও বন্ধ হয়ে যায়।   এর আগে গত ২৭ আগস্ট মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, নেপালের বন্যার পর কাঠমান্ডুতে থাকা মালয়েশিয়ান দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ৫৫ জন মালয়েশিয়ান নাগরিকের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।   নেপালের পর্যটন দপ্তরের ১৭ সেপ্টেম্বরের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ ৩০টিরও বেশি দেশের নাগরিক তখনো নিখোঁজ ছিলেন।   নিখোঁজদের মধ্যে ১৮০ জনের বেশি ভারতীয়, ৬৫ জন আমেরিকান, ৫৪ জন ইউক্রেনীয়, ৫৪ জন মালয়েশিয়ান এবং ৩৭ জন চীনা নাগরিক ছিলেন।   ৩৭ দিন পর এক মালয়েশিয়ান পর্যটকের জীবিত ফিরে আসার খবর তাই দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর জন্য নতুন আশার বার্তা হয়ে এসেছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৪:০
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যার পর এক মাসেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ বাবা-মায়ের ফিরে আসার অপেক্ষায় তানভি। ছবি: সংগৃহীত
নেপালের বন্যায় নিখোঁজ বাবা-মা, ৩০ দিন পরও অপেক্ষায় মেয়ে

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর এক মাসেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ রয়েছেন কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়া ভারতীয় দম্পতি ভেঙ্কটরাম অন্নামদেবরা ও অনঘা অন্নামদেবরা। তাঁদের মেয়ে তানভি এখনো বাবা-মায়ের ফিরে আসার অপেক্ষায় দিন গুনছেন। এতদিনেও তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য না পাওয়ার যন্ত্রণা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর একটাই প্রশ্ন, ‘কেন তাঁদেরই?’   ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। তীব্র স্রোত, ধ্বংসাবশেষ ও ভূমিধসে বিস্তীর্ণ এলাকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ওই সময় ভেঙ্কটরাম ও অনঘা ৬৭ সদস্যের একটি দলের সঙ্গে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় ছিলেন। দুর্যোগের পর তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।   বাবা-মা নিখোঁজ হওয়ার পর এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পায়নি পরিবার। তানভি তাঁর সাম্প্রতিক ভিডিওতে জানিয়েছেন, গত এক মাসে তাঁর জীবন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। বাবা-মায়ের জন্য অপেক্ষা, তাঁদের নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং নিজের জীবনের বিভিন্ন দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে তাঁকে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, দলটির সর্বশেষ জানা অবস্থান ছিল নেপালের অভিবাসন কেন্দ্র ও ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজের আশপাশে। আকস্মিক বন্যায় ওই এলাকাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে ভেঙ্কটরাম ও অনঘা ঠিক কোথায় রয়েছেন কিংবা তাঁদের কী ঘটেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য না থাকায় পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।   বাবা-মায়ের নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তানভির সামনে ছিল নিজের চিকিৎসাবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। ৩০ আগস্ট তাঁর এনইইটি-পিজি পরীক্ষা ছিল। বাবা-মায়ের কোনো সন্ধান না পেলেও তিনি পরীক্ষাকেন্দ্রে যান। পরে নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, তিন ঘণ্টার পরীক্ষার প্রায় দেড় ঘণ্টা তিনি কেঁদেছেন। চোখের পানির কারণে প্রশ্নপত্র পড়তেও তাঁর সমস্যা হচ্ছিল।   মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা শেষ করেন তানভি। কারণ তাঁর বাবা চাইতেন তিনি পরীক্ষাটি দিন। বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ না থাকলেও বাবার সেই ইচ্ছার কথা মনে রেখেই তিনি পরীক্ষায় বসেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা সম্পন্ন করেন।   পরীক্ষার দিন পরিবারের ছোট একটি অভ্যাসও তাঁকে বাবা-মায়ের অনুপস্থিতি আরও গভীরভাবে অনুভব করায়। গুরুত্বপূর্ণ কোনো পরীক্ষার আগে তাঁর মা সাধারণত তাঁকে দই ও চিনি খাওয়াতেন। বাবা তাঁকে শুভকামনা জানাতেন। কিন্তু ওই দিন দুজনের কেউই তাঁর পাশে ছিলেন না। পরিচিত সেই মুহূর্তের অনুপস্থিতি তাঁর কাছে বাবা-মাকে হারিয়ে ফেলার অনিশ্চয়তাকে আরও কঠিন করে তোলে।   নেপালের ওই দুর্যোগে শুধু তানভির পরিবার নয়, আরও বহু পরিবার প্রিয়জনের সন্ধানে অপেক্ষা করছে। কাঠমান্ডু পোস্টের ২৭ আগস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোটেকোশি বন্যার পর তখন ৮২৬ জনের অবস্থান অজানা ছিল। তাঁদের মধ্যে ৫৯০ জন ছিলেন পর্যটক। ওই পর্যটকদের মধ্যে ৪৭৬ জন বিদেশি এবং ১১৪ জন নেপালি নাগরিক ছিলেন।   পরবর্তী সময়ে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। রয়টার্সের ১৫ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে নেপালের অংশে ৫ হাজার ১৩০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ এবং ১ হাজার ৩৮৬ জনের মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ করা হয়। ব্যাপক ধ্বংসস্তূপ, যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষতি এবং দুর্গম ভূখণ্ডের কারণে উদ্ধার ও পরিচয় শনাক্ত করার কার্যক্রম কঠিন হয়ে পড়ে।   দুর্যোগের পর বহু পরিবার হাসপাতাল, উদ্ধারকেন্দ্র এবং বিভিন্ন স্থানে নিজেদের স্বজনের সন্ধান চালিয়ে যেতে থাকে। পরিচয় শনাক্ত করার জন্য কিছু পরিবার ডিএনএ নমুনাও জমা দেয়। দিনের পর দিন কোনো নতুন তথ্য না পাওয়ায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের মধ্যে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হতে থাকে।   তানভির পরিবারও একই অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। বাবা-মা কোথায় আছেন, তাঁরা বেঁচে আছেন কি না কিংবা তাঁদের সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছে, এসব প্রশ্নের কোনো নিশ্চিত উত্তর এখনো পরিবারের হাতে নেই। এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও পরিবার তাঁদের নিখোঁজ হিসেবেই খুঁজে যাচ্ছে।   নিজের বক্তব্যে তানভি বারবার বাবা-মায়ের সঙ্গে কাটানো সময়ের স্মৃতিতে ফিরে গেছেন। জীবনের দীর্ঘ সময় পরিবারের দায়িত্ব পালন করার পর তাঁর বাবা-মা নিজেদের জন্য এই ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আনন্দের যাত্রাই শেষ পর্যন্ত তাঁদের পরিবারের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার ঘটনায় পরিণত হয়েছে।   বাবা-মায়ের কোনো খবর না পাওয়ার যন্ত্রণার মধ্যেই তানভির মনে বারবার ফিরে আসছে একটি প্রশ্ন, ‘কেন তাঁদেরই?’ একদিকে বাবা-মায়ের সন্ধানের অপেক্ষা, অন্যদিকে নিজের পড়াশোনা ও জীবনের দায়িত্ব চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, সবকিছুর মধ্যেই গত এক মাস কাটিয়েছেন তিনি।   এখনো ভেঙ্কটরাম অন্নামদেবরা ও অনঘা অন্নামদেবরার বিষয়ে নিশ্চিত কোনো পরিণতির তথ্য প্রকাশিত হয়নি। তাঁদের সন্ধান পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করছে পরিবার। তানভিও বাবা-মায়ের ফিরে আসার আশা ধরে রেখেছেন। এক মাসের বেশি সময় ধরে কোনো নিশ্চিত খবর না পেলেও সেই অপেক্ষা এখনো শেষ হয়নি।

তাবাস্সুম অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৪:০
বৈধ কাগজপত্র থাকা তিন নারীর বিদেশযাত্রা আটকে দেওয়ার ঘটনায় হাইকোর্টে রিট হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নারীদের বিদেশযাত্রায় বাধা নিয়ে হাইকোর্টের প্রশ্ন, সামনে আসছে বিমানবন্দরে হয়রানির অভিজ্ঞতা

বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও তিন প্রাপ্তবয়স্ক নারীকে নেপাল যেতে বাধা দেওয়ার ঘটনা নতুন করে সামনে এনেছে বাংলাদেশের বিমানবন্দর ও ইমিগ্রেশনে যাত্রী হয়রানির অভিযোগ। তিন নারী আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পর এবার নিজেদের পুরোনো অভিজ্ঞতাও প্রকাশ করছেন অনেকে। তাদেরই একজন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী, যিনি ২০২১ ও ২০২২ সালে ঢাকা বিমানবন্দরে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া দুটি ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন।   গত ৮ আগস্ট নেপালে যাওয়ার উদ্দেশ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান রিফা তামান্না, সোহানি ইসলাম সমাপ্তি ও নাজনীন। তাদের আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনজনই প্রাপ্তবয়স্ক এবং তাদের কাছে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি ছিল। তাদের বিদেশযাত্রায় কোনো আদালতের নিষেধাজ্ঞাও ছিল না। এরপরও ইমিগ্রেশনে তাদের বৈবাহিক অবস্থা, পরিবারের সম্মতি এবং অভিভাবক ছাড়া ভ্রমণ নিয়ে প্রশ্ন করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত নেপাল যেতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।   ঘটনাটি এখন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ জানতে চেয়েছেন, বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও তিন নারীকে বিদেশ যেতে বাধা দেওয়ার কার্যক্রম কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগ তদন্ত করে সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দিতে পুলিশের সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত আইজিপিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনগত ভিত্তি ছাড়া ভবিষ্যতে ওই তিন নারীর বিদেশযাত্রায় বাধা না দিতেও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।   তবে ইমিগ্রেশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকেও ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা এসেছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, মানব পাচারের ঝুঁকির কারণে নেপালগামী যাত্রীদের কাগজপত্র বিশেষভাবে যাচাই করা হচ্ছে। তাদের দাবি, ওই তিন নারী যে সেমিনারে যাওয়ার কথা বলেছিলেন, তার আমন্ত্রণপত্র এবং হোটেল বুকিং দেখাতে পারেননি। পুলিশের সদর দপ্তর জানিয়েছে, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় তারা এ নিয়ে মন্তব্য করতে চায় না।   ঘটনাটি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের দুটি অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন এক সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে স্বামীর সঙ্গে নেপাল যাওয়ার সময় ঢাকা বিমানবন্দরে এক ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা তার পাসপোর্টে স্বামীর নাম না থাকার কারণ জানতে চান। তিনি জানান, বিয়ের আগে পাসপোর্ট করা হয়েছিল। এরপর ওই কর্মকর্তা তাদের বিয়ের কাবিননামা দেখতে চান বলে তার অভিযোগ।   তার ভাষ্য, বৈধ পাসপোর্টে বিদেশ যেতে কাবিননামা কেন প্রয়োজন - এমন প্রশ্ন তোলার পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা প্রথমে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে রাজি হননি। পরে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে অন্য কর্মকর্তা তার ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। সেই অভিজ্ঞতার বিপরীতে নেপালের বিমানবন্দরে হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন খুঁজতে কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। তার দাবি, বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মী ও পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ফোনটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। পরে জানা যায়, বিমানবন্দরে আসার গাড়িতেই ফোনটি ফেলে এসেছিলেন তিনি এবং চালক সেটি ফেরত দিয়ে যান।   পরের বছর, ২০২২ সালের ১৫ আগস্ট ভারত থেকে দেশে ফেরার সময় ঢাকা বিমানবন্দরের কাস্টমসে আরেক দফা হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন ওই গণমাধ্যমকর্মী। তার ভাষ্য, তার পাসপোর্ট ও লাগেজ আটকে রেখে বিদেশে কেনাকাটা, ডলার এনডোর্সমেন্ট এবং ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের করসংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন করা হয়। একপর্যায়ে ব্যক্তিগত যোগাযোগ ব্যবহার করে ফোন করার পর তার পাসপোর্ট ও লাগেজ ফেরত দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।   এই দুটি ব্যক্তিগত অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। ফলে এগুলো ওই গণমাধ্যমকর্মীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বর্ণনা হিসেবেই বিবেচ্য। তবে বিমানবন্দরে বিশেষ করে একা ভ্রমণকারী নারীদের বৈবাহিক অবস্থা, স্বামীর অনুমতি বা অভিভাবকের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করার আরও অভিজ্ঞতা সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্যে এসেছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে একাধিক নারী একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।   বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদ নাগরিকের চলাফেরা এবং দেশ ত্যাগ ও পুনঃপ্রবেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেয়, যদিও জনস্বার্থে আইন অনুযায়ী যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে। সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সমতা এবং লিঙ্গের ভিত্তিতে বৈষম্য না করার বিধানও রয়েছে। বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার, ১৯৭৩-এ একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী অবিবাহিত হওয়া কিংবা স্বামী বা অভিভাবক সঙ্গে না থাকাকে বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার স্বতন্ত্র কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।   তিন নারীর নেপালযাত্রা আটকে দেওয়ার ঘটনায় হাইকোর্টের হস্তক্ষেপের পর তাই প্রশ্নটি এখন শুধু একটি বিমানযাত্রা নষ্ট হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বৈধভাবে বিদেশ যেতে চাওয়া একজন নাগরিককে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা ঠিক কোন পরিস্থিতিতে থামাতে পারবেন এবং সেই ক্ষমতার সীমা কোথায় - আদালতের চলমান প্রক্রিয়ায় সেই প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০
ভয়াবহ বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক অনুদান চেয়েছে নেপাল
ঋণ নয়, অনুদান চায় বন্যাবিধ্বস্ত নেপাল; জাতিসংঘের তহবিলে ২ কোটি ডলারের আবেদন

ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত নেপাল পুনর্গঠনের জন্য ঋণের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক অনুদান চেয়েছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় গঠিত আন্তর্জাতিক ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’-এর কাছে জরুরি ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার সহায়তার আবেদন করেছে দেশটি। প্রাথমিক হিসাবে সাম্প্রতিক দুর্যোগে নেপালের সম্পদ, আবাসন ও অবকাঠামোর সরাসরি ক্ষতি হয়েছে অন্তত ২ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার, আর পুনর্গঠনে প্রয়োজন হতে পারে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার।   বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এই সহায়তার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জলবায়ু দুর্যোগের পর পুনর্গঠনে ঋণের বোঝা বাড়ানোর পরিবর্তে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে অনুদানের মাধ্যমে সহায়তা করা প্রয়োজন।   আগস্টের শেষ দিকে নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ও পাহাড়ের একটি অংশ ধসে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস সৃষ্টি হয়। এতে নেপালে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে, হাজারো মানুষ নিখোঁজ হন এবং সড়ক, সেতু, বসতবাড়ি ও জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রয়টার্সের সর্বশেষ হিসাবে দুর্যোগে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও হাজারো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।   নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটির প্রাথমিক হিসাবে শুধু সম্পদ, আবাসন ও অবকাঠামোর সরাসরি ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৮৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন নেপালি রুপি বা ২ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার। তবে দেশটির অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সামগ্রিক পুনর্গঠনে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত প্রয়োজন হতে পারে—যা নেপালের অর্থনীতির প্রায় এক-দশমাংশের সমান।   এই বিপুল ক্ষতির মধ্যে নেপালের অর্থ ও পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথভাবে ‘ফান্ড ফর রেসপন্ডিং টু লস অ্যান্ড ড্যামেজ’-এর কাছে জরুরি ২ কোটি ডলারের আবেদন করেছে। বর্তমানে একটি দেশের একক আবেদনের সর্বোচ্চ সীমাই ২ কোটি ডলার। ফলে নেপাল সর্বোচ্চ অনুমোদিত অর্থ চেয়েছে।   তবে ২ কোটি ডলার নেপালের সামগ্রিক ক্ষতির তুলনায় অত্যন্ত সামান্য। কার্বন ব্রিফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই অর্থ সরাসরি ক্ষয়ক্ষতির এক শতাংশেরও কম। আর প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য পুনর্গঠন ব্যয়ের সঙ্গে তুলনা করলে ব্যবধান আরও বড়।   নেপাল এই সহায়তাকে প্রচলিত অর্থে দাতব্য সাহায্য হিসেবে দেখতে চায় না। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেছেন, এটি ‘ক্লাইমেট জাস্টিস’ বা জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্ন। তার বক্তব্য, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে নেপালের অবদান ০ দশমিক ১ শতাংশেরও কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বড় মূল্য দেশটির মানুষকে দিতে হচ্ছে।   প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহও জাতিসংঘে একই যুক্তি তুলে ধরেছেন। তিনি সাম্প্রতিক বন্যাকে শুধু নেপালের স্থানীয় বিপর্যয় নয়, বরং বিশ্বের জন্য একটি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তার বক্তব্য, হিমবাহ দ্রুত সরে যাচ্ছে, পাহাড়ের ঢাল অস্থিতিশীল হচ্ছে এবং নদীর আচরণ ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।   বন্যার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্ক নিয়েও নতুন বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এসেছে। বিজ্ঞানীদের একটি আন্তর্জাতিক দল জানিয়েছে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন নেপালের সাম্প্রতিক হিমবাহ ধস ও ভয়াবহ বন্যার পরিস্থিতি তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে—এমন সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি। উষ্ণতা বৃদ্ধি, হিমবাহ গলন এবং পারমাফ্রস্ট দুর্বল হয়ে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো পাহাড়ি অঞ্চলের স্থিতিশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে বলে তাদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।   তবে নেপালের ২ কোটি ডলারের জরুরি আবেদন এখনো চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়নি। লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডের বোর্ড নেপালের অনুরোধ পাওয়ার পর জানিয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব সহায়তার উপায় খুঁজতে আলোচনা ও সমন্বয় চলছে।   এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। নেপাল এর আগে আলাদা প্রস্তাবের ভিত্তিতে লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড থেকে ২ কোটি ডলারের অর্থায়নের অনুমোদন পেয়েছে। কিন্তু আগস্টের ভয়াবহ বন্যার পর করা নতুন জরুরি ২ কোটি ডলারের আবেদনটি আলাদা, এবং সেটির সিদ্ধান্ত এখনো অপেক্ষমাণ।   এদিকে দুর্যোগ মোকাবিলা ও পুনর্গঠনের জন্য নেপাল ইতোমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎস থেকে প্রায় ৯ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও নতুন করে ৩ কোটি ১০ লাখ ডলার বন্যা পুনরুদ্ধার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।   নেপালের প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে হিমালয় অঞ্চলের জন্য একটি ‘হিমালয়া ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স মেকানিজম’ তৈরির প্রস্তাবও দিয়েছেন। এতে নেপাল, ভারত ও চীনকে একসঙ্গে স্যাটেলাইট তথ্য ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান বিনিময়, হিমবাহের হ্রদ পর্যবেক্ষণ এবং যৌথ আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রস্তাব রয়েছে।   বন্যাবিধ্বস্ত নেপালের সামনে এখন তাই শুধু ধ্বংস হওয়া ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের চ্যালেঞ্জ নয়; বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে সেই পুনর্গঠনের অর্থ কোথা থেকে আসবে। কাঠমান্ডুর অবস্থান হলো—জলবায়ু সংকট তৈরিতে যেসব দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশের ভূমিকা সামান্য, তাদের নতুন ঋণের বোঝায় না ফেলে আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নের মাধ্যমে ক্ষতি সামাল দিতে সহায়তা করা উচিত।   সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা, ডয়চে ভেলে, দ্য গার্ডিয়ান, কাঠমান্ডু পোস্ট, কার্বন ব্রিফ

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত নেপাল পুনর্গঠনের জন্য ঋণের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক অনুদান চেয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ঋণ নয়, অনুদান চায় বন্যাবিধ্বস্ত নেপাল; জাতিসংঘের তহবিলে ২ কোটি ডলারের আবেদন

ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত নেপাল পুনর্গঠনের জন্য ঋণের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক অনুদান চেয়েছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় গঠিত আন্তর্জাতিক ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’-এর কাছে জরুরি ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার সহায়তার আবেদন করেছে দেশটি। প্রাথমিক হিসাবে সাম্প্রতিক দুর্যোগে নেপালের সম্পদ, আবাসন ও অবকাঠামোর সরাসরি ক্ষতি হয়েছে অন্তত ২ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার, আর পুনর্গঠনে প্রয়োজন হতে পারে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার।   বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এই সহায়তার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জলবায়ু দুর্যোগের পর পুনর্গঠনে ঋণের বোঝা বাড়ানোর পরিবর্তে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে অনুদানের মাধ্যমে সহায়তা করা প্রয়োজন।   আগস্টের শেষ দিকে নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ও পাহাড়ের একটি অংশ ধসে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস সৃষ্টি হয়। এতে নেপালে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে, হাজারো মানুষ নিখোঁজ হন এবং সড়ক, সেতু, বসতবাড়ি ও জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রয়টার্সের সর্বশেষ হিসাবে দুর্যোগে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও হাজারো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।    নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটির প্রাথমিক হিসাবে শুধু সম্পদ, আবাসন ও অবকাঠামোর সরাসরি ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৮৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন নেপালি রুপি বা ২ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার। তবে দেশটির অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সামগ্রিক পুনর্গঠনে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত প্রয়োজন হতে পারে—যা নেপালের অর্থনীতির প্রায় এক-দশমাংশের সমান।   এই বিপুল ক্ষতির মধ্যে নেপালের অর্থ ও পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথভাবে ‘ফান্ড ফর রেসপন্ডিং টু লস অ্যান্ড ড্যামেজ’-এর কাছে জরুরি ২ কোটি ডলারের আবেদন করেছে। বর্তমানে একটি দেশের একক আবেদনের সর্বোচ্চ সীমাই ২ কোটি ডলার। ফলে নেপাল সর্বোচ্চ অনুমোদিত অর্থ চেয়েছে।   তবে ২ কোটি ডলার নেপালের সামগ্রিক ক্ষতির তুলনায় অত্যন্ত সামান্য। কার্বন ব্রিফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই অর্থ সরাসরি ক্ষয়ক্ষতির এক শতাংশেরও কম। আর প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য পুনর্গঠন ব্যয়ের সঙ্গে তুলনা করলে ব্যবধান আরও বড়।    নেপাল এই সহায়তাকে প্রচলিত অর্থে দাতব্য সাহায্য হিসেবে দেখতে চায় না। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেছেন, এটি ‘ক্লাইমেট জাস্টিস’ বা জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্ন। তার বক্তব্য, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে নেপালের অবদান ০ দশমিক ১ শতাংশেরও কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বড় মূল্য দেশটির মানুষকে দিতে হচ্ছে।   প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহও জাতিসংঘে একই যুক্তি তুলে ধরেছেন। তিনি সাম্প্রতিক বন্যাকে শুধু নেপালের স্থানীয় বিপর্যয় নয়, বরং বিশ্বের জন্য একটি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তার বক্তব্য, হিমবাহ দ্রুত সরে যাচ্ছে, পাহাড়ের ঢাল অস্থিতিশীল হচ্ছে এবং নদীর আচরণ ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।   বন্যার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্ক নিয়েও নতুন বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এসেছে। বিজ্ঞানীদের একটি আন্তর্জাতিক দল জানিয়েছে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন নেপালের সাম্প্রতিক হিমবাহ ধস ও ভয়াবহ বন্যার পরিস্থিতি তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে—এমন সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি। উষ্ণতা বৃদ্ধি, হিমবাহ গলন এবং পারমাফ্রস্ট দুর্বল হয়ে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো পাহাড়ি অঞ্চলের স্থিতিশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে বলে তাদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।   তবে নেপালের ২ কোটি ডলারের জরুরি আবেদন এখনো চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়নি। লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডের বোর্ড নেপালের অনুরোধ পাওয়ার পর জানিয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব সহায়তার উপায় খুঁজতে আলোচনা ও সমন্বয় চলছে।   এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। নেপাল এর আগে আলাদা প্রস্তাবের ভিত্তিতে লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড থেকে ২ কোটি ডলারের অর্থায়নের অনুমোদন পেয়েছে। কিন্তু আগস্টের ভয়াবহ বন্যার পর করা নতুন জরুরি ২ কোটি ডলারের আবেদনটি আলাদা, এবং সেটির সিদ্ধান্ত এখনো অপেক্ষমাণ।   এদিকে দুর্যোগ মোকাবিলা ও পুনর্গঠনের জন্য নেপাল ইতোমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎস থেকে প্রায় ৯ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও নতুন করে ৩ কোটি ১০ লাখ ডলার বন্যা পুনরুদ্ধার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।   নেপালের প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে হিমালয় অঞ্চলের জন্য একটি ‘হিমালয়া ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স মেকানিজম’ তৈরির প্রস্তাবও দিয়েছেন। এতে নেপাল, ভারত ও চীনকে একসঙ্গে স্যাটেলাইট তথ্য ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান বিনিময়, হিমবাহের হ্রদ পর্যবেক্ষণ এবং যৌথ আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রস্তাব রয়েছে।   বন্যাবিধ্বস্ত নেপালের সামনে এখন তাই শুধু ধ্বংস হওয়া ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের চ্যালেঞ্জ নয়; বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে সেই পুনর্গঠনের অর্থ কোথা থেকে আসবে। কাঠমান্ডুর অবস্থান হলো—জলবায়ু সংকট তৈরিতে যেসব দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশের ভূমিকা সামান্য, তাদের নতুন ঋণের বোঝায় না ফেলে আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নের মাধ্যমে ক্ষতি সামাল দিতে সহায়তা করা উচিত।   সূত্র: রয়টার্স

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
কাঠমান্ডুর ঠামেলে সন্দেহজনক কার্যকলাপের অভিযোগে হোটেল থেকে ১০ বাংলাদেশি আটক
কাঠমান্ডুর ঠামেলে সন্দেহজনক কার্যকলাপের অভিযোগে হোটেল থেকে ১০ বাংলাদেশি আটক

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর পর্যটন এলাকা ঠামেলে সন্দেহজনক কার্যকলাপ ও অবৈধভাবে অবস্থানের অভিযোগে ১০ বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার বিভিন্ন হোটেল ও গেস্টহাউসে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে সবাইকে আরও তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপের জন্য দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগে পাঠানো হয়েছে।    নেপালের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঠামেলের হোটেল ঢাকা এক্সপ্রেস, হোটেল ডি ভেদা এবং হোটেল আল রহমানসহ কয়েকটি স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়। কাঠমান্ডু ভ্যালি ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন অফিসের পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিদেশি নাগরিকদের অবৈধ অবস্থান ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়ার পর অভিযান চালানো হয়।    আটক ব্যক্তিরা হলেন ফাহিমা আক্তার হাসান, মাহমুদ, মাহবুব হাসান, রিপন মাহমুদ, এমডি কেরামত আলী খান, শহিদুর রহমান, এমডি খলিলুর রহমান, আরিফুর রহমান, এমডি মারুফ মৃধা এবং মোহাম্মদ হানিফ মিয়া। তাদের বয়স ২৮ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাদের বাংলাদেশের গাজীপুরের গাজীপুর সদর ও গাছাবাড়ি পুলিশ স্টেশন এলাকার বাসিন্দা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।    নেপালের ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক টিকারাম ধাকাল জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে আটক ব্যক্তিদের একজনের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি নেপালে অবস্থান করছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদের অবস্থান ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত চলছে।    পুলিশের বরাতে আরও বলা হয়েছে, দলটির সদস্যরা ঠামেলের মুসলিমা টোল এলাকায় অবস্থান করছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে মারামারি এবং ভিসায় যে উদ্দেশ্যে নেপালে প্রবেশের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল, তার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ কর্মকাণ্ডের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত এখনো চলমান।    এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আরেক বাংলাদেশি নারী খাতুন-ই-জান্নাত বর্তমানে নিখোঁজ রয়েছেন বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।    নেপালে বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে এর আগেও তরুণদের উন্নত দেশে পাঠানোর কথা বলে বাংলাদেশ থেকে নেপালে নেওয়া এবং তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে তদন্তের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে বর্তমান ১০ জনের বিরুদ্ধে ওই আগের অভিযোগগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। সর্বশেষ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
নেপালে বন্যার পানিতে হোটেল ভেসে যাওয়ায় নিখোঁজ ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার ডা. ইশান ও তার পরিবার
নেপালে বন্যার পানিতে হোটেল ভেসে যাওয়ায় নিখোঁজ ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার ডা. ইশান ও তার পরিবার

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই ডাক্তার ও তাদের পরিবারের আরও দুই সদস্য নিখোঁজ হয়েছেন। গত ২৬ আগস্ট ভয়াবহ বন্যার সময় তারা একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বন্যার পানিতে হোটেলটি ভেসে যাওয়ার পর থেকে তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।   নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন ডা. ইশান প্যাটেল ও তার স্ত্রী ডা. আকাঙ্কশা প্যাটেল। সঙ্গে ছিলেন ইশানের মা শিলপা প্যাটেল এবং শ্বশুর উমেশকুমার প্যাটেল। ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার ডিপার্টমেন্ট অব অর্থোপেডিক সার্জারি জানিয়েছে, ইশান সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডাল্ট রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারি ফেলোশিপ সম্পন্ন করেছেন।   ফেলোশিপ শেষ করার পর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তীর্থযাত্রায় নেপালে গিয়েছিলেন ইশান। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ আগস্ট ভয়াবহ বন্যা শুরু হলে তারা সম্ভবত যে হোটেলে ছিলেন, সেটি পানির তোড়ে ভেসে যায়। এরপর থেকেই চারজনকে নিখোঁজ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।   ডা. আকাঙ্কশা প্যাটেলও মিনেসোটার সঙ্গে চিকিৎসা পেশার সূত্রে যুক্ত ছিলেন। তিনি আগে ফ্রিডলির মার্সি হাসপাতাল-ইউনিটি ক্যাম্পাসে সাইকিয়াট্রিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন। অলিনা হেলথ জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মী নন।   ইশান ও আকাঙ্কশা দ্বৈত মার্কিন-কানাডীয় নাগরিক। তাদের সঙ্গে থাকা ইশানের মা ও শ্বশুর কানাডার নাগরিক বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। পরিবারের সদস্যরা নিখোঁজদের সন্ধানে সহায়তা করতে নেপালে গেছেন।   নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫ হাজারেরও বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ। দুর্যোগের পর উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত রয়েছে।   হিমালয় অঞ্চলে ব্যাপক ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার পর নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলসহ দুর্গম এলাকাগুলোতে যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধার অভিযানও কঠিন হয়ে পড়েছে।   ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তনশীল এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম চলছে। নিখোঁজ ইশান, তার পরিবারের সদস্য এবং এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৪:০
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, ডেভিসের দুই অধ্যাপক নিখোঁজ রয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ ক্যালিফোর্নিয়ার দুই অধ্যাপক

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, ডেভিসের দুই অধ্যাপক নিখোঁজ রয়েছেন। ২৬ আগস্ট তিব্বত সীমান্তের কাছে বন্যা আঘাত হানার সময় হানুমান্থা রাও উননাভা ও তার স্ত্রী বাসুন্ধরা ‘বাসু’ উননাভা দেশটির তিমুরে এলাকায় একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। এরপর থেকে তাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।    রাও উননাভা চলতি বছরের ১ জুলাই পর্যন্ত এক দশক ইউসি ডেভিসের গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব ম্যানেজমেন্টের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি সাব্বাটিক্যালে রয়েছেন এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে ফিরবেন। তার স্ত্রী বাসু একই স্কুলের অ্যাডজাঙ্ক্ট অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর এবং মার্কেটিং পড়ান।    পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, দম্পতি অবসর-পরবর্তী একটি ভ্রমণে নেপালে গিয়েছিলেন। তাদের পরিকল্পনায় ছিল তিব্বতের কৈলাশ পর্বত সফর এবং এরপর ভারতে থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানো। বন্যার খবর পাওয়ার পর তাদের মেয়ে ফোনে ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু বার্তা পৌঁছায়নি।    ইউসি ডেভিস জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সংকট মোকাবিলা দলের সদস্যরা নেপালের কর্তৃপক্ষ এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের সন্ধানে কাজ করছেন। নিখোঁজ দম্পতির সন্তান ও পরিবারের সদস্যরাও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থাগুলোর সহায়তা চেয়েছেন।    নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী পার্বত্য এলাকায় ২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান কঠিন হয়ে পড়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেপালি কর্তৃপক্ষের হিসাবে ৫ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ এবং মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ২০০ ছাড়িয়েছে।    এই পরিস্থিতিতে ইউসি ডেভিস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাও ও বাসুকে নিরাপদে খুঁজে পাওয়ার আশা তারা এখনও ছাড়েনি।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:০
সহকর্মীদের বাঁচাতে গিয়ে নিজেই আটকা, অন্ধকার সুড়ঙ্গে ৯ দিনের মৃত্যুযুদ্ধ শেষে ফিরলেন সঞ্জয়
সহকর্মীদের বাঁচাতে গিয়ে নিজেই আটকা, অন্ধকার সুড়ঙ্গে ৯ দিনের মৃত্যুযুদ্ধ শেষে ফিরলেন সঞ্জয়

নেপালে প্রলয়ংকরী বন্যার জেরে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে টানা নয় দিন আটকে থাকার পর অবশেষে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন এক কর্মী। ভয়ংকর সেই অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে মেকানিক্যাল ফোরম্যান সঞ্জয় সাহ জানান, বন্যার পানি যখন সুড়ঙ্গে ঢুকতে শুরু করে, তখন তিনি তার সহকর্মীদের দ্রুত ওই স্থান থেকে পালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে অন্যদের নিরাপদে সরিয়ে দিতে গিয়ে নিজে বের হওয়ার আর পর্যাপ্ত সময় পাননি তিনি।   নিজের কর্তব্যের প্রতি অবিচল সঞ্জয় বলেন, বিপদের মুহূর্তে সহকর্মীদের ফেলে নিজে পালিয়ে যাওয়াটা তার কাছে কোনোভাবেই সঠিক মনে হয়নি; কারণ তার প্রধান দায়িত্বই ছিল অন্যদের জীবন রক্ষা করা।   সুড়ঙ্গের ঘুটঘুটে অন্ধকারে কাটানো সেই দীর্ঘ নয় দিনের কথা স্মরণ করে তিনি জানান, বেঁচে ফেরার আশা জাগিয়ে রাখতে তিনি অনবরত মন্ত্র জপ করতেন।   সেই চরম প্রতিকূল ও ভয়াবহ পরিস্থিতির মাঝেও সুড়ঙ্গের অন্য প্রান্তে আটকে থাকা আরও তিন-চারজন কর্মীর সঙ্গে কোনোমতে যোগাযোগ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি।   দীর্ঘ ও শ্বাসরুদ্ধকর উদ্ধার অভিযানের পর অবশেষে সঞ্জয় সাহকে জীবিত অবস্থায় সুড়ঙ্গ থেকে বের করে আনা হয়। তার সঙ্গে উদ্ধার পাওয়া আরেকজন ভাগ্যবান কর্মী হলেন মেকানিক্যাল সুপারভাইজার কবির মহার্জন।   নেপালের এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাঝে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে তাদের এই ফিরে আসা শুধু বেঁচে ফেরার গল্প নয়, বরং চরম বিপদের মুহূর্তে দায়িত্ববোধ ও অদম্য সাহসের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:০
দেশটির প্রথম নারী হেলিকপ্টার ক্যাপ্টেন প্রিয়া অধিকারী
ভয়াবহ বন্যায় ছয় দিনে ১০০ উদ্ধার অভিযান নেপালের প্রথম নারী হেলিকপ্টার ক্যাপ্টেনের

নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে ঝুঁকিপূর্ণভাবে হেলিকপ্টার উড়িয়ে মাত্র ছয় দিনে প্রায় ১০০টি উদ্ধার অভিযান চালিয়েছেন দেশটির প্রথম নারী হেলিকপ্টার ক্যাপ্টেন প্রিয়া অধিকারী। নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে তিমুরে এলাকায় সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার পর আকাশপথে দুর্গতদের সরিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।   ৪০ বছর বয়সী প্রিয়া অধিকারী উচ্চ উচ্চতায় উদ্ধার অভিযানে অভিজ্ঞ পাইলট। গত কয়েক দিনে তিমুরে ও আশপাশের দুর্গম এলাকায় প্রায় ২০টি হেলিকপ্টার একসঙ্গে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। একই এলাকায় একাধিক হেলিকপ্টারকে প্রায় একই সময়ে অবতরণ ও উড্ডয়ন করতে হয়েছে। এ সময় পাইলটদের রেডিওতে নিয়মিত সমন্বয় করতে হয়েছে।    উদ্ধার অভিযানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ধসে পড়া পাহাড়ি মাটি ও কাদায় তৈরি অনিরাপদ ভূমি। অনেক জায়গায় মাটি এতটাই নরম ও অস্থিতিশীল ছিল যে হেলিকপ্টার নিরাপদে অবতরণ করে ইঞ্জিন বন্ধ করাও সম্ভব হয়নি। ফলে যাত্রীদের দ্রুত তুলে নিয়ে আবার উড্ডয়ন করতে হয়েছে।    প্রিয়া অধিকারী জানিয়েছেন, এবারের দুর্যোগের ভয়াবহতা তার বহু বছরের অভিজ্ঞতাকেও কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। তিমুরে এলাকায় তিনি ধ্বংসস্তূপের মধ্যে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন, আবার একই সঙ্গে হেলিকপ্টারের অপেক্ষায় থাকা জীবিত মানুষকেও উদ্ধার করেছেন। প্রথম দুই দিনেই তিমুরে থেকে ২০০ জনের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়।    অধিকারীর বিমান চালনার যাত্রা শুরু হয় কিছুটা ভিন্নভাবে। পরিবেশবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করার পর তিনি কেবিন ক্রু হিসেবে কাজ করেন। পরে হেলিকপ্টার চালানোর প্রতি আগ্রহ তৈরি হলে ফিলিপাইনে প্রশিক্ষণ নেন। ২০১৭ সালে পূর্ণকালীন হেলিকপ্টার পাইলট হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর উচ্চ উচ্চতায় উদ্ধার অভিযানে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন। তার কয়েকটি উদ্ধার অভিযান প্রায় ৬ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত পরিচালিত হয়েছে।    নেপালে গত ২৬ আগস্ট শুরু হওয়া ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার অভিযানে হেলিকপ্টারই হয়ে উঠেছে প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম। আজও বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধারকাজ চলছে।    প্রিয়া অধিকারী বলেন, টানা উদ্ধার অভিযানে পাইলটরা শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়লেও মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়াই তাদের প্রশিক্ষণের অংশ। ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও জীবিত মানুষকে হেলিকপ্টারের দিকে হাত নাড়তে দেখা তাদের আবারও আকাশে উড়তে অনুপ্রাণিত করেছে। 

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:০
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ভবন থেকে ১০ দিন পর এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নেপালে বন্যার ধ্বংসস্তূপ থেকে ১০ দিন পর জীবিত উদ্ধার ৬৪ বছরের নারী

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া চারতলা একটি ভবন থেকে ১০ দিন পর ৬৪ বছর বয়সী এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার নুওয়াকোট জেলার বিদুর পৌরসভার বেত্রাবতী এলাকায় তাকে উদ্ধার করে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী।   উদ্ধার হওয়া নারীর নাম চান্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠ। সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী জানিয়েছে, চারতলা ভবনের ওপরের তলায় আটকে ছিলেন তিনি। নয় সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল পরিদর্শক সুমন কুমার বিকের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে।   উদ্ধারের সময় চান্দিকা অচেতন অবস্থায় ছিলেন। পরে হেলিকপ্টারে করে তাকে ত্রিশুলিতে নেপালি সেনাবাহিনীর মৈথিলি ব্যারাকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কাঠমান্ডুতে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।   ভোটেকোশি নদীর ভয়াবহ বন্যার পর ১১তম দিনে এই উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। বন্যায় নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। একই দিনে নেপালের আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি টানেল থেকেও ১০ দিন পর এক চীনা নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।    চান্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠকে উদ্ধারের খবরটি প্রথম প্রকাশ করে কাডমান্ডু পোস্ট, যা পরে আরটিভি অনলাইনও প্রকাশ করে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:০
নয় দিন অন্ধকার টানেল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে কবির মহার্জনকে
৯ দিন পর টানেল থেকে আরও এক শ্রমিক জীবিত উদ্ধার, নেপালে ফিরছে আশার আলো

নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও হিমবাহ ধসের নয় দিন পর ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল থেকে আরও এক শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে একই দুর্যোগের পর একজন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল। এবার দ্বিতীয় শ্রমিকেরও জীবিত ফিরে আসার ঘটনায় দীর্ঘদিনের উদ্ধার অভিযানে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে।   শুক্রবার নেপালি সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী দল আপার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল থেকে শ্রমিক কবির মহার্জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে। এর আগে উদ্ধার করা হয়েছিল আরেক শ্রমিককে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো আরও মানুষ আটকা থাকতে পারেন—এমন আশায় তল্লাশি অব্যাহত রেখেছেন উদ্ধারকারীরা।   গত ২৬ আগস্ট ত্রিশূলী নদীর উজানে ভয়াবহ হিমবাহ ধসের ঘটনা ঘটে। বরফ, পাথর, কাদা ও পানির বিশাল স্রোত মুহূর্তের মধ্যে নেমে আসে উপত্যকার দিকে। এতে বিস্তীর্ণ এলাকা বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি ঘরবাড়ি, সড়ক, স্কুল ও একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্যোগের সময় বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ ঢুকে পড়ে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলগুলোতে। এরপর থেকেই নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধানে মরিয়া হয়ে অভিযান শুরু করেন নেপালি সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য উদ্ধারকারী দল।   নয় দিন ধরে টানেলের ভেতরে জীবিতদের সন্ধান চালানোর পর শুক্রবার উদ্ধারকারীরা সাফল্যের মুখ দেখেন। একটি সরু পথ দিয়ে কবির মহার্জনকে টানেল থেকে বের করে আনা হয়। পরে তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর আগে উদ্ধার করা শ্রমিকের ক্ষেত্রেও একইভাবে দীর্ঘ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পর জীবনের সন্ধান পাওয়া যায়। ফলে একের পর এক শ্রমিক জীবিত উদ্ধারের ঘটনায় উদ্ধারকারীদের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।   এর আগে উদ্ধার হওয়া শ্রমিক সঞ্জয় সাহ ওই প্রকল্পের যান্ত্রিক ফোরম্যান হিসেবে কাজ করতেন। দুর্ঘটনার সময় সহকর্মীদের দ্রুত নিরাপদে বেরিয়ে যেতে বললেও তিনি নিজে নিয়ন্ত্রণকক্ষে থেকে যান। অন্যদের বের হওয়ার সুযোগ করে দিতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনিও টানেলের ভেতরে আটকা পড়েন।   দীর্ঘ সময় অন্ধকারের মধ্যে আটকে থাকা সঞ্জয় সাহ উদ্ধারকারীদের জানান, টানেলের ভেতরে তিনি প্রার্থনার মন্ত্র পাঠ করে সময় কাটিয়েছেন। তার দাবি, টানেলের আরও গভীরে কয়েকজন মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছিল। ফলে সেখানে এখনো কেউ জীবিত থাকতে পারেন বলে ধারণা করছেন উদ্ধারকারীরা।   এই তথ্যের পর টানেলের ভেতরে নতুন করে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আরও গভীরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। নেপালি সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাশাপাশি ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞরাও উদ্ধারকাজে সহায়তা করছেন। ভয়াবহ এই দুর্যোগে নেপাল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনো নিখোঁজ। ধ্বংসস্তূপের নিচে ঠিক কতজন আটকা পড়ে আছেন, তারও সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি।   তবে দুর্যোগের নয় দিন পর একের পর এক শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করার ঘটনা উদ্ধারকারীদের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সময় যতই গড়াক, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ বেঁচে থাকতে পারেন—এই আশায় অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। নয় দিনের অন্ধকার পেরিয়ে একের পর এক জীবিত মানুষ ফিরে আসার ঘটনা যেন নেপালের বিধ্বস্ত উপত্যকায় নতুন করে আশার আলো জ্বালিয়েছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:০
নেপালের রাশুয়া জেলার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নয় দিন পর নেপালের বন্যাকবলিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে এক ব্যক্তি উদ্ধার, ভেতরে আরও মানুষের কণ্ঠস্বর

নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের নয় দিন পর রাশুয়া জেলার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলের ভেতর থেকে একাধিক মানুষের কণ্ঠস্বর শোনা গেছে। শুক্রবার উদ্ধারকারী দল টানেলের ভেতর থেকে সাড়া পাওয়ার পর সেখানে আটকে থাকা শ্রমিকদের জীবিত থাকার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে। নেপালি সেনা ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা এখন টানেলের ভেতরে ঢুকে উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করেছেন।    স্থানীয় কর্মকর্তা ও উদ্ধার অভিযানে যুক্ত প্রকৌশলী এবং সংসদ সদস্য শ্রী রাম নিউপানে জানিয়েছেন, উদ্ধারকারীরা ভেতর থেকে একাধিক মানুষের কণ্ঠস্বর শুনেছেন। উদ্ধারকারীরা টানেলের ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য আশ্বস্ত করলে ভেতর থেকে ‘ঠিক আছে’ ধরনের সাড়া পাওয়া যায়। বিষয়টিকে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে একটি গুরুত্বপূর্ণ আশার সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।    ২৬ আগস্ট ভোতে কোশি নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর রাশুয়া ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়। পানির সঙ্গে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করে। এরপর থেকেই এসব প্রকল্পের ভেতরে আটকে পড়া শত শত শ্রমিকের সন্ধানে অভিযান চলছে।    ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্পে উদ্ধার অভিযান বিশেষভাবে কঠিন হয়ে উঠেছে। টানেলের প্রবেশপথের বড় অংশ কাদা ও ধ্বংসাবশেষে আটকে আছে এবং ভেতরে পানি প্রবেশের ঝুঁকিও রয়েছে। কয়েক দিন ধরে উদ্ধারকারী দল ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে পথ পরিষ্কার করার চেষ্টা করছে। আগে সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, টানেলের অন্য একটি অংশ দিয়ে প্রবেশ করা সম্ভব না হওয়ায় বিকল্প পথ তৈরির চেষ্টা চলছে।    নেপালের অন্যান্য জলবিদ্যুৎ প্রকল্পেও বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রায় ৯০০ শ্রমিকের অবস্থান এখনো নিশ্চিত নয় এবং কয়েকটি টানেলে কয়েকশ শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন।  উদ্ধার অভিযানে ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ দলও সহায়তা করছে। কাদা, পাথর, পানির প্রবাহ, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।    তবে টানেলের ভেতর থেকে মানুষের কণ্ঠস্বর শোনা যাওয়ার খবর নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে। টানেল বিশেষজ্ঞ আর্নল্ড ডিক্সও বলেছেন, ভূগর্ভস্থ টানেলের ভেতরে বিপর্যয়ের পরও মানুষ দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে পারে। তাই নেপালি উদ্ধারকারীরা এখনো অভিযানকে উদ্ধার অভিযান হিসেবেই চালিয়ে যাচ্ছেন।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:০
স্বজন ফিরবে, এই আশায় ‘ছবির দেয়ালে’ প্রিয় মুখ খুঁজছেন নেপালিরা, কাটছে উৎকণ্ঠার প্রহর I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
স্বজন ফিরবে, এই আশায় ‘ছবির দেয়ালে’ প্রিয় মুখ খুঁজছেন নেপালিরা, কাটছে উৎকণ্ঠার প্রহর

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে রাজধানী কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালের দেয়ালে টাঙানো শত শত ছবির সামনে ভিড় করছেন স্বজনরা। নিখোঁজ ব্যক্তিদের পাশাপাশি পরিচয় শনাক্ত না হওয়া মরদেহের ছবিও সেখানে রাখা হয়েছে।   গত সপ্তাহে হিমবাহ ধস থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় নেপালে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এখনো ৪ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্যোগের এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ায় নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারের আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। তবে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।   কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং হাসপাতালের বাইরে দেয়ালে টাঙানো এসব ছবির সামনে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষ। কেউ ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন স্বজনের মুখ, আবার কেউ নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে জানতে চাইছেন, তাদের নিখোঁজ আত্মীয়ের কোনো সন্ধান পাওয়া গেছে কি না।   নিখোঁজ চাচাতো বোনের সন্ধানে প্রতিদিন হাসপাতালে আসছেন স্বাতী সিগদেল। তিনি বলেন, ‘তিন দিন আগে আমরা এখানে ওর ছবি লাগিয়েছি। কিন্তু এখনও কোনো খবর পাইনি।’   কিছু ছবি নিখোঁজ ব্যক্তিদের নাম, পরিচয় ও যোগাযোগের নম্বরসহ পোস্টারে লাগানো হয়েছে। আবার কোনো কোনো ছবির নিচে হাতে লেখা হয়েছে নিখোঁজ ব্যক্তির পরিচয় ও অন্যান্য তথ্য।   একটি ছবিতে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা এক দম্পতির মাথার ওপরে বড় করে ‘নিখোঁজ’ লেখা রয়েছে। অন্য একটি ছবিতে এক তরুণের ছবি দেওয়ার পাশাপাশি তার বাম হাতের ট্যাটুর ছবিও রাখা হয়েছে, যাতে সহজে তাকে শনাক্ত করা যায়।   স্বপ্না নেউপানে নামের এক নারী বলেন, ‘আমরা একটি অলৌকিক ঘটনার আশায় আছি।’ তার মামার পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ। তিনি বলেন, ‘এই দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার ছবি দেখা খুবই কঠিন।’   এদিকে প্রায় ৯০০ মানুষ বিভিন্ন জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারী দল নিখোঁজদের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।   তবে অনেক পরিবার ইতোমধ্যে স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। কাঠমান্ডুর বাগমতী নদীর তীরে পশুপতিনাথ মন্দিরে এমন কয়েকটি পরিবার নিখোঁজ স্বজনদের প্রতিকৃতি তৈরি করে শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছে।   এমনই একটি পরিবার ২১ বছর বয়সী সাবিনের প্রতিকৃতি তৈরি করে ধর্মীয় আচার পালন করে। হিন্দু পুরোহিত মন্ত্র পাঠ করার সময় পরিবারের সদস্যরা প্রতিকৃতিতে পানি ঢালেন।   পরে চিতায় আগুন দেওয়া হয়। সাধারণত মৃত ব্যক্তির জন্যই এ ধরনের ধর্মীয় আচার পালন করা হয়।   তবে হাসপাতালের ‘ছবির দেয়ালের’ সামনে দাঁড়িয়ে থাকা স্বাতী সিগদেল এখনো আশা হারাননি। গত সোমবার থেকে প্রতিদিন সেখানে আসছেন তিনি।   সিগদেল বলেন, ‘কোনো খবর পাওয়ার আশায় আমি প্রতিদিন আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের নিয়ে এখানে আসি।’   নেপালের এই ‘ছবির দেয়াল’ এখন নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে থাকা অসংখ্য পরিবারের কাছে শেষ আশ্রয় হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন নতুন ছবি যুক্ত হচ্ছে সেখানে, আর প্রতিটি ছবির সামনে দাঁড়িয়ে স্বজনরা খুঁজছেন একটি পরিচিত মুখ—হয়তো মিলবে প্রিয় মানুষটির কোনো সন্ধান।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:০
কাঁধে ব্যাগ নিয়ে নেপালের পাহাড়ি পথ ধরে হেঁটে ছেলের খোঁজ করছেন টালকা সদা। ছবি: স্মিতা শর্মা/আল জাজিরা
নেপালের বন্যায় নিখোঁজ একমাত্র ছেলে, সুদে ঋণ নিয়ে পাহাড়ে পাহাড়ে খুঁজছেন অসহায় বাবা

গত ২৬ আগস্ট নেপালে ভয়াবহ বন্যার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন ১৯ বছর বয়সী তরুণ বিনোদ। রাসুয়া জেলার একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিকের কাজ করতেন তিনি। ছেলের সন্ধানে চোখেমুখে ক্লান্তি ও বিষাদ নিয়ে মাইলের পর মাইল পাহাড়ি পথ হেঁটে চলেছেন প্রায় ৫০ বছর বয়সী টালকা সদা।   সমতলভূমির জেলা সপ্তরীর বাসিন্দা সদার একমাত্র ছেলে বিনোদের সঙ্গে ওই জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে থাকা ১৭ থেকে ১৯ বছর বয়সী আরও চার তরুণের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। বাড়িতে শোকাহত স্ত্রীর কান্না ও নিজের বুক ফাটা হাহাকার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন এই বাবা।   ছেলের খোঁজে বের হওয়ার জন্য চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে হয়েছে সদাকে। প্রতি ১০০ রুপিতে ২০ রুপি সুদের শর্তে মাত্র ২ হাজার নেপালি রুপি ধার করে ভাইয়ের সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়েছেন তিনি। প্রথমে বাসে করে ৯ ঘণ্টার দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে তারা পৌঁছান রাজধানী কাঠমান্ডুতে।   বন্যার পর অনেককে সেখানে বিমানে করে নেওয়া হয়েছিল বলে প্রথমে বিভিন্ন হাসপাতাল ও মর্গে বেঁচে যাওয়া মানুষ এবং লাশের তালিকায় ছেলেকে খুঁজেছেন সদা। মর্গের বাইরে রাখা বিকৃত ও শনাক্তকরণের অনুপযোগী লাশের ছবিগুলোর ভিড়েও তন্নতন্ন করে খুঁজেছেন সন্তানকে, তবে কোনো খোঁজ মেলেনি।   কাঠমান্ডুতে সন্ধান না পেয়ে বিনোদের কর্মস্থলের নিকটবর্তী জেলা নুয়াকোটের দিকে হেঁটে রওনা দেন দুই ভাই। ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে টানা কয়েক ঘণ্টা হাঁটার পর ত্রিশূলী শহরে পৌঁছান তারা। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে একটি কমলা রঙের পলিথিনকে রেইনকোট হিসেবে ব্যবহার করছেন সদা।   ত্রিশূলীতে একটি লজে থাকতে গিয়ে ধার করা টাকার ১ হাজার ৫০০ রুপিই খরচ হয়ে যায়, বিনিময়ে জোটে কেবল এক বাটি ভাত। ক্ষুধা ও ক্লান্তির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অর্থ ফুরিয়ে যাওয়ার আতঙ্ক, যা তাদের বাড়ি ফেরা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।   অসংখ্যবার ছেলের মুঠোফোনে কল করেও কোনো সাড়া পাননি সদা। চরম অসহায়ত্বের মাঝেও তিনি অলৌকিক কিছুর আশায় বুক বাঁধছেন, হয়তো ছেলে দৌড়ে কোথাও আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু পরক্ষণেই বাস্তবতার কঠিন ধাক্কায় ভেঙে পড়ছেন তিনি। অন্তত ছেলের কর্মস্থলে না পৌঁছানো পর্যন্ত হাল ছাড়তে রাজি নন এই বাবা।   তাই জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের দিকে পুনরায় রওনা দেওয়ার সময় চরম ক্ষোভ ও হতাশায় তিনি চিৎকার করে জানান, কেউ সাহায্য না করলে বা জবাব না দিলে তিনি থানায় আগুন ধরিয়ে দেবেন। এক অসহায় বাবার এই হুঁশিয়ারি মূলত সন্তান হারানোর তীব্র যন্ত্রণারই বহিঃপ্রকাশ।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় মৃ/তের সংখ্যা হাজার ছাড়াল, এক বাড়িতেই মিলল ২৪ ম/রদেহ
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় মৃ/তের সংখ্যা হাজার ছাড়াল, এক বাড়িতেই মিলল ২৪ ম/রদেহ

নেপালের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে হিমবাহ ধস ও ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। গত ২৬ আগস্ট শুরু হওয়া এই প্রলয়ঙ্করী প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত এক হাজার তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৩ হাজার ৯১৬ জন।   উচ্চভূমি থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল, বরফশীতল পানি, পাথর ও কাদার স্রোতে মুহূর্তের মধ্যে ভেসে গেছে অসংখ্য ঘরবাড়ি ও জনপদ। চারদিকে শুধু স্বজনহারা মানুষের কান্না আর ধ্বংসস্তূপের চিত্র, যা পুরো এলাকাকে এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে।   বিপুলসংখ্যক মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় মৃতদেহ শনাক্ত করা এবং ধর্মীয় রীতি মেনে পৃথকভাবে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষ নিহতদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর গণকবরের মাধ্যমে দাফন প্রক্রিয়া শুরু করেছে।   চিতওয়ান জেলায় এরই মধ্যে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের চিরায়ত দাহ ও প্রার্থনার রীতির বদলে এই গণকবরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুর্যোগের ভয়াবহতার সবচেয়ে মর্মান্তিক চিত্রটি দেখা গেছে নুয়াকোট জেলায়। সেখানে দুর্গম এলাকায় ড্রোন দিয়ে তল্লাশি চালানোর সময় পুলিশ একটি মাত্র বাড়ির ভেতর থেকেই ২৪টি মরদেহ উদ্ধার করেছে।   হিমালয়ঘেঁষা এই বিপর্যয়ের ভয়াবহ প্রভাব কেবল নেপালের সীমানাতেই আটকে নেই; নদীর ভাটির স্রোতে ভেসে যাওয়া অন্তত ১৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ এই ভয়াবহ দুর্যোগকে ‘অকল্পনীয় ও হৃদয়বিদারক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।   দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্ধারকাজ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে এবং উদ্ধার তৎপরতায় আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:০
ভারতীয় ব্যবসায়ী অশোক কুমার চৌরাসিয়া
বন্যার আগে ৪৫ কোটি রুপির সম্পদের মালিক, আজ ধার করা শার্টে দিন কাটছে তার

নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় চোখের সামনে ধ্বংস হয়ে গেছে ভারতীয় ব্যবসায়ী অশোক কুমার চৌরাসিয়ার দুই দশকের গড়ে তোলা ব্যবসা ও বসতবাড়ি। উত্তর প্রদেশের বলিয়া জেলার এই ব্যবসায়ী নুওয়াকোটের ত্রিশুলি বাজারে দীর্ঘদিন ধরে পোশাকের ব্যবসা করছিলেন। ২৬ আগস্টের আকস্মিক বন্যায় তার বাড়ি, দোকান ও গুদাম পানির স্রোতে ভেসে যায়। পরিবারের সদস্যরা কোনোভাবে উঁচু স্থানে গিয়ে প্রাণে বাঁচলেও তাদের হাতে অবশিষ্ট ছিল প্রায় শুধু পরনের কাপড়।  ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অশোক ও তার ভাই পান্না লাল প্রায় চার দশক ধরে নেপালে পোশাকের ব্যবসা করছিলেন। ত্রিশুলি এলাকায় তাদের বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছিল। বন্যার সময় অশোক তার মেয়েকে ফোন করে পরিস্থিতির ভয়াবহতার কথা জানান। এরপর প্রায় ২৪ ঘণ্টা তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।  পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, বন্যার পানিতে অশোকের বাড়ি, দোকান ও গুদাম ভেসে গেছে। শুধু ব্যবসা ও সম্পদ নয়, দুর্যোগের পর খাবার ও নিরাপদ পানীয় জলের মতো মৌলিক প্রয়োজনীয়তাও সংকটে পড়ে পরিবারটি। অশোকের মেয়ে জানান, বিভিন্ন মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে শেষ পর্যন্ত বাবার খোঁজ পাওয়া সম্ভব হয়।  অশোকের পরিবারের আরও সদস্যও বন্যায় বিপদে পড়েন। তার ভাই পান্না লাল ও তার পরিবারও ত্রিশুলিতে বসবাস করতেন। বন্যার পর পরিবারের কয়েকজনকে শনাক্ত করা গেলেও অশোকের ভাইয়ের স্ত্রী উষা দেবী এবং তার ছেলে রাহুলের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না বলে ২৯ আগস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়।  ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টিভিকে অশোক জানিয়েছেন, ত্রিশুলি বাজারে তার সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং পরিবারের দুই সদস্য পানির স্রোতে ভেসে গেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এমনকি বন্যার পর তিনি যে পোশাকটি পরেছিলেন, সেটিও অন্যের কাছ থেকে ধার করা।  প্রতিবেদনে তার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪৫ কোটি ভারতীয় রুপি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই অঙ্কের স্বাধীন সরকারি যাচাই পাওয়া যায়নি। নিশ্চিতভাবে যা জানা গেছে, তা হলো কয়েক দশকের ব্যবসা, বাড়ি ও গুদাম হারিয়ে পরিবারটি এখন চরম সংকটের মধ্যে রয়েছে। নেপালের এই বন্যা শুধু অবকাঠামো ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানই ধ্বংস করেনি, বহু পরিবারের দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও জীবিকার ভিত্তিও মুহূর্তের মধ্যে কেড়ে নিয়েছে। অশোক চৌরাসিয়ার ঘটনা সেই ক্ষয়ক্ষতিরই একটি করুণ উদাহরণ।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
নুয়াকোটের ত্রিভুবন ত্রিশূলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ রাজেন্দ্র দাওয়াদি
একটি সিদ্ধান্ত, ৯০০ জীবন: নেপালে অধ্যক্ষের উপস্থিত বুদ্ধিতে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচল শত শত শিশু

নেপালে চীন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আঘাত হানা ভয়াবহ হড়পা বান বা ফ্ল্যাশ ফ্লাডে নিহতের সংখ্যা এরই মধ্যে ৯০০ ছাড়িয়েছে। তবে এই প্রাণহানির সংখ্যা অনায়াসেই দ্বিগুণ হতে পারত, যদি না নুয়াকোটের ত্রিভুবন ত্রিশূলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ রাজেন্দ্র দাওয়াদি সঠিক সময়ে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিতেন। তাঁর মাত্র কয়েক মিনিটের ত্বরিত পদক্ষেপে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে ওই স্কুলের প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী।   গত বুধবার (২৬ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে বন্যার বিষয়ে সতর্ক করে অধ্যক্ষ রাজেন্দ্রর কাছে পরপর চারটি ফোন আসে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে বানের আঘাত হানার মাত্র ১০ মিনিট আগে তিনি পুরো স্কুল খালি করার নির্দেশ দেন। যে বাসগুলো শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্কুলের দিকে আসছিল, সেগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে ঘুরিয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আর যেসব শিশু ততক্ষণে স্কুলে পৌঁছে গিয়েছিল, তাদের দ্রুত উঁচু স্থানে দৌড়ে আশ্রয় নিতে বলেন তিনি। এক অভিভাবক এসে যখন তাঁর মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেন, তখন পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।   অধ্যক্ষ রাজেন্দ্র দাওয়াদির মতে, সিদ্ধান্ত নিতে সামান্য দেরি হলেই ঘটে যেত চরম বিপর্যয়। বিবিসির কাছে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমরা যদি দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিতাম, যদি আর মাত্র ১০ মিনিট দেরি হতো, তবে আমি ও আমার শিক্ষার্থীরা আজ আপনাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য বেঁচে থাকতাম না।" এক শিক্ষার্থীও গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছে যে, তারা আক্ষরিক অর্থেই মাত্র ১০ সেকেন্ডের ব্যবধানে প্রাণে বেঁচে ফিরেছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মাঝে অধ্যক্ষের এই উপস্থিত বুদ্ধি ও দায়িত্ববোধ এখন চারদিকে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০