সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

মৃত্যুর হুমকির পরও আইসিইতে আটক অভিবাসীদের ২৫০টি গাড়ি পরিবারের কাছে ফেরালেন ট্রাক চালক

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ৮:১৩
মিনেসোটায় আটক অভিবাসীদের গাড়ি ফিরিয়ে দিচ্ছেন লিওন
মিনেসোটায় আটক অভিবাসীদের গাড়ি ফিরিয়ে দিচ্ছেন লিওন

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় আইসিইর হাতে আটক হওয়ার পর রাস্তায় বা পার্কিং এলাকায় পড়ে থাকা অভিবাসীদের গাড়ি পরিবারের কাছে বিনামূল্যে ফিরিয়ে দিচ্ছেন টো ট্রাক ব্যবসায়ী হুয়ান লিওন। গত ডিসেম্বর থেকে তার ছোট দলটি প্রায় ২৫০টি গাড়ি উদ্ধার করে মালিকদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দিয়েছে বলে লিওন জানিয়েছেন। 


মিনেসোটার টুইন সিটিজ এলাকায় আইসিইর অভিযান বাড়ার পর গাড়ি ফেলে রেখে মানুষ আটক হওয়ার ঘটনা লিওনের নজরে আসে। অনেক গাড়ি দিনের পর দিন রাস্তায়, পার্কিং লটে বা বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকছিল। পরে এসব গাড়ি পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি।


কাজটি করতে লিওনের দলকে বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবীরা তথ্য দেন। কোথায় গাড়ি পড়ে আছে, তারা তা জানালে লিওনের দলের একটি অনুসন্ধানী গাড়ি আগে সেখানে গিয়ে অবস্থান নিশ্চিত করে। এরপর টো ট্রাক নিয়ে গাড়িটি সরিয়ে পরিবারের কাছে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দেওয়া হয়। 


লিওনের মালিকানাধীন লিও’স টো ওয়েস্ট সেন্ট পলে অবস্থিত। তার দল অনেক ক্ষেত্রে কোনো টো বিল না নিয়েই গাড়ি ফিরিয়ে দেয়। শুরুতে স্থানীয়ভাবে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগটি পরে দেশজুড়ে মানুষের অনুদানের মাধ্যমে আরও বড় আকার নেয়। অনুদানের অর্থেই তারা নিয়মিত ব্যবসার পাশাপাশি দিনরাত এই সেবা চালিয়ে যেতে পারছেন।


সাধারণত কোনো গাড়ি রাস্তায় পড়ে থাকলে সেটি টো করে ইমপাউন্ড লটে নেওয়া হতে পারে। সেখানে টো ও সংরক্ষণ ফি যোগ হওয়ায় পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়। এই পরিস্থিতি এড়াতেই লিওনের দল সরাসরি গাড়িগুলো পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে। মিনিয়াপোলিস কর্তৃপক্ষও পরে আইসিইর হাতে আটক হওয়ার কারণে ইমপাউন্ড লটে যাওয়া গাড়ি মালিকদের বিনা খরচে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা ঘোষণা করে।


তবে এই উদ্যোগের জন্য ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়েও ঝুঁকিতে পড়েছেন লিওন। সিবিএস মিনেসোটাকে তিনি জানান, তার ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার পর টানা তিন সপ্তাহ ধরে তিনি মৃত্যুর হুমকি পাচ্ছিলেন। এরপরও তিনি ও তার দল গাড়ি ফেরত দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। 


এই উদ্যোগ শুধু গাড়ি ফেরানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। একটি ঘটনায় গাড়ির মালিকের খোঁজ করতে গিয়ে লিওন এমন এক পরিবারের সন্ধান পান, যেখানে আইসিইর হাতে বাবা-মা আটক হওয়ার পর শিশুরা একা ছিল। পরে তিনি তাদের আত্মীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন এবং পরিবারের খোঁজখবরও নেন। 


লিওনের এই উদ্যোগ মিনেসোটায় আইসিই অভিযানকে ঘিরে গড়ে ওঠা স্থানীয় সহায়তা কার্যক্রমের একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন ব্যবসা ও কমিউনিটি সংগঠনও আটক হওয়া অভিবাসীদের পরিবারকে খাবার, পরিবহন ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার কাজে যুক্ত হয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ট্রাম্পের মানচিত্রে আইসল্যান্ডকে দেখানো হলো যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে
আইসল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ দেখিয়ে ট্রাম্পের পোস্ট, তলব মার্কিন রাষ্ট্রদূত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি মানচিত্র পোস্ট করেছেন, যেখানে আইসল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি দেশ ও অঞ্চলকে মার্কিন পতাকার আওতায় দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আইসল্যান্ডে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিলি লংকে তলব করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরইউভির (আরিউভি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার রাষ্ট্রদূত বিলি লংকে তলব করে আইসল্যান্ড। তিনি মাত্র গত মাসেই আনুষ্ঠানিকভাবে আইসল্যান্ডে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নিয়েছেন। ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা মানচিত্রটির সঙ্গে কোনো ব্যাখ্যা দেননি। মানচিত্রে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলকে মার্কিন পতাকার নিচে দেখানো হয়েছে। পুরো ভূখণ্ডের ওপর লেখা ছিল ‘ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা’। আইসল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরইউভিকে জানিয়েছে, মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে ট্রাম্পের এই পোস্ট ‘সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত’। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। কোপেনহেগেন ও রেইকিয়াভিকে থাকা মার্কিন দূতাবাস এবং নুকের মার্কিন কনস্যুলেট থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ নতুন নয়। স্বায়ত্তশাসিত ডেনিশ অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিকবার বলেছেন। এতে ন্যাটোর সদস্য যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং ইউরোপজুড়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এদিকে গত মাসে আইসল্যান্ডের একটি গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানও ওই ভোটের পটভূমিতে আলোচনায় ছিল। তবে বিশ্লেষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক বিষয়গুলোই ভোটের ফলাফলে বেশি প্রভাব ফেলেছে। ট্রাম্পের এই পোস্টের কয়েক ঘণ্টা আগেই ইউরোপীয় কমিশন গ্রিনল্যান্ডে ২০ কোটি ইউরো বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়। কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইনের গ্রিনল্যান্ড সফরের সময় এ ঘোষণা আসে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুকে সাংবাদিকদের বলেন, গ্রিনল্যান্ডের সরকার ও জনগণ বারবার স্পষ্ট করেছে যে তারা আমেরিকান হতে চান না। যুক্তরাষ্ট্রসহ পুরো বিশ্বের কারও এ বিষয়ে সন্দেহ থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ৮:২৯
মিনেসোটায় আটক অভিবাসীদের গাড়ি ফিরিয়ে দিচ্ছেন লিওন

মৃত্যুর হুমকির পরও আইসিইতে আটক অভিবাসীদের ২৫০টি গাড়ি পরিবারের কাছে ফেরালেন ট্রাক চালক

লেবার ডে-তে যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড উচ্চতায় গ্যাস ও ডিজেলের দাম

লেবার ডে-তে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দামে রেকর্ড, ডিজেলেও আগুন

বাহামা থেকে ফেরার পথে বিমান বিধ্বস্ত—নিখোঁজ ফ্লোরিডার একই পরিবারের চারজন

বাহামা থেকে ফেরার পথে সাগরে বিমান বিধ্বস্ত, একই পরিবারের ৪ জন নিখোঁজ!

এসএসআই সুবিধা পেতে বিদেশিদের যোগ্যতা যাচাইয়ে নতুন তথ্য সামনে আনল যুক্তরাষ্ট্র সরকার
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশিদের জন্য সুখবর! এই ৭ শ্রেণির মানুষ পেতে পারেন এসএসআই সুবিধা

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছে দেশটির সরকার। নির্দিষ্ট অভিবাসন মর্যাদায় থাকা বিদেশিরাও সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম বা এসএসআই সুবিধা পেতে পারেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেই এই সুবিধা পাওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেশটির স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বা ডিএইচএস-এর নিয়ম অনুযায়ী ‘যোগ্য বিদেশি’ হিসেবে বিবেচিত হতে হবে। এসএসআই হলো সীমিত আয় ও সম্পদ থাকা ব্যক্তিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাত ধরনের অভিবাসন মর্যাদায় থাকা বিদেশিরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে এই সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারেন। প্রথমত, যারা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন, তারা এই তালিকায় রয়েছেন। এর মধ্যে নির্দিষ্ট শ্রেণির আমেরেশিয়ান অভিবাসীরাও অন্তর্ভুক্ত। দ্বিতীয়ত, ১৯৮০ সালের ১ এপ্রিলের আগে কার্যকর থাকা অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের নির্দিষ্ট ধারার আওতায় যারা শর্তসাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছিলেন, তারাও যোগ্য হতে পারেন। তৃতীয়ত, ওই আইনের নির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী অন্তত এক বছরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বিশেষ অনুমতি বা ‘প্যারোল’ পাওয়া বিদেশিরাও এসএসআই সুবিধার আওতায় পড়তে পারেন। চতুর্থত, শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া ব্যক্তিরা এই সুবিধার জন্য যোগ্য হতে পারেন। পঞ্চমত, যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম পাওয়া বিদেশিরাও এই তালিকায় রয়েছেন। ষষ্ঠত, যাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার বা দেশত্যাগ স্থগিত করা হয়েছে, তারাও নির্দিষ্ট শর্তে এসএসআই সুবিধা পেতে পারেন। সপ্তমত, আইনি সংজ্ঞা অনুযায়ী ‘কিউবান বা হাইতিয়ান প্রবেশকারী’ হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিরা এবং এসএসআইয়ের ক্ষেত্রে একই মর্যাদা পাওয়া ব্যক্তিরাও এই সুবিধার জন্য যোগ্য হতে পারেন। তবে তালিকায় থাকা কোনো একটি শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হলেই এসএসআই পাওয়া নিশ্চিত নয়। বিদেশিদের ক্ষেত্রে আয়, সম্পদ এবং অন্যান্য নির্ধারিত শর্তও পূরণ করতে হবে। একইভাবে, শুধু দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেই কেউ এই সুবিধার জন্য যোগ্য হয়ে যাবেন না। এদিকে, বিদেশিদের সরকারি সুবিধা নেওয়া নিয়ে ডেনমার্কেও সতর্কতা জারি করেছে দেশটির সরকার। কাজ বা পড়াশোনার অনুমতিতে থাকা বিদেশিরা নির্দিষ্ট কিছু সরকারি সুবিধা নিলে তাদের বসবাস বা কাজের অনুমতি বাতিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এমনকি তাদের সঙ্গে থাকা পরিবারের সদস্যরাও দেশটিতে থাকার অধিকার হারাতে পারেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ৬:১৮
পরিবারের সঙ্গে টেক্সাসে থাকা রিস উইলার্ড লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

শরীরজুড়ে ‘অস্বাভাবিক’ কালশিটে, পরীক্ষা করাতেই জানা গেল প্রাণঘাতী রোগ!

ছবি:সংগৃহীত

গ্রিন কার্ড বিক্রির অভিযোগে সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

অর্থের বিনিময়ে ইমিগ্রেশন সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

১০ লাখ ডলার ঘুষ নিয়ে গ্রিন কার্ড দেওয়ার অভিযোগে সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

ছবিঃ সংগৃহীত
লিস্টেরিয়ার শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের ৮ অঙ্গরাজ্যে শুকরের মাংস প্রত্যাহার

যুক্তরাষ্ট্রে লিস্টেরিয়া মনোসাইটোজেনেস ব্যাকটেরিয়ার সম্ভাব্য দূষণের আশঙ্কায় আট অঙ্গরাজ্য থেকে আমদানি করা শুকরের মাংসের একটি পণ্য প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিষয়টিকে সবচেয়ে গুরুতর ‘ক্লাস-১’  রিকল হিসেবে ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের ফুড সেফটি অ্যান্ড ইনস্পেকশন সার্ভিস। যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত প্রক্রিয়াজাত শুকরের মাংস পণ্য গ্রহণে সর্বোচ্চ সতর্কতা বা 'ক্লাস ১' রিকল (পণ্য বাজার থেকে তুলে নেয়ার নির্দেশ) জারি করেছে সেদেশের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)। সরকারি পরিদর্শকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ক্ষতিকর ‘লিস্টেরিয়া মোনোসাইটোজেনেস নামক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি ধরা পড়ায় ৮টি অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়া পণ্যগুলো জরুরি ভিত্তিতে ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর (রবিবার) মার্কিন কৃষি বিভাগের ফুড সেফটি অ্যান্ড ইন্সপেকশন সার্ভিস (এফএসআইএস) জানায়, প্রাইম লাইন ডিস্ট্রিবিউটরস এবং ফেরারিনি ইউএসএ যৌথভাবে প্রায় ১,৫১৩ পাউন্ড শুকরের গাল দিয়ে তৈরি শুষ্ক ও প্রক্রিয়াজাত মাংস (পোর্ক গুয়ানচিয়ালে) বাজার থেকে তুলে নিচ্ছে। ইতালি থেকে আমদানিকৃত এই পণ্যটি মূলত ইতালীয় খাবারে ব্যবহৃত হয়। পরিদর্শনের সময় পরীক্ষার নমুনা পজিটিভ আসায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, আইডাহো, ইলিনয়, মিশিগান, নিউ জার্সি, নিউ ইয়র্ক এবং টেক্সাস—এই ৮টি অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন রেস্তোরাঁ, খুচরা দোকান ও পরিবেশকদের কাছে পণ্যটি সরবরাহ করা হয়েছিল। আক্রান্ত পণ্যের বিবরণ: পণ্যটির LOT নম্বর 263311US, বেস্ট-বাই তারিখ ১৬ মে ২০২৭ এবং প্রতিষ্ঠানের নম্বর IT 1937 L CE। এখন পর্যন্ত পণ্যটি খেয়ে কেউ অসুস্থ হওয়ার খবর মেলেনি। তবে এফএসআইএস গ্রাহকদের এটি না খাওয়ার এবং দোকান বা রেস্তোরাঁগুলোকে তা বিক্রি না করার আহ্বান জানিয়েছে। এফএসআইএস-এর মতে, লিস্টেরিয়া ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে সৃষ্ট লিস্টেরিওসিস মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী, নবজাতক এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অধিকারী ব্যক্তিদের জন্য এটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ। সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাংসপেশিতে ব্যথা, মাথাব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, মানসিক বিভ্রান্তি, শরীরের ভারসাম্য হারানো এবং খিঁচুনি। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে এর ফলে গর্ভপাত, মৃত সন্তান প্রসব বা নবজাতকের জীবনঘাতী অসুস্থতা হতে পারে। উল্লেখ্য, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যবাহিত রোগের বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি সাইক্লোস্পোরা, সালমোনেলা ও ই-কোলাই সংক্রমণের কারণে প্রায় ১৮,০০০-এর বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং মেক্সিকো থেকে আসা আইসবার্গ লেটুস পাতা থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাদুর্ভাবে ৪৯৫ জন হাসপাতালে ভর্তি ও দুইজন মারা গেছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে এই মাংসের রিকল জারি হলো।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ৪:২৭
ক্যালিফোর্নিয়ায় সাবেক আইসিই কর্মকর্তাদের সরকারি চাকরিতে নিষেধাজ্ঞার পথে নতুন বিল

ক্যালিফোর্নিয়ায় সাবেক আইসিই কর্মকর্তাদের সরকারি চাকরিতে নিষেধাজ্ঞার পথে নতুন বিল

ক্যালিফোর্নিয়ায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ব্রেন ডেড

ক্যালিফোর্নিয়ায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ব্রেন ডেড, লাইফ সাপোর্ট বন্ধ ২২ বছরের অন্তঃসত্ত্বা মায়ের

যুক্তরাষ্ট্রে দরিদ্রদের ঘরের অভাবে হাহাকার

যুক্তরাষ্ট্রে দরিদ্রদের ঘরের অভাবে হাহাকার, অথচ খালি হাজারো সাশ্রয়ী ইউনিট

0 Comments