যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে নিজের দুই শিশুসন্তানকে শ্বাসরোধে হ ত্যার অভিযোগে আদালতে হাজির মা
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ওয়েলেসলিতে নিজের দুই শিশুসন্তানকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত মা জ্যানেট ম্যাকঅসল্যান্ডের ‘প্রোবাবেল কজ’ বা সম্ভাব্য কারণ নির্ণয়ের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার আদালতে এই শুনানি হয়। জ্যানেটের বিরুদ্ধে তার ৭ বছর বয়সী ছেলে কাই এবং ৬ বছর বয়সী মেয়ে এলাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত এপ্রিলে নিজ বাড়িতে দুই শিশুর মৃতদেহ উদ্ধারের পর পার্শ্ববর্তী ভারমন্ট অঙ্গরাজ্য থেকে এই নারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সে সময় তিনি নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শুনানিতে ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস মামলার পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির জন্য আদালতের কাছে আরও সময় প্রার্থনা করে। মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের চার মাস পেরিয়ে গেলেও চিফ মেডিকেল এক্সামিনার অফিস এখনো শিশুদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণ করতে পারেনি।
চলতি বছরের শুরুর দিকে জ্যানেট ম্যাকঅসল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি খুনের দুটি অভিযোগ আনা হলেও এখনো তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত বা ইন্ডিক্ট করা হয়নি। বিচারক প্রসিকিউশনের সময় বাড়ানোর এই আবেদন মঞ্জুর করেছেন এবং আগামী অক্টোবরের শেষদিকে উভয় পক্ষকে আবারও আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
জ্যানেটের এই বিচার প্রক্রিয়া এমন এক সময়ে চলছে, যখন লিন্ডসে ক্ল্যান্সি নামের আরেক মার্কিন মায়ের বিচার নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক চলছে। লিন্ডসে প্রসবোত্তর মানসিক বিষণ্ণতার (পোস্টপার্টাম সাইকোসিস) কারণে নিজের সন্তানদের হত্যা করেছিলেন বলে দাবি করেছিলেন, যার বিচার সম্প্রতি বাতিল (মিসট্রায়াল) ঘোষণা করা হয়েছে।
জ্যানেটের আইনজীবী জোসেফ ক্রোস্কি স্বীকার করেছেন যে তার মক্কেলের সন্তানদের বয়স লিন্ডসের সন্তানদের চেয়ে বেশি ছিল, তবে ওই মামলাটি তাদের বিচার প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, মানসিক অসুস্থতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা উচিত কি না, তা নিয়ে বর্তমানে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে একটি বড় পরিসরে আলোচনা শুরু হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১-এর সন্ত্রাসী হামলার পঁচিশ বছর পূর্তিতে নতুন করে ইসলামভীতির মুখে পড়েছেন টেক্সাসের মুসলিম সম্প্রদায়। ২০০১ সালের ওই মর্মান্তিক ঘটনার দীর্ঘ আড়াই দশক পেরিয়ে গেলেও দেশটিতে মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ ও সন্দেহ এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি, বরং সাম্প্রতিক সময়ে তা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকীকে কেন্দ্র করে এই আতঙ্ক ও নিরাপত্তা শঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে। শুক্রবার মুসলমানদের জন্য পবিত্র জুমার দিন এবং একই সঙ্গে ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার বার্ষিকী হওয়ায় টেক্সাসের ডালাস এলাকার মসজিদগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও মসজিদ কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আগে থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সাধারণ মুসল্লিদের সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে মসজিদ ও এর আশপাশের এলাকাগুলোতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে বাড়তি টহল ও নিবিড় নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ ওই হামলার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে এবং বিশেষ করে আমেরিকায় ইসলামোফোবিয়া বা ইসলামভীতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল। সেই ঘটনার সিকি শতাব্দী পর আজ শুক্রবার যখন মুসলিমরা তাদের সাপ্তাহিক পবিত্র জুমার নামাজ আদায়ে সমবেত হবেন, তখন সম্প্রদায়ের মধ্যে আবারও নিরাপত্তা নিয়ে চাপা উদ্বেগ বিরাজ করছে। টেক্সাসের মুসলিম নেতারা জানিয়েছেন, নিজেদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এবং ধর্ম পালনের ক্ষেত্রে তারা প্রতিনিয়ত এই নতুন করে বাড়তে থাকা ইসলামভীতির মোকাবিলা করছেন। নাগরিক অধিকার কর্মীদের মতে, একটি গণতান্ত্রিক সমাজে যেকোনো সম্প্রদায়ের মানুষের নিজ ধর্ম পালনে এমন নিরাপত্তা শঙ্কার মুখে পড়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে নিজের দুই শিশুসন্তানকে শ্বাসরোধে হ ত্যার অভিযোগে আদালতে হাজির মা
শিশু নিপীড়কদের ধরতে গিয়ে ছুরিকাহত মার্কিন ইনফ্লুয়েন্সার নিজেই গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে জননিরাপত্তা নিয়ে শীর্ষ ৩৮ প্রতিষ্ঠানের উদ্বেগ, মেয়রের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি
লস অ্যাঞ্জেলেসের ডাউনটাউনে স্কিড রো এলাকার গৃহহীনদের অর্থ দিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনী ব্যালট পিটিশনে ভুয়া স্বাক্ষর করানোর অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরির অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে ৪৭ বছর বয়সী জেমস ব্রাসকে (যিনি ‘লর্ড’ নামেও পরিচিত) বৃহস্পতিবার সকালে ভিক্টরভিল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে এফবিআই। ধারণা করা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার বিকেলেই রিভারসাইডের যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তাকে প্রথমবারের মতো হাজির করা হবে। চুরি করা ভোটার পরিচয় ব্যবহার করে এই সুপরিকল্পিত জালিয়াতির ঘটনাটি মার্কিন প্রশাসনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। জেমস ব্রাসের পাশাপাশি এই অভিযোগনামায় তার হয়ে পিটিশন প্রচারের কাজ করা আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলের ৪৯ বছর বয়সী কোর্টনি প্রাইস এবং ক্যালিফোর্নিয়ার বোরন শহরের ৩৩ বছর বয়সী জাটেইশা হেরন। এই তিনজনের সবার বিরুদ্ধেই পরিচয় জালিয়াতির ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া ব্রাস ও প্রাইসের বিরুদ্ধে পরিচয় জালিয়াতির মাধ্যমে অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার অতিরিক্ত আরও একটি গুরুতর অভিযোগ দায়ের করেছে কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনার বিষয়ে এফবিআইয়ের লস অ্যাঞ্জেলেস ফিল্ড অফিসের সহকারী পরিচালক প্যাট্রিক গ্র্যান্ডি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের ভোট ব্যবস্থা এবং নির্বাচনী অবকাঠামোর ওপর আমেরিকানদের পূর্ণ আস্থা থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। অভিযুক্তদের এই জালিয়াতি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের একটি অপরিহার্য স্তম্ভকে দুর্বল করার অপচেষ্টা। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপকারী এবং ভোটার জালিয়াতির মতো যেকোনো ধরনের অপরাধ দমনে এফবিআই সর্বদা সতর্ক রয়েছে এবং এ ধরনের অভিযোগের আগ্রাসী তদন্ত অব্যাহত থাকবে বলেও দৃঢ়ভাবে আশ্বস্ত করেন তিনি।
টেক্সাসে মেডেল অব অনার অনুষ্ঠানে গিয়ে ট্রাম্পের আবদার, নিজেকেও দিতে চান মেডেল
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে স্ক্যাফোল্ডিংয়ে টেসলার ভয়াবহ ধাক্কায় প্রাণ গেল ২৭ বছরের যাত্রীর, গ্রেপ্তার নারী চালক
যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমায় ১৫ বছরের বড় ভাইকে মাথায় গুলি করে হ ত্যার দায়ে গ্রেপ্তার ১১ বছরের ছোট বোন
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচি ‘অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’ বা ওবামাকেয়ারের আওতায় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে ৫০ কোটি ডলার ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প জানান, কেন্দ্রীয় হেলথকেয়ার এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারী ৩০টি অঙ্গরাজ্যের প্রায় ১০ লাখ নাগরিককে আগামী অক্টোবর মাসে ৫০০ ডলারের এই চেক ডাকযোগে পাঠানো হবে। যাদের অন্যায়ভাবে অতিরিক্ত খরচের মুখে ফেলা হয়েছিল, তাদের প্রাপ্য অর্থ ফেরত দিয়ে প্রশাসন সঠিক পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। হোয়াইট হাউসের বক্তব্য অনুযায়ী, বাইডেন প্রশাসন স্বাস্থ্যবীমা কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে অতিরিক্ত ইউজার ফি আদায় করেছিল, যা পরবর্তীতে বর্ধিত প্রিমিয়াম আকারে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর চাপানো হয়। ট্রাম্পের যুক্তি, এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্মটি পরিচালনার জন্য যে পরিমাণ তহবিলের প্রয়োজন ছিল, আদায়কৃত অর্থ তার চেয়ে অনেক বেশি। ফলে কেন্দ্রীয় এক্সচেঞ্জ ব্যবহারকারী ৩০টি অঙ্গরাজ্যের যেসব গ্রাহক ওবামাকেয়ারের অধীনে কোনো প্রিমিয়াম সহায়তা পাননি, তাদের এই বাড়তি অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। এর আগে ২০২৫ সালের শেষের দিকে বর্ধিত এসিএ ভর্তুকির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর লাখ লাখ গ্রাহকের জন্য স্বাস্থ্যবীমার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছিল। এই অর্থ ফেরত পাওয়ার তালিকায় থাকা ৩০টি অঙ্গরাজ্য হলো আলাবামা, আলাস্কা, অ্যারিজোনা, আরকানসাস, ডেলাওয়্যার, ফ্লোরিডা, হাওয়াই, ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, কানসাস, লুইজিয়ানা, মিশিগান, মিসিসিপি, মিসৌরি, মন্টানা, নেব্রাস্কা, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নর্থ ক্যারোলাইনা, নর্থ ডাকোটা, ওহাইও, ওকলাহোমা, ওরেগন, সাউথ ক্যারোলাইনা, সাউথ ডাকোটা, টেনেসি, টেক্সাস, ইউটাহ, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, উইসকনসিন ও ওয়াইওমিং। স্বাস্থ্যনীতি বিষয়ক গবেষণা সংস্থা কেএফএফ জানিয়েছে, স্বাস্থ্যবীমা কোম্পানিগুলোর অন্তত ৮০ শতাংশ অর্থ চিকিৎসা সেবায় ব্যয়ের যে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তার আওতায়ও গ্রাহকদের জন্য পৃথক রিবেটের সুযোগ রয়েছে। তবে সম্প্রতি সকল প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে লভ্যাংশ দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি ট্রাম্প দিয়েছিলেন, এই ৫০০ ডলারের স্বাস্থ্যবীমা রিফান্ড তার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।
শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাবেক মার্কিন সেনার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
শিক্ষার্থী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে, এবার ২ কোটি ডলারে কলেজ প্রতিষ্ঠা করলেন ভারতীয় দম্পতি