যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়া শিগগিরই আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। দেশটির স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) নাগরিকত্ব আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট আপিল প্রক্রিয়ার ফি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি নিম্ন আয়ের আবেদনকারীদের জন্য বিদ্যমান ফি ছাড় ও ফি মওকুফের সুবিধা বাতিলেরও পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রস্তাবটি কার্যকর হলে মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে আগ্রহীদের অতিরিক্ত কয়েকশ ডলার ব্যয় করতে হবে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের অভিবাসীদের জন্য এটি বড় আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন অভিবাসন অধিকারকর্মীরা।
বর্তমানে নাগরিকত্বের আবেদনপত্র বা ফরম এন-৪০০ জমা দিতে কাগজে আবেদন করলে ৭৬০ ডলার এবং অনলাইনে আবেদন করলে ৭১০ ডলার ফি দিতে হয়। তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী এই ফি বাড়িয়ে যথাক্রমে ১,৩৩০ ডলার ও ১,২৮০ ডলার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
একই সঙ্গে নাগরিকত্ব আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে পুনর্বিবেচনার জন্য ব্যবহৃত ফরম এন-৩৩৬-এর ফিও বাড়ানো হতে পারে। বর্তমানে কাগজে আবেদন করলে এর ফি ৮৩০ ডলার এবং অনলাইনে ৭৮০ ডলার। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী তা বেড়ে কাগজে ১,৪৭৫ ডলার এবং অনলাইনে ১,৪২৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
এর অর্থ হলো, কিছু ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের ব্যয় বর্তমানের তুলনায় ৮০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে।
ডিএইচএস আরও জানিয়েছে, বর্তমানে যেসব আবেদনকারীর পারিবারিক আয় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ৪০০ শতাংশ বা তার কম, তারা নাগরিকত্ব আবেদনে কম ফি দেওয়ার সুযোগ পান। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে সেই সুবিধা পুরোপুরি তুলে দেওয়া হবে।
শুধু তাই নয়, নাগরিকত্ব আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট আপিল প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে ফি মওকুফের সুযোগও বাতিল করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে আবেদনকারীরা ভবিষ্যতে বিশেষ ছাড় পাবেন না।
তবে বর্তমান ও সাবেক মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য বিদ্যমান ফি ছাড় বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে ডিএইচএস।
নতুন ফি বৃদ্ধির যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিভাগটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) আবেদন প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে যে ব্যয় বহন করে, নতুন ফি সেই ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। পাশাপাশি সংস্থাটির আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও এই পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউএসসিআইএস মূলত আবেদনকারীদের দেওয়া ফি থেকেই পরিচালিত হয়। ফলে কার্যক্রমের ব্যয় বৃদ্ধি পেলে সংস্থাটি প্রায়ই ফি পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেয়। তবে নাগরিকত্ব আবেদন ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেলে অনেক অভিবাসী আবেদন করতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন।
বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অভিবাসীদের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। কারণ নাগরিকত্ব অর্জনের পাশাপাশি আবেদন, নথিপত্র সংগ্রহ, ভাষা ও নাগরিকত্ব পরীক্ষার প্রস্তুতিসহ অন্যান্য খরচও বহন করতে হয়।
প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই নতুন ফি কাঠামো কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তবে প্রস্তাবটি ইতোমধ্যেই অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, নাগরিকত্ব অর্জনের পথ আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠলে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী বহু অভিবাসীর জন্য নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী ভীমরুলীর ভাসমান পেয়ারার হাট ঘুরে দেখেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। রোববার (৯ আগস্ট) সকালে নৌকায় করে হাট পরিদর্শনের সময় স্থানীয় কৃষকদের ব্যস্ততা, পেয়ারা বেচাকেনা ও পরিবহন কার্যক্রম দেখার পাশাপাশি ভীমরুলীর বিখ্যাত পেয়ারা চেখেও দেখেন তিনি। সকাল ৯টার দিকে ভীমরুলীর ভাসমান হাটে পৌঁছালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কাওছার হোসেন ফুল দিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে শুভেচ্ছা জানান। পরে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ছোট নৌকায় চড়ে হাটের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। পরিদর্শনের সময় স্থানীয় পেয়ারা চাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। নৌকায় বসে তিনি খাল-বিল, পেয়ারা বাগান এবং সবুজে ঘেরা এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও উপভোগ করেন। ভীমরুলীর ভাসমান হাট মূলত খালকে ঘিরে গড়ে ওঠা একটি ব্যতিক্রমী কৃষিপণ্য বাজার। পেয়ারা মৌসুমে আশপাশের বাগান থেকে চাষিরা নৌকায় করে পেয়ারা নিয়ে আসেন। নৌকাতেই চলে কেনাবেচা ও পরিবহনের প্রস্তুতি। ফলে মৌসুমে এ এলাকায় কৃষক, পাইকার ও ক্রেতাদের উল্লেখযোগ্য সমাগম ঘটে। হাট পরিদর্শন শেষে ট্রলারে করে পিরোজপুরের আটঘর-কুড়িয়ানার উদ্দেশে রওনা হন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। এ সময় তার সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ছিলেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ভীমরুলীর ভাসমান পেয়ারার হাট ভ্রমণ তিনি বেশ উপভোগ করেছেন। বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবন, স্থানীয় মানুষের কর্মব্যস্ততা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়ে তিনি আনন্দিত। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সফরকে ঘিরে স্থানীয় পেয়ারা চাষি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও উৎসাহ দেখা যায়।
আগস্টের মধ্যেই সব ফিল্ড অফিসারকে বডি ক্যামেরার আওতায় আনছে আইসিই
কোনো লক্ষণই ছিল না, তবু স্বপ্নে দেখেছিলেন ব্রেন টিউমার! পরদিনই পরীক্ষায় ধরা পড়ল সত্যি টিউমার
দাবানলে আগুন নিয়ন্ত্রণে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত দুই পাইলট
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সুযোগ সীমিত করা এবং তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বন্ধে নতুন করে দুটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার সই করা এসব আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কিছু শিশুর নাগরিকত্বের যোগ্যতা নতুনভাবে নির্ধারণ এবং সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ঠেকাতে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন আদেশের একটি নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুর স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব সীমিত করার কথা বলছে। এতে বিদেশি সরকারের নির্দিষ্ট কর্মকর্তা, সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং কিছু বিশেষ শ্রেণির বিদেশি নাগরিকের সন্তানদের নাগরিকত্বের বিষয়টি নতুন করে নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্য নির্বাহী আদেশটি মূলত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বন্ধে জোর দিচ্ছে। বার্থ ট্যুরিজম বলতে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করাকে বোঝানো হয়। এ ধরনের ভ্রমণ ঠেকাতে স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটিকে ভিসা যাচাই ও আইন প্রয়োগ আরও কঠোর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এলো, যখন জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে তার আগের উদ্যোগকে ঘিরে সুপ্রিম কোর্টে বড় ধরনের আইনি লড়াই হয়েছে। চলতি বছরের ৩০ জুন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আগের বিস্তৃত উদ্যোগে হস্তক্ষেপ করে। নতুন আদেশগুলোকে প্রশাসন আগের উদ্যোগের তুলনায় আরও সীমিত ও নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম হিসেবে তুলে ধরছে। তবে নতুন পদক্ষেপও আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে আইন বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীরা মনে করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী সাধারণভাবে দেশটির ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের নাগরিকত্বের সাংবিধানিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে ইতিহাসে কূটনীতিকদের সন্তানসহ কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন আদেশ সেই ব্যতিক্রমগুলোর পরিধি নিয়ে নতুন আইনি বিতর্ক তৈরি করতে পারে। বিশ্বের আরও বেশ কিছু দেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে বিভিন্ন দেশে এর নিয়ম এক নয়। কোথাও যুক্তরাষ্ট্রের মতো তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত ব্যবস্থা রয়েছে, আবার কোথাও বাবা-মায়ের নাগরিকত্ব বা বৈধ অভিবাসন মর্যাদার মতো অতিরিক্ত শর্ত প্রযোজ্য। নতুন নির্বাহী আদেশ কার্যকর করতে গেলে এর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে আদালতে মামলা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী আইনি লড়াই ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর।
চাকরি হারালেই ৬০ দিন সময় নয়! যুক্তরাষ্ট্রে ভিসাধারীদের জন্য দুঃসংবাদ, আসছে বড় পরিবর্তন
ঘুম থেকে উঠে দেখেন ছেলে পাশে নেই, পুকুরে ভেসে উঠলো ছেলের মরদেহ
যুক্তরাষ্ট্রে যে ১০ ভুলে জন্য বাংলাদেশীদের বড় অঙ্কের জরিমানা হতে পারে
অ্যানথ্রপিক, ওপেনএআই, গুগল ডিপমাইন্ড ও মেটাসহ বিশ্বের শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠানের ১,২০০-এর বেশি কর্মী যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে এআই উন্নয়নের গতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। ‘Pacing the Frontier’ নামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা সতর্ক করেছেন, এআই গবেষণা ও উন্নয়ন এমন গতিতে এগোচ্ছে যে ভবিষ্যতে এর ক্ষমতা মানুষের বোঝাপড়া ও নিয়ন্ত্রণের সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উচিত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন একটি কাঠামো তৈরিতে সহায়তা করা, যার মাধ্যমে প্রয়োজন হলে সবচেয়ে উন্নত বা ‘ফ্রন্টিয়ার’ এআই প্রযুক্তির বিকাশের গতি ইচ্ছাকৃতভাবে কমানো সম্ভব হবে। এর লক্ষ্য এআই উন্নয়ন বন্ধ করা নয়, বরং প্রযুক্তির সক্ষমতা দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করা। এই উদ্যোগে অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী ডারিও আমোদেইসহ প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন সহপ্রতিষ্ঠাতা, ওপেনএআইয়ের প্রধান বিজ্ঞানী জাকুব পাচোকি, মেটার প্রধান বিজ্ঞানী শেংজিয়া ঝাও এবং গুগল ডিপমাইন্ডের এআই সেফটি অ্যান্ড অ্যালাইনমেন্ট বিভাগের প্রধান আনকা ড্রাগানসহ শীর্ষ পর্যায়ের প্রযুক্তিবিদরা স্বাক্ষর করেছেন। ঘটনাটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ যেসব প্রতিষ্ঠান একে অপরের সঙ্গে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে থেকে আরও শক্তিশালী এআই মডেল তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের কর্মীরাই এখন প্রযুক্তির গতি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। এআই খাতের দ্রুত বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতার মধ্যেই এমন অবস্থান প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মাত্রা স্পষ্ট করছে। এর পেছনে এআইয়ের ক্রমবর্ধমান স্বয়ংক্রিয় সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগও কাজ করছে। বিশেষ করে এমন এআই ব্যবস্থার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে, যেগুলো ভবিষ্যতে মানুষের সরাসরি নির্দেশনা ছাড়াই এআই গবেষণা, কোডিং বা নিজেদের পরবর্তী প্রজন্মের সিস্টেম তৈরির কাজে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষকদের একাংশ এটিকে ‘রিকার্সিভ সেল্ফ ইমপ্রুভমেন্ট’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। এদিকে এআই নিরাপত্তা নিয়ে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোও বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। ওপেনএআই সম্প্রতি নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে তাদের একটি এআই মডেলের উন্নয়ন সাময়িকভাবে থামিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এআই এজেন্টগুলোর ক্রমবর্ধমান স্বায়ত্তশাসন এবং সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন। তবে নতুন এই উদ্যোগকে এআই উন্নয়ন পুরোপুরি বন্ধ করার দাবি হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং স্বাক্ষরকারীরা এমন প্রযুক্তিগত ও নীতিগত ব্যবস্থা চান, যাতে এআইয়ের সক্ষমতা মানুষের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার তুলনায় অতিরিক্ত দ্রুত এগিয়ে না যায়। এআই খাতের সামনে এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, প্রযুক্তির অগ্রগতির গতি কতটা দ্রুত হওয়া উচিত এবং সেই গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিরাপত্তা, আইন ও আন্তর্জাতিক নীতিমালা কীভাবে তৈরি করা যাবে। ১,২০০-এর বেশি এআই কর্মীর এই উদ্যোগ সেই বিতর্ককে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের সামনে আরও জোরালোভাবে নিয়ে এসেছে।
'৯/১১ আমেরিকার কর্মকাণ্ডের ফল’ মন্তব্য, ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনে হাসান পিকারের বক্তৃতা বাতিল
প্রেসিডেন্ট হয়েও রেহাই নেই! টেইলর সুইফটের গান ব্যবহার করে কপিরাইটের খপ্পরে ট্রাম্পের টিম