২০৩০ বিশ্বকাপে মেসির উত্তরসূরি থিয়াগো? আর্জেন্টাইনদের নতুন স্বপ্নের কেন্দ্রে জ্যেষ্ঠ পুত্র। লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ অধ্যায় শেষের পথে—এমন আলোচনা যতই জোরালো হোক, আর্জেন্টাইন সমর্থকদের কল্পনায় নতুন এক স্বপ্ন জায়গা করে নিচ্ছে। সেই স্বপ্নের নাম থিয়াগো মেসি। বাবার পথ অনুসরণ করে একদিন আর্জেন্টিনার জার্সিতে মাঠে নামতে পারে মেসির জ্যেষ্ঠ ছেলে—এমন সম্ভাবনাকে ঘিরেই ২০৩০ বিশ্বকাপ নিয়ে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে ভক্তদের মধ্যে। বর্তমানে ১৩ বছর বয়সী থিয়াগো মেসি যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার (এমএলএস) ক্লাব ইন্টার মায়ামির যুব একাডেমিতে নিয়মিত অনুশীলন করছে। ইতোমধ্যে অনূর্ধ্ব-১৪ দলের হয়ে শিরোপাও জিতেছে সে। বয়সভিত্তিক ফুটবলে তার অগ্রগতি নজর কাড়ায় অনেক সমর্থকই ভবিষ্যতে জাতীয় দলে তাকে দেখার আশা করছেন। নেটমাধ্যমে ঘুরে বেড়ানো বিভিন্ন আলোচনায় বলা হচ্ছে, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের সময় থিয়াগোর বয়স হবে প্রায় ১৮ বছর। সে সময়ের মধ্যে যদি তার ফুটবলীয় উন্নতি প্রত্যাশিত গতিতে এগোয় এবং পেশাদার পর্যায়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, তাহলে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে সেটি এখনই নিশ্চিতভাবে বলার সুযোগ নেই; সবকিছুই নির্ভর করবে তার পারফরম্যান্স ও ভবিষ্যৎ নির্বাচনের ওপর। থিয়াগোর সামনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয়ও রয়েছে। জন্মসূত্রে স্পেনের হয়ে খেলার সুযোগ থাকলেও, বিভিন্ন সময় সে আর্জেন্টিনার জার্সিতেই খেলার ইচ্ছার কথা জানিয়েছে। বাবার মতোই আকাশি-নীল জার্সি গায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করাই তার স্বপ্ন বলে উল্লেখ করেছে একাধিক সাক্ষাৎকারে। মেসি পরিবারের ফুটবল চর্চা অবশ্য শুধু থিয়াগোতেই সীমাবদ্ধ নয়। তার দুই ছোট ভাই মাতেও ও চিরোও বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ফুটবল খেলছে। তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, লিওনেল মেসির মতো কিংবদন্তির সন্তানের ওপর স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি প্রত্যাশা তৈরি হয়। তাই থিয়াগোর বিকাশের এই পর্যায়ে অযথা চাপ না দিয়ে তাকে স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। লিওনেল মেসির অসাধারণ ক্যারিয়ারের উত্তরসূরি হিসেবে থিয়াগো নিজেকে কতটা প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে, সেটি সময়ই বলে দেবে। তবে আর্জেন্টিনার কোটি সমর্থকের কাছে নতুন প্রজন্মের এই ফুটবলার ইতোমধ্যেই ভবিষ্যতের এক সম্ভাবনার নাম।
বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামার আগেই মাঠের বাইরের আরেকটি দারুণ জয় উদ্যাপন করতে পারেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। এক বছর আগে মায়ামির একটি সুউচ্চ আবাসিক ভবনে করা তাঁর বিশাল বিনিয়োগ এখন লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছে। গত বসন্তে 'সিপ্রিয়ানি রেসিডেন্সেস মায়ামি' (Cipriani Residences Miami) নামক একটি বিলাসবহুল টাওয়ারে চারটি অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছিলেন মেসি। তাঁর এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তের পর আবাসন প্রকল্পটির প্রতি ক্রেতাদের ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ২০২৭ সালের গ্রীষ্মে হস্তান্তরের জন্য নির্ধারিত এই ভবনের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে চূড়ায় পৌঁছেছে এবং হস্তান্তরের আগেই এর ৮০ শতাংশ ফ্ল্যাট বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, মেসির পদাঙ্ক অনুসরণ করে আর্জেন্টিনার বেশ কয়েকজন ফুটবলারও সেখানে ফ্ল্যাট কিনেছেন। পাশাপাশি নিউইয়র্ক এবং ক্যালিফোর্নিয়া থেকে সিটিডেল ও অ্যামাজনের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও এই সুউচ্চ ভবনে থাকার জন্য ছুটছেন। অভ্যন্তরীণ ক্রেতাদের পাশাপাশি মেক্সিকো, ইতালি, কলম্বিয়া, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যসহ ৩০টিরও বেশি দেশের আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখানে বিনিয়োগ করেছেন। ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান মাস্ট ক্যাপিটাল ক্রেতাদের গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে নির্দিষ্ট কারও নাম প্রকাশ না করলেও, প্রকল্পটির এই অভূতপূর্ব সফলতার কথা নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, মেসি প্রায় ৭.৫ মিলিয়ন ডলার বা ৭৫ লাখ মার্কিন ডলার খরচ করে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার বর্গফুটের একটি ৪-বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছিলেন। সেই সময় ভবনটির প্রাথমিক কাজ চলছিল এবং ২০২৮ সালে হস্তান্তরের কথা ছিল। তবে এখন কাজ দ্রুত এগিয়ে চলায় আগামী বছরেই ক্রেতারা ফ্ল্যাট বুঝে পাবেন। প্রায় ৯৫০ ফুট উঁচু ৮৫ তলাবিশিষ্ট এই ভবনটি নির্মাণ শেষ হলে নিউইয়র্ক সিটির দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে উঁচু আবাসিক ভবনে পরিণত হবে। সিপ্রিয়ানি পরিবারের উত্তর আমেরিকায় গড়ে তোলা এই প্রথম গ্রাউন্ড-আপ রেসিডেনশিয়াল প্রকল্পে ৩৯৭টি ইউনিট থাকবে। বাসিন্দাদের জন্য এখানে ৫০ হাজার বর্গফুটেরও বেশি জায়গা জুড়ে অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা রাখা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩৭ তলায় বিসকে উপসাগরমুখী স্পিকইজি, রিসোর্ট স্টাইলের পুল ডেক, স্পা, প্রাইভেট স্ক্রিনিং রুম এবং সিপ্রিয়ানি পরিবারের প্রায় শতবর্ষের পুরোনো ঐতিহ্যে ভরপুর নিজস্ব ডাইনিং সুবিধা। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের মতে, এই মাইলফলক মায়ামির আবাসন খাতকে বিশ্বের অন্যতম সেরা গন্তব্যে পরিণত করারই একটি বড় প্রমাণ।
ফুটবল মাঠে লিওনেল মেসির কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে নিউইয়র্কে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আর্জেন্টাইন তারকার খেলার প্রশংসা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, প্রতিপক্ষের কড়া নজরদারির মধ্যেও মেসি যেভাবে মাঠে জায়গা তৈরি করেন, সেটি তার নজরে পড়েছে। ট্রাম্প বলেন, “আমি মেসিকে দেখছিলাম। তাকে খুব ভালোভাবে পাহারা দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই দেখি সে ডান পাশে অবস্থান নিয়েছে। আপনারা কি বুঝতে পারছেন আমি কী বলছি? আমি বিষয়টি লক্ষ্য করেছি, কিন্তু কেউ এ নিয়ে কথা বলেনি।” মেসির খেলার ধরন নিয়ে ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে। অনুষ্ঠানে তিনি আর্জেন্টাইন অধিনায়কের দক্ষতা ও মাঠের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার প্রশংসা করেন। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, মেসির অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো প্রতিপক্ষের চাপের মধ্যেও খেলার জায়গা তৈরি করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাঠের বিভিন্ন অংশে অবস্থান পরিবর্তন করা। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এই কৌশলই তাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এদিকে, একই অনুষ্ঠানে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজনের সাফল্যে ট্রাম্পের সহযোগিতার প্রশংসা করেন। ট্রাম্পও ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে আবারও এককভাবে বিশ্বকাপ আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেন। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই ম্যাচ।
ফুটবল ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত থাকে, যা সময়ের সঙ্গে আরও বেশি অর্থবহ হয়ে ওঠে। ২০০৭ সালে বার্সেলোনায় একটি দাতব্য ফটোশুটে আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি কোলে নিয়ে গোসল করিয়েছিলেন মাত্র কয়েক মাস বয়সী এক শিশুকে। সেই শিশুই আজ স্পেনের ১৯ বছর বয়সী ফুটবল বিস্ময় লামিনে ইয়ামাল। আর প্রায় দুই দশক পর, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে একে অপরের প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নামতে যাচ্ছেন তারা। বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সেই পুরোনো ছবিটি আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এটি শুধু একটি ছবি নয়, বরং এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে ফুটবলের উত্তরাধিকার বহনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। জানা যায়, ২০০৭ সালে ইউনিসেফ, এফসি বার্সেলোনা ফাউন্ডেশন এবং স্পেনের ক্রীড়া দৈনিক ‘স্পোর্ট’-এর যৌথ উদ্যোগে একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য এই ফটোশুটের আয়োজন করা হয়েছিল। লামিনে ইয়ামালের পরিবার একটি লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত হয় এবং সেই সুযোগেই বার্সেলোনার ড্রেসিংরুমে তরুণ মেসির সঙ্গে শিশুপুত্রের ছবি তোলেন। তখন মেসির বয়স ছিল ২০ বছর, আর ইয়ামালের বয়স মাত্র কয়েক মাস। ছবিটি দীর্ঘদিন জনসমক্ষে আসেনি। ২০২৪ সালে ইয়ামালের বাবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি প্রকাশ করলে তা বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। পরে ছবিটির আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্তও নিশ্চিত করেন, এটি কোনো সম্পাদিত বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ছবি নয়; বরং বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত সেই দাতব্য আয়োজনেরই একটি বাস্তব মুহূর্ত। এরপর থেকেই ছবিটি ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আবেগঘন ফ্রেম হিসেবে পরিচিতি পায়। আর এবার ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেন মুখোমুখি হওয়ায় সেই ছবির তাৎপর্য আরও বেড়ে গেছে। একদিকে আছেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি, যিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের আধিপত্য ধরে রেখেছেন। অন্যদিকে আছেন স্পেনের নতুন প্রজন্মের সবচেয়ে আলোচিত তারকা লামিনে ইয়ামাল, যিনি অল্প বয়সেই ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি বিশ্বকাপ ফাইনাল নয়; বরং বিশ্ব ফুটবলের দুই প্রজন্মের প্রতীকী লড়াই। একসময় যে কিংবদন্তির কোলে ছিলেন ইয়ামাল, আজ সেই কিংবদন্তির বিপক্ষেই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে শিরোপার লড়াইয়ে নামছেন তিনি। ফুটবলের ইতিহাসে অসংখ্য স্মরণীয় ছবি রয়েছে। তবে একটি ছবিতে একই সঙ্গে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে এত সুন্দরভাবে ধরা পড়ার ঘটনা খুবই বিরল। তাই ২০০৭ সালের সেই ছবিটি এখন শুধু একটি স্মৃতি নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম প্রতীকী মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা। রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ১-১ সমতায় থাকা ম্যাচের নিষ্পত্তি হয় অতিরিক্ত সময়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটির কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ১০ মিনিটে লিওনেল মেসির নেওয়া কর্নার থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির রেকর্ড দশম অ্যাসিস্ট, যা তাকে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতার আসনে বসিয়েছে। গোল হজমের পরও দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে সুইজারল্যান্ড। দ্বিতীয়ার্ধের ৬৭ মিনিটে দান এনদোয়ে সমতা ফেরান। এরপর ৭৩ মিনিটে ব্রিল এম্বোলো দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইজারল্যান্ড। এরপরও দৃঢ় রক্ষণে আর্জেন্টিনাকে আটকে রাখে তারা। ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকেই এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই অতিরিক্ত সময়ের ১১২ মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজ বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক বাঁকানো শটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে আলভারেজের প্রথম গোল। এরপর যোগ করা সময়ে সুইজারল্যান্ড সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালালেও রক্ষণে সফলভাবে তা ঠেকিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। পাল্টা আক্রমণে ১২০+১ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজ তৃতীয় গোল করে ম্যাচের ফল নিশ্চিত করেন। টানা কঠিন দুটি নকআউট ম্যাচ জিতে শেষ চারে ওঠা আর্জেন্টিনার সামনে এবার অপেক্ষা করছে ইংল্যান্ড। সেমিফাইনালে দুই দলের লড়াই বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়ার পর আর্জেন্টিনাকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তার দাবি, লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করা হয়েছে এবং ম্যাচে তার দলই সব দিক থেকে ভালো খেলেছে। মঙ্গলবার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর ম্যাচে একসময় ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে শেষ ১৫ মিনিটে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় লিওনেল স্কালোনির দল। ম্যাচে গোল করেন ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি ও এনজো ফার্নান্দেজ। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হোসাম হাসান বলেন, “আমরা আর্জেন্টিনার চেয়ে ভালো খেলেছি। কিন্তু মনে হয়েছে, মেসিকে টুর্নামেন্টে রাখতে চাওয়া হচ্ছিল।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ম্যাচ পরিচালনা এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তার দল ন্যায্য বিচার পায়নি। ম্যাচের শেষ দিকে রেফারির একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশরের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ তীব্র প্রতিবাদ জানান। ইনজুরি সময়ে আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে সম্ভাব্য ফাউল এবং পেনাল্টির দাবি উপেক্ষা করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মিশরের গোলরক্ষক কোচকে লাল কার্ড দেখানো হয় এবং হোসাম হাসানও সতর্কবার্তা (ইয়েলো কার্ড) পান। তবে হোসাম হাসানের অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত ফিফা বা অন্য কোনো স্বাধীন সংস্থা কোনো প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক মন্তব্য দেয়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বিষয়টিকে ম্যাচ-পরবর্তী কোচের ব্যক্তিগত অভিযোগ ও হতাশার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই তুলে ধরেছে। এই জয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে এবং শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে টিকে রয়েছে। অন্যদিকে, ইতিহাস গড়ে প্রথমবার নকআউট পর্বে জয় পাওয়ার পর শেষ ষোলো পর্যন্ত পৌঁছানো মিশরের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়েছে হৃদয়ভাঙা পরাজয়ে।
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসিকে এবার দেখা গেল বড় পর্দার জনপ্রিয় সুপারহিরো স্পাইডার-ম্যানের প্রচারণায়। মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সিনেমার প্রচারমূলক ভিডিওতে অভিনেতা টম হল্যান্ডের সঙ্গে হাজির হয়ে ভক্তদের চমকে দিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বিশ্বকাপে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে আলোচনায় থাকা মেসি এবার সিনেমাপ্রেমীদেরও নজর কেড়েছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত প্রোমোশনাল ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কফিশপে বসে পিটার পার্কার (টম হল্যান্ড) কফি পান করতে করতে ফোনে কথা বলছেন। ঠিক তখনই স্পাইডার-ম্যানকে খুঁজতে একটি ট্র্যাকার হাতে ক্যাফেতে প্রবেশ করেন লিওনেল মেসি। মেসিকে সামনে দেখে বিস্মিত হয়ে পিটার পার্কার বলে ওঠেন, ‘তুমি... মেসি?’ তবে ক্যাফের মালিকের প্রতিক্রিয়া ছিল একেবারেই স্বাভাবিক। তিনি শান্তভাবে জবাব দেন, ‘হ্যাঁ, উনি মেসি।’ এরপর পিটার পার্কার মেসিকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলে বাইরে যান এবং স্পাইডার-ম্যানের পোশাকে ফিরে আসেন। পরে স্পাইডার-ম্যান মজার ছলে মেসিকে জিজ্ঞেস করেন, ‘উঁচুতে ভয় লাগে না তো?’ এরপরই দেখা যায়, আকাশচুম্বী ভবনের মাঝ দিয়ে জাল ছুড়ে স্পাইডার-ম্যান মেসিকে নিয়ে উড়ে বেড়াচ্ছেন। ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে। অনেকেই এটিকে বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় সিনেমা প্রচারণা হিসেবে মন্তব্য করছেন। এদিকে নির্মাতারা জানিয়েছেন, ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ হতে যাচ্ছে বিশ্বের প্রথম চলচ্চিত্র, যা পুরোপুরি স্ক্রিন-এক্স (ScreenX) প্রযুক্তির জন্য শুটিং করা হয়েছে। এই প্রযুক্তিতে শুধু সামনের পর্দাই নয়, সিনেমা হলের দুই পাশের দেয়ালও প্রদর্শনের অংশ হয়ে যায়। ফলে দর্শক ২৭০ ডিগ্রি প্যানোরামিক ভিউ উপভোগ করতে পারেন। নির্মাতাদের দাবি, এতে স্পাইডার-ম্যান যখন আকাশচুম্বী ভবনের ফাঁক দিয়ে জাল ছুড়ে উড়বে, তখন দর্শকদেরও মনে হবে তারা যেন তার সঙ্গেই উড়ে চলেছেন। বিশ্বব্যাপী ৩১ জুলাই মুক্তি পাবে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। তবে তার আগে ১৭ জুলাই পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলানের বহুল প্রতীক্ষিত ‘দ্য ওডিসি’ সিনেমায়ও দেখা যাবে টম হল্যান্ডকে। ফলে পরপর দুটি বড় বাজেটের চলচ্চিত্র নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এই ব্রিটিশ অভিনেতা।
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসি এবার হাজির হয়েছেন মার্ভেল দুনিয়ার জনপ্রিয় সুপারহিরো Spider-Man–এর সঙ্গে একই ফ্রেমে। সনি পিকচার্স এন্টারটেইনমেন্ট প্রকাশিত একটি সংক্ষিপ্ত প্রচারণামূলক ভিডিও ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রায় ৪০ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে দেখা যায়, পিটার পার্কার একটি কফিশপে বসে নিজের ব্যক্তিগত জটিলতা নিয়ে ফোনে কথা বলছেন। ঠিক সেই সময় একটি বিশেষ ট্র্যাকার হাতে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন মেসি। মনে হয় যেন স্পাইডারম্যানকে খুঁজতেই তাঁর এই আগমন। কিছুক্ষণ পরই পিটার পার্কার স্পাইডারম্যানের পোশাকে ফিরে আসেন। ভিডিওর শেষ দৃশ্যে নিউইয়র্কের আকাশে স্পাইডারম্যানের জালে ভর করে দুলতে দেখা যায় মেসিকে—যা ভক্তদের জন্য বড় চমক হয়ে এসেছে। হলিউডভিত্তিক কয়েকটি গণমাধ্যমের দাবি, এই ভিডিওতে অল্প সময়ের উপস্থিতির জন্য মেসি প্রায় ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পারিশ্রমিক পেয়েছেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮৫ কোটি টাকার সমান। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি সনি পিকচার্স বা মেসির পক্ষ। আগামী ৩০ জুলাই মুক্তি পেতে যাচ্ছে মার্ভেলের বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে। ধারণা করা হচ্ছে, এই ভিডিওটি মূলত সেই সিনেমার প্রচারণার অংশ হিসেবেই তৈরি করা হয়েছে। ভিডিওতে মেসির হাতে দেখা যাওয়া ‘স্পাইডি ট্র্যাকার’ নিয়েও ভক্তদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। কমিকসপ্রেমীদের কাছে এটি পরিচিত একটি ডিভাইস। ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত The Amazing Spider-Man–এ পিটার পার্কার নিজেই এই ট্র্যাকার তৈরি করেছিলেন, যা প্রথম ব্যবহার করা হয় ভিলেন ডক্টর অক্টোপাসকে শনাক্ত করতে। এদিকে ট্র্যাকারের স্ক্রিনে দেখা একাধিক লাল বিন্দু ঘিরে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। অনেকের ধারণা, এটি মার্ভেলের মাল্টিভার্স ধারণার ইঙ্গিত হতে পারে এবং নতুন সিনেমায় একাধিক স্পাইডারম্যানের উপস্থিতি দেখা যেতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। জানা গেছে, নতুন সিনেমার গল্প শুরু হবে Spider-Man: No Way Home–এর পরবর্তী ঘটনা থেকে, যেখানে পৃথিবীর সবাই ভুলে যায় যে পিটার পার্কারই স্পাইডারম্যান। নতুন এই অধ্যায়ে এক রহস্যময় হুমকির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তার পাশে থাকতে পারে The Punisher ও Hulk। সব মিলিয়ে, ফুটবল ও সুপারহিরো—দুই জগতের এই অপ্রত্যাশিত মেলবন্ধন ভক্তদের মধ্যে নতুন করে উচ্ছ্বাস তৈরি করেছে। সিনেমা মুক্তির আগে এমন প্রচারণা যে দর্শকদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেবে, তা বলাই যায়।
২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের ঐতিহাসিক শিরোপা জিতে ফুটবল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ও আরাধ্য স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি অধিনায়ক লিওনেল মেসি। বিশ্বজয়ের সেই অবিশ্বাস্য সাফল্যের পর ফুটবল মহলের অনেকেই ধারণা করেছিলেন, এবার হয়তো আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিজের বুটজোড়া চিরতরে তুলে রাখবেন তিনি। এমনকি চলতি ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে তাঁর খেলা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ফুটবল বিশ্বে এক বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার প্রায় ৬ মাস আগেই লিওনেল মেসি জানিয়েছিলেন, তিনি মূলত ম্যাচ বাই ম্যাচ ধরে সামনে এগোতে চান। ক্লাবের চলমান মৌসুম শেষ করার পর যখন বিশ্বকাপের আর মাত্র ৬ মাস বাকি থাকবে, ঠিক তখনই তিনি নিজের শারীরিক অবস্থা ও ফিটনেসের স্তর মূল্যায়ন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার বা এমএলএস মৌসুমের শেষে নিজের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা স্পষ্টভাবে জনান এই ফুটবল জাদুকর। বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্ত-সমর্থকদের সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চলতি ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের মহামঞ্চে মাঠে নেমেছেন লিওনেল মেসি। টুর্নামেন্ট শুরু হতে না হতেই ইতোমধ্যে গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচেই আর্জেন্টিনার জার্সিতে দুর্দান্ত ও চোখধাঁধানো নৈপুণ্য দেখিয়েছেন তিনি। এই দুই ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে পাঁচ গোল করে ফুটবল ইতিহাসের নতুন অনেক রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন এলএমটেন। এর মাধ্যমে তিনি এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ ইতিহাসের একক সর্বোচ্চ গোলদাতার মর্যাদাপূর্ণ রেকর্ডটিও নিজের দখলে নিয়েছেন। চলমান ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে প্রকাশিত একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। সেখানে মাঠের ভবিষ্যৎ নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "যতদিন আমি জাতীয় দলের জন্য কার্যকর অবদান রাখতে পারবো, শারীরিকভাবে পুরোপুরি ফিট ও ভালো থাকবো এবং সতীর্থদের সাহায্য করতে পারবো, ততদিন পর্যন্ত খেলা চালিয়ে যাবো।" তবে ২০৩০ সালে অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা নিয়ে এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে রাজি নন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা। দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে মেসি আরও বলেন, "আমি আসলে সেটা জানি না। এখনই এটি নিয়ে কোনো চিন্তা-ভাবনা করছি না। কারণ সেখানে পৌঁছাতে এখনও অনেক সময় বাকি আছে। আমি এখন ডে বাই ডে ধরে এগোচ্ছি এবং শুধুমাত্র বর্তমানের দিকেই আমার পুরো মনোযোগ দিচ্ছি।"
চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিয়ে নকআউটের দৌড়ে অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে লিওনেল মেসিদের মূল লক্ষ্য যেহেতু ফাইনাল, তাই নকআউট পর্বে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে তাদের সামনে কোন প্রতিপক্ষ আসতে যাচ্ছে, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমী ও সমর্থকদের মাঝে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। বিশেষ করে আজ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আলবিসেলেস্তেদের ম্যাচের ফলাফল তাদের কোন সমীকরণের দিকে নিয়ে যাবে, তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। সোমবার (২২ জুন) প্রকাশিত এক ক্রীড়া প্রতিবেদনে আর্জেন্টিনার গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সমীকরণ এবং সম্ভাব্য প্রতিপক্ষদের তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্বকাপের বর্তমান সূচি ও সমীকরণ অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা যদি 'জে' গ্রুপ থেকে শীর্ষ দল অর্থাৎ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের রাউন্ডে উন্নীত হতে পারে, তবে শেষ ৩২-এর নকআউট পর্বে তাদের মুখোমুখি হতে হবে 'এইচ' গ্রুপের রানার্সআপ বা দ্বিতীয় সেরা দলের। এই মুহূর্তে 'এইচ' গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী দল উরুগুয়ে। এই গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে ইউরোপিয়ান জায়ান্ট স্পেন এবং উরুগুয়ের সমান পয়েন্ট থাকা সত্ত্বেও কেবল গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে টেবিলের তিন নম্বরে অবস্থান করছে আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্দে। আর্জেন্টিনার গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সমীকরণটি বেশ সহজ। আজ অস্ট্রিয়া এবং পরবর্তী ম্যাচে জর্ডানকে সরাসরি হারাতে পারলে কোনো সমীকরণ ছাড়াই লিওনেল মেসিরা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের পর্বে চলে যাবেন। তবে আর্জেন্টিনা যদি কোনো ম্যাচে পয়েন্ট হারায়, তাহলেও তাদের গ্রুপ সেরা হওয়া সম্ভব। সে ক্ষেত্রে 'জে' গ্রুপের অন্য দুই দল আলজেরিয়া ও জর্ডানের মধ্যকার ম্যাচগুলোর ফলাফল আর্জেন্টিনার গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান নিয়ন্ত্রক বা প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে। যদি আর্জেন্টিনা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়, তবে 'এইচ' গ্রুপের আগামী ২৭ জুনের দুটি ম্যাচের ফলাфলের ওপর ভিত্তি করে প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হবে। ওই দিন স্পেন খেলবে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে এবং সৌদি আরব মাঠে নামবে কেপ ভার্দের বিপক্ষে। এই ম্যাচগুলোতে যদি উরুগুয়ে জয়লাভ করে এবং কেপ ভার্দে ড্র বা পরাজিত হয়, তবে গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে স্পেনের মুখোমুখি হতে হবে আর্জেন্টিনার। আবার উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে উভয় দলই যদি নিজ নিজ ম্যাচে জয়ী হয়, তবে গোল ব্যবধান, গোল সংখ্যা কিংবা ফেয়ার প্লে টেবিলের ভিত্তিতে যে দল দ্বিতীয় হবে, তারা আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে। অন্যান্য সমীকরণের মধ্যে, যদি উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দের ম্যাচ দুটিই ড্র হয়, তবে তারা প্রথম স্থানের বদলে দ্বিতীয় স্থানের জন্য লড়বে এবং সমীকরণ অনুযায়ী আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে। আবার কেপ ভার্দে যদি ৪ বা তার কম গোলের ব্যবধানে জেতে এবং উরুগুয়ে ড্র করে, তবে কেপ ভার্দেই হবে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ। কিন্তু কেপ ভার্দে ৪ বা তার বেশি গোলের ব্যবধানে জিতলে এবং উরুগুয়ে ড্র করে, তবে প্রতিপক্ষ হবে স্পেন। আর উরুগুয়ে যদি নিজের ম্যাচে জয় পেতে ব্যর্থ হয় এবং সৌদি আরব জয়লাভ করে, তবে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে সৌদি আরবের। তবে কোনো কারণে আর্জেন্টিনা যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে না পেরে দ্বিতীয় স্থানে থেকে নকআউটে যায় এবং স্পেন যদি 'এইচ' গ্রুপের শীর্ষে থাকে, তবে শেষ ৩২-এর মঞ্চেই দেখা যাবে আর্জেন্টিনা-স্পেন মহারণ। আর মেসিরা যদি চরম অঘটনের শিকার হয়ে গ্রুপে তৃতীয় হন, তখন তাদের গ্রুপ ডি, জি, এল, বি অথবা কে-এর চ্যাম্পিয়ন দলের মুখোমুখি হতে হবে। উল্লেখ্য, এবারের বিশ্বকাপের পয়েন্ট টেবিল নির্ধারিত হচ্ছে অলিম্পিক পদ্ধতিতে, যেখানে পয়েন্ট সমান হলে যথাক্রমে হেড-টু-হেড ম্যাচ, গোল ব্যবধান, সামগ্রিক গোল পার্থক্য, ফেয়ার প্লে পয়েন্ট এবং সর্বশেষ ফিফা র্যাঙ্কিং বিবেচনা করা হবে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে দাপুটে জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ করেছেন তিনি। তার এই পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মেসির বর্তমান ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হাস্যরসের ভঙ্গিতে লুলা বলেন, তিনি মেসিকে ব্রাজিলের হয়ে খেলানোর জন্য সই করানোর কথা ভাবছেন। ফুটবল বিশ্বে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে ব্রাজিল প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও এটি রসিকতা হিসেবে বলা, তবুও মেসির পারফরম্যান্স যে প্রতিপক্ষ দেশের নেতাদেরও মুগ্ধ করছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে লুলার বক্তব্যে। এদিকে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে ব্রাজিল ড্র দিয়ে। মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়ে সেলেসাওরা। এই প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন লুলা। তিনি বলেন, স্পেন কেপ ভার্দের সঙ্গে ড্র করেছে, সেটি আরও খারাপ ফলাফল। এবারের বিশ্বকাপ মেসির জন্যও বিশেষ হয়ে উঠেছে। এটি তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ, যা তাকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং মেক্সিকোর কিংবদন্তি গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়ার পাশে বসিয়েছে সর্বাধিক বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ডে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে জয় তুলে নেওয়ার পর গ্রুপ ‘জে’-তে আর্জেন্টিনার পরবর্তী ম্যাচ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে। ২২ জুনের ওই ম্যাচে জয় পেলে নকআউট পর্বের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে মেসির দল।
প্রায় দুই দশক ধরে আর্জেন্টিনার স্বপ্ন, আশা আর প্রত্যাশার পুরো ভার ছিল একজন মানুষের কাঁধে। তিনি লিওনেল মেসি। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে দৃশ্যপট বদলে গেছে। এবার মনে হচ্ছে, আর্জেন্টিনা আর শুধু মেসির ওপর নির্ভর করছে না। বরং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নতুন প্রজন্ম প্রস্তুত হয়েছে নিজেদের অধিনায়ককে এগিয়ে নিতে, তাঁর জন্য লড়তে। লিওনেল মেসি এখনও আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। তাঁর হাতেই থাকবে আর্মব্যান্ড। দলীয় তালিকায় তাঁর নামই থাকবে সবার আগে। মঙ্গলবার কানসাস সিটিতে ম্যাচের আগে ক্যামেরার ফোকাসও থাকবে তাঁর ওপর। কিন্তু এই আর্জেন্টিনা দলে মেসির ভূমিকা এখন কেবল একজন অধিনায়কের সংজ্ঞার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি হয়ে উঠেছেন এক অনুপ্রেরণার প্রতীক। এমন একজন, যিনি দেখিয়েছেন ব্যর্থতা, হতাশা আর দীর্ঘ অপেক্ষার পরও কীভাবে শেষ পর্যন্ত সাফল্য অর্জন করা যায়। ফুটবলের আবেগ নিয়ে অনেক সময় অতিরঞ্জনের অভিযোগ ওঠে। কিন্তু আর্জেন্টিনার বাস্তবতা ভিন্ন। দেশটিতে ফুটবল শুধু খেলা নয়, এক ধরনের বিশ্বাস। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তোলা অনেকের কাছে ধর্মীয় অনুভূতির মতো। প্রতিটি প্রজন্ম বড় হয় নায়ক, বেদনা আর পুনর্জাগরণের গল্প শুনে। সেই গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে ধীরে ধীরে জায়গা করে নিয়েছেন মেসি। তিনি আর শুধু একটি চরিত্র নন, তিনি নিজেই হয়ে উঠেছেন পুরো গল্পের প্রতীক। কানসাস সিটিতে জড়ো হওয়া বর্তমান আর্জেন্টিনা দলের অনেক ফুটবলার ছোটবেলায় মেসির সংগ্রাম দেখেই বড় হয়েছেন। তাঁরা দেখেছেন কোপা আমেরিকার ফাইনালে একের পর এক হার। দেখেছেন সমালোচকদের প্রশ্ন, মেসি সত্যিই কি নিজের দেশকে ভালোবাসেন? দেখেছেন ২৯ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে তাঁর অবসর ঘোষণা। আবার তাঁরাই দেখেছেন সেই অবসর ভেঙে ফিরে আসা। দেখেছেন ২০২১ সালে কোপা আমেরিকার ট্রফি হাতে তোলা। এরপর কাতার বিশ্বকাপে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপ জয়। মেসির বর্তমান প্রভাবের উৎস তাঁর গোল, অ্যাসিস্ট বা অসাধারণ প্রতিভা নয়। বরং তাঁর জীবনের এই দীর্ঘ যাত্রা। আজকের আর্জেন্টিনাকে দেখলে মনে হয় না ফুটবলাররা শুধু একজন অধিনায়কের নির্দেশ অনুসরণ করছেন। বরং তাঁরা যেন একটি উত্তরাধিকার রক্ষা করছেন। হুলিয়ান আলভারেজের নিরলস চাপ, রদ্রিগো ডি পলের প্রতিটি মিডফিল্ড লড়াই কিংবা এমিলিয়ানো মার্তিনেজের অদম্য মানসিকতা কেবল কৌশলগত ফুটবলের ফল নয়। এগুলো সেই মানসিকতার প্রতিফলন, যা তারা মেসির পাশে দাঁড়িয়ে শিখেছে। অনেক সময় মনে হয়, তারা শুধু আর্জেন্টিনার জন্য খেলছে না। দলের ভেতরে হয়তো এক নীরব অনুভূতিও কাজ করছে। তারা খেলছে সেই মানুষের জন্য, যিনি প্রায় দুই দশক ধরে একাই পুরো জাতির প্রত্যাশা বহন করেছেন। এই কারণেই ২০২৬ বিশ্বকাপ মেসির আগের সব বিশ্বকাপ থেকে আলাদা। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময় আর্জেন্টিনার সবকিছু ঘুরেছে তাঁকে কেন্দ্র করে। প্রত্যাশা, চাপ, সমালোচনা, আশা, হতাশা সবই এসে পড়ত তাঁর কাঁধে। এখন এই বিশ্বকাপ চলাকালীন তাঁর বয়স হবে ৩৯। শরীর আগের মতো নেই। ফিটনেস নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে। কিন্তু আর্জেন্টিনা এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে মাঠে নামছে এমন এক দল নিয়ে, যারা আর মেসির কাছ থেকে সবকিছু চায় না। তারা চায় মেসির উপস্থিতি। চায় তিনি মাঠে থাকুন। হয়তো কোনো অনুপ্রেরণামূলক মুহূর্তের জন্য। হয়তো মাঠের একপাশ থেকে দেওয়া একটি দৃষ্টির জন্য, যা সবাইকে মনে করিয়ে দেবে কীসের জন্য তারা লড়ছে। কিংবা শুধু এই কারণেই যে তিনি লিওনেল মেসি, এখনও মাঠে আছেন, এখনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, এখনও হাল ছাড়েননি। সম্ভবত ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির সবচেয়ে বড় অবদান কোনো গোল হবে না। কোনো অ্যাসিস্টও নয়। হয়তো তাঁর সবচেয়ে বড় অবদান হবে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে মাঠে নামার সেই দৃশ্য। যে জার্সি একসময় তাঁর কাছে বোঝা মনে হয়েছিল, সেটিই এখন তাঁর সবচেয়ে স্বস্তির ঠিকানা। কারণ কঠিন মুহূর্তে, যখন পা ভারী হয়ে আসে, আত্মবিশ্বাস কমে যায়, গ্যালারি নীরব হয়ে পড়ে, তখন পাশে মেসিকে দেখা দলের জন্য বাড়তি শক্তি হয়ে ওঠে। তিনি শুধু অধিনায়ক নন। তিনি এমন একজন, যাঁকে দেখে এই প্রজন্মের ফুটবলাররা বড় হয়েছে। যাঁর মতো হওয়ার স্বপ্ন তারা দেখেছে। বহু বছর আর্জেন্টিনা মেসির ওপর নির্ভর করেছে। কিন্তু ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সুন্দর মোড়ে এসে এখন মনে হচ্ছে, মেসিও আর্জেন্টিনার ওপর নির্ভর করতে পারেন। সম্ভবত এটাই তাঁর গল্পের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়। এক জীবন অপেক্ষার পর অবশেষে তিনি এমন এক জায়গায় পৌঁছেছেন, যেখানে তাঁকে আর একা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে না।
বিশ্বমঞ্চে নিজেদের খেতাব ধরে রাখার লড়াইয়ে মাঠে নামার আগে আজ সোমবার বিকেলে এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে হাজির হচ্ছেন বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। আগামীকাল মঙ্গলবার আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মাঠে নামছে আলবিসেলেস্তেরা। সেই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের রণকৌশল এবং দলের সার্বিক পরিস্থিতি জানাতেই আজ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হচ্ছেন আর্জেন্টাইন এই মাস্টারমাইন্ড। আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে কোচ স্কালোনির সাথে আর্জেন্টিনার একজন খেলোয়াড়ও উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে সেই খেলোয়াড়ের নাম এখনো কৌশলগত কারণে গোপন রেখেছে আর্জেন্টিনা টিম ম্যানেজমেন্ট। ফুটবল মহলে জোর গুঞ্জন চলছে যে, আজ কোচের পাশে আসন গ্রহণ করতে পারেন স্বয়ং আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক লিওনেল মেসি। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগের দিনও স্কালোনির সাথে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন লিওনেল মেসি। যদিও সেই উদ্বোধনী ম্যাচে আর্জেন্টিনা হেরেছিল, তবে শেষ পর্যন্ত ট্রফি জিতেছিল তারাই। চার বছর পর বিশ্বমঞ্চের প্রথম ম্যাচের আগে সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে স্কালোনি কোনো লাকি টোটকা বা কুসংস্কারের পথ অবলম্বন করতে চান কি না, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে তুমুল আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এদিকে আলজেরিয়া ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে একমাত্র নিশ্চিত দুঃসংবাদ হলো অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর ইনজুরি। বাঁ পায়ের কাফ ইনজুরির কারণে আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তিনি নিশ্চিতভাবেই মাঠের বাইরে থাকছেন। তবে দলের কোচিং স্টাফ আশা করছে, গ্রুপ ‘জে’-এর দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে তাকে দলে পাওয়া যেতে পারে। যদিও বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে তার শারীরিক রিকভারির ওপর। তাগলিয়াফিকোর এই আকস্মিক অনুপস্থিতিতে লেফট-ব্যাক পজিশনে স্কালোনি কাকে খেলাবেন, তা নিয়ে আর্জেন্টিনা দলে বেশ কিছুদিন ধরে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। গত কয়েক সপ্তাহের চোটের ধাক্কা সামলে আর্জেন্টিনা দল এখন মানসিকভাবে দারুণ চাঙ্গা অবস্থানে রয়েছে। পোলিশ রেফারি সাইমন মার্চিনিয়াকের পরিচালনায় আগামীকাল আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে স্কালোনির দল। তার আগে আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে কোচ নিজেই দল নিয়ে সব ধরনের ধোঁয়াশা দূর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
গত ১১ জুন পর্দা উঠেছে ফিফা বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের। বিশ্বমঞ্চের এই মহাযজ্ঞ শুরু হলেও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এখনও মাঠে নামার অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী বুধবার সকালে ‘জে’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। গ্রুপ পর্বে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। আলজেরিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচটিতে মাঠে নামার সঙ্গেই সঙ্গেই ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড সর্বোচ্চ ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার অনন্য কীর্তি গড়বেন লিওনেল মেসি। মাঠে নামার আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ২০০৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ছয়টি আসরের ছবি ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করে মেসি ক্যাপশনে লিখেছেন—‘২০০৬⚽২০২৬’। ২০ বছর আগের জার্মানি বিশ্বকাপ দিয়ে শুরু হওয়া এই যাত্রার শেষটা যেন একই ফ্রেমে বেঁধেছেন তিনি। মেসির পাশাপাশি চলতি আসরে পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং মেক্সিকোর গুইলার্মো ওচোয়ার সামনেও ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ রয়েছে। ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ছোঁয়ার পাশাপাশি এবার মেসির সামনে রয়েছে বেশ কিছু মহাকাব্যিক মাইলফলক ভাঙার সুযোগ। এর মধ্যে অন্যতম হলো বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া। বর্তমানে ১৬ গোল নিয়ে এই রেকর্ডের শীর্ষে আছেন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা। এরপর আছেন ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও (১৫ গোল) এবং জার্মানির গার্ড মুলার (১৪ গোল)। লিওনেল মেসি বর্তমানে ১৩টি গোল নিয়ে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইনের সঙ্গে যৌথভাবে চতুর্থ স্থানে আছেন। তবে এই রেকর্ড ভাঙার দৌড়ে মেসির একমাত্র প্রতিপক্ষ ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে, যিনি মাত্র ২৭ বছর বয়সে নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপে নেমেই মেসির সমান ১৩টি গোল নিয়ে অপেক্ষায় আছেন। গোলের পাশাপাশি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট বা গোল করানোর রেকর্ডও নিজের করে নিতে পারেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তিনি ৮টি গোলে সরাসরি সহায়তা করেছেন। ১০টি অ্যাসিস্ট নিয়ে এই তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলে। পেলেকে ছুঁতে মেসির প্রয়োজন আর মাত্র ২টি এবং এককভাবে শীর্ষে উঠতে প্রয়োজন ৩টি অ্যাসিস্ট। শুধু তাই নয়, আর্জেন্টিনা যদি এবারও ফাইনালে উঠতে পারে, তবে পেলে, কাফু, রোনালদো নাজারিও এবং জার্মানির লোথার ম্যাথাউস ও পিয়েরে লিটবারস্কির পর ইতিহাসের ষষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার রেকর্ড স্পর্শ করবেন মেসি। ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ২৬টি ম্যাচ খেলার এবং রেকর্ড ২৩০০ মিনিট মাঠে থাকার কীর্তি মেসির দখলে রয়েছে। ২০২৬ সালের এই নতুন ফরম্যাটে একটি দলের সর্বোচ্চ ৮টি ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকায়, মেসি যদি তার ম্যাচ এবং মিনিটের এই সংখ্যাকে আরও অনেক উঁচুতে নিয়ে যান, তবে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অলক্ষ্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।
কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামের আলো ঝলমলে মঞ্চে গোল্ডেন বল হাতে নিয়ে যখন লিওনেল মেসি দাঁড়ালেন, তখন ফুটবল বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের চোখ ছিল তাঁর দিকে। সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার হিসেবে এই গোল্ডেন বল তিনি ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপেও পেয়েছিলেন, কিন্তু সেই নেওয়ার সাথে ২০২২ সালের এই প্রাপ্তির আকাশ-পাতাল পার্থক্য ছিল। পুরস্কারটি হাতে নিয়ে ঘোরার সময়ই তাঁর চোখ পড়ে সামনে রাখা ঝকঝকে সোনার বিশ্বকাপ ট্রফিটির দিকে, যা এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে দামি বস্তু। আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রফিটি হাতে তুলে দেওয়ার জন্য মাত্র কয়েক মিনিটের অপেক্ষা থাকলেও সেই সংযম আর সইল না; মেসি ঝুঁকে পড়ে পরম মমতায় আলতো করে ট্রফিটিতে একটি এবং পরপর দুটি চুমু খেলেন। মেসির এই দুটি চুমুর গভীরতা ও তীব্রতা বুঝতে হলে ফুটবলপ্রেমীদের ঠিক আট বছর পেছনে অর্থাৎ ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনালের সেই কালরাত্রিতে ফিরে যেতে হবে। সেবার জার্মানির কাছে ফাইনালে হেরে যাওয়ার পর শূন্য চোখে, ভাঙা হৃদয়ে পুরস্কার মঞ্চে দাঁড়িয়ে গোল্ডেন বল নিতে হয়েছিল মেসিকে, যার ঠিক সামনেই রাখা ছিল অধরা সেই বিশ্বকাপ ট্রফি। নিয়ম অনুযায়ী বিজয়ী দল ছাড়া কেউ ট্রফি স্পর্শ করতে পারে না বলে মেসি সেবার শুধু অপলক চোখে তাকিয়েই ছিলেন, হাত বাড়ানোর অধিকার তাঁর ছিল না। সেই রাতের শূন্য চোখের মেসির ছবি আজও অনেকের মনে দাগ কেটে আছে, যেখানে গোল্ডেন বলটি তাঁর কাছে কেবলই একটি মূল্যহীন ধাতব বস্তু মনে হয়েছিল। আট বছর পর লুসাইলের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ট্রফিটির দিকে তাকানোর পর মেসির হয়তো সেই যন্ত্রণাদায়ক রাতের কথাই মনে পড়েছিল, যা তাঁর সংযমের বাঁধ ভেঙে দেয়। তাঁর আগে আর্জেন্টিনার সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার নিতে আসা একুশ বছর বয়সী এঞ্জো ফার্নান্দেজ কিংবা সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার পাওয়া এমিলিয়ানো মার্তিনেজ কেউই ট্রফিটি ছোঁয়ার সাহস করেননি। পুরো টুর্নামেন্টে পোস্টের নিচে দেয়াল হয়ে দাঁড়ানো মার্তিনেজ কিংবা তরুণ এঞ্জো হয়তো মনে মনে জানতেন, এই ট্রফির ওপর প্রথম স্পর্শের অধিকার কেবল তাঁরই, যার এক জীবনের সাধনা জড়িয়ে আছে এর সাথে। এরপর মেসি যখন এলেন, তখন আর কোনো নিয়ম বা সংযম কাজ করেনি, তিনি ট্রফিটি নিজের করে নিলেন। আসলে এই দুটি চুমু শুধু একটা আবেগের মুহূর্ত নয়, এর পেছনে জড়িয়ে আছে রোজারিওর মাটি, বার্সেলোনার করিডোর, চারটি বিশ্বকাপের ভাঙা স্বপ্ন, আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর এবং পুনরায় ফিরে আসার এক মহাকাব্যিক গল্প। ১৯৮৭ সালে রোজারিওর পারানা নদীর পাড়ে জন্ম নেওয়া এই ফুটবল জাদুকরের ১১ বছর বয়সে গ্রোথ হরমোন ডেফিশিয়েন্সি ধরা পড়েছিল, যার চিকিৎসার খরচ জোগাতে আর্জেন্টিনার কোনো ক্লাব রাজি হয়নি। পরবর্তীতে স্পেনের ক্লাব বার্সেলোনা একটি ন্যাপকিন পেপারে চুক্তির মাধ্যমে তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নেয় এবং সেখানে বড় হতে হতে মেসি ফুটবল মাঠে যা ছুঁয়েছেন, তাই সোনায় পরিণত করেছেন। লা লিগা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ আর একের পর এক ব্যালন ডি'অর জিতলেও দেশের জার্সিতে বারবার ট্র্যাজেডির শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। ২০০৬ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত টানা চারটি বিশ্বকাপে নীল-সাদা জার্সি গায়ে দিলেই এক অদৃশ্য চাপ এসে ভর করত মেসির কাঁধে, শুনতে হতো দেশের হয়ে বড় মঞ্চে ব্যর্থতার অপবাদ। তবে ২০২২ সালের ১৮ই ডিসেম্বর ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে নাটক, ভয়, বিস্ময় আর স্নায়ুযুদ্ধের পেনাল্টি শুটআউট শেষে যখন শেষ বাঁশি বাজল, তখন ৩৬ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে ইতিহাস এক দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলল। মেসি হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন, চোখ ভিজে উঠল এবং দুই হাতে তুলে ধরলেন তাঁর সারাজীবনের আরাধ্য সেই সোনালি ট্রফি। বুয়েনোস আইরেস থেকে শুরু করে ঢাকার রাস্তা—যেখানেই নীল-সাদা পতাকা উড়েছে, সেখানেই রাতটি উৎসবে পরিণত হয়েছিল, কারণ এই বিজয় ছিল প্রতিটি মানুষের স্বপ্ন ও দীর্ঘ অপেক্ষার এক পরম পূর্ণতা।
কাতারে ৩৬ বছরের শিরোপা খরা কাটানোর পর এবার লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার সামনে রয়েছে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠেয় ৪৮ দলের এই মেগা বিশ্বকাপে কোচ লিওনেল স্কালোনির মূল ভরসা আবারও মেসি। এবারের আর্জেন্টিনা দলে ২০২২ বিশ্বকাপের ১৭ জন অভিজ্ঞ ফুটবলারের পাশাপাশি ৯ জন নতুন তারকার দারুণ এক ভারসাম্য রয়েছে, যা শিরোপা ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৬২ সালের পর এবারই প্রথম কোনো দলের সামনে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে মাত্র দুটি দেশ এই কীর্তি গড়তে পেরেছে। প্রথম দল হিসেবে ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে ইতালি এবং পরবর্তীতে ১৯৫৮ ও ১৯৬২ বিশ্বকাপে পেলের ব্রাজিল এই রেকর্ড গড়েছিল। গত ৬৪ বছরে আর কোনো দেশ এই অর্জনে নাম লেখাতে পারেনি। ১৯৯০ সালে ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা, ১৯৯৮ সালে ব্রাজিল এবং ২০২২ সালে ফ্রান্স ফাইনাল পর্যন্ত গেলেও স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়তে হয়েছিল। তবে কিছু বিশেষ লক্ষণ এবার আর্জেন্টিনাকে বাকিদের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে রাখছে। বড় টুর্নামেন্টে সাফল্যের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো দলীয় স্থিতিশীলতা এবং ড্রেসিং রুমের চমৎকার পরিবেশ, যা স্কালোনির দলে স্পষ্টভাবে বিদ্যমান। সাম্প্রতিক সময়ের আধুনিক ক্রীড়াঙ্গনের ফলাফলও এই ধারাবাহিকতার পক্ষেই কথা বলছে। উদাহরণস্বরূপ, বড় বড় তারকাদের নিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর কেবল একাত্মতা ও টিম স্পিরিটের জোরে কোচ লুইস এনরিকের অধীনে থাকা পিএসজি গত ৩০ মে আর্সেনালকে টাইব্রেকারে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতেছে। ক্রিকেটেও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) তারকা নির্ভরতা কমিয়ে দলগত সংহতির জোরে টানা দুই আসরে শিরোপার স্বাদ পেয়েছে। এছাড়া ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিকের অধীনে টানা দু’বার লা লিগা এবং বায়ার্ন মিউনিখ বুন্দেসলিগায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রমাণ করেছে যে, স্থিতিশীলতাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। আর্জেন্টাইন শিবিরে এখন এই রহস্যমন্ত্রের সব উপাদানই রয়েছে। মেসির নেতৃত্বে দলটির ভেতরের এই অভূতপূর্ব ঐক্য যদি টুর্নামেন্টজুড়ে বজায় থাকে, তবে আগামী ১৯ জুলাই ফাইনালে আবারও বিশ্বজয়ের উল্লাসে মাতবে আলবিসেলেস্তেরা—এমনটাই ভাবছেন ফুটবল বোদ্ধারা।
ফুটবল ইতিহাসের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর তুলনা নিয়ে আলোচনা দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। গোল, রেকর্ড ও ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দলীয় শিরোপার হিসাবেও তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা রয়েছে, যেখানে আপাতত এগিয়ে আছেন মেসি। মেসি এখন পর্যন্ত ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৪৮টি ট্রফি জিতেছেন, যা ফুটবল ইতিহাসে সর্বাধিক। বার্সেলোনা, পিএসজি, ইন্টার মিয়ামি এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে তিনি এই অসাধারণ কীর্তি গড়েছেন। অন্যদিকে রোনালদো সৌদি প্রো লিগ শিরোপা জয়ের মাধ্যমে তার ক্যারিয়ারের ৩৬তম ট্রফি অর্জন করেছেন। আল নাসরের হয়ে এটি তার প্রথম বড় সাফল্য। এই সংখ্যার ভিত্তিতে সর্বাধিক ট্রফি জয়ীদের তালিকায় রোনালদো এখন যৌথভাবে ১১তম স্থানে আছেন। যেখানে তার সঙ্গে সমান সংখ্যক ট্রফি রয়েছে সার্জিও বুসকেটস, আনহেল ডি মারিয়া ও রায়ান গিগসের মতো ফুটবলারদেরও। শীর্ষ ট্রফি জয়ীদের তালিকায় মেসির পরেই অবস্থান করছেন দানি আলভেস (৪৩), মারকিনিওস (৪২) এবং আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা (৪০)। ৪১ বছর বয়সী রোনালদোর সামনে এখন বড় লক্ষ্য হলো ক্যারিয়ারে ১০০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করা। যেটি অর্জন করতে পারলে তার নাম ফুটবলের ইতিহাসে আরও উজ্জ্বল অক্ষরে লেখা থাকবে।
ফুটবল মাঠের পর এবার ক্লাব মালিকানায় নতুন চমক দিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। স্পেনের পঞ্চম বিভাগের কাতালান ক্লাব 'কোর্নেয়া' (UE Cornellà) কিনে নিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) ক্লাব কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বার্সেলোনাভিত্তিক এই ক্লাবটি মূলত বিশ্বমানের ফুটবলার তৈরির জন্য পরিচিত। বর্তমান তারকা জর্দি আলবা, জেরার্ড মার্তিন ও আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়ার মতো খেলোয়াড়রা এই ক্লাবের একাডেমি থেকেই উঠে এসেছেন। বিশেষ করে জর্দি আলবা ২০১২ সালে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার আগে এই কোর্নেয়াতেই টানা ছয় বছর কাটিয়েছিলেন। মেসির মালিকানা গ্রহণের বিষয়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানায়, লিওনেল মেসির এই আগমন ক্লাবের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এর মাধ্যমে ক্লাবের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রতিভাবান ফুটবলার তৈরিতে বিনিয়োগ আরও জোরদার করা হবে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও স্থানীয় শেকড়ের সাথে সংযোগ বজায় রেখেই প্রকল্পটি পরিচালিত হবে। ইউরোপীয় কোনো ক্লাবের পূর্ণ মালিকানায় এটি মেসির প্রথম পদক্ষেপ হলেও, ক্লাব ব্যবসায় তিনি নতুন নন। এর আগে উরুগুয়ের ক্লাব দেপোর্তিভো এলএসএম-এর অংশীদার হয়েছেন তিনি, যেখানে তাঁর সাথে রয়েছেন সাবেক সতীর্থ লুইস সুয়ারেজও।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।