সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

সুইমিং পুল

ফ্লোরিডার সুইমিং পুলে সাত বছরের শিশুর মৃ ত্যু
চোখের সামনে শিশুকে ডুবে যেতে দেখেও উদ্ধার করেননি চিকিৎসক, সাহায্যে পাঠান অন্য শিশুদের

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের একটি কমিউনিটি সুইমিং পুলে সাত বছরের এক শিশুকে ডুবে যেতে দেখেও দ্রুত উদ্ধার করতে এগিয়ে যাননি এক নারী চিকিৎসক—এমন অভিযোগ উঠেছে। বরং শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য নিজের পরিবর্তে একই বয়সী অন্য দুই শিশুকে পানিতে পাঠিয়েছিলেন তিনি বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে আরেকজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি শিশুটিকে পানি থেকে উদ্ধার করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি। এ ঘটনায় ৪৮ বছর বয়সী চিকিৎসক সুকান্থিনি সুব্বিয়াহকে গ্রে প্তা র করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে শিশুর মৃ ত্যুর ঘটনায় গুরুতর অবহেলাজনিত হ ত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।   ঘটনাটি ঘটে গত ১০ এপ্রিল ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোর এভারবি কমিউনিটির একটি সুইমিং পুলে। নিহত শিশুটির নাম খুশিল বান্ডি। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার প্রায় ছয় মাস পর নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে গত ৫ অক্টোবর চিকিৎসক সুব্বিয়াহকে গ্রে প্তা র করা হয়।   সুব্বিয়াহ লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ও পেশায় চিকিৎসক। ঘটনার সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে অরল্যান্ডোতে এসেছিলেন। সেখানে তাঁর সাত বছর বয়সী ছেলের সঙ্গে প্রতিবেশী পরিবারের যমজ দুই শিশুর বন্ধুত্ব হয়। পরে ওই শিশুদের মায়ের অনুমতি নিয়ে নিজের ছেলেসহ তিন শিশুকে সুইমিং পুলে নিয়ে যান তিনি।   তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন খুশিলের যমজ বোন লাইফ জ্যাকেট পরেছিল, কিন্তু খুশিলের গায়ে সেটি ছিল না। সুব্বিয়াহ পরে তদন্তকারীদের জানান, তিনি ধারণা করেছিলেন শিশুটি সাঁতার জানে। তাই তাকে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই পানিতে নামতে দেওয়া হয়েছিল।   পুলিশের হাতে থাকা নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টা ১৯ মিনিটে শিশুরা পুলে নামে। এর প্রায় এক মিনিট পরই খুশিল পানিতে বিপদে পড়ে। ফুটেজে দেখা যায়, পুলের মাঝামাঝি গিয়ে সে দিক পরিবর্তনের চেষ্টা করে এবং হাত-পা ছুড়তে থাকে। একপর্যায়ে সে পানির নিচে তলিয়ে যায়।   তদন্তকারীদের অভিযোগ, শিশুটি বিপদে পড়ার পরও সুব্বিয়াহ দ্রুত তাকে উদ্ধারের উদ্যোগ নেননি। বরং পুলের দিকে তাকিয়ে ছিলেন এবং পরে একই বয়সী অন্য দুই শিশুকে খুশিলকে উদ্ধারের জন্য পাঠান। পুলিশের দাবি, শিশুটি পাঁচ মিনিটের বেশি সময় ধরে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ছিল। পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সাত মিনিটেরও বেশি সময় পর তাকে উদ্ধার করা হয়।   তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাত বছর বয়সী শিশুদের পক্ষে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া আরেক শিশুকে উদ্ধার করা সম্ভব ছিল না। ওই দুই শিশু পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে চিৎকার করতে শুরু করে। পরে সুব্বিয়াহ পুলে থাকা অন্য একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সাহায্য চান। ওই ব্যক্তি পানিতে নেমে খুশিলকে উদ্ধার করেন।   শিশুটিকে পানি থেকে তোলার পর সুব্বিয়াহ তার সিপিআর দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করা হয়। পরে খুশিলকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসা দিয়েও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।   ঘটনার পর পুলিশের কাছে প্রাথমিক বক্তব্যে সুব্বিয়াহ দাবি করেছিলেন, শিশুটি প্রায় ৪৫ সেকেন্ড পানির নিচে ছিল। তবে তদন্তকারীরা নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজের সঙ্গে তাঁর বক্তব্যের সময়ের অসংগতি খুঁজে পান। ফুটেজ অনুযায়ী, শিশুটি অনেক বেশি সময় ধরে বিপদে ছিল এবং তাকে উদ্ধারের জন্য যথাসময়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তদন্তকারীদের।   প্রথমদিকে শিশুটির মৃ ত্যুকে দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা মনে করেন, শিশুটির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির গুরুতর অবহেলা এই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত।   তদন্তকারীদের মতে, জরুরি পরিস্থিতিতে শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য সুব্বিয়াহর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। বিশেষ করে তিনি একজন চিকিৎসক হওয়ায় পানিতে ডুবে যাওয়ার বিপদ ও অক্সিজেনের অভাবে শিশুর প্রাণহানির ঝুঁকি সম্পর্কে তাঁর ধারণা থাকার কথা। কিন্তু সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগকে তাঁরা গুরুতর দায়িত্বহীনতা হিসেবে দেখছেন।   দীর্ঘ তদন্ত শেষে সুব্বিয়াহর বিরুদ্ধে শিশুর মৃ ত্যুর ঘটনায় গুরুতর অবহেলাজনিত হ ত্যার অভিযোগ আনা হয়। ৫ অক্টোবর তাঁকে অরেঞ্জ কাউন্টি জেলে নেওয়া হয়।   তবে চিকিৎসকের আইনজীবী রাজন যোশি অভিযোগের বিরোধিতা করেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনাটি একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নয়। আইনজীবী জানিয়েছেন, তাঁর মক্কেল স্বেচ্ছায় কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন এবং তদন্তে সহযোগিতা করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিরুদ্ধে আদালতে আইনি লড়াই চালানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।   এ ঘটনাটি শিশুদের সুইমিং পুলে নিরাপত্তা ও প্রাপ্তবয়স্কদের তত্ত্বাবধানের গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এক থেকে চার বছর বয়সী শিশুদের মৃ ত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ পানিতে ডুবে যাওয়া। পাঁচ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রেও এটি মৃ ত্যুর উল্লেখযোগ্য কারণগুলোর একটি।   বিশেষজ্ঞদের মতে, পানিতে ডুবে যাওয়ার সময় শিশুরা সব সময় চিৎকার করে সাহায্য চাইতে পারে না। অনেক সময় অল্প সময়ের মধ্যেই তারা পানির নিচে তলিয়ে যায়। এ কারণে সুইমিং পুলে শিশুদের উপস্থিতিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সার্বক্ষণিক নজরদারি অত্যন্ত জরুরি।   চিকিৎসক সুব্বিয়াহর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে, শিশুটিকে উদ্ধারে তাঁর কথিত নিষ্ক্রিয়তা ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে কি না।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৪:০
ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের ওপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, প্রেস রুম ভেঙে সুইমিং পুল বানানোর ইঙ্গিত
ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের ওপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, প্রেস রুম ভেঙে সুইমিং পুল বানানোর ইঙ্গিত

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর সঙ্গে চলমান দ্বন্দ্বের জেরে হোয়াইট হাউসের 'জেমস এস. ব্র্যাডি প্রেস ব্রিফিং রুম' ভেঙে পুনরায় সেখানে একটি সুইমিং পুল তৈরির ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ বর্তমান প্রেস রুম এবং স্বর্ণখচিত একটি সুইমিং পুলের 'আগে ও পরে' অবস্থার ছবি পোস্ট করে তিনি গণমাধ্যমকে একপ্রকার উপহাস করেছেন।   সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকো'র সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার পরপরই এই ঘটনা ঘটলো।   সম্প্রতি মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ টিমোথি কেলি এক আদেশে হোয়াইট হাউসকে নির্দেশ দিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন অন্তত আগামী দুই সপ্তাহের জন্য ওই তিন সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। ট্রাম্পের এই নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে হোয়াইট হাউসের পুলভুক্ত শীর্ষ পাঁচটি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক—এবিসি, সিবিএস, সিএনএন, ফক্স নিউজ এবং এনবিসি—সাময়িকভাবে তাদের অংশগ্রহণ বন্ধ রেখেছে। এর ফলে গত সপ্তাহের শুরুর দিকে ট্রাম্পের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে বেশ জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল।   হোয়াইট হাউসের বর্তমান প্রেস রুমটির নিচে মূলত একটি ইনডোর সুইমিং পুলের কাঠামো রয়েছে। পোলিওতে আক্রান্ত হওয়ার পর ১৯৩৩ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্টের জন্য এই পুলটি নির্মাণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে হ্যারি ট্রুম্যান, জন এফ. কেনেডি এবং লিন্ডন জনসনের মতো প্রেসিডেন্টরাও এটি নিয়মিত ব্যবহার করতেন।   এরপর সাবেক প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন পুলটির ওপরে ফ্লোরিং করে বর্তমান ব্রিফিং রুমটি তৈরি করেন, যা পরে রোনাল্ড রিগ্যানের প্রেস সেক্রেটারি জেমস ব্র্যাডির নামে নামকরণ করা হয়। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট রিগ্যানের ওপর গুপ্তহত্যার চেষ্টাকালে জেমস ব্র্যাডি গুরুতর আহত হয়েছিলেন।   দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর হোয়াইট হাউস ও এর আশেপাশে ব্যাপক সংস্কার কাজে হাত দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাম রুম, নর্থ পোরটিকো, ৪০ কোটি ডলারের বলরুম এবং সাউথ লনে নতুন হেলিপ্যাড নির্মাণ তার উল্লেখযোগ্য কিছু পদক্ষেপ। এছাড়া ওয়াশিংটন ডিসিতে লিঙ্কন মেমোরিয়ালের ভাস্কর্যগুলোর সংস্কারেও তিনি কাজ করছেন।   তবে সাংবাদিকদের জন্য প্রেস রুমটি সংস্কারের কোনো ইচ্ছা তার নেই। গত বছর এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বেশ রসিকতার সুরেই বলেছিলেন, "আমি এটি করতে চাই না। আমি চাই না আপনারা এখানে আরামে থাকুন।"

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে নিজের জন্মদিনের পার্টিতেই সুইমিংপুলে ডুবল ২ বছরের শিশু, সিপিআরে বাঁচল প্রাণ
যুক্তরাষ্ট্রে নিজের জন্মদিনের পার্টিতেই সুইমিংপুলে ডুবল ২ বছরের শিশু, সিপিআরে বাঁচল প্রাণ

যুক্তরাষ্ট্রের কব কাউন্টিতে নিজের জন্মদিনের পার্টিতে সুইমিংপুলে ডুবে গিয়ে প্রায় মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েছিল দুই বছরের এক শিশু। তবে পার্টিতে উপস্থিত অতিথিদের তাৎক্ষণিক উপস্থিত বুদ্ধিতে শেষ পর্যন্ত শিশুটির প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জ্ঞান ফেরার পর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য শিশুটিকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।   গত শনিবার রাত ৯টার পরপর কব কাউন্টির ৪৫০১ সার্কেল ৭৫ পার্কওয়েতে অবস্থিত স্টেডিয়াম ওয়াক অ্যাপার্টমেন্টে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শিশুটির জন্মদিন উদ্‌যাপনের জন্যই সেখানে একটি পুল পার্টির আয়োজন করা হয়েছিল।   উৎসবের আনন্দের মাঝেই হঠাৎ উপস্থিত লোকজন শিশুটিকে সুইমিংপুলের পানিতে অচেতন অবস্থায় ভাসতে দেখেন। তাকে দ্রুত পানি থেকে উদ্ধার করা হলেও প্রাথমিকভাবে তার শরীরে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পার্টিতে উপস্থিত কয়েকজন কালক্ষেপণ না করে শিশুটিকে সিপিআর (CPR) দেওয়া শুরু করেন। তাদের এই সময়োচিত পদক্ষেপের ফলেই অলৌকিকভাবে শিশুটি জ্ঞান ফিরে পায়।   খবর পেয়ে কব কাউন্টি পুলিশের পাশাপাশি ম্যারিয়েটা ফায়ার সার্ভিসের জরুরি চিকিৎসা দলের (ইএমটি) সদস্যরাও ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং শিশুটির চিকিৎসায় সার্বিক সহায়তা করেন। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, এই ঘটনার পেছনে কোনো ধরনের সন্দেহজনক বা অপরাধমূলক তৎপরতা নেই; এটি নিছকই একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে সুইমিংপুলে গাড়ি পড়ে শিক্ষিকার মৃত্যু, ৯১১-এ ফোন করেও শেষ রক্ষা হলো না I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
নিউইয়র্কে সুইমিংপুলে গাড়ি পড়ে শিক্ষিকার মৃত্যু, ৯১১-এ ফোন করেও শেষ রক্ষা হলো না

যুক্তরাষ্ট্রের লং আইল্যান্ডে বাড়ির পেছনের সুইমিংপুলে এসইউভি (SUV) গাড়ি পড়ে অ্যালিসন রহমানি (৪০) নামে এক স্কুলশিক্ষিকা ও চার সন্তানের জননীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র নিউইয়র্ক পোস্টকে জানিয়েছে, গাড়ি চালানোর সময় হঠাৎ কোনো শারীরিক অসুস্থতা বা ‘মেডিকেল ইমার্জেন্সি’র শিকার হয়েছিলেন তিনি।   এর ফলেই তিনি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা ঘটে। গত শুক্রবার হিউলেট এলাকায় নিজেদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, ডুবন্ত গাড়ি থেকে অ্যালিসন নিজেই ৯১১ নম্বরে কল করে সাহায্য চেয়েছিলেন, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি; হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।   পুলিশ এই ঘটনার পেছনে কোনো ধরনের অপরাধমূলক বা সন্দেহজনক কারণ দেখছে না, তবে আনুষ্ঠানিক তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে। সদ্য নিজের ৪০তম জন্মদিন উদ্‌যাপন করা অ্যালিসন ছিলেন হিব্রু অ্যাকাডেমির গণিত বিষয়ক কোঅর্ডিনেটর। রবিবার এক আবেগঘন পরিবেশে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়।   হৃদয়বিদারক কাকতালীয় বিষয় হলো, এদিনই স্বামী ম্যাথিউ রহমানির সঙ্গে রোমান্টিক ছুটি কাটাতে তার প্যারিস যাওয়ার কথা ছিল। শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে শোকাহত স্বামী ম্যাথিউ ইহুদিদের ঐতিহ্যবাহী বিয়ের প্রার্থনা ‘উইমেন অব ভ্যালর’ পাঠ করে প্রিয় স্ত্রীকে স্মরণ করেন।   অন্যদিকে, অ্যালিসনের মা র‍্যাচেল রোহডে কান্নায় ভেঙে পড়ে উপস্থিত সবাইকে বলেন, “আমরা একেবারে ভেঙে পড়েছি, আমাদের জীবন আর কখনোই আগের মতো হবে না।”

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:০
প্যাকেজ দিতে এসে সোজা সুইমিং পুলে! অ্যামাজনের ড্রোনের কাণ্ডে ভাইরাল ভিডিও
প্যাকেজ দিতে এসে সোজা সুইমিং পুলে! অ্যামাজনের ড্রোনের কাণ্ডে ভাইরাল ভিডিও

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অ্যামাজনের ডেলিভারি ড্রোন এক গ্রাহকের প্যাকেজ বাড়ির সুইমিং পুলে ফেলে দিয়েছে। ঘটনাটি ভিডিওতে ধারণ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। রিচমন্ডের বাসিন্দা লিন্ডসে অস্টেন জানান, ড্রোনের মাধ্যমে প্যাকেজ আসার নোটিফিকেশন পাওয়ার পর তিনি বাইরে গিয়ে পুরো ঘটনাটি নিজের চোখে দেখেন।   অস্টেনের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির পেছনে ড্রোনের শব্দ শুনে তিনি বাইরে আসেন। এরপর ড্রোনটি সুইমিং পুলের ওপর অবস্থান নিয়ে নিচের দিকে প্যাকেজটি ছেড়ে দেয়। প্যাকেজটি সরাসরি পানিতে পড়ে যাওয়ায় তিনি হতবাক হয়ে যান।   ঘটনার ভিডিওতেও দেখা যায়, ড্রোনটি প্যাকেজ নিয়ে বাড়ির পেছনের এলাকায় আসে। এরপর সুইমিং পুলের ওপর থেকে প্যাকেজটি ছেড়ে দিলে সেটি সোজা পানিতে গিয়ে পড়ে।   অস্টেন বলেন, প্যাকেজটি পানিতে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তে তিনি একেবারেই হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। এমন অভিজ্ঞতার পর ভবিষ্যতে আবার ড্রোনের মাধ্যমে প্যাকেজ নিতে তিনি আগ্রহী নন বলেও জানান।   ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন অ্যামাজন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ড্রোনের মাধ্যমে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার সেবা আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। কোম্পানিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রায় ৫০০টি মার্কিন শহরে এই সেবা চালুর লক্ষ্য রয়েছে।   অ্যামাজনের এই ড্রোন ডেলিভারি ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো ছোট আকারের পণ্য দ্রুত গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া। ড্রোনগুলো সর্বোচ্চ প্রায় ৫ পাউন্ড বা ২ দশমিক ৩ কেজি ওজনের প্যাকেজ বহন করতে পারে। নির্দিষ্ট এলাকায় অর্ডার দেওয়ার পর প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এই সেবা পরিচালনা করা হয়।   অ্যামাজনের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে বিরল একটি ত্রুটি হিসেবে দেখা হয়েছে। কোম্পানির মুখপাত্র অ্যালি পেইন জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনা থেকে পাওয়া তথ্য কাজে লাগিয়ে ড্রোন ডেলিভারি ব্যবস্থা আরও উন্নত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।   ড্রোন ডেলিভারি মূলত এমন শহরতলি ও আবাসিক এলাকায় পরিচালনার জন্য তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ঘনবসতি, উঁচু ভবন কিংবা বড় বিমানবন্দরের মতো জটিলতা তুলনামূলক কম। তবে ড্রোন পরিচালনার ক্ষেত্রে স্থানীয় আইন, নিরাপত্তা বিধি এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক শর্তও মানতে হয়।   ড্রোনের মাধ্যমে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার প্রযুক্তি দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও সঠিক জায়গায় প্যাকেজ নামানো এবং পণ্য অক্ষত রাখার বিষয়টি এখনো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। টেক্সাসের এই ঘটনাটি সেই প্রযুক্তির বাস্তব ব্যবহারে নির্ভুলতার গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে।   অ্যামাজনের ড্রোন ডেলিভারি সেবা যত বিস্তৃত হচ্ছে, ততই গ্রাহকের বাড়িতে নিরাপদ ও নির্ভুলভাবে প্যাকেজ পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে নজর বাড়ছে। সুইমিং পুলে প্যাকেজ পড়ে যাওয়ার এই ঘটনাও সেই চ্যালেঞ্জেরই একটি আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:০
টেক্সাসে সুইমিংপুলে ডুবে যাওয়া ২ বছরের অ্যানেলিস, ১০ সপ্তাহের জীবনযুদ্ধ শেষে মৃত্যু
টেক্সাসে সুইমিংপুলে ডুবে যাওয়া ২ বছরের অ্যানেলিস, ১০ সপ্তাহের জীবনযুদ্ধ শেষে মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে মেমোরিয়াল ডে-তে একটি হোটেলের সুইমিংপুলে ডুবে যাওয়ার প্রায় দুই মাসেরও বেশি সময় পর দুই বছর বয়সী শিশু অ্যানেলিস ক্যাম্পের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। লাইফ সাপোর্টে দীর্ঘ ১০ সপ্তাহ ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর গত সোমবার সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে। তার বাবা জনস্টন এবং মা জয় ক্যাম্প চিকিৎসায় তহবিল সংগ্রহের ওয়েবসাইট ‘গো-ফান্ড-মি’ পেজে এক আবেগঘন বার্তায় মেয়ের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন। সেখানে তারা লিখেছেন, তাদের হৃদয় ভেঙে গেলেও তারা বিশ্বাস করেন অ্যানেলিস এখন ঈশ্বরের কাছে শান্তিতে আছে।   দুর্ঘটনার দিনের বর্ণনা দিতে গিয়ে শিশুটির বাবা এর আগে জানিয়েছিলেন, মেমোরিয়াল ডে-র ছুটিতে অ্যানেলিস নিজের লাইফ জ্যাকেট খুলে ফেলে দুর্ঘটনাবশত হোটেলের সুইমিংপুলে নেমে যায়। পরে তার ১২ বছর বয়সী কাজিন তাকে পুলের তলদেশে পড়ে থাকতে দেখে। সেখান থেকে উদ্ধারের পর শিশুটির হৃৎস্পন্দন ফিরে আসতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগেছিল। সংকটাপন্ন অবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে টেক্সাস চিলড্রেনস হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তাকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়।   হাসপাতালে চিকিৎসার একপর্যায়ে এই ঘটনাটি একটি আইনি লড়াইয়ের জন্ম দেয়। চিকিৎসকরা যখন ধারণা করেন যে অ্যানেলিস ‘ব্রেন-ডেড’, তখন তারা সেই অনুযায়ী পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেন। টেক্সাসের আইন অনুযায়ী এ ধরনের ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা লাইফ সাপোর্ট খুলে নিতে পারেন। কিন্তু শিশুটির বাবা-মা তাদের দৃঢ় ধর্মীয় বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ‘ব্রেন-ডেড’ পরীক্ষা ঠেকাতে মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি সে সময় ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করে এবং টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনও শিশুটির বাবা-মায়ের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তাদের এই লড়াইয়ের পাশে দাঁড়ান।   পরবর্তীতে জুন মাসের শেষের দিকে অ্যানেলিসকে লুইজিয়ানার অচসনার চিলড্রেনস হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে হাইপারবারিক অক্সিজেন ও স্টেম সেল চিকিৎসার মতো উন্নত পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করে তাকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা করছিল পরিবার। কিছুদিন আগে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতিও দেখা গিয়েছিল। কিন্তু সব চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমায় শিশুটি। তার চিকিৎসায় খোলা তহবিল সংগ্রহের পেজটিতে এরই মধ্যে ১ লাখ ১৮ হাজার ডলারের বেশি অনুদান জমা পড়েছে। আগামী বুধবার হিউস্টনের একটি ব্যাপটিস্ট চার্চে অ্যানেলিসের স্মরণে একটি বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় পানিতে ডুবে ‘মৃত’ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর মর্গে শ্বাস নিতে শুরু করল ১৮ মাসের শিশু
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় পানিতে ডুবে ‘মৃত’ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর মর্গে শ্বাস নিতে শুরু করল ১৮ মাসের শিশু

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় পারিবারিক সুইমিং পুলে ডুবে যাওয়ার পর এক দেড় বছর বয়সী শিশুকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে কয়েক ঘণ্টা পর হাসপাতালের মর্গে তাকে শ্বাস নিতে দেখা যায়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় শিশুটির মা-বাবার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ফৌজদারি অভিযোগ গঠন করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গিলবার্ট পুলিশের পক্ষ থেকে অবহেলার অভিযোগ আনার সুপারিশ করা হলেও, ম্যারিকোপা কাউন্টির অ্যাটর্নি র‍্যাচেল মিচেল জানিয়েছেন যে, এই মামলায় সন্দেহাতীতভাবে দোষ প্রমাণের সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ।   বুধবার অ্যাটর্নি মিচেল জানান, পরিবারটি শিশু সুরক্ষায় একাধিক চাইল্ডপ্রুফ লক ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। ঘটনার সময় বাড়িতে একাধিক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন এবং প্রত্যেকেই ভেবেছিলেন অন্য কেউ হয়তো শিশুটির খেয়াল রাখছেন। এছাড়া, তদন্তে বাবা-মায়ের কোনো ধরনের সুস্পষ্ট অস্বাভাবিক আচরণের প্রমাণও পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি পানিতে ডুবে যাওয়ার খবর পেয়ে উদ্ধারকারীরা ওই বাড়িতে পৌঁছান। জীবন রক্ষাকারী প্রাথমিক চিকিৎসার পর শিশুটিকে মার্সি গিলবার্ট মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে প্রায় এক ঘণ্টা পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   তবে ঘটনার মোড় ঘোরে এর প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর। পুলিশকে জানানো হয়, মর্গে রাখা শিশুটি শ্বাস নিচ্ছে! দ্রুত তাকে হেলিকপ্টারে করে অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং বিস্ময়করভাবে শিশুটি বেঁচে যায়। এ ঘটনায় মার্সি গিলবার্ট মেডিকেল সেন্টার বিস্তারিত কিছু না জানালেও এটিকে একটি "হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি" বলে উল্লেখ করেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঘটনাটি থেকে শিক্ষা নিতে এবং নিজেদের চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত করতে তারা পুরো প্রক্রিয়াটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেছে।   এদিকে, বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) হাতে আসা নথিতে দেখা গেছে, হাসপাতালে উপস্থিত গিলবার্ট পুলিশের কর্মকর্তারা শিশুটির শরীরে একাধিকবার প্রাণের লক্ষণ দেখতে পেয়েছিলেন বলে দাবি করেছিলেন। তা সত্ত্বেও শিশুটিকে মর্গের 'কোল্ড রুমে' নিয়ে যাওয়া হয়। ওই নথিতে পুলিশ কর্মকর্তা ও এক চিকিৎসকের মধ্যে উত্তেজনার বিষয়টিও উঠে এসেছে। জানা যায়, ওই চিকিৎসক এক পুলিশ কর্মকর্তাকে বলেছিলেন, "দয়া করে আপনি আপনার কাজ করুন এবং আমাকে আমার কাজ করতে দিন। আমি অকারণে মেডিকেল কলেজে পড়িনি।"

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ড. ফেরদৌস সালেহীনের লেখা সূরা আল-ফাতিহার তাফসির ও জীবনের প্রতিফলনবিষয়ক নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন বা উপস্থাপনা। ছবি: সংগৃহীত

সূরা ফাতিহার সাত আয়াত যেভাবে বদলে দিল ড. ফেরদৌস সালেহীনের জীবনদৃষ্টি

অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১৪:০