- প্রচ্ছদ
- Topic
স্কুলবাস
নিউইয়র্ক সিটির সরকারি গাড়িতে অতিরিক্ত গতিতে চলাচল নিয়ন্ত্রণে আরও বড় পরিসরে প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হচ্ছে। আগামী তিন বছরে আরও ২ হাজার সরকারি গাড়িতে ‘ইন্টেলিজেন্ট স্পিড অ্যাসিস্ট্যান্স’ (আইএসএ) প্রযুক্তি যুক্ত করা হবে। এর ফলে সব মিলিয়ে সিটির ৩ হাজার গাড়ি এই ব্যবস্থার আওতায় আসবে। সড়কে পথচারী, সাইকেল আরোহী ও গাড়িচালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সরকারি গাড়ির গতিসীমা লঙ্ঘনের প্রবণতা কমানো এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এবং ডিপার্টমেন্ট অব সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেসের (ডিসিএএস) কমিশনার ইউমে কিতাসেই এ সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছেন। কুইন্স থিয়েটারে অনুষ্ঠিত সিটির ১১তম বার্ষিক ভিশন জিরো ফ্লিট সেফটি ফোরামে এ ঘোষণা আসে। একই অনুষ্ঠানে ১০০টি স্কুলবাসে পথচারীদের সতর্ক করার প্রযুক্তি পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের পরিকল্পনাও জানানো হয়। আইএসএ প্রযুক্তির কাজ হলো গাড়ির গতি নির্ধারিত সীমার মধ্যে রাখতে সহায়তা করা। কোনো গাড়ি স্থানীয়ভাবে নির্ধারিত গতিসীমা কিংবা ডিসিএএসের বেঁধে দেওয়া সীমা অতিক্রম করলে এই প্রযুক্তি গাড়ির গতি আরও বাড়ানোর ক্ষমতা সীমিত করে দেয়। এর ফলে চালকের পক্ষে নির্ধারিত সীমার বেশি গতিতে গাড়ি চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়। নিউইয়র্ক সিটি স্কুল বাস আমব্রেলা সার্ভিসেসের (এনওয়াইসিএসবিইউএস) সঙ্গে যৌথভাবে স্কুলবাসে সতর্কীকরণ প্রযুক্তির পরীক্ষাটি পরিচালনা করবে ডিসিএএস। বাস মোড় নেওয়ার সময় আশপাশে থাকা পথচারীদের সতর্ক করতে প্রযুক্তিটি কতটা কার্যকর, তা যাচাই করা হবে। মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, সড়ক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের কাছ থেকে যে মান বজায় রাখার প্রত্যাশা করা হয়, সিটির কর্মীদেরও তা অনুসরণ করতে হবে। সরকারি গাড়িবহর থেকেই নিরাপদে গাড়ি চালানোর দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চায় তাঁর প্রশাসন। ডিসিএএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে মাত্র ৫০টি গাড়িতে আইএসএ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কর্মসূচিটির পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে এক হাজারের বেশি সিটি গাড়িতে এ প্রযুক্তি রয়েছে। এসব গাড়ি সম্মিলিতভাবে এক কোটিরও বেশি মাইল চলেছে। ডিসিএএস এবং যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগের ভলপি ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেমস সেন্টারের যৌথ গবেষণায় প্রযুক্তিটির কার্যকারিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা যায়, আইএসএ প্রযুক্তি ব্যবহারের পর সংশ্লিষ্ট গাড়িগুলোতে গতিসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা ৬৪ শতাংশ কমেছে। মহাসড়কসহ বেশি গতিতে চলাচলের সড়কগুলোতে এ হার কমেছে ৮২ শতাংশ। নতুন কর্মসূচিটি মেয়রের ১০ বছর মেয়াদি সড়ক নিরাপত্তা পরিকল্পনা ‘ভিশন জিরো রিইম্যাজিনড’-এর অংশ। পাশাপাশি ২০২৬ সালের জুলাইয়ে স্বাক্ষরিত নির্বাহী আদেশ ১৯ বাস্তবায়নেও এটি ভূমিকা রাখবে। ওই নির্বাহী আদেশে জরুরি সেবার কাজে ব্যবহৃত হয় না, এমন সিটির সব ট্রাকে পথচারীদের সতর্ক করার ব্যবস্থা যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নতুন কেনা অজরুরি সেবার গাড়ি ও ট্রাকে পথচারী সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং আইএসএ প্রযুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সিটির গাড়িবহরের নিরাপত্তা তদারকিতে ডিসিএএসের ফ্লিট অফিস অব রিয়েল টাইম ট্র্যাকিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ দপ্তরের মাধ্যমে ৩০ হাজারের বেশি সরকারি গাড়ি ও স্কুলবাসের অবস্থান এবং গতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। আইএসএ প্রযুক্তি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় গতিসীমার মানচিত্র, ট্র্যাকিং ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তিও তদারক করে দপ্তরটি। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়েছে। অতিরিক্ত গতিতে চলা গাড়ির ধাক্কায় ছেলে স্যামিকে হারানো ‘ফ্যামিলিজ ফর সেফ স্ট্রিটস’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি অ্যামি কোহেন বলেন, এ ধরনের প্রযুক্তি একই রকম মর্মান্তিক ঘটনা ঠেকাতে সহায়তা করতে পারে। তবে নতুন সম্প্রসারণের আওতা আপাতত সিটির নিজস্ব গাড়িবহরের মধ্যেই সীমিত। সড়ক নিরাপত্তাকর্মী ও সিটি কাউন্সিল সদস্য লিংকন রেস্টলার বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানো ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত গাড়িতেও এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে চালক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় নিয়ন্ত্রণহীন একটি স্কুলবাস থামিয়ে ১৯ শিক্ষার্থীকে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করেছেন ২৭ বছর বয়সী মুসলিম যুবক এব্রো আহমেদ। চলন্ত বাসটির দরজা দিয়ে ভেতরে উঠে জরুরি ব্রেক টেনে সেটি থামান তিনি। এ ঘটনায় কোনো শিক্ষার্থী আহত হয়নি। নিজের সাহসী পদক্ষেপের পেছনে পবিত্র কুরআনের একটি আয়াত থেকে পাওয়া অনুপ্রেরণার কথা জানিয়েছেন আহমেদ। তাঁর এই উদ্যোগের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছেন তিনি। ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে মিনেসোটার সেন্ট পল শহরের ডেটনস ব্লাফ এলাকায়। সেখানে পরিবারের মালিকানাধীন ‘ইয়া ব্রিকস স্ন্যাকস অ্যান্ড টোব্যাকো’ নামের দোকানের বাইরে বিরতি নিচ্ছিলেন এব্রো আহমেদ। এ সময় তিনি ফুটবল খেলছিলেন এবং মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন। হঠাৎ তাঁর চোখে পড়ে, একটি হলুদ স্কুলবাস ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে। বাসটির দরজা খোলা এবং চালকের আচরণ অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় তিনি বুঝতে পারেন, ভেতরে কোনো সমস্যা হয়েছে। বাসটি কাছাকাছি আসার পর আহমেদ দেখতে পান, চালক গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, চালকের মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল এবং তিনি স্বাভাবিকভাবে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলেন না। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দ্রুত বাসটির দিকে দৌড় দেন আহমেদ। এরপর চলন্ত অবস্থাতেই খোলা দরজা দিয়ে বাসে উঠে পড়েন। সে সময় বাসের ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীদের কেউ চিৎকার করছিল, আবার কেউ আতঙ্কিত হয়ে সাহায্য চাওয়ার চেষ্টা করছিল। বাসে ওঠার পর প্রথমে সেটিকে পার্কিং গিয়ারে নেওয়ার চেষ্টা করেন আহমেদ। কিন্তু পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠায় তিনি জরুরি ব্রেক ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন। সামনের আসনে থাকা দুই ছাত্রীর হাতে নিজের মোবাইল ফোন ও চশমা দিয়ে দুই হাত খালি করেন। এরপর জরুরি ব্রেক টেনে বাসটি থামাতে সক্ষম হন। পুরো ঘটনাটি দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়। বাস থামার পর শিক্ষার্থীদের একজনকে জরুরি সহায়তার জন্য ফোন করতে বলেন তিনি। সেন্ট পল পাবলিক স্কুলস কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, বাসটিতে ব্যাটল ক্রিক মিডল স্কুলের ১৯ শিক্ষার্থী ছিল। চালকের চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতির কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে প্যারামেডিকরা পৌঁছান এবং চালককে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসা শেষে তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। অন্য একটি স্কুলবাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনায় কোনো শিক্ষার্থী কিংবা পথচারী আহত হয়নি। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আহমেদ জানান, বিপদের মুহূর্তে তাঁর মনে পবিত্র কুরআনের সুরা আল-মায়েদার ৩২ নম্বর আয়াতের কথা এসেছিল। ওই আয়াতে একজন মানুষের জীবন রক্ষাকে সমগ্র মানবজাতির জীবন রক্ষার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। আহমেদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই শিক্ষাই তাঁকে নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে অন্যদের সাহায্যে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি জানান, ব্যক্তিগত স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য নয়, সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি এবং মানুষের জীবন রক্ষার উদ্দেশ্যেই কাজটি করেছেন। তবে শুধু ধর্মীয় অনুপ্রেরণা নয়, বিপদের মুহূর্তে শান্ত থাকার ক্ষেত্রে একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজের কথাও উল্লেখ করেছেন আহমেদ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেটিএসপিকে তিনি জানান, চিকিৎসাবিষয়ক মার্কিন সিরিজ ‘গ্রেজ অ্যানাটমি’ দেখে জরুরি পরিস্থিতিতে শান্ত থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে কিছু ধারণা পেয়েছিলেন। তাঁর মতে, অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। যদিও এর আগে কখনো স্কুলবাস চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল না তাঁর। এব্রো আহমেদের মা-বাবা পূর্ব আফ্রিকার দেশ ইরিত্রিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে এসেছিলেন। আহমেদের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রেই। তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সেন্ট পল এলাকায় ছোট ব্যবসা পরিচালনা করছে। দ্য গার্ডিয়ানকে তিনি জানান, সাম্প্রতিক অভিবাসনবিষয়ক অভিযান ও স্থানীয় পরিস্থিতির কারণে তাঁদের ব্যবসায় প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে অভিবাসী পরিবার পরিচালিত ছোট ব্যবসাগুলোর জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে বলে তাঁর অভিমত। আহমেদ বলেন, এই ঘটনার মাধ্যমে ইরিত্রীয় ও পূর্ব আফ্রিকান কমিউনিটিকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে পেরে তিনি আনন্দিত। তাঁর মতে, অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে এমন একটি কাজের স্বীকৃতি পাওয়া ব্যক্তিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় কমিউনিটির পাশাপাশি বিদেশে বসবাসকারী আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকেও অভিনন্দন পেয়েছেন তিনি। ইউরোপে থাকা তাঁর এক চাচাও সংবাদমাধ্যমে খবরটি দেখে যোগাযোগ করেন। সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে স্থানীয় গণমাধ্যম উদ্যোক্তা শেলেটা ব্রান্ডিজ আহমেদকে এক হাজার ডলার উপহার দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) তাঁর পরিবারের দোকানে গিয়ে এই অর্থের প্রতীকী চেক তুলে দেওয়া হয়। এ সময় সুপারম্যানের পোশাক পরা একজন ব্যক্তিও উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় একজন সিটি কাউন্সিল সদস্য তাঁকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার আমন্ত্রণও পেয়েছেন আহমেদ। এদিকে ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থার বিষয়েও খোঁজ নিয়েছে। পরদিন স্কুলের কাউন্সেলিং টিম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তার সুযোগ দেয়। কারণ দুর্ঘটনা না ঘটলেও চলন্ত বাসে চালকের হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা শিশুদের জন্য আতঙ্কজনক অভিজ্ঞতা ছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় আহমেদের প্রশংসা করেছে। মিনেসোটার এই ঘটনা দেখিয়েছে, জরুরি মুহূর্তে একজন সাধারণ মানুষের দ্রুত সিদ্ধান্ত কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। চালকের অসুস্থতার কারণে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়া বাসটি বড় দুর্ঘটনার মুখে পড়তে পারত। তবে আহমেদের তৎপরতায় সেটি নিরাপদে থেমে যায়। নিজের সাহসিকতার জন্য প্রশংসা পেলেও তিনি জানিয়েছেন, মানুষের জীবন রক্ষার সুযোগ পেয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন মাত্র। তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাসের ১৯ শিক্ষার্থী নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পেরেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের সেন্ট পলে চালক অসুস্থ হয়ে পড়ায় নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলতে থাকা একটি স্কুলবাস থামিয়ে ১৯ শিশুকে নিরাপদ রাখতে সহায়তা করেছেন ২৭ বছর বয়সী ইব্রো আহমেদ। বাসটির চালকের শারীরিক অবস্থা খারাপ দেখে দ্রুত সেটিতে উঠে জরুরি ব্রেক টানেন তিনি। এ ঘটনায় বাসের কোনো শিশু বা সড়কে থাকা কেউ আহত হয়নি। আহমেদ জানিয়েছেন, বিপদের মুহূর্তে তাঁর মনে পড়েছিল পবিত্র কোরআনের সেই আয়াতের কথা, যেখানে একজন মানুষের প্রাণ রক্ষা করাকে সমগ্র মানবজাতির প্রাণ রক্ষার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সোমবার পরিবারের মালিকানাধীন একটি দোকানের সামনে বিরতির সময় ফুটবল খেলছিলেন এবং মুঠোফোন দেখছিলেন আহমেদ। এ সময় তিনি একটি হলুদ স্কুলবাসকে দরজা খোলা অবস্থায় রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যেতে দেখেন। চালকের মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে দেখে তাঁর সন্দেহ হয়, চালক গুরুতর কোনো শারীরিক সমস্যায় পড়েছেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দেরি না করে বাসটির দিকে দৌড়ে যান তিনি এবং চলন্ত অবস্থাতেই ভেতরে উঠে পড়েন। বাসে উঠে প্রথমে গিয়ার পরিবর্তন করে গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করেন আহমেদ। কিন্তু ভেতরে আতঙ্কিত শিশুদের চিৎকার শুনে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয় তাঁকে। দুই হাত মুক্ত রাখতে নিজের মুঠোফোন ও চশমা সামনের আসনে থাকা দুই শিশুর কাছে দিয়ে দেন তিনি। এরপর বাসটির জরুরি ব্রেক টেনে সেটি থামাতে সক্ষম হন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত দোকানের নজরদারি ক্যামেরার ভিডিওতে তাঁর বাসে উঠে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে। সেন্ট পলের সরকারি স্কুল কর্তৃপক্ষ শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানায়, ওই দিন স্কুলবাসে চালকের শারীরিক জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় জরুরি চিকিৎসাকর্মীদের ডাকা হয়েছিল। বাসটিতে থাকা ১৯ শিক্ষার্থীকে পরে অন্য একটি বাসে তুলে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়। অসুস্থ চালককে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং তিনি বাড়িতে বিশ্রামে রয়েছেন। পুরো ঘটনায় কোনো শিক্ষার্থী আহত হয়নি বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আহমেদ দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, পবিত্র কোরআনের সূরা আল-মায়িদার ৩২ নম্বর আয়াতে একজন মানুষের জীবন রক্ষাকে সমগ্র মানবজাতির জীবন রক্ষার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। বিপদের মুহূর্তে সেই শিক্ষা তাঁর মনে এসেছিল বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, কাজটি তিনি নিজের স্বার্থে করেননি, বরং সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির জন্য নিঃস্বার্থভাবে অন্যদের সাহায্য করতে চেয়েছেন। চিকিৎসাবিষয়ক টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘গ্রে’স অ্যানাটমি’ থেকেও সংকটের সময় শান্ত থাকার শিক্ষা পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। আহমেদের বাবা-মা পূর্ব আফ্রিকার দেশ ইরিত্রিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে এসেছেন। সেন্ট পলে তাঁদের পারিবারিক দোকান পরিচালনা করা সাম্প্রতিক সময়ে কঠিন হয়ে উঠেছে বলে জানান আহমেদ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযানের সময় সেন্ট পল ও পার্শ্ববর্তী মিনিয়াপোলিস এলাকায় কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্মকর্তাদের তৎপরতা বাড়ার পর দোকানের ব্যবসা কমেছে বলেও দাবি করেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর এই উদ্যোগ ইরিত্রীয় ও পূর্ব আফ্রিকান সম্প্রদায়ের মানুষকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করেছে বলে মনে করেন আহমেদ। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আহমেদ ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছেন। স্থানীয় একটি বিপণন ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান তাঁকে সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে এক হাজার ডলার দিয়েছে। এ ছাড়া তাঁকে একটি আলোচনাসভায় বক্তব্য দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং স্থানীয় এক নগর পরিষদ সদস্যও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ইরিত্রীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে তাঁর কাজটি ইতিবাচকভাবে আলোচিত হওয়ায় গর্ব বোধ করছেন বলে জানান আহমেদ। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, সেন্ট পল পাবলিক স্কুলস।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের সেন্ট পলে ১৯ শিশুকে বহনকারী একটি স্কুলবাস নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়লে সাহসিকতার পরিচয় দেন ২৭ বছর বয়সী এব্রো আহমেদ। ২১ অক্টোবর ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় তাঁর দ্রুত পদক্ষেপে সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আহমেদ তখন পরিবারের তামাকজাত পণ্যের দোকানে কাজের বিরতিতে ছিলেন। এ সময় তিনি দেখতে পান, ব্যাটল ক্রিক মিডল স্কুলের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই এগিয়ে যাচ্ছে। বাসচালক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে আহমেদ চলন্ত বাসটির পেছনে ছুটতে শুরু করেন। এরপর বাসে উঠে সেটি থামানোর চেষ্টা করেন। বাস চালানোর পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও তিনি সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং শেষ পর্যন্ত বাসটি নিরাপদে থামাতে সক্ষম হন। বাসের ভেতরে থাকা শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। তবে সৌভাগ্যক্রমে এ ঘটনায় কোনো শিশু আহত হয়নি বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আহমেদ শিশুদের জরুরি সেবায় ফোন করার নির্দেশ দেন এবং অসুস্থ চালককে সহায়তার চেষ্টা করেন। চালককে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।আহমেদের এই সাহসিকতার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা পেয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, বিপদের মুহূর্তে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আহমেদের এই পদক্ষেপ আবারও মনে করিয়ে দেয়, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সাহস অনেক মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারে। ১৯ শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁর ভূমিকা স্থানীয় মানুষের কাছে মানবিকতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের সেন্ট পলে চালক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে যাওয়া একটি স্কুলবাস থামিয়ে প্রায় ২০ শিশুকে রক্ষা করেছেন ২৭ বছর বয়সী এব্রো আহমেদ। গত সোমবার, ১৯ অক্টোবর, একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বাসটির দরজা খোলা দেখে তাঁর সন্দেহ হয়। ভেতরে তাকিয়ে চালককে খিঁচুনির মতো উপসর্গে আক্রান্ত হতে দেখে তিনি দ্রুত বাসটির দিকে ছুটে যান। চলন্ত বাসে উঠে জরুরি ব্রেক টেনে সেটি থামান তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে আহমেদ জানান, শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই তিনি ঝুঁকি নিয়ে এই পদক্ষেপ নেন। ঘটনার একটি ভিডিও স্থানীয় দোকান ইয়া ব্রিকস স্ন্যাকস অ্যান্ড টোব্যাকোর নজরদারি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। ভিডিওতে আহমেদকে বাসটির দিকে দৌড়ে গিয়ে তাতে উঠতে দেখা যায়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বাসের ভেতরে তখন কয়েকজন শিশু আতঙ্কে চিৎকার করছিল, আবার কেউ কেউ শান্ত থাকার চেষ্টা করছিল। সামনের আসনে বসা দুই ছাত্রীও তাঁকে পরিস্থিতি সামলাতে সাহায্য করে। নিজের ফোন ও চশমা তাদের একজনের কাছে রেখে তিনি বাসটি থামানোর কাজে মনোযোগ দেন। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। আহমেদ জানিয়েছেন, এমন জরুরি পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রাখতে দীর্ঘদিনের চিকিৎসাবিষয়ক টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘গ্রে’স অ্যানাটমি’ থেকেও কিছুটা অনুপ্রেরণা পেয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, ধারাবাহিকটি থেকে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়, সে বিষয়ে কিছু ধারণা পাওয়া যায়। তবে তাঁর কোনো চিকিৎসাবিষয়ক প্রশিক্ষণ রয়েছে বলে জানা যায়নি। এবিসি নিউজকে তিনি বলেন, শিশুদের জীবন রক্ষার বিষয়টি তাঁর কাছে দায়িত্বের মতো মনে হয়েছিল। এমনকি এ কাজে নিজের জীবন ঝুঁকিতে পড়লেও তাঁর কাছে তা সার্থক হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি। সেন্ট পলের সরকারি স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাসটিতে চালকের চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে চিকিৎসাকর্মীরা পৌঁছান। এ ঘটনায় কোনো শিক্ষার্থী বা অন্য কারও আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। পরে বাসের শিক্ষার্থীদের অন্য একটি বাসে তুলে বাড়িতে পাঠানো হয়। ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থার খোঁজ নেন স্কুলের পরামর্শকেরা। বাসটিতে ব্যাটল ক্রিক মিডল স্কুলের শিক্ষার্থীরা ছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। সূত্র: এবিসি নিউজ, সিবিএস মিনেসোটা।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের গুইনেট কাউন্টিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি স্কুলবাসে অশালীন যৌন আচরণের অভিযোগে সাবেক এক বাসচালককে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে পাঁচ বছর তাকে কারাগারে কাটাতে হবে। পাশাপাশি তাকে আজীবনের জন্য শিশু-যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকতে হবে এবং কোনো অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না। গুইনেট কাউন্টি জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম জানায়, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম স্টিভেন এডওয়ার্ড উইলকিন্স (৬৭)। তিনি ২০২৩ সালে গুইনেট কাউন্টির একটি স্কুল জেলায় বাসচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চারটি ভিন্ন দিনে সুওয়ানি এলিমেন্টারি স্কুল-এর বাস লেনে অপেক্ষা করার সময় বাসের ভেতরে তিনি অশালীন যৌন আচরণ করেন। প্রতিটি ঘটনায় বাসে অন্তত একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। বিচার চলাকালে প্রসিকিউশন আদালতে বাসের নিরাপত্তা ক্যামেরার ভিডিও উপস্থাপন করে। ভিডিওতে দেখা যায়, বিভিন্ন দিনে তিনি দুই মিনিট থেকে প্রায় ২০ মিনিট পর্যন্ত ওই অশালীন আচরণে লিপ্ত ছিলেন। ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০২৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন এক অভিভাবক নিজের সন্তানকে স্কুলবাসে তুলে দেওয়ার সময় চালকের সন্দেহজনক আচরণ লক্ষ্য করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। এরপর তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের ভিত্তিতে স্টিভেন উইলকিন্সের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ গঠনের পরই তাকে স্কুল জেলা থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়। বিচার শেষে আদালত তাকে শিশু শ্লীলতাহানির ছয়টি অভিযোগ এবং প্রকাশ্যে অশালীন আচরণের চারটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। তবে চার দিনের ঘটনায় মোট কতজন শিক্ষার্থী তার আচরণের মুখোমুখি হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। একইভাবে কারাদণ্ডের পর অবশিষ্ট ১৫ বছরের প্রবেশনের বিস্তারিত শর্তও প্রকাশ করা হয়নি। গুইনেট কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি প্যাটসি অস্টিন-গ্যাটসন এক বিবৃতিতে বলেন, অভিযুক্তের আচরণ "একেবারেই জঘন্য এবং অগ্রহণযোগ্য।" তিনি বলেন, "আমরা সব ধরনের ভুক্তভোগীর সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, বিশেষ করে যারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। আগামী ২০ বছর এই আসামির ওপর কঠোর নজরদারি থাকবে এবং তাকে সারাজীবন তার কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহির মধ্যে থাকতে হবে।" আদালতের রায় অনুযায়ী, পাঁচ বছরের কারাভোগের পর উইলকিন্সকে প্রবেশনের আওতায় থাকতে হবে। এছাড়া আজীবনের জন্য শিশু-যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হবে এবং তিনি কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না। সূত্র: গুইনেট কাউন্টি জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।