বিশ্বজুড়ে উচ্চশিক্ষার স্কলারশিপ খুঁজে পাওয়ার ৫ নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট, যেভাবে করবেন আবেদন
বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখেন অনেক শিক্ষার্থী। কিন্তু পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে অনেকেই সময়মতো উপযুক্ত স্কলারশিপের খোঁজ পান না। অথচ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের অসংখ্য স্কলারশিপের তথ্য অনলাইনে পাওয়া যায়। প্রয়োজন শুধু সঠিক জায়গায় খোঁজ করার দক্ষতা।
স্কলারশিপ পাওয়ার প্রথম ধাপ হলো নিজের যোগ্যতা ও আগ্রহের সঙ্গে মিল থাকা সুযোগগুলো খুঁজে বের করা। অনেক শিক্ষার্থী এখনো জানেন না কোন কোন প্ল্যাটফর্ম থেকে আন্তর্জাতিক স্কলারশিপের তথ্য পাওয়া যায়। তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উচ্চশিক্ষার সুযোগ খুঁজতে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।
Studyportals Scholarship Search
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্কলারশিপ খুঁজে পাওয়ার জন্য Studyportals Scholarship Search একটি জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম। এখানে দেশ, বিষয় এবং ডিগ্রির ধরন অনুযায়ী স্কলারশিপ খোঁজা যায়।
WeMakeScholars
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি বড় স্কলারশিপ ডাটাবেজ। এখানে মাস্টার্স, পিএইচডি এবং বিভিন্ন দেশের সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক স্কলারশিপের তথ্য পাওয়া যায়। শিক্ষার্থীরা নিজেদের একাডেমিক যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন সুযোগ খুঁজে নিতে পারেন।
DAAD Scholarship Database
জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার জন্য আগ্রহী শিক্ষার্থীদের কাছে DAAD Scholarship Database একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। জার্মান একাডেমিক এক্সচেঞ্জ সার্ভিস (DAAD) পরিচালিত এই প্ল্যাটফর্মে জার্মানির বিভিন্ন স্কলারশিপ ও গবেষণার সুযোগ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।
Scholars4Dev
সম্পূর্ণ অর্থায়িত (Fully Funded) এবং আংশিক অর্থায়িত আন্তর্জাতিক স্কলারশিপের তথ্য খুঁজে পাওয়ার জন্য Scholars4Dev একটি পরিচিত প্ল্যাটফর্ম। দেশ, ডিগ্রি ও শিক্ষার স্তর অনুযায়ী এখানে সুযোগগুলো সাজানো থাকে।
Opportunity Desk
স্কলারশিপ ছাড়াও ফেলোশিপ, এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম, ইন্টার্নশিপ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সুযোগের নিয়মিত আপডেট প্রকাশ করে Opportunity Desk। বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি কার্যকর তথ্যভাণ্ডার হিসেবে কাজ করে।
তবে শুধু ওয়েবসাইটের নাম জানলেই হবে না, সঠিকভাবে সার্চ করাও গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণ হিসেবে Opportunity Desk ব্যবহার করে সহজেই নিজের জন্য উপযুক্ত সুযোগ খুঁজে বের করা যায়।
প্রথমে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে সার্চ অপশনে যেতে হবে। এরপর নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী কীওয়ার্ড লিখতে হবে। যেমন— Australia Scholarship, Japan Scholarship, Fully Funded Scholarship, Master's Scholarship, PhD Scholarship অথবা Erasmus Mundus।
সার্চ করার পর পাওয়া প্রতিটি স্কলারশিপের তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে দেখতে হবে আবেদনকারীর যোগ্যতা (Eligibility), কী ধরনের সুবিধা দেওয়া হবে (Benefits), প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (Required Documents), আবেদনের শেষ সময় (Deadline) এবং আবেদন করার অফিসিয়াল লিংক।
আবেদনের ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ— এসব ওয়েবসাইট সাধারণত নিজেরা কোনো আবেদন গ্রহণ করে না। তারা শুধু বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সুযোগগুলো এক জায়গায় প্রকাশ করে। আবেদন করার আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে তথ্য যাচাই করতে হবে।
স্কলারশিপ খোঁজার সময় শুধু দেশের নাম লিখে সার্চ না করে নির্দিষ্ট ফরম্যাট ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। যেমন:
Fully Funded Japan Master's Scholarship
Australia PhD Scholarship
Study in UK Scholarship
Erasmus Mundus Scholarship
এ ছাড়া আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য Fully Funded Scholarship 2027, Australia Awards Scholarship, MEXT Scholarship এবং Chevening Scholarship-এর মতো জনপ্রিয় প্রোগ্রামগুলো নিয়েও নিয়মিত খোঁজ রাখা যেতে পারে।
উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ পাওয়া শুধু ভাগ্যের বিষয় নয়, বরং সঠিক তথ্য খোঁজা, সময়মতো প্রস্তুতি নেওয়া এবং নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মিল থাকা সুযোগে আবেদন করার ওপর অনেকটাই নির্ভর করে। তাই শিক্ষার্থীদের উচিত পড়াশোনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সুযোগ সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ রাখা এবং আগেভাগেই প্রস্তুতি শুরু করা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালে গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বাজেট, পরিবারের আকার ও ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী রয়েছে নানা ধরনের বিকল্প। তবে গাড়ির বিজ্ঞাপনে যে দাম দেখা যায়, সেটিই সাধারণত চূড়ান্ত খরচ নয়। এর সঙ্গে কর, মালিকানা হস্তান্তর, নিবন্ধন, গাড়ি পরিবহনের খরচ এবং বীমার মতো অতিরিক্ত ব্যয় যোগ হতে পারে। তাই নতুন প্রবাসীদের গাড়ি কেনার আগে মোট খরচের হিসাব করা জরুরি। ছোট আকারের সেডানের মধ্যে টয়োটা করোলা ও হোন্ডা সিভিক জনপ্রিয়। ২০২৬ সালের টয়োটা করোলার প্রাথমিক মূল্য ২৩ হাজার ১২৫ ডলার থেকে শুরু। করোলা হাইব্রিডের দাম শুরু ২৪ হাজার ৯৭৫ ডলার থেকে। হোন্ডা সিভিকের ২০২৬ সালের সেডান মডেলের প্রাথমিক মূল্য ২৪ হাজার ৬৯৫ ডলার। আর সিভিক হাইব্রিডের দাম শুরু ২৯ হাজার ৩৯৫ ডলার থেকে। কম বাজেটের নতুন গাড়ির মধ্যে নিসান সেন্ট্রাও একটি বিকল্প। এর প্রাথমিক মূল্য ২২ হাজার ৮৯০ ডলার থেকে শুরু। তবে এই দাম মূলত প্রস্তুতকারকের নির্ধারিত প্রাথমিক মূল্য। এর সঙ্গে গাড়ি সরবরাহের খরচ, কর, মালিকানা হস্তান্তর, লাইসেন্স, নিবন্ধন এবং অতিরিক্ত সুবিধার খরচ যোগ হতে পারে। মাঝারি আকারের সেডানের মধ্যে ২০২৬ সালের হোন্ডা অ্যাকর্ডের প্রাথমিক মূল্য ২৮ হাজার ৩৯৫ ডলার। অ্যাকর্ড হাইব্রিডের দাম শুরু ৩৩ হাজার ৭৯৫ ডলার থেকে। যারা জ্বালানি খরচ কমাতে চান, তাদের কাছে হাইব্রিড মডেলটি আকর্ষণীয় হতে পারে। পরিবারের সদস্য বেশি হলে অনেকেই এসইউভি বেছে নেন। ২০২৬ সালের টয়োটা আরএভি৪-এর প্রাথমিক মূল্য ৩১ হাজার ৯০০ ডলার। বিভিন্ন মডেল ও সুবিধা অনুযায়ী এর দাম ৪৩ হাজার ৩০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। নতুন আরএভি৪-এ হাইব্রিড ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড সংস্করণও রয়েছে। পুরাতন গাড়ির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট একটি দাম বলা কঠিন। একই বছরের একই মডেলের গাড়ির দামও মাইলেজ, দুর্ঘটনার ইতিহাস, রক্ষণাবেক্ষণের রেকর্ড, মালিকানার কাগজপত্র, মডেলের ধরন এবং গাড়ির সামগ্রিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে অনেকটা পরিবর্তিত হয়। বিশেষ করে ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের পুরাতন গাড়ি কেনার সময় শুধু বিক্রেতার দেওয়া দাম দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। গাড়ির পরিচয় শনাক্তকারী নম্বর বা ভিআইএন যাচাই, গাড়ির ইতিহাসের প্রতিবেদন দেখা, দুর্ঘটনার রেকর্ড পরীক্ষা এবং কেনার আগে অভিজ্ঞ মেকানিক দিয়ে গাড়িটি পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ। পুরাতন গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে কারখানা অনুমোদিত ব্যবহৃত গাড়িও বিবেচনা করা যায়। এসব গাড়ি সাধারণত নির্দিষ্ট মানদণ্ডে পরীক্ষা করা হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ওয়ারেন্টিও থাকে। তবে একই বয়সের সাধারণ পুরাতন গাড়ির তুলনায় এ ধরনের গাড়ির দাম কিছুটা বেশি হতে পারে। গাড়ি কেনার সময় বিজ্ঞাপনে দেওয়া প্রাথমিক দামকে চূড়ান্ত দাম ধরে নেওয়া ঠিক নয়। গাড়ির মূল দামের সঙ্গে রাজ্যভেদে কর, মালিকানা হস্তান্তর, নিবন্ধন, লাইসেন্স, গাড়ি সরবরাহের খরচ এবং ডিলারের বিভিন্ন ফি যুক্ত হতে পারে। ফলে ২০ হাজার ডলারের একটি গাড়ি কিনতে শেষ পর্যন্ত ২০ হাজার ডলারের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি অর্থ খরচ হতে পারে। এর বাইরে রয়েছে গাড়ির বীমা। চালকের বয়স, গাড়ি চালানোর ইতিহাস, বসবাসের এলাকার জিপ কোড, গাড়ির মডেল, বীমার ধরন এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে মাসিক বীমার খরচ নির্ধারিত হয়। তাই গাড়ি কেনার আগে কয়েকটি বীমা কোম্পানির কাছ থেকে মূল্য জেনে নেওয়া ভালো। নতুন প্রবাসীদের জন্য কম দামে পুরাতন গাড়ি কেনা শুরুতে সুবিধাজনক মনে হতে পারে। তবে গাড়ির বয়স বেশি হলে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে অতিরিক্ত খরচ হতে পারে। অন্যদিকে নতুন গাড়ির মাসিক কিস্তি তুলনামূলক বেশি হলেও সাধারণত নতুন গাড়িতে প্রস্তুতকারকের ওয়ারেন্টি থাকে এবং শুরুতে বড় ধরনের মেরামতের ঝুঁকি কম থাকে। তাই ২০২৬ সালে আমেরিকায় গাড়ি কেনার সময় শুধু গাড়ির দাম নয়, মাসিক কিস্তি, কর, নিবন্ধন, বীমা, জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সম্ভাব্য মেরামতের খরচও হিসাবের মধ্যে রাখা উচিত। নিজের বাজেট অনুযায়ী নির্ভরযোগ্য পুরাতন গাড়ি নাকি নতুন গাড়ি, কোনটি বেশি সুবিধাজনক হবে, সেটিই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ইরানে যুদ্ধ শুরু করায় অনুতপ্ত নই! আবার সুযোগ পেলেও একই সিদ্ধান্ত নিতাম, ট্রাম্পের দাবি
টেক্সাসের নতুন শিক্ষাক্রমে দাসপ্রথা ও জিহাদসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিতর্ক, মুসলমানদের আপত্তি
১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্তি ঠেকাতে ক্যালিফোর্নিয়ায় নতুন আইন
যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজের গড় সুদের হার আবারও ৭ শতাংশের ওপরে উঠেছে। ১০ সেপ্টেম্বর দৈনিক হিসাবে হার বেড়ে ৭ দশমিক ০৭ শতাংশে পৌঁছায়, যা এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবার ৭ শতাংশের সীমা অতিক্রম। এর ফলে বাড়ি কিনতে আগ্রহী ক্রেতাদের জন্য মাসিক মর্টগেজ পেমেন্টের চাপ আরও বাড়ছে। মর্টগেজ নিউজ ডেইলির দৈনিক সূচক অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজের হার ছিল ৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এক দিনের ব্যবধানে তা আরও ১০ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৭ দশমিক ০৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এক বছর আগে একই সূচকে হার ছিল ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরে হার বেড়েছে প্রায় ৭৮ বেসিস পয়েন্ট। তবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাব পদ্ধতি আলাদা হওয়ায় মর্টগেজ রেটের সংখ্যায় কিছু পার্থক্য রয়েছে। ফ্রেডি ম্যাকের সাপ্তাহিক হিসাবে ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজের গড় হার ছিল ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ, যা আগের সপ্তাহের ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ থেকে বেড়েছে। মর্টগেজ রেটের এই ঊর্ধ্বগতির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের ফলন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ। ১০ বছরের ট্রেজারি ইয়েল্ড ১০ সেপ্টেম্বর ৪ দশমিক ৯ শতাংশের কাছাকাছি বা তার ওপরে ওঠে। এই ইয়েল্ড মর্টগেজ রেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাজার সূচক হিসেবে কাজ করে। মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ, জ্বালানি তেলের বাড়তি দাম এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে বন্ড মার্কেটেও। ১০ বছরের ট্রেজারি ইয়েল্ডের ঊর্ধ্বগতি শেষ পর্যন্ত বাড়ির ঋণের খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। উচ্চ মর্টগেজ রেটের প্রভাব ইতোমধ্যে আবাসন বাজারেও দেখা যাচ্ছে। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যমান বাড়ির বিক্রি আগের মাসের তুলনায় ২ শতাংশ কমে এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। একই সময়ে বাজারে বিক্রির জন্য বাড়ির সরবরাহ বাড়লেও উচ্চ ঋণ খরচ অনেক ক্রেতাকে অপেক্ষায় রাখছে। বাড়ি কিনতে চাওয়া ক্রেতাদের জন্য এর অর্থ হলো একই দামের বাড়ির ক্ষেত্রেও মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট আগের তুলনায় বেশি হতে পারে। বিশেষ করে ডাউন পেমেন্ট কম হলে সুদের হার বৃদ্ধির প্রভাব আরও বেশি পড়তে পারে। মর্টগেজ রেট আবার ৭ শতাংশের ওপরে ওঠায় যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে চাপ আরও বাড়ল। চলতি বছরের শুরুতে সুদের হার কমে ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি তৈরি হলেও সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতি সেই সুবিধার বড় অংশ কমিয়ে দিয়েছে।
গ্রিন কার্ড থাকলেই ফেডারেল চাকরি নয়, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি চাকরির ৩ কৌশল
এইচ-১বি ভিসায় পাঁচ কোম্পানি নিষিদ্ধ, কোম্পানি ব্যান হলে কী হয়, জেনে নিন
নিউইয়র্কে মদ্যপ অবস্থায় টেসলা চালিয়ে নিজের বান্ধবীকেই হত্যা করলেন তরুণী
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের চায়নাটাউনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে পড়া একটি পণ্যবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ৭৭ বছর বয়সী এক পথচারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৫২ ও ৭১ বছর বয়সী দুই নারী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ৬৬ বছর বয়সী ট্রাকচালককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ১০টা ২০ মিনিটে ব্যস্ত বোওয়ারি স্ট্রিট ও ক্যানাল স্ট্রিটের সংযোগস্থলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) তথ্য অনুযায়ী, চালক ম্যানহাটন ব্রিজ থেকে নেমে ক্যানাল স্ট্রিট দিয়ে পশ্চিম দিকে যাচ্ছিলেন। পরে বোওয়ারি স্ট্রিটে ডান দিকে মোড় নেওয়ার সময় ট্রাকটি হঠাৎ ফুটপাতে উঠে যায় এবং সেখানে থাকা তিন পথচারীকে ধাক্কা দেয়। ট্রাকটিতে কাঠের প্যালেট বোঝাই ছিল। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলের ছবিতে পথচারীদের রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। গুরুতর আহত ৭৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে দ্রুত বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আহত দুই নারীকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে পুলিশ। পথচারীদের ধাক্কা দেওয়ার পরও ট্রাকটি সঙ্গে সঙ্গে থামেনি। পুলিশ জানিয়েছে, চালক বোওয়ারি স্ট্রিট ধরে আরও এগিয়ে হেস্টার স্ট্রিটের কাছে একটি সেডান গাড়িতে ধাক্কা দেওয়ার পর থামেন। ঘটনাটির সময় ট্রাকটির সামনের কাচ ভেঙে যায় এবং চারটি টায়ারই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কাঠের প্যালেট বোঝাই ট্রাকটিকে আশপাশের যানবাহনের তুলনায় দ্রুতগতিতে চলতে দেখা যায়। ভিডিওতে ট্রাকটির অন্য একটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগার দৃশ্যও রয়েছে। তবে পথচারীদের ধাক্কা দেওয়ার সরাসরি মুহূর্ত ভিডিওতে ধরা পড়েনি। পুলিশ জানিয়েছে, ট্রাকচালককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তার শরীরে মাদক বা অ্যালকোহলের প্রভাবের স্পষ্ট কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং চালকের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগও আনা হয়নি। এনওয়াইপিডির হাইওয়ে ডিস্ট্রিক্টের সংঘর্ষ তদন্তকারী দল ঘটনাটি তদন্ত করছে। তদন্তকারীরা ট্রাকটি কেন ফুটপাতে উঠে গেল, চালকের আচরণ, গাড়ির অবস্থা এবং দুর্ঘটনার আগে ও পরে কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখছেন। দুর্ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত ছিল এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনাস্থলটি ম্যানহাটন ব্রিজের কাছের ব্যস্ত এলাকা। ক্যানাল স্ট্রিট ও বোওয়ারির সংযোগস্থলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পথচারী ও যানবাহনের চলাচল থাকে। স্থানীয়দের কাছে এ এলাকা আগে থেকেই দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ১০১০ উইনসের প্রতিবেদনে এলাকাবাসীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ম্যানহাটন ব্রিজ থেকে নামার সময় কিছু গাড়ি দ্রুতগতিতে চলাচল করে। স্থানীয় নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ১০১০ উইনসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাইয়েও ম্যানহাটন ব্রিজ থেকে নামার পর একটি চুরি করা গাড়ির ধাক্কায় একজন সাইকেল আরোহী ও একজন পথচারী নিহত হয়েছিলেন। ফলে বৃহস্পতিবারের দুর্ঘটনার পর ওই এলাকার সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনায় নিহত ৭৭ বছর বয়সী ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ পরিবারের সদস্যদের অবহিত করার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার নাম প্রকাশ না করার নীতি অনুসরণ করছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। নিউইয়র্কে পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে বড় যানবাহন ফুটপাতে উঠে গেলে পথচারীদের গুরুতর আহত বা নিহত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। বৃহস্পতিবারের ঘটনাটি আবারও ব্যস্ত নগর সড়কে ভারী যানবাহনের চলাচল ও পথচারী নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে। তবে দুর্ঘটনার জন্য চালকের গতি, গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটি, চালকের শারীরিক অবস্থা বা অন্য কোনো কারণ দায়ী কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো একটি কারণকে দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ হিসেবে ধরে নেওয়া হচ্ছে না। এনওয়াইপিডির সংঘর্ষ তদন্তকারী দল তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে চালকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হবে কি না, সেটিও নির্ধারণ করা হবে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
এইচ-১বি ভিসার নিয়ম ভাঙায় যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ ৫ প্রতিষ্ঠান, বিপাকে পড়তে পারেন বিদেশি কর্মীরা
চাকরি হারালে ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিলের পথে ট্রাম্প প্রশাসন, ঝুঁকিতে ভারতীয় কর্মীরা