- প্রচ্ছদ
- Topic
স্পেসএক্স
যুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের জন্য নিজের মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ার দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ধনকুবের ইলন মাস্ক। আগামী বছর থেকে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য থাকলেও কোন বয়সের শিশুরা শেয়ার পাবে, কোন জন্মতারিখের শিশুরা যোগ্য হবে এবং অভিবাসী পরিবারের সন্তানরা এই সুবিধার আওতায় আসবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিভাবকদের মধ্যেও এ ধরনের উদ্যোগের সম্ভাব্য যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। মাস্কের ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে একটি করে শেয়ার দেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। তবে ‘প্রতিটি শিশু’ বলতে ঠিক কোন বয়সসীমার শিশুদের বোঝানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত শর্ত প্রকাশ করা হয়নি। ১৮ বছরের কম বয়সী সব শিশু এই সুবিধা পাবে কি না, কিংবা নির্দিষ্ট কোনো তারিখের আগে বা পরে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য আলাদা নিয়ম থাকবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। শেয়ার পাওয়ার ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব ও বসবাসের শর্তও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক শিশুদের পাশাপাশি গ্রিন কার্ডধারী পরিবারের সন্তান, অস্থায়ী ভিসায় বসবাসরত পরিবারের শিশু কিংবা অন্য দেশে জন্ম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত শিশুরা এই পরিকল্পনার আওতায় আসবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। একইভাবে, বাবা-মাকে আবেদন করতে হবে কি না, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা অন্য কোনো পরিচয়পত্র লাগবে কি না, সেটিও পরিষ্কার নয়। যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের ভবিষ্যৎ আর্থিক সঞ্চয়ের জন্য ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস’ নামে একটি বিনিয়োগ হিসাবের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে স্পেসএক্সের শেয়ার বিতরণ করা হবে কি না, কিংবা শেয়ার পাওয়ার জন্য আলাদা কোনো অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে কি না, তা নিশ্চিত করে জানানো হয়নি। তাই অভিভাবকদের জন্য এখনই কোনো নির্দিষ্ট আবেদনপ্রক্রিয়া অনুসরণ করার সুযোগ রয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যা কয়েক কোটি। প্রতিটি শিশুকে একটি করে শেয়ার দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিপুলসংখ্যক শিশু একটি বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় অংশীদার হওয়ার সুযোগ পেতে পারে। তবে শেয়ারের আর্থিক মূল্য নির্ভর করবে শেয়ারের প্রকৃত মূল্যায়ন ও বিতরণের শর্তের ওপর। শেয়ার পাওয়া মানেই নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ নিশ্চিত হওয়া নয়, কারণ ভবিষ্যতে এর মূল্য বাড়তেও পারে, কমতেও পারে। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইলন মাস্কের ঘোষণায় শেয়ার দেওয়ার পরিকল্পনার কথা থাকলেও যোগ্যতার পূর্ণাঙ্গ নিয়ম ও বিতরণপ্রক্রিয়া স্পষ্ট নয়। কোন বয়সের শিশু এই সুবিধা পাবে, জন্মতারিখের কোনো সীমা থাকবে কি না এবং অভিবাসী পরিবারের সন্তানরা এর আওতায় আসবে কি না, তা জানতে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার অপেক্ষা করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে ২০২৭ সালে নিজের মালিকানাধীন স্পেসএক্সের একটি করে শেয়ার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ইলন মাস্ক। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই ঘোষণা দেন তিনি। তবে কারা এই সুবিধা পাবে এবং কীভাবে শেয়ার হস্তান্তর করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাস্ক তাঁর পোস্টে বলেছেন, আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে নিজের স্পেসএক্সের শেয়ার থেকে একটি করে দেবেন। এটিকে ভবিষ্যতে আরও এমন উদ্যোগের প্রথমটি হিসেবেও উল্লেখ করেছেন তিনি। ঘোষণায় শিশুদের বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়নি। একইভাবে নাগরিকত্ব বা বসবাসের ভিত্তিতে যোগ্যতা ঠিক করা হবে কি না, তাও স্পষ্ট নয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী সব শিশু এই উদ্যোগের আওতায় আসবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের কোন সময় শেয়ার দেওয়া হবে, কীভাবে যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে এবং লাখ লাখ শিশুর কাছে শেয়ার হস্তান্তরের ব্যবস্থা কী হবে, সেসব বিষয়ে মাস্ক কোনো ব্যাখ্যা দেননি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক জনকল্যাণমূলক একটি তহবিলে নিজেদের ৫ শতাংশ শেয়ার দেওয়ার পরিকল্পনা জানানোর পর মাস্কের এই ঘোষণা আসে। ওই উদ্যোগের প্রতিক্রিয়ায় তিনি শেয়ার সরাসরি সাধারণ মানুষের হাতে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এরপর শিশুদের স্পেসএক্সের শেয়ার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। আপাতত এটি মাস্কের ঘোষিত প্রতিশ্রুতি। বাস্তবায়নের সময়সূচি, প্রাপকদের যোগ্যতা ও শেয়ার বিতরণের প্রক্রিয়া প্রকাশ না হওয়ায় পরিবারগুলো কীভাবে এই সুবিধা পাবে, সে প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে মহাকাশ গবেষণা ও রকেট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের একটি করে শেয়ার দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। আগামী বছর এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সোমবার, ১৯ অক্টোবর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক এ ঘোষণা দেন। তবে কীভাবে শেয়ার বিতরণ করা হবে, কোন বয়সের শিশুরা এই সুবিধা পাবে কিংবা উদ্যোগটি বাস্তবায়নে কী ধরনের শর্ত থাকবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি। মাস্ক তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “এটি হবে এমন অনেক উদ্যোগের প্রথমটি।” তাঁর এই বক্তব্য থেকে ভবিষ্যতে আরও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও পরবর্তী পরিকল্পনাগুলো কী হতে পারে, সে সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের মধ্যে স্পেসএক্সের শেয়ার বিতরণের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এর আর্থিক পরিসর হতে পারে বিশাল। দেশটিতে প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ শিশু রয়েছে বলে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রত্যেককে একটি করে শেয়ার দেওয়া হলে মোট শেয়ারের সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখে। বর্তমান শেয়ারের মূল্য ধরে এই উদ্যোগের সম্ভাব্য আর্থিক মূল্য প্রায় ১০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ কয়েক লাখ কোটি টাকার সমান, যদিও বিনিময় হারের পরিবর্তনের কারণে প্রকৃত অঙ্ক ভিন্ন হতে পারে। তবে এই অর্থকে নিশ্চিত ব্যয় বা চূড়ান্ত অনুদানের মূল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, শেয়ার বিতরণের প্রক্রিয়া, যোগ্যতা নির্ধারণ এবং কোন সময়ের বাজারদর ধরে হিসাব করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। শেয়ারের মূল্য পরিবর্তিত হলে পুরো উদ্যোগের আর্থিক মূল্যও কমবেশি হতে পারে। মাস্কের এই ঘোষণার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে স্পেসএক্সের ব্যবসায়িক অবস্থান এবং মহাকাশ প্রযুক্তিতে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকার কারণে। ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত স্পেসএক্স রকেট উৎক্ষেপণ, মহাকাশ পরিবহন এবং স্টারলিংক স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবার জন্য পরিচিত। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের মালিকানা পাওয়ার অর্থ হলো কোম্পানিটির মালিকানায় একটি অংশীদারত্ব অর্জন করা। তবে একটি শেয়ারের মালিক হওয়া মানেই কোনো শিশুর হাতে নগদ অর্থ পৌঁছে যাওয়া নয়। শেয়ারটির আর্থিক মূল্য নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সময়ে কোম্পানির বাজারমূল্য ও শেয়ারের দামের ওপর। এর আগে স্পেসএক্সের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা গুইন শটওয়েল এবং তাঁর স্বামীও যুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের জন্য কোম্পানিটির শেয়ার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তাঁদের পরিকল্পনায় ২০ লাখের বেশি শিশুর জন্য শেয়ার দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। ওই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিল শিশুদের ভবিষ্যৎ সঞ্চয় ও বিনিয়োগের জন্য তৈরি ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস কর্মসূচি। শটওয়েলের উদ্যোগটি ছিল নির্দিষ্টসংখ্যক শিশুকে লক্ষ্য করে নেওয়া একটি পরিকল্পনা। অন্যদিকে, মাস্কের নতুন ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। মাস্কের ঘোষণাটি তাই আগের উদ্যোগের তুলনায় অনেক বড় পরিসরের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে দুই পরিকল্পনা একই কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত হবে, নাকি আলাদাভাবে পরিচালিত হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। মাস্ক তাঁর পোস্টে কোনো নির্দিষ্ট সরকারি কর্মসূচির নাম উল্লেখ করেননি। ফলে শেয়ারগুলো শিশুদের বিদ্যমান বিনিয়োগ অ্যাকাউন্টে জমা হবে, নাকি সম্পূর্ণ নতুন কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমে বিতরণ করা হবে, সে প্রশ্নের উত্তরও আপাতত অজানা। এই উদ্যোগের বাস্তবায়ন নিয়ে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে। যেমন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নয় এমন শিশুরা এই সুবিধা পাবে কি না, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী সব শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, কিংবা শেয়ারের মালিকানা শিশুদের নামে সরাসরি নিবন্ধিত হবে কি না। এসব বিষয়ে মাস্ক এখনো বিস্তারিত কিছু জানাননি। শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া, অভিভাবকের ভূমিকা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিনিয়োগ পরিচালনার নিয়ম কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একটি বিষয় অবশ্য স্পষ্ট—এটি এখন পর্যন্ত ঘোষিত একটি পরিকল্পনা। শেয়ার বিতরণের নির্দিষ্ট সময়সূচি, যোগ্যতার শর্ত এবং বাস্তবায়নপদ্ধতি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি শিশু নিশ্চিতভাবে একটি করে শেয়ার পাবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। একইভাবে, প্রতিটি শিশুর হাতে কত ডলারের সম্পদ পৌঁছাবে, সেটিও এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। মাস্কের ঘোষণার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগে অংশগ্রহণের একটি বড় সম্ভাবনা সামনে এসেছে। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবে রূপ নিলে তার প্রভাব কতটা বিস্তৃত হবে, তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত শর্ত, শেয়ার হস্তান্তরের পদ্ধতি এবং স্পেসএক্সের ভবিষ্যৎ বাজারমূল্যের ওপর।
মাত্র ১৪ বছর বয়সে স্পেসএক্সের স্টারলিংক বিভাগে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন তরুণ কায়রান কাজী। সেখানে প্রায় দুই বছর কাজের পর ২০২৫ সালের আগস্টে, ১৬ বছর বয়সে নিউইয়র্কের সিটাডেল সিকিউরিটিজে কোয়ান্টিটেটিভ ডেভেলপার হিসেবে যোগ দেন তিনি। মহাকাশপ্রযুক্তি থেকে আর্থিক লেনদেনের প্রযুক্তিতে এই যাত্রার কথা উঠে এসেছে বিজনেস ইনসাইডারের সাক্ষাৎকারে। সিটাডেল সিকিউরিটিজের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও সংরক্ষিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক ট্রেডিং অবকাঠামো তৈরিতে কাজ করার জন্য কায়রানকে নেওয়া হয়। কাজটিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ও গাণিতিক সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ব্যবহার করে ট্রেডার ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সিটাডেল সিকিউরিটিজ একটি বৈশ্বিক মার্কেট মেকার প্রতিষ্ঠান, যা আর্থিক বাজারে শেয়ারসহ বিভিন্ন সম্পদের কেনাবেচা সহজ করতে ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য দেয় এবং লেনদেন সম্পন্ন করে। এটি কেন গ্রিফিনের হেজ ফান্ড সিটাডেল থেকে পৃথক প্রতিষ্ঠান। কায়রানের শিক্ষাজীবনও এগিয়েছে প্রচলিত সময়ের অনেক আগে। সান্তা ক্লারা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৩ সালের জুনে মাত্র ১৪ বছর বয়সে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ১৭২ বছরের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ স্নাতক হন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগের প্রকাশিত পরিচিতিতে বলা হয়েছে, ১০ বছর বয়সে ইন্টেল ল্যাবসের হিউম্যান এআই ল্যাবে ইন্টার্নশিপের সুযোগ পান কায়রান। সেখানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যোগাযোগে সহায়তার জন্য পূর্বানুমানভিত্তিক কথা তৈরির প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেন। স্নাতক হওয়ার প্রায় এক মাস পর স্টারলিংকে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। ফলে ২০২৩ সালের জুনে তাঁর চাকরি পাওয়ার খবর প্রকাশিত হলেও সেটিকে ওই মাসেই কাজে যোগদানের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা সঠিক নয়। বিজনেস ইনসাইডারকে কায়রান জানান, স্টারলিংকে তিনি স্যাটেলাইটের সিগন্যাল বিম কোথায় পাঠানো হবে, তা নির্ধারণের সফটওয়্যার তৈরি ও বাস্তবায়নে কাজ করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জুনিয়র প্রকৌশলী হয়েও প্রকল্পের ধারণা উপস্থাপন থেকে সফটওয়্যার চালু ও তার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ পর্যন্ত দায়িত্ব পেয়েছিলেন। পেশা পরিবর্তনের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, স্পেসএক্সে দুই বছর কাটানোর পর নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে এবং ভিন্ন কর্মপরিবেশে নিজের দক্ষতা বাড়াতে চেয়েছিলেন। আর্থিক প্রযুক্তিতে কাজের ফল দ্রুত পরিমাপ করার সুযোগও তাঁকে আকৃষ্ট করেছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন প্রজন্মের বৈদ্যুতিক স্পোর্টস কার ‘রোডস্টার’ সামনে এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা। গাড়িটির সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্য হলো, এতে যুক্ত করা হয়েছে স্পেসএক্সের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি রকেটের মতো থ্রাস্টার। এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে গাড়িটিকে বাতাসে উঠতে, মাঝআকাশে ঘুরতে এবং নিয়ন্ত্রিতভাবে মাটিতে নামতে দেখা গেছে। এমনকি বিশেষ সাকশন ব্যবস্থার সাহায্যে উল্টো করে তৈরি একটি র্যাম্পের নিচের অংশে গাড়ি চালানোর প্রদর্শনীও করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) টেক্সাসের ম্যাকগ্রেগরে স্পেসএক্সের পরীক্ষাকেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নতুন রোডস্টার প্রদর্শন করা হয়। টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের উপস্থিতিতে গাড়িটির বিভিন্ন সক্ষমতা তুলে ধরা হয়। প্রদর্শনীতে গাড়িটি বাতাসে ঘুরে যাওয়ার পাশাপাশি পার্ক করে রাখা কয়েকটি গাড়ির ওপর দিয়েও উড়ে যায়। প্রায় নয় বছর আগে প্রথমবার নতুন প্রজন্মের রোডস্টারের ধারণা সামনে এনেছিল টেসলা। এবার এর নকশা ও প্রযুক্তিতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখানো হলো। টেসলার দাবি, নতুন রোডস্টার ঘণ্টায় শূন্য থেকে ৬০ মাইল বা প্রায় ৯৭ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে এক সেকেন্ডেরও কম সময় নিতে পারে। গাড়িটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৩০ মাইলের বেশি, যা প্রায় ৩৭০ কিলোমিটারের সমান। তবে মাস্কের মতে, স্পেসএক্সের প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ার পর গাড়িটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক শুধু দ্রুতগতিতে চলার ক্ষমতা নয়; বরং বাতাসে বিভিন্ন কৌশল দেখানোর সক্ষমতা। গাড়িটিতে ব্যবহৃত হয়েছে উন্নত কোল্ড-গ্যাস থ্রাস্টার। টেসলার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক অ্যাকচুয়েটরের মাধ্যমে এসব থ্রাস্টার খুব দ্রুত ও নিখুঁতভাবে ধাক্কা বা থ্রাস্ট তৈরি করতে পারে। এর ফলে বাতাসে থাকা অবস্থায় গাড়ির ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনীয় ছোটখাটো সমন্বয় করা সম্ভব হয়। গাড়িটি মাঝআকাশে ঘুরে যাওয়া কিংবা নিয়ন্ত্রিতভাবে অবতরণের মতো কৌশল দেখাতে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো গাড়ির নিচে থাকা ফ্যানভিত্তিক সাকশন ব্যবস্থা। টেসলার প্রদর্শনীতে এই ব্যবস্থার সাহায্যে গাড়িটিকে উল্টোভাবে তৈরি র্যাম্পে আটকে থাকতে দেখা যায়। মাস্কের বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তি সর্বোচ্চ দুই জি পর্যন্ত বল তৈরি করতে পারে। এর উদ্দেশ্য শুধু ব্যতিক্রমী প্রদর্শনী নয়, বরং গাড়ির নিচের দিকে চাপ বাড়িয়ে বাঁক নেওয়ার সময় সড়কের সঙ্গে সংযোগ ও নিয়ন্ত্রণ উন্নত করা। মাস্ক বলেন, গাড়ির নিচের দিকে বেশি চাপ তৈরি হলে এটি ট্র্যাকে দ্রুত বাঁক নিতে পারবে। তাঁর দাবি, এই প্রযুক্তির কারণে রোডস্টার প্রচলিত স্পোর্টস কারের তুলনায় অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখাতে পারে এবং বিভিন্ন ট্র্যাকের রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এসব সক্ষমতা নিয়ে প্রতিষ্ঠানের দাবি এবং বাস্তব ব্যবহারে গাড়িটির পারফরম্যান্সের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। স্বাধীনভাবে সব প্রযুক্তিগত দাবি যাচাইয়ের সুযোগ এখনো সীমিত। গাড়িটির নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মাস্ক নিজেই স্বীকার করেছেন, এটি সব দিক থেকে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তৈরি গাড়ি নয়। তিনি অবশ্য এটিকে চালানোর অভিজ্ঞতার দিক থেকে অত্যন্ত রোমাঞ্চকর বলে তুলে ধরেছেন। সাধারণ সড়কে গাড়িটির বাতাসে ওড়ার মতো কৌশলগুলো আইনগতভাবে অনুমোদিত হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে প্রদর্শনীতে দেখানো প্রযুক্তি বাস্তবে কীভাবে ব্যবহার করা যাবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। নতুন রোডস্টারের দামও এখনো পুরোপুরি ঘোষণা করেনি টেসলা। তবে গাড়িটির তিনটি সংস্করণের জন্য বুকিং বা রিজার্ভেশন চালুর তথ্য পাওয়া গেছে। ‘পারফরম্যান্স’ সংস্করণের জন্য ৫০ হাজার ডলার জমা দিতে হবে। ‘থ্রাস্ট’ সংস্করণে দ্রুতগতির জন্য অতিরিক্ত থ্রাস্টার রয়েছে এবং এর জন্য জমার পরিমাণ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। অন্যদিকে ‘রকেট’ সংস্করণটি কেবল আমন্ত্রণের ভিত্তিতে পাওয়া যাবে; এর নির্দিষ্ট মূল্য প্রকাশ করা হয়নি। এই সংস্করণে পূর্ণাঙ্গ ফ্লাইট ব্যবস্থা থাকার কথা জানানো হয়েছে। নতুন রোডস্টার তৈরির পরিকল্পনা প্রথম সামনে আসে ২০১৭ সালে। তখন গাড়িটির প্রাথমিক মূল্য ২ লাখ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং ২০২০ সাল থেকে সরবরাহ শুরুর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে উৎপাদন শুরু হয়নি। এবার টেসলা জানিয়েছে, গাড়িটির উৎপাদন ২০২৮ সালে শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। ফলে ক্রেতাদের হাতে গাড়িটি পৌঁছাতে আরও সময় লাগবে। টেসলার জন্য রোডস্টার শুধু একটি দ্রুতগতির বৈদ্যুতিক গাড়ি নয়; এটি প্রতিষ্ঠানটির প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তুলে ধরারও একটি প্রচেষ্টা। সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানিটি স্বচালিত গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং রোবট প্রযুক্তিতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন রোডস্টার প্রতিষ্ঠানটির উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ি তৈরির পরিচয়কে আবার সামনে আনতে পারে। তবে প্রদর্শনীতে দেখানো সব কৌশল সাধারণ সড়কে ব্যবহার করা যাবে কি না, গাড়িটির চূড়ান্ত মূল্য কত হবে এবং উৎপাদনের সময়সীমা এবার বজায় রাখা সম্ভব হবে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে। আপাতত রকেট থ্রাস্টার, বাতাসে ঘোরার সক্ষমতা এবং অস্বাভাবিক দ্রুতগতির দাবিই টেসলার নতুন রোডস্টারকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে সামরিক যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম স্টারশিল্ডের গতি হঠাৎ কমে যাওয়ায় চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুরুতে এই ঘটনার জন্য প্রযুক্তি মোগল ইলন মাস্ককে দায়ী করা হলেও তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, স্টারশিল্ডের গতি কমানোর নির্দেশটি স্পেসএক্সের নয়, বরং ট্রাম্প প্রশাসনের। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে সতর্ক করেছেন যে, স্টারশিল্ডের গতি কমানোর ফলে রাশিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করার ক্ষমতা সীমিত হবে এবং এই ভুলের কারণে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটবে। গতি কমানো নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ার কয়েক ঘণ্টা পর ইলন মাস্ক বলেন, স্টারশিল্ড সিস্টেমের সম্পূর্ণ মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের হাতে। এর গতি বা ব্যবহারের যেকোনো সীমাবদ্ধতা মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং চূড়ান্তভাবে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টের (পোটাস) সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, স্টারলিংক একটি সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক সেবা, যা কেবল বেসামরিক বা প্রতিরক্ষামূলক কাজে ব্যবহারের জন্য সীমাবদ্ধ; কোনো আক্রমণাত্মক সামরিক কার্যক্রমে এটি ব্যবহার করা একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নীতির পরিপন্থী। রাশিয়ান সেনাদের বিরুদ্ধে লজিস্টিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং ড্রোন হামলার ক্ষেত্রে ইউক্রেন ব্যাপকভাবে স্টারশিল্ডের ওপর নির্ভরশীল। ইউক্রেনীয় বাহিনী লক্ষ্য করেছিল যে, ১৬০ কিলোমিটার বা তার বেশি গতিতে চলাচলকারী ড্রোনগুলোর ক্ষেত্রে স্টারশিল্ডের সংযোগ ধীর হয়ে যাচ্ছিল। এর ফলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের একাধিক সক্রিয় সামরিক অভিযান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। তবে পরবর্তীতে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ জানান যে, ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতির সংযোগ পুনরায় চালু করা হচ্ছে। তিনি ইলন মাস্ককে ধন্যবাদ জানিয়ে স্টারশিল্ডের গতির ওপর থেকে সম্পূর্ণ বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান, যা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার জন্য এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এই ঘটনাকে একটি বড় ধরনের ভুল হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, এর পরিণামে অনেক মানুষের মৃত্যু হবে। মূলত রাশিয়ান শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের হামলার কারণে বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসন ইউক্রেনের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন; আর ঠিক সেই সময়েই স্টারশিল্ডের গতি কমানোর এই ঘটনাটি ঘটল। এর পাশাপাশি ইউক্রেনীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা না দেওয়ায় রাশিয়ার উপর্যুপরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে তারা, অথচ আগে যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে তাদের সতর্ক করত। পেন্টাগন স্পেস ফোর্সের মাধ্যমে স্পেসএক্সের সাথে চুক্তিবদ্ধ হলেও, এই ধরনের নির্দিষ্ট অপারেশনাল সীমাবদ্ধতা বা গতির ওপর সামরিক বাহিনীর নাকি স্পেসএক্সের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, তা নিয়ে এখনও অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।
ভারতে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক। দেশটির কিছু ‘ক্ষমতাবান ব্যবসায়ী গোষ্ঠী’ নিজেদের একচেটিয়া প্রভাব ধরে রাখতে স্টারলিংকের প্রবেশ আটকে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে কারও নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি মাস্ক। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক বলেন, ভারতীয় জনগণের ওপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার স্বার্থে কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী স্টারলিংককে আটকে দিচ্ছে। তিনি লেখেন, কারা এর সঙ্গে জড়িত তা সহজেই অনুমান করা যায়। একই পোস্টে তিনি এই বাধাকে ভারতের জনগণের বিরুদ্ধে ‘অপরাধ’ বলেও মন্তব্য করেন। মাস্কের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ভারতে স্টারলিংকের বাণিজ্যিক সেবা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় কিছু অনুমোদন এখনো বাকি রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবার লাইসেন্স পেলেও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত যাচাই ও স্পেকট্রাম বরাদ্দসহ পরবর্তী ধাপের অনুমোদন শেষ হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় রয়েছে স্টারলিংকের ভারতীয় কার্যক্রম। ভারতের টেলিযোগাযোগ বাজারে বর্তমানে রিলায়েন্স জিও ও ভারতী এয়ারটেলের মতো বড় কোম্পানির শক্ত অবস্থান রয়েছে। মাস্কের বক্তব্যে কারও নাম না থাকলেও তাঁর মন্তব্যকে দেশটির বড় টেলিযোগাযোগ ব্যবসায়ীদের দিকে ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো মাস্কের অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। মাস্কের অভিযোগের পর বৃহস্পতিবার ভারতের সরকার এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। দেশটির যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্যাটেলাইট যোগাযোগসহ টেলিযোগাযোগ সেবার জন্য ভারতের নিয়ন্ত্রক কাঠামো সবার জন্য ন্যায্য ও বৈষম্যহীন। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবার জন্য লাইসেন্স পাওয়া সব প্রতিষ্ঠানকেই একই ধরনের নিরাপত্তা শর্ত পূরণ করতে হচ্ছে। সরকার জানিয়েছে, ভারতে বর্তমানে তিনটি বৈশ্বিক স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পেয়েছে। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকেই জাতীয় নিরাপত্তা ও ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষাসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। তিন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া চলছে এবং তারা বর্তমানে মোটামুটি একই নিয়ন্ত্রক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। ভারতীয় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা যাচাই শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো স্পেকট্রাম বরাদ্দের পরবর্তী ধাপে যেতে পারবে। তাই নিয়ন্ত্রক কাঠামো কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানিকে লক্ষ্য করে তৈরি বা প্রয়োগ করা হচ্ছে—এমন দাবি ‘ভিত্তিহীন ও ভুল ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে সরকার। অন্যদিকে, স্টারলিংক কর্তৃপক্ষ বলছে, ভারতীয় বাজারে প্রবেশের জন্য তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। স্পেসএক্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট লরেন ড্রেয়ার সম্প্রতি জানান, ভারতীয় বাজারের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরিতে কোম্পানিটি বিনিয়োগ করেছে এবং সরকারি অনুমোদন পেলেই সেবা চালুর জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ভারতে স্টারলিংকের প্রবেশ নিয়ে নিরাপত্তা, স্পেকট্রাম এবং তথ্য নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। বিশেষ করে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবায় ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও নেটওয়ার্ক কীভাবে জাতীয় নিরাপত্তা বিধি মেনে চলবে, তা নিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ভারতের বিশাল ও বৈচিত্র্যময় ভূখণ্ডে প্রত্যন্ত অঞ্চলে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটকে সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্টারলিংকও দাবি করে আসছে, প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ফাইবার অবকাঠামো পৌঁছানো কঠিন এমন এলাকাগুলোতে তাদের সেবা ইন্টারনেট সংযোগ বাড়াতে পারে। তবে ভারতের বাজারে স্টারলিংকের প্রবেশ শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, এর সঙ্গে বড় ধরনের ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতাও জড়িত। রিলায়েন্স জিও ও ভারতী এয়ারটেল ইতোমধ্যে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। একই সময়ে তারাও স্যাটেলাইট যোগাযোগের বাজারে নিজেদের কার্যক্রম বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে ইলন মাস্কের অভিযোগ এবং ভারতের সরকারের পাল্টা বক্তব্যকে ঘিরে দেশটির স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে প্রতিযোগিতা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে মাস্ক দ্রুত স্টারলিংক চালুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, অন্যদিকে ভারত সরকার বলছে, নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করেই সব প্রতিষ্ঠানকে সেবা চালুর সুযোগ দেওয়া হবে।
মাত্র ২৫ বছর বয়সে বিশ্বের প্রযুক্তি খাতে আলোচনায় উঠে এসেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন উদ্যোক্তা আমান সাঙ্গার। তাঁর সহপ্রতিষ্ঠিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কোডিং প্ল্যাটফর্ম কারসরের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যানিস্ফিয়ার ৬ হাজার কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের চুক্তিতে অধিগ্রহণ করেছে ইলন মাস্কের স্পেসএক্স। গত ১৪ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে জমা দেওয়া নথিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্পেসএক্স। মাত্র চার বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে পড়াশোনার সময় তিন বন্ধুকে নিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু করেছিলেন আমান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মাইকেল ট্রুয়েল, সুয়ালেহ আসিফ ও আরভিড লুনেমার্ক। ২০২২ সালে তাঁদের প্রতিষ্ঠিত অ্যানিস্ফিয়ার পরবর্তী সময়ে কারসর নামের এআই কোডিং প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে। অল্প সময়ের মধ্যে সফটওয়্যার ডেভেলপারদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে প্রযুক্তিটি। কারসর মূলত এমন একটি সফটওয়্যার, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে প্রোগ্রামিং কোড লেখা, সংশোধন, ব্যাখ্যা করা এবং ভুল শনাক্ত করা যায়। একজন ডেভেলপার সাধারণ ভাষায় নির্দেশনা দিলেই সফটওয়্যারটি সেই অনুযায়ী কোড তৈরিতে সহায়তা করতে পারে। প্রচলিত কোড এডিটরের সঙ্গে এআই প্রযুক্তিকে সরাসরি যুক্ত করার কারণেই কারসর দ্রুত প্রযুক্তি খাতে পরিচিতি পায়। আমান সাঙ্গারের জন্ম ও বেড়ে ওঠা নিউইয়র্কে। তাঁর পরিবার ভারতীয় বংশোদ্ভূত। বাবা অরবিন্দ সাঙ্গার ভারতের আইআইটি বোম্বের সাবেক শিক্ষার্থী এবং বিনিয়োগ খাতের একজন পেশাজীবী। মা শিল্পা সাঙ্গার একজন অর্থোডন্টিস্ট ও উদ্যোক্তা। মাত্র ১৪ বছর বয়স থেকে প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় আমানের। পরে তিনি এমআইটিতে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই প্রযুক্তি নিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার পরিকল্পনা শুরু করেন আমান। এর আগে গুগল ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্রিজওয়াটার অ্যাসোসিয়েটসে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। নিজস্ব এআইভিত্তিক উদ্যোগ নিয়েও পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন সহপাঠীর সঙ্গে মিলে অ্যানিস্ফিয়ার প্রতিষ্ঠা করেন। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির শুরুটা অবশ্য বর্তমান কারসরের মতো ছিল না। প্রতিষ্ঠাতারা প্রথম দিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার তৈরির সম্ভাবনা পরীক্ষা করছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাঁরা বুঝতে পারেন, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের পুরো প্রক্রিয়াতেই এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সেই ধারণা থেকেই কারসরের উন্নয়ন শুরু হয়। কারসর জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ এর ব্যবহারপদ্ধতি। সাধারণ কোডিং সফটওয়্যারে ডেভেলপারকে বিভিন্ন কাজ নিজে করতে হয়। কিন্তু কারসরে এআইকে নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়ে একাধিক ফাইলের কোড পরিবর্তন, নতুন ফিচার তৈরি কিংবা বিদ্যমান কোডের সমস্যা সমাধানে সহায়তা নেওয়া যায়। ফলে সফটওয়্যার তৈরির সময় ও শ্রম কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তিটি দ্রুত জনপ্রিয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অ্যানিস্ফিয়ারের ব্যবসায়িক মূল্যও বাড়তে থাকে। ২০২৫ সালের জুনে বিনিয়োগ সংগ্রহের পর প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৯৯০ কোটি ডলার। পরবর্তী সময়ে এআই কোডিং প্রযুক্তির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোম্পানিটির মূল্যায়ন আরও বৃদ্ধি পায়। স্পেসএক্সের সঙ্গে কারসরের সম্পর্ক শুরু হয় চলতি বছরের এপ্রিল মাসে। সে সময় দুই প্রতিষ্ঠান এআই মডেলের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতার ঘোষণা দেয়। চুক্তিতে নির্দিষ্ট শর্তে অ্যানিস্ফিয়ার অধিগ্রহণের সুযোগও রাখা হয়েছিল। পরে ১৬ জুন আনুষ্ঠানিক অধিগ্রহণ চুক্তি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নথি অনুযায়ী, ১৪ আগস্ট অধিগ্রহণ কার্যকর হওয়ার পর অ্যানিস্ফিয়ার স্পেসএক্সের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সহযোগী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। চুক্তির আওতায় অ্যানিস্ফিয়ারের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য স্পেসএক্সের প্রায় ৩৮ কোটি ৯৩ লাখ সাধারণ শেয়ার বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়। লেনদেনে অ্যানিস্ফিয়ারের মূল্য ধরা হয়েছে ৬ হাজার কোটি ডলার। অধিগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর কারসরের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, স্পেসএক্সের বিশাল কম্পিউটিং অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ায় আরও উন্নত এআই মডেল তৈরি এবং গ্রাহকদের তুলনামূলক কম খরচে সেবা দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইলন মাস্কের স্পেসএক্স মূলত মহাকাশ প্রযুক্তি ও স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবার জন্য পরিচিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং কম্পিউটিং অবকাঠামোতেও ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে। কারসর অধিগ্রহণ সেই সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অ্যানিস্ফিয়ারের সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আমান বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যবসায়িক কার্যক্রম, পণ্যের প্রসার এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালনাগত বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে ৬ হাজার কোটি ডলারের অধিগ্রহণমূল্যকে আমানের ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। এটি পুরো প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন। প্রতিষ্ঠাতাদের ব্যক্তিগত সম্পদ নির্ভর করে তাঁদের মালিকানাধীন শেয়ার এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক ব্যবস্থার ওপর। আমানের এই উদ্যোক্তা যাত্রা প্রযুক্তি খাতে তরুণ প্রতিষ্ঠাতাদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় চার বন্ধুর উদ্যোগে শুরু হওয়া প্রতিষ্ঠানটি মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম আলোচিত এআই সফটওয়্যার কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। স্পেসএক্সের অধীনে যাওয়ার পর কারসর কত দ্রুত নতুন প্রযুক্তি তৈরি করতে পারবে এবং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের বাজারে কী ধরনের পরিবর্তন আনবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। এর মধ্যেই ভারতীয় বংশোদ্ভূত ২৫ বছর বয়সী আমান সাঙ্গার আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের আলোচনায় নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনে ইলন মাস্কের মহাকাশ কোম্পানি স্পেসএক্সের শেয়ারে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করেছেন। ২২ আগস্ট প্রকাশিত প্রেসিডেন্টের আর্থিক নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বড় একটি কন্ট্রাক্টর কোম্পানিতে ট্রাম্পের সরাসরি আর্থিক অংশীদারিত্ব তৈরি হয়েছে। নথি অনুযায়ী, ২৩ জুন ট্রাম্প ১৫ হাজার ১ ডলার থেকে ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে স্পেসএক্সের শেয়ার কিনেছেন। ১২ আগস্ট তিনি নথিতে স্বাক্ষর করেন। জুন মাসে করা এক হাজারের বেশি স্টক লেনদেনের মধ্যে এই বিনিয়োগও ছিল। ট্রাম্পের এই বিনিয়োগের সময়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর মাত্র ১১ দিন আগে, ১২ জুন স্পেসএক্স শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় এবং রেকর্ড গড়ে। ওই আইপিওতে কোম্পানিটির মূল্যায়ন করা হয়েছিল প্রায় ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইংল রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের বিনিয়োগ পোর্টফোলিও তৃতীয় পক্ষের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে পরিচালনা করে। তাদের দাবি, ট্রাম্প বা তার পরিবারের কেউ কোন শেয়ার কেনা বা বিক্রির সিদ্ধান্তে নির্দেশনা, প্রভাব বা মতামত দেওয়ার সুযোগ রাখেন না। ইলন মাস্ক একসময় ট্রাম্পের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ছিলেন। বর্তমানে স্পেসএক্স যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক খাতের গুরুত্বপূর্ণ কন্ট্রাক্টর এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কাছ থেকে নিয়মিত অনুমোদন ও চুক্তি পেয়ে থাকে। ফলে ট্রাম্পের স্পেসএক্সে বিনিয়োগ তাঁর প্রশাসনের সিদ্ধান্তগুলোর সঙ্গে কোম্পানিটির আর্থিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। এদিকে ট্রাম্প সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিক মহাকাশ উৎক্ষেপণের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য তাঁর প্রশাসনকে উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এই খাতে স্পেসএক্স অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান হওয়ায় কোম্পানিটির সঙ্গে সরকারের সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে ফেডারেল আর্থিক নথিতে সম্পদের সঠিক মূল্য প্রকাশ না করে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে মূল্য দেখানো হয়। তাই ট্রাম্প স্পেসএক্সে ঠিক কত ডলার বিনিয়োগ করেছেন এবং কত শেয়ার কিনেছেন, তা প্রকাশিত নথি থেকে নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
নিউইয়র্ক ও নিউজার্সির বাসিন্দাদের জন্য মঙ্গলবার ভোরে আকাশে দেখা যেতে পারে বিরল ও দৃষ্টিনন্দন এক মহাজাগতিক দৃশ্য। আকাশ পরিষ্কার থাকলে স্পেসএক্সের একটি রকেট উৎক্ষেপণের পাশাপাশি এর পেছনে তৈরি হওয়া উজ্জ্বল ‘জেলিফিশ মেঘ’ বা জেলিফিশের মতো দেখতে আলোকিত ধোঁয়ার বিস্তারও দেখা যেতে পারে। মঙ্গলবার ভোরে ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল স্পেস ফোর্স স্টেশনের স্পেস লঞ্চ কমপ্লেক্স-৪০ থেকে স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেট উৎক্ষেপণের কথা রয়েছে। এই মিশনের নাম ‘স্টারলিংক গ্রুপ ১০-৪৯’। এতে ২৯টি স্টারলিংক উপগ্রহ নিম্ন পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠানো হবে। উৎক্ষেপণের নির্ধারিত সময় ভোর ৫টা ৩৩ মিনিট পূর্বাঞ্চলীয় সময়। উৎক্ষেপণের পর রকেটটি উত্তর-পূর্ব দিকে এগিয়ে যাবে, মোটামুটি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের সমান্তরাল পথে। ফলে ফ্লোরিডা থেকে উৎক্ষেপণের কয়েক মিনিটের মধ্যেই নিউইয়র্ক, নিউজার্সি ও আশপাশের ত্রিরাজ্য এলাকায় থাকা মানুষজন আকাশে রকেটটির গতিপথ দেখতে পারেন। তবে এই দৃশ্যের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হতে পারে রকেটের পেছনে তৈরি হওয়া ‘জেলিফিশ’ আকৃতির আলোকিত মেঘ। এটি আসলে কোনো মেঘ নয়। রকেটের ইঞ্জিন থেকে বের হওয়া গ্যাস ও ধোঁয়ার বিস্তৃত নির্গমন বা নিষ্কাশন ধারা উচ্চ বায়ুমণ্ডলে পৌঁছে ছড়িয়ে পড়ে। ভোরের সময় মাটিতে তখনও অন্ধকার থাকলেও রকেট ও এর ধোঁয়ার অংশটি যখন অনেক ওপরে উঠে যায়, তখন তা সূর্যের সরাসরি আলো পেতে পারে। ফলে অন্ধকার আকাশের পটভূমিতে ধোঁয়ার বিস্তার উজ্জ্বল হয়ে জেলিফিশের মতো আকৃতি তৈরি করতে পারে। এই ধরনের দৃশ্যকে সাধারণভাবে ‘জেলিফিশ ইফেক্ট’ বলা হয়। ভোর বা সন্ধ্যার কাছাকাছি সময়ে রকেট উৎক্ষেপণ হলে এ ধরনের আলোকিত নিষ্কাশন ধারা দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। জুলাইতেও ফ্লোরিডায় একটি স্পেসএক্স উৎক্ষেপণের সময় একই ধরনের জেলিফিশ আকৃতির উজ্জ্বল দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। মঙ্গলবারের উৎক্ষেপণের জন্য আবহাওয়াও মোটামুটি অনুকূল থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। তবে আকাশে মেঘের উপস্থিতি দৃশ্যটি কতটা পরিষ্কারভাবে দেখা যাবে, সেটিতে প্রভাব ফেলতে পারে। এই মিশনে ব্যবহৃত ফ্যালকন-৯ রকেটের প্রথম ধাপের বুস্টারটির নাম বি১০৬৭। এটি রকেটটির ৩৭তম মিশন হতে যাচ্ছে, যা ফ্যালকন-৯-এর পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তির উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। উৎক্ষেপণের পর প্রথম ধাপটি আটলান্টিক মহাসাগরে থাকা ‘এ শর্টফল অব গ্র্যাভিটাস’ নামের ড্রোন জাহাজে অবতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। ২৯টি স্টারলিংক উপগ্রহ পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে পৌঁছানোর পর স্পেসএক্সের স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে। এসব উপগ্রহ পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ইন্টারনেট সেবা দিতে ব্যবহৃত হয়। তবে নিউইয়র্ক ও নিউজার্সির বাসিন্দাদের জন্য এই উৎক্ষেপণের আকর্ষণ শুধু মহাকাশযাত্রা দেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে ভোরের অন্ধকার আকাশে রকেটের উজ্জ্বল গতিপথ এবং তার পেছনে সূর্যের আলোয় আলোকিত বিশাল ধোঁয়ার বিস্তার একসঙ্গে দেখা যেতে পারে, যা অনেকটা আকাশে ভাসমান জেলিফিশের মতো দেখাবে। উৎক্ষেপণের সময় বা দৃশ্যমানতা আবহাওয়া ও রকেটের প্রকৃত গতিপথের ওপর নির্ভর করবে। তাই আকাশ পরিষ্কার থাকলেও সব স্থান থেকে একই মাত্রায় দৃশ্যটি দেখা যাবে এমন নিশ্চয়তা নেই। সূত্র: পিক্স১১
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে টেসলা ও স্পেসএক্স। 'টেরাফ্যাব' নামে এই বিশাল সেমিকন্ডাক্টর কারখানার আয়তন হবে ১০ কোটি বর্গফুটেরও বেশি। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে এটি বিশ্বের বর্তমান বৃহত্তম ভবনগুলোকেও আকারে অনেক পেছনে ফেলে দেবে। টেসলা ও স্পেসএক্স বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, হিউস্টনের কাছে গ্রাইমস কাউন্টিতে যৌথভাবে নির্মিতব্য এই মেগা কারখানার প্রথম ধাপে বিনিয়োগ করা হবে ১৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। পরবর্তী ধাপগুলো সম্পন্ন হলে মোট বিনিয়োগ ১১৯ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ইলন মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে দাবি করেছেন, এটি হবে "পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে মূল্যবান ভবন।" প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি চীনের সিচুয়ান প্রদেশের চেংদুতে অবস্থিত নিউ সেঞ্চুরি গ্লোবাল সেন্টারের রেকর্ড ভেঙে দেবে। বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৮৯ লাখ বর্গফুট আয়তনের এই ভবনটিই বিশ্বের বৃহত্তম ভবন হিসেবে পরিচিত। এর ভেতরে রয়েছে কৃত্রিম সমুদ্রসৈকত, স্কি ঢালসহ নানা সুবিধা। প্রস্তাবিত টেরাফ্যাবের আয়তন হবে এর পাঁচ গুণেরও বেশি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন, অ্যাপল পার্ক এবং মল অব আমেরিকার সম্মিলিত আয়তনের চেয়েও অনেক বড় হবে। টেসলা ও স্পেসএক্সের তথ্য অনুযায়ী, একই ছাদের নিচে এখানে সেমিকন্ডাক্টর চিপের নকশা, উৎপাদন, প্যাকেজিং এবং পরীক্ষার কাজ হবে। প্রতিষ্ঠান দুটির দাবি, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংচালিত যান, রোবট এবং মহাকাশ প্রযুক্তির জন্য বর্তমান বৈশ্বিক চিপ উৎপাদন যথেষ্ট নয়। সেই ঘাটতি পূরণেই এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, টেরাফ্যাবে তৈরি হওয়া চিপ টেসলার অপটিমাস মানবাকৃতি রোবট, স্বয়ংচালিত সাইবারক্যাব এবং স্পেসএক্সের পরিকল্পিত মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টারে ব্যবহার করা হবে। লক্ষ্য হচ্ছে বছরে ১ টেরাওয়াটের বেশি কম্পিউটিং সক্ষমতার জন্য প্রয়োজনীয় চিপ উৎপাদন। প্রকাশিত নকশায় দেখা গেছে, ভবনটির নকশা হবে ডানার মতো বিস্তৃত এবং ছাদ হবে স্বচ্ছ। ইলন মাস্কের ভাষায়, এটি হবে "বিজ্ঞান কল্পকাহিনির শহরের" মতো দেখতে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অন্তত ৩ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছে টেসলা ও স্পেসএক্স। নতুন কর্মীদের বড় অংশ গ্রাইমস কাউন্টি ও পাশের ব্রাজোস কাউন্টি থেকে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইন্টেলও এই প্রকল্পে অংশ নেবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে, যদিও তাদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে প্রকল্পটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে কিছু উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। কারখানাটি নির্মিত হবে গিবন্স ক্রিক রিজার্ভয়ার এলাকায়, যেখানে আগে একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ছিল। ডেটা সেন্টারের পানির ব্যবহার নিয়ে টেক্সাসে আগে থেকেই বিতর্ক রয়েছে। এ কারণে স্পেসএক্স জানিয়েছে, তারা স্থানীয় ভূগর্ভস্থ পানির পরিবর্তে ওই জলাধারের পানি ব্যবহার করবে। এছাড়া প্রকল্পের জন্য দেওয়া কর-সুবিধা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা না থাকার অভিযোগ তুলে শত শত বাসিন্দা সম্প্রতি এক কাউন্টি সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের কার্যালয় এই প্রকল্পের জন্য টেক্সাস এন্টারপ্রাইজ ফান্ড থেকে ৩ কোটি ডলারের অনুদান অনুমোদন করেছে। পাশাপাশি প্রকল্পটি রাজ্যের কর্মসংস্থান, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন সুবিধাও পাবে। প্রকল্পটি ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হলে এটি শুধু আয়তনের দিক থেকেই নয়, আধুনিক সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের ক্ষেত্রেও বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শিল্পকেন্দ্রে পরিণত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বুধবার দিনের লেনদেন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম প্রায় ১৪ শতাংশ কমে যায়। এতে স্পেসএক্সের মার্কেট মূল্য থেকে শত শত বিলিয়ন ডলার মুছে যাওয়ার পাশাপাশি মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদেও বড় ধাক্কা লেগেছে। স্পেসএক্স গত জুনে শেয়ার মার্কেটে প্রবেশ করে। প্রতিটি শেয়ারের প্রাথমিক মূল্য ছিল ১৩৫ ডলার। তালিকাভুক্তির পর দ্রুত দাম বাড়লেও পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিক পতনের মুখে পড়ে কোম্পানিটি। বুধবার শেয়ারটি ১০৮ দশমিক ২৭ ডলারে বন্ধ হয়, যা প্রাথমিক মূল্যেরও নিচে। কোম্পানিটির ওপর আরও চাপ তৈরি করতে পারে ভেতরের বিনিয়োগকারী ও কর্মীদের শেয়ার বিক্রির সুযোগ। বৃহস্পতিবার থেকে প্রায় ৯১ কোটি শেয়ারের বিক্রি নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এসব শেয়ারের একটি অংশ মার্কেটে এলে সরবরাহ বেড়ে দাম আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শেয়ারবাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্পেসএক্সের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা এখনও শক্তিশালী। কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে কোম্পানিকে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, ধারাবাহিক মুনাফা এবং নতুন প্রকল্প থেকে দ্রুত আয় নিশ্চিত করতে হবে। আগামী কয়েক দিনের শেয়ার লেনদেনই দেখাবে, বুধবারের বড় পতন সাময়িক ছিল নাকি স্পেসএক্সকে আরও দীর্ঘ মার্কেট চাপের মুখে পড়তে হবে।
এক বছরেরও বেশি সময় মহাকাশে ভেসে থাকার পর অবশেষে চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়েছে মার্কিন মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের ‘ফ্যালকন ৯’ রকেটের একটি ওপরের ধাপ (আপার স্টেজ)। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই সংঘর্ষের ফলে চাঁদের পৃষ্ঠে একটি নতুন গর্ত বা ক্রেটার তৈরি হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ ধূলিকণা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। ব্রিটিশ দৈনিক টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৪ হাজার কেজি ওজনের রকেটের অংশটি ঘণ্টায় প্রায় ৫ হাজার ৪০০ মাইল বেগে চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাত হানে। এই গতি শব্দের গতির প্রায় সাত গুণ। বিজ্ঞানীদের হিসাবে, সংঘর্ষের শক্তি ছিল প্রায় তিন টন টিএনটি বিস্ফোরণের সমতুল্য। রকেটটির উৎক্ষেপণ হয় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে। এর মাধ্যমে দুটি চন্দ্রযান (লুনার ল্যান্ডার) নির্ধারিত কক্ষপথে পাঠানো হয়। মিশন সফলভাবে শেষ হওয়ার পর রকেটের নিচের অংশ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরে এসে ধ্বংস হলেও ওপরের অংশটি মহাকাশেই থেকে যায়। স্পেসএক্সের কর্মকর্তা জুলিয়ানা শেইম্যান জানান, সৌর সক্রিয়তা এবং চাঁদ ও পৃথিবীর মহাকর্ষীয় বলের প্রভাবে রকেটটির গতিপথ ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়। শেষ পর্যন্ত সেটি চাঁদের দিকে ধাবিত হয়ে উচ্চগতিতে আঘাত হানে। প্রাথমিক বিশ্লেষণে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এই সংঘর্ষে চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ লাখ কেজি ধূলিকণা ও শিলাখণ্ড ছিটকে বের হয়েছে। এসব ধূলিকণা ও ধ্বংসাবশেষ প্রায় ১১৪ মাইল এলাকা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, এই ঘটনায় পৃথিবীর জন্য কোনো ধরনের ঝুঁকি বা ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তবে সংঘর্ষের প্রকৃত প্রভাব মূল্যায়নে নাসার ‘লুনার রিকনেসান্স অরবিটার’ (Lunar Reconnaissance Orbiter) আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ঘটনাস্থলের উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি সংগ্রহ করবে। এসব ছবি বিশ্লেষণ করে নতুন সৃষ্ট ক্রেটারের আকার, গভীরতা এবং ছড়িয়ে পড়া ধূলিকণার পরিমাণ সম্পর্কে আরও নির্ভুল তথ্য জানা যাবে। বিজ্ঞানীদের মতে, ঘটনাটি যদিও পরিকল্পিত ছিল না, তবুও এটি চাঁদের ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। কোনো ভারী বস্তু চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাত করলে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়, কীভাবে ধূলিকণা ও শিলাখণ্ড ছড়িয়ে পড়ে এবং চাঁদের মাটির গঠন কীভাবে পরিবর্তিত হয় এসব বিষয়ে মূল্যবান তথ্য পাওয়া যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে চাঁদে মানব মিশন, স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণ এবং নতুন মহাকাশযানের নিরাপদ অবতরণের পরিকল্পনায় এ ধরনের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষও ভবিষ্যতের মহাকাশ গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ
মহাকাশে ভাসতে থাকা স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেটের একটি অংশ অনিচ্ছাকৃতভাবে চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রায় চার টন ওজনের ওই অংশটি ঘণ্টায় প্রায় ৫ হাজার ৪০০ মাইল গতিতে চাঁদের মাটিতে আঘাত করে। এ ঘটনায় পৃথিবীর জন্য কোনো ধরনের ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছে নাসা। রকেটের ওই অংশটি গত বছর থেকে মহাকাশে নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় ভাসছিল। এটি স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেটের দ্বিতীয় ধাপের অংশ, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ফায়ারফ্লাই অ্যারোস্পেসের একটি চন্দ্রযানকে চাঁদের দিকে পাঠানোর অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছিল। ধারণা করা হয়েছিল, বুধবার নির্ধারিত সময়ে রকেটের অংশটি চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাত করবে। এর ফলে চাঁদের মাটিতে ধুলা ও পাথরের কণা ছিটকে কয়েক মাইলজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে সূর্যের আলোতে তৈরি হওয়া এই ধুলার মেঘ পৃথিবী থেকে খালি চোখে দেখা কঠিন হবে বলে জানানো হয়েছে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘর্ষের কারণে চাঁদের পৃষ্ঠে প্রায় ৬০ ফুট চওড়া এবং ১২ ফুট গভীর গর্ত তৈরি হতে পারে। মহাকাশ সংস্থাটি ওই স্থানের আগে ও পরের ছবি সংগ্রহের সুযোগ খুঁজছে। এসব তথ্য কৃত্রিম আঘাত এবং মহাকাশ অনুসন্ধানের প্রভাব বুঝতে বিজ্ঞানীদের সহায়তা করবে। সাধারণত রকেটের এমন অংশগুলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরে এসে পুড়ে যায় অথবা সমুদ্রে পড়ে যায়। তবে চাঁদে পাঠানো অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত শক্তির কারণে ফ্যালকন-৯ রকেটের দ্বিতীয় ধাপটি মহাকাশে থেকে যায় এবং পরে নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় ভাসতে থাকে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা চলতি বছর শনাক্ত করেন, রকেটের ওই অংশটি এমন এক গতিপথে রয়েছে যা শেষ পর্যন্ত চাঁদের সঙ্গে সংঘর্ষের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। স্পেসএক্স জানিয়েছে, সূর্যের কার্যকলাপ ও মহাকর্ষীয় শক্তির প্রভাবে বস্তুটি চাঁদের দিকে যাওয়ার পথে চলে যায়। মহাকাশে পড়ে থাকা রকেটের অংশ বা মহাকাশ বর্জ্যের এমন আঘাত চাঁদে খুবই বিরল ঘটনা। এর আগে ২০২২ সালে চীনের একটি রকেট অংশ চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাত করেছিল। ২০০৯ সালে নাসা ইচ্ছাকৃতভাবে একটি রকেট অংশ চাঁদে আঘাত করেছিল গবেষণার উদ্দেশ্যে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চাঁদে অবতরণের উদ্দেশ্যে পাঠানো কয়েকটি মহাকাশযানও সফলভাবে অবতরণ করতে পারেনি। এর মধ্যে রাশিয়ার লুনা-২৫ এবং ভারতের চন্দ্রযান-২ অভিযানের অবতরণযান রয়েছে। নাসা ও স্পেসএক্স ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিচ্ছাকৃত চন্দ্র সংঘর্ষ ঠেকানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করছে। এই ঘটনা মহাকাশে থাকা পরিত্যক্ত যন্ত্রাংশ ব্যবস্থাপনার গুরুত্বও সামনে এনেছে।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর প্রথম আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইলন মাস্কের মহাকাশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটি বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি আয় করেছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বড় ব্যয় নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের কারণে লেনদেন-পরবর্তী সময়ে কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। স্পেসএক্স জানিয়েছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে তাদের আয় হয়েছে ৭৮১ কোটি ডলার। বাজার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ছিল ৬৯৩ কোটি ডলার। একই সময়ে কোম্পানির প্রতি শেয়ারে লোকসান হয়েছে ৯ সেন্ট, যেখানে বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল ২৬ সেন্ট লোকসানের। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার কোম্পানির আয় বেড়েছে ৯২ শতাংশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্পেসএক্সের নিট লোকসান হয়েছে ৫৪ কোটি ১০ লাখ ডলার। তবে আগের বছরের একই সময়ে কোম্পানির লোকসান ছিল প্রায় ১০০ কোটি ডলার। আয় বাড়লেও এআই অবকাঠামোতে বিপুল বিনিয়োগের বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের নজরে এসেছে। কোম্পানির সবচেয়ে শক্তিশালী আয়ের উৎস হিসেবে রয়েছে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্টারলিংকের গ্রাহকসংখ্যা বেড়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখে পৌঁছেছে। পাশাপাশি স্পেসএক্সের এআই বিভাগ থেকেও আয় এসেছে। কোম্পানির তিনটি প্রধান বিভাগ—মহাকাশ কার্যক্রম, সংযোগ সেবা এবং এআই বিভাগ—থেকে আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্পেসএক্সের মূলধনী ব্যয় বেড়ে প্রায় ১৮৩৭ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এর বড় অংশ ব্যয় হয়েছে এআই অবকাঠামো তৈরিতে। এই অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় আয় প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম প্রায় ৭ থেকে ৮ শতাংশ কমে যায়। স্পেসএক্স জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এআই সক্ষমতা বাড়ানো এবং স্টারলিংক সেবা সম্প্রসারণে বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় এআই, মহাকাশ প্রযুক্তি ও স্যাটেলাইট ইন্টারনেটকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে বড় বিনিয়োগের বিপরীতে দ্রুত মুনাফা দেখাতে পারবে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে।
বিশ্বখ্যাত ধনকুবের ইলন মাস্কের মালিকানাধীন মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বাজারে নিজেদের আধিপত্য বাড়াতে এক বিশাল পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জনপ্রিয় এআই কোডিং সফটওয়্যার কারসরের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যানিস্ফিয়ারকে ৬০ বিলিয়ন ডলারে কিনে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। মঙ্গলবার স্পেসএক্সের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে করপোরেট এআই প্রযুক্তির বাজারে স্পেসএক্সের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা। কয়েক দিন আগেই ইলন মাস্কের এই রকেট ও এআই কোম্পানিটি প্রথমবারের মতো শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। নাসডাক শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরুর পর কোম্পানিটির বাজারমূল্য ২ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং এটি বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান কোম্পানিতে পরিণত হয়। এই ব্লকবাস্টার আইপিও অভিষেকের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় কারসর সফটওয়্যারটি কিনে নেওয়ার বড় চুক্তিটি সম্পন্ন করল স্পেসএক্স। মূলত গত এপ্রিল মাস থেকেই কোম্পানিটি কারসরকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য আলোচনা চালিয়ে আসছিল। স্পেসএক্স মূলত তাদের নিজস্ব এআই প্রযুক্তি এক্সএআই এবং এর চ্যাটবট গ্রককে আরও উন্নত করতে কারসরের এই কোডিং সক্ষমতাকে কাজে লাগাবে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে এক্সএআই-এর সাথে স্পেসএক্সের একীভূতকরণ হলেও এআই কোডিংয়ের বাজারে তারা প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে ছিল। ৬০ বিলিয়ন ডলারের এই নতুন চুক্তিটি কারসরকে আরও বড় পরিসরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং বা ডেটা সেন্টারের ক্ষমতা সরবরাহ করবে। এই ঐতিহাসিক চুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রাক-বাজার লেনদেনেই স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে কোম্পানিটির বাজার মূলধনের সাথে আরও প্রায় ২৪৭ বিলিয়ন ডলার যোগ হতে যাচ্ছে, যার ফলে এর মোট বাজার মূল্য দাঁড়াবে ২.৫৩ ট্রিলিয়ন ডলার। বর্তমানে স্পেসএক্সের প্রতিটি শেয়ার ২১১.২৭ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে, যা আইপিও চালুর মূল দাম ১৩৫ ডলারের চেয়ে প্রায় ৫৬ শতাংশ বেশি। এই ধারা বজায় থাকলে স্পেসএক্স শিগগিরই আমাজনকে পেছনে ফেলে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম কোম্পানিতে পরিণত হবে। ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকের মতো কারসরও সিলিকন ভ্যালির অন্যতম শীর্ষস্থানীয় স্টার্টআপ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোডিং করতে পারে। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে কারসর অত্যন্ত দ্রুত গতিতে তাদের ব্যবসা প্রসারিত করেছে। চলতি মাসের শুরুতে রয়টার্সের সাথে শেয়ার করা তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটি বার্ষিক প্রায় ২.৬ বিলিয়ন ডলারের করপোরেট রাজস্ব আয় করছে। এর আগে কোম্পানিটি এনভিডিয়া ও গুগলের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের বিনিয়োগসহ ৫০ বিলিয়ন ডলার মূল্যায়নে নতুন তহবিল সংগ্রহের আলোচনা করছিল। আশা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের মধ্যে এই চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হবে। স্পেসএক্সের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এক্স৬৭-এর সাথে কারসরের এই মার্জার বা একীভূতকরণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হচ্ছে। রেগুলেটরি ফাইলিং বা প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্র অনুযায়ী, কোনো বিশেষ কারণে এই চুক্তিটি বাতিল হলে স্পেসএক্স কারসরকে ১০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেবে। এছাড়া সরকারি বা আইনি জটিলতার কারণে চুক্তি সফল না হলে অতিরিক্ত ৪ বিলিয়ন ডলার রেগুলেটরি ফি দিতে হবে।
বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স প্রাথমিক শেয়ার বিক্রির (আইপিও) মাধ্যমে রেকর্ড ৭৫ বিলিয়ন বা ৭ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছে। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও হিসেবে বিবেচিত এই প্রক্রিয়ার পর কোম্পানির মূল্যায়ন এবং মাস্কের সম্পদ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেসএক্স প্রতি শেয়ার ১৩৫ ডলার দরে ৫৫ কোটি ৫৬ লাখ ক্লাস–এ শেয়ার বিক্রি করে এই অর্থ সংগ্রহ করে। এতে কোম্পানিটির বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার। তথ্য অনুযায়ী, “এসপিসিএক্স” প্রতীকে নাসডাকে লেনদেন শুরু হলে স্পেসএক্স বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর একটি হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইপিও–সংক্রান্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তালিকাভুক্তির পর ইলন মাস্কের কাছে প্রায় ৮৪ কোটি ৯৫ লাখ ক্লাস–এ শেয়ার এবং ৫৫৭ কোটি ক্লাস–বি শেয়ার থাকবে। এর মাধ্যমে তিনি কোম্পানির মোট ভোটিং ক্ষমতার ৮৪.৪ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করবেন। আইপিও মূল্যের ভিত্তিতে কাগজে–কলমে স্পেসএক্সে মাস্কের শেয়ারহোল্ডিংয়ের মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৬৬.৫ বিলিয়ন ডলার। এই হিসাবকে কেন্দ্র করেই তাকে ঘিরে “ট্রিলিয়নিয়ার” মর্যাদা অর্জনের আলোচনা সামনে এসেছে, যদিও তা নির্ভর করছে সম্পদ মূল্যায়নের নির্দিষ্ট কাঠামোর ওপর।
বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার বা লাখ কোটিপতির মর্যাদার কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। তাঁর মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের বহুল আলোচিত প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) শেয়ারবাজারে আসার পর মাস্কের মোট সম্পদের মূল্য ১.১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন আর্থিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। স্পেসএক্স বৃহস্পতিবার আইপিওর জন্য প্রতি শেয়ারের মূল্য ১৩৫ ডলার নির্ধারণ করেছে। এর মাধ্যমে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলারের একটি আইপিওর পথ তৈরি হয়েছে, যা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিওগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ব্লুমবার্গ ও ফোর্বসের ধনকুবেরদের তালিকা অনুযায়ী, মাস্ক আগেই বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ছিলেন। তবে স্পেসএক্সের আইপিও তাঁর সম্পদের পরিমাণকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। স্পেসএক্সের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মাস্ক কোম্পানিটির প্রায় অর্ধেক শেয়ারের মালিক। এর মধ্যে এমন কিছু শেয়ারও রয়েছে, যা নির্দিষ্ট কর্মদক্ষতা ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে যুক্ত। আইপিও মূল্য অনুযায়ী স্পেসএক্সে তাঁর শেয়ারের মূল্য প্রায় ৮৬৭ বিলিয়ন ডলার। এর সঙ্গে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলায় তাঁর মালিকানাধীন শেয়ারের মূল্য যোগ করলে দুই প্রতিষ্ঠানে মাস্কের মোট অংশীদারত্বের মূল্য ১.১ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি দাঁড়ায়। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, মাস্কের ট্রিলিয়নিয়ার মর্যাদা নির্ভর করছে তাঁর সম্পদ কীভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে তার ওপর। স্পেসএক্সের কিছু শেয়ার ভবিষ্যতের নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে রয়েছে মহাকাশভিত্তিক তথ্যকেন্দ্র স্থাপন এবং মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি গড়ে তোলার মতো উচ্চাভিলাষী প্রকল্প। এসব শর্তাধীন শেয়ার বাদ দিলে মাস্ক এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রিলিয়নিয়ার নন বলে ধরা হতে পারে। তবে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম আরও সামান্য বাড়লে তিনি কাগজে-কলমে ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্স অনুযায়ী, স্পেসএক্স ও টেসলায় মাস্কের শেয়ারের সম্মিলিত মূল্য মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের মোট সম্পদের চেয়েও ১০ গুণের বেশি। বর্তমানে মাস্কের সম্পদের পরিমাণ বিশ্বের পরবর্তী চার শীর্ষ ধনী ব্যক্তির সম্মিলিত সম্পদের প্রায় সমান। এদের মধ্যে রয়েছেন গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন, আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস এবং ওরাকলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন। আইপিওর আগে প্রকাশিত আর্থিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের শুরু থেকে স্পেসএক্স প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার লোকসান করেছে। কোম্পানিটির ভাষ্য অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মহাকাশ প্রযুক্তিতে বড় ধরনের বিনিয়োগের কারণে এই লোকসান হয়েছে। মাস্কের পারিশ্রমিক কাঠামোও প্রচলিত করপোরেট ব্যবস্থার তুলনায় ভিন্ন। তিনি সাধারণত বেতন নয়, বরং উচ্চাভিলাষী ব্যবসায়িক লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে যুক্ত শেয়ারভিত্তিক পুরস্কার পান। টেসলার ক্ষেত্রেও তাঁর বেশ কিছু পারিশ্রমিক কর্মদক্ষতা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ওপর নির্ভরশীল। শুক্রবার থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা স্পেসএক্সের শেয়ার কেনাবেচা করতে পারবেন। আর যদি কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ১৪০ ডলারে পৌঁছে যায়, তাহলে অতিরিক্ত শর্তাধীন শেয়ারগুলো হিসাবের বাইরে রাখলেও মাস্ক আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।