যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যে দায়িত্ব পালনকালে এক নারী ডাককর্মীকে অপহরণের পর গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই কন্যাসন্তান কয়েক মাসের ব্যবধানে তাদের মা-বাবা দুজনকেই হারিয়েছে। এর আগে গত বছরের শেষ দিকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন তাদের বাবা।
নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগের (ইউএসপিএস) কর্মী ও দুই সন্তানের মা ব্র্যান্ডি রেনল্ডস শুক্রবার হেইস এলাকায় ডাক বিতরণের দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় ৫৬ বছর বয়সী উইলিয়াম ক্রেইগ ডারহাম তাকে অপহরণ করে গুলি করে হত্যা করেন বলে অভিযোগ।
উইলকস কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, শুক্রবার বিকেল প্রায় ৪টা ১৬ মিনিটে এক প্রত্যক্ষদর্শী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফোন করে জানান, ধূসর রঙের একটি নিসান অলটিমা গাড়ির পাশে এক সশস্ত্র ব্যক্তি রেনল্ডসকে হুমকি দিচ্ছেন। এরপর একাধিক গুলির শব্দ শোনা যায়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রেনল্ডসকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
শার্লট অবজারভারের প্রকাশিত আদালতের পরোয়ানার তথ্য অনুযায়ী, ডারহামের বিরুদ্ধে রেনল্ডসকে তার সম্মতি ছাড়া এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে আরও বলা হয়েছে, হত্যার আগে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছিল।
ডারহামের বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যা এবং প্রথম-ডিগ্রি অপহরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে উইলকস কাউন্টি কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার আদালতে হাজির করা হলে রেনল্ডসের এক স্বজন বিচারককে জানান, অতীতেও ডারহাম রেনল্ডসকে হুমকি দিয়েছিলেন এবং তার বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি রেনল্ডসের দুই কন্যার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ডারহামের জামিন না দেওয়ার আবেদন জানান। বিচারক সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।
রেনল্ডসের পরিবারের জন্য এটি ছিল দ্বিতীয় বড় ট্র্যাজেডি। ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর, বড়দিনের মাত্র দুই দিন আগে, তার স্বামী ব্রেন্ট রেনল্ডস উইলকস কাউন্টিতে একক গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত হন।
তদন্তকারীরা জানান, ৩৫ বছর বয়সী ব্রেন্ট রেনল্ডস সেদিন একটি পিকআপ ট্রাক চালাচ্ছিলেন। তিনি সিটবেল্ট পরেননি। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তার গাড়িটি রাস্তা থেকে ছিটকে গাছে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
স্বামীর মৃত্যুর পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই মেয়ের ছবি প্রকাশ করে ব্র্যান্ডি রেনল্ডস লিখেছিলেন, তার সন্তানরাই তার বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় প্রেরণা।
রেনল্ডসের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার ডাক বিতরণ এলাকার বাসিন্দা জুলি স্মিথ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, রেনল্ডস ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক, বন্ধুসুলভ ও দায়িত্বশীল একজন মানুষ। প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে তিনি ডাক পৌঁছে দিতেন এবং এলাকার মানুষ তার ডাকবাহী গাড়ির অপেক্ষায় থাকতেন।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের পোস্টাল ইন্সপেকশন সার্ভিস, উইলকস কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় এবং নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন যৌথভাবে তদন্ত করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
প্রায় দুই দশক আগে বিশ্বের প্রথম ‘গর্ভবতী পুরুষ’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন টমাস বিটি। তবে ট্রান্সজেন্ডারদের অধিকার আদায়ের এই পথিকৃৎ এবার অপ্রাপ্তবয়স্কদের জেন্ডার পরিবর্তনের (জেন্ডার-অ্যাফার্মিং কেয়ার) তাড়াহুড়োর তীব্র সমালোচনা করেছেন। বর্তমানে ৫৩ বছর বয়সী এবং চার সন্তানের এই পিতা জানিয়েছেন, বয়ঃসন্ধিকালে এমন চিকিৎসার বর্তমান যে প্রবণতা চলছে, তা যদি ১৮ বছর আগেও থাকত, তবে তার পক্ষে হয়তো কখনোই নিজের পরিবার গঠন করা সম্ভব হতো না। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরেই তিনি সার্জারির মতো বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ডেইলি মেইলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টমাস বলেন, "আমি আনন্দিত যে আমি আজকের দিনে কিশোর নই। কারণ তা হলে হয়তো অল্প বয়সেই হরমোন গ্রহণ করতাম এবং দ্রুত সার্জারি করে ফেলতাম। ফলে আজ আমার যে সন্তানরা আছে, তাদের হয়তো আমি পেতাম না।" তিনি আরও বলেন, এত বেশি তথাকথিত 'সমর্থন' দেখে হয়তো অপরিপক্ব বয়সেই অন্যদের মতো তিনিও একই কাজ করতেন। তার মতে, অল্প বয়সে মনে হয় যেন সবকিছু বুঝে ফেলেছি, কিন্তু বাস্তবে ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত মানুষের মস্তিষ্কের পুরোপুরি বিকাশ ঘটে না। বয়ঃসন্ধিকালীন ব্লকার বা হরমোন ট্রিটমেন্ট নিয়ে ফেললে ভবিষ্যতে নিজের পরিবার গঠনের সম্ভাবনা চিরতরে মুছে যায় বলে তিনি কিশোর-কিশোরীদের সতর্ক করেন। জন্মগতভাবে নারী টমাস পরবর্তীতে জেন্ডার-অ্যাফার্মিং টপ সার্জারি করান। ২০০৭ সালে দাড়িওয়ালা ও গর্ভবতী অবস্থায় তার ছবি প্রকাশ্যে এলে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। প্রথম স্ত্রী ন্যান্সি জরায়ু অস্ত্রোপচারের কারণে সন্তান জন্মদানে অক্ষম হওয়ায় টমাস নিজেই গর্ভধারণের সিদ্ধান্ত নেন এবং প্রথম 'বৈধ' গর্ভবতী পুরুষ হিসেবে পরিচিতি পান। ২০০৮ সালে প্রথম সন্তান জন্ম দেওয়ার পর ২০১২ সালে বিচ্ছেদের আগ পর্যন্ত এই দম্পতির ঘরে আরও দুই সন্তান আসে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় স্ত্রী অ্যাম্বারের সঙ্গে তার চতুর্থ সন্তান জন্ম নেয় (অ্যাম্বার জন্ম দেন)। টমাস জানান, তিনি কখনোই নিজেকে মা হিসেবে অনুভব করেননি, বরং তিনি ছিলেন পৃথিবীতে নতুন প্রাণ আনার একটি মাধ্যম মাত্র। সমাজে তার ভূমিকা সর্বদা একজন স্বামী ও বাবারই ছিল এবং আছে। তরুণ প্রজন্মের জন্য ট্রান্সজেন্ডার চিকিৎসাসেবা বর্তমানে একটি অত্যন্ত বিতর্কিত বিষয়। সমালোচকদের মতে, স্থায়ী পরিবর্তনের মতো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য শিশু-কিশোররা যথেষ্ট পরিপক্ব নয়। অন্যদিকে, সমর্থকদের দাবি—এই চিকিৎসা লিঙ্গগত অসন্তোষ (জেন্ডার ডিসফোরিয়া) দূর করে মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। উল্লেখ্য, ১৯ বছরের কম বয়সীদের জেন্ডার পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সীমিত করার লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন, তবে সে পদক্ষেপটি বর্তমানে ফেডারেল আদালতের নির্দেশে সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে।
মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (বার্থরাইট সিটিজেনশিপ) নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের বিপক্ষে রায় দেওয়ার পর এবার বিষয়টি কংগ্রেসের মাধ্যমে আইনে পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, সুপ্রিম কোর্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রাখলেও কংগ্রেস চাইলে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এই নীতিতে পরিবর্তন আনতে পারে। তিনি কংগ্রেসকে অবিলম্বে এ বিষয়ে কাজ শুরু করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এমন উদ্যোগে তিনি “পূর্ণ ও সর্বাত্মক সমর্থন” দেবেন। বিবৃতিতে ট্রাম্প দাবি করেন, বর্তমান জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য “ব্যয়বহুল ও অন্যায্য”। তাঁর মতে, এ নীতিতে পরিবর্তন আনতে দীর্ঘ সাংবিধানিক সংশোধনের প্রয়োজন নেই; কংগ্রেস আইন পাস করলেই তা সম্ভব। এর আগে মঙ্গলবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার নির্বাহী আদেশ কার্যকর করার পথ বন্ধ করে দেয়। আদালত নিম্ন আদালতের সেই স্থগিতাদেশ বহাল রাখে, যার ফলে নির্বাহী আদেশটি আপাতত কার্যকর করা যাচ্ছে না। ট্রাম্প প্রশাসনের ওই নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছিল, কোনো শিশুর বাবা-মায়ের কেউই যদি মার্কিন নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিনকার্ডধারী) না হন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সেই শিশুকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একাধিক অঙ্গরাজ্য, নাগরিক অধিকার সংগঠন ও অভিবাসী অধিকারকর্মীরা আদালতের শরণাপন্ন হন। মামলাকারীদের দাবি ছিল, ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী (১৪তম সংশোধনী)-এর পরিপন্থী। মার্কিন গৃহযুদ্ধের পর প্রণীত এই সংশোধনীতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া এবং দেশটির আইনগত এখতিয়ারের আওতাভুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী। রায়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস ১৮৯৮ সালের ঐতিহাসিক United States v. Wong Kim Ark মামলার নজির উল্লেখ করেন। ওই রায়ে আদালত বলেছিল, বিদেশি নাগরিকের সন্তান হলেও যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলে তিনি জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্বের অধিকারী। প্রধান বিচারপতি তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই সাংবিধানিক ব্যাখ্যাই অনুসরণ করা হচ্ছে এবং জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার মতো কোনো সুস্পষ্ট সাংবিধানিক ভিত্তি আদালত খুঁজে পায়নি। তবে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও ট্রাম্প বিষয়টি থেকে সরে আসছেন না। বরং তিনি এখন কংগ্রেসের মাধ্যমে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আইনসভা চাইলে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বর্তমান ব্যবস্থা পরিবর্তন করা সম্ভব। বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাহী উদ্যোগ আপাতত স্থগিত থাকলেও জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক এখনো শেষ হয়নি। বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেসে নতুন করে আলোচনা শুরু হলে তা আগামী দিনের অভিবাসন নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সীমান্তবর্তী শহর ডেল রিওতে পাঁচ সন্তানের জননী ক্যারোলিন "ক্যারো" পেনা হত্যাকাণ্ডে ১৯ বছর বয়সী আমায়া "কুকি" ডিয়াজই ছুরিকাঘাত করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। আদালতে জমা দেওয়া নথির বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক পোস্ট। পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ৩২ বছর বয়সী পেনার সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে কুকি ডিয়াজ তাকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করেন। এ ঘটনায় কুকির পাশাপাশি তার ২১ বছর বয়সী বোন কিটি মিয়া ডিয়াজ এবং তাদের বন্ধু ২১ বছর বয়সী কিয়ান্দ্রা রেনি ফাজের বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। শুক্রবার টেক্সাসের একটি আদালত তিন আসামির প্রত্যেকের জামিন পাঁচ মিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করেন। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, কিয়ান্দ্রা ফাজ পুলিশকে জানান, পেনা তার বাড়িতে গিয়ে ঝগড়া বাধানোর চেষ্টা করেছিলেন। তদন্তকারীরা পরে ঘটনাস্থলের নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও সংগ্রহ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, পেনার কালো রঙের ডজ পিকআপ ট্রাকটি ফাজের বাড়ির সামনে এসে থামে। কিছুক্ষণ পর একটি কালো ক্রাইসলার ৩০০ গাড়িতে করে কুকি ও কিটি সেখানে পৌঁছান। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়ি থেকে নেমেই কুকি ডিয়াজ পেনার দিকে এগিয়ে যান। তার ডান হাতে ছুরির মতো একটি ধারালো বস্তু ছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা। ভিডিওতে দেখা যায়, কুকি পেনার পিঠে আঘাত করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে তার জামা রক্তে ভিজে যায়। এরপর কিটি ডিয়াজ ও কিয়ান্দ্রা ফাজও হামলায় অংশ নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা পেনাকে মারধর করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। আহত পেনাকে তার ভাতিজা স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে হামলার প্রায় সাত ঘণ্টা পর, রাত ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার আদালতে হাজির করা হলে তিন অভিযুক্তই নিজেদের পক্ষে আদালত-নিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আবেদন করেন।