- প্রচ্ছদ
- Topic
#সম্পর্কেরদূরত্ব
প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান ধীরে ধীরে বাবা-মায়ের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে কি না, তা সব সময় সহজে বোঝা যায় না। কখনো যোগাযোগ কমে যাওয়া, পারিবারিক অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকা কিংবা নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ খবর আর বাবা-মাকে সরাসরি না জানানোর মতো ছোট পরিবর্তন থেকেই সম্পর্কের দূরত্বের ইঙ্গিত মিলতে পারে। পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব লক্ষণ শুরুতেই বুঝতে পারলে সমস্যা নিয়ে কথা বলা এবং সম্পর্ক আরও খারাপ হওয়ার আগেই সমাধানের চেষ্টা করা সম্ভব হতে পারে। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ৪ হাজার ৩৯৫ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত ইউগভের এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির প্রায় ১০ জনের মধ্যে চারজন অন্তত একজন ঘনিষ্ঠ পরিবারের সদস্যের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন সম্পর্কের কথা জানিয়েছেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ২৪ শতাংশ ভাই বা বোনের সঙ্গে, ১৬ শতাংশ বাবা বা মায়ের সঙ্গে এবং ১০ শতাংশ নিজের সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন থাকার কথা বলেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, পারিবারিক সম্পর্কের দূরত্ব কখনো হঠাৎ তৈরি হয়েছে বলে মনে হতে পারে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এর আগে আচরণ ও যোগাযোগে কিছু পরিবর্তন দেখা দেয়। তবে এসব পরিবর্তন মানেই যে সন্তান বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইছে, তা নয়। ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, নতুন জীবন শুরু করা কিংবা স্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে ওঠার কারণেও সন্তান আগের তুলনায় কম যোগাযোগ করতে পারে। ভার্জিনিয়ার ভিয়েনা শহরের লাইসেন্সপ্রাপ্ত দম্পতি ও পারিবারিক থেরাপিস্ট মেরি ম্যাকলাফলিন বলেন, প্রাথমিক লক্ষণগুলোর একটি হতে পারে বাবা-মায়ের সঙ্গে নিজের জীবনের কথা ভাগ করে নেওয়ার আগ্রহ কমে যাওয়া। আগে সন্তান হয়তো ভ্রমণের পরিকল্পনা, নতুন সম্পর্ক কিংবা কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতির খবর সবার আগে বাবা-মাকে জানাত। কিন্তু ধীরে ধীরে বাবা-মা এসব খবর অন্যদের কাছ থেকে জানতে পারেন। ম্যাকলাফলিনের মতে, তখন সন্তান যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ না করলেও নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আর আগের মতো সরাসরি বাবা-মাকে জানাতে চাইছে না—এমন পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। পারিবারিক ছুটির দিন, জন্মদিন কিংবা বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়াও সম্ভাব্য সতর্কসংকেত হতে পারে। একইভাবে ফোনকলের উত্তর না দেওয়া, বার্তার জবাব দিতে দীর্ঘ সময় নেওয়া কিংবা যোগাযোগকে সংক্ষিপ্ত ও অনিয়মিত করে ফেলার মতো আচরণও সম্পর্কের দূরত্বের ইঙ্গিত দিতে পারে। কখনো কখনো এই পরিবর্তন এতটাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে ভাইবোন, দাদা-দাদি, নানা-নানি বা পরিবারের অন্য সদস্যরাও মন্তব্য করেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ওই সন্তানকে দেখছেন না বা তাঁর খবর পাচ্ছেন না। ম্যাকলাফলিন আরও বলেন, কোনো সন্তান আগে পরিবারের সঙ্গে ছবি তুলতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আগ্রহী থাকলেও পরে বারবার ছবি তোলার সময় সরে যেতে পারে। এমন আচরণ থেকে বোঝা যেতে পারে, সে নিজেকে পরিবারের অংশ হিসেবে দেখার পরিবর্তে আলাদা পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে। তবে একটি নির্দিষ্ট আচরণ দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না; পরিস্থিতি ও সম্পর্কের সামগ্রিক চিত্র বিবেচনা করা জরুরি। পেনসিলভানিয়াভিত্তিক থেরাপিস্ট ও ব্লাইথ ল্যান্ড্রি কোচিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা ব্লাইথ ল্যান্ড্রি বলেন, সন্তানের নতুন সামাজিক গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরও পারিবারিক সম্পর্কে পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে নতুন বন্ধুদের মধ্যে কেউ যদি কঠিন বিষয় নিয়ে সরাসরি আলোচনার পরিবর্তে সম্পর্ক থেকে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেয়, তাহলে তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে বলে তিনি মনে করেন। ল্যান্ড্রি আরও উল্লেখ করেন, অতীতের ঘটনাগুলোকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করা শুরু করাও একটি লক্ষণ হতে পারে, যাতে আগের অভিজ্ঞতাগুলোকে বাস্তব ঘটনার তুলনায় আরও ক্ষতিকর হিসেবে তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া নাতি-নাতনিদের সঙ্গে বাবা-মায়ের দেখা করার সুযোগ কমিয়ে দেওয়াও সম্পর্কের দূরত্বের একটি সম্ভাব্য ইঙ্গিত হতে পারে। তাঁর মতে, সম্পর্কের কথাবার্তার ধরনে বড় পরিবর্তন আসা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। আগে যে সন্তান স্বাভাবিকভাবে কথা বলত, তার আচরণ হঠাৎ অনেক বেশি কঠোর বা বিরূপ হয়ে গেলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। তবে এই পরিবর্তনের পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা বোঝার জন্য অনুমানের বদলে খোলামেলা আলোচনাই বেশি কার্যকর হতে পারে। স্বাধীনতা আর সম্পর্কের দূরত্বের পার্থক্য ২০২৪ সাল থেকে নিজের প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন থাকার অভিজ্ঞতা রয়েছে কানেকটিকাটের বাসিন্দা লরা ওয়েলিংটনের। তাঁর মতে, সন্তান বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে স্বাধীন হতে চাওয়া এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রবণতার মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হতে পারে। ওয়েলিংটন বলেন, সন্তান যখন কৈশোর পেরিয়ে তরুণ বয়সে প্রবেশ করে, তখন নিজের জীবন গড়তে এবং নিজস্ব পরিচয় তৈরি করতে বাবা-মায়ের কাছ থেকে কিছুটা দূরে সরে যেতে পারে। অনেক অভিভাবকই এই পরিবর্তনকে স্বাভাবিক বলে ধরে নিয়ে সন্তানকে স্বাধীনতা দিতে চান। তাঁরা প্রতিটি বিষয়ে বিরোধে না জড়িয়ে কোন বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলবেন, তা বেছে নিতে চেষ্টা করেন। কারণ প্রতিটি বিষয়ে বিরোধ তৈরি হলে যোগাযোগ আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তবে ওয়েলিংটনের মতে, সন্তানের আচরণে যদি বাবা-মায়ের প্রতি শ্রদ্ধার অভাব দেখা যায়, তাহলে সেটিও উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তাঁর বর্ণনায়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সন্তান এমন মনোভাব দেখাতে পারে যেন সে সবকিছু জানে, আর বাবা-মা কিছুই বোঝেন না। বাবা-মায়ের অভিজ্ঞতা বা মতামতকে গুরুত্ব না দেওয়া এবং তাঁদের কথা বলার সুযোগ না রাখাও সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে। রাজনৈতিক মতাদর্শ, ধর্মীয় বিশ্বাস কিংবা জীবনযাপনের ধরনে বড় পার্থক্যও বাবা-মা ও প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতে পারে বলে ওয়েলিংটন মনে করেন। কোনো পরিবারে সন্তানের দৃষ্টিভঙ্গি বাবা-মায়ের থেকে আলাদা হতে পারে; আবার উল্টোভাবে বাবা-মায়ের কঠোর মতাদর্শও সম্পর্কের বিরোধ বাড়াতে পারে। তবে মতের অমিল থাকলেই সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হবে, এমন নয়। মতপার্থক্য সামলানোর ধরন এখানে গুরুত্বপূর্ণ। টেক্সাসের মনোবিজ্ঞান গবেষক রিচার্ড ব্লেক, যিনি উদ্বেগ ও পারিবারিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হওয়া নিয়ে কাজ করেন, বলেন, অন্যের ভিন্ন মতামত বিবেচনা করতে অনিচ্ছুক হওয়াও সম্পর্কের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তাঁর মতে, কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান যদি আগে থেকেই পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে বারবার কথা বলা বন্ধ করে দেয় বা সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়টি নিয়ে গর্ব করে, তাহলে বাবা-মায়েরও বিষয়টি খেয়াল করা উচিত। তবে এই আচরণ দেখেই ভবিষ্যতে বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হবে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। যোগাযোগের সমস্যায় কী করবেন ব্লেকের মতে, বাবা-মা ও সন্তানের মধ্যে চলমান যোগাযোগের সমস্যা সম্পর্কের দূরত্ব বাড়াতে পারে। সন্তান যদি মনে করে, বাবা-মা তার কথা শোনেন না, তার দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করেন না কিংবা নিজের মতামত চাপিয়ে দেন, তাহলে বিরোধ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এ অবস্থায় বাবা-মায়ের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে মনোযোগ দিয়ে সন্তানের কথা শোনা, মাঝপথে বাধা না দেওয়া এবং সে যা বলেছে, তা নিজের ভাষায় পুনরায় তুলে ধরে বোঝার চেষ্টা করা। এরপর সহজভাবে জানতে চাওয়া যেতে পারে, তার বলার মতো আরও কিছু আছে কি না। এর মাধ্যমে সন্তান নিজের বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করার সুযোগ পেতে পারে। ব্লেকের মতে, সন্তানের উদ্বেগ বারবার উপেক্ষা করলে বিরোধ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই সন্তানের বক্তব্যের সঙ্গে একমত না হলেও সেটি মনোযোগ দিয়ে শোনা জরুরি। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে সব সময় স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। কিছু অভিভাবক জানান, তাঁরা সন্তানের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ককে খুব ঘনিষ্ঠ মনে করতেন। এরপর হঠাৎ এমন বার্তা বা চিঠি পেয়েছেন, যেখানে আর যোগাযোগ না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ল্যান্ড্রির পরামর্শ, সন্তানের আচরণে দূরত্বের লক্ষণ দেখা দিলে শুধু তার ভুল খোঁজার পরিবর্তে নিজের ভূমিকাও পর্যালোচনা করা উচিত। বাবা-মায়ের কোনো কথা বা আচরণে সন্তান কষ্ট পেয়েছে কি না, ভুল বোঝাবুঝি দূর করার সুযোগ আছে কি না, কিংবা সম্পর্ক মেরামতের জন্য এখনই কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব কি না—এসব প্রশ্ন নিয়ে সৎভাবে ভাবতে হবে। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যের মূল কথা হলো, দূরত্বের প্রতিটি লক্ষণকে সম্পর্ক ছিন্ন করার নিশ্চিত সংকেত হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং পরিবর্তনগুলোকে আলোচনার সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। দোষারোপ না করে মনোযোগ দিয়ে শোনা, পারস্পরিক সীমারেখাকে সম্মান করা এবং প্রয়োজনে নিজের আচরণ পর্যালোচনা করা—এসব পদক্ষেপ সম্পর্কের সমস্যা বোঝার এবং তা সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।