ট্রাম্পের দাবি মিথ্যা, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখনো শক্তিশালী: মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের যে দাবি করেছেন, তার সাথে ভিন্নমত পোষণ করছে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেরই গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সিএনএন-এর প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কয়েক সপ্তাহের ক্রমাগত মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলা সত্ত্বেও ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এখনো অক্ষত রয়েছে।
মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, তেহরানের অস্ত্রাগারে এখনো হাজার হাজার 'ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন' বা আত্মঘাতী ড্রোন মজুদ রয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রগুলো সতর্ক করে বলেছে, ইরান এখনো পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করার সামর্থ্য রাখে।
গত বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন মোতায়েনের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। তিনি জানিয়েছিলেন, ইরানের অস্ত্র কারখানা এবং উৎক্ষেপণ ব্যবস্থাগুলোর খুব সামান্যই এখন অবশিষ্ট আছে। তবে গোয়েন্দা তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। অনেক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ভূগর্ভস্থ টানেল বা পাহাড়ের গুহায় লুকানো থাকায় সেগুলোকে পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ক্রুজ মিসাইলগুলোও তেমন একটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। এই মিসাইলগুলো হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি 'অপারেশন এপিক ফিউরি' (Operation Epic Fury) শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইরানে ১২,৩০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।
যদিও মার্কিন হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার মৃত্যু হয়েছে বলে অসমর্থিত খবর পাওয়া গেছে, তবুও দেশটির সামরিক কাঠামো এখনো কার্যকর রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ট্রাম্প প্রশাসন আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে সামরিক অভিযান শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও, বর্তমান গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই সময়সীমাকে অনেকেই 'অবাস্তব' বলে অভিহিত করছেন।
এদিকে, তেহরান থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, ইরান এখনো ইসরায়েল এবং ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও অনিশ্চিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreবড় ধরনের যু দ্ধের সম্ভাবনা মাথায় রেখে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে অন্তত ৯০ দিন বাইরের সহায়তা ছাড়াই সচল রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন। বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হলেও সামরিক কার্যক্রম যেন বন্ধ না হয়, সে লক্ষ্যেই ‘ফোর্ট্রেস’ (FORTRESS) উদ্যোগের আওতায় বিভিন্ন বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে ৯০ দিনের এই সক্ষমতা সব প্রধান সামরিক ঘাঁটির জন্য চূড়ান্তভাবে বাধ্যতামূলক হয়েছে কি না, তা এখনো প্রকাশ্যে পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের পর্যালোচনা করা নথির বরাতে জানা গেছে, সম্ভাব্য বড় সংঘা তে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা—দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বেসামরিক পরিষেবা অচল হয়ে পড়লেও সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম চালু রাখাই ফোর্ট্রেস উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল বলেছেন, জাতীয় প্রতিরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনায় প্রচলিত বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে শুধু ঘাঁটির আলো বা যন্ত্রপাতি নয়, সামরিক যোগাযোগ, পানি সরবরাহ, রসদ পরিবহন, উৎপাদনব্যবস্থা এবং কমান্ড পরিচালনাও ব্যাহত হতে পারে। এ কারণে সামরিক ঘাঁটিগুলোকে বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর নির্ভরতা কমানোর উপযোগী করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বড় ব্যাটারি সংরক্ষণব্যবস্থা, মাইক্রোগ্রিড এবং বহনযোগ্য পারমাণবিক চুল্লি ব্যবহারের সম্ভাবনা। মাইক্রোগ্রিড এমন একটি বিদ্যুৎব্যবস্থা, যা প্রয়োজন হলে মূল বিদ্যুৎ গ্রিড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েও নিজস্ব ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রাখতে পারে। পরিকল্পনাটি শুধু বিদ্যুতের নিশ্চয়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘ সময় ধরে বাইরের সহায়তা না পেলেও সামরিক ঘাঁটিগুলো যেন পানি, জ্বালানি ও যোগাযোগের প্রয়োজন মেটাতে পারে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। কারণ এসব পরিষেবার কোনো একটি বন্ধ হয়ে গেলে সামরিক যানবাহন চালানো, তথ্য আদান-প্রদান, সরঞ্জাম পরিবহন এবং অন্যান্য জরুরি কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। ফোর্ট্রেস উদ্যোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সামরিক সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় উপকরণের কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা। সম্ভাব্য সংঘা তে আন্তর্জাতিক সরবরাহপথ বন্ধ হয়ে গেলে যাতে জরুরি সামগ্রী দ্রুত ফুরিয়ে না যায়, সে জন্য গোলাবারুদ, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং চিকিৎসাসামগ্রী সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। কত পরিমাণ উপকরণ মজুত রাখতে হবে, তা নির্ভর করবে সংঘা তের সময় সেগুলো কত দ্রুত ব্যবহার হবে এবং নতুন সরবরাহ পেতে কত সময় লাগবে তার ওপর। অর্থাৎ, শুধু বড় মজুত গড়ে তোলাই নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলোর পরিমাণ নির্ধারণের বিষয়টিও পরিকল্পনার অংশ। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক উপকরণের জন্য একাধিক সরবরাহ ও উৎপাদনের পথ নিশ্চিত করতে চায় পেন্টাগন। কোনো একটি কারখানা, সরবরাহকারী বা উৎপাদনব্যবস্থা অচল হয়ে পড়লেও যাতে বিকল্প উৎস থেকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করা যায়, সে জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের ক্ষেত্রে অন্তত দুটি যোগ্য সরবরাহ বা উৎপাদনপথ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে। যু দ্ধকালীন উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে বেসামরিক কারখানাগুলোকেও প্রস্তুত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ‘সিভিল রিজার্ভ ম্যানুফ্যাকচারিং নেটওয়ার্ক’-এর মাধ্যমে সংকটের সময় কোন বেসরকারি কারখানাগুলো প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যবহার করা যাবে, তা চিহ্নিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য আগেই কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা যাচাই, প্রযুক্তিগত মান নির্ধারণ, সাইবার নিরাপত্তার ব্যবস্থা, চুক্তির শর্ত এবং উৎপাদন পরিবর্তনের প্রক্রিয়া প্রস্তুত রাখার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য যাচাই করতে নিয়মিত পরীক্ষা ও জরুরি পরিস্থিতির মহড়ার ব্যবস্থাও পরিকল্পনায় রয়েছে। সামরিক যোগাযোগ, নেভিগেশন ও স্যাটেলাইট ব্যবস্থার নিরাপত্তাও ফোর্ট্রেস উদ্যোগের আওতায় গুরুত্ব পাচ্ছে। জিপিএস সংকেত বাধাগ্রস্ত হলে কিংবা মহাকাশভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে কীভাবে সামরিক কার্যক্রম চালু রাখা যাবে, সে বিষয়েও প্রস্তুতি নেওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতিতে এই উদ্যোগের গুরুত্ব হলো, সম্ভাব্য দীর্ঘস্থায়ী ও বহুমুখী সংঘা তের সময় একসঙ্গে একাধিক সংকট দেখা দিলেও গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সচল রাখার সক্ষমতা তৈরি করা। তবে পরিকল্পনার সব উপাদান বাস্তবায়িত হয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশিত হয়নি। আপাতত বিদ্যুৎ, সরবরাহ, উৎপাদন ও যোগাযোগব্যবস্থায় বিকল্প সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপরই উদ্যোগটির মূল জোর।
টেক্সাসের হিউস্টনের শ্রমবাজারে হঠাৎ মন্দার সংকেত, এক মাসে কমেছে ৭ হাজার ৩০০ কর্মসংস্থান
নিউইয়র্ক সিটির ৩ হাজার সরকারি গাড়িতে বসছে গতি নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি, কমবে দ্রুতগতিতে চালানোর প্রবণতা
গ্রিন কার্ডের আবেদনে বয়স ২১ হলেই বিপদ, সময়সীমা নিয়ে নতুন সতর্কতা যুক্তরাষ্ট্রে
আগামীকাল বুধবার (২৮ অক্টোবর) ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার কথা অক্টোবর মাসের শেষ দফার সোশ্যাল সিকিউরিটি পেমেন্ট। যাঁদের জন্ম মাসের ২১ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে এবং যাঁরা নির্ধারিত সময়সূচির আওতায় রয়েছেন, তাঁরা এদিন তাঁদের নিয়মিত অবসরকালীন ভাতা পাবেন। ব্যক্তির কর্মজীবনের আয় ও অবসরের বয়সের ওপর নির্ভর করে মাসিক পেমেন্টের পরিমাণ ৫ হাজার ১৮১ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে এই সর্বোচ্চ অঙ্ক সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। মার্কিন সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এসএসএ) ২০২৬ সালের পেমেন্ট ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, অক্টোবর মাসের ভাতা তিন ধাপে দেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে ১৪ অক্টোবর অর্থ পেয়েছেন মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে জন্ম নেওয়া যোগ্য সুবিধাভোগীরা। দ্বিতীয় ধাপে ২১ অক্টোবর পেমেন্ট দেওয়া হয়েছে ১১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের। আর শেষ ধাপে আগামী ২৮ অক্টোবর অর্থ পাবেন ২১ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে জন্ম নেওয়া সুবিধাভোগীরা। তবে সবার সোশ্যাল সিকিউরিটি পেমেন্ট জন্মতারিখ অনুযায়ী আসে না। যাঁরা ১৯৯৭ সালের মে মাসের আগে সুবিধা পাওয়া শুরু করেছিলেন, তাঁদের সাধারণত মাসের ৩ তারিখে অর্থ দেওয়া হয়। একইভাবে যাঁরা সোশ্যাল সিকিউরিটির পাশাপাশি সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম বা এসএসআই পান, তাঁদের পেমেন্টের নিয়মও আলাদা। তাই একজন সুবিধাভোগীর অর্থ ঠিক কোন তারিখে জমা হবে, তা নির্ভর করে তিনি কোন ধরনের সুবিধা পাচ্ছেন এবং কখন থেকে তা গ্রহণ করছেন, তার ওপর। এবারের পেমেন্টে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ১৮১ ডলারের বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। এসএসএর সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে কোনো কর্মী ৭০ বছর বয়সে অবসরকালীন সুবিধা নেওয়া শুরু করলে এবং দীর্ঘ কর্মজীবনে সর্বোচ্চ করযোগ্য আয় অর্জনের শর্ত পূরণ করলে এই পরিমাণ মাসিক সুবিধা পাওয়ার উদাহরণ রয়েছে। একই শর্তে ৬২ বছর বয়সে অবসর নিলে সর্বোচ্চ সুবিধা হতে পারে ২ হাজার ৯৬৯ ডলার এবং পূর্ণ অবসর বয়সে সুবিধা গ্রহণ শুরু করলে ৪ হাজার ১৫২ ডলার। তবে শুধু ৭০ বছর বয়স হলেই ৫ হাজার ১৮১ ডলার পাওয়া যাবে না। একজন ব্যক্তি কত বছর কাজ করেছেন, কর্মজীবনে কত আয় করেছেন এবং সেই আয়ের ওপর কত সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্স দিয়েছেন, তার ভিত্তিতে মাসিক সুবিধার পরিমাণ নির্ধারিত হয়। ফলে নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, ক্যালিফোর্নিয়া কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য যেকোনো অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারী অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তির পেমেন্টের পরিমাণ আলাদা হতে পারে। অধিকাংশ সুবিধাভোগী সর্বোচ্চ অঙ্কের তুলনায় কম অর্থ পেয়ে থাকেন। এদিকে আগামী বছরের সোশ্যাল সিকিউরিটি পেমেন্ট নিয়েও নতুন ঘোষণা দিয়েছে এসএসএ। গত ১৪ অক্টোবর সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৭ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি ও এসএসআই সুবিধা ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়ানো হবে। কস্ট অব লিভিং অ্যাডজাস্টমেন্ট বা কোলা নামে পরিচিত এই বার্ষিক বৃদ্ধির মাধ্যমে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সুবিধার পরিমাণ সমন্বয় করা হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন সুবিধাভোগী এই সমন্বয়ের আওতায় আসবেন। নতুন হিসাবে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের গড় মাসিক সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা প্রায় ৭৫ ডলার বাড়বে বলে জানিয়েছে এসএসএ। বর্তমানে ২ হাজার ৯৫ ডলারের গড় সুবিধা বেড়ে আনুমানিক ২ হাজার ১৭০ ডলারে পৌঁছাবে। তবে এই ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি আগামীকালের পেমেন্টে যুক্ত হচ্ছে না। নতুন হার কার্যকর হবে ২০২৭ সালের জানুয়ারির সোশ্যাল সিকিউরিটি পেমেন্ট থেকে। এসএসআই সুবিধাভোগীরা নতুন হারের প্রথম অর্থ পাবেন ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর। নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারী বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রবীণ ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্য পেমেন্টের এই সময়সূচি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থ দিয়ে রেন্ট, মর্টগেজ, মেডিকেয়ার প্রিমিয়াম, ওষুধ কিংবা দৈনন্দিন খরচ পরিচালনা করেন, তাঁদের জন্য নির্ধারিত তারিখ জানা প্রয়োজন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী সবাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই সুবিধার যোগ্য নন। পর্যাপ্ত ওয়ার্ক ক্রেডিট এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়। যাঁরা ডাইরেক্ট ডিপোজিটের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করেন, তাঁদের পেমেন্ট সাধারণত নির্ধারিত তারিখে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার কথা। কোনো কোনো ব্যাংক নির্ধারিত সময়ের আগেও অর্থ ব্যবহারের সুযোগ দিতে পারে। তবে সেটি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিজস্ব ব্যবস্থা। নির্ধারিত তারিখে পেমেন্ট না এলে এসএসএ সাধারণত আরও তিন কর্মদিবস অপেক্ষা করে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়। সুবিধাভোগীরা নিজেদের পেমেন্টের তারিখ, মাসিক অর্থের পরিমাণ এবং আগামী বছরের বাড়তি সুবিধার তথ্য জানতে ‘মাই সোশ্যাল সিকিউরিটি’ অনলাইন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারেন। আগামী বছরের নতুন সুবিধার ব্যক্তিগত নোটিশ অনলাইনে ও ডাকযোগে পাঠানোর ব্যবস্থাও রয়েছে। ফলে নিজের পেমেন্ট কত বাড়বে, তা জানতে অনুমানের পরিবর্তে এসএসএর ব্যক্তিগত হিসাব যাচাই করাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়। সব মিলিয়ে আগামীকাল বুধবার অক্টোবর মাসের শেষ দফার সোশ্যাল সিকিউরিটি পেমেন্ট দেওয়া হচ্ছে। মাসের ২১ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে জন্ম নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট নিয়মের আওতায় থাকা সুবিধাভোগীরা অর্থ পাবেন। সর্বোচ্চ ৫ হাজার ১৮১ ডলারের হিসাবটি বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্য, সবার জন্য নতুন কোনো বোনাস নয়। আর ২০২৭ সালের ৩ দশমিক ৬ শতাংশ পেমেন্ট বৃদ্ধি কার্যকর হবে আগামী বছরের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী।
স্ন্যাপ ও মেডিকেইড সুবিধা ধরে রাখতে নিউ ইয়র্ক সিটির নতুন উদ্যোগ, চালু হলো বিশেষ ওয়েবসাইট
নিউইয়র্ক নাকি লস অ্যাঞ্জেলেস, উবার চালিয়ে কোথায় বেশি আয় হয়?
মিশিগানের ডেট্রয়েটে বাড়ির মালিকদের ১০০% পর্যন্ত কর মওকুফের সুযোগ, আবেদন শেষ ৬ নভেম্বর
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যে গোপন গ্রুপ চ্যাটে বর্ণবাদী বার্তা আদান-প্রদান এবং কৃষ্ণাঙ্গদের বেশি সংখ্যায় থামানো নিয়ে প্রতিযোগিতার অভিযোগ সামনে আসার পর ছয় পুলিশ কর্মকর্তার পদত্যাগের খবর পাওয়া গেছে। শার্লট-মেকলেনবার্গ পুলিশ বিভাগের সাত কর্মকর্তাকে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ছয়জন পদত্যাগ করেছেন, আর একজন বেতন ছাড়াই সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় আছেন। বিষয়টি সামনে আসার পর পুলিশ বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অভ্যন্তরীণ তদন্তের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অতীতের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করছেন। ঘটনাটি সামনে আসে সম্পূর্ণ আলাদা একটি তদন্তের সূত্র ধরে। নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা শেঠ এলিয়টের বিরুদ্ধে পুলিশের স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকারী ক্যামেরা ব্যবস্থার তথ্য অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত করছিল। অভিযোগ ছিল, মাদক পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তিকে সহায়তা করতে তিনি ওই ব্যবস্থার তথ্য ব্যবহার করেছিলেন। তদন্তের অংশ হিসেবে তাঁর মুঠোফোনের তথ্য পরীক্ষা করতে গিয়ে কর্মকর্তারা বর্ণবাদী বার্তা-সম্বলিত একটি গ্রুপ চ্যাট খুঁজে পান। পরে সেই বার্তা শার্লট-মেকলেনবার্গ পুলিশ বিভাগকে জানানো হলে পৃথক তদন্ত শুরু হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ওই চ্যাটে কয়েকজন কর্মকর্তা কতজন কৃষ্ণাঙ্গ চালককে গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি বা জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ফেলতে পারেন, তা নিয়ে প্রতিযোগিতা করতেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বার্তাগুলোতে বর্ণবাদী গালিগালাজের পাশাপাশি যৌনতা ও ধর্ম নিয়ে বিদ্বেষমূলক মন্তব্যও ছিল বলে জানিয়েছেন পুলিশপ্রধান এস্টেলা প্যাটারসন। তাঁর ভাষায়, ঘটনাটি গুরুতর ও গভীরভাবে উদ্বেগজনক। বার্তাগুলো কয়েক বছর আগের হলেও, এলিয়টের বিরুদ্ধে পৃথক তদন্ত চলার সময়ই প্রথম সেগুলো বিভাগের নজরে আসে। শার্লট-মেকলেনবার্গ পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন পরে পদত্যাগ করেন। সপ্তম কর্মকর্তা শেঠ এলিয়ট আগের তদন্তের সময়ই পদত্যাগ করেছিলেন। ফলে গ্রুপ চ্যাটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাতজনের মধ্যে মোট ছয়জনের পদত্যাগের খবর প্রকাশিত হয়েছে; অন্য একজন বেতন ছাড়াই সাময়িক বরখাস্ত রয়েছেন। তাঁর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সিভিল সার্ভিস বোর্ডের পর্যালোচনা বাকি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রুপ চ্যাটের বার্তা বিনিময়ের অভিযোগে ফৌজদারি মামলা হয়েছে, এমন তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। পুলিশপ্রধান প্যাটারসন জানিয়েছেন, বিভাগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গাড়ি থামানোর তথ্য, গ্রেপ্তারের নথি, অভিযোগ এবং শরীরে থাকা ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও পর্যালোচনা করেছে। এখন পর্যন্ত ওই পর্যালোচনায় বাসিন্দাদের অধিকার লঙ্ঘন বা মামলার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে সম্ভাব্য নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিনি কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের সহায়তা চেয়েছেন। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় কাজ করার সনদ বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। এদিকে, কর্মকর্তাদের অতীতের মামলাগুলো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কারণে আগে পরিচালিত তদন্ত, আটক কিংবা গ্রেপ্তারের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইনজীবীরা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা থাকা মামলাগুলো পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউটরদের কার্যালয়। তবে কতটি মামলা পুনরায় খোলা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ বিভাগ বলেছে, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং কর্মকর্তাদের আচরণে আরও কোনো অনিয়ম ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্র: ডব্লিউএফএএই, স্পেকট্রাম নিউজ, শার্লট-মেকলেনবার্গ পুলিশ বিভাগ।
ফ্লোরিডায় ৩ বছরের খুদে ফুটবলারের একের পর এক গোল, বিরোধের জেরে মাঠে ডাকা হলো পুলিশ
নিউ ইয়র্কের ব্রঙ্কসে মাসে ৭৩২ ডলারে বাসা ভাড়ার সুযোগ, চলছে আবাসন লটারি