সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে পাচার চক্রে জড়িত অভিযোগে ব্রাজিল থেকে ধরে আনা হলো বাংলাদেশিকে

Unknown প্রকাশ: এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ২৩:৫৩
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

আন্তর্জাতিক মানব পাচার নেটওয়ার্কে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে এক বাংলাদেশি নাগরিককে ব্রাজিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ৩৯ বছর বয়সী সাইফুল ইসলামকে প্রত্যর্পণের পর টেক্সাসের লারেডোতে ফেডারেল আদালতে হাজির করা হয়েছে।


কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, তিনি এমন একটি সংঘবদ্ধ পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যারা দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা ও মেক্সিকোর বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে অভিবাসীদের অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সহায়তা করত। তদন্তে বলা হয়েছে, ব্রাজিলের বিভিন্ন এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করা লোকজনকে সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হতো।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে পৌঁছানোর পর অনেককে রিও গ্রান্ডে নদী পার হয়ে অথবা সীমান্তের বেড়া অতিক্রম করে প্রবেশের নির্দেশ দেওয়া হতো। পুরো কার্যক্রমে অর্থের বিনিময়ে পরিবহন, সমন্বয় ও যোগাযোগের ব্যবস্থা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিবাসী পাচার, অবৈধ প্রবেশে সহায়তা এবং ষড়যন্ত্রসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড হতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।


এ ঘটনায় তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (HSI), কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন, ইন্টারপোল এবং ব্রাজিলের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে কাজ করেছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমেই তাকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো সম্ভব হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।


মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, সীমান্তপথে মানব পাচার ও আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ইরানকে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি, পাল্টা বড় হামলার প্রস্তুতির তেহরানের
ইরানকে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি, পাল্টা বড় হামলার প্রস্তুতির তেহরানের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে চুক্তিতে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, তা না হলে দেশটির অর্থনীতি ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে এবং ইরানের নেতৃত্বও নির্মূল হতে পারে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ঘিরে ইরানের প্রেসিডেন্ট ও শীর্ষ কর্মকর্তারা নিউইয়র্কে আসার প্রস্তুতির মধ্যেই এই হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প।   রোববার ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদকের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় ট্রাম্প ইরানের নেতাদের সামনে চুক্তি করা অথবা অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংসের ঝুঁকি নেওয়ার বিকল্প রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। একই সময়ে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে নিউইয়র্কে বৈঠকের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।   অন্যদিকে, ইরানের সামরিক কমান্ড দাবি করেছে, তাদের কাছে তথ্য রয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি পাল্টা হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। যেসব আঞ্চলিক দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের ভূখণ্ড বা স্থাপনা ব্যবহারের সুযোগ দেবে, তাদেরও সংঘাতের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরান।   এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। কাতারে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির পর তার নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা রয়েছে। কাতার দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং নতুন করে আলোচনা শুরুর জন্য প্রস্তাব আদান-প্রদান করছে।    ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনায় ফেরার কয়েকটি শর্তও জানানো হয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ, জব্দ করা ইরানি অর্থ ছাড় এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি রয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়টিও আগের চুক্তির বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত করেছে তেহরান।    ফলে একদিকে ওয়াশিংটন অর্থনৈতিক চাপ ও সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে তেহরানকে চুক্তিতে আনতে চাইছে, অন্যদিকে ইরান নতুন হামলার আশঙ্কা তুলে পাল্টা প্রতিরোধের বার্তা দিচ্ছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকের সময় দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা একই শহরে অবস্থান করায় কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে।    সাত মাস ধরে চলা এই সংঘাত এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় তেল ও গ্যাস পরিবহন নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।    Source: রয়টার্স, এপি, আল জাজিরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৩:৫৩
ডোরড্যাশ ডেলিভারি দিতে গিয়ে আইসিইর গুলিতে আহত ভেনেজুয়েলান যুবক

ডোরড্যাশ ডেলিভারি দিতে গিয়ে আইসিইর গুলিতে আহত ভেনেজুয়েলান যুবক

মার্কিন ডিপোর্টিদের জন্য আফ্রিকার হোটেল যেন দুঃস্বপ্নের কারাগার

মার্কিন ডিপোর্টিদের জন্য আফ্রিকার হোটেল যেন দুঃস্বপ্নের কারাগার

নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর আইসিসির বিরুদ্ধে বড় নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি ট্রাম্পের

নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর আইসিসির বিরুদ্ধে বড় নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি ট্রাম্পের

তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর ঘিরে মুখোমুখি বিএনপি-আওয়ামী লীগ
তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর ঘিরে মুখোমুখি বিএনপি-আওয়ামী লীগ, জ্যাকসন হাইটসে বাড়ল পুলিশ

তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরকে কেন্দ্র করে জ্যাকসন হাইটসে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে স্বাগত ফেস্টুন ছেঁড়া নিয়ে অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি স্লোগান এবং দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মুখোমুখি অবস্থানের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।   এর আগে জ্যাকসন হাইটসের একটি সড়কের পাশে তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে টাঙানো একটি ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে আওয়ামী লীগ-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে ফেস্টুনটি ছেঁড়া অবস্থায় দেখা যায়। বিএনপির নেতাকর্মীরা এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে ব্যানার বা ফেস্টুন না ছিঁড়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান।   এর কয়েক ঘণ্টা পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তারেক রহমানের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে জ্যাকসন হাইটসে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পৃথক অবস্থান নেন। আওয়ামী লীগ-সমর্থকদের বিভিন্ন স্লোগানের মধ্যে ‘ডিসেম্বরে আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ স্লোগান শোনা যায়। অন্যদিকে বিএনপির নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকেও আওয়ামী লীগবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।   পরে দুই দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হতে থাকলে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানসহ বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক স্লোগান দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ‘জয় বাংলা’ স্লোগানও শোনা যায়।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে এবং শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানায়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।   তারেক রহমান সোমবার নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে তাঁর এই সফর। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সফরকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসসহ বিভিন্ন এলাকায় আগে থেকেই বিএনপির পক্ষ থেকে স্বাগত কর্মসূচির প্রস্তুতি চলছিল।   অন্যদিকে তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠনও পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিল। ফলে তাঁর আগমনকে ঘিরে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে রাজনৈতিক তৎপরতা কয়েক দিন ধরেই বাড়ছিল।   জাতিসংঘের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে সামগ্রিকভাবেও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ সদর দপ্তর ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের কর্মসূচি ঘিরে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে।   জ্যাকসন হাইটসের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের হতাহত বা গুরুতর সংঘর্ষের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও নেতাকর্মীদের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ০:৩৪
টেক্সাসে আইসিই এজেন্টের গুলিতে ভেনেজুয়েলার ডোরড্যাশ চালক আহত, তদন্তের দাবি

টেক্সাসে আইসিই এজেন্টের গুলিতে ভেনেজুয়েলার ডোরড্যাশ চালক আহত, তদন্তের দাবি

লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিথিয়া রামনকে ঘিরে ‘গোপন এজেন্ডা’র অভিযোগ

নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ১,৩৬৯ ডলার ভাড়ায় অ্যাপার্টমেন্ট, লটারিতে আবেদনের শেষ সুযোগ ৮ অক্টোবর

নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ১,৩৬৯ ডলার ভাড়ায় অ্যাপার্টমেন্ট, লটারিতে আবেদনের শেষ সুযোগ ৮ অক্টোবর

মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে বিদ্যুৎ প্রকল্পের খরচ ১০৫ থেকে বেড়ে ৪০৭ মিলিয়ন ডলার, বোঝা গ্রাহকদের ঘাড়ে
মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে বিদ্যুৎ প্রকল্পের খরচ ১০৫ থেকে বেড়ে ৪০৭ মিলিয়ন ডলার, বোঝা গ্রাহকদের ঘাড়ে

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে একটি পাওয়ার লাইন বা বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন প্রকল্পের খরচ ১০৫ মিলিয়ন ডলার থেকে লাফিয়ে ৪০৭ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। তবে প্রকল্পটির ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান 'আন্ডার আর্মার' হঠাৎ করে চুক্তি থেকে সরে যাওয়ায় পুরো কাজটি বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।   এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে 'ম্যারিল্যান্ড অফিস অব পিপলস কাউন্সেল' (ওপিসি) নামের একটি ভোক্তা অধিকার রক্ষাকারী সংস্থা অভিযোগ তুলেছে যে, মাঝপথে আটকে যাওয়া এই বিপুল ব্যয়ের বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ঘাড়েই চাপানো হচ্ছে।   দ্য বাল্টিমোর সানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওপিসি দাবি করেছে যে স্থানীয় স্তরের ইউটিলিটি বা পরিষেবা প্রকল্পগুলোতে আঞ্চলিক পর্যায়ের বড় প্রকল্পগুলোর মতো প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র বা কঠোর ব্যয় নিয়ন্ত্রণের কোনো বাধ্যবাধকতা থাকে না। আইনি এই ফাঁকফোকর বন্ধ করে গ্রাহক স্বার্থ রক্ষায় তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিতে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।   তবে এই অভিযোগের বিপরীতে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা 'বাল্টিমোর গ্যাস অ্যান্ড ইলেকট্রিক' (বিজিই) কোম্পানি নিজেদের সাফাই গেয়েছে। তাদের দাবি, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি, উচ্চ শ্রম ব্যয়, সাপ্লাই চেইনের সমস্যা এবং ডেভেলপারের করা নকশায় বিভিন্ন পরিবর্তনের কারণেই প্রকল্পের খরচ এতটা বেড়েছে এবং এটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক।   বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ গ্রিডের উন্নয়ন এবং একই সাথে সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি পরিচিত সংকট। পরিষেবা প্রদানকারী কোম্পানিগুলো যদি কোনো প্রকল্পে তাদের অতিরিক্ত খরচের টাকা সহজেই গ্রাহকদের বিলের মাধ্যমে আদায় করে নেয়, তবে দৈনন্দিন খরচের চাপে থাকা পরিবারগুলো আরও বেশি বিপাকে পড়বে।   এছাড়া, এ ধরনের ঘটনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে পরিচ্ছন্ন ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে এগোনোর মতো বড় অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলোতে জনসমর্থন কমে যাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে সাধারণ মানুষের বদলে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদেরই আর্থিক ঝুঁকি বহনের তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ২১:৩৪
২০২৮ নির্বাচনে কমলা হ্যারিসের প্রার্থিতা অনিশ্চিত, ৮ সাবেক সহকারীর ৫ জনের মত ‘লড়বেন না’

২০২৮ নির্বাচনে কমলা হ্যারিসের প্রার্থিতা অনিশ্চিত, ৮ সাবেক সহকারীর ৫ জনের মত ‘লড়বেন না’

ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, চুক্তি না হলে ‘পুরো দেশ উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি

ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, চুক্তি না হলে ‘পুরো দেশ উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি

যুক্তরাষ্ট্রে মদ্যপানে ক্যানসার মৃ ত্যু ৩৩ বছরে দ্বিগুণ, তরুণদের মধ্যেও বাড়ছে ঝুঁকি

যুক্তরাষ্ট্রে মদ্যপানে ক্যানসার মৃ ত্যু ৩৩ বছরে দ্বিগুণ, তরুণদের মধ্যেও বাড়ছে ঝুঁকি

0 Comments