সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

রিপাবলিকানদের জেতাতে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় মাস্কের, তবু ডেমোক্র্যাটদের কাছে হার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ২২:৪৪
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে বিপুল অর্থ ব্যয় করেও প্রত্যাশিত ফল পাননি ইলন মাস্ক। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে বিপুল অর্থ ব্যয় করেও প্রত্যাশিত ফল পাননি ইলন মাস্ক। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জেতাতে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ৪৫ কোটি ডলার ব্যয় করেছিলেন বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন ইলন মাস্ক। তবে বিপুল এই অর্থও দলটির নির্বাচনী পরাজয় ঠেকাতে পারেনি। ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট, দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পরাজয় মাস্কের রাজনৈতিক বিনিয়োগের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনী চক্রে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে মাস্কের ব্যয় প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ডলার। নির্বাচনী অর্থায়নের তথ্য বিশ্লেষণ করে বিবিসি জানিয়েছে, টেক্সাসে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের পক্ষে অন্তত ৪৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকোর কাছে পরাজিত হন প্যাক্সটন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময় পর টেক্সাসের সিনেট আসনটি ডেমোক্র্যাটদের দখলে যায়।

 

টেক্সাস ছাড়াও অ্যারিজোনা, মিশিগান, উইসকনসিন ও মিনেসোটাসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে অর্থ ব্যয় করেছে মাস্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনগুলো। নির্বাচনের আগের সোমবার পর্যন্ত এসব ব্যয় অব্যাহত ছিল বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশ্লেষণেও মাস্কের নির্বাচনী ব্যয় ৪৪৬ মিলিয়ন ডলারের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটির হিসাবে, এই অর্থের বড় অংশ গেছে রিপাবলিকানপন্থী রাজনৈতিক সংগঠন ও সুপার প্যাকগুলোর মাধ্যমে।

 

নির্বাচনের ফল স্পষ্ট হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের প্রতিক্রিয়ায় ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন মাস্ক। তিনি লেখেন, নির্বাচনে হস্তক্ষেপের জন্য তাঁর কথিত ‘স্পেস লেজার’ কাজ করেনি। নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের বিরুদ্ধে একাধিক পোস্ট ও প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন তিনি। তবে ফল ঘোষণার পর রাজনৈতিক বিষয়ে তাঁর তৎপরতা কমে যায়। নিজের এক্স প্রোফাইলের ওপরের দিকে রাখা রিপাবলিকানদের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বানসংবলিত একটি পোস্টও সরিয়ে ফেলেন তিনি।

 

নির্বাচনের ফল মাস্কের ব্যবসায়িক স্বার্থের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকে মাস্কের মহাকাশ গবেষণা ও রকেট নির্মাণ প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স আনুমানিক ১০ বিলিয়ন ডলারের নতুন সরকারি চুক্তি পেয়েছে। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের একটি অংশ প্রতিষ্ঠানটির সরকারি ও জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড এবং সরকারি চুক্তি নিয়ে তদন্তের দাবি তুলেছেন। কংগ্রেসের দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এ ধরনের তদন্তের উদ্যোগ আরও জোরালো হতে পারে।

 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্যও নির্বাচনের ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বড় বড় তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন বেশ কয়েকজন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী। এসব তথ্যকেন্দ্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অনলাইন সেবা পরিচালনার জন্য বিপুল কম্পিউটার সরঞ্জাম রাখা হয়, যার জন্য প্রয়োজন হয় প্রচুর বিদ্যুৎ ও পানি। জর্জিয়ায় নবনির্বাচিত ডেমোক্র্যাট গভর্নরও তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের দ্রুত বিস্তার নিয়ন্ত্রণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এ ধরনের প্রকল্প সীমিত করার পক্ষে একাধিক প্রস্তাবও ভোটে অনুমোদন পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে কংগ্রেস গেলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরকারি নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এ জে বেলের বিনিয়োগ সমাধান বিভাগের প্রধান জেমস ফ্লিনটফটের মতে, মাস্কের বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও রিপাবলিকানদের পরাজয় প্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যৎ নীতিমালা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। তবে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও নতুন কোনো আইন কার্যকর করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

 

নির্বাচনের ফল নিয়ে ডেমোক্র্যাটপন্থী প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও লিংকডইনের সহপ্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যানও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। এক্স ও লিংকডইনে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, নির্বাচনের ফল তাঁদের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। তাঁর ভাষ্য, একদিকে ইলন মাস্কের মতো ধনীরা বিপুল অর্থ ব্যয় করে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের ক্ষমতায় রাখতে চাইছেন, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আদর্শে বিশ্বাসীরা সেই প্রচেষ্টার কাছে নতি স্বীকার করবেন না। এদিকে মাস্কের নির্বাচনী ব্যয় নিয়ে মন্তব্যের জন্য বিবিসি স্পেসএক্সের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

সূত্র: বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

আমেরিকা

View more
নতুন বাড়ি কেনার অগ্রিম অর্থ জোগাড়ে সহায়তার জন্য প্রস্তাবনা ৩৭ অনুমোদন করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটাররা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
বাড়ি কেনার ডাউন পেমেন্টে ঋণ দেবে ক্যালিফোর্নিয়া, প্রস্তাবনা ৩৭ পাস

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে নতুন বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের ডাউন পেমেন্ট বা অগ্রিম অর্থ পরিশোধে সহায়তার জন্য বিশেষ ঋণ কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন ভোটাররা। গত ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ‘প্রস্তাবনা ৩৭’ পাস হওয়ায় মধ্যম আয়ের যোগ্য ক্রেতারা নতুন নির্মিত বাড়ির দামের একটি অংশ ঋণ হিসেবে নিতে পারবেন। এ কর্মসূচির আওতায় সর্বোচ্চ ২৫ বিলিয়ন ডলারের বন্ড ছাড়ার অনুমতি পাবে অঙ্গরাজ্য সরকার।   ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি ভোটার নির্দেশিকা অনুযায়ী, নতুন কর্মসূচিতে যোগ্য ক্রেতারা বাড়ির ক্রয়মূল্যের সর্বোচ্চ ১৭ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ পেতে পারেন। তবে ক্রেতাকে নিজের পক্ষ থেকে অন্তত ৩ শতাংশ অগ্রিম অর্থ জমা দিতে হবে। বাকি অর্থের জন্য প্রচলিত গৃহঋণ নেওয়া যাবে। অর্থাৎ, এটি বিনামূল্যে দেওয়া অনুদান নয়; বাড়ির মালিককে মূল ঋণের পাশাপাশি এই সহায়ক ঋণও নির্ধারিত শর্ত ও সুদ অনুযায়ী পরিশোধ করতে হবে।   এই সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীকে অন্তত এক বছর ধরে ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা হতে হবে এবং কেনা বাড়িটিতে নিজের প্রধান আবাসস্থল হিসেবে বসবাস করতে হবে। পরিবারের আয় সংশ্লিষ্ট এলাকার মধ্যম আয়ের দ্বিগুণের বেশি হতে পারবে না। পাশাপাশি নির্দিষ্ট মূল্যসীমার মধ্যে থাকা নতুন নির্মিত বাড়ি বা কনডো কিনতে হবে। বাড়ির মূল্যসীমা কাউন্টি অনুযায়ী ভিন্ন হবে, যা আনুমানিক ১০ লাখ থেকে ১৫ লাখ ডলারের মধ্যে নির্ধারিত।   কর্মসূচির অর্থায়নে ক্যালিফোর্নিয়া হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সি সর্বোচ্চ ২৫ বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব বন্ড ছাড়তে পারবে। এসব বন্ডের অর্থ দিয়ে ক্রেতাদের ঋণ দেওয়া হবে এবং বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে আদায় করা মাসিক কিস্তির মাধ্যমে বন্ডের অর্থ পরিশোধ করা হবে। ফলে কর্মসূচিটি পরিচালনার জন্য সরাসরি রাজ্য সরকারের করের অর্থ ব্যয় করার কথা নয়। তবে ঋণগ্রহীতাদের নিয়মিত কিস্তি পরিশোধের দায় থাকবে।   ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির উচ্চমূল্য এবং অগ্রিম অর্থ জোগাড়ের চাপ নতুন ক্রেতাদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর পক্ষে বাড়ি কেনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ একসঙ্গে জোগাড় করা কঠিন। নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে সেই প্রাথমিক আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন উদ্যোগটির সমর্থকেরা। ক্যালিফোর্নিয়া অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরসও প্রস্তাবনাটিকে বাড়ির মালিক হওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে।   তবে ঋণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সুবিধাকে বিনামূল্যের আর্থিক সহায়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ ক্রেতাকে প্রথম গৃহঋণের পাশাপাশি দ্বিতীয় ঋণের কিস্তিও পরিশোধ করতে হবে। কেসিআরএকে দেওয়া বক্তব্যে মর্টগেজ ব্রোকার ম্যাথিউ কোল বলেন, অতিরিক্ত ঋণটি কিছু ক্রেতার ক্ষেত্রে মাসিক ব্যয় কমাতে এবং ব্যক্তিগত বন্ধকী বিমার প্রয়োজন এড়াতে সহায়তা করতে পারে। তবে ঋণের সুদের হার, মেয়াদ ও অন্যান্য শর্ত বিবেচনা করেই ক্রেতাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।   সূত্র: কেসিআরএ, ক্যালিফোর্নিয়া সেক্রেটারি অব স্টেট, ক্যালিফোর্নিয়া লেজিসলেটিভ অ্যানালিস্টস অফিস।

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ২৩:২
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে বিপুল অর্থ ব্যয় করেও প্রত্যাশিত ফল পাননি ইলন মাস্ক। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

রিপাবলিকানদের জেতাতে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় মাস্কের, তবু ডেমোক্র্যাটদের কাছে হার

ইতালীয় পর্যটকের একুশ হাজার ডলার ও পাসপোর্ট ফিরিয়ে দিয়ে সততার প্রমাণ দিলেন বাংলাদেশি তরুণ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নিউ ইয়র্কে ইতালীয় পর্যটকের গাড়িতে ফেলে যাওয়া ২১ হাজার ডলার ফেরত দিলেন বাংলাদেশি ট্যাক্সিচালক

ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেলে ২০.৫৫ মিলিয়ন ডলারে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত সেলেস্টিয়াল পেন্টহাউস। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

২১ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি দামে বিক্রির জন্য উঠল ফ্লোরিডার বিলাসবহুল পেন্টহাউস

হুসঙ্গীর সম্পর্ক নিবন্ধনের নতুন আইন অনুমোদন করেছে ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়েস্ট হলিউড সিটি কাউন্সিল। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
একাধিক সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ককে আইনি স্বীকৃতি দিল ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়েস্ট হলিউড

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ওয়েস্ট হলিউড শহরে তিন বা ততোধিক ব্যক্তির পারস্পরিক সম্মতিতে গড়ে ওঠা সম্পর্ক নিবন্ধনের সুযোগ চালু হয়েছে। নতুন আইনের আওতায় একাধিক সঙ্গীর সম্পর্কে থাকা ব্যক্তিরা শহর কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেদের সম্পর্ক নিবন্ধন করতে পারবেন। গত ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার শহরটির পাঁচ সদস্যের সিটি কাউন্সিল সর্বসম্মতিক্রমে এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ অনুমোদন করে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় পর্যায়ে বহুসঙ্গীর সম্পর্কের স্বীকৃতি ও সুরক্ষার ক্ষেত্রে ওয়েস্ট হলিউড নতুন একটি উদ্যোগ নিল। তবে এই নিবন্ধন প্রচলিত বিয়ের সমান আইনি মর্যাদা দেবে না।   নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, তিন বা তার বেশি ব্যক্তি নিজেদের সম্পর্কের একটি আনুষ্ঠানিক নথি তৈরির জন্য সিটি ক্লার্কের কার্যালয়ে আবেদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সম্পর্কের সব পক্ষের সম্মতি থাকতে হবে এবং আবেদনকারীরা রক্তের সম্পর্কের এমন আত্মীয় হতে পারবেন না, যাঁদের মধ্যে বিয়ে আইনত নিষিদ্ধ। পাশাপাশি সম্পর্কের ধরন ও পারস্পরিক দায়িত্বসংক্রান্ত কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য ওয়েস্ট হলিউডের বাসিন্দা হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। অর্থাৎ অন্য শহরে বসবাস করেও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে এ শহরে সম্পর্ক নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে।   নিবন্ধিত ব্যক্তিরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সঙ্গীর সঙ্গে সাক্ষাতের অধিকার এবং শহরটির আওতাধীন কারাগারে আটক সঙ্গীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ। বাসাভাড়ার ক্ষেত্রেও থাকছে বিশেষ সুরক্ষা। কোনো নিবন্ধিত সঙ্গী ভাড়া করা বাড়িতে বসবাস অব্যাহত রাখলে শুধু সম্পর্কের কাঠামোর কারণে বাড়ির মালিক তাঁর ভাড়ার চুক্তি বাতিল বা নবায়নে অস্বীকৃতি জানাতে পারবেন না। তবে এসব সুবিধা স্থানীয় অধ্যাদেশের আওতায় সীমাবদ্ধ থাকবে। বিয়ে কিংবা অঙ্গরাজ্য স্বীকৃত প্রচলিত পারিবারিক অংশীদারত্বের মতো পূর্ণ আইনি অধিকার এতে পাওয়া যাবে না।   এই উদ্যোগের পেছনে দীর্ঘদিনের আলোচনা রয়েছে। আইনজীবী ও বহুসঙ্গীর সম্পর্কের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন রিরাইট দ্য বাইলাইনের প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস্টিনা ফিয়ালহো ২০২৫ সালের শুরুতে ওয়েস্ট হলিউডের কাউন্সিল সদস্য চেলসি লি বায়ার্সের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেন। পরে শহর কর্তৃপক্ষ সম্পর্কের কাঠামোর ভিত্তিতে বৈষম্য বন্ধে পৃথক অধ্যাদেশ অনুমোদন করে। চলতি বছরের মার্চে অনুমোদিত ওই ব্যবস্থায় বহুসঙ্গীর সম্পর্ক ও অপ্রচলিত পারিবারিক কাঠামোর মানুষদের আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য থেকে সুরক্ষার কথা বলা হয়।   এর আগে গত মার্চে ওয়েস্ট হলিউড সিটি কাউন্সিল বহুসঙ্গীর সম্পর্ক নিবন্ধনের সম্ভাব্য কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেয়। এ জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরির পাশাপাশি বিষয়টি বাস্তবায়নের উপায় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। নতুন অধ্যাদেশটি সেই ধারাবাহিক উদ্যোগেরই পরবর্তী ধাপ। ওয়েস্ট হলিউডের মেয়র জন হেইলম্যান নতুন অধ্যাদেশটি উত্থাপন করেন। অন্যদিকে কাউন্সিল সদস্য চেলসি লি বায়ার্স সম্পর্কের কাঠামোর ভিত্তিতে বৈষম্য প্রতিরোধের উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।   আইনটির অন্যতম উদ্যোক্তা ক্রিস্টিনা ফিয়ালহো লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসকে বলেন, এই আইন কেবল শুরু। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে এমন অনেক মানুষের সামনে ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে, যাঁরা আগে নিজেদের সম্পর্কের জন্য আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির সুযোগ কল্পনাও করতে পারতেন না। বহুসঙ্গীর সম্পর্ক নিয়ে কাজ করা অধিকারকর্মীদের বক্তব্য, প্রচলিত পারিবারিক কাঠামোর বাইরে থাকা মানুষদের আবাসন, চিকিৎসা ও অন্যান্য নাগরিক সেবা পেতে প্রায়ই নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।   তবে নতুন আইন নিয়ে কিছু সীমাবদ্ধতা ও প্রশ্নও রয়েছে। ওয়েস্ট হলিউডের বাসিন্দা ও গ্রন্থাগারকর্মী মেগান কাটজের মতে, বহুসঙ্গীর সম্পর্ক মানেই সব সময় তিন বা চারজনের একটি যৌথ সম্পর্ক নয়। অনেক ক্ষেত্রে একাধিক ব্যক্তির পৃথক সম্পর্কও একই পারিবারিক কাঠামোর অংশ হতে পারে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কাউন্সিল সদস্য বায়ার্স অধ্যাদেশে ভবিষ্যতে সংশোধন আনার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন, যাতে একাধিক পৃথক দুই ব্যক্তির সম্পর্কও নিবন্ধনের আওতায় আনা যায়।   যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের উদ্যোগ অবশ্য একেবারে নতুন নয়। ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের কয়েকটি পৌরসভায় আগেই একাধিক সঙ্গীর সম্পর্ক নিবন্ধনের ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলি ও ওকল্যান্ড শহরেও পারিবারিক কাঠামোর ভিত্তিতে বৈষম্য বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে বহুসঙ্গীর সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার বিরোধিতাও রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া ফ্যামিলি কাউন্সিলের মতো রক্ষণশীল সংগঠনগুলো এ ধরনের উদ্যোগের সামাজিক ও পারিবারিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।   সব মিলিয়ে, ওয়েস্ট হলিউডের নতুন অধ্যাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে পারিবারিক সম্পর্কের আইনি স্বীকৃতি নিয়ে চলমান আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে এটি বিয়ে বা প্রচলিত পারিবারিক অংশীদারত্বের বিকল্প নয়। বরং নির্দিষ্ট কিছু নাগরিক সুবিধা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে বহুসঙ্গীর সম্পর্ক নিবন্ধনের একটি ব্যবস্থা তৈরি করেছে শহর কর্তৃপক্ষ।   সূত্র: লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস, ওয়েস্ট হলিউড সিটি কাউন্সিল।

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ২০:২৬
ছবি: রাইয়ান আবদুল বাতেন, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর

বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও ফ্লোরিডার অধ্যাপক গ্রেপ্তার, প্রাণীর সঙ্গে যৌনতার অভিযোগের নেপথ্যে কী?

নবনির্বাচিত তরুণ কংগ্রেস সদস্য মাইকেল আলফনসো। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

জেন-জি প্রতিনিধি এবার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে, ২৬ বছর বয়সেই নির্বাচিত মাইকেল আলফনসো

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিক শেখ রহমান। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে আবারও জয়ী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শেখ রহমান

নাসার নভোচারী জেসিকা ওয়াটকিন্স। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
মহাকাশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দিলেন নাসার নভোচারী জেসিকা ওয়াটকিন্স

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন দেশটির মহাকাশচারী জেসিকা ওয়াটকিন্স। পৃথিবী থেকে কয়েক শ কিলোমিটার দূরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে অবস্থান করেই নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন কলোরাডোর এই নভোচারী। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নির্বাচনের দিন মহাকাশ স্টেশনের ভেতরে নিজের ‘আই ভোটেড’ (আমি ভোট দিয়েছি) স্টিকারের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন তিনি। ছবিতে দেখা যায়, মহাকাশ স্টেশনের ভেতরের একটি দেয়ালে স্টিকারটি লাগানো রয়েছে। পোস্টের ক্যাপশনে ওয়াটকিন্স লেখেন, মহাকাশের শূন্যতা থেকেও নিজেদের মতামত জানানোর সুযোগ রয়েছে। সবাইকে ভোট দেওয়ার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।   ওয়াটকিন্সের এই পোস্টকে স্বাগত জানিয়েছেন কলোরাডোর গভর্নর জ্যারেড পলিস। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতাকে ‘আউট অব দিস ওয়ার্ল্ড’ বলে উল্লেখ করেন। মহাকাশ থেকে ভোট দেওয়ার বিষয়টি সাধারণ ভোটারদের জন্য যেমন ব্যতিক্রমী, তেমনি এটি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহারেরও একটি উদাহরণ। পৃথিবীতে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে, ব্যালট বাক্সে ভোট দিয়ে কিংবা ডাকযোগে ব্যালট পাঠিয়ে ভোট দেওয়ার প্রচলন থাকলেও নভোচারীদের ক্ষেত্রে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয় নিরাপদ ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায়।   নাসার তথ্য অনুযায়ী, জেসিকা ওয়াটকিন্স ১ অক্টোবর স্পেসএক্সের ক্রু-১৩ অভিযানের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছান। এটি তাঁর দ্বিতীয় মহাকাশ অভিযান। এবার তিনি অভিযানের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ২০২২ সালে তিনি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে দীর্ঘমেয়াদি অভিযানে অংশ নেওয়া প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েন। এবারের অভিযানে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন নাসার নভোচারী লুক ডেলানি, কানাডার মহাকাশ সংস্থার নভোচারী জশুয়া কুট্রিক এবং রাশিয়ার মহাকাশচারী সের্গেই তেতেরিয়াতনিকভ।   মহাকাশ থেকে যেভাবে ভোট দেন নভোচারীরা   মহাকাশে অবস্থান করলেও নভোচারীদের ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে। এ জন্য নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নাসা একটি বিশেষ নিরাপদ ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা ব্যবহার করে। প্রথমে নভোচারীর কাছে এনক্রিপ্ট করা বা সাংকেতিক নিরাপত্তাব্যবস্থায় সুরক্ষিত একটি ব্যালট পাঠানো হয়। ই-মেইলের মাধ্যমে দেওয়া নির্দিষ্ট পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে নভোচারী ব্যালট পূরণ করেন। এরপর সেটি নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে পৃথিবীতে পাঠানো হয় এবং সংশ্লিষ্ট কাউন্টির নির্বাচন কর্মকর্তারা তা গ্রহণ করেন।   যুক্তরাষ্ট্রে মহাকাশ থেকে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা নতুন নয়। ১৯৯৭ সালে টেক্সাসে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর একই বছর রুশ মহাকাশ স্টেশন মির থেকে প্রথমবার ভোট দেন মার্কিন নভোচারী ডেভিড উলফ। বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে নাসার যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। পৃথিবীতে থাকা ভোটারদের মতো নভোচারীদের ব্যালটও সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায় এবং গণনার প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হয়।   নাসার ক্রু-১৩ অভিযানটি শুধু মহাকাশে অবস্থানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এ অভিযানে পৃথিবী ও মহাকাশে মানুষের জীবন সম্পর্কে গবেষণা, প্রযুক্তির পরীক্ষা এবং বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মহাকাশে থেকেও ভোট দেওয়ার মাধ্যমে জেসিকা ওয়াটকিন্স দেখিয়েছেন, পৃথিবী থেকে দূরে অবস্থান করলেও নাগরিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ বজায় রাখা সম্ভব।   সূত্র: কেডিভিআর (KDVR), নাসা (NASA), স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল এয়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়াম।

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১৯:৩২
প্রেমের গুঞ্জন আর কবজির অস্ত্রোপচার, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনায় ট্রাম্পের নাতনি

প্রেমের গুঞ্জন আর কবজির অস্ত্রোপচার, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনায় ট্রাম্পের নাতনি

নিউইয়র্কে আদালতের নির্দেশে আপাতত বন্ধ আফগান অভিবাসীদের ডিপোর্টেশন

নিউইয়র্কে আদালতের নির্দেশে আপাতত বন্ধ আফগান অভিবাসীদের ডিপোর্টেশন

মার্কিন কংগ্রেসে ইতিহাস গড়ার পথে হাকিম জেফ্রিজ, হতে যাচ্ছেন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার

মার্কিন কংগ্রেসে ইতিহাস গড়ার পথে হাকিম জেফ্রিজ, হতে যাচ্ছেন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার

0 Comments