যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে সোমবার মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। প্রযুক্তি খাত ও চিপ নির্মাতা কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরের পুনরুদ্ধারের ফলে নাসডাক ও এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে লেনদেন শেষ করেছে। তবে ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ সূচক সামান্য পতনের মধ্য দিয়ে দিন শেষ করেছে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবারের বড় ধরনের দরপতনের পর তুলনামূলক কম দামে শেয়ার কেনার সুযোগ কাজে লাগাতে শুরু করেন বিনিয়োগকারীরা। একই সময়ে ইরান ও ইসরায়েল উভয় পক্ষ হামলা বন্ধের ঘোষণা দেওয়ায় বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয় দেশকে অবিলম্বে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানানোর পর পরিস্থিতির পরিবর্তন দেখা যায়। গত ২৪ ঘণ্টার সংঘাতকে চলতি বছরের এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সবচেয়ে সরাসরি মুখোমুখি অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দিন শেষে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ২২ দশমিক ০৭ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ বেড়ে ৭ হাজার ৪০৫ দশমিক ৮১ পয়েন্টে পৌঁছায়। নাসডাক কম্পোজিট সূচক ২২২ দশমিক ১৩ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ বেড়ে ২৫ হাজার ৯৩১ দশমিক ৫৬ পয়েন্টে ওঠে। অন্যদিকে ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ ৭৫ দশমিক ৬১ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ কমে ৫০ হাজার ৭৯১ দশমিক ১৭ পয়েন্টে নেমে আসে।
দিনের লেনদেনে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারগুলো শক্তিশালী অবস্থান ফিরে পায়। বিশেষ করে ফিলাডেলফিয়া সেমিকন্ডাক্টর সূচকে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা যায়। গত শুক্রবার চিপ নির্মাতা কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরে বড় পতনের ফলে বাজারমূল্যে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার কমে গিয়েছিল।
চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইন্টেলের শেয়ারদরও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইনফরমেশন’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট ২০২৮ সালের জন্য ৩০ লাখের বেশি টেনসর প্রসেসিং ইউনিট উৎপাদনের অর্ডার দিয়েছে।
নিউ জার্সিভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান চেরি লেন ইনভেস্টমেন্টসের অংশীদার রিক মেকলার বলেন, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদরের সাম্প্রতিক পতনের পর অনেক বিনিয়োগকারী এখন কম দামে শেয়ার কিনছেন। তার মতে, বিশ্লেষকেরাও আবার এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কেনার সুপারিশ করতে শুরু করেছেন।
রিক মেকলার আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাজার প্রায় নিখুঁত পরিস্থিতি ধরে নিয়ে মূল্যায়িত হয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সে রকম নয়। ফলে বাজারে ওঠানামা এবং বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগকে স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন তিনি।
এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ায় আয়োজিত বার্ষিক ডেভেলপার সম্মেলনে অ্যাপল তাদের ভার্চুয়াল সহকারী সিরির জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নতুন সুবিধা ঘোষণা করেছে। তবে এ ঘোষণার পরও দিনের শেষভাগে কোম্পানিটির শেয়ারদর কিছুটা কমেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রত্যাশিত ঘোষণার পর অনেক বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নেওয়ার কৌশল নিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে অ্যাপল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে। অন্যদিকে চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মার্ভেল টেকনোলজির শেয়ারদরও বেড়েছে। আগামী ২২ জুন থেকে প্রতিষ্ঠানটি এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকে অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে।
ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এলি লিলির শেয়ারও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। কোম্পানিটির নতুন প্রজন্মের স্থূলতা প্রতিরোধী ওষুধ ‘রেটাট্রুটাইড’-এর পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ওষুধটি ওজন কমানোর পাশাপাশি স্লিপ অ্যাপনিয়ার তীব্রতা হ্রাস এবং হাঁটুর ব্যথা উপশমেও সহায়তা করতে পারে।a
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে আলোচিত মিচেল পরিবার হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড় এসেছে। নিহত রেস্তোরাঁ উদ্যোক্তা থাই মিচেলের পরিবারের করা এক দেওয়ানি মামলায় দাবি করা হয়েছে, ঘটনার কয়েক সপ্তাহ আগে বাড়ির রিং ক্যামেরায় স্বামী ম্যাথিউ মিচেলের অস্বাভাবিক আচরণ ও “সবাইকে মেরে ফেলতে হবে” ধরনের মন্তব্য রেকর্ড হয়েছিল। আদালতে দাখিল করা ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। আদালতের নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ৪ মে হিউস্টনের রিভার ওকস এলাকার নিজ বাড়িতে থাই মিচেল, দম্পতির দুই শিশু সন্তান এবং ম্যাথিউ মিচেলকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। হ্যারিস কাউন্টি ইনস্টিটিউট অব ফরেনসিক সায়েন্সেস জানায়, থাই মিচেল ও দুই শিশুর মৃত্যু ছিল হত্যাকাণ্ড, আর ম্যাথিউ মিচেলের মৃত্যু আত্মহত্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মামলায় থাই মিচেলের বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, ব্যবসায়িক ঋণ, আর্থিক সংকট এবং প্রতারণার অভিযোগে চাপে পড়ে ম্যাথিউ মিচেল পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী ও সন্তানদের হত্যা করেন। তাদের দাবি, ঘটনার আগে তিনি বাড়ির ভেতরে অস্বাভাবিকভাবে পায়চারি করতেন এবং রিং ক্যামেরায় “সবাইকে মেরে ফেলতে হবে” বলে বিড়বিড় করতে শোনা যায়। একই মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের আগে ম্যাথিউ মিচেলের মা বেটি মিচেল ও বোন মেরেডিথ মিচেল প্রায় ১৪ লাখ ডলারের সম্পদ ঋণদাতাদের কাছ থেকে আড়াল করতে সহায়তা করেছিলেন। বাদীপক্ষ আদালতের কাছে ক্ষতিপূরণ এবং ম্যাথিউ মিচেলের সম্পদের ওপর আদালত-নিয়ন্ত্রিত ট্রাস্ট গঠনের আবেদন জানিয়েছে। এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে মামলার বিষয়ে চূড়ান্ত আইনি অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি। ম্যাথিউ ও থাই মিচেল হিউস্টনের পরিচিত দুটি রেস্তোরাঁ, ট্রাভেলার্স টেবিল এবং ট্রাভেলার্স কার্ট এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। পারিবারিক এই ট্র্যাজেডির পরও কিছুদিন দুটি রেস্তোরাঁ চালু ছিল। তবে সম্প্রতি ট্রাভেলার্স কার্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের আরেকটি প্রতিষ্ঠান ট্রাভেলার্স টেবিল আগের মতোই চালু থাকবে। ঘটনাটি হিউস্টনের রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী মহলে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে মামলার নতুন তথ্য প্রকাশের পর পারিবারিক সহিংসতা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং আর্থিক সংকটের প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মামলার শুনানি ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া এখনো চলমান।
যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু আবেদনকারীকে আর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা এর আশ্রয় কর্মকর্তার সাক্ষাৎকারের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। তাদের আবেদন সরাসরি অভিবাসন আদালতে পাঠানো যাবে, যেখানে মামলার শুনানি হবে এবং প্রয়োজনে দ্রুত বহিষ্কারের প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে। মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়া এই নিয়মকে ট্রাম্প প্রশাসন আশ্রয়ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের জট কমানোর উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রশাসনের দাবি, বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ আশ্রয় আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। নতুন নীতির ফলে যেসব আবেদন আদালতেই নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত বিচারকের কাছে পাঠানো সম্ভব হবে। তবে অভিবাসন অধিকারকর্মী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এই পরিবর্তনের ফলে আশ্রয়প্রার্থীরা তাদের আবেদন ব্যাখ্যা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারাবেন। আগে আশ্রয় কর্মকর্তা আবেদনকারীর বক্তব্য শুনে প্রাথমিক মূল্যায়ন করতেন। নতুন ব্যবস্থায় অনেক আবেদনকারী সেই ধাপ ছাড়াই সরাসরি অভিবাসন আদালতের মুখোমুখি হবেন, যেখানে প্রত্যাখ্যাত হলে গ্রেপ্তার বা বহিষ্কারের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। শরণার্থী সহায়তা সংস্থা হিয়াসের প্রধান নির্বাহী বেথ ওপেনহাইম বলেন, এই নীতির প্রভাব নিরাপত্তার আশায় যুক্তরাষ্ট্রে আসা মানুষের জন্য গুরুতর হতে পারে। তার মতে, এতে এমন মানুষও নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকিতে পড়বেন, যারা বাস্তবে নির্যাতন বা প্রাণনাশের আশঙ্কা থেকে পালিয়ে এসেছেন। অন্যদিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বলছে, আশ্রয়প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার পাওয়ার কোনো আইনগত অধিকার নেই। সংস্থাটির দাবি, নতুন নিয়মের মাধ্যমে জননিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আদালতের মাধ্যমে তাদের আবেদন নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রশাসনিক সম্পদ আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাবে। এই নীতিগত পরিবর্তন এমন সময় এলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন আদালতের কার্যক্রমেও একাধিক পরিবর্তন এনেছে। গত এক বছরে শতাধিক অভিবাসন বিচারক চাকরি হারিয়েছেন বা পদ ছেড়েছেন, আবার নতুন বিচারকও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন অবৈধ অভিবাসন কমানো এবং বহিষ্কার প্রক্রিয়া দ্রুত করার লক্ষ্যেই এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছে। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, এতে আশ্রয়প্রার্থীদের ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়া পাওয়ার সুযোগ আরও সংকুচিত হতে পারে।
নিউইয়র্কে ক্যানসারের সঙ্গে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে লড়াইয়ের পর ইন্তেকাল করেছেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাংক কর্মকর্তা মহিউদ্দিন খান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৬ বছর। সোমবার বিকেলে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মহিউদ্দিন খান বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন। ব্যাংকিং, অর্থায়ন, বিক্রয় ও বিপণন খাতে তার ১৯ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা ছিল। কর্মজীবনে তিনি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির (ইউসিবি) ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে স্থানান্তরিত হন। সেখানে নতুন কর্মজীবন ও পেশাগত সুযোগের সন্ধান করছিলেন তিনি। গত তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়ছিলেন মহিউদ্দিন খান। চিকিৎসার পাশাপাশি মরণব্যাধিটির বিরুদ্ধে তার দীর্ঘ জীবনসংগ্রামের অবসান হলো সোমবার বিকেলে। ব্যক্তিগত জীবনে মহিউদ্দিন খান ছিলেন দুই সন্তানের বাবা। তার মৃত্যুতে স্ত্রী, সন্তান, পরিবারের সদস্য, স্বজন, সাবেক সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে। মহিউদ্দিন খানের স্ত্রী তামান্না মৌ নিউইয়র্কভিত্তিক টাইম টেলিভিশনের সংবাদ উপস্থাপিকা। স্বামীর মৃত্যুতে তিনি ও পরিবারের সদস্যরা গভীর শোকের মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন। মরহুমের জানাজা ও দাফনের সময়সূচিসহ বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে। মহিউদ্দিন খানের মৃত্যুতে টাইম টেলিভিশন শোক প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।