যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিন শহরে এক মোবাইল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মী গ্রাহকের ব্যক্তিগত ছবি অনুমতি ছাড়া নিজের ফোনে পাঠানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তদন্ত নথি অনুযায়ী, নেটওয়ার্ক সেটিংস পরিবর্তনে সহায়তা করার সময় তিনি গ্রাহকের ফোনে প্রবেশাধিকার পান এবং সেই সুযোগের অপব্যবহার করেন।
অস্টিন পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, ২৯ বছর বয়সী রাঘুল আনন্দকৃষ্ণনের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং কম্পিউটার নিরাপত্তা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটে ৭ জুন অস্টিনের ক্যাপিটাল প্লাজা শপিং সেন্টারে অবস্থিত একটি টোটাল ওয়্যারলেস শাখায়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন বিকেল ৩টার কিছু পর এক নারী জরুরি সহায়তা নম্বরে ফোন করে অভিযোগ করেন যে দোকানের এক কর্মী তার ফোন ঘেঁটে ব্যক্তিগত ছবি নিজের কাছে পাঠিয়েছেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে তারা দোকান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সন্দেহভাজন কর্মীকে শনাক্ত করে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
আদালতে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, অভিযুক্ত কর্মী স্বীকার করেন যে ওই নারী তার আইফোনের নেটওয়ার্ক সেটিংস পরিবর্তনের জন্য দোকানে এসেছিলেন। কাজটি সম্পন্ন করতে গ্রাহকের পাসকোড প্রয়োজন বলে তিনি তা সংগ্রহ করেন।
পুলিশকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ফোন ব্যবহারের সময় ভুলবশত ছবির গ্যালারি খুলে যায়। পরে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে গ্রাহকের কিছু ব্যক্তিগত ছবি নিজের কাছে পাঠানোর চেষ্টা করেন। তবে তার দাবি, ছবি স্থানান্তরের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়নি এবং পরে তিনি ফোনটি গ্রাহককে ফেরত দেন।
তদন্ত নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত নিজেই স্বীকার করেছেন যে গ্রাহক তাকে কেবল নেটওয়ার্ক সেটিংস পরিবর্তনের অনুমতি দিয়েছিলেন। ফোনের অন্যান্য অংশ, ছবি বা ব্যক্তিগত তথ্য দেখার অনুমতি তার ছিল না।
অন্যদিকে অভিযোগকারী নারী পুলিশকে জানান, পাসকোড দেওয়ার পর কর্মী তার ফোনটি দোকানের পেছনের অংশে নিয়ে যান। কাজ শেষ হওয়ার পর তিনি নিজের গাড়িতে গিয়ে ফোন ব্যবহার করতে গিয়ে দেখতে পান যে তার ব্যক্তিগত কিছু ছবি অন্য একটি ডিভাইসে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি অ্যাকাউন্টেও অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
নারীটি স্পষ্টভাবে জানান, তিনি কোনোভাবেই তার ব্যক্তিগত ছবি, অ্যাকাউন্ট বা তথ্য ব্যবহারের অনুমতি দেননি এবং তিনি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চান।
তদন্তের ভিত্তিতে রাঘুল আনন্দকৃষ্ণনের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি কম্পিউটার নিরাপত্তা ভঙ্গের অভিযোগও যুক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্মার্টফোনের ছবি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা অপারেটিং সিস্টেমের অংশ হিসেবে একটি কম্পিউটারভিত্তিক তথ্যব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে অনুমতি ছাড়া সেখানে প্রবেশ করাও আইন লঙ্ঘনের আওতায় পড়ে।
বর্তমানে অভিযুক্ত ট্রাভিস কাউন্টি কারাগারে রয়েছেন। আদালত তার জামিন ১০ হাজার ডলার নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে অভিযোগকারী নারীর সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এখনও মামলার শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোবাইল ফোনে প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়ার সময় ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফোনের পাসকোড বা প্রবেশাধিকার অন্য কাউকে দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা এবং কাজ শেষে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট ও তথ্য যাচাই করে নেওয়া উচিত।
ট্রাভিস কাউন্টির আদালতের নথি ও কারাগারের রেকর্ডের ভিত্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ৩৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তীব্র দাবদাহের মধ্যে বাড়ি থেকে বহুদূরে পথ হারিয়ে ফেলা এক বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে প্রশংসায় ভাসছে ১৪ বছরের এক কিশোর। রয়্যাল ক্যাথরান নামের ওই কিশোরের সময়োচিত পদক্ষেপ ও মানবিকতার কারণে ৭৫ বছর বয়সী ডিমেনশিয়া (স্মৃতিভ্রম) রোগে আক্রান্ত থেরেসা মরগান নিশ্চিত বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস, জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা কিশোরের এই দায়িত্বশীল আচরণের ভূয়সী প্রশংসা করছেন। অ্যারিজোনার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি ১৫ (ABC 15) এবং দ্য গার্ডিয়ান এ খবর নিশ্চিত করেছে। ঘটনাটি ঘটে অ্যারিজোনার গিলবার্ট শহরে। গত মাসে ১৪ বছরের কিশোর রয়্যাল বাইসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় ৭৫ বছর বয়সী থেরেসা মরগানকে একাকী হেঁটে যেতে দেখে। বৃদ্ধার হাতে একটি শপিং ব্যাগ ও পার্স ছিল এবং তিনি ভীষণ ঘামছিলেন। তীব্র রোদে তাকে বেশ দিশেহারা ও বিভ্রান্ত দেখাচ্ছিল। রয়্যাল তার পরিহিত স্মার্ট চশমায় (Smart Glasses) পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে, যা পরবর্তীতে এবিসি ১৫-এ প্রকাশিত হয়। ফুটেজে দেখা যায়, কিশোরটি বাইক থামিয়ে বৃদ্ধার কাছে গিয়ে জানতে চায় তিনি কোথায় যাচ্ছেন এবং তাকে সতর্ক করে বলে, "আমার মনে হয় না আশেপাশে কোনো অ্যাপার্টমেন্ট আছে।" পরে রয়্যাল গণমাধ্যমকে জানায়, "উনাকে দেখে মনে হয়েছিল কোনো একটা সমস্যা হয়েছে। প্রচণ্ড গরম ছিল এবং উনি খুব ঘামছিলেন। তা দেখে আমি বুঝতে পারি উনার সাহায্যের প্রয়োজন।" পরিস্থিতি অনুধাবন করে কিশোরটি আর এক মুহূর্ত দেরি করেনি। সে বৃদ্ধাকে রাস্তা থেকে সরিয়ে একটি ছায়াযুক্ত স্থানে নিয়ে বসায় এবং তার শরীর ঠাণ্ডা করার ব্যবস্থা করে। এরপর অত্যন্ত ধৈর্য ধরে বৃদ্ধার সঙ্গে কথা বলে তার ছেলে জেফের ফোন নম্বর মনে করানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে বৃদ্ধা তার ছেলের নম্বরটি স্মরণ করতে সক্ষম হলে রয়্যাল দ্রুত যোগাযোগ করে এবং জেফ ঘটনাস্থলে না পৌঁছানো পর্যন্ত বৃদ্ধার পাশেই অবস্থান করে। খবর পেয়ে গিলবার্ট ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ টিমের সদস্যরাও দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। বৃদ্ধার ছেলে জেফ জানান, তার মা সম্প্রতি ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রম রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। সেদিন তিনি কেনাকাটার জন্য মুদি দোকানে গিয়ে বাড়ি ফেরার পথ হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং ঘুরতে ঘুরতে বাড়ি থেকে কয়েক মাইল দূরে চলে আসেন। জেফের মতে, রয়্যাল যদি সঠিক সময়ে এগিয়ে না আসত, তবে তার মায়ের প্রাণহানিও ঘটতে পারত। তিনি আবেগপ্লুত হয়ে বলেন, "কিশোরটি যা করেছে তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। ভাগ্য ভালো যে সে আমার মায়ের সামনে পড়েছিল এবং মা নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত তার যত্ন নিয়েছে।" ছেলের এই মহানুভবতায় একটুও অবাক হননি রয়্যাল ক্যাথরানের মা। তিনি বলেন, "রয়্যাল সবসময়ই অন্যদের সাহায্য করতে ভালোবাসে। ঘটনার সময় সে অত্যন্ত শান্ত ও সমবেদনশীল ছিল। একজন মা হিসেবে আমি তার জন্য ভীষণ গর্বিত।" গিলবার্ট ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ বিভাগের ব্যাটালিয়ন চিফ রায়ান ম্যাকহিউ জানান, অ্যারিজোনার তীব্র গরমের মধ্যে এমন ঘটনা প্রাণঘাতী হতে পারত। তিনি দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, "রয়্যাল সময়মতো না দাঁড়ালে পরিণতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।" তিনি আরও জানান, রয়্যালের এই দ্রুত বুদ্ধিমত্তা ও মানবিকতার স্বীকৃতি হিসেবে আগামী ১১ আগস্ট গিলবার্ট টাউন কাউন্সিলের একটি বিশেষ সভায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধিত করা হবে। অ্যারিজোনার ৫ নম্বর ডিস্ট্রিক্টের কংগ্রেস সদস্য অ্যান্ডি বিগস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিশোরটির প্রশংসা করে লিখেছেন, "বিপদের মুখে একজন বৃদ্ধাকে সাহায্য করার জন্য রয়্যাল ক্যাথরানকে অশেষ ধন্যবাদ। সমাজের অসহায় ও বয়স্ক মানুষের পাশে কীভাবে দাঁড়াতে হয়, রয়্যালের এই দৃষ্টান্ত থেকে আমাদের সবার শিক্ষা নেওয়া উচিত।" অ্যারিজোনায় গ্রীষ্মকালীন তীব্র দাবদাহের কারণে সাধারণ মানুষের হিট স্ট্রোকসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে এক কিশোরের এমন সংবেদনশীলতা ও সচেতনতা পুরো কমিউনিটির কাছে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি নগর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে স্বল্পমূল্যের খাদ্যপণ্যের দোকান চালুর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ফল, শাকসবজি, মাংস, দুধ, পাউরুটি এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য বাজারদরের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম দামে বিক্রির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সিটি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে একটি সাধারণ পরিবার প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৯০ ডলার এবং বছরে প্রায় এক হাজার ৮০ ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারবে। প্রথম দোকানটি আগামী বছর ব্রঙ্কসে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি প্রশাসনিক এলাকায় একটি করে দোকান স্থাপন করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দোকানগুলোর জন্য ভবন নির্মাণ, ভাড়া এবং সম্পত্তি করের ব্যয় বহন করবে সিটি কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি কম দামে পণ্য বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে। তবে দোকান পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে নির্বাচিত পরিচালকদের হাতে। এই দোকানগুলোর কর্মীদের পরিবার নির্বাহের উপযোগী মজুরি, অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা এবং শ্রমিকদের স্বাধীনভাবে সংগঠন গঠনের অধিকার নিশ্চিত করার শর্তও রাখা হয়েছে। তবে এ উদ্যোগ নিয়ে কিছু মুদি ব্যবসায়ী ও ব্যবসায়ী সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, সরকারি সহায়তায় পরিচালিত কম দামের দোকান চালু হলে ছোট ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সমস্যায় পড়তে পারেন। কেউ কেউ আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন। অন্যদিকে, জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সমর্থকেরা। তাদের মতে, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম কমানো গেলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমবে। তবে পরিকল্পনাটি পুরোপুরি বাস্তবায়নের আগে অর্থায়ন, পরিচালনা এবং দীর্ঘমেয়াদে এর কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড হ্যাভেন টাউনশিপে এক হৃদয়বিদারক পারিবারিক হত্যাকাণ্ডে স্ত্রী ও ছয় সন্তানকে গুলি করে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করেছেন এক ব্যক্তি। পরে ঘটনাটি আড়াল করতে বাড়ির বিভিন্ন স্থানে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে তদন্তকারী কর্মকর্তারা। অটোয়া কাউন্টি শেরিফের দপ্তরের তথ্যমতে, নিহত ব্যক্তি ৪৭ বছর বয়সী ক্রিস্টোফার কারোলকিয়েভিজ। তিনি তার ৩৯ বছর বয়সী স্ত্রী আমান্ডা (ম্যান্ডি) কারোলকিয়েভিজ এবং ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী ছয় সন্তানকে গুলি করে হত্যা করেন। এরপর নিজেও আত্মহত্যা করেন। ময়নাতদন্তে আটজনেরই মৃত্যুর কারণ গুলিবিদ্ধ হওয়া বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে যখন স্থানীয় দমকল বিভাগ ধোঁয়ার খবর পেয়ে বাড়িতে পৌঁছে আগুন নেভানোর সময় ভেতরে পরিবারের আট সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করে। তদন্তকারীদের ধারণা, হত্যাকাণ্ডের পর বাড়ির একাধিক স্থানে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানো হয়েছিল। তবে ঠিক কোন ক্রমে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তা এখনও তদন্তাধীন। শেরিফ দপ্তর জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ নথি ও ডিজিটাল তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি এবং হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্যও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহত আমান্ডা কারোলকিয়েভিজ স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিকল্প শিক্ষক ছিলেন। সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে তিনি অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। তার মৃত্যুতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য মানসিক সহায়তার ব্যবস্থা করেছে। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, পরিবারটি বন্ধুবৎসল ও সমাজে সক্রিয় হিসেবে পরিচিত ছিল। এমন মর্মান্তিক ঘটনার কোনো পূর্বাভাস তারা পাননি। এ ঘটনায় পুরো গ্র্যান্ড হ্যাভেন সম্প্রদায় শোকাহত। নিহত শিশুদের স্মরণে একটি সহায়তা তহবিলও গঠন করা হয়েছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, এই ভয়াবহ পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সব ধরনের তথ্য-প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।