এইচ-১বি ভিসায় পাঁচ কোম্পানি নিষিদ্ধ, কোম্পানি ব্যান হলে কী হয়, জেনে নিন
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া থেকে বর্তমানে পাঁচটি কোম্পানিকে নিষিদ্ধ করেছে দেশটির শ্রম বিভাগ। সর্বশেষ তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে ফ্লোরিডার ডেইন ভিঞ্চি অ্যাট হান্টার্স ক্রিক, ইনকরপোরেটেড, যা ডেইন ভিঞ্চি একাডেমি নামে পরিচালিত হয়। শ্রম বিভাগের তালিকাটি ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর এবং ২৮ আগস্ট সর্বশেষ হালনাগাদ করা হয়েছে।
নিষিদ্ধ কোম্পানিগুলো হলো গোয়ারাটেক এলএলসি, রেনোটেক গ্রুপ এলএলসি, সিলোজ ইনকরপোরেটেড, শেরউড অ্যাট মাউন্ট ডোরা ইনকরপোরেটেড, যা শেরউড একাডেমি নামে পরিচালিত, এবং ডেইন ভিঞ্চি অ্যাট হান্টার্স ক্রিক ইনকরপোরেটেড, যা ডেইন ভিঞ্চি একাডেমি নামে পরিচিত। শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানকে এইচ-১বি কর্মসংস্থান সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে ডিবারমেন্টের আওতায় আনা হয়েছে।
তালিকায় গোয়ারাটেকের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ২০২৫ সালের ১২ মে থেকে ২০২৭ সালের ১১ মে পর্যন্ত। রেনোটেক গ্রুপ ২০২৫ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৭ সালের ৭ আগস্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ। সিলোজের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা ২০২৬ সালের ৪ মার্চ থেকে ২০২৮ সালের ৩ মার্চ পর্যন্ত। শেরউড একাডেমির নিষেধাজ্ঞা ২০২৬ সালের ২৬ মে থেকে ২০২৮ সালের ২৫ মে পর্যন্ত। নতুন করে যুক্ত হওয়া ডেইন ভিঞ্চি একাডেমির নিষেধাজ্ঞা ২০২৬ সালের ৩ আগস্ট থেকে ২০২৮ সালের ২ আগস্ট পর্যন্ত কার্যকর।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের ওয়েজ অ্যান্ড আওয়ার ডিভিশন এসব প্রতিষ্ঠানকে এইচ-১বি প্রোগ্রামের ‘উইলফুল ভায়োলেটর’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এইচ-১বি প্রোগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ শ্রম ও কমপ্লায়েন্স সংক্রান্ত বিধান লঙ্ঘনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। উইলফুল ভায়োলেটর হিসেবে চিহ্নিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে শ্রম বিভাগের বাড়তি নজরদারির আওতায়ও আনা হতে পারে।
এইচ-১বি প্রোগ্রামের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষায়িত পেশায় প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মী নিয়োগের সুযোগ পায় নিয়োগদাতারা। তবে কর্মীদের মজুরি, চাকরির শর্ত, মার্কিন কর্মীদের ওপর প্রভাব এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হয়। নিয়ম লঙ্ঘন প্রমাণিত হলে শ্রম বিভাগ বকেয়া মজুরি আদায়, আর্থিক জরিমানা এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এইচ-১বি প্রোগ্রাম থেকে প্রতিষ্ঠানকে নিষিদ্ধ করতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো কোম্পানি এইচ-১বি প্রোগ্রাম থেকে ডিবার করা হলে সেই কোম্পানির অধীনে থাকা কর্মীদের বিদ্যমান এইচ-১বি ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় না। তবে ডিবারমেন্ট চলাকালে ওই নিয়োগদাতা নতুন এইচ-১বি আবেদন করতে পারে না এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ভিসা এক্সটেনশন বা গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ায়ও বাধার মুখে পড়তে পারে।
শ্রম বিভাগের এই তালিকা বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি স্পনসরশিপের ওপর নির্ভরশীল চাকরিপ্রার্থী ও বিদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কোম্পানিতে চাকরি নেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে এইচ-১বি স্পনসর করতে পারছে কি না, তা যাচাই করার প্রয়োজনীয়তা এই তালিকা আবারও সামনে এনেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়ার আসক্তিকর ফিচার থেকে সুরক্ষায় নতুন আইন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম শিশুদের প্রযুক্তিগত ঝুঁকি থেকে সুরক্ষায় ১৩টি বিলে স্বাক্ষর করেন। নতুন আইনের আওতায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার কিছু আসক্তিকর ফিচার ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে। নতুন আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য এমন কিছু ফিচার নিষিদ্ধ করা, যেগুলো দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে উৎসাহিত করে। এর মধ্যে রয়েছে অসীমভাবে স্ক্রল করার ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও চালু হওয়া এবং অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ধারাবাহিক কনটেন্ট দেখানোর মতো ফিচার। এসব ব্যবস্থাকে শিশু-কিশোরদের মধ্যে বাধ্যতামূলক বা অতিরিক্ত ব্যবহারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে বিবেচনা করা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন পদক্ষেপের আরেকটি বড় অংশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবটকে ঘিরে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, চ্যাটবট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রযুক্তি চালুর আগে ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে হবে। শিশুদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ এবং আত্মহত্যা বা আত্মক্ষতির মতো সংকটপূর্ণ বিষয়ে ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট নিরাপত্তা প্রোটোকল রাখার বিধানও রয়েছে। কোনো শিশু নিরাপত্তা সেটিংস বন্ধ করলে অভিভাবকদের জানানোর ব্যবস্থাও নতুন আইনের অংশ। এ ছাড়া নতুন আইনের মাধ্যমে শিশু যৌন নিপীড়নের উপকরণসংক্রান্ত আইনি সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। কোনো ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যক্তিকে যৌন কর্মকাণ্ডে দেখানো ডিজিটালি পরিবর্তিত বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবি ও উপকরণও এর আওতায় আনা হয়েছে। ফলে প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি বা পরিবর্তিত এমন যৌন নিপীড়নমূলক উপকরণের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ বাড়ল। বড় সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রেও নতুন আর্থিক দায় তৈরি করা হয়েছে। কোনো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তার প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শিশুদের ক্ষতির বিষয়ে অবহেলা করেছে বলে প্রমাণিত হলে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি শিশুর জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর আরও জবাবদিহি তৈরিই এর অন্যতম লক্ষ্য। নতুন আইনগুলোর মধ্যে স্কুল থেকে দেওয়া প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়েও একটি বিধান রয়েছে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পরিবারগুলো স্কুল থেকে দেওয়া ল্যাপটপ গ্রহণ না করার সুযোগ পাবে। এর পাশাপাশি শিশু ও কিশোরদের অনলাইন গোপনীয়তা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আরও জোরদার করার জন্যও কয়েকটি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার এই উদ্যোগকে যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে সবচেয়ে বিস্তৃত আইনগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সময়ে দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যও শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার এবং প্রযুক্তি কোম্পানির দায়িত্ব নিয়ে নতুন নিয়ম করছে। ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন আইনে বিশেষ করে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়ার আসক্তিকর নকশা থেকে সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। গভর্নর নিউসমের স্বাক্ষর করা ১৩টি বিলের মধ্যে শিশুদের ডিজিটাল গোপনীয়তা, সোশ্যাল মিডিয়ার নকশা, এআই চ্যাটবট, শিশু যৌন নিপীড়নের উপকরণ এবং প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন বিধান রয়েছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আরও বাড়ানো হয়েছে। তবে নতুন আইন নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। ডিজিটাল অধিকারকর্মীদের কেউ কেউ মনে করছেন, শিশুদের সুরক্ষার নামে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ তৈরি হলে অনলাইনে মতপ্রকাশ ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ওপর প্রভাব পড়তে পারে। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোও নতুন বিধানগুলোর কিছু অংশ আদালতে চ্যালেঞ্জ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গভর্নর নিউসমের প্রশাসনের বক্তব্য, শিশুদের প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করা নয়, বরং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এসব আইনের লক্ষ্য। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ার এমন নকশা এবং এআই ব্যবস্থার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হয়েছে, যেগুলো শিশুদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আইনপ্রণেতারা মনে করছেন। নতুন বিধানগুলোর মাধ্যমে ক্যালিফোর্নিয়া প্রযুক্তি খাতের সঙ্গে শিশু সুরক্ষার মধ্যে আরও শক্তিশালী আইনি কাঠামো তৈরি করতে চেয়েছে। সূত্র: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ রেট ৭% ছাড়াল, এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ
গ্রিন কার্ড থাকলেই ফেডারেল চাকরি নয়, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি চাকরির ৩ কৌশল
এইচ-১বি ভিসায় পাঁচ কোম্পানি নিষিদ্ধ, কোম্পানি ব্যান হলে কী হয়, জেনে নিন
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে মদ্যপ অবস্থায় টেসলা গাড়ি চালিয়ে কাঠামোর সঙ্গে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় ২৭ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় তাঁর সঙ্গে থাকা ঘনিষ্ঠ বন্ধু এলিস সুয়োমি নিহত হয়েছেন। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, গাড়ি চালানোর সময় ওই নারীর রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল আইনগত সীমার প্রায় তিন গুণ। অভিযুক্ত আলেহান্দ্রা পাহারসিংহের বিরুদ্ধে যানবাহনজনিত অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড এবং দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল ত্যাগের অভিযোগ আনা হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার ভোরে ম্যানহাটনের মিডটাউন এলাকায় ২০২৪ সালের একটি টেসলা চালানোর সময় তিনি নিয়ন্ত্রণ হারান বলে অভিযোগ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাত প্রায় ২টা ৪৫ মিনিটে ম্যাডিসন অ্যাভিনিউ ও পূর্ব ৪২তম স্ট্রিটের কাছে গাড়িটি ফুটপাতে উঠে একটি ডাকবাক্সে আঘাত করে। এরপর সেটি রাস্তার পাশে নির্মাণকাজের জন্য স্থাপন করা কাঠামোতে ধাক্কা দেয়। গাড়িতে যাত্রী হিসেবে ছিলেন ২৭ বছর বয়সী এলিস সুয়োমি। দুর্ঘটনার পরও পাহারসিংহ গাড়ি চালিয়ে কয়েক ব্লক এগিয়ে যান। পরে পূর্ব ৪২তম স্ট্রিট ও সেকেন্ড অ্যাভিনিউয়ের কাছে গাড়ি থামলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। গুরুতর আহত সুয়োমিকে দ্রুত বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাত ৩টার কিছু পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পাহারসিংহও দুর্ঘটনায় সামান্য আহত হন এবং চিকিৎসা নেওয়ার পর পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়। ম্যানহাটন প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, পাহারসিংহের রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল দশমিক ২২৯। নিউইয়র্কে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে আইনগত সীমা দশমিক শূন্য আট। অর্থাৎ তাঁর রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা নির্ধারিত সীমার প্রায় তিন গুণ ছিল। মামলার নথিতে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা থমাস ডিলনের বক্তব্যও উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে পাহারসিংহ ওই রাতে একাধিকবার মদ্যপানের কথা স্বীকার করেন। একই সঙ্গে তিনি পুলিশকে জানান, ৪২তম স্ট্রিটে গাড়ি চালানোর ঘটনা তাঁর মনে নেই। পাহারসিংহ কানেকটিকাটের বাসিন্দা। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটিতে তাঁর আগে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না। বুধবার রাতে ম্যানহাটন ক্রিমিনাল কোর্টে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় তাঁকে হেফাজতে রাখার জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার নগদ জামিন অথবা ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বন্ড চেয়েছিল। তবে বিচারক জেফরি গেরশুনি জামিনের পরিমাণ ৫০ হাজার ডলার নির্ধারণ করেন। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত পাহারসিংহ রাইকার্স আইল্যান্ডে হেফাজতে ছিলেন। আগামী সোমবার তাঁকে আবার আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। নিহত এলিস সুয়োমি হারলেমে থাকতেন এবং তাঁর তিন বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। দুর্ঘটনার পর তাঁর বাসার বাইরে স্বজন ও বন্ধুরা স্মরণসভা করেন। সেখানে নীল ও সাদা মোমবাতি, তাঁর ছবি এবং ছোট মেয়ের সঙ্গে তাঁর একটি ছবিও রাখা হয়। সুয়োমির প্রতিবেশী জর্জ কার্টাগেমা নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, তিনি সুয়োমিকে ভালো মানুষ হিসেবে চিনতেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সুয়োমি অন্যদের সাহায্য করতেন এবং কারও খাবার বা পোশাকের প্রয়োজন হলে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করতেন। পাহারসিংহ ও সুয়োমি ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন বলে তাঁদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্ট থেকেও ধারণা পাওয়া যায়। দুর্ঘটনার আগে তাঁদের একসঙ্গে থাকার ছবি ও বন্ধুত্বের নানা স্মৃতিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছিল। তবে দুর্ঘটনার কারণ ও ঘটনাটির পূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত চলছে। আইনগতভাবে পাহারসিংহের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তিনি দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। উৎস: নিউইয়র্ক পোস্ট
নিউইয়র্কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে গেল পণ্যবাহী ট্রাক, নিহত ৭৭ বছরের বৃদ্ধ, আহত ২
এইচ-১বি ভিসার নিয়ম ভাঙায় যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ ৫ প্রতিষ্ঠান, বিপাকে পড়তে পারেন বিদেশি কর্মীরা
চাকরি হারালে ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিলের পথে ট্রাম্প প্রশাসন, ঝুঁকিতে ভারতীয় কর্মীরা
শৈশব থেকেই আকাশে ওড়ার প্রতি ছিল গভীর আগ্রহ। কিন্তু জন্মগত নানা জটিলতা, ডাউন সিনড্রোম এবং গুরুতর শ্বাসনালির সমস্যার কারণে শ্যান্টেল ‘শ্যানি’ পুজারের জীবন কেটেছে হাসপাতাল আর চিকিৎসার মধ্যে। বারবার অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসার ধকলের মধ্যেও তার স্বপ্ন ছিল একদিন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট হওয়ার। শেষ পর্যন্ত ১৭তম জন্মদিনে সেই স্বপ্নই বাস্তবে রূপ দেয় আমেরিকান এয়ারলাইন্স। ২০১৮ সালে জন্মদিনের বিশেষ আয়োজনে শ্যানিকে প্রতিষ্ঠানটির প্রথম সম্মানসূচক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তাকে দেওয়া হয় আনুষ্ঠানিক ইউনিফর্ম, ব্যাজ ও ডানা প্রতীক। এরপর বিভিন্ন ফ্লাইটে তিনি কেবিন ক্রুদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান। দক্ষিণ ক্যারোলাইনার ডেনমার্কের বাসিন্দা শ্যান্টেলের শৈশব অন্য অনেক শিশুর মতো ছিল না। ডাউন সিনড্রোমের পাশাপাশি তার ছিল হৃদযন্ত্রের সমস্যা এবং ল্যারিঙ্গোম্যালেশিয়া, ট্র্যাকিওম্যালেশিয়া ও ট্র্যাকিওব্রঙ্কোম্যালেশিয়াসহ গুরুতর শ্বাসনালির জটিলতা। এসব সমস্যার কারণে তার শ্বাসনালি কখনো কখনো ৮৭ শতাংশ পর্যন্ত সংকুচিত হয়ে যেত বলে তার মা ডিয়ানা মিলার-ব্যারি জানিয়েছিলেন। চিকিৎসার জন্য তাকে নিয়মিত দক্ষিণ ক্যারোলাইনা থেকে ওহাইওর সিনসিনাটি চিলড্রেনস হাসপাতালে যেতে হতো। দীর্ঘ যাত্রার জন্য বিমানই ছিল তার পরিবারের অন্যতম ভরসা। আর সেই নিয়মিত বিমানযাত্রার মধ্যেই শ্যানির মনে জন্ম নেয় নতুন স্বপ্ন। একটি ফ্লাইটে এক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট তার সঙ্গে বিশেষভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করেন এবং তাকে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের ব্যবহৃত ডানা প্রতীক দেন। এরপর থেকেই শ্যানি নিজেও এই পেশায় কাজ করার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। বিমানে তিনি কেবিন ক্রুদের কাজ গভীর মনোযোগ দিয়ে দেখতেন এবং তাদের নিরাপত্তা নির্দেশনাও অনুকরণ করার চেষ্টা করতেন। শ্যানির মা ডিয়ানা একসময় মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের কাছ থেকে কিছু স্মারক সামগ্রী চেয়েছিলেন। কিন্তু বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে যে সাড়া আসে, তা পরিবারের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে যায়। শ্যানির জন্য আয়োজন করা হয় বিশেষ জন্মদিনের অনুষ্ঠান। আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে তার বন্ধু, পরিবারের সদস্য এবং বিশেষ অতিথিদের নিয়ে উদযাপন করা হয় দিনটি। তাকে দেওয়া হয় ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের আনুষ্ঠানিক পোশাক ও পরিচয়পত্র। পাশাপাশি তাকে সম্মানসূচক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের মর্যাদা দেওয়া হয়। এরপর থেকে চিকিৎসার জন্য যখনই তিনি বিমানে যাতায়াত করতেন, ইউনিফর্ম পরে কেবিন ক্রুদের সঙ্গে বিভিন্ন কাজে অংশ নিতেন। ফ্লাইটের আগে প্রস্তুতিতে সহায়তা করা, যাত্রীদের নিরাপত্তা নির্দেশনা প্রদর্শনে অংশ নেওয়া এবং অন্যান্য ছোটখাটো কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেতেন তিনি। শ্যানির জন্য এই স্বীকৃতি ছিল আরও বিশেষ একটি কারণে। তার ১৭তম জন্মদিনে পৌঁছানো নিয়েও চিকিৎসকদের একসময় গভীর উদ্বেগ ছিল। গুরুতর শ্বাসনালির সমস্যার কারণে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবারকে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। ২০১৬ সালে তার একটি বড় অস্ত্রোপচার হয়। অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। কিন্তু জ্ঞান ফেরার পর শ্যানি ‘ফ্রোজেন’ চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় গান ‘লেট ইট গো’ গাইতে শুরু করেন বলে তার মা জানিয়েছেন। ঘটনাটি পরিবারের কাছে তার লড়াই করার মানসিকতার একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে আছে। শ্যানির গল্প শুধু একটি জন্মদিনের বিশেষ আয়োজনের গল্প নয়। দীর্ঘ চিকিৎসা ও শারীরিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও একটি শিশুর স্বপ্নকে গুরুত্ব দিয়ে তা বাস্তবে রূপ দেওয়ার উদাহরণ হিসেবেও ঘটনাটি সামনে এসেছে। আমেরিকান এয়ারলাইন্সের নিউজরুমের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে শ্যানি পুজারকে সম্মানসূচক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তখন পর্যন্ত চিকিৎসার জন্য আমেরিকান এয়ারলাইন্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠান পিএসএ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ফ্লাইটে তিনি ৫০টিরও বেশি যাত্রা করেছিলেন। ২০১৭ সালে এমনই একটি যাত্রায় পাইলট ম্যাট কোয়েলিন ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ভ্যালারি বাটলারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের সঙ্গে শ্যানির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচারের আগে আমেরিকান এয়ারলাইন্স ও পিএসএর কর্মীরা শ্যানির যাত্রাপথের বিভিন্ন বিমানবন্দরে বিশেষ আয়োজন করেন। কোম্পানির পক্ষ থেকে তার চিকিৎসাযাত্রাকে স্মরণীয় করে তুলতে বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানানো হয় এবং বিশেষ সম্মান দেওয়া হয়। শ্যানির মা ডিয়ানা মেয়ের জন্য একটি দীর্ঘ ইচ্ছেতালিকাও তৈরি করেছিলেন। জীবনের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও শ্যানি একে একে নিজের পছন্দের অনেক অভিজ্ঞতা অর্জনের চেষ্টা করেছেন। বিমানকর্মী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ তার সেই তালিকার অন্যতম বড় অর্জন হয়ে ওঠে। তার গল্পে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শারীরিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাকে সামনে রেখে তার স্বপ্নকে থামিয়ে না দিয়ে পরিবার ও বিমান সংস্থার কর্মীরা তাকে নিজের আগ্রহের জগতে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। সেই সুযোগই শ্যানির জন্য বিমানযাত্রাকে চিকিৎসার প্রয়োজনের পাশাপাশি আনন্দ ও স্বপ্নপূরণের অভিজ্ঞতায় পরিণত করে। সূত্র: আমেরিকান এয়ারলাইন্স নিউজরুম, এবিসি নিউজ ও সিবিএস নিউজ।
নিজ দেশের রাজনীতি ও ব্যয়বহুল জীবন ছেড়ে প্যারিসে বাড়ি কিনছেন মার্কিনীরা
৩০ অঙ্গরাজ্যের ১০ লাখ ওবামাকেয়ার গ্রাহককে ৫০০ ডলার করে ফেরত দেবেন ট্রাম্প