উবার বা পিজা ডেলিভারি নয়: ৩-৬ মাসের প্রশিক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রে পেশাদার ক্যারিয়ার গড়ার ৫ বাস্তব সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন শুরু করতে এসে অনেক বাংলাদেশিকেই প্রথম দিকে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি, পেশাগত অভিজ্ঞতা বা ভালো চাকরি থাকলেও নতুন দেশে এসে ভাষা, স্থানীয় অভিজ্ঞতা এবং চাকরির বাজার সম্পর্কে সীমিত ধারণার কারণে অনেকেই শুরুতে উবার বা লিফট চালানো, ফুড ডেলিভারি, গ্যাস স্টেশন, গ্রোসারি স্টোর কিংবা অন্যান্য খণ্ডকালীন কাজে যুক্ত হন।
▶️ ভিডিও দেখুন...আমেরিকায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সেরা পাঁচটি পার্ট-টাইম চাকরি
তবে কর্মসংস্থান ও ক্যারিয়ার উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে এমন কিছু পেশা রয়েছে যেখানে দীর্ঘমেয়াদি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ছাড়াই কয়েক মাসের প্রশিক্ষণ বা সার্টিফিকেশন সম্পন্ন করে একটি পেশাদার কর্মজীবনে প্রবেশ করা সম্ভব। এসব পেশায় একবার প্রবেশ করতে পারলে ভবিষ্যতে আয় বৃদ্ধি, পদোন্নতি এবং আরও বড় সুযোগের পথ তৈরি হয়।
ক্যারিয়ার নিয়ে দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্র কাজ করেন আমিনুর রহমান বলেন, নতুন অভিবাসীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এমন একটি পেশা নির্বাচন করা, যেখানে প্রবেশের সময় কম, খরচ তুলনামূলক কম এবং ভবিষ্যতে উন্নতির সুযোগ বেশি।
আরও পড়ুন.... যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়া থাকাই এখন সাশ্রয়ী, টানা ৩৪ মাস কমছে ভাড়ার দাম
বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রবেশের অন্যতম জনপ্রিয় পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে সফটওয়্যার কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স বা কিউএ টেস্টিং। সফটওয়্যার, ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন সঠিকভাবে কাজ করছে কি না তা পরীক্ষা করাই এ পেশার মূল দায়িত্ব। সাধারণত তিন থেকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একজন নতুন কর্মী এ খাতে কাজ শুরু করতে পারেন। এই সেক্টরে যারা কর্মরত রয়েছেন তাদের মতে, এন্ট্রি-লেভেলে একজন কিউএ টেস্টারের বার্ষিক আয় ৬০ হাজার থেকে ৮৫ হাজার ডলারের মধ্যে হতে পারে।
অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিউএ অ্যানালিস্ট থেকে সিনিয়র কিউএ ইঞ্জিনিয়ার, কিউএ লিড, টেস্ট ম্যানেজার কিংবা সফটওয়্যার প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি এই পেশায় সফলভাবে কাজ করছেন।
স্বাস্থ্যসেবা খাতেও নতুন অভিবাসীদের জন্য রয়েছে বিস্তৃত সুযোগ। এর মধ্যে ফ্লেবোটোমিস্ট পেশা দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ফ্লেবোটোমিস্টদের কাজ হলো রোগীদের রক্ত সংগ্রহ করা এবং বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য নমুনা প্রস্তুত করা। হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক ল্যাব এবং ব্লাড ব্যাংকে এ পেশার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সাধারণত দুই থেকে তিন মাসের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেই একজন কর্মী এ খাতে কাজ শুরু করতে পারেন।
আরও পড়ুন... যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী ও অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়া পুনরায় চালু হয়েছে
এন্ট্রি-লেভেলে বার্ষিক আয় ৩৬ হাজার থেকে ৫৫ হাজার ডলারের মধ্যে হয়ে থাকে। পরবর্তীতে মেডিকেল ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান, ল্যাব সুপারভাইজার বা অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা পেশায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সার্টিফাইড নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট বা সিএনএ পেশাটিও নতুন অভিবাসীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। হাসপাতাল, নার্সিং হোম এবং পুনর্বাসন কেন্দ্রে রোগীদের দৈনন্দিন পরিচর্যা, চলাফেরায় সহায়তা এবং মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের দায়িত্ব পালন করেন তারা। সাধারণত এক থেকে তিন মাসের প্রশিক্ষণেই এই পেশায় প্রবেশ করা সম্ভব। একজন সিএনএর বার্ষিক আয় সাধারণত ৩৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে থাকে। তবে এ পেশার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি নার্সিং পেশায় প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সোপান।
অনেকেই সিএনএ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে পরবর্তীতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত নার্স বা নিবন্ধিত নার্স হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেন।
আরও পড়ুন... ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন
স্বাস্থ্যসেবা খাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্থিতিশীল পেশা হলো মেডিকেল বিলিং ও কোডিং। রোগীদের চিকিৎসা তথ্য, স্বাস্থ্যবিমা দাবি এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত এই পেশায় সরাসরি রোগী সেবা দিতে হয় না। ফলে যারা অফিসভিত্তিক কাজ করতে আগ্রহী, তাদের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় ক্ষেত্র। সাধারণত তিন থেকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ খাতে প্রবেশ করা যায়। এন্ট্রি-লেভেলে বার্ষিক আয় ৪৫ হাজার থেকে ৭৫ হাজার ডলারের মধ্যে হতে পারে।
অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে রেভিনিউ সাইকেল ম্যানেজমেন্ট, স্বাস্থ্যসেবা প্রশাসন কিংবা বীমা খাতেও কাজের সুযোগ তৈরি হয়।
অন্যদিকে প্রযুক্তি খাতে প্রবেশের আরেকটি কার্যকর পথ হলো আইটি হেল্প ডেস্ক সাপোর্ট স্পেশালিস্ট হিসেবে কাজ করা। কম্পিউটার, সফটওয়্যার, ইমেইল, নেটওয়ার্ক এবং প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধানে ব্যবহারকারীদের সহায়তা করাই এ পেশার মূল কাজ। তিন থেকে চার মাসের প্রশিক্ষণ এবং কিছু আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন অর্জনের মাধ্যমে অনেকেই এ খাতে কর্মজীবন শুরু করতে পারেন। একজন আইটি হেল্প ডেস্ক কর্মীর বার্ষিক আয় সাধারণত ৪৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার ডলারের মধ্যে হয়ে থাকে।
পরবর্তীতে সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার, ক্লাউড বিশেষজ্ঞ কিংবা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাপক হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে।
▶️ ভিডিও দেখুন....আমেরিকায় রাজনৈতিক আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম কেসের বর্তমান অবস্থা ও নিয়মাবলি!!
কর্মসংস্থান বিশেষজ্ঞ আমিনুর রহমান আরও মনে করেন, নতুন অভিবাসীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দীর্ঘদিন অস্থায়ী বা স্বল্প আয়ের কাজে আটকে থাকা। তিনি বলেন, সপ্তাহে কয়েক ঘণ্টা সময় ব্যয় করে নতুন দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই একজন ব্যক্তি একটি পেশাদার কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করতে পারেন।
বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেক সফল পেশাজীবীর অভিজ্ঞতাও একই বার্তা দেয়। তাদের অনেকেই কর্মজীবনের শুরুতে সাধারণ চাকরিতে যুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে প্রশিক্ষণ, সার্টিফিকেশন এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং কর্পোরেট খাতে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে সফল ক্যারিয়ার গড়ার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি হলো দক্ষতা অর্জন। সঠিক পরিকল্পনা, সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ এবং অধ্যবসায় থাকলে নতুন অভিবাসীদের জন্য পেশাদার কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন অনেক বেশি উন্মুক্ত।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে ৯ জনের প্রাণহানির ঘটনায় বিধ্বস্ত একটি ব্যক্তিগত বিমানের লেজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪ মাইল দূরে উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের (এনটিএসবি) পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। সংস্থাটির সদস্য টম চ্যাপম্যান জানান, বিমানের লেজের সঙ্গে যুক্ত ‘লেফট এলিভেটর’ নামের নিয়ন্ত্রণ অংশটি তিনটি খণ্ডে পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১ দশমিক ৩ থেকে ৩ দশমিক ৮ মাইল দূরত্বের মধ্যে এসব অংশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাটিতে আঘাত করার আগেই বিমানের কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। গত রোববার (১ নভেম্বর) ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টির গ্রিনএকার্স এলাকায় লিয়ারজেট ৬০ মডেলের বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানটি টেক্সাসের অস্টিন থেকে বাহামাসের উদ্দেশে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা সাত যাত্রী এবং দুই পাইলটসহ মোট নয়জনের সবাই নিহত হন। বিমানটি একটি আবাসিক এলাকার সড়কে আছড়ে পড়ে এবং সেখানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনার পর আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে বিমানের বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ। তদন্তের স্বার্থে স্থানীয় বাসিন্দাদের এসব অংশ স্পর্শ বা সরিয়ে না ফেলে কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে এনটিএসবি। উদ্ধার হওয়া অংশটির নাম ‘লেফট এলিভেটর’। এটি বিমানের পেছনের অনুভূমিক লেজের সঙ্গে যুক্ত একটি চলমান নিয়ন্ত্রণ পৃষ্ঠ, যা বিমানের নাক ওপরে বা নিচে ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তদন্তকারীদের মতে, এত দূরে তিন খণ্ডে এর সন্ধান পাওয়া বিমানটি আঘাতের আগেই ভেঙে পড়তে শুরু করেছিল কি না, তা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। তবে এই অংশ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণেই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, নাকি নিচে নামার সময় অতিরিক্ত চাপের কারণে এটি ভেঙে যায়, তা এখনো নিশ্চিত নয়। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। দুর্ঘটনার আগে বিমানের পাইলট ও সহকারী পাইলটের সঙ্গে আকাশপথ নিয়ন্ত্রণকক্ষের যোগাযোগের তথ্যও তদন্তের আওতায় রয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, উড্ডয়নের পর বিমানটির কর্মীরা বরফ জমা, মাঝারি মাত্রার বায়ুপ্রবাহের অস্থিরতা এবং বৃষ্টিপাতের কথা জানিয়েছিলেন। একপর্যায়ে বিমানটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে এবং সহকারী পাইলট জরুরি বিপৎসংকেত পাঠান। যোগাযোগের রেকর্ডে বিমানটির দ্রুত উচ্চতা হারানোর বিষয়টি উঠে এসেছে। আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। নিহতদের মধ্যে ছিলেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা অ্যাডাম রবিনসন (৪৫), তাঁর স্ত্রী হেলেন শার্প (৪০), তাঁদের দুই সন্তান এমা (৪) ও চার্লি (২), পরিবারের পরিচর্যাকারী এবং দুই পারিবারিক বন্ধু। বিমানের পাইলট ছিলেন ৫৫ বছর বয়সী জেফ গ্রেগরি এবং সহকারী পাইলট ছিলেন ২০ বছর বয়সী নাথালিয়া গাদেলহা ফিলগেইরাস। নাথালিয়া ছোটবেলা থেকেই বিমান চালানোর প্রতি আগ্রহী ছিলেন। ২০২৩ সালে স্কুলে পড়ার সময়ই তিনি ব্যক্তিগত বিমান চালানোর লাইসেন্স অর্জন করেন। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিমান চালানোই ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম বড় স্বপ্ন। এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বিমানের বিভিন্ন অংশ সংগ্রহ ও পরীক্ষা করছেন এনটিএসবি কর্মকর্তারা। তদন্তকারীরা বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলেছেন, আশপাশে বিমানের কোনো ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেলে সেটি সরানো বা স্পর্শ করা যাবে না। বরং দ্রুত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কিংবা তদন্ত সংস্থাকে জানাতে হবে। সংস্থাটির মতে, উদ্ধার হওয়া লেজের অংশ দুর্ঘটনার আগের মুহূর্তে বিমানের অবস্থার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) ও রয়টার্স।
ফ্লোরিডায় বাড়ির উঠানে কাজ করছিলেন বাবা-মা, অগোচরে সড়কে গিয়ে গাড়ির ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু
নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি প্রবাসীদের অংশগ্রহণে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের জন্য প্রায় ১০ লাখ ডলার অনুদান সংগ্রহ
মেরিল্যান্ড স্টেট বিএনপির উদ্যোগে ১০ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভা
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত ক্যাথলিক প্রিস্কুলগুলোতে সমকামী দম্পতির সন্তানদের ভর্তির সুযোগ না দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিতে যাচ্ছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার আদালতের রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ বেঞ্চ ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তারা করদাতাদের অর্থে পরিচালিত এই স্কুলগুলোকে ধর্মীয় অধিকারের দোহাই দিয়ে এমন বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার অনুমতি দিতে পারে। এর ফলে স্কুলগুলোতে ধর্মীয় অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দেশটিতে আরও একটি বড় ধরনের জয় আসতে চলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের রক্ষণশীল বিচারকরা কলোরাডোর বৈষম্যবিরোধী আইনের বিষয়ে খুব একটা সন্তুষ্ট হতে পারেননি। কলোরাডোর ওই আইনে বলা আছে, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত কোনো প্রিস্কুলে যৌন অভিমুখিতা এবং লিঙ্গ পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে বৈষম্য করা যাবে না। কিন্তু বিচারক ব্রেট কাভানাফসহ রক্ষণশীল বেঞ্চের মতে, এই আইনি লড়াইটি একেবারেই অপ্রয়োজনীয় ছিল এবং কলোরাডো প্রশাসন ক্যাথলিক স্কুলগুলোকে ধর্মীয় অধিকার পালনের সুযোগ দিয়ে একটি সহজ সমঝোতায় পৌঁছাতে পারত। এটি মূলত মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর ধর্মীয় সুরক্ষা এবং সমকামী ও রূপান্তরকামীদের সুরক্ষায় প্রণীত বৈষম্যবিরোধী আইনের মধ্যকার একটি আদর্শিক দ্বন্দ্ব। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ধরনের সংঘাত যতবারই সুপ্রিম কোর্টে এসেছে, ততবারই ধর্মীয় অধিকারের দাবি জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে, আদালতের তিনজন উদারপন্থী বিচারক কলোরাডোর এই বৈষম্যবিরোধী আইনের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। বিচারক সোনিয়া সোটোমায়র ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবীর সমালোচনা করে বলেন, ধর্মীয় অনুভূতির দোহাই দিয়ে সমকামী দম্পতির সন্তান কিংবা রূপান্তরকামী শিশুদের স্কুল থেকে বাদ দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তবে মার্কিন বিচার বিভাগের হয়ে আইনি লড়াই করা আইনজীবী সারাহ হ্যারিস এই যুক্তি খণ্ডন করে বলেন, ক্যাথলিক স্কুলগুলো মূলত তাদের ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার জন্যই অভিভাবকদের কিছু শর্ত দিয়ে থাকে, যা তাদের নির্বিঘ্নে ধর্মচর্চার অধিকারের আওতাভুক্ত। উল্লেখ্য, ২০২০ সালে কলোরাডো প্রশাসন একটি সার্বজনীন প্রিস্কুল কর্মসূচির উদ্যোগ নেয়, যেখানে সরকারি ও বেসরকারি উভয় স্কুলকেই রাষ্ট্রীয় অর্থায়নের আওতায় আনা হয়। তবে শর্ত ছিল, সরকারি অর্থ গ্রহণকারী প্রতিটি স্কুলকে বর্ণ, ধর্ম, যৌন অভিমুখিতা ও লিঙ্গ পরিচয় নির্বিশেষে সকল যোগ্য শিশুকে ভর্তির সমান সুযোগ দিতে হবে। এর আগে ২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্ট মেইন অঙ্গরাজ্যের একটি মামলায় রায় দিয়েছিল যে, সরকার যখন শিক্ষা তহবিলের কর্মসূচি উন্মুক্ত করে, তখন কোনো স্কুলকে শুধুমাত্র ধর্মীয় হওয়ার কারণে সেই তহবিল থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। রক্ষণশীল বিচারকদের ধারণা, ওই রায়ের পরই বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য বৈষম্যবিরোধী আইনের এমন সব ধারা যুক্ত করে পরোক্ষভাবে ধর্মীয় স্কুলগুলোর অংশগ্রহণ আটকে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতির কড়াকড়িতে কমছে নতুন ভাড়াটে পরিবার, চাপে আবাসন খাত
বিলাসিতা নয়, রুচির পরিচয়: যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সাশ্রয়ী আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড
ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তার, পরে সরকারি নথিতে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আইসিইর বিরুদ্ধে
প্রয়াত পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের মেয়ে প্যারিস জ্যাকসন তার বাবার এস্টেট থেকে নিজেদের পারিবারিক ট্রাস্ট ফান্ডের জন্য ৬০০ মিলিয়ন ডলার (৪৫০ মিলিয়ন পাউন্ড) ছাড়ের দাবি তুলেছেন। গত ২৯ অক্টোবর লস অ্যাঞ্জেলেস সুপিরিয়র কোর্টে দায়ের করা এক আবেদনে ২৮ বছর বয়সী প্যারিস অভিযোগ করেছেন যে, এস্টেটের ট্রাস্টি জন ব্রাঙ্কা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের উত্তরাধিকারের অর্থ আটকে রেখেছেন। তার মতে, মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর ১৭ বছরেরও বেশি সময় পার হওয়ার পরও তাকে এবং তার ভাইদের ন্যায্য অর্থ বুঝিয়ে না দেওয়ার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকতে পারে না। পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাবার এস্টেট থেকে কোটি কোটি ডলার আয় হলেও মাইকেলের তিন সন্তান—প্রিন্স (২৯), প্যারিস (২৮) এবং বিগি (২৪)-এর জন্য গঠিত ফ্যামিলি ট্রাস্টটিতে এখনও পর্যাপ্ত অর্থ স্থানান্তর করা হয়নি। পারিবারিক ট্রাস্টের শর্তানুযায়ী, ভাইবোনদের বয়স ২১ বছর পূর্ণ হলে তারা নিজ নিজ অংশ থেকে আয় পেতে শুরু করবেন। এরপর বয়স ৩০ বছর হলে তারা মূল তহবিলের এক-তৃতীয়াংশ, ৩৫ বছর বয়সে অবশিষ্ট অর্থের অর্ধেক এবং ৪০ বছর বয়সে পুরো অর্থ হাতে পাবেন। আগামী চার মাসের মধ্যে প্রিন্স ৩০ বছরে পদার্পণ করতে যাওয়ায় বিষয়টি আরও জোরালো হয়েছে। প্যারিস তার অভিযোগে জানান, ট্রাস্টি জন ব্রাঙ্কা তাদের ওপর একপ্রকার ‘নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং ট্রাস্টের শর্তের তুলনায় অনেক কম পরিমাণ অর্থ তাদের দেওয়া হয়েছে। এমনকি আইনি পথে হাঁটার পর তাদের পাওনা অর্থ থেকে আরও কয়েক মিলিয়ন ডলার কেটে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। প্যারিসের অনুমান, এস্টেটের বর্তমান নগদ মজুত এবং সমস্ত দায়দেনা পরিশোধের পরও ফ্যামিলি ট্রাস্টে দেওয়ার মতো প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার অবশিষ্ট রয়েছে। তবে মাইকেল জ্যাকসনের এস্টেটের একজন মুখপাত্র প্যারিসের দাবিগুলোকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, আইআরএসের (অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা) ৭০০ মিলিয়ন ডলারের কর ও জরিমানার চলমান মামলাসহ বেশ কয়েকটি আইনি জটিলতা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ট্রাস্টে முழு তহবিল স্থানান্তর করা সম্ভব নয়। মুখপাত্র আরও জানান যে, প্যারিস ও অন্যান্য সুবিধাভোগীদের জন্য ইতিমধ্যে ২০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ ছাড় করা হয়েছে এবং মাইকেল জ্যাকসনের উইল অনুযায়ী, ৩০ বছর বয়স পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তার কোনো সন্তানই ট্রাস্ট থেকে বড় অঙ্কের অর্থ পাবেন না। আগামী ৪ ডিসেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে, যেখানে এস্টেট পরিচালনা ও ট্রাস্টির পারিশ্রমিক কমানোর বিষয়েও প্যারিসের করা আরেকটি আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নি হত, আত্মহ ত্যা করলেন স্বামী, এতিম ৬ বছরের শিশু
যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষুধার্ত শিক্ষার্থীদের খাবার দেওয়ায় চাকরি হারালেন ১৯ বছরের অভিজ্ঞ স্কুলকর্মী