যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামায় দুই শিশুসন্তানের জননীকে গুলি করে হত্যা, এলাকায় শোকের ছায়া
যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামায় কর্মক্ষেত্র থেকে কাজ শেষে পার্কিং লটে নিজের গাড়ির দিকে যাওয়ার সময় এক নির্মম ও ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ২৭ বছর বয়সী এক নার্স ও দুই সন্তানের জননী। আদাহ দস নামের ওই ডক্টরস হসপিটাল (DCH) রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারের নার্স ম্যানেজারকে এক বন্দুকধারী ঠান্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করে। ঘটনার সময় আদাহ তাঁর স্বামী অ্যান্ড্রুর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন।
ফলে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও মর্মান্তিক উপায়ে অ্যান্ড্রু তাঁর স্ত্রীর জীবনের শেষ মুহূর্তের আকুতি এবং এরপরই গুলির শব্দ নিজ কানে শুনতে পান।
আরও পড়ুন... টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে
তদন্তকারী কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ মে ম্যাথিউ টেইলর নামের এক যুবককে তাঁর কোনো বন্ধু বা পরিবারের সদস্য ওই হাসপাতালের সামনে নামিয়ে দিয়ে যায়। তবে সে হাসপাতালের ভেতরে না ঢুকে কয়েক ঘণ্টা ধরে পুরো চত্বরে ওত পেতে লোটোখেলা বা ঘোরাঘুরি করতে থাকে। আদাহ তাঁর ডিউটি শেষ করে যখন পার্কিং লটে নিজের গাড়ির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখন ম্যাথিউ তাঁর পথ রোধ করে এবং পিস্তল উঁচিয়ে গাড়ির চাবি দাবি করে।
ফোনে তখন আদাহ তাঁর স্বামীর সাথে রাতের খাবারের পরিকল্পনা এবং তাঁদের ৬ মাস ও ২ বছর বয়সী দুই কন্যাসন্তানের রাতের ঘুমোনোর রুটিন নিয়ে কথা বলছিলেন।
আরও পড়ুন... টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা
বন্দুকধারীকে দেখে আদাহ ভয় পেয়ে গাড়ির দিকে দ্রুত হেঁটে যেতে থাকলে ম্যাথিউ পিস্তল তাক করে তাঁর পিছু নেয়। গাড়ির কাছে পৌঁছামাত্রই যখন ম্যাথিউ গুলি করতে উদ্যত হয়, তখন ফোনের ওপাশে থাকা স্বামী শুনতে পান আদাহ অত্যন্ত ভয়ার্ত ও আর্তনাদ ভরা কণ্ঠে ঘাতকের উদ্দেশ্যে বলছেন, "দয়া করে এমনটা করো না।
আমার ছোট ছোট বাচ্চা আছে।" কিন্তু এই আকুতি ঘাতকের মন গলাতে পারেনি; সে আদাহকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি চালায়, যা তাঁর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা। এদিকে শোকার্ত স্বামী অ্যান্ড্রু হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সিকিউরিটি এজেন্সির বিরুদ্ধে চরম অবহেলার অভিযোগ এনে আদালতে একটি ক্ষতিপূরণ মামলা দায়ের করেছেন।
সূত্রঃ নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreসমুদ্রের পাশে বাড়ি কেনার স্বপ্ন দেখা ক্রেতাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ১০টি সম্ভাবনাময় উপকূলীয় শহরের তালিকা প্রকাশ করেছেন আবাসন খাতের বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এসব শহরে বর্তমানে তুলনামূলক কম দামে সম্পত্তি কেনার সুযোগ রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এসব এলাকার চাহিদা বাড়তে পারে। রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো উপকূলীয় এলাকার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বোঝার ক্ষেত্রে উন্নয়ন কার্যক্রম, নতুন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, অবকাঠামো বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার সুবিধার মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকার মধ্যে ১০টি শহর বেছে নেওয়া হয়েছে। তালিকায় রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্রুজ, ফ্লোরিডার ভেরো বিচ, দক্ষিণ ক্যারোলিনার মার্টল বিচ, মিসিসিপির প্যাসকাগোলা, আলাবামার গালফ শোরস, ফ্লোরিডার ভিলানো বিচ, নিউ হ্যাম্পশায়ারের পোর্টসমাউথ, নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটি, রোড আইল্যান্ডের পোর্টসমাউথ এবং ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিল বিচ। ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্রুজ শহরটি তালিকার প্রথম দিকের একটি জায়গা পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যালিফোর্নিয়ার সবচেয়ে ব্যয়বহুল উপকূলীয় এলাকার তুলনায় এখানে কিছুটা সাশ্রয়ী দামে বাড়ি কেনার সুযোগ রয়েছে। শহরটিতে সমুদ্রসৈকত, বাইরের বিনোদন, প্রাণবন্ত শহরকেন্দ্র এবং শক্তিশালী কমিউনিটি রয়েছে। সিলিকন ভ্যালি ও বে এরিয়ার কাছাকাছি হওয়ায় শহরটির চাহিদা ধরে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফ্লোরিডার ভেরো বিচকে রাজ্যের অন্যতম সম্ভাবনাময় উপকূলীয় শহর হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, পাম বিচের মতো ব্যয়বহুল এলাকার ক্রেতারা এখন ভেরো বিচের দিকে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এখানে ব্যক্তিগত সৈকত সুবিধা, গলফ এবং সমুদ্রঘেঁষা জীবনযাপনের সুযোগ তুলনামূলক কম খরচে পাওয়া যায়। শহরটির গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার। দক্ষিণ ক্যারোলিনার মার্টল বিচও তালিকায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের জনসংখ্যা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোর উন্নয়ন, পর্যটন এবং পারিবারিক বসবাসের উপযোগী পরিবেশের কারণে শহরটির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। এখানকার গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার ডলার। মিসিসিপির প্যাসকাগোলাকে উপকূলীয় এলাকার একটি কম পরিচিত বাজার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখানে এখনো তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ রয়েছে। শহরটির গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার ডলার। তবে ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আলাবামার গালফ শোরস শহর পর্যটন, সমুদ্রসৈকত, নৌযান সুবিধা এবং বাড়তে থাকা অবকাঠামোর কারণে তালিকায় জায়গা পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলীয় জীবনযাপন এবং বাড়তে থাকা জনসংখ্যার কারণে শহরটির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা রয়েছে। এখানকার গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৪ লাখ ৫৫ হাজার ডলার। ফ্লোরিডার ভিলানো বিচকে দ্রুত উন্নয়নশীল এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন কম পরিচিত থাকা এই এলাকায় এখন বড় ধরনের উন্নয়ন হচ্ছে। ভিলানো বিচে বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য প্রায় ৭ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪৮ ডলার। নিউ হ্যাম্পশায়ারের পোর্টসমাউথ ঐতিহাসিক পরিবেশ, সমুদ্রঘেঁষা অবস্থান, হাঁটার উপযোগী শহর এবং শক্তিশালী কমিউনিটির কারণে তালিকায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউ ইংল্যান্ডের পরিচিত ও ব্যয়বহুল উপকূলীয় এলাকার তুলনায় এখানে তুলনামূলক ভালো সুযোগ পাওয়া যায়। শহরটির গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৮ লাখ ডলার। নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটি সমুদ্রসৈকত, বিনোদন ব্যবস্থা, যোগাযোগ সুবিধা এবং নিউইয়র্ক ও ফিলাডেলফিয়ার কাছাকাছি অবস্থানের কারণে সম্ভাবনাময় হিসেবে উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত শহরটির গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার ডলার। রোড আইল্যান্ডের পোর্টসমাউথ নিউপোর্টের কাছাকাছি অবস্থিত একটি উপকূলীয় এলাকা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখানে সমুদ্রসৈকত, নৌযান সুবিধা এবং উপকূলীয় পরিবেশ পাওয়া যায়। শহরটির গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৭ লাখ ডলার, যা নিউপোর্টের তুলনায় কম। ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিল বিচও তালিকায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরে শহরটিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। এখনো কিছু এলাকায় ৮ লাখ ডলারের নিচে সংস্কার করা ভালো বাড়ি পাওয়া যেতে পারে। শহরটির গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৬ লাখ ৪৫ হাজার ডলার। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, উপকূলীয় এলাকায় বাড়ি কেনার আগে সম্পত্তির দাম, এলাকার উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
নিউইয়র্কে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার এক নেতা
প্রতারকের ফাঁদে পড়ে ৪ লাখ ৩৩ হাজার ডলার হারালেন মার্কিন নারী
ই-বাইকের বেপরোয়া চলাচল ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২১–২০২৩ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার মানুষ নিজেদের শুধু বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দেন। আর ২০২৩ সালের মার্কিন আদমশুমারির হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩ লাখে পৌঁছেছে। সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশির বসবাস নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে। একাই দেশটির মোট বাংলাদেশি-একক জনসংখ্যার প্রায় ৪৪ শতাংশ বা প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার মানুষের আবাস নিউইয়র্কে। এর বাইরে উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশি কমিউনিটি গড়ে উঠেছে মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও নিউ জার্সিতে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য ও বিভিন্ন জনসংখ্যাগত অনুমানের ভিত্তিতে বাংলাদেশিদের উপস্থিতির দিক থেকে শীর্ষ ১০ অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চল হলো: ১. নিউইয়র্ক — প্রায় ১,১৫,০০০ ২. মিশিগান — প্রায় ২০,০০০ ৩. ক্যালিফোর্নিয়া — প্রায় ১৮,০০০ ৪. টেক্সাস — প্রায় ১৭,০০০ ৫. নিউ জার্সি — প্রায় ১২,০০০ ৬. জর্জিয়া — আনুমানিক ১৫,০০০ (বিভিন্ন কমিউনিটি অনুমান) ৭. ফ্লোরিডা — আনুমানিক ৮,০০০–১০,০০০ ৮. পেনসিলভানিয়া — আনুমানিক ৭,০০০–৮,০০০ ৯. নর্থ ক্যারোলাইনা — আনুমানিক ৫,০০০–৭,০০০ ১০. ম্যাসাচুসেটস — কয়েক হাজার বাংলাদেশির বসবাস, কমিউনিটি ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে। তবে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকা প্রায় ১৫ হাজার বাংলাদেশির আবাস হলেও এটি কোনো একক অঙ্গরাজ্য নয়। এই সংখ্যা ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড ও ডিসি—এই তিনটি প্রশাসনিক এলাকার সম্মিলিত হিসাব। তাই অঙ্গরাজ্যভিত্তিক তালিকায় এটিকে আলাদাভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি-একক জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৪০ হাজার। ২০২৩ সালে তা বেড়ে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজারে পৌঁছেছে, যা প্রায় ৫৬৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। বর্তমানে বাংলাদেশিদের ৭১ শতাংশই অভিবাসী এবং তাদের মধ্যে ৫৫ শতাংশের বেশি ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।
ডিপোর্টেশনের তথ্য গোপন, ২৪ জনের সঙ্গে নাগরিকত্ব হারাতে পারেন নিউ জার্সির এক ব্যক্তি
জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব নিয়ে ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে? উদ্বেগে অভিবাসী পরিবার
অবশেষে ‘২৫ বছরের নিচে’ প্রেমিকার ধারা ভাঙলেন লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও, বর্তমান প্রেমিকার বয়স ২৭
ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম বিবিসির বিরুদ্ধে ১০ বিলিয়ন ডলারের মানহানির মামলা চলমান থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, “আমি বিবিসিকে এবিসির চেয়ে বেশি পছন্দ করি।” এ মন্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি বিবিসির বিরুদ্ধে ১০ বিলিয়ন ডলারের মামলা করেন। তার অভিযোগ, ২০২৪ সালের একটি তথ্যচিত্রে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ভাষণের সম্পাদিত অংশ এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, যাতে মনে হয় তিনি ক্যাপিটল হামলায় সমর্থকদের উসকে দিয়েছিলেন। পরে বিবিসি স্বীকার করে যে তথ্যচিত্রে ব্যবহৃত সম্পাদনায় ভুল ছিল এবং এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করে। তবে সম্প্রচারমাধ্যমটি দাবি করে, সেটি ইচ্ছাকৃত ছিল না এবং ট্রাম্পের মামলার আইনগত ভিত্তি নেই। বর্তমানে মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বিচারাধীন। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বড় সংবাদমাধ্যম—বিশেষ করে এবিসি, সিবিএস, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল—এর সমালোচনা করে আসছেন এবং একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, বিবিসির সঙ্গে আইনি বিরোধ চললেও ট্রাম্পের এই মন্তব্য মূলত মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসির সমালোচনার প্রেক্ষাপটে এসেছে, যেখানে তিনি তুলনামূলকভাবে বিবিসিকে ইতিবাচকভাবে উল্লেখ করেছেন।
ট্রাম্পের আমলে আইসিইর গ্রেপ্তার বেড়েছে, তবে কমেছে দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীর অনুপাত
বাথরুমে নেই ওয়াশবেসিন, তবু নিউইয়র্কের ৩৮০ বর্গফুটের এই ফ্ল্যাট ছাড়তে চান না তিনি