সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

মেটার এআই চশমায় গোপনে যৌনতা, নগ্নতা ও বাথরুমের দৃশ্য ধারণের অভিযোগ, ক্যালিফোর্নিয়ায় মামলা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ২২:৪০
মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন স্মার্ট চশমা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গোপনীয়তার অভিযোগ উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত
মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন স্মার্ট চশমা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গোপনীয়তার অভিযোগ উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত

মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন স্মার্ট চশমা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে গোপনীয়তা-সংক্রান্ত আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ৭০ জনের বেশি ব্যবহারকারী, ক্রেতা ও চশমার ক্যামেরায় ধারণ হওয়া ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে করা একটি প্রস্তাবিত গণমামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, এসব চশমায় ধারণ করা কিছু ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল ছবি-ভিডিও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা ঠিকাদারি কর্মীদের কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে।

 

ক্যালিফোর্নিয়ায় দায়ের করা সংশোধিত মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, মেটার স্মার্ট চশমার মাধ্যমে পোশাক পরিবর্তন, গোসল, শৌচাগার ব্যবহার, ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত এবং পাসওয়ার্ড প্রবেশের মতো দৃশ্য ধারণ হয়েছে। মামলাকারীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, চশমাটি তখন ভিডিও ধারণ করছে, তা তারা জানতেন না। এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মেটা অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আইনি লড়াই চালানোর কথা জানিয়েছে।

 

মামলার নথি অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ার এক মামলাকারী, যাকে পিএল১৮ নামে উল্লেখ করা হয়েছে, দাবি করেছেন তিনি স্মার্ট চশমা একটি বাথরুমের কাউন্টারে রেখে যাওয়ার পর তাঁর পরিবারের সদস্যদের গোসল ও বাথরুম ব্যবহারের ছবি পরবর্তী সময়ে নিজের গ্যালারিতে দেখতে পান। তাঁর দাবি, পরিবারের কেউ এসব ছবি ধারণ করার উদ্দেশ্যে চশমাটি ব্যবহার করেননি।

 

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ব্যবহারকারীরা ‘হে মেটা’ বলে এআই সহকারী সক্রিয় করলে চশমার ক্যামেরা ও অডিও ব্যবস্থা চালু হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে চশমা অনিচ্ছাকৃতভাবেও সক্রিয় হয়েছে বলে মামলাকারীরা দাবি করেছেন। এরপর ধারণ করা তথ্য মেটার সার্ভারে পাঠানো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল উন্নত করার কাজে ব্যবহারের জন্য মানব কর্মীদের কাছে পর্যালোচনার জন্য পৌঁছেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

মামলায় কেনিয়ার ঠিকাদারি কর্মীদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণ ও তথ্য শ্রেণিবিন্যাসের কাজে যুক্ত কিছু কর্মী এসব চশমায় ধারণ করা ছবি ও ভিডিও পর্যালোচনা করেছেন। সুইডেনের সংবাদপত্র সুয়েনস্কা ডাগব্লাডেট ও গ্যোটেবর্গস-পোস্টেনের ফেব্রুয়ারির এক অনুসন্ধানেও কেনিয়ায় মেটার এক ঠিকাদারের কর্মীদের ব্যক্তিগত ফুটেজ পর্যালোচনার বিষয়টি উঠে এসেছিল।

 

মামলাকারীদের আইনজীবী টিনা উলফসন বলেছেন, যারা চশমাটি কিনেছেন তারা এটিকে সাধারণ প্রযুক্তিপণ্য হিসেবেই ব্যবহার করেছেন এবং এআই সুবিধা চালু করলে ধারণ করা ভিডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণের কাজে যেতে পারে, এমন বিষয় সম্পর্কে তারা যথেষ্ট অবগত ছিলেন না। তাঁর মতে, মামলাটি শুধু চশমা ব্যবহারকারীদের নয়, এমন ব্যক্তিদের গোপনীয়তার বিষয়ও সামনে আনছে যারা নিজেরা চশমা ব্যবহার না করেও এর ক্যামেরায় ধারণ হয়েছেন।

 

মেটা অবশ্য বলেছে, এআই ব্যবহারের সময় কিছু তথ্য পণ্য ও ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করার জন্য পর্যালোচনা করা হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং পরিচয় শনাক্ত করতে পারে এমন তথ্য ফিল্টার করার চেষ্টা করা হয়। মেটার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবহারকারী নিজে মেটার সঙ্গে কোনো ছবি বা ভিডিও শেয়ার না করলে সেই গণমাধ্যম সাধারণত ব্যবহারকারীর ডিভাইসেই থাকে।

 

মামলাটির নথিতে মেটার স্মার্ট চশমার গোপনীয়তা-সংক্রান্ত প্রচারণার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাকারীদের অভিযোগ, চশমাগুলোকে ব্যবহারকারীর তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও গোপনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বাজারজাত করা হলেও এআই ব্যবহারের সময় ধারণ করা তথ্য মানব কর্মীদের মাধ্যমে পর্যালোচনার বিষয়টি ক্রেতাদের কাছে যথেষ্ট স্পষ্ট ছিল না।

 

এই আইনি বিরোধের পাশাপাশি মেটার স্মার্ট চশমার সম্ভাব্য মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। মেটার প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু বসওয়ার্থ ‘নেমট্যাগ’ নামে একটি সম্ভাব্য সুবিধার কথা বলেছেন, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা পরিচিত ব্যক্তিদের নাম মনে রাখার ক্ষেত্রে সহায়তা পেতে পারেন। তবে গোপনীয়তা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো এমন প্রযুক্তির সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

 

এ নিয়ে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যেও মেটার বিরুদ্ধে আরেকটি প্রস্তাবিত গণমামলা হয়েছে। সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ্যে থাকা মানুষের ছবি ব্যবহার করে মেটা এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে মুখ শনাক্তকরণ সুবিধায় ব্যবহার করা হতে পারে। মেটা বলেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য কীভাবে তাদের এআই পণ্য উন্নয়নে ব্যবহৃত হয় সে বিষয়ে তারা স্বচ্ছ থাকার চেষ্টা করে এবং ‘নেমট্যাগ’ সুবিধাটি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

 

মামলাগুলো এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন মেটা নতুন প্রজন্মের পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২৩ সেপ্টেম্বর মেনলো পার্কে প্রতিষ্ঠানটির ডেভেলপার সম্মেলনে নতুন পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি উন্মোচনের কথা রয়েছে। একই সময়ে রয়টার্স জানিয়েছে, মেটা ক্যামেরাবিহীন নতুন স্মার্ট চশমা তৈরির পরিকল্পনা করছে, যা গোপনীয়তা নিয়ে চলমান উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

 

সূত্র: লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস, নিউইয়র্ক পোস্ট


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ভুয়া পরিচয়ে ৩০ বছর মার্কিন সামরিক কারখানায় কাজ করার অভিযোগে গ্রেপ্তার মেক্সিকান নারী। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন নাগরিক পরিচয় জাল করে ৩০ বছর সামরিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি, গ্রেপ্তার মেক্সিকান নারী

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মার্কিন নাগরিকত্বের ভুয়া দাবি করে প্রায় তিন দশক একটি মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অভিযোগে মেক্সিকোর এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির ফেডারেল কর্তৃপক্ষ।   আলমা প্যাট্রিসিয়া কনত্রেরাস ভিয়াফানা নামে ৫৪ বছর বয়সী ওই নারী দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসিন্দা। শুক্রবার তাকে টরেন্সে হাওমেট অ্যারোস্পেসের একটি কারখানার বাইরে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখানে তিনি যন্ত্রকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে মোট আটটি ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে।   অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি তারবার্তা-ভিত্তিক প্রতারণার মামলা, ভুয়া বা জাল নাগরিকত্ব সনদ ব্যবহারের একটি অভিযোগ, গুরুতর পরিচয় চুরির একটি অভিযোগ এবং মার্কিন নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি করার একটি অভিযোগ।   ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরির দাখিল করা অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ভিয়াফানা ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে টরেন্সের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাওয়ার সময় ফর্ম আই-৯-এ নিজেকে মার্কিন নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কর্মীদের পরিচয় ও কাজের বৈধ অনুমতি যাচাইয়ের জন্য এই ফর্ম ব্যবহার করা হয়।   তবে মার্কিন অভিবাসন নথি অনুযায়ী, ২০০৩ সালে একজন অভিবাসন বিচারক তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপরও তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে কাজ চালিয়ে যান বলে অভিযোগ।   চলতি বছরের জানুয়ারিতে চাকরি ধরে রাখার জন্য আবারও ফর্ম আই-৯ জমা দেন ভিয়াফানা। এবারও তিনি নিজেকে মার্কিন নাগরিক বলে উল্লেখ করেন এবং এমন একটি ন্যাচারালাইজেশন সনদের নম্বর ব্যবহার করেন, যা অন্য একজনের ছিল বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।   মার্কিন বিচার বিভাগের হিসাবে, ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই প্রতিষ্ঠান ও এর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কাজ করে ভিয়াফানা অন্তত ১৪ লাখ ২ হাজার ৪৫৯ ডলার পারিশ্রমিক পেয়েছেন। এর একটি অংশ সরাসরি তার ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।   শুক্রবার গ্রেপ্তারের আগে টরেন্সের কারখানায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে পরিস্থিতি জটিল ছিল বলে নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতির খবর পেয়ে ভিয়াফানা নিজের কর্মস্থল ছেড়ে একটি সম্মেলনকক্ষে অবস্থান নেন বলে তদন্তকারীদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়েছে। পরে তিনি সেখান থেকে বের হলে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।   মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, যে প্রতিষ্ঠানটিতে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন সেটি বিমান ও প্রতিরক্ষা খাতের জন্য বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরি করে এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ব্যবসা করে। হাওমেট অ্যারোস্পেস জেট ইঞ্জিনের উপাদান, মহাকাশযানের জন্য টাইটানিয়াম কাঠামোসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ও শিল্পপণ্য তৈরি করে। প্রতিষ্ঠানটির তৈরি কিছু উপাদান লকহিড মার্টিনের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানেও ব্যবহৃত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   লস অ্যাঞ্জেলেসের শীর্ষ ফেডারেল প্রসিকিউটর বিল এসাইলি বলেন, সামরিক খাতের সঙ্গে কাজ করা একটি প্রতিষ্ঠানে ভিয়াফানা এত দীর্ঘ সময় ধরে কীভাবে কাজ করতে পেরেছেন, তা উদ্বেগের বিষয়। তিনি দাবি করেন, এমন ঘটনা জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে এগুলো প্রসিকিউটরের বক্তব্য, আদালতে প্রমাণিত কোনো তথ্য নয়।   ভিয়াফানার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত করছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস। প্রতিষ্ঠানটির নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কোনো আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। হাওমেটের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি তারবার্তা-ভিত্তিক প্রতারণার প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ২০ বছর করে কারাদণ্ড হতে পারে। ভুয়া নাগরিকত্ব সনদ ব্যবহারের অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর, মিথ্যা নাগরিকত্ব দাবির অভিযোগে সর্বোচ্চ তিন বছর এবং গুরুতর পরিচয় চুরির অভিযোগে বাধ্যতামূলকভাবে অতিরিক্ত দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।   তবে মার্কিন বিচার বিভাগ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, গ্র্যান্ড জুরির অভিযোগপত্র কেবল অভিযোগের আনুষ্ঠানিক উপস্থাপন। আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ভিয়াফানাকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। আগামী সোমবার লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল আদালতে তার প্রাথমিক শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।   সূত্র: মার্কিন বিচার বিভাগ, নিউইয়র্ক পোস্ট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ২৩:৩২
নিউইয়র্কের মেকানিকভিলে চার শিশু নিহতের ঘটনায় তদন্ত চলছে। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে মা ও নানির হাতে চার শিশু খুন, ৪০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে বাবার মামলা

মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন স্মার্ট চশমা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গোপনীয়তার অভিযোগ উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত

মেটার এআই চশমায় গোপনে যৌনতা, নগ্নতা ও বাথরুমের দৃশ্য ধারণের অভিযোগ, ক্যালিফোর্নিয়ায় মামলা

৯৮ বছর বয়সে হাইস্কুলের সনদ হাতে পল লিটল। ছবি: সংগৃহীত

পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি, তবু ১৫০ শিক্ষার্থীর স্বপ্নপূরণে পাশে ছিলেন পল

নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্ক, যেখানে বৃহস্পতিবার রাতে একাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে এক ঘণ্টায় চার ছিনতাই, খোয়া গেল ৬ জনের মোবাইল

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে প্রায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে চারটি পৃথক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় বন্দুক দেখিয়ে ছয়জনের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়েছে তিন সন্দেহভাজন ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার রাতে পার্কটির ইস্ট ড্রাইভ এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে রাত ৮টা ৪১ মিনিটের দিকে ইস্ট ৭৯তম স্ট্রিট ও ইস্ট ড্রাইভের কাছে। ২৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি পুলিশকে জানান, তিন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তার কাছে আসে। তাদের একজন আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে তার মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। এরপর তিনজন সাইকেলে করে পার্কের ভেতর দিয়ে পূর্ব দিকে চলে যায়।   প্রায় ৫০ মিনিট পর একই ধরনের আরেকটি ঘটনা ঘটে ইস্ট ১০৯তম স্ট্রিট ও ইস্ট ড্রাইভের কাছে। ৪৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তি পুলিশকে জানান, তিন ব্যক্তি তার কাছে এসে তাদের একজন আগ্নেয়াস্ত্র দেখায়। পরে তার মোবাইল ফোন নিয়ে তারা সেখান থেকে চলে যায়। এর মাত্র ১৫ মিনিট পর পুলিশ ইস্ট ১০৬তম স্ট্রিট ও ইস্ট ড্রাইভ এলাকায় আরও দুটি ছিনতাইয়ের খবর পায়। সেখানে ২২ বছর বয়সী এক পুরুষ ও ২০ বছর বয়সী এক নারী পুলিশকে জানান, তিন ব্যক্তি তাদের মুখোমুখি হয়। তাদের মধ্যে একজন বন্দুক দেখানোর পর দুজনের মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়।   একই স্থানে আরও দুই ব্যক্তি পুলিশের কাছে ছিনতাইয়ের অভিযোগ জানান। ৪৩ বছর বয়সী ওই দুই ব্যক্তি বলেন, তিন ব্যক্তি তাদের দিকেও বন্দুক তাকিয়ে মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, শেষ দুটি ঘটনার পর সন্দেহভাজনরা ফিফথ অ্যাভিনিউয়ের দিকে পূর্ব দিকে পালিয়ে যায়। তবে চারটি ঘটনায় একই তিন ব্যক্তি জড়িত ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি এনওয়াইপিডি।   ঘটনাগুলোর তদন্ত চলছে। সন্দেহভাজনদের পরিচয় বা গ্রেপ্তারের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানায়নি পুলিশ। চারটি ঘটনাতেই মূল লক্ষ্য ছিল পার্কে থাকা মানুষের মোবাইল ফোন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। সেন্ট্রাল পার্ক নিউইয়র্ক শহরের অন্যতম ব্যস্ত ও জনপ্রিয় জনসাধারণের বিনোদনস্থল। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এখানে হাঁটাহাঁটি, সাইকেল চালানো ও বিভিন্ন বিনোদনমূলক কাজে অংশ নিতে আসেন। ফলে একই রাতে অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনায় পার্কটির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে নজর পড়েছে।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ২১:৩৬
নিউইয়র্কের স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে নতুন মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কের স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে নতুন মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টারের উদ্বোধন

মেরিল্যান্ডে কিশোরী যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে অবৈধ অভিবাসী চালক গ্রেপ্তার

মেরিল্যান্ডে কিশোরী যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে অবৈধ অভিবাসী চালক গ্রেপ্তার

২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে শতাধিক নেতাকর্মীর প্রস্তুতি

২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে শতাধিক নেতাকর্মীর প্রস্তুতি

ক্যালিফোর্নিয়ায় হুইলচেয়ারে থাকা ব্যক্তিকে চাপা দিয়ে পালাল গাড়ি, র ক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে মৃ ত্যু
ক্যালিফোর্নিয়ায় হুইলচেয়ারে থাকা ব্যক্তিকে চাপা দিয়ে পালাল গাড়ি, র ক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে মৃ ত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লং বিচে একটি মর্মান্তিক হিট-অ্যান্ড-রান সড়ক দুর্ঘটনায় হুইলচেয়ারে থাকা এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।   লং বিচ পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, শুক্রবার ভোর আনুমানিক ১২টা ৩৫ মিনিটের দিকে সেভেন্থ স্ট্রিট এবং প্যাসিফিক কোস্ট হাইওয়ের (পিসিএইচ) সংযোগস্থলে এই মারাত্মক দুর্ঘটনাটি ঘটে।   খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শরীরের উপরিভাগে গুরুতর জখম অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন।   ঘটনাস্থলেই লং বিচ প্যারামেডিকরা তাকে জরুরি চিকিৎসা প্রদান করেন, তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও গুরুতর আঘাতের কারণে পরবর্তীতে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, পথচারীকে ধাক্কা দেওয়ার পরপরই সন্দেহভাজন সাদা রঙের একটি সেডান গাড়ি দক্ষিণমুখী পিসিএইচ মহাসড়ক ধরে দ্রুতগতিতে পালিয়ে যায়।   পরবর্তীতে আশপাশের এলাকায় টহলরত পুলিশ কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিক তৎপরতা চালিয়ে সেকেন্ড স্ট্রিট এবং পিসিএইচের সংযোগস্থলের কাছে সন্দেহভাজন গাড়িটিকে শনাক্ত করে এবং চালককে আটক করে।   দুর্ঘটনার আসল কারণ এবং কীভাবে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হলো, তা খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৯:১০
ক্যালিফোর্নিয়ায় দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যুতে অভিযুক্ত পলাতক অবৈধ ট্রাকচালক গ্রেপ্তার

ক্যালিফোর্নিয়ায় দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যুতে অভিযুক্ত পলাতক অবৈধ ট্রাকচালক গ্রেপ্তার

ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতিতে বিভ্রান্ত রিপাবলিকানরা, সন্দিহান ভোটাররা

ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতিতে বিভ্রান্ত রিপাবলিকানরা, সন্দিহান ভোটাররা

ক্যালিফোর্নিয়ায় ভুয়া নাগরিকত্বে ৩০ বছর সামরিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি, গ্রেপ্তার মেক্সিকান নারী

ক্যালিফোর্নিয়ায় ভুয়া নাগরিকত্বে ৩০ বছর সামরিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি, গ্রেপ্তার মেক্সিকান নারী

0 Comments