আমেরিকা

নকশার ত্রুটি ও ওশেনগেটের অবহেলাতেই ধ্বংস হয়েছিল টাইটান সাবমেরিন, জানাল তদন্ত প্রতিবেদন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৬ ১৯:১৭
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

২০২৩ সালে আটলান্টিকের তলদেশে পাঁচ যাত্রীর প্রাণ কেড়ে নেওয়া টাইটান সাবমেরিন বিপর্যয়ের পেছনে মূল কারণ ছিল কোম্পানির চরম অবহেলা, নকশার ত্রুটি এবং অপর্যাপ্ত নজরদারি। সম্প্রতি কানাডার ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (টিএসবি) কর্তৃক প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির পেছনের এই সত্য উঠে এসেছে।

 

১৩৬ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টাইটানের কার্বন ফাইবার সিলিন্ডারের বৈশিষ্ট্যগুলো তাত্ত্বিক নকশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা কখনোই যাচাই করা হয়নি। এছাড়া এটি নির্মাণ ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে মানসম্মত প্রকৌশল বিদ্যাও অনুসরণ করেনি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওশেনগেট। সংস্থাটি জানায়, টাইটানিক জাহাজের ধ্বংসাবশেষ পরিদর্শনের এই অভিযানে সাবমেরিনটি যাত্রীদের জন্য কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তা পুরোপুরি বুঝতে ব্যর্থ হয়েছিল ওশেনগেট। এর বদলে পুরো প্রতিষ্ঠানটি অন্ধভাবে 'গ্রুপথিংক' ও 'কনফার্মেশন বায়াস'-এ আচ্ছন্ন ছিল।

 

তদন্তকারী দলের পরিদর্শকরা টাইটান তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদানের কিছু অব্যবহৃত অংশ পরীক্ষা করে মারাত্মক কাঠামোগত ত্রুটির সন্ধান পান। সাবমেরিনটিকে টাইটানিকের সমতুল্য গভীরতায় (প্রায় ১২,৫০০ ফুট) পরীক্ষা করা হলেও, বারবার এমন গভীর যাত্রার ফলে এর কাঠামোর ওপর যে বিপুল চাপের সৃষ্টি হয়, তা কখনোই যাচাই করে দেখা হয়নি। এর আগে গত অক্টোবরে মার্কিন ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের (এনটিএসবি) প্রতিবেদনেও প্রায় একই ধরনের তথ্য উঠে এসেছিল।

 

তারাও জানিয়েছিল যে, ত্রুটিপূর্ণ প্রকৌশল এবং কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে টাইটান প্রয়োজনীয় স্থায়িত্বের মানদণ্ড পূরণে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছিল এবং ওশেনগেট এর আসল সহ্যক্ষমতা সম্পর্কে একেবারেই অজ্ঞাত ছিল।

 

২০২৩ সালের ১৮ জুন টাইটানের ৮৮তম ডুব দেওয়ার সময় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। যাত্রা শুরুর মাত্র দুই ঘণ্টার মাথায় সহায়তাকারী জাহাজের সঙ্গে এর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আটলান্টিকের তলদেশে ব্যাপক তল্লাশি অভিযানের পর নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ভয়াবহ ইমপ্লোশন বা অন্তর্মুখী বিস্ফোরণে সাবমেরিনটি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং এতে থাকা কেউই আর বেঁচে নেই। এই ঘটনায় প্রাণ হারান ওশেনগেটের সিইও স্টকটন রাশ, 'মিস্টার টাইটানিক' খ্যাত ফরাসি ডুবো-অভিযাত্রী পল-অঁরি নারজলে, ব্রিটিশ অভিযাত্রী হামিশ হার্ডিং এবং পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ধনকুবের শাহজাদা দাউদ ও তাঁর ১৯ বছর বয়সী ছেলে সুলেমান দাউদ।

 

শাহজাদা দাউদের স্ত্রী ক্রিস্টিন দাউদ প্রাথমিকভাবে নিজের ও স্বামীর জন্য টিকিট কাটলেও ছেলে সুলেমানকে বাবার সঙ্গে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে নিজের টিকিটটি ছেড়ে দেন। এই দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ ও হৃদয়বিদারক শোকের মধ্য দিয়ে যাওয়া ক্রিস্টিন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, সমুদ্রের সাথে এখন তিনি এক অদ্ভুত আত্মিক টান অনুভব করেন। সমুদ্রের জল পায়ে লাগলে তাঁর মনে হয় স্বামী ও সন্তান এখন এই সমুদ্রেরই অংশ।

 

এদিকে, দুর্ঘটনার পরপরই ২০২৩ সালের জুলাই মাসে নিজেদের সব কার্যক্রম স্থায়ীভাবে গুটিয়ে নেয় ওশেনগেট। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি পুনরায় গভীর সমবেদনা জানিয়ে কোম্পানির একজন মুখপাত্র বলেছেন, তারা টিএসবি-সহ সকল সরকারি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেছে এবং তদন্তের এই পেশাদারিত্বকে তারা সাধুবাদ জানায়।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
দশ বছরে প্রথমবার অর্থনীতিতে রিপাবলিকানদের ছাড়িয়ে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি বেশি আস্থা মার্কিন ভোটারদের

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো অর্থনীতি পরিচালনায় রিপাবলিকান পার্টির চেয়ে ডেমোক্র্যাটদের ওপর বেশি আস্থা প্রকাশ করেছেন ভোটাররা। রয়টার্স ও ইপসোসের সর্বশেষ জাতীয় জরিপে দেখা গেছে, অর্থনীতি সামলানোর ক্ষেত্রে ৩৭ শতাংশ ভোটার ডেমোক্র্যাটদের ওপর আস্থা রাখছেন, যেখানে রিপাবলিকানদের প্রতি আস্থা ৩৬ শতাংশের। আরও ২৭ শতাংশ কোনো পক্ষকে বেছে নেননি বা অন্য মত দিয়েছেন।   জরিপে আরও দেখা গেছে, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে ডেমোক্র্যাটরা জাতীয় পর্যায়ে রিপাবলিকানদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ৪২ শতাংশ, আর রিপাবলিকানদের ৩৭ শতাংশ। স্বতন্ত্র (ইন্ডিপেনডেন্ট) ভোটারদের মধ্যেও ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে রয়েছে।   জরিপ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামগ্রিক অনুমোদন (অ্যাপ্রুভাল) রেটিং কমে ৩৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা তার দ্বিতীয় মেয়াদের অন্যতম সর্বনিম্ন। মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।   এটি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দীর্ঘদিন ধরেই অর্থনীতি ইস্যুতে রিপাবলিকানরা জনমত জরিপে এগিয়ে থাকত। রয়টার্স/ইপসোসের এই ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে, সেই প্রবণতায় পরিবর্তন আসছে এবং অর্থনীতি নিয়ে ভোটারদের মনোভাব নতুন দিকে মোড় নিচ্ছে।    জরিপটি ৩০ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত ৪ হাজার ৫০৫ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে পরিচালিত হয়। এর সম্ভাব্য ত্রুটির সীমা ±২ শতাংশ।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ৭:১০
ডোনাল্ড ট্রাম্প

' ব্রিটেন আসলে দেউলিয়া' উত্তর সাগরের তেল-গ্যাস উত্তোলন বাড়ানোর পরামর্শ ট্রাম্পের

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা! ট্রাম্পের ‘শেষ সুযোগ’ হুঁশিয়ারিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া ইরানের

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা! ট্রাম্পের ‘শেষ সুযোগ’ হুঁশিয়ারিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া ইরানের

ইরানকে ট্রাম্পের শেষ কড়া সতর্কবার্তা

ইরানকে ট্রাম্পের শেষ কড়া সতর্কবার্তা, ‘এখনই চুক্তি না হলে সুযোগ শেষ’

নতুন আইন নিয়ে তুমুল আলোচনা
নিউইয়র্কে এখন নিজের মৃত্যুর সিদ্ধান্তও নেওয়া যাবে? নতুন আইন নিয়ে তুমুল আলোচনা

নিউইয়র্কে মরণব্যাধিতে আক্রান্ত এবং চিকিৎসকদের মতে ছয় মাসের কম আয়ু বাকি থাকা প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের জন্য ‘মেডিকেল এইড ইন ডাইং’ আইন কার্যকর হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) থেকে কার্যকর হওয়া এই আইনের আওতায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে রোগীরা চিকিৎসকের প্রেসক্রাইব করা ওষুধ স্বেচ্ছায় গ্রহণ করে জীবনের অবসান ঘটানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।    নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এই আইন কেবল সেইসব নিউইয়র্কবাসীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যাদের চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন যে তাদের জীবনসীমা ছয় মাস বা তার কম। আবেদনকারীকে অবশ্যই মানসিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে এবং ওষুধ নিজেকেই গ্রহণ করতে হবে; অন্য কেউ তা প্রয়োগ করতে পারবেন না।    আইন অনুযায়ী, রোগীকে প্রথমে মৌখিকভাবে আবেদন জানাতে হবে, পরে লিখিত আবেদন করতে হবে, যেখানে দুইজন সাক্ষীর স্বাক্ষর থাকবে। একজন চিকিৎসক ও একজন পরামর্শক চিকিৎসককে রোগীর অবস্থা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা মনোবিজ্ঞানীর মূল্যায়নও বাধ্যতামূলক। প্রেসক্রিপশন দেওয়ার পর ওষুধ সংগ্রহের আগে অন্তত পাঁচ দিনের অপেক্ষার বিধান রাখা হয়েছে।    আইনটির সমর্থকদের দাবি, এটি মরণাপন্ন রোগীদের অসহনীয় কষ্ট থেকে মুক্তি এবং জীবনের শেষ সময়ে মর্যাদাপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেবে। অন্যদিকে বিরোধীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, এমন আইন দুর্বল ও অসহায় রোগীদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং এর অপব্যবহারের ঝুঁকিও রয়েছে।    গভর্নর ক্যাথি হোকুল চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আইনটিতে স্বাক্ষর করেন। তার ভাষ্য ছিল, এই আইন নিউইয়র্কবাসীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও জীবনের শেষ পর্যায়ে মর্যাদাপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা বিতর্ক ও আইন প্রণয়নের প্রচেষ্টার পর এটি কার্যকর হলো।   এই আইনের মাধ্যমে নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্রের সেই অঙ্গরাজ্যগুলোর তালিকায় যুক্ত হলো, যেখানে কঠোর আইনি শর্তের অধীনে ‘মেডিকেল এইড ইন ডাইং’ বা চিকিৎসকের সহায়তায় জীবনাবসানের সুযোগ রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ৪:১২
নতুন বিতর্কে মুখ খুললেন নিউইয়র্কের মামদানি

আমেরিকায় বাজার করতে কি আইডি লাগবে? নতুন বিতর্কে মুখ খুললেন নিউইয়র্কের মামদানি

ইন-এন-আউট কর্মীকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছে পরিবার

কাজে গিয়েই আর ফেরা হলো না, ইন-এন-আউট কর্মীকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছে পরিবার

গ্রিন কার্ড পেলেই কি বাবা-মাকে আমেরিকায় আনা যায়

গ্রিন কার্ড পেলেই কি বাবা-মাকে আমেরিকায় আনা যায়? অনেক প্রবাসীরই অজানা গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম

ডি.সিতে ঘণ্টায় ১৮.৪০$, টেক্সাসে এখনো ৭.২৫$
একই আমেরিকায় এত বেতনের পার্থক্য কেন? ডি.সিতে ঘণ্টায় ১৮.৪০$, টেক্সাসে এখনো ৭.২৫$

৫ আগস্ট ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আসা অনেক অভিবাসী মনে করেন, দেশজুড়ে ন্যূনতম মজুরি বা মিনিমাম ওয়েজ একই। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। অঙ্গরাজ্যভেদে ন্যূনতম মজুরির হার ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়। ফলে একই ধরনের পূর্ণকালীন কাজ করেও একজন কর্মীর মাসিক আয় অন্য অঙ্গরাজ্যের তুলনায় কয়েক হাজার ডলার পর্যন্ত কম বা বেশি হতে পারে।    যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ওয়াশিংটন ডিসির ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ১৭.৯৫ ডলার থেকে বেড়ে ১৮.৪০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে টেক্সাস এখনো ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ৭.২৫ ডলারই অনুসরণ করছে, যা ২০০৯ সাল থেকে অপরিবর্তিত রয়েছে।  এই হারে সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজ করলে একজন কর্মী ডিসিতে মাসে আনুমানিক ২,৯৪৪ ডলার আয় করতে পারেন। একই সময় কাজ করে টেক্সাসে ন্যূনতম মজুরিতে মাসিক আয় হয় প্রায় ১,১৬০ ডলার। অর্থাৎ শুধু অঙ্গরাজ্য ভিন্ন হওয়ার কারণে মাসে প্রায় ১,৭৮৪ ডলারের পার্থক্য তৈরি হতে পারে।    এই পার্থক্যের মূল কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রে দুটি ধরনের ন্যূনতম মজুরি ব্যবস্থা রয়েছে। একটি হলো ফেডারেল সরকারের নির্ধারিত ৭.২৫ ডলার, যা টেক্সাস, টেনেসি, উটাহসহ প্রায় ২০টি অঙ্গরাজ্যে কার্যকর। অন্যদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি এমন অনেক অঙ্গরাজ্য ও ডিসি নিজস্ব আইনের মাধ্যমে আরও বেশি ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করেছে। বর্তমানে ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি ১৭.১৩ ডলার, ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৬.৯০ ডলার এবং ভার্জিনিয়ায় ১২.৭৭ ডলার।  বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এ তথ্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই ভার্জিনিয়ায় বসবাস করে প্রতিদিন ডিসিতে গিয়ে কাজ করেন। কারণ ডিসিতে বেতন তুলনামূলক বেশি হলেও সেখানে বাসাভাড়া ও জীবনযাত্রার খরচও অনেক বেশি। তাই শুধু ঘণ্টাপ্রতি বেতন নয়, ভাড়া, যাতায়াত ও অন্যান্য ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে কোথায় কাজ করবেন বা থাকবেন, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন শ্রমবাজার বিশ্লেষকেরা।    বিশেষজ্ঞদের মতে, রেস্টুরেন্ট, ডেলিভারি বা টিপসনির্ভর পেশার ক্ষেত্রেও অঙ্গরাজ্যভেদে নিয়ম ভিন্ন। টেক্সাসে টিপসপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্য ফেডারেল ন্যূনতম নগদ মজুরি কার্যকর থাকলেও, ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে ‘টিপ ক্রেডিট’ ব্যবস্থা নেই। ফলে সেখানে কর্মীদের পূর্ণ অঙ্গরাজ্যভিত্তিক ন্যূনতম মজুরি দেওয়া বাধ্যতামূলক।    শ্রম বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে কাজ বা বসবাসের পরিকল্পনা করার আগে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের ন্যূনতম মজুরি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত। একই দেশের ভেতরেও আয় ও ব্যয়ের এই পার্থক্য একজন কর্মীর আর্থিক অবস্থায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ২:২১
বন্ধ হতে যাচ্ছে কানাডা, জাপানসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৫টি বিদেশি কূটনৈতিক কার্যালয়

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপ! বন্ধ হতে যাচ্ছে কানাডা, জাপানসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৫টি বিদেশি কূটনৈতিক কার্যালয়

৬.৬৬% সুদে ৪ লাখ ৩০ হাজার ডলারের বাড়ি কিনতে কত টাকা আয় প্রয়োজন

মর্টগেজ হিসাব: ৬.৬৬% সুদে ৪ লাখ ৩০ হাজার ডলারের বাড়ি কিনতে কত টাকা আয় প্রয়োজন

এআই কি আগেই বলে দেবে কে হতে পারে পরবর্তী অপরাধী?

এআই কি আগেই বলে দেবে কে হতে পারে পরবর্তী অপরাধী? এফবিআইয়ের নতুন উদ্যোগ

0 Comments