সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

নিউ ইয়র্কের রাস্তায় ২১ বছর বয়সী তরুণকে মাথায় গুলি করে হত্যা

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ১০:১৭
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কস এলাকার একটি আবাসিক ভবনের সামনে সোমবার সন্ধ্যায় এক তরুণকে অত্যন্ত নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে যে ওই তরুণের বয়স মাত্র ২১ বছর এবং তাকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে মাথায় গুলি করা হয়। এই আকস্মিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগ বা এনওয়াইপিডি এই ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যে তাদের প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে।

 

এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যা ৭টার ঠিক কিছু সময় আগে ব্রঙ্কসের ইস্ট ১৮৭তম স্ট্রিটের ওয়েবস্টার এবং পার্ক অ্যাভিনিউয়ের মধ্যবর্তী একটি ভবনের সামনে ওই তরুণ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তার মাথায় একটি মারাত্মক গুলির ক্ষত দেখতে পায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে তারা বাইরে এসে তরুণটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফুটপাতে পড়ে থাকতে দেখেন, যার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ সেখানে এসে উপস্থিত হয়।

 

ঘটনাস্থলে দ্রুত জরুরি উদ্ধারকারী ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা ছুটে আসেন এবং তারা দ্রুত গুরুতর আহত ওই অজ্ঞাতপরিচয় তরুণকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী সেন্ট বারনাবাস হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই হাসপাতালে নেওয়ার আগেই বা নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা থেকে জানা গেছে।

 

সোমবার রাতে পুলিশ যখন পুরো ঘটনাস্থলটি ঘিরে রেখেছিল, তখনও ফুটপাতে প্রচুর তাজা রক্ত এবং ওই তরুণের একটি পড়ে থাকা বেসবল ক্যাপ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। তদন্তের স্বার্থে এলাকাটি দীর্ঘক্ষণ জনসাধারণের জন্য অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পুরো ঘটনাস্থল পরীক্ষা করেন এবং সেখানে পড়ে থাকা বিভিন্ন আলামত ও প্রমাণের ছবি সংগ্রহ করেন।

 

এই নৃশংস ও মারাত্মক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কাউকে গ্রেপ্তার বা আটক করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে অপরাধীকে শনাক্ত করার জন্য আশেপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে। বন্দুকধারীকে খুঁজে বের করতে এবং এই খুনের পেছনের আসল কারণ উদ্ঘাটন করতে পুলিশের একাধিক দল বর্তমানে তাদের তদন্ত কার্যক্রম সক্রিয়ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানি এয়ারলাইন বন্ধের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের
২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানি এয়ারলাইন বন্ধের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানি এয়ারলাইনগুলোর আন্তর্জাতিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানি বিমানকে জ্বালানি, অবতরণ সুবিধা বা টিকিট বিক্রির মতো সেবা দেওয়া বিদেশি প্রতিষ্ঠান মার্কিন সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক রুটে ইরানি এয়ারলাইনগুলোর কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।   সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানি এয়ারলাইনগুলোকে বিশ্বজুড়ে বন্ধ করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো ইরানি বিমান বিদেশি বিমানবন্দরে অবতরণ করলে সেটিকে জ্বালানি, অবতরণ-সংক্রান্ত সেবা বা টিকিট বিক্রির সুবিধা দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।   এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ইরানের বিমান চলাচল খাতের বিরুদ্ধে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। ওই দিন অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল বা ওএফএসি মোট ৩৬টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে। এর মধ্যে ইরানের বাকি ২৭টি এয়ারলাইনও ছিল। ট্রেজারি বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব এয়ারলাইন ইরানের বিমান চলাচল খাতের মাধ্যমে অস্ত্র, জনবল ও অবৈধ পণ্য পরিবহনে সহায়তা করেছে। এগুলো মার্কিন সরকারের অভিযোগ।   নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ২৭টি এয়ারলাইনের মধ্যে রয়েছে ইরান এয়ার ট্যুর, ইরান আসেমান এয়ারলাইনস, কেশম এয়ার, কিশ এয়ারলাইনস, সেপেহরান এয়ারলাইনস, তাবান এয়ারলাইনস ও মাহান এয়ার-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ট্রেজারি বিভাগের ৮ সেপ্টেম্বরের ঘোষণায় এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।   নতুন হুঁশিয়ারির মূল লক্ষ্য ইরানি বিমানগুলো নয়, বরং তাদের আন্তর্জাতিক কার্যক্রম চালাতে সহায়তা করা বিদেশি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বিমানবন্দর, জ্বালানি সরবরাহকারী, গ্রাউন্ড সার্ভিস প্রতিষ্ঠান এবং টিকিট বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান ইরানি এয়ারলাইনকে সেবা দেওয়া চালিয়ে গেলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে।   এর ফলে ইরানি এয়ারলাইনগুলোর আন্তর্জাতিক কার্যক্রমে বড় ধরনের বাস্তব সমস্যা তৈরি হতে পারে। কারণ একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য শুধু উড়োজাহাজ ও ক্রু যথেষ্ট নয়; বিমানবন্দরে অবতরণ, জ্বালানি নেওয়া, যাত্রীসেবা এবং টিকিট বিক্রির মতো বিভিন্ন সেবা প্রয়োজন। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি এড়াতে ইরানি বিমানকে এসব সেবা না দিলে আন্তর্জাতিক রুট পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে সরাসরি সব ইরানি উড়োজাহাজকে শারীরিকভাবে আকাশে উড্ডয়ন থেকে নিষিদ্ধ করা হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। মূল চাপটি তৈরি করা হচ্ছে বিদেশি সেবা প্রদানকারীদের ওপর। ফলে বাস্তবে কতগুলো ফ্লাইট বন্ধ হবে বা কোন কোন রুটে প্রভাব পড়বে, তা নির্ভর করবে বিদেশি বিমানবন্দর ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি কীভাবে মোকাবিলা করে তার ওপর।   ইরানের বিমান চলাচল খাতের ওপর এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট-এর অংশ। ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, এই অভিযানের মাধ্যমে ইরানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, তেল বাণিজ্য, আর্থিক নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে রাখার ঝুঁকি বাড়ানো হচ্ছে।   এরই মধ্যে ইরানি এয়ারলাইন মাহান এয়ারের আন্তর্জাতিক কার্যক্রম নিয়েও চাপ বাড়ছে। রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পর তুরস্ক ও ওমান মাহান এয়ারের ফ্লাইট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, ইরানি বিমান চলাচলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব শুধু ইরানের অভ্যন্তরীণ বিমান খাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না।   সোর্স: রয়টার্স; যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ; আল জাজিরা; দ্য ন্যাশনাল  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৪:৩৪
হুতিদের ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চেয়েও নিরাশ ইয়েমেন

হুতিদের ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চেয়েও নিরাশ ইয়েমেন

হিজাব পরেই মার্কিন পুলিশ অফিসার! ইলিনয়ে মুসলিম নারীদের জন্য নতুন পথ দেখালেন মাহা আয়েশ

হিজাব পরেই মার্কিন পুলিশ অফিসার! ইলিনয়ে মুসলিম নারীদের জন্য নতুন পথ দেখালেন মাহা আয়েশ

গ্রিনল্যান্ডে আরও দুই সামরিক ঘাঁটি চালু ঘুরতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

গ্রিনল্যান্ডে আরও দুই সামরিক ঘাঁটি চালু ঘুরতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মামদানির ‘ভিশন জিরো’ পরিকল্পনায় নিউইয়র্কে আসছে গাড়িমুক্ত পথচারী এলাকা, কমবে  ট্রাফিক মৃত্যু
মামদানির ‘ভিশন জিরো’ পরিকল্পনায় নিউইয়র্কে আসছে গাড়িমুক্ত পথচারী এলাকা, কমবে ট্রাফিক মৃত্যু

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি শহরের সড়ক ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা ‘Vision Zero Reimagined’ পরিকল্পনায় শহরের প্রথম কিছু পথচারী-নির্ভর ও গাড়িমুক্ত জেলা তৈরির উদ্যোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক নকশা, গণপরিবহন উন্নয়ন, সাইকেল অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমানোর একাধিক পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে।    মামদানি প্রশাসনের ১০ বছরের এই পরিকল্পনায় ১০০টির বেশি নীতিগত উদ্যোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শহরের প্রথম ‘pedestrian-only’ এবং ‘pedestrian-priority’ district তৈরি, প্রতি বছর অন্তত ১ হাজার ইন্টারসেকশনে পথচারী নিরাপত্তার উন্নয়ন, সাইকেল লেন সম্প্রসারণ এবং বাস চলাচল আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য করার উদ্যোগ। তবে কোন কোন এলাকায় পুরোপুরি গাড়িমুক্ত জেলা তৈরি হবে, সে বিষয়ে পরিকল্পনায় এখনো নির্দিষ্ট স্থান ঘোষণা করা হয়নি।    পরিকল্পনাটির মূল লক্ষ্য শুধু দুর্ঘটনার পরিণতি কমানো নয়, বরং সড়কের নকশাই এমনভাবে পরিবর্তন করা যাতে দুর্ঘটনা ও গুরুতর আঘাতের ঝুঁকি কমে। মেয়রের কার্যালয় বলছে, নিউইয়র্কে গাড়ি জড়িত দুর্ঘটনা শহরের মোট ট্রাফিক মৃত্যুর বড় অংশের জন্য দায়ী। তাই হাঁটা, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট, সাইকেল ও অন্যান্য বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, সহজলভ্য ও আকর্ষণীয় করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।    মামদানি পরিকল্পনা ঘোষণার সময় বলেন, নিউইয়র্কের সড়ককে আরও নিরাপদ করার জন্য শহরকে এমন নকশা গ্রহণ করতে হবে যেখানে মানুষকে কেন্দ্র করে রাস্তা ও পাবলিক স্পেস তৈরি করা হবে। পরিকল্পনায় ‘safe systems’ পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে। এর অর্থ হলো শুধু চালকদের আচরণ পরিবর্তন বা আইন প্রয়োগের ওপর নির্ভর না করে সড়কের নকশা, গতি নিয়ন্ত্রণ, পথচারী অবকাঠামো এবং যানবাহনের নিরাপত্তা একসঙ্গে উন্নত করা।   এরই মধ্যে নিউইয়র্কে কিছু সড়ক পুনর্নকশার কাজ চলছে। সেপ্টেম্বরে প্রশাসন পার্ক অ্যাভিনিউর ১১টি ব্লকের নতুন নকশা প্রকাশ করেছে, যেখানে একটি গাড়ির লেনকে দুই দিকের সুরক্ষিত সাইকেল লেনে রূপান্তর, মিডিয়ান বড় করা এবং পথচারীদের জন্য অতিরিক্ত জায়গা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে ১১৬তম স্ট্রিটে ২ দশমিক ৫ মাইল নতুন বাস লেন ও অন্যান্য সড়ক নিরাপত্তা অবকাঠামোর নির্মাণ শুরু হয়েছে। শহরের হিসাবে, ওই করিডোর দিয়ে প্রতিদিন ৬৫ হাজারের বেশি বাসযাত্রী চলাচল করেন।    নিউইয়র্কের বর্তমান ‘Vision Zero’ কর্মসূচির ওপরও নতুন পরিকল্পনাটি তৈরি করা হয়েছে। শহরের পরিবহন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে পথচারী মৃত্যুর সংখ্যা রেকর্ডের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি ছিল এবং ২০১৪ সালে Vision Zero চালুর পর থেকে পথচারী মৃত্যুর হার ৪২ শতাংশের বেশি কমেছে। প্রশাসনের দাবি, নতুন পরিকল্পনার লক্ষ্য এই অগ্রগতিকে আরও এগিয়ে নেওয়া।    গাড়িমুক্ত বা পথচারী-নির্ভর এলাকা তৈরির ধারণা অবশ্য নতুন নয়। বার্সেলোনা, প্যারিসসহ ইউরোপের বিভিন্ন শহরে দীর্ঘদিন ধরে পথচারী-কেন্দ্রিক সড়ক ব্যবস্থার ব্যবহার রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে গবেষণার ফল একেবারে একমুখী নয়। স্পেনের বিভিন্ন শহরের ওপর একটি গবেষণায় পথচারী-নির্ভর এলাকায় দোকানের বিক্রি বাড়ার প্রমাণ পাওয়া গেলেও, ২০২৬ সালে বার্সেলোনার ২০১৪ থেকে ২০২২ সালের বাণিজ্যিক তথ্য বিশ্লেষণ করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পথচারীকরণ পুরোনো কিছু ব্যবসা বন্ধ হওয়া এবং খুচরা ব্যবসার বৈচিত্র্য কমার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। গবেষকরা অবশ্য বলেছেন, শুধু পথচারীকরণকে এসব পরিবর্তনের একমাত্র কারণ হিসেবে দেখা যায় না এবং পর্যটনের চাপও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।    ফলে মামদানির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় গাড়ি, পথচারী, সাইকেল ও পাবলিক ট্রান্সপোর্টের মধ্যে জায়গা ভাগাভাগির ধরন বদলাতে পারে। তবে কোন এলাকা কতটা গাড়িমুক্ত হবে, স্থানীয় ব্যবসা ও বাসিন্দাদের ওপর এর কী প্রভাব পড়বে এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো কীভাবে তৈরি হবে, সেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপে নির্ধারিত হওয়ার কথা। পরিকল্পনাটি তাই আপাতত একটি দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত রূপরেখা, চূড়ান্ত সড়ক নকশা নয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১:৪০
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি চিকিৎসক সায়েরা হক

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি চিকিৎসক সায়েরা হক, রংপুর মেডিকেল থেকে ব্রুকলিনের চিকিৎসাসেবা

বুলেট এখনো শরীরে ভেতরে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও পাচ্ছিনা

বুলেট এখনো শরীরে ভেতরে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও পাচ্ছিনা: আইসিই গুলিতে ভেনেজুয়েলান অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্মন্টে তিন ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীকে গুলি করার ঘটনায় হামলাকারী দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে তিন ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীকে গুলির ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত মার্কিন নাগরিক

অনলাইনে হুমকির ঘটনায় তদন্ত চালায় এফবিআই। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প ও আইসিই কর্মকর্তাদের হত্যার হুমকি নিউইয়র্কের যুবকের, আদালতে দোষ স্বীকার

নিউইয়র্কের বিংহ্যামটনের ৩৩ বছর বয়সী জেফরি স্কট হ্যাম জুনিয়র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আইসিই কর্মকর্তাদের হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় ফেডারেল আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তিনি অন্যকে আহত করার হুমকি অনলাইনে পাঠানোর অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। মামলায় তার সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড, ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা এবং সর্বোচ্চ তিন বছর তত্ত্বাবধানে মুক্তির বিধান রয়েছে।   ফেডারেল প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুর দিকে হ্যাম নিজের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে একটি অনলাইন ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মে একাধিকবার ট্রাম্প ও আইসিই কর্মকর্তাদের হত্যা বা আহত করার হুমকি পোস্ট করেন। প্ল্যাটফর্মটির নিরাপত্তা কর্মীরা এসব পোস্ট শনাক্ত করে এফবিআইকে জানান।   এরপর এফবিআই হুমকিগুলো নিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং হ্যামের সঙ্গে অনলাইন পোস্টগুলোর সংশ্লিষ্টতা যাচাই করে। তদন্তের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফেডারেল মামলায় তার বিরুদ্ধে অনলাইনে হুমকি পাঠানোর অভিযোগ আনা হয়।   আদালতে দোষ স্বীকারের মাধ্যমে হ্যাম স্বীকার করেছেন যে তিনি ওই হুমকিমূলক বার্তাগুলো অনলাইনে প্রকাশ করেছিলেন। তবে আদালতে দোষ স্বীকার করা মানে মামলার শাস্তি তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারিত হয়ে যাওয়া নয়। ফেডারেল আদালতের বিচারক পরবর্তী শুনানিতে আইন ও ফেডারেল সাজা নির্দেশিকা বিবেচনা করে সাজা নির্ধারণ করবেন।   হ্যামের সাজা ঘোষণার শুনানি আগামী ২০ জানুয়ারি ২০২৭ নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই শুনানিতে আদালত তার অপরাধের ধরন ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করবে। মামলাটিতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানার সুযোগ রয়েছে।   অনলাইনে ফেডারেল কর্মকর্তা বা প্রেসিডেন্টকে হত্যার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল অপরাধ হিসেবে তদন্ত ও বিচারের আওতায় আসতে পারে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প ও আইসিই কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে অনলাইনে হুমকির কয়েকটি ঘটনায় ফেডারেল কর্তৃপক্ষ তদন্ত ও মামলা করেছে। তবে প্রতিটি মামলায় অভিযোগ, প্রমাণ ও সম্ভাব্য সাজা আলাদা।   হ্যামের মামলায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা কর্মীদের দেওয়া তথ্য তদন্তের সূচনাবিন্দু হিসেবে কাজ করেছে। এখন আগামী জানুয়ারির সাজা ঘোষণার শুনানির দিকে নজর রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ২৩:৩৩
নিউইয়র্কের গ্রেসি ম্যানশনে মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

জোহরান মামদানি সঙ্গে হঠাৎ গ্রেসি ম্যানশনে গোপন বৈঠকে ট্রাম্প, আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে ধোঁয়াশা

অস্টিনে আইসিইর গুলির ঘটনার পর তদন্ত চলছে। ছবি: সংগৃহীত

“গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও পাচ্ছি না” আইসিইর গুলিতে আহত ডেলিভারি কর্মী

বিমানের গতিপথে ফুটে ওঠা মোনালিসার অবয়ব। ছবি: সংগৃহীত

প্রায় ৪ ঘণ্টা বিমান চালিয়ে আকাশে মোনালিসার ছবি আঁকলেন মার্কিন পাইলট

0 Comments