সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ বাড়ির দামও এখন ১০ লাখ ডলার, ২৪২টি শহরে রেকর্ড

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ১০:৯
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের রিয়েল এস্টেট বাজারবিষয়ক সংস্থা জিলোর নতুন একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে দেশটির অর্ধেকেরও বেশি অঙ্গরাজ্যে এখন অন্তত এমন একটি শহর রয়েছে যেখানে প্রাথমিক বা সাধারণ মানের একটি বাড়ি কিনতেই ১০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। এই নতুন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের রেকর্ড ২৪২টি শহরে সাধারণ একটি প্রাথমিক বাড়ির মূল্য কমপক্ষে ১০ লাখ ডলার বা তার চেয়েও বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার আগের তুলনায় এই সংখ্যাটি প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, কারণ মহামারির আগের সময়ে দেশটির মাত্র ৮০টি শহরে এই মূল্যের বাড়ি বা প্রোপার্টি দেখা যেত।

 

রিয়েল এস্টেট সংস্থা জিলোর পক্ষ থেকে মূলত একটি স্থানীয় আবাসন বাজারের সবচেয়ে কম মূল্যের এক-তৃতীয়াংশ বাড়ি বা প্রোপার্টিকে প্রাথমিক বাড়ি বা 'স্টার্টার হোম' হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়ে থাকে। বর্তমানে আমেরিকার ২৬টি অঙ্গরাজ্যের মোট ২৪২টি শহরে এই প্রাথমিক বা প্রবেশিকা স্তরের বাড়ির মূল্য ১০ লাখ ডলারের ঘর স্পর্শ করেছে। জিলোর পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত বছরও দেশটির ২২৬টি শহরে এই ধরনের প্রাথমিক বাড়ির মূল্য অন্তত ১০ লাখ ডলার ছিল, যা এক বছরের ব্যবধানে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। আবাসন খাতের এই ঊর্ধ্বমুখী চিত্রটি স্পষ্ট প্রমাণ করে যে করোনাকালীন সময়ের আবাসন খাতের আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এখনো দেশটির বাজারে পুরোপুরি রয়ে গেছে।

 

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা তীব্র আবাসন সংকট এবং তার সাথে ঐতিহাসিকভাবে কম বন্ধকী বা মরগেজ সুদের হারের কারণে সৃষ্ট বিপুল চাহিদার ফলেই যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ির দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এই স্টার্টার হোমগুলো কেনা এক প্রকার সাধ্যের বাইরে চলে গেছে। যদিও দেশব্যাপী একটি সাধারণ মানের প্রাথমিক বাড়ির গড় বাজার মূল্য এখনো প্রায় ১ লাখ ৯৮ হাজার ৬০০ ডলারের কাছাকাছি রয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। তবে নির্দিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ শহর ও উন্নত এলাকায় এই দামের পার্থক্য আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

করোনা মহামারির আগে এই ধরনের উচ্চ মূল্যের প্রাথমিক বাড়িগুলো মূলত আমেরিকার সমুদ্র উপকূলবর্তী অল্প কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে এটি আর কেবল উপকূলীয় অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং পশ্চিম উপকূলের বিভিন্ন অংশে একটি ডিম্বাকৃতির প্যাটার্নে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তে আবাসন খাতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সামগ্রিক চিত্রটিকেই সরাসরি প্রতিফলিত করে। নতুন এই গবেষণায় উঠে এসেছে যে মহামারির পর থেকে আমেরিকার মানুষের আবাসন ব্যয়ের এই বিশাল পরিবর্তন দেশের মধ্যভাগের রাজ্যগুলোতেও বড় প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।

 

বর্তমানে মোট ১০৫টি শহর নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যটি পুরো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে, যেখানে সাধারণ একটি প্রাথমিক বাড়ি কিনতেই ক্রেতাদের অন্তত ১০ লাখ ডলার বা তার চেয়ে বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ার পাশাপাশি নিউইয়র্ক এবং নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের পরিস্থিতিও বেশ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই দুটি অঙ্গরাজ্য মিলিয়ে বর্তমানে এমন শহরের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১টিতে, অথচ মহামারির আগে এই দুই অঞ্চলে এমন শহরের সংখ্যা ছিল মাত্র ১২টি। এই হিসাব থেকে এটি স্পষ্ট যে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রধান বাণিজ্যিক অঞ্চলগুলোতে আবাসন সংকট এবং ক্রেতাদের প্রতিযোগিতা কতটা তীব্র আকার ধারণ করেছে।

 

মেট্রোপলিটন বা বড় নগর অঞ্চলগুলোর হিসাবের দিক থেকে বর্তমানে নিউ ইয়র্ক সিটি মেট্রো এলাকাটি সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে, যার মধ্যে নিউ জার্সি এবং পেনসিলভেনিয়ার কিছু অংশও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই পুরো মেট্রো অঞ্চলে এমন শহরের সংখ্যা মোট ৬৩টি। নিউ ইয়র্কের পরেই ৩৭টি শহর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সান ফ্রান্সিসকো মেট্রো এলাকা। এছাড়াও শীর্ষ পাঁচের মধ্যে থাকা অন্য প্রধান অঞ্চলগুলোর মধ্যে লস অ্যাঞ্জেলেসে ৩৩টি, সান জোসে ১৩টি এবং মিয়ামিতে ৮টি এমন শহর রয়েছে যেখানে সাধারণ বা প্রাথমিক স্তরের বাড়ির মূল্য এখন ১০ লাখ ডলারের ওপরে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

আমেরিকা

View more
ফ্লোরিডায় ঋণের নোটিশ পেয়ে সিটিব্যাংকে নারীকে হ ত্যা, মেরিন সেনার গুলিতে নিহত হা মলাকারী
ফ্লোরিডায় ঋণের নোটিশ পেয়ে সিটিব্যাংকে নারীকে হ ত্যা, মেরিন সেনার গুলিতে নিহত হা মলাকারী

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের টাম্পায় সিটিব্যাংকের অফিসে ঘটে যাওয়া এক লোমহর্ষক গোলাগুলির ঘটনার ভিডিও সম্প্রতি সামনে এসেছে। হিলসবরো কাউন্টির শেরিফ চ্যাড ক্রনিস্টার জানিয়েছেন, ৩৫ বছর বয়সী জ্যাকব পিয়ারসন মাত্র ২,৫০০ ডলারের একটি ঋণের সমন (নোটিশ) পেয়ে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর তিনি অরল্যান্ডো থেকে গাড়ি চালিয়ে টাম্পার সিটিব্যাংক সেন্টারে ছুটে আসেন।   সেখানে একটি গেটে গাড়ি ধাক্কা দিয়ে প্রথমে ৪১ বছর বয়সী লিয়ান সেলম্যান নামের এক নারীকে গুলি করেন। আহত অবস্থায় সেলম্যান যখন হামাগুড়ি দিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন, তখন পিয়ারসন নিজের গাড়িতে ফিরে গিয়ে আরেকটি হ্যান্ডগান নিয়ে এসে তাকে আবারও গুলি করে হত্যা করেন!   এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের পর আরও মানুষকে হত্যার উদ্দেশ্যে পিয়ারসন ব্যাংকের ক্যাফেটেরিয়ায় ঢুকে পড়েন। কিন্তু সেখানে তার পথ আটকে দাঁড়ান সিটিব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী এবং সাবেক মার্কিন মেরিন সেনা জন ফ্রেলে। তিনি দ্রুত পুরুষদের রেস্টরুমে একটি কৌশলগত (ট্যাকটিকাল) অবস্থান নেন এবং বন্দুকধারী পিয়ারসনকে লক্ষ্য করে পাঁচটি গুলি ছোঁড়েন। ফ্রেলে-র নিখুঁত নিশানায় পিয়ারসন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।   সাবেক এই মেরিন সেনার বীরত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণেই সেদিন সিটিব্যাংকের ক্যাফেটেরিয়ায় থাকা আরও অনেক মানুষের প্রাণ বেঁচে যায়। পুরো ঘটনার এই রোমহর্ষক ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ওই নিরাপত্তাকর্মীর সাহসিকতার প্রশংসা করছেন সবাই।

প্রকাশ: নভেম্বর ৬, ২০২৬ ১২:৪১
নিউইয়র্কে একই অ্যাপার্টমেন্টে বৃদ্ধ ও নারী স্বাস্থ্যকর্মীকে গুলি করে  হ ত্যা, আতঙ্কে বাসিন্দারা

নিউইয়র্কে একই অ্যাপার্টমেন্টে বৃদ্ধ ও নারী স্বাস্থ্যকর্মীকে গুলি করে হ ত্যা, আতঙ্কে বাসিন্দারা

যুক্তরাষ্ট্রে ৮৪৭ মিলিয়ন ডলারের লটারি জয়, আজীবন পরিচয় গোপন রাখতে পারবেন বিজয়ী

যুক্তরাষ্ট্রে ৮৪৭ মিলিয়ন ডলারের লটারি জয়, আজীবন পরিচয় গোপন রাখতে পারবেন বিজয়ী

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে ট্রাম্পের দল, দায়িত্ব নিতে ডেমোক্র্যাটদের অপেক্ষা করতে হবে আরও দুই মাস

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে ট্রাম্পের দল, দায়িত্ব নিতে ডেমোক্র্যাটদের অপেক্ষা করতে হবে আরও দুই মাস

নিউইয়র্কের সাবওয়েতে গান গাইতে গিয়ে হেনস্তার শিকার শিল্পী
নিউইয়র্কের সাবওয়েতে গান গাইতে গিয়ে হেনস্তার শিকার শিল্পী, পাশে দাঁড়ালেন যাত্রীরা

ম্যানহাটনের এ-ট্রেনে (A train) ১২৫তম স্ট্রিট এবং কলম্বাস সার্কেলের মাঝামাঝি জায়গায় গান গাচ্ছিলেন ২৯ বছর বয়সী শিল্পী শেন ড্যান টার্নার। তিনি গত বছর জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো 'আমেরিকান আইডল'-এর ২৩তম আসরে অংশ নিয়েছিলেন। গান গাওয়ার সময় হঠাৎ এক নারী যাত্রী এসে দাবি করেন, কানে সদ্য অস্ত্রোপচার হওয়ায় এই গানের শব্দে তার মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে।   এরপর তিনি টার্নারকে গান থামাতে জোর করতে থাকেন। শুধু তাই নয়, টার্নারের শার্টে 'আমি অটিস্টিক' লেখা একটি পিন লাগানো দেখে ওই নারী তাকে উপহাস করে বলেন, এটি কেবলই মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার একটি 'জঘন্য কৌশল'। এরপর তিনি টার্নারের জমানো টিপসের (বখশিশ) টাকা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং তার গান থামাতে নিজেই বিকট শব্দে চিৎকার করতে শুরু করেন!   তবে এমন অদ্ভুত ও আক্রমণাত্মক পরিস্থিতিতে টার্নারের সাহায্যে এগিয়ে আসেন ট্রেনে থাকা অন্য যাত্রীরা। তারা ওই নারীর আচরণের কড়া প্রতিবাদ করেন এবং তাকে ট্রেন থেকে নেমে যাওয়ার পরামর্শ দেন। ওই নারী যেন টিপসের বাক্স থেকে আর টাকা নিতে না পারেন, সেজন্য যাত্রীরা সরাসরি টার্নারের হাতে বখশিশ তুলে দিতে থাকেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে টার্নার শান্ত থেকে বিখ্যাত ব্যান্ড 'মাই কেমিক্যাল রোমান্স'-এর "আই ডোন্ট লাভ ইউ" গানটি গাওয়া শুরু করেন।   পুরো ঘটনাটি টার্নার পরে ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন। প্রকাশ্যে এমন হেনস্থার শিকার হয়েও ওই নারীর প্রতি কোনো ক্ষোভ দেখাননি তিনি। বরং সহমর্মিতা প্রকাশ করে তিনি জানান, ওই নারী সম্ভবত মানসিক অবসাদে ভুগছেন এবং তার দ্রুত চিকিৎসকের সাহায্য প্রয়োজন। শত উসকানিতেও শান্ত থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলা করায় নেটদুনিয়ায় এখন প্রশংসায় ভাসছেন তরুণ এই শিল্পী।

প্রকাশ: নভেম্বর ৬, ২০২৬ ১১:১৪
যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৬৫ হাজার চাকরি

যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৬৫ হাজার চাকরি বাড়লেও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে না কর্মীদের মজুরি

পরিবারের স্বপ্ন পূরণে যুক্তরাষ্ট্রে এসে নর্থ ক্যারোলাইনায় সড়কে ঝরল ভারতীয় প্রবাসীর প্রাণ

পরিবারের স্বপ্ন পূরণে যুক্তরাষ্ট্রে এসে নর্থ ক্যারোলাইনায় সড়কে ঝরল ভারতীয় প্রবাসীর প্রাণ

১০ ডলারের অপমান, ৭ লাখ ৮৪ হাজার ডলারের ভালোবাসা পেলেন চার সন্তানের বাবা

১০ ডলারের অপমান, ৭ লাখ ৮৪ হাজার ডলারের ভালোবাসা পেলেন চার সন্তানের বাবা

বাংলাদেশি একই পরিবারের দুই সদস্য নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টে
বাংলাদেশি একই পরিবারের দুই সদস্য নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টে, স্বজনদের আনন্দ বার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) সঙ্গে একই পরিবারের দুই তরুণের সম্পৃক্ততা নিয়ে আনন্দ ও গর্ব প্রকাশ করেছেন নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের বাসিন্দা হান্নান ইউ মামুন। পরিবারের একজন সদস্য আরেকজনকে এনওয়াইপিডি পরিবারে স্বাগত জানানোর বিশেষ মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন তিনি। পরিবারের এই অর্জনকে অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের বলে উল্লেখ করেছেন মামুন।   বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে হান্নান ইউ মামুন জানান, তাঁর এক ভাতিজা বা ভাগনে পরিবারের আরেক সদস্যকে এনওয়াইপিডিতে স্বাগত জানিয়েছেন। ছবিতে নিউইয়র্ক পুলিশের পোশাক পরা এক তরুণকে অন্য একজনের ইউনিফর্মে ব্যাজ বা পদচিহ্ন লাগিয়ে দিতে দেখা যায়। এরপর দুজনকে একসঙ্গে ছবি তুলতেও দেখা যায়। পোস্টে এনওয়াইপিডির ১০৯তম প্রিসিঙ্কটের কথাও উল্লেখ রয়েছে। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে হান্নান ইউ মামুন লেখেন, পরিবারের এমন একটি আনন্দের সংবাদ জানাতে পেরে তিনি অত্যন্ত খুশি ও গর্বিত। তাঁর পরিবারের একজন সদস্য আরেকজনকে এনওয়াইপিডি পরিবারে স্বাগত জানিয়েছেন। এই অর্জনের জন্য দুজনকেই আন্তরিক অভিনন্দন জানান তিনি।   মামুন আরও জানান, পরিবারের সদস্যদের এগিয়ে যাওয়া এবং কমিউনিটির সেবায় যুক্ত হতে দেখা তাঁর জন্য বিশেষ আনন্দের। তিনি দুজনের কর্মজীবনে ধারাবাহিক সাফল্য, নিরাপত্তা এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন। তাঁর পোস্টে পারিবারিক বন্ধন ও জনসেবার প্রতি সম্মানবোধের প্রকাশ ঘটেছে।   নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ১০৯তম প্রিসিঙ্কট কুইন্সের ফ্লাশিং, কলেজ পয়েন্ট, হোয়াইটস্টোন, মালবা, বিচহার্স্ট ও বে টেরেসসহ বেশ কয়েকটি এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করে। প্রিসিঙ্কটটির প্রধান কার্যালয় ফ্লাশিংয়ের ইউনিয়ন স্ট্রিটে অবস্থিত। এই এলাকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক দক্ষিণ এশীয় ও অভিবাসী পরিবারের বসবাস রয়েছে।  পরিবারের দুই সদস্যের এই অর্জন নিউইয়র্কে বসবাসকারী তাঁদের স্বজনদের জন্য আনন্দের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।   সংবাদসূত্র: হান্নান ইউ মামুনের ফেসবুক পোস্ট , নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ১০৯তম প্রিসিঙ্কটের সরকারি তথ্য।    

প্রকাশ: নভেম্বর ৬, ২০২৬ ৯:১৯
ছুটির মৌসুমে ফ্লাইট বিলম্বের তালিকায় দ্বিতীয় নিউইয়র্কের লাগার্ডিয়া বিমানবন্দর

ছুটির মৌসুমে ফ্লাইট বিলম্বের তালিকায় দ্বিতীয় নিউইয়র্কের লাগার্ডিয়া বিমানবন্দর

ভবিষ্যত পরিবর্তন ঠেকাতে, হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসকে জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ ঘোষণা ট্রাম্পের

ভবিষ্যত পরিবর্তন ঠেকাতে, হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসকে জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ ঘোষণা ট্রাম্পের

ওয়াশিংটনে  ন্যাশনাল গার্ডের টহল বাড়ানোর অনুমোদন

ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল গার্ডের টহল বাড়ানোর অনুমোদন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের

0 Comments