নিউইয়র্ক প্রাইমারিতে মামদানি-সমর্থিত দুই প্রার্থীর জয়
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির রাজনৈতিক প্রভাবের প্রথম বড় পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল দেখা গেছে। ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি নির্বাচনে তাঁর সমর্থন পাওয়া তিন প্রার্থীর মধ্যে দুজন গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয় পেয়েছেন।
মঙ্গলবার রাতের ভোট গণনায় নিউইয়র্কের ৭ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে ক্লেয়ার ভালদেজকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। একই রাতে ১০ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে ব্র্যাড ল্যান্ডারও ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়ন নিশ্চিত করেন। সিবিএস নিউজের প্রক্ষেপণে এ ফলাফল উঠে আসে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল জোহরান মামদানির সমর্থিত প্রার্থীদের জন্য প্রথম বড় নির্বাচনী পরীক্ষা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল তাঁর ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক প্রভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।
৭ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে ক্লেয়ার ভালদেজ জয় পেয়েছেন অবসর নিতে যাওয়া কংগ্রেস সদস্য নিডিয়া ভেলাজকেজের উত্তরসূরি নির্বাচনের লড়াইয়ে। এই আসনে ব্রুকলিন ও কুইন্সের কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার সদস্য ভালদেজকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছিলেন মেয়র মামদানি। অন্যদিকে বিদায়ী কংগ্রেস সদস্য ভেলাজকেজ সমর্থন দিয়েছিলেন আন্তোনিও রেইনোসোকে।
অন্যদিকে নিউইয়র্কের ১০ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে সাবেক সিটি কম্পট্রোলার ব্র্যাড ল্যান্ডার দুই মেয়াদের বর্তমান কংগ্রেস সদস্য ড্যান গোল্ডম্যানকে পরাজিত করে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়ন অর্জন করেন। লোয়ার ম্যানহাটন ও ব্রুকলিনের অংশ নিয়ে গঠিত এই আসনে ল্যান্ডারের জয়কে প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ল্যান্ডার নির্বাচনী প্রচারণায় জোহরান মামদানি ছাড়াও ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের সমর্থন পেয়েছিলেন। নির্বাচনের আগে ইসরায়েল, মধ্যপ্রাচ্য নীতি এবং প্রো-ইসরায়েল লবিং সংগঠন এআইপিএসি নিয়ে গোল্ডম্যান ও ল্যান্ডারের মধ্যে তীব্র বিতর্ক দেখা যায়।
তবে মামদানির সমর্থন পাওয়া তৃতীয় প্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ারের ফলাফল প্রকাশের সময় পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। নিউইয়র্কের ১৩তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে তিনি দীর্ঘদিনের কংগ্রেস সদস্য আদ্রিয়ানো এসপাইলাতের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এদিকে নিউইয়র্কের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আসনেও বেশ কয়েকজন বর্তমান কংগ্রেস সদস্য সহজেই নিজেদের মনোনয়ন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন থমাস সুয়োজি, গ্রেস মেং, ইয়ভেট ক্লার্ক, আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-করতেজ এবং রিচি টরেস। একই সঙ্গে নিউইয়র্ক সিটির কম্পট্রোলার পদে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে থমাস ডিনাপোলি বিজয়ী হয়েছেন বলে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে।
নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আগ্রহও দেখা গেছে। নিউইয়র্ক সিটি নির্বাচন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪ লাখ ২০ হাজারের বেশি ভোটার ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে আগাম ভোটও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই প্রাইমারি নির্বাচন শুধু কংগ্রেসের প্রার্থী নির্ধারণের লড়াই নয়; বরং নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনাও নির্ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে প্রগতিশীল এবং মূলধারার ডেমোক্র্যাটদের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই নির্বাচনে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিউইয়র্কের এই ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, মেয়র মামদানির সমর্থিত প্রার্থীদের সাফল্য তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে এবং ভবিষ্যতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ শক্তির ভারসাম্যে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreফ্লোরিডায় ২৯ বছর বয়সী এক অন্তঃসত্ত্বা নারী এখন অনেকটা আত্মগোপনে দিন কাটাচ্ছেন। সাময়িক সুরক্ষা মর্যাদা বা টিপিএসের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর যেকোনো সময় তাকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে, এমন আশঙ্কায় প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না তিনি। সিবিএস নিউজকে ওই নারী জানান, মাত্র ৬ বছর বয়সে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। জীবনের অধিকাংশ সময় এই দেশেই কাটিয়েছেন তিনি। হাইতিতে এখন তার কোনো পরিবারও নেই। ফলে তাকে সেখানে ফেরত পাঠানো হলে কোথায় থাকবেন, সেটিও জানেন না। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ৩ লাখের বেশি হাইতিয়ান নাগরিক টিপিএসের আওতায় ছিলেন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন এই সুরক্ষা কর্মসূচি শেষ করেছে। টিপিএসের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে হাইতিয়ান অভিবাসীদের গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের অভিযান জোরদার করার পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে অভ্যন্তরীণ সরকারি নথি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে। টিপিএস এমন একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা, যার আওতায় নিজ দেশে যুদ্ধ, সহিংসতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে নিরাপদে ফিরতে না পারা নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকরা সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার ও কাজ করার সুযোগ পান। টিপিএসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ওই নারী চাকরি হারিয়েছেন। তার হেলথ ইন্স্যুরেন্সও শিগগিরই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। অথচ তার গর্ভাবস্থা উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রতি সপ্তাহে চিকিৎসকের কাছে যেতে হচ্ছে। এখন চিকিৎসার খরচ কীভাবে বহন করবেন, তা নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি। তার সঙ্গী একজন মার্কিন নাগরিক। ফলে সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলে শিশুটি মার্কিন নাগরিক হওয়ার যোগ্য হবে। কিন্তু সন্তানের জন্মের আগে তাকে বহিষ্কার করা হলে পরিবারটি কীভাবে একসঙ্গে থাকবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। নিজের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ওই নারী বলেন, জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই কাটিয়েছেন এবং এই দেশটিকেই নিজের ঘর হিসেবে মনে করেন। টিপিএস শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফ্লোরিডার হাইতিয়ান অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেও উদ্বেগ বেড়েছে। মিয়ামির লিটল হাইতিতে আগে যেখানে ব্যস্ততা দেখা যেত, এখন অনেক মানুষ প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না বলে সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এদিকে হাইতির নিরাপত্তা পরিস্থিতিও এখনো অত্যন্ত নাজুক। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ১০ জুলাই দেশটির জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ের ‘লেভেল ৪: ডু নট ট্রাভেল’ সতর্কতা জারি করেছে। সেখানে অপরাধ, অপহরণ, সন্ত্রাস, অস্থিরতা এবং সীমিত স্বাস্থ্যসেবার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে টিপিএস হারানোর পর দেশে ফেরার নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। আর সেই দ্বিমুখী অনিশ্চয়তার মধ্যেই ফ্লোরিডার এই অন্তঃসত্ত্বা নারী এখন প্রতিদিন কাটাচ্ছেন গ্রেপ্তার ও নির্বাসনের আতঙ্কে।
ভাসমান পেয়ারার হাটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত, নৌকায় ঘুরে দেখলেন কৃষকদের ব্যস্ততা
আগস্টের মধ্যেই সব ফিল্ড অফিসারকে বডি ক্যামেরার আওতায় আনছে আইসিই
কোনো লক্ষণই ছিল না, তবু স্বপ্নে দেখেছিলেন ব্রেন টিউমার! পরদিনই পরীক্ষায় ধরা পড়ল সত্যি টিউমার
যুক্তরাষ্ট্রের ইউটা অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় একটি সিকোরস্কি এস-৬৪ স্কাইক্রেন হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুই পাইলট নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে রিচফিল্ডের কাছে ফিশলেক ন্যাশনাল ফরেস্ট এলাকায় ওয়াইডমাউথ টু দাবানলের মধ্যে দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনাস্থলে আগুন ও দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ডের কারণে উদ্ধারকারীরা তাৎক্ষণিকভাবে পৌঁছাতে পারেননি। শনিবার ধ্বংসাবশেষের কাছে পৌঁছে দুই পাইলটের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফরেস্ট সার্ভিসের সঙ্গে চুক্তির আওতায় হেলিকপ্টারটি পরিচালনা করছিল হেলিকপ্টার ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসেস। দুর্ঘটনার পর হেলিকপ্টারটি যেখানে পড়ে, সেখানে নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং সেটি মূল দাবানলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ওয়াইডমাউথ টু দাবানলের সূত্রপাত ২৭ জুলাই বজ্রপাত থেকে। শুক্রবার পর্যন্ত আগুনটি প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার একর এলাকা পুড়িয়ে ফেলেছিল এবং তখন মাত্র ১৯ শতাংশ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল। আগুন নেভাতে ৬০০-এর বেশি কর্মী ও একাধিক হেলিকপ্টার কাজ করছিলেন। পরে আগুনের বিস্তৃতি আরও বেড়ে প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার ৬০০ একরে পৌঁছায় এবং নিয়ন্ত্রণে আসে ২৪ শতাংশ এলাকা। দাবানলের তীব্রতা ও দুর্গম ভূখণ্ডের কারণে দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুনের পরিস্থিতি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত উদ্ধারকর্মীদের সেখানে পাঠানো সম্ভব ছিল না। দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি। বিমান দুর্ঘটনা তদন্তে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড এবং ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন যুক্ত হচ্ছে। তদন্তের চূড়ান্ত ফল পেতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। চলতি গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানলের মধ্যে এই দুর্ঘটনা দমকলকর্মী ও আকাশপথে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত কর্মীদের ঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। ইউটার এই দাবানল পরিস্থিতি এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং আশপাশের এলাকাগুলোতে আগুনের ঝুঁকি অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাবেনা যারা
চাকরি হারালেই ৬০ দিন সময় নয়! যুক্তরাষ্ট্রে ভিসাধারীদের জন্য দুঃসংবাদ, আসছে বড় পরিবর্তন
ঘুম থেকে উঠে দেখেন ছেলে পাশে নেই, পুকুরে ভেসে উঠলো ছেলের মরদেহ
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অভিবাসী ও বিদেশ থেকে ফেরা যাত্রীদের জন্য দৈনন্দিন জীবনের কিছু সাধারণ বিষয়ও বড় ধরনের আইনি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বিমানবন্দরে খাবার, নগদ অর্থ ও ওষুধ ঘোষণা না করা, ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য না দেওয়া কিংবা সময়মতো ট্যাক্স রিটার্ন জমা না দেওয়ার মতো ভুলে জরিমানা বা অন্য শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে। তবে এসব ক্ষেত্রে সারা যুক্তরাষ্ট্রে একই অঙ্কের জরিমানা প্রযোজ্য নয়। কোন ভুলের জন্য কত জরিমানা হবে, তা নির্ভর করে ফেডারেল আইন, অঙ্গরাজ্যের আইন, স্থানীয় বিধি, অপরাধের ধরন এবং পরিস্থিতির ওপর। নতুন অভিবাসীদের তাই যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নিয়ম সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি। ১. বিমানবন্দরে খাবার ঘোষণা না করা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় ব্যাগে খাবার, ফল, সবজি, মাংস, গাছপালা বা অন্যান্য কৃষিপণ্য থাকলে তা কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন কর্মকর্তাকে জানাতে হয়। কোনো খাবার ঘোষণা করলেই সেটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাবে এমন নয়। নিষিদ্ধ বা অগ্রহণযোগ্য হলে সেটি জব্দ বা ফেলে দেওয়া হতে পারে। তবে খাবার থাকার বিষয়টি গোপন না করে ঘোষণা করা গুরুত্বপূর্ণ। কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন জানিয়েছে, কৃষিপণ্য বা খাবার ঘোষণা না করলে জরিমানা হতে পারে। কিছু গুরুতর ক্ষেত্রে এই জরিমানা ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। একই নিয়ম গ্লোবাল এন্ট্রি ব্যবহারকারী যাত্রীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তাই ব্যাগে সামান্য খাবার থাকলেও সন্দেহ হলে তা ঘোষণা করাই নিরাপদ। ২. ১০ হাজার ডলারের বেশি নগদ বা আর্থিক উপকরণ ঘোষণা না করা যুক্তরাষ্ট্রে ১০ হাজার ডলারের বেশি নগদ অর্থ বা নির্দিষ্ট ধরনের আর্থিক উপকরণ নিয়ে প্রবেশ করা নিজে বেআইনি নয়। তবে নির্ধারিত সীমার বেশি অর্থ সঙ্গে থাকলে তা ঘোষণা করতে হয়। ঘোষণা না করলে অর্থ জব্দ হওয়ার পাশাপাশি দেওয়ানি ও ফৌজদারি শাস্তির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে ৫ লাখ ডলার পর্যন্ত ফৌজদারি জরিমানার বিধান রয়েছে। তাই বড় অঙ্কের নগদ অর্থ, ট্রাভেলার্স চেক বা নির্দিষ্ট আর্থিক উপকরণ সঙ্গে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় সঠিকভাবে তথ্য দেওয়া জরুরি। ৩. ওষুধ খোলা প্যাকেটে বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া আনা বিদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ আনার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ব্যক্তিগত ব্যবহারের ওষুধ সাধারণত মূল প্যাকেটে রাখা এবং প্রেসক্রিপশন বা চিকিৎসকের নোট সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। সাধারণভাবে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত, বিশেষ করে ৯০ দিনের বেশি ওষুধ বহন না করার পরামর্শ রয়েছে। ঘুমের ওষুধ, শক্তিশালী ব্যথানাশক বা নিয়ন্ত্রিত ওষুধের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ থাকতে পারে। এসব ওষুধ সঙ্গে আনার আগে সংশ্লিষ্ট নিয়ম যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নথি সঙ্গে রাখা নিরাপদ। ৪. বিদেশ থেকে আনা পণ্যের মূল্য ভুলভাবে ঘোষণা করা বিদেশ থেকে কেনা পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে আনার সময় তার মূল্য ও প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে জানানো জরুরি। ইচ্ছাকৃতভাবে পণ্যের দাম কম দেখানো বা প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন করলে শুল্ক, পণ্য জব্দ এবং অন্যান্য জরিমানার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে ৮০০ ডলারের বেশি কেনাকাটা করলেই প্রত্যেক যাত্রীকে একই হারে শুল্ক দিতে হবে এমন সরল নিয়ম নেই। পণ্যের ধরন, কোথা থেকে কেনা হয়েছে, যাত্রীর পরিস্থিতি এবং প্রযোজ্য শুল্ক বিধির ওপর হিসাব নির্ভর করতে পারে। তাই কেনাকাটার রসিদ সঙ্গে রাখা এবং কাস্টমস কর্মকর্তাকে সঠিক তথ্য দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ৫. ঠিকানা পরিবর্তনের পর অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে না জানানো যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অনেক বিদেশি নাগরিকের বাসার ঠিকানা পরিবর্তন হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইউএসসিআইএসকে জানানো আইনগতভাবে প্রয়োজন। সাধারণভাবে যোগ্য ব্যক্তিদের ঠিকানা পরিবর্তনের ১০ দিনের মধ্যে তথ্য হালনাগাদ করতে হয়। ইউএসসিআইএস অনলাইনে ঠিকানা পরিবর্তনের সুবিধা দিয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে এআর-১১ ফরমও ব্যবহার করা যায়। ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য না দিলে গুরুত্বপূর্ণ ইমিগ্রেশন নোটিশ বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুরোনো ঠিকানায় চলে যেতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী এর ফলে জরিমানা বা অন্যান্য ইমিগ্রেশন জটিলতাও তৈরি হতে পারে। ৬. লাইসেন্স বা প্রয়োজনীয় গাড়ির ইন্স্যুরেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি চালানোর নিয়ম অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা। কোথাও বৈধ ড্রাইভার লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোর জন্য জরিমানা হতে পারে, আবার কোথাও প্রয়োজনীয় গাড়ির ইন্স্যুরেন্স না থাকলেও শাস্তির মুখে পড়তে হয়। কিছু ক্ষেত্রে ড্রাইভার লাইসেন্স স্থগিতও হতে পারে। নতুন অভিবাসীদের মনে রাখা দরকার, এক অঙ্গরাজ্যের ড্রাইভিং আইন অন্য অঙ্গরাজ্যে একইভাবে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। তাই যে স্টেটে বসবাস করছেন, সেখানে গাড়ির লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন এবং ইন্স্যুরেন্সের নিয়ম আগে থেকেই জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ৭. ট্রাফিক ও পথচারী আইন অমান্য করা রাস্তা পারাপার, ট্রাফিক সিগন্যাল, সিটবেল্ট এবং গাড়ি চালানোর অন্যান্য নিয়ম অমান্য করলেও জরিমানা হতে পারে। কিছু এলাকায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে রাস্তা পারাপারের নিয়ম ভাঙার জন্য টিকিট দেওয়া হয়। আবার লাল বাতি অমান্য করা বা সিটবেল্ট না পরার মতো অপরাধেও জরিমানা হতে পারে। এসব নিয়ম অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারভেদে আলাদা। বিশেষ করে স্কুল জোন, পথচারী পারাপারের নির্ধারিত স্থান এবং ট্রাফিক সিগন্যালযুক্ত এলাকায় নিয়ম মেনে চলা জরুরি। ৮. সময়মতো ট্যাক্স রিটার্ন জমা না দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রে যাদের ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দেওয়া উচিত। অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ বা আইআরএসের নিয়ম অনুযায়ী, কর বকেয়া থাকা অবস্থায় রিটার্ন দেরিতে জমা দিলে সাধারণত প্রতি মাসে বা মাসের অংশবিশেষে বকেয়া করের ৫ শতাংশ হারে বিলম্বের জরিমানা আরোপ হতে পারে। এই জরিমানা সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত যেতে পারে। ২০২৬ সালে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে রিটার্ন ৬০ দিনের বেশি দেরিতে জমা হলে ন্যূনতম জরিমানাও প্রযোজ্য হতে পারে। তবে দেরির পেছনে গ্রহণযোগ্য কারণ থাকলে কিছু ক্ষেত্রে জরিমানা কমানো বা মওকুফের সুযোগ থাকতে পারে। ৯. প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া বাড়িতে নির্মাণকাজ করা বাড়ির বেজমেন্ট পরিবর্তন, নতুন ডেক বা বেড়া নির্মাণ, প্লাম্বিং কিংবা বৈদ্যুতিক কাজসহ বিভিন্ন ধরনের নির্মাণকাজের জন্য অনেক শহর ও কাউন্টিতে অনুমতি প্রয়োজন হতে পারে। এসব নিয়ম স্থানীয় সরকার নির্ধারণ করে বলে জরিমানার অঙ্কও জায়গাভেদে ভিন্ন হয়। তাই বাড়িতে বড় ধরনের পরিবর্তন বা নির্মাণকাজ শুরু করার আগে স্থানীয় শহর বা কাউন্টি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি প্রয়োজন কি না তা যাচাই করা উচিত। ১০. পাবলিক প্লেসে স্থানীয় আইন ভঙ্গ করা পার্ক, রাস্তা বা অন্যান্য পাবলিক প্লেসে আবর্জনা ফেলা, নিষিদ্ধ স্থানে ধূমপান বা অ্যালকোহল পান কিংবা স্থানীয় আচরণবিধি ভাঙার জন্য জরিমানা হতে পারে। এসব নিয়মও শহর, কাউন্টি ও অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা। কোনো এলাকায় যে কাজ বৈধ, অন্য এলাকায় সেটিই নিষিদ্ধ হতে পারে। তাই নতুন অভিবাসীদের স্থানীয় নিয়ম সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রে একই ধরনের কাজের জন্য পুরো দেশে একই অঙ্কের জরিমানা নেই। ফেডারেল আইন, অঙ্গরাজ্যের আইন এবং স্থানীয় বিধি অনুযায়ী নিয়ম ও শাস্তি পরিবর্তিত হতে পারে। নতুন অভিবাসীদের জন্য নিরাপদ পদ্ধতি হলো কোনো নিয়ম সম্পর্কে নিশ্চিত না হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় খাবার, নগদ অর্থ, ওষুধ বা অন্য কোনো নিয়ন্ত্রিত পণ্য সঙ্গে থাকলে তা গোপন না করে সঠিকভাবে ঘোষণা করা উচিত। কোনো পণ্য শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পেলেও সেটি ঘোষণা করার বিষয়টি আলাদা। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য গোপন করলে পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল হয়ে যেতে পারে।
ওপেনএআই, গুগল ও মেটাসহ প্রযুক্তিবিদরাই বলছেন, এআইয়ের গতি কমাতে হবে: ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপ চাইলেন কর্মীরা
'৯/১১ আমেরিকার কর্মকাণ্ডের ফল’ মন্তব্য, ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনে হাসান পিকারের বক্তৃতা বাতিল