যুক্তরাষ্ট্রের সেরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় শীর্ষে ক্যালিফোর্নিয়ার দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
সম্প্রতি ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট প্রকাশিত ২০২৭ সালের 'বেস্ট কলেজেস' র্যাঙ্কিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যৌথভাবে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস (ইউসিএলএ) এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে (ইউসি বার্কলে)।
শিক্ষার্থীদের স্নাতক পাসের হার, অনুষদের সুযোগ-সুবিধা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে তাদের এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিলিয়ে তৈরি করা সামগ্রিক তালিকাতেও এই দুটি বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে ২০তম অবস্থানে রয়েছে।
প্রকাশিত এই র্যাঙ্কিংয়ে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া (ইউসি) সিস্টেমের অভাবনীয় সাফল্য চোখে পড়ার মতো। শীর্ষ ১০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় ইউসি-এর পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জায়গা করে নিয়েছে। দেশজুড়ে মূল্যায়ন করা ১,৭০০টিরও বেশি চার বছর মেয়াদি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ইউসি-এর ৯টি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ক্যাম্পাসই শীর্ষ ৫০ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্থান পেয়েছে এবং সার্বিকভাবে শীর্ষ ১২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকায় নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করেছে।
ইউসিএলএ-এর চ্যান্সেলর জুলিও ফ্রেঙ্ক এই অর্জন প্রসঙ্গে জানান, র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান পাওয়া অবশ্যই তৃপ্তিদায়ক, তবে ইউসিএলএ-কে যা সত্যিকারের অসাধারণ করে তোলে তা হলো এর পেছনের শক্তিশালী সম্প্রদায়। তিনি আরও যোগ করেন, দেশের শীর্ষ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকায় প্রথম স্থানে থাকাটা এক বিশাল সম্মানের।
এটি সুযোগ সম্প্রসারণ, জ্ঞানের বিকাশ এবং সমাজের সেবা করার ক্ষেত্রে তাদের দায়িত্ববোধকে আরও সুদৃঢ় করে। সামগ্রিক অবস্থানের পাশাপাশি সামাজিক গতিশীলতা বা সোশ্যাল মবিলিটি র্যাঙ্কিংয়েও ইউসি প্রতিষ্ঠানগুলো আধিপত্য দেখিয়েছে। নিম্ন আয়ের শিক্ষার্থীদের স্নাতক সম্পন্ন করতে এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করার মাপকাঠিতে ইউসি রিভারসাইড জাতীয়ভাবে প্রথম এবং ইউসি মার্সেড চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে। তবে এই তালিকায় ইউসি সান্তা ক্রুজ ২১ ধাপ পিছিয়ে ৮৮ থেকে ১০৯তম স্থানে নেমে গেছে।
এই সাফল্য সম্পর্কে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার প্রেসিডেন্ট জেমস বি. মিলিকেন এক বিবৃতিতে বলেছেন, ইউএস নিউজের সেরা কলেজের র্যাঙ্কিং আবারও প্রমাণ করেছে কেন ইউসি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
উল্লেখ্য, সামগ্রিক জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় সবগুলোকে ছাড়িয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি)। এর পরেই রয়েছে যথাক্রমে প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি এবং ইয়েল ইউনিভার্সিটি। অন্যদিকে, ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি যৌথভাবে পঞ্চম স্থানে রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreক্যালিফোর্নিয়ার ইয়োসেমিটি ন্যাশনাল পার্কে বন্ধুদের সাথে হাইকিংয়ে গিয়ে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ বছর বয়সী উদীয়মান কলেজ রেসলার রায়ান জর্জ। গত ছুটির দিনে পার্কটির প্রায় ৪০০ ফুট উঁচু ইলিউয়েট জলপ্রপাতের (Illilouette Falls) কাছে পা পিছলে পড়ে নিচে তলিয়ে যান সান্তা রোসা জুনিয়র কলেজের এই প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ। মৃত্যুর মাত্র দুদিন আগেই স্যাক্রামেন্টোতে অনুষ্ঠিত ডেভ পাচেকো ইনভাইটেশনাল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। রেসলার হিসেবে রায়ানের ক্যারিয়ার ছিল অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ও সাফল্যে ঘেরা। দ্য প্রেস ডেমোক্র্যাটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সান্তা রোসা কলেজে নিজের প্রথম বর্ষেই তিনি ‘অল-আমেরিকান’ সম্মাননা অর্জন করেন এবং ক্যালিফোর্নিয়া কমিউনিটি কলেজ অ্যাথলেটিক অ্যাসোসিয়েশন টুর্নামেন্টে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন। এর আগে মন্টগোমারি হাইস্কুলে পড়ার সময় তিনি ২১৭ পাউন্ড ওজন শ্রেণিতে নর্থ বে লিগের শিরোপা জিতেন এবং সিনিয়র হিসেবে নর্থ কোস্ট সেকশন টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন। রায়ান জর্জের এই অকাল মৃত্যুতে তার কোচ, সতীর্থ এবং পরিচিতদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সান্তা রোসার রেসলিং কোচ ফ্রেড ডুয়ার এক বিবৃতিতে জানান, রায়ান ছিলেন তার দেখা সবচেয়ে ইতিবাচক ও অকৃত্রিম মানুষদের একজন। যেকোনো পরিবেশকে মুহূর্তের মধ্যে আনন্দমুখর করে তোলা এবং আশেপাশের সবার সেরা গুণগুলো বের করে আনার এক অদ্ভুত ক্ষমতা ছিল তার। মন্টগোমারি হাইস্কুলের রেসলিং কোচ ইয়ান হেসও তাকে একজন চমৎকার সতীর্থ হিসেবে স্মরণ করেছেন। তিনি বলেন, রায়ান কখনোই কোনো বিষয় নিয়ে অভিযোগ বা বিরক্তি প্রকাশ করত না; সে সবসময় হাসিমুখে অন্যদের সাহায্য করতে প্রস্তুত থাকত। তার এই ইতিবাচক মানসিকতাই তাকে রেসলিংয়ে একটি ঈর্ষণীয় ক্যারিয়ার গড়তে সাহায্য করেছিল।
নিউইয়র্কে নেতানিয়াহুর হোটেলের পাশের ম্যানহোলে লুকিয়ে ছিলেন তিন ব্যক্তি, নিরাপত্তা হু মকির আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রের সেরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় শীর্ষে ক্যালিফোর্নিয়ার দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
ক্যালিফোর্নিয়ায় কিশোর যাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত উবারচালক গ্রেপ্তার
মাদুরোকে আটকের পর প্রথমবারের মতো ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ট্রাম্পের দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এই বৈঠক হয়। জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর এটি ছিল ট্রাম্প ও রদ্রিগেজের প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ। বৈঠকটি ছিল আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের চেয়ে তুলনামূলক অনানুষ্ঠানিক। এতে ট্রাম্পের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট, হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস এবং নীতিবিষয়ক উপপ্রধান স্টিফেন মিলারও উপস্থিত ছিলেন। রদ্রিগেজের জন্য এটি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর। বৈঠকের পর রদ্রিগেজ এটিকে ‘ঐতিহাসিক’ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার করা এবং জ্বালানি, খনিজ, নিরাপত্তাসহ কৌশলগত বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পরে জানান, বৈঠকে ভেনেজুয়েলার বিপুল ঋণ পুনর্গঠনের বিষয়ও আলোচনা হয়েছে। রদ্রিগেজের নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলার প্রতিনিধিদল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা, বহুপক্ষীয় ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করছে। প্রতিনিধিদলে দেশটির অর্থনীতিবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট, তেলমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএর কর্মকর্তারাও রয়েছেন। আলোচনায় জ্বালানি, খনিজ ও ঋণ পুনর্গঠনের বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে মাদুরো আটক হওয়ার পর রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। এর আগে তিনি মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই ওয়াশিংটন ও কারাকাসের সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করে। ট্রাম্প ও রদ্রিগেজের এবারের সরাসরি বৈঠক সেই পরিবর্তিত সম্পর্কের প্রেক্ষাপটেই অনুষ্ঠিত হলো। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কও বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা দেশটির তেলসম্পদকে ঘিরে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। রদ্রিগেজ ওই উদ্যোগকে ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও তেলশিল্প আধুনিকায়নের পথে একটি পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ট্রাম্পও জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে ভেনেজুয়েলার তেলশিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। রয়টার্স জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি রদ্রিগেজের সরকার ভেনেজুয়েলাকে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আরও উপযোগী করে তোলার চেষ্টা করছে। দেশটির প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা, বহুপক্ষীয় ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে অর্থনীতি, জ্বালানি, খনিজ ও ঋণসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে। তবে ভেনেজুয়েলার বিরোধী পক্ষের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রদ্রিগেজ সরকারের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের বাইরে একদল ভেনেজুয়েলীয় বিক্ষোভকারী নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানান। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোর সমর্থকরাও ওয়াশিংটনের সঙ্গে বর্তমান সরকারের যোগাযোগ নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত ট্রাম্প-রদ্রিগেজ বৈঠক তাই মাদুরো-পরবর্তী ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের পরিবর্তিত বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। জ্বালানি, খনিজ, নিরাপত্তা ও ঋণ পুনর্গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় আসায় দুই দেশের যোগাযোগের পরিধিও স্পষ্ট হয়েছে। তবে বৈঠকের পর কোনো আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ঘোষণা করা হয়নি।
নিউইয়র্কে পুরোনো বন্ধু বিল ক্লিনটন ও হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে দেখা করেন ড. ইউনূস
টেক্সাসে সারোগেট মায়ের আবেদন খারিজ, ভারতীয় বংশোদ্ভূত দম্পতির কাছেই থাকছে সন্তান
ইসরায়েলি তাণ্ডব নিয়ে জাতিসংঘে ম্যাক্রোঁর ক্ষোভ, ক্রোধে পাল্টা জবাব নেতানিয়াহুর
মেইনের বিডেফোর্ডে আইসিই এজেন্টের গুলিতে নিহত কলম্বিয়ার নাগরিক জোহান সেবাস্তিয়ান দুরান গেরেরোর তিন বছর বয়সী মেয়ের কার সিটেও একটি গুলি লেগে তা ভেদ করে গেছে বলে জানিয়েছেন পরিবারের আইনজীবী শন মারফি। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির এক শুনানিতে তিনি এ তথ্য জানান। শিশুটি গুলির সময় গাড়িতে ছিল না বলে আইনজীবী জানিয়েছেন। মারফির বক্তব্য অনুযায়ী, গেরেরোর পরিবার ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ফেরত চেয়েছিল। তবে শিশুটির কার সিটটি পরিবারকে ফেরত দেওয়া হয়নি। কারণ, আইসিই এজেন্টের ছোড়া একটি গুলি সেটিতে আঘাত করে ছিদ্র করে দিয়েছে এবং সেটি এখন তদন্তের আলামত হিসেবে রয়েছে। গেরেরোকে ১৩ জুলাই মেইনের বিডেফোর্ডে গুলি করে হত্যা করা হয়। মেইন অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, ফেডারেল এনফোর্সমেন্ট রিমুভাল অপারেশনসের এক কর্মকর্তার গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে কারও বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নির্ধারণের জন্য তদন্ত চলছে। ঘটনার পর গেরেরোর পরিবারের প্রতিনিধিরা তার গাড়ি ও অন্যান্য জিনিসপত্রের বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরিবারের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, শিশুটির কার সিটে গুলি লাগার বিষয়টি তখন সামনে আসে। এর আগে কিছু প্রতিবেদনে শিশুটি গুলির সময় গাড়িতে ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে আইনজীবী স্পষ্ট করেছেন, গেরেরোর তিন বছর বয়সী মেয়ে তখন গাড়িতে ছিল না। গেরেরোর মৃত্যুর ঘটনায় মেইন অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় আলাদা করে তদন্ত করছে। অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যারন ফ্রের কার্যালয় জানিয়েছে, ১৩ জুলাইয়ের ঘটনার পর থেকেই তারা প্রমাণ সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও বিশ্লেষণ করছে। তদন্ত শেষে মেইন আইনের অধীনে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার মতো প্রমাণ আছে কি না, তা নির্ধারণ করা হবে। অন্যদিকে, আইসিই ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই ঘটনায় কর্মকর্তারা একজন ভিন্ন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গাড়ি থামানোর চেষ্টা করেছিলেন। গাড়ির চালক থামেননি এবং জননিরাপত্তার আশঙ্কায় এক কর্মকর্তা গুলি চালান বলে ডিএইচএসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। তবে কাকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছিল, তা ফেডারেল কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে জানায়নি। গেরেরোর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যে কংগ্রেসেও শুনানি হয়েছে। তার পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীসহ কয়েকজন ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। শুনানিতে গেরেরোর পরিবারের পক্ষ থেকে তদন্তের স্বচ্ছতা ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে। মেইন অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশে সতর্ক থাকবে, যাতে তদন্তের ওপর কোনো প্রভাব না পড়ে। তদন্ত শেষ হলে পুরো নথি মেইন ডেডলি ফোর্স রিভিউ প্যানেলের কাছে পর্যালোচনার জন্য দেওয়া হবে। এ ঘটনায় নিহত গেরেরোর পরিবারের জন্য কার সিটটি শুধু একটি ব্যক্তিগত জিনিস নয়, মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবেও রয়ে গেছে। শিশুটি গাড়িতে না থাকায় গুলিটি তাকে আঘাত করেনি, তবে কার সিটে গুলির চিহ্ন থাকার বিষয়টি ঘটনাটির তদন্তে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ইরান যুদ্ধে নতুন করে এক মার্কিন সেনার মৃত্যু! পরিচয় প্রকাশ করল পেন্টাগন, নিহতের সংখ্যা ১৯
৬৯৪ মিলিয়ন ডলারের সমঝোতা, হাজারো গাড়ি ঋণগ্রহীতার জন্য আসছে বড় আর্থিক স্বস্তি