আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বিমান ভ্রমণে বড় পরিবর্তন, বিমানবন্দরে অনেক যাত্রীর আর দেখাতে হবে না পরিচয়পত্র

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ১২:২৫
ডুলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টিএসএ প্রি-চেক সাইনবোর্ড | ছবি: গেটি ইমেজেস
ডুলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টিএসএ প্রি-চেক সাইনবোর্ড | ছবি: গেটি ইমেজেস

ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রে বিমান ভ্রমণ আরও সহজ ও দ্রুত করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন (টিএসএ)। সংস্থাটি ঘোষণা করেছে, গুগল ওয়ালেটের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্বের মাধ্যমে যোগ্য যাত্রীরা এখন সরাসরি অ্যাপ থেকেই টিএসএ প্রিচেক টাচলেস আইডি সেবায় নিবন্ধন করতে পারবেন। এর ফলে নির্ধারিত নিরাপত্তা তল্লাশি পয়েন্টে অনেক যাত্রীকে আর আলাদাভাবে পরিচয়পত্র বা বোর্ডিং পাস দেখাতে হবে না।

 

টিএসএ জানিয়েছে, গুগল ওয়ালেটই প্রথম ডিজিটাল ওয়ালেট, যেখানে সরাসরি টিএসএ প্রিচেক টাচলেস আইডি সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। এই প্রযুক্তিতে যাত্রীর পরিচয় মুখাবয়ব শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে যাচাই করা হবে, যা নিরাপত্তা তল্লাশির সময় কমিয়ে আনবে এবং যাত্রীদের অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ করবে।

 

নতুন সুবিধা ব্যবহার করতে হলে অংশগ্রহণকারী কোনো বিমান সংস্থায় চেক-ইন করার পর বোর্ডিং পাস গুগল ওয়ালেটে সংরক্ষণ করতে হবে। যাদের কাছে উপযুক্ত ডিজিটাল পরিচয়পত্র রয়েছে, তারা অ্যাপে “Get Started” অপশনের মাধ্যমে টাচলেস আইডি সেবায় নিবন্ধন করতে পারবেন। নিবন্ধনের সময় টিএসএর সঙ্গে ডিজিটাল পরিচয়পত্র ও বোর্ডিং পাসের তথ্য ভাগাভাগির সম্মতি দিতে হবে। এরপর গুগল ওয়ালেটে নিবন্ধন নিশ্চিত হওয়ার বার্তা এবং বোর্ডিং পাসে টাচলেস আইডি চিহ্ন যুক্ত হবে।

 

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫টি বিমানবন্দরে এই সেবা চালু রয়েছে। টিএসএ জানিয়েছে, টিএসএ প্রিচেকে অংশগ্রহণকারী ১০০টিরও বেশি বিমান সংস্থার যোগ্য যাত্রীরা এসব বিমানবন্দরে টাচলেস আইডি সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।

 

টিএসএর আধুনিকায়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান উদ্ভাবন কর্মকর্তা শেলু প্যাটেল বলেন, উন্নত প্রযুক্তি ও কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে টিএসএ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গুগলের সঙ্গে এই সহযোগিতা বিশ্বস্ত টিএসএ প্রিচেক সদস্যদের জন্য বিমানবন্দরের নিরাপত্তা প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও নির্বিঘ্ন করবে।

 

অন্যদিকে, গুগলের কনজিউমার পেমেন্টস বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট পি. জে. লিনারডুচি বলেন, গুগল ওয়ালেটের প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও নিরাপদ করতে পেরে তারা আনন্দিত। ব্যস্ত গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুমের আগে এই সেবা চালু হওয়ায় বিপুলসংখ্যক যাত্রী উপকৃত হবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

টিএসএ আরও জানিয়েছে, যাত্রীরা চাইলে আগের মতোই আলাস্কা, আমেরিকান, ডেল্টা, হাওয়াইয়ান, সাউথওয়েস্ট ও ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের প্রোফাইলে বৈধ পাসপোর্ট সংরক্ষণ করে পৃথকভাবে টাচলেস আইডি সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল পরিচয় যাচাই প্রযুক্তির সম্প্রসারণ যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আধুনিক করার পাশাপাশি যাত্রীদের অপেক্ষার সময় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে টিএসএ স্পষ্ট করেছে, টাচলেস আইডি সুবিধা ব্যবহার করলেও যাত্রীদের ভ্রমণের সময় বৈধ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা উচিত, কারণ প্রয়োজনে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তা দেখতে চাইতে পারেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইর্য়ক পুলিশ। ছবি:সংগৃহীত
নিউইয়র্ক পুলিশের বাড়ছে বাংলাদেশি পুলিশ! বেতন ৯০হাজার ডলার, আবেদন করুন আজই

যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম পুলিশ বাহিনী নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের উপস্থিতি গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্টে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ইউনিফর্মধারী সদস্যদের মধ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কর্মকর্তার সংখ্যা ১ হাজারের বেশি ছিল। তাদের মধ্যে ১০ জন গোয়েন্দা, ৮২ জন সার্জেন্ট, ২০ জন লেফটেন্যান্ট এবং ৪ জন পরিদর্শক রয়েছেন।   অ্যাসোসিয়েশনের এই তথ্যের সঙ্গে আগে প্রকাশিত ৪০০ জনের বেশি বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তা থাকার দাবির পার্থক্য রয়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য উদ্ধৃত করে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানায়, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের প্রায় ৩৩ হাজার ইউনিফর্মধারী সদস্যের মধ্যে ১ হাজারের বেশি বাংলাদেশি-আমেরিকান ছিলেন। একই সময়ে বিভাগটির প্রায় ১৯ হাজার বেসামরিক কর্মীর মধ্যে আরও প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ছিলেন।   নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ বিভাগেও বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ছে। বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের অনেকে পুলিশ বিভাগে বেসামরিক পদে কাজ শুরু করে পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার পর পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে ক্যারিয়ার গড়েছেন। এই পথটি বাংলাদেশি-আমেরিকানদের মধ্যে পুলিশ বিভাগে যোগ দেওয়ার একটি পরিচিত মাধ্যম হিসেবে গড়ে উঠেছে।   এদিকে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে পুলিশ কর্মকর্তা পদে যোগ দেওয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতাও আগের তুলনায় সহজ করা হয়েছে। ২০২৫ সালে বিভাগটি পুলিশ একাডেমিতে প্রবেশের জন্য কলেজের সনদের শর্ত ৬০ থেকে কমিয়ে ২৪ করেছে। বর্তমানে আবেদনকারীদের স্বীকৃত কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কমপক্ষে ২৪টি কলেজ সনদ এবং ন্যূনতম ২ দশমিক ০ গড় নম্বর থাকতে হয়। বিকল্প হিসেবে দুই বছর পূর্ণকালীন মার্কিন সামরিক বাহিনীতে সম্মানজনক চাকরির অভিজ্ঞতাও গ্রহণযোগ্য।   প্রবেশ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য ন্যূনতম বয়স ১৭ বছর ৬ মাস। তবে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেতে প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হয়। পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য ৩৫তম জন্মদিনের আগে নিবন্ধন করতে হয়। এছাড়া প্রার্থীদের মার্কিন নাগরিকত্ব, বৈধ নিউইয়র্ক ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং নির্ধারিত এলাকায় বসবাসের শর্ত পূরণ করতে হয়।   বেতনও নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে চাকরির অন্যতম আকর্ষণ। সাম্প্রতিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পুলিশ কর্মকর্তাদের বর্তমান প্রারম্ভিক বার্ষিক বেতন ৫৫ হাজার ৯৪২ ডলার। পাঁচ বছর ছয় মাস চাকরি শেষে মূল বেতন ১ লাখ ৯ হাজার ৩৫২ ডলারে পৌঁছাতে পারে। এর বাইরে পোশাক ভাতা, ছুটির দিনের পারিশ্রমিক, স্বাস্থ্যবিমা, বিভিন্ন তহবিলে নগর সরকারের অবদান এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বেতন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে বেতন কাঠামো সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।   বাংলাদেশি-আমেরিকানদের নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে এই ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি কমিউনিটির নাগরিক ও পেশাগত অংশগ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশি-আমেরিকান নিউইয়র্ক পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম কর্মরত অবস্থায় নিহত হওয়ার পর তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াতেও বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতি এই কমিউনিটির শক্তিশালী প্রতিনিধিত্বকে সামনে নিয়ে আসে।   নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সামগ্রিক জনবলও সম্প্রতি বেড়েছে। ২০২৫ সালে বিভাগটি রেকর্ড ৪ হাজার ৫৬ জন নতুন পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগ করে। ওই বছরের ডিসেম্বরের নিয়োগের পর বিভাগের মোট জনবল ৩৪ হাজার ৭০০-এর বেশি হয়।   বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জন্য নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে চাকরির সুযোগ নিয়ে আগ্রহ বাড়লেও আবেদনকারীদের অবশ্যই সর্বশেষ যোগ্যতা, বেতন ও নিয়োগসংক্রান্ত শর্ত বিভাগটির বর্তমান নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যাচাই করা উচিত।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ৭:৪৬
উদ্ধারকৃত ডলার। ছবি:সংগৃহীত

বিমানবন্দরে লাগেজ থেকে ৬ লাখ ১৮ হাজার ডলার উদ্ধার, যুবকের কারাদণ্ড

নৌকায় অভিবাসীদের বহনকরার সময়। ছবি:সংগৃহীত

এক নৌকায় রেকর্ড ২৩০ অভিবাসী নিয়ে ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে, জাতীয় নিরাপত্তা জরুরি অবস্থা’র সতর্কতা

ঘটনা স্থলে পুলিশ। ছবি:সংগৃহীত

টেম্পল ইউনিভার্সিটির বাইরে প্রকাশ্যে গুলিতে আহত ২, হামলার কারণ রহস্যজনক

ভয়াবহ দাবানল।ছবি:সংগৃহীত
ওয়াশিংটনে ভয়াবহ দাবানলে পুড়েছে ৩ লাখের বেশি একর জমি

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে চলতি বছর ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে দাবানল। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত অঙ্গরাজ্যজুড়ে ৩ লাখের বেশি একর জমি আগুনে পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেস।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কিআইআরও ৭-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুড়ে যাওয়া এই বিপুল এলাকা মূলত অঙ্গরাজ্যের সুরক্ষিত জমির অন্তর্ভুক্ত। দাবানলের বিস্তার নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশের পর অঙ্গরাজ্যজুড়ে চলমান আগুনের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।   ওয়াশিংটনের বিভিন্ন এলাকায় গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া, শুষ্ক উদ্ভিদ এবং আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতি দাবানলের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। বিশেষ করে অঙ্গরাজ্যের পূর্বাঞ্চলে বড় পরিসরে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।   ওয়াশিংটন ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেসের তথ্য অনুযায়ী, দাবানল মোকাবিলায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা, বনাঞ্চলের ঝুঁকি কমানো এবং আগুনের বিস্তার ঠেকাতে বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম চালানো হয়।   অঙ্গরাজ্যটির জন্য দাবানল নতুন কোনো ঘটনা নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওয়াশিংটনে বড় আকারের একাধিক দাবানল হয়েছে। ২০২৪ সালেও অঙ্গরাজ্যজুড়ে প্রায় ৩ লাখ ৭ হাজার ৭০০ একর এলাকায় দাবানলের প্রভাব পড়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার ২০০ একর ছিল বনাঞ্চল।   তবে ২০২৬ সালের মাত্র আগস্টেই ৩ লাখ একরের বেশি জমি পুড়ে যাওয়ার তথ্য চলতি দাবানল মৌসুমের তীব্রতা তুলে ধরছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে আগুনের ধোঁয়া, বাতাসের মান এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।   দাবানলের ঝুঁকি মোকাবিলায় ওয়াশিংটন কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে বন ব্যবস্থাপনা, আগুনের ঝুঁকি কমানো এবং দ্রুত জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। অঙ্গরাজ্যের বন ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় এসব উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও আগুনের সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ৫:৪১
তীব্র গরমের মধ্যে নিউইয়র্ক সিটির আকাশে ঘন কালো মেঘ বজ্রঝড় ও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা। ছবি:সংগৃহীত

নিউইয়র্কে তীব্র গরম, বিকেল-সন্ধ্যায় বজ্রঝড়ের আশঙ্কা

U.S. Senator Chris Murphy

ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প ‘হেরে গেছেন’: মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি

কুমিরের কামড়ে পানির নিচে আটকা নারী

কুমিরের কামড়ে পানির নিচে আটকা নারী, শেষ পর্যন্ত কেটে ফেলতে হলো ডান হাত

যুক্তরাষ্ট্রে স্বজন আনার পথে সুখবর
যুক্তরাষ্ট্রে স্বজন আনার পথে সুখবর, ফ্যামিলি ভিসায় বড় অগ্রগতি; নাগরিকত্বে বাড়ছে ফি

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় একসঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সামনে এসেছে। ডিভি-২০২৭ লটারির রেজিস্ট্রেশন এখনো শুরু না হলেও এটি বাতিল হয়নি। অন্যদিকে আগস্ট ২০২৬ ভিসা বুলেটিনে গ্রিনকার্ডধারীদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানদের জন্য এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। একই সময়ে নাগরিকত্বের আবেদন ফি বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা চলছে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ডিভি-২০২৭ প্রোগ্রামের রেজিস্ট্রেশন শুরুর তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে এবং নতুন তারিখ পরে জানানো হবে। দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, ডাইভারসিটি ভিসা প্রোগ্রামের আবেদন প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তবে নির্বাচিতদের ভিসা আবেদনের নির্ধারিত সময়সীমায় কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। ডিভি-২০২৭-এর ভিসা আবেদনের সময়কাল ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত থাকবে।   নতুন ব্যবস্থায় ডিভি লটারিতে রেজিস্ট্রেশনের সময় ১ ডলার ফি নেওয়ার নিয়ম কার্যকর হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান ফি তালিকাতেও ডাইভারসিটি ভিসা রেজিস্ট্রেশন ফি হিসেবে ১ ডলার উল্লেখ রয়েছে। তবে ডিভি-২০২৭ রেজিস্ট্রেশনের সুনির্দিষ্ট শুরুর তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।   এদিকে আগস্টের ভিসা বুলেটিনে ফ্যামিলি স্পনসরড ভিসায় বড় ধরনের অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে এফ২এ ক্যাটাগরির ক্ষেত্রে সব দেশের জন্য চূড়ান্ত পদক্ষেপের তারিখ এগিয়ে ২২ জুলাই ২০২৬ করা হয়েছে। এফ২এ ক্যাটাগরিতে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনকার্ডধারীদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা অন্তর্ভুক্ত। জুলাইয়ের বুলেটিনে এই তারিখ ছিল ১ জানুয়ারি ২০২৫। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে প্রায় ১৯ মাসের অগ্রগতি হয়েছে।   শুধু এফ২এ নয়, আগস্টের বুলেটিনে এফ১, এফ২বি, এফ৩ ও এফ৪ ক্যাটাগরিতেও অগ্রগতি হয়েছে। একই সঙ্গে এফ২এ ক্যাটাগরির আবেদন জমা দেওয়ার তারিখের তালিকায় সব দেশের জন্য ক্যাটাগরিটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। তবে ভিসা বুলেটিনের তারিখ পরিবর্তন হতে পারে। কোনো ক্যাটাগরিতে আবেদনকারীর সংখ্যা বেড়ে গেলে পরবর্তী মাসগুলোতে অগ্রগতির গতি কমতে বা তারিখ পিছিয়ে যেতে পারে।   নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে গ্রিনকার্ডধারীকে অন্তত পাঁচ বছর স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে থাকার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে হয়। তবে মার্কিন নাগরিককে বিয়ের মাধ্যমে যোগ্যতা অর্জনকারী অনেক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে তিন বছরের নিয়ম প্রযোজ্য। যোগ্য আবেদনকারীরা প্রয়োজনীয় পাঁচ বা তিন বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ৯০ দিন আগেও নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারেন।   তবে নাগরিকত্বের আবেদন ফি বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বর্তমানে নাগরিকত্বের আবেদন ফি এবং সম্ভাব্য নতুন ফি নিয়ে পরিবর্তনের প্রস্তাব থাকলেও, কোনো প্রস্তাবকে চূড়ান্ত কার্যকর ফি হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ফি পরিবর্তন হলে ইউএসসিআইএসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী তা কার্যকর হবে।   ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ডিভি-২০২৭-এর নতুন রেজিস্ট্রেশন তারিখ, ভিসা বুলেটিনে নিজের প্রাইওরিটি ডেটের অবস্থান এবং নাগরিকত্বের যোগ্যতা ও ফি সম্পর্কে সরাসরি মার্কিন সরকারি তথ্য অনুসরণ করা। বিশেষ করে এফ২এ আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে আগস্টের অগ্রগতি দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকা অনেক পরিবারের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ৪:৩২
২৫ আগস্ট সরাসরি নিয়োগের সুযোগ

নিউইয়র্কে চাকরি খুঁজছেন? ২৫ আগস্ট সরাসরি নিয়োগের সুযোগ

লন্ডনে পড়তে গিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার শিক্ষার্থীর মৃত্যু

লন্ডনে পড়তে গিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার শিক্ষার্থীর মৃত্যু, জনপ্রিয় ওজন কমানোর ইনজেকশন নিয়ে তদন্তে চাঞ্চল্য

তুষারে বন্ধ পথ, ডায়ালাইসিসে যেতে হবে বৃদ্ধার

তুষারে বন্ধ পথ, ডায়ালাইসিসে যেতে হবে বৃদ্ধার, তাই ভোর সাড়ে ৪টায় শাবল হাতে ৫ কিশোর

0 Comments