১ জুলাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণের নতুন নিয়ম কার্যকর, প্রভাব পড়বে লাখো শিক্ষার্থীর ওপর
যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল শিক্ষাঋণ (স্টুডেন্ট লোন) ব্যবস্থায় বুধবার (১ জুলাই) থেকে বড় ধরনের পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। নতুন নিয়মে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের চালু করা সেভ (Saving on a Valuable Education বা SAVE) পরিশোধ পরিকল্পনা বাতিল হয়েছে। একই সঙ্গে স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী এবং প্যারেন্ট প্লাস (Parent PLUS) ঋণের ক্ষেত্রে নতুন ঋণসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিনের গ্র্যাজুয়েট প্লাস (Graduate PLUS) ঋণ কর্মসূচিও ধাপে ধাপে বন্ধ করা হচ্ছে।
মার্কিন শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, এসব পরিবর্তনের ফলে বর্তমান ও ভবিষ্যতের লাখো শিক্ষাঋণগ্রহীতার ঋণ নেওয়া এবং পরিশোধের নিয়মে পরিবর্তন আসবে।
বন্ধ হচ্ছে ‘সেভ’ পরিকল্পনা
বাইডেন প্রশাসনের সময় চালু হওয়া সেভ পরিকল্পনায় প্রায় ৭০ লাখ ঋণগ্রহীতা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এই কর্মসূচির আওতায় অনেকের মাসিক কিস্তি শূন্য ডলার পর্যন্ত নেমে এসেছিল।
তবে আইনি জটিলতার কারণে ২০২৪ সালের জুলাই থেকে এ কর্মসূচির আওতায় কিস্তি আদায় স্থগিত ছিল। যদিও ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ঋণের ওপর সুদ যোগ হতে থাকে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সেভ পরিকল্পনায় থাকা ঋণগ্রহীতাদের অন্য পরিশোধ পরিকল্পনায় যেতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন পরিকল্পনা বেছে না নিলে তাদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুটি নতুন ব্যবস্থার একটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এর একটি হলো রিপেমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স প্ল্যান (RAP), যেখানে ঋণ পরিশোধের সময়সীমা সর্বোচ্চ ৩০ বছর। অন্যটি টিয়ার্ড স্ট্যান্ডার্ড প্ল্যান, যেখানে ঋণের ধরন অনুযায়ী ১০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন পরিকল্পনায় অনেক ঋণগ্রহীতার মাসিক কিস্তি আগের তুলনায় কয়েকশ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
কিছু পুরোনো পরিকল্পনা থাকছে সীমিত সময়
পে অ্যাজ ইউ আর্ন (PAYE) এবং ইনকাম-কনটিনজেন্ট রিপেমেন্ট (ICR) পরিকল্পনা আপাতত চালু থাকলেও ২০২৮ সালের মধ্যে এগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করলে এসব পরিকল্পনায় নাম লেখানো যাবে।
অন্যদিকে নতুন করে ফেডারেল শিক্ষাঋণ না নিলে অনেক ঋণগ্রহীতা ইনকাম-বেইজড রিপেমেন্ট (IBR) পরিকল্পনায় ঋণ পরিশোধ চালিয়ে যেতে পারবেন। তবে কিছু ধরনের প্যারেন্ট প্লাস ঋণ এই সুবিধার বাইরে থাকবে।
প্যারেন্ট প্লাস ঋণে নতুন সীমা
সন্তানের উচ্চশিক্ষার জন্য অভিভাবকদের নেওয়া প্যারেন্ট প্লাস ঋণের ক্ষেত্রেও নতুন সীমা কার্যকর হয়েছে।
এখন থেকে বছরে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার এবং একজন শিক্ষার্থীর জন্য সর্বমোট ৬৫ হাজার ডলার পর্যন্ত এই ঋণ নেওয়া যাবে।
তবে ৩০ জুন ২০২৬ বা তার আগে যেসব শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মসূচিতে ভর্তি হয়েছেন এবং ইতোমধ্যে প্যারেন্ট প্লাস বা নির্ধারিত ফেডারেল ঋণের অর্থ পেয়েছেন, তারা কিছু ক্ষেত্রে এই সীমার বাইরে থাকবেন।
এছাড়া ১ জুলাইয়ের পর নেওয়া বা একীভূত করা নতুন প্যারেন্ট প্লাস ঋণের ক্ষেত্রে টিয়ার্ড স্ট্যান্ডার্ড প্ল্যান ছাড়া অন্য কোনো আয়ভিত্তিক পরিশোধ পরিকল্পনার সুযোগ থাকবে না। এসব ঋণগ্রহীতা পাবলিক সার্ভিস লোন ফরগিভনেস (PSLF) কর্মসূচিতেও অংশ নিতে পারবেন না।
স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের ঋণেও সীমা
নতুন আইনে স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের ফেডারেল ঋণের পরিমাণও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
এখন থেকে সাধারণ স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীরা বছরে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ৫০০ ডলার এবং জীবনভর মোট ১ লাখ ডলার পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন।
অন্যদিকে চিকিৎসা, আইনসহ বিভিন্ন পেশাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার শিক্ষার্থীরা বছরে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার এবং সর্বমোট ২ লাখ ডলার পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন।
একই সঙ্গে এতদিন সীমাহীন ঋণ সুবিধা দেওয়া গ্র্যাজুয়েট প্লাস কর্মসূচি ধাপে ধাপে বন্ধ করা হচ্ছে। তবে যেসব শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে এই কর্মসূচির আওতায় একই প্রতিষ্ঠানে একই বিষয়ে পড়ছেন, তারা নির্দিষ্ট শর্তে তিন বছর পর্যন্ত আগের সুবিধা পাবেন।
ঋণের সর্বোচ্চ সীমাও নির্ধারণ
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি ফেডারেল শিক্ষাঋণ হিসেবে জীবনভর সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। এর আগে এ ধরনের কোনো সর্বোচ্চ সীমা ছিল না।
স্বয়ংক্রিয় কিস্তি পরিশোধে সুদ কমবে
পরিবর্তনের মধ্যেও ঋণগ্রহীতাদের জন্য একটি সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন শিক্ষা বিভাগ।
যারা অটোপে বা স্বয়ংক্রিয় কিস্তি পরিশোধ ব্যবস্থায় যুক্ত থাকবেন, তারা ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ঋণের সুদের হারে অতিরিক্ত ১ শতাংশ ছাড় পাবেন।
এর আগে অটোপে সুবিধা ব্যবহারকারীরা ০ দশমিক ২৫ শতাংশ সুদ ছাড় পেতেন। নতুন সুবিধা পেতে আগ্রহীদের আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এসব পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল শিক্ষাঋণ ব্যবস্থা আরও নিয়ন্ত্রিত হবে। তবে অনেক শিক্ষার্থীর মাসিক কিস্তি বাড়ার পাশাপাশি ঋণ নেওয়ার সুযোগও আগের তুলনায় সীমিত হয়ে যাবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য ইন্ডিয়ানায় কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে হোয়াইট নদীর পানি উপচে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। নদীর পানির স্তর অতীতের সব মাত্রা ছাড়িয়ে এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগের রেকর্ড ভেঙে দেওয়ায় মধ্য ইন্ডিয়ানাজুড়ে নজিরবিহীন বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। বন্যাদুর্গত এলাকায় আটকে পড়া বহু মানুষকে তাদের পোষা প্রাণীসহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। স্থানীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এই বন্যাকে ‘জীবদ্দশায় একবার ঘটার মতো নজিরবিহীন দুর্যোগ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইন্ডিয়ানাপোলিসের মেয়র জো হগসেট স্থানীয় জরুরি অবস্থা জারি করে বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে বন্যা পরবর্তী উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে কেন্দ্রীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর মাইক ব্রন প্রেসিডেন্ট পর্যায়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণার অনুরোধ জানিয়েছেন। বন্যায় এ পর্যন্ত অন্তত দুই জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ডেলাওয়্যার কাউন্টিতে বন্যার পানির মধ্য দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় ৫৮ বছর বয়সী এক নারী মারা যান। এছাড়া মিসিসিনেওয়া নদীতে নিখোঁজ হওয়া পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ বছর বয়সী নবীন শিক্ষার্থী ম্যাথিউ মোরির মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় শেরিফ দপ্তর। বন্যার পানির কারণে ইয়র্কটাউন পাবলিক লাইব্রেরিসহ বেশ কিছু অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অ্যান্ডারসন শহরে হোয়াইট নদীর পানির উচ্চতা ২৫ ফুটের কাছাকাছি পৌঁছে ১৯১৩ সালের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকায় উদ্ধারকাজে সহযোগিতার জন্য মার্কিন ন্যাশনাল গার্ডের বিশেষ যানবাহন মোতায়েন করা হয়েছে। ইন্ডিয়ানাপোলিস ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, শনিবার দুপুর পর্যন্ত অন্তত ৭০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস ওই অঞ্চলে নতুন করে বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস দিয়ে আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি রেখেছে, ফলে পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিউ জার্সির স্কুলে অ স্ত্র হিসেবে ব্যবহারের শঙ্কায় কাচ ও ধাতব বোতল নিষিদ্ধ, আপত্তি অভিভাবকদের
আটলান্টায় কিশোর অপরাধ কমাতে ৫০ হাজার ডলারে ‘দ্য স্পট’ নামে আড্ডাকেন্দ্র বানাচ্ছে দুই শিক্ষার্থী
গাজা পরিকল্পনা নিয়ে মতপার্থক্য মেটাতে ইসরাইল সফর করবেন ট্রাম্পের জামাতা কুশনার
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার একটি জঙ্গলে প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া নবজাতক ‘বেবি ইন্ডিয়া’র ঘটনা ছয় বছর পর আইনি পরিণতি পেয়েছে। ২০১৯ সালে জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে ব্যাগে বেঁধে জঙ্গলে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় তার জন্মদাত্রী মা কারিমা জিওয়ানি পরে দোষ স্বীকার করেন। আদালত তাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। ঘটনাটি ২০১৯ সালের ৬ জুন রাতে জর্জিয়ার ফরসাইথ কাউন্টিতে। অ্যালান রাগাটজের দুই কিশোরী মেয়ে বাড়ির কাছের জঙ্গল থেকে কান্নার শব্দ শুনতে পায়। প্রথমে সেটিকে কোনো প্রাণীর শব্দ মনে হলেও বারবার কান্না শুনে তারা বাবাকে বিষয়টি জানায়। এরপর জঙ্গলে গিয়ে একটি বাঁধা প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর থেকে শিশুর কান্না আসছে বুঝতে পেরে তারা ৯১১-এ ফোন করেন। ফরসাইথ কাউন্টি শেরিফের ডেপুটিরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাগ খুলে নবজাতক মেয়েটিকে উদ্ধার করেন। তখনও তার শরীরে নাভির নাড়ি যুক্ত ছিল। পুলিশের বডি ক্যামেরায় উদ্ধার অভিযানের সেই মুহূর্ত ধরা পড়ে। ডেপুটি টেরি রোপার শিশুটিকে বের করার সময় তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের কর্মীরা পরিচয়হীন নবজাতকদের জন্য রাখা নামের তালিকা থেকে তার নাম দেন ‘ইন্ডিয়া’। তদন্তকারীরা জানান, উদ্ধারের সময় শিশুটি ভালো অবস্থায় ছিল এবং পরবর্তী সময়েও সে সুস্থ ছিল। তবে কে তাকে এভাবে জঙ্গলে ফেলে গেল, সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে তদন্তকারীদের অপেক্ষা করতে হয় প্রায় চার বছর। উন্নত ডিএনএ ও ফরেনসিক জেনেটিক জিনিয়লজি প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে শিশুটির জৈবিক বাবাকে শনাক্ত করা হয়। তদন্তকারীরা জানান, শিশুটিকে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় বাবার সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ তারা পাননি। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে কারিমা জিওয়ানিকে শিশুটির জন্মদাত্রী মা হিসেবে শনাক্ত করা হয়। ২০২৩ সালের মে মাসে ৪০ বছর বয়সী জিওয়ানিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, শিশুর প্রতি প্রথম ডিগ্রির নিষ্ঠুরতা, গুরুতর হামলা ও শিশুকে পরিত্যাগসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, জিওয়ানি একটি গাড়ির ভেতরে শিশুটির জন্ম দিয়েছিলেন। এরপর কিছু সময় গাড়ি চালিয়ে নবজাতককে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে রেখে সেটির মুখ বেঁধে ডেভস ক্রিক রোডের কাছের নির্জন জঙ্গলে ফেলে যান। শেরিফ রন ফ্রিম্যান সে সময় বলেছিলেন, শিশুটিকে এমন কোনো জায়গায় রাখা হয়নি যেখানে সহজে কারও নজরে পড়ার সম্ভাবনা ছিল। মামলাটি শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় নেয়। জিওয়ানি হত্যাচেষ্টা এবং শিশুর প্রতি প্রথম ডিগ্রির নিষ্ঠুরতার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। আদালত তাকে মোট ৩০ বছরের সাজা দেয়। এর মধ্যে ১৫ বছর কারাগারে এবং বাকি ১৫ বছর প্রবেশনে কাটাতে হবে। ঘটনার সময় জর্জিয়ায় নবজাতককে নিরাপদ স্থানে রেখে যাওয়ার আইনি ব্যবস্থা ছিল। নির্দিষ্ট শর্তে হাসপাতাল, ফায়ার স্টেশনসহ অনুমোদিত স্থানে নবজাতককে নিরাপদে হস্তান্তরের সুযোগ থাকলেও বেবি ইন্ডিয়ার ক্ষেত্রে সেই পথ অনুসরণ করা হয়নি। সবচেয়ে স্বস্তির খবর, জঙ্গলে মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়া সেই নবজাতক বেঁচে গেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বেবি ইন্ডিয়াকে পরে দত্তক নেওয়া হয়েছে। তার ব্যক্তিগত পরিচয় গোপন রাখা হলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সে একটি পরিবারের সঙ্গে সুস্থ ও ভালোভাবে বেড়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার একটি জঙ্গলে প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া নবজাতক ‘বেবি ইন্ডিয়া’র ঘটনা ছয় বছর পর আইনি পরিণতি পেয়েছে। ২০১৯ সালে জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে ব্যাগে বেঁধে জঙ্গলে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় তার জন্মদাত্রী মা কারিমা জিওয়ানি পরে দোষ স্বীকার করেন। আদালত তাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। ঘটনাটি ২০১৯ সালের ৬ জুন রাতে জর্জিয়ার ফরসাইথ কাউন্টিতে। অ্যালান রাগাটজের দুই কিশোরী মেয়ে বাড়ির কাছের জঙ্গল থেকে কান্নার শব্দ শুনতে পায়। প্রথমে সেটিকে কোনো প্রাণীর শব্দ মনে হলেও বারবার কান্না শুনে তারা বাবাকে বিষয়টি জানায়। এরপর জঙ্গলে গিয়ে একটি বাঁধা প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর থেকে শিশুর কান্না আসছে বুঝতে পেরে তারা ৯১১-এ ফোন করেন। ফরসাইথ কাউন্টি শেরিফের ডেপুটিরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাগ খুলে নবজাতক মেয়েটিকে উদ্ধার করেন। তখনও তার শরীরে নাভির নাড়ি যুক্ত ছিল। পুলিশের বডি ক্যামেরায় উদ্ধার অভিযানের সেই মুহূর্ত ধরা পড়ে। ডেপুটি টেরি রোপার শিশুটিকে বের করার সময় তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের কর্মীরা পরিচয়হীন নবজাতকদের জন্য রাখা নামের তালিকা থেকে তার নাম দেন ‘ইন্ডিয়া’। তদন্তকারীরা জানান, উদ্ধারের সময় শিশুটি ভালো অবস্থায় ছিল এবং পরবর্তী সময়েও সে সুস্থ ছিল। তবে কে তাকে এভাবে জঙ্গলে ফেলে গেল, সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে তদন্তকারীদের অপেক্ষা করতে হয় প্রায় চার বছর। উন্নত ডিএনএ ও ফরেনসিক জেনেটিক জিনিয়লজি প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে শিশুটির জৈবিক বাবাকে শনাক্ত করা হয়। তদন্তকারীরা জানান, শিশুটিকে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় বাবার সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ তারা পাননি। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে কারিমা জিওয়ানিকে শিশুটির জন্মদাত্রী মা হিসেবে শনাক্ত করা হয়। ২০২৩ সালের মে মাসে ৪০ বছর বয়সী জিওয়ানিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, শিশুর প্রতি প্রথম ডিগ্রির নিষ্ঠুরতা, গুরুতর হামলা ও শিশুকে পরিত্যাগসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, জিওয়ানি একটি গাড়ির ভেতরে শিশুটির জন্ম দিয়েছিলেন। এরপর কিছু সময় গাড়ি চালিয়ে নবজাতককে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে রেখে সেটির মুখ বেঁধে ডেভস ক্রিক রোডের কাছের নির্জন জঙ্গলে ফেলে যান। শেরিফ রন ফ্রিম্যান সে সময় বলেছিলেন, শিশুটিকে এমন কোনো জায়গায় রাখা হয়নি যেখানে সহজে কারও নজরে পড়ার সম্ভাবনা ছিল। মামলাটি শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় নেয়। জিওয়ানি হত্যাচেষ্টা এবং শিশুর প্রতি প্রথম ডিগ্রির নিষ্ঠুরতার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। আদালত তাকে মোট ৩০ বছরের সাজা দেয়। এর মধ্যে ১৫ বছর কারাগারে এবং বাকি ১৫ বছর প্রবেশনে কাটাতে হবে। ঘটনার সময় জর্জিয়ায় নবজাতককে নিরাপদ স্থানে রেখে যাওয়ার আইনি ব্যবস্থা ছিল। নির্দিষ্ট শর্তে হাসপাতাল, ফায়ার স্টেশনসহ অনুমোদিত স্থানে নবজাতককে নিরাপদে হস্তান্তরের সুযোগ থাকলেও বেবি ইন্ডিয়ার ক্ষেত্রে সেই পথ অনুসরণ করা হয়নি। সবচেয়ে স্বস্তির খবর, জঙ্গলে মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়া সেই নবজাতক বেঁচে গেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বেবি ইন্ডিয়াকে পরে দত্তক নেওয়া হয়েছে। তার ব্যক্তিগত পরিচয় গোপন রাখা হলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সে একটি পরিবারের সঙ্গে সুস্থ ও ভালোভাবে বেড়ে উঠছে।
শত বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে হিজাব পরেই যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বিচারক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া কে এই আসমা আলী?
২০ হাজারের লক্ষ্য, সংগ্রহ হলো ৯৩ হাজারের বেশি খাবার, ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ স্কাউটরা
ভার্জিনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ভোর সকালে বন্দুক হামলা, আহত পাঁচজন
একটি জুম কলে একসঙ্গে প্রায় ৯০০ কর্মীকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছিলেন বেটার ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও বিশাল গর্গ। প্রায় পাঁচ বছর পর এবার নিজের প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদ থেকেই বরখাস্ত হয়েছেন তিনি। তবে সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে শেয়ারহোল্ডারদের সমর্থন নিয়ে বোর্ডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছেন গর্গ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ডিজিটাল মর্টগেজ প্রতিষ্ঠান বেটার হোম অ্যান্ড ফাইন্যান্স হোল্ডিং কোম্পানির বোর্ড চলতি আগস্টে গর্গকে সিইও পদ থেকে সরিয়ে দেয়। কোম্পানির বোর্ড তার নেতৃত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। গর্গ অবশ্য এসব অভিযোগের কিছু অংশ প্রত্যাখ্যান করেছেন। ঘটনাটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে ২০২১ সালের বহুল সমালোচিত সেই জুম কলের কারণে। ওই বছরের ডিসেম্বরে গর্গ প্রায় ৯০০ কর্মীকে একটি অনলাইন মিটিংয়ে ডেকে জানান, তাদের চাকরি তাৎক্ষণিকভাবে শেষ হয়ে যাচ্ছে। ছুটির মৌসুমের ঠিক আগে এত কর্মীকে একই জুম কলে ছাঁটাইয়ের পদ্ধতি নিয়ে তখন ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর গর্গ নিজের পদ্ধতির জন্য ক্ষমাও চেয়েছিলেন। তিনি স্বীকার করেছিলেন, ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনি যথাযথ সম্মান ও সংবেদনশীলতা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিতর্কের জেরে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও ২০২২ সালের জানুয়ারিতে তিনি আবার সিইও পদে ফিরে আসেন। এরপরও বেটারের পরিস্থিতি সহজ হয়নি। আবাসন ও মর্টগেজ বাজারের পরিবর্তন, কর্মী ছাঁটাই এবং আর্থিক ক্ষতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে। ২০২৩ সালে শেয়ারবাজারে প্রবেশের প্রথম দিনেই বেটারের শেয়ারের দাম বড় ধরনের পতনের মুখে পড়ে। এবার গর্গকে সরানোর পর কোম্পানির অন্তর্বর্তী সিইও হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ড্যানিয়েল লুইস। তবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের মধ্যেই বেটারের ভেতরে নতুন করে বোর্ডরুম লড়াই শুরু হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গর্গের পক্ষে থাকা শেয়ারহোল্ডারদের একটি অংশ কোম্পানির বর্তমান নেতৃত্বে পরিবর্তন আনতে চাইছে। গর্গের পক্ষের দাবি, তাদের সঙ্গে এমন বিনিয়োগকারীরা রয়েছেন যাদের হাতে কোম্পানির প্রায় ৫২ শতাংশ ভোটিং শেয়ারের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তারা অন্তর্বর্তী সিইও লুইসসহ বোর্ডের পাঁচ সদস্যকে সরানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন। অন্যদিকে বেটারের বোর্ড গর্গকে সরানোর সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গর্গকে বাদ দিয়ে বোর্ডের অন্য সদস্যরা তাকে সরানোর পক্ষে সর্বসম্মতভাবে ভোট দেন। বোর্ড তার নেতৃত্ব ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক উদ্বেগের কথা তুলেছে। গর্গের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের কিছু অংশের সত্যতা নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। ফলে প্রায় পাঁচ বছর আগে শত শত কর্মীকে এক জুম কলে চাকরি হারানোর খবর দেওয়া যে সিইও নিজেই বিশ্বজুড়ে বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছিলেন, এখন সেই গর্গের নিজের চাকরি হারানো এবং আবার সিইও পদ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা বেটারের নতুন করপোরেট লড়াইয়ের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
আমেরিকায় ফ্যামিলি স্পন্সরশিপে নতুন গাইডলাইন, আবেদনকারীদের জন্য যা জানা জরুরি
নিজের জমির বিচার পেতে ১৬ বছর আইন শিখলেন কৃষক, আদালতে পেলেন জয়