ভুলবশত বন্ধুকে গুলি, আর সেই শোক সইতে না পেরে নিজের জীবনও শেষ করল ১৬ বছরের কিশোর
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে দুর্ঘটনাবশত প্রিয় বন্ধুকে গুলি করে হত্যার পর অপরাধবোধে নিজেই আত্মঘাতী হয়েছে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর। নিউইয়র্কের সিরাকিউস শহরের লিংকন অ্যাভিনিউয়ের একটি বাড়িতে গত বুধবার রাতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও ওননডাগা কাউন্টির প্রসিকিউটরদের তথ্যমতে, ১৬ বছর বয়সী ড্যামারিওন জোনস ভুলবশত তার ১৩ বছরের বন্ধু জোনাহ ট্যানারকে গুলি করে বসে। এই অনিচ্ছাকৃত ঘটনার পর তীব্র অনুশোচনা ও মানসিক যন্ত্রণায় ভুগে ওই একই ৯ মিলিমিটার হ্যান্ডগান দিয়ে জোনস নিজের প্রাণও কেড়ে নেয়।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর জোনস নিজের করা আঘাতেই মারা যায়। অন্যদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় ট্যানারকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও পরবর্তীতে চিকিৎসকরা তাকে 'ব্রেইন ডেড' ঘোষণা করেন। ওননডাগা কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি উইলিয়াম ফিটজপ্যাট্রিক জানান, ট্যানারকে গুলি করার পর জোনস সম্ভবত এতটাই অপরাধবোধে ভুগছিল যে সে নিজেকেও গুলি করতে বাধ্য হয়। তবে ওই দুই কিশোর কীভাবে আগ্নেয়াস্ত্রটি পেয়েছিল বা ঠিক কী পরিস্থিতিতে এমন দুর্ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
এই ঘটনায় দুই পরিবারেই নেমে এসেছে শোকের কালো ছায়া। পরিবার ও স্বজনদের কাছে ওই দুই বন্ধু ছিল আক্ষরিক অর্থেই 'অবিচ্ছেদ্য'। ট্যানারের শেষকৃত্যের জন্য চালু করা একটি তহবিল সংগ্রহের পেজে তাদের বন্ধুত্বকে অত্যন্ত বিশেষ উল্লেখ করে বলা হয়, একই রাতে দুই ছেলেকে হারানোটা তাদের জন্য এক অসহনীয় যন্ত্রণা। এদিকে, জোনসের মা কিশা ব্রাউন জোনসও এক আবেগঘন বিবৃতিতে জানান, তার একমাত্র ছেলেটি ছিল অত্যন্ত দয়ালু ও স্নেহশীল। তারা দুজন সবসময় ভাইয়ের মতো একসাথেই থাকত, আর তাই তাদের ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে দুই বন্ধুকে একসাথেই সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবার। গত রোববার তাদের স্মরণে আয়োজিত এক শোকসভায় জোনসের মা অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে জানান, মারা যাওয়ার আগে ছেলের বলা শেষ কথা ‘আই লাভ ইউ’ এখন তার জীবনের একমাত্র সম্বল হয়ে থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যের তুলসা শহরের বিশপ কেলি হাই স্কুলে নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য প্রথম দিনটি একটু অন্যরকম অভিজ্ঞতা নিয়ে আসে। নবীনরা যখন তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে স্কুলে পৌঁছায়, তখন সিনিয়র শিক্ষার্থীরা তাদের গাড়ি ঘিরে ফেলে। নিয়ম হলো, যতক্ষণ না নবীনরা তাদের মা, বাবা বা অভিভাবকের গালে চুমু খেয়ে বিদায় না জানাচ্ছে, ততক্ষণ তাদের গাড়ি থেকে নামতে দেওয়া হয় না। প্রকাশ্যে বাবা-মাকে এভাবেই ধন্যবাদ জানানোর এই অদ্ভুত ও কিছুটা অস্বস্তিকর রীতিটি গত ২৬ বছর ধরে স্কুলটিতে চলে আসছে। স্কুলের প্রেসিডেন্ট সিস্টার মেরি হানাহ জানান, ২০০১ সালের আগে নবীনদের স্বাগত জানানোর এই রীতিটি মূলত র্যাগিং বা প্র্যাঙ্ক-নির্ভর ছিল। কিন্তু সে বছর তৎকালীন সিনিয়র ব্যাচ সিদ্ধান্ত নেয়, তারা নবীনদের সঙ্গে আরেকটু সদয় আচরণ করবে, তবে একইসঙ্গে তাদের কিছুটা অস্বস্তিতেও ফেলবে। সেই থেকেই এই 'গুডবাই কিস' বা বিদায়ী চুমুর প্রথা শুরু। সিস্টার মেরি হানাহ স্বীকার করেন, তিনি নিজেও হয়তো নবীন হিসেবে এমন পরিস্থিতিতে অস্বস্তি বোধ করতেন। তবে বাইবেলে বাবা-মাকে সম্মান করার যে কথা বলা আছে, এই প্রথাটি তারই একটি সুন্দর প্রতিফলন বলে মনে করেন তিনি। এই রীতিটি নবীনদের জন্য কিছুটা লজ্জাজনক হলেও বাবা-মায়ের জন্য এটি এক দারুণ আবেগের মুহূর্ত। সিস্টার মেরির মতে, এই আয়োজনে সবচেয়ে বেশি খুশি হন মায়েরাই। বিশেষ করে এটি যদি তাদের প্রথম বা ছোট সন্তানের স্কুলে যাওয়ার প্রথম দিন হয়, তবে আনন্দটা আরও বেড়ে যায়। একজন অভিভাবক তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, সন্তান যখন তাকে চুমু খেয়ে বিদায় নিয়ে স্কুলের দিকে এগিয়ে যায়, তখনই তিনি উপলব্ধি করেন যে সন্তান বড় হচ্ছে এবং তাকে ছেড়ে দেওয়ার সময় এসেছে। বাবা-মা ও সন্তানের এই মধুর সম্পর্কের মুহূর্তটি উদযাপন করতেই শত শত সিনিয়র শিক্ষার্থী প্রতি বছর উল্লাসের মধ্য দিয়ে এই আয়োজনে মেতে ওঠে।
নিউইয়র্কে ৫ মাসে জানালা থেকে পড়েছে ৪ শিশু, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে মেয়র মামদানি
যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে একই ফ্লাইট নম্বরে মুখোমুখি দুই বিমান, অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা ঠেকালেন কন্ট্রোলার
ট্রাম্পের অভিবাসী বিতাড়ন নীতির মাঝেই আইসিইকে বিলুপ্ত করার পক্ষে ভোট দিল ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটি
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তরুণ ভোটারদের পছন্দের তালিকায় সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস সবার শীর্ষে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘অ্যাক্সিওস-জেনারেশন ল্যাব’-এর এক যৌথ জনমত জরিপে দেখা গেছে, তরুণ ডেমোক্র্যাটদের পছন্দে সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা এবং কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-করতেজকে (এওসি) পেছনে ফেলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন হ্যারিস। গত ২৯ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী ১ হাজার ৭৫ জন মার্কিন তরুণের ওপর এই জরিপটি পরিচালনা করা হয়। জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, তরুণ ডেমোক্র্যাটদের ২৮ দশমিক ৭ শতাংশের সমর্থন পেয়ে শীর্ষে রয়েছেন কমলা হ্যারিস, যা দ্বিতীয় স্থানে থাকা মিশেল ওবামার (১৪ দশমিক ৯ শতাংশ) সমর্থনের প্রায় দ্বিগুণ। অন্যদিকে, নিউ ইয়র্কের প্রভাবশালী প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-করতেজ ১১ দশমিক ৭ শতাংশ সমর্থন নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। যদিও এই তিনজনের কেউই এখনো ২০২৮ সালের নির্বাচনে লড়ার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি। তবে স্বতন্ত্র তরুণ ভোটারদের পছন্দের তালিকায় ১১ দশমিক ৪ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন মিশেল ওবামা এবং ৯ দশমিক ২ শতাংশ পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন ওকাসিও-করতেজ। অন্যদিকে তরুণ রিপাবলিকানদের মধ্যে বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ সমর্থন পেয়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। জরিপটিতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সার্বিক মার্কিন রাজনীতি ও অর্থনীতির বিষয়ে তীব্র অসন্তোষের চিত্রও ফুটে উঠেছে। অংশগ্রহণকারী তরুণদের ৬৬ শতাংশই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং ৯৬ শতাংশ তরুণ বাড়িভাড়া, মুদিপণ্য ও ইউটিলিটি বিলসহ জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন। এমনকি নিত্যপণ্যের দাম কমানোর প্রশ্নে ডেমোক্র্যাট কিংবা রিপাবলিকান—কোনো দলের প্রতিই ভরসা পাচ্ছেন না সর্বোচ্চ ৩৬ শতাংশ তরুণ। জেনারেশন ল্যাবের প্রধান নির্বাহী সাইরাস বেশলস তরুণদের এমন মনোভাবকে সার্বিক পরিস্থিতির ওপর চরম হতাশার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে অর্থনৈতিক এই অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক ক্ষোভের মাঝেও তরুণ ডেমোক্র্যাটদের এমন জোরালো সমর্থন ২০২৮ সালের হোয়াইট হাউস লড়াইয়ে কমলা হ্যারিসকে আবারও সুবিধাজনক অবস্থানে রাখছে।
ডেটা সেন্টারে লাখ ডলারের চাকরির জোয়ার, শ্রমিক সংকটে হুমকিতে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন খাত
লস অ্যাঞ্জেলেসে সামান্য কথাকাটাকাটির জেরে দম্পতি ও কুকুরকে গাড়িচাপা দেওয়ার চেষ্টা
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানায় শতাব্দীর ভয়াবহ বন্যা, ১০০ বছরের রেকর্ড ভেঙে উদ্ধার অভিযানে ন্যাশনাল গার্ড
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির একটি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কাচ ও ধাতব পানির বোতলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বোতলগুলোকে মারামারি বা বিবাদের সময় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের এমন পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ হয়েছেন অভিভাবকেরা। তাদের দাবি, এর ফলে শিশুদের বাধ্য হয়ে অস্বাস্থ্যকর প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার করতে হবে, যা স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। হাওয়েল টাউনশিপ পাবলিক স্কুলস নামের ওই স্কুল ডিস্ট্রিক্ট কর্তৃপক্ষ গত বুধবার অভিভাবকদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য এই নিষেধাজ্ঞার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়। এরপরই ক্রিস্টিন বাস্টার্ডি নামের এক ক্ষুব্ধ অভিভাবক ‘চেঞ্জ ডট অর্গ’ ওয়েবসাইটে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে একটি পিটিশন চালু করেন। ইতোমধ্যে এক হাজারেরও বেশি মানুষ এই পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন। বাস্টার্ডি তার পিটিশনে উল্লেখ করেছেন, প্লাস্টিকের বোতল থেকে পানিতে বিসফেনল এ (বিপিএ)-এর মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ মিশে যেতে পারে, যা শিশুদের হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও বিকাশজনিত সমস্যা তৈরি করে। পরিবেশের ওপর প্লাস্টিকের নেতিবাচক প্রভাবের কথা তুলে ধরে তিনি আরও জানান, ধাতব ও কাচের বোতলগুলো পুনর্ব্যবহারযোগ্য হওয়ায় তা কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে প্লাস্টিকের বোতল পরিবেশ দূষণ বাড়ায় এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যকে হুমকির মুখে ফেলে। স্কুলের বোর্ড অব এডুকেশনের সভাপতি জেনিফার ওকারসন ও সুপারিনটেনডেন্ট জোসেফ আইসোলার স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ধাতব ও কাচের বোতলগুলো ভারী ও শক্ত হওয়ায় কোনো বিবাদের সময় এগুলো ছুড়ে মারলে মারাত্মক আঘাত লাগার আশঙ্কা থাকে। এ ধরনের পাত্র ব্যবহার করে অতীতে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তাই শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সুরক্ষায় বাড়তি সতর্কতা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চিঠিতে আরও সতর্ক করা হয়, কোনো শিক্ষার্থীর কাছে এমন বোতল পাওয়া গেলে তা বাজেয়াপ্ত করে স্কুল অফিসে জমা রাখা হবে এবং পরে অভিভাবকদের তা এসে নিয়ে যেতে হবে। প্রি-কিন্ডারগার্টেন থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদানকারী এই স্কুল ডিস্ট্রিক্টের নিরাপত্তা উদ্বেগের সমাধানে বাস্টার্ডি তার পিটিশনে বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন। ঢালাওভাবে বোতল নিষিদ্ধ করার বদলে নির্দিষ্ট মানদণ্ড যাচাই করে নিরাপদ ধাতব ও কাচের বোতল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই অভ্যাসের গুরুত্ব নিয়ে সচেতনতামূলক শিক্ষামূলক কর্মসূচি চালুরও দাবি জানিয়েছেন এই অভিভাবক।
আটলান্টায় কিশোর অপরাধ কমাতে ৫০ হাজার ডলারে ‘দ্য স্পট’ নামে আড্ডাকেন্দ্র বানাচ্ছে দুই শিক্ষার্থী
গাজা পরিকল্পনা নিয়ে মতপার্থক্য মেটাতে ইসরাইল সফর করবেন ট্রাম্পের জামাতা কুশনার