'অভিবাসীরাই গড়েছেন নিউইয়র্ক' যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ব্যতিক্রমী বার্তা মেয়র জোহরান মামদানির
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে অভিবাসীদের অবদানের প্রশংসা করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। একই সঙ্গে তিনি এমন এক যুক্তরাষ্ট্রের কথা তুলে ধরেন, যেখানে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মানুষই দেশটির শক্তি ও পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার এই বক্তব্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির বিপরীতে একটি স্পষ্ট আদর্শিক বার্তা বহন করেছে।
শুক্রবার নিউইয়র্ক সিটি হলে ঐতিহাসিক এক ডেস্কের সামনে দাঁড়িয়ে ভাষণ দেন মামদানি। এই ডেস্কটি একসময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন ব্যবহার করেছিলেন। ভাষণের সময় তার পাশে ছিলেন সদ্য মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া কয়েকজন অভিবাসী।
মামদানি বলেন, নিউইয়র্কের ইতিহাস মূলত অভিবাসীদের ইতিহাস। তিনি স্মরণ করেন দুর্ভিক্ষের সময় আয়ারল্যান্ড থেকে আসা মানুষ, চীনা নাবিক, এলিস আইল্যান্ড হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা লাখো অভিবাসী, নির্যাতন থেকে পালিয়ে আসা ইহুদি জনগোষ্ঠী, দারিদ্র্য থেকে বাঁচতে আসা ইতালীয় এবং উন্নত জীবনের আশায় আসা সিরীয়দের।
তার ভাষায়, "ফেডারেল সরকারের নানা নিষেধাজ্ঞা ও বাধা সত্ত্বেও অভিবাসীরা নিউইয়র্কে নিজেদের ঘর গড়েছেন এবং এই শহরকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছেন।"
সম্প্রতি জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (Birthright Citizenship) বাতিলের ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে স্থগিতাদেশ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে, দেশটির মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রায় সব শিশুই মার্কিন নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হবে। সেই প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে মামদানি বলেন, জীবন, স্বাধীনতা ও সুখ অন্বেষণের অধিকার প্রতিটি প্রজন্মের মানুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য এবং এই আদর্শ এখনও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
উগান্ডায় জন্ম নেওয়া মামদানি সাত বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে নিউইয়র্কে আসেন। পরে ২০১৮ সালে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন। ভাষণে তিনি বলেন, ১৭৭৬ সালে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার সংগ্রামে নিউইয়র্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। সেই ঐতিহ্য আজও বহন করছে শহরটি।
তিনি আরও বলেন, নতুন অভিবাসীরা যখন প্রথম নিউইয়র্কে আসতেন, তখন তারা স্বাধীনতার প্রতীক স্ট্যাচু অব লিবার্টি এবং সুযোগের এক নতুন দেশকে দেখতেন।
সদ্য নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের উদ্দেশে মামদানি বলেন, "আপনাদের প্রত্যেকের হাতে একটি বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে। আপনারাই ঠিক করবেন, আমেরিকা বলতে কী বোঝায়।"
তবে বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতারও সমালোচনা করেন। নাম উল্লেখ না করলেও তিনি বলেন, কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী এমন একটি আমেরিকার ধারণা প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে কেবল নির্বাচিত কিছু মানুষেরই স্বাধীনতা থাকবে।
তার ভাষায়, "তাদের কাছে আমেরিকা ততই ছোট হয়ে যায়, যত বেশি মানুষকে স্বাগত জানায়। তারা মনে করে, এই দেশ শুধু নির্দিষ্ট উচ্চারণ, নির্দিষ্ট বর্ণ বা নির্দিষ্ট পরিচয়ের মানুষের জন্য।"
মামদানি আরও বলেন, মানুষের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা নতুন কিছু নয়। তিনি নাগরিকদের বিভেদের রাজনীতি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।
দেশপ্রেম প্রসঙ্গে নিউইয়র্কের মেয়র বলেন, প্রকৃত দেশপ্রেম মানে দেশের ত্রুটি অস্বীকার করা নয়। বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, ন্যায়বিচারের দাবি এবং দেশের উন্নতির জন্য কাজ করাই প্রকৃত দেশপ্রেমের পরিচয়।
এদিকে একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাউথ ডাকোটার মাউন্ট রাশমোরে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সেখানে আতশবাজি, সামরিক ব্যান্ড, বিমান প্রদর্শনী এবং সশস্ত্র বাহিনীর ছয়টি শাখাকে সম্মান জানিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই জাতীয় দিবসে ট্রাম্প ও মামদানির বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন, নাগরিকত্ব এবং জাতীয় পরিচয় নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে তুলনামূলক কম ভাড়ায় বাসা পাওয়ার নতুন সুযোগ এসেছে। জনপ্রিয় পার্ক স্লোপ এলাকার ৭৪ সেন্ট মার্কস প্লেসে নির্মিত ‘সোলেস’ নামের নতুন আবাসিক ভবনের ৬৩টি অ্যাপার্টমেন্টের জন্য আবাসন লটারি চালু হয়েছে। এক কক্ষের ছোট বাসা, এক শোবার ঘর ও দুই শোবার ঘরের অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে এই প্রকল্পে। মাসিক ভাড়া শুরু ৯৯২ ডলার থেকে। আবেদনের শেষ দিন ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬। নিউইয়র্ক সিটির আবাসন লটারির নিয়ম অনুযায়ী, শুধু কম আয়ের পরিবার নয়, মধ্যম এবং তুলনামূলক বেশি আয়ের পরিবারও এই প্রকল্পের বিভিন্ন শ্রেণিতে আবেদন করতে পারবেন। পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং মোট বার্ষিক আয়ের ওপর নির্ভর করবে কে কোন বাসার জন্য যোগ্য হবেন। এই প্রকল্পে বছরে ৩৮ হাজার ৯৪৯ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩৮ হাজার ১৬০ ডলার পর্যন্ত আয়কারীদের জন্য বিভিন্ন বাসা রাখা হয়েছে। ১২ তলা সোলেস ভবনটির নকশা করেছে আইএনসি আর্কিটেকচার অ্যান্ড ডিজাইন এবং এটি নির্মাণ করেছে অ্যাভডু অ্যান্ড পার্টনার্স। নিউইয়র্ক সিটির আবাসন সংযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে লটারিতে বাসাগুলো বরাদ্দ দেওয়া হবে। আবেদনকারীদের আয় সংশ্লিষ্ট এলাকার মধ্যম আয়ের ৪০ শতাংশ থেকে ১৩০ শতাংশের মধ্যে হতে হবে। ৪০ শতাংশ মধ্যম আয়ের শ্রেণিতে সবচেয়ে কম ভাড়ার বাসাগুলো রাখা হয়েছে। এখানে সাতটি ছোট এক কক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৯৯২ ডলার। এসব বাসার জন্য আবেদনকারীদের বার্ষিক আয় ৩৮ হাজার ৯৪৯ ডলার থেকে ৫৪ হাজার ২৮০ ডলারের মধ্যে হতে হবে। একই শ্রেণিতে রয়েছে ১৮টি দুই শোবার ঘরের অ্যাপার্টমেন্ট। এসব বাসার মাসিক ভাড়া ১ হাজার ২৩৮ ডলার। আবেদনকারীদের বার্ষিক আয় ৪৯ হাজার ৯৮৯ ডলার থেকে ৭৩ হাজার ২৮০ ডলারের মধ্যে থাকতে হবে। ৬০ শতাংশ মধ্যম আয়ের শ্রেণিতে তিনটি ছোট এক কক্ষের অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এগুলোর মাসিক ভাড়া ১ হাজার ৫৫৯ ডলার। যোগ্য আবেদনকারীদের বার্ষিক আয় হতে হবে ৫৮ হাজার ৩৮৯ ডলার থেকে ৮১ হাজার ৪২০ ডলারের মধ্যে। এই শ্রেণিতে সবচেয়ে বেশি বাসা রাখা হয়েছে দুই শোবার ঘরের। মোট ২২টি দুই শোবার ঘরের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ১ হাজার ৯৬৭ ডলার। এসব বাসার জন্য বার্ষিক আয় ৭৪ হাজার ৯৮৩ ডলার থেকে ১ লাখ ৯ হাজার ৯২০ ডলারের মধ্যে হতে হবে। তুলনামূলক বেশি আয়ের পরিবারগুলোর জন্যও লটারিতে বাসা রাখা হয়েছে। এলাকার মধ্যম আয়ের ১৩০ শতাংশ শ্রেণিতে পাঁচটি ছোট এক কক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৩ হাজার ৫৪৩ ডলার। আবেদনকারীদের বার্ষিক আয় ১ লাখ ২৬ হাজার ৪১২ ডলার থেকে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪১০ ডলারের মধ্যে হতে হবে। একই শ্রেণিতে দুটি এক শোবার ঘরের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৩ হাজার ৭৮৪ ডলার। এসব বাসার জন্য বার্ষিক আয় হতে হবে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৬০ ডলার থেকে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৫১০ ডলারের মধ্যে। এ ছাড়া ছয়টি দুই শোবার ঘরের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৪ হাজার ৫১৮ ডলার। এসব বাসার জন্য আবেদনকারীদের বার্ষিক আয় ১ লাখ ৬২ হাজার ৪৪৬ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩৮ হাজার ১৬০ ডলারের মধ্যে হতে হবে। তবে নির্ধারিত আয়সীমার মধ্যে থাকলেই বাসা পাওয়া নিশ্চিত নয়। পরিবারের সদস্যসংখ্যা, কোন ধরনের বাসার জন্য আবেদন করা হচ্ছে এবং সেই বাসার নির্ধারিত আয়ের সীমাসহ নিউইয়র্ক সিটির অন্যান্য যোগ্যতার শর্তও পূরণ করতে হবে। আবেদন গ্রহণের পর লটারির মাধ্যমে সম্ভাব্য আবেদনকারী নির্বাচন করা হয় এবং পরবর্তী ধাপে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আয়ের তথ্য যাচাই করা হয়। ব্রুকলিনের এই আবাসন প্রকল্পে আবেদন করতে আগ্রহীদের সময়সীমার বিষয়টি বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে। সোলেস ভবনের ৬৩টি অ্যাপার্টমেন্টের আবাসন লটারিতে আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
ট্রাম্প যেখানে, সেখানেই নাটালি হার্প, ‘সিক্রেট ফ্লাইটেও’ তাদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে নতুন কৌতূহল
ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত কলম্বিয়ায় ১০ স্কুল গড়বেন শাকিরা, করবেন মিলিয়ন ডলারের সহায়তা
১৭ হাজার ৫০০ ডলারে হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট, ডিমের মতো ফুলে গেল টিকটকারের মুখ
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারে। দেশজুড়ে ডিজেলের দাম গ্যালনপ্রতি প্রায় ৫.৪৬ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও আবার বাড়ছে, যা পরিবহন থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের দাম পর্যন্ত নতুন চাপ তৈরির আশঙ্কা বাড়িয়েছে। ১৮ আগস্টের শিপিং তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল এখন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অত্যন্ত সীমিত। সোমবার মাত্র ছয়টি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে কোনো বড় অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার বা এলএনজি ট্যাংকার ছিল না। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন এই পথ দিয়ে প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলাচল করত। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতার শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলবে না। তেহরানের দাবির মধ্যে রয়েছে মার্কিন নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ ছাড়ের মতো বিষয়। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার পরিকল্পনা করছে না। হরমুজ প্রণালী নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান পরস্পরবিরোধী অবস্থানে থাকায় জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের ওপরে উঠেছে। মঙ্গলবার ব্রেন্ট প্রায় ৯১ ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই প্রায় ৮৫ ডলারের আশপাশে লেনদেন হয়েছে। সবচেয়ে সরাসরি চাপ পড়ছে ডিজেলের বাজারে। যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাক, কৃষিযন্ত্র, নির্মাণকাজ এবং পণ্য পরিবহনে ব্যাপকভাবে ডিজেল ব্যবহৃত হয়। ফলে ডিজেলের দাম বাড়লে শুধু ট্রাকচালক বা পরিবহন কোম্পানির খরচই বাড়ে না, এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত গ্রোসারি, নির্মাণসামগ্রী এবং অন্যান্য পণ্যের দামেও পড়তে পারে। ডিজেল সরবরাহ নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি রাশিয়ার রিফাইনারিগুলোতেও সমস্যার কারণে বিশ্ববাজারে ডিজেলের সহজলভ্যতা কমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেলসহ ডিস্টিলেট ফুয়েলের মজুত বছরের এই সময়ের হিসাবে প্রায় তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। তবে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ নয়। সৌদি আরামকো সম্প্রতি প্রণালীর ভেতরের বন্দরগুলো থেকে আবার কিছু অপরিশোধিত তেল লোডিং শুরু করেছে। কয়েকটি বড় ট্যাংকারে লাখ লাখ ব্যারেল তেল তোলা হয়েছে। তারপরও সামগ্রিক জাহাজ চলাচল যুদ্ধের আগের স্বাভাবিক অবস্থার ধারেকাছেও ফেরেনি। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। পারস্য উপসাগরের তেল ও গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর বিপুল পরিমাণ জ্বালানি এই সরু জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। ফলে সেখানে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা তৈরি হলে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে তেল, ডিজেল এবং পণ্য পরিবহনের খরচে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
পৃথিবীর বাহিরে দূর গ্রহে পানির সন্ধান পাওয়া বিজ্ঞানী নিজ বাড়ির দরজায় গুলিতে নিহত
ফ্লক ক্যামেরায় স্ত্রীর গাড়ি ৭১৭ বার ট্র্যাক, এক মাসেই ২৮০ বার খুঁজেছেন পুলিশ কর্মকর্তা
হরমুজকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড’ দাবি করে ট্রাম্পের নতুন মানচিত্র, ইরানের পাল্টা শর্ত
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে ম্যাট্রেসের নিচে লুকিয়ে ছিলেন ২৪ বছর বয়সী এক যুবক। পুলিশ তাকে খুঁজে বের করার পর তিনি মাকে ডাকতে শুরু করেন। এরপর তার মা ঘরে ঢুকে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে পেছন থেকে ধরে ফেলেন এবং আরেক কর্মকর্তাকে ঘুষি মারার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেছে উইন্টার হ্যাভেন পুলিশ। ঘটনায় ছেলে ও মা দুজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উইন্টার হ্যাভেন পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার ৫ম স্ট্রিট এসই এলাকার একটি বাড়িতে সেগ্রে নোমব্রে নামের ওই যুবক অবস্থান করছেন বলে তথ্য পেয়ে কর্মকর্তারা সেখানে যান। তার বিরুদ্ধে ফেলনি ব্যাটারির একটি সক্রিয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নোমব্রের মা মিয়া জোনস প্রথমে কর্মকর্তাদের জানান, তার ছেলে বাড়িতে নেই। তবে তিনি বাড়িটি তল্লাশি করার অনুমতি দেন। একটি বেডরুমে মেঝেতে রাখা ম্যাট্রেসের মাঝখানে অস্বাভাবিকভাবে উঁচু অংশ দেখতে পান কর্মকর্তারা। ম্যাট্রেসটি তুলে তারা নোমব্রেকে নিচে লুকিয়ে থাকতে দেখেন। পুলিশ তাকে হাত দেখাতে নির্দেশ দিলে নোমব্রে মাকে ডাকতে শুরু করেন। এরপর জোনস দ্রুত ঘরে ঢুকে এক কর্মকর্তাকে পেছন থেকে ধরে ফেলেন বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে থাকা এক সার্জেন্ট তাকে সরিয়ে দিলে তিনি আবার কর্মকর্তাকে ধরার চেষ্টা করেন এবং সার্জেন্টকে ঘুষি মারার জন্য হাত চালান বলে পুলিশ জানিয়েছে। একপর্যায়ে সার্জেন্ট জোনসের ওপর টেজার ব্যবহার করেন। প্রথমবারেও তিনি প্রতিরোধ চালিয়ে যান বলে পুলিশের দাবি। দ্বিতীয়বার টেজার ব্যবহারের পর তিনি নিয়ন্ত্রণে আসেন। পরে চিকিৎসাগত পরীক্ষার জন্য তাকে উইন্টার হ্যাভেন হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, হাসপাতালে পরীক্ষা চলাকালে জোনসের শরীর থেকে মেথামফেটামিনসহ একটি স্বচ্ছ প্লাস্টিক ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে বাড়িতে পুলিশ পৌঁছানোর সময় রেইনালদো গার্সিয়া নামের আরেক ব্যক্তিকেও সেখানে পাওয়া যায়। তাকে ওই সম্পত্তি থেকে চলে যেতে বলা হয়। পরে তল্লাশিতে তার কাছ থেকে একটি কাচের পাইপ এবং মেথামফেটামিন বলে শনাক্ত হওয়া পদার্থসহ একটি ছোট ব্যাগ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সেগ্রে নোমব্রেকে তার আগের ফেলনি ব্যাটারি ওয়ারেন্টে পোলক কাউন্টি জেলে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে মেথামফেটামিন রাখা, সহিংসভাবে পুলিশকে বাধা দেওয়া, আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তার ওপর ব্যাটারি ও অ্যাসল্ট এবং ড্রাগ প্যারাফারনেলিয়া রাখার অভিযোগও আনা হয়েছে। রেইনালদো গার্সিয়ার বিরুদ্ধে মেথামফেটামিন রাখা, ড্রাগ প্যারাফারনেলিয়া রাখা এবং ট্রেসপাসিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। উইন্টার হ্যাভেন পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে গিয়েই ঘটনাটি ঘটে। ম্যাট্রেসের নিচে লুকিয়ে থাকা সন্দেহভাজনকে খুঁজে পাওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে হয়।
অসহায় শিক্ষার্থীদের অভাব মেটাতে রাতে ওয়ালমার্টে চাকরি, পুরো বেতন বিলিয়ে দিতেন স্কুলের প্রিন্সিপাল
চিপোটলে দিচ্ছে ১০ লাখ ডলারের বেশি ফ্রি খাবার!আগামী তিন দিন যেভাবে পাবেন সুযোগ