যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের দিন নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স বরোর সাউথ ওজোন পার্ক এলাকায় ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক পারিবারিক হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ৫৯ বছর বয়সী এক নারীকে নিজ বাড়িতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তারই ৩০ বছর বয়সী মেয়ের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত পলাতক রয়েছে এবং তাকে ধরতে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে নিউইয়র্ক পুলিশ (NYPD)।
পুলিশ জানায়, শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সাউথ ওজোন পার্কের ১২৮তম স্ট্রিট ও লিবার্টি অ্যাভিনিউ সংলগ্ন একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নারীর নাম আউশা রামলাখান (Ausha Ramlakhan)। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ঘাড় ও কাঁধে একাধিক আঘাত করা হয়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পরে পরিবারের আরেক সদস্য বাড়িতে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই নারীর মরদেহ দেখতে পান। তিনি সঙ্গে সঙ্গে জরুরি নম্বরে ফোন করলে পুলিশ ও চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর অভিযুক্ত ৩০ বছর বয়সী মেয়ে হেঁটে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, সর্বশেষ তাকে নীল রঙের যোগা প্যান্ট, লাল ট্যাংক টপ এবং সাদা রঙের স্নিকার্স পরিহিত অবস্থায় দেখা গেছে। সন্দেহভাজনের ছবি ও পরিচয় নিশ্চিত করতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তদন্তকারীরা পারিবারিক বিরোধ, মানসিক অবস্থা বা অন্য কোনো কারণ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনাটি চলতি বছরে নিউইয়র্কের ১০৬তম প্রিসিঙ্কটে নথিভুক্ত প্রথম হত্যাকাণ্ড। একই সঙ্গে ওই এলাকায় চলতি বছরে গুরুতর অপরাধের সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৭ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে ডাকাতি, গুরুতর হামলা এবং চুরির ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। নিউইয়র্ক পুলিশ জনসাধারণের কাছে তথ্য থাকলে তা জানাতে আহ্বান জানিয়েছে এবং সন্দেহভাজনকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর উত্তর লেকফ্রন্ট এলাকায় চলন্ত বাসের ভেতর একদল নারীর সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে এক ব্যক্তি ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন। গত ৪ জুলাই (শনিবার) রাতে শিকাগো ট্রানজিট অথরিটি (সিটিএ)-র একটি বাসে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, শনিবার রাত আনুমানিক ১১টা ১৮ মিনিটে এজওয়াটার এবং আপটাউন এলাকার সংযোগস্থল মেরিন ড্রাইভের কাছে ফস্টার এভিনিউতে বাসটি চলার সময় এই ঘটনা ঘটে। বাসের ভেতরে ৩৪ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির সাথে তিন নারীর তীব্র তর্কাতর্কি ও মারামারি শুরু হয়। একপর্যায়ে ওই নারীদের মধ্যে একজন ধারালো বস্তু বের করে ওই ব্যক্তির ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ওই ব্যক্তির কান ও বুক কেটে যায়। ঘটনার পরপরই আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে অ্যাডভোকেট ইলিনয় ম্যাসনিক মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কামুক্ত রয়েছে। এদিকে ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত তিন নারী বাস থেকে নেমে ফস্টার এভিনিউ ধরে পশ্চিম দিকে পালিয়ে যায়। রবিবার সকাল পর্যন্ত এই ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। শিকাগোর বেলমন্ট এরিয়া ডিটেকটিভরা বাসের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান সংগ্রহ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
স্বাধীনতা দিবসের আনন্দঘন উদযাপন মুহূর্তেই আতঙ্কে পরিণত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের কনি আইল্যান্ডে। শনিবার রাত স্থানীয় সময় প্রায় ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে আতশবাজি প্রদর্শন চলাকালে হঠাৎ গুলির শব্দে চারদিকে ছুটোছুটি শুরু হয়। এ ঘটনায় অন্তত আটজন গুলিবিদ্ধ হন, যাদের মধ্যে চারজনই শিশু। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (NYPD) জানিয়েছে, আহত শিশুদের বয়স ৬ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে। এছাড়া আহতদের মধ্যে ২১, ২৫, ৩৩ ও ৩৭ বছর বয়সী চারজন প্রাপ্তবয়স্ক রয়েছেন। তাদের সবাইকে দ্রুত আশপাশের হাসপাতালে নেওয়া হয়। আহত ২১ বছর বয়সী এক নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক, তবে অন্যদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আতশবাজি উপভোগ করতে হাজারো মানুষ সৈকতসংলগ্ন এলাকায় জড়ো হয়েছিলেন। হঠাৎ একের পর এক গুলির শব্দ শোনা গেলে মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করে। অনেক অভিভাবক শিশুদের কোলে নিয়ে নিরাপদ স্থানে ছুটে যান। ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ ও জরুরি সেবাকর্মীরা পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। তবে হামলাকারীর পরিচয়, কতজন জড়িত ছিল কিংবা হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল—এসব বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হলেও জনসমাগমে এ ধরনের গুলির ঘটনা আবারও দেশটির জননিরাপত্তা ও অস্ত্র সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের গেইনসভিল শহরে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি জনসমাগমপূর্ণ কনসার্ট শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পরই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে একজন নিহত এবং অন্তত একজন আহত হয়েছেন। আকস্মিক এই ঘটনায় উৎসবমুখর পরিবেশ মুহূর্তেই আতঙ্কে পরিণত হয়। উপস্থিত লোকজন প্রাণ বাঁচাতে চারদিকে ছুটে পালান। স্থানীয় পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতের অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর শহরের মিডল্যান্ড গ্রিনওয়ে এলাকার কাছে হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা যায়। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুলিবিদ্ধ দুইজনকে উদ্ধার করেন। দুইজনকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর আহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। পুলিশ এখনো নিহত ও আহত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেনি। এছাড়া হামলার সঙ্গে জড়িত কোনো সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। প্রাথমিক তদন্তে গুলির ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল ঘিরে আলামত সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। গেইনসভিল পুলিশ সাধারণ মানুষের কাছে আহ্বান জানিয়েছে, ঘটনার সময় কেউ যদি কোনো ভিডিও ধারণ করে থাকেন বা সন্দেহজনক কিছু দেখে থাকেন, তাহলে তদন্তে সহায়তার জন্য তা পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, হামলার পেছনের উদ্দেশ্য এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গুলিবর্ষণের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।