ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামিনি এর রাষ্ট্রীয় জানাজাকে কেন্দ্র করে রাজধানী তেহরানে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি সূত্রের দাবি অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৭০টি দেশের প্রতিনিধি, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কূটনীতিক, ধর্মীয় নেতা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা শোকানুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। কয়েক দিনব্যাপী এই রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানকে ইরান শুধু ধর্মীয় আয়োজন হিসেবেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উপস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শন হিসেবেও তুলে ধরছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, তেহরানের প্রধান শোকানুষ্ঠানে ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক, সামরিক ও ধর্মীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরাও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ভারতসহ একাধিক দেশ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠিয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণ এবং আশপাশের সড়কে লাখো মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া জনতা ইরানের জাতীয় পতাকা, কালো শোকপতাকা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতীক বহন করেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং আকাশপথেও বিশেষ নজরদারি চালানো হয়।
এদিকে জানাজা উপলক্ষে ইরানের নতুন নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিশেষ সুবিধা ও ছাড় দেওয়া হবে। এই নীতির আওতায় নির্দিষ্ট দেশগুলোর জাহাজকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। তবে কোন কোন দেশ এই সুবিধা পাবে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্বের সমুদ্রপথে জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই নৌপথে নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর জন্য বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা ইরানের কৌশলগত অবস্থানেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
জানাজা উপলক্ষে ইরানের সরকার কয়েক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। রাজধানী তেহরানের বহু সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া শোকানুষ্ঠান চলাকালে কয়েকটি এলাকায় যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে আকাশসীমার ওপরও অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বিদেশি প্রতিনিধিদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী। বিমানবন্দর থেকে অনুষ্ঠানস্থল পর্যন্ত বিশেষ নিরাপত্তা করিডোর তৈরি করা হয়েছে। বিদেশি প্রতিনিধিদের যাতায়াত এবং অবস্থানের জন্যও পৃথক নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
ইরানের সরকার জানিয়েছে, প্রয়াত নেতার মরদেহ তেহরানের আনুষ্ঠানিক জানাজার পর দেশের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় শহরে নেওয়া হবে। এরপর তার নিজ শহর মাশহাদে দাফন সম্পন্ন হবে। এ উপলক্ষে দেশজুড়ে আরও কয়েক দিন শোকানুষ্ঠান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্নে তারা কোনো আপস করবে না। একই সঙ্গে জানাজা চলাকালে কিংবা শোকপর্বে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে তেহরান।
এই রাষ্ট্রীয় জানাজা শুধু একজন নেতার বিদায় অনুষ্ঠান নয়; বরং ইরানের অভ্যন্তরীণ ঐক্য, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নতুন বার্তা তুলে ধরারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বহু দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি এবং একই সময়ে হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন নীতিগত ঘোষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে ইরানের দাবি অনুযায়ী ৭০টি দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন এবং হরমুজে বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর জন্য ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে—এ ধরনের তথ্য রাষ্ট্রীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশিত হলেও, সব দেশের পূর্ণাঙ্গ তালিকা বা ছাড়ের বিস্তারিত নীতিমালা এখনও স্বাধীনভাবে প্রকাশ বা যাচাই করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
রাশিয়া যেকোনো সময় মরিয়া হয়ে ন্যাটোর শক্তি পরীক্ষা করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে বাল্টিক সাগরে অবস্থিত নিজেদের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গোটল্যান্ড দ্বীপে ব্যাপক সামরিক ও বেসামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে সুইডেন। পুতিনের সম্ভাব্য আকস্মিক হামলা প্রতিহত করতে এই দ্বীপে শত শত তরুণ-তরুণীকে বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। মাত্র ১৯ বছর বয়সী তরুণী এলা আদমানসহ অনেক নতুন রিক্রুট এখন সেখানে দিনরাত কঠোর প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। সুইডিশ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাশিয়ার সামরিক ছিটমহল কালিনিনগ্রাদ থেকে মাত্র ২৭৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই দ্বীপটির ওপর আকস্মিক আকাশ বা নৌ হামলা হতে পারে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, গোটল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ যার হাতে থাকবে, সে পুরো বাল্টিক সাগরের আকাশ ও নৌপথের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে। ২০০৫ সালে এই দ্বীপ থেকে সামরিক রেজিমেন্ট পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তবে ক্রাইমিয়া ও ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের পর ২০১৮ সাল থেকে এখানে নজিরবিহীন গতিতে পুনরায় সামরিক ঘাঁটি পুনর্নির্মাণ শুরু হয়। গোটল্যান্ডের সামরিক প্রধান কর্নেল আন্দ্রেয়াস গুস্তাফসন জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউরোপের সব দেশ সামরিক সরঞ্জাম কিনতে শুরু করায় ভারী অস্ত্র বা কামান পেতে কিছুটা সময় লাগছে। তবে যেকোনো মূল্যে গোটল্যান্ডকে রক্ষা করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইউক্রেনের সাথে কোনো যুদ্ধবিরতি বা শান্তি চুক্তি হলে রাশিয়া দ্রুত তাদের সেনাদের ফিনল্যান্ড বা বাল্টিক দেশগুলোর দিকে নিয়োজিত করতে পারে। তাই তারা কোনো ঝুঁকি নিতে চান না। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সামরিক শক্তির পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকদেরও স্বনির্ভর করার জন্য 'স্টার্ক সকেন' নামক একটি বিশেষ সামাজিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও চিকিৎসকেরা নিজেদের উদ্যোগে বিদ্যুৎ, পানি ও যোগাযোগের বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করছেন। কোনো কারণে দ্বীপটি মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও যেন সাধারণ মানুষ অন্তত দুই সপ্তাহ স্বনির্ভর থাকতে পারে, সেই পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সুইডেনের সিভিল ডিফেন্স এজেন্সির ডিরেক্টর জেনারেল মিকেল ফ্রিসেল জানান, গোটল্যান্ডকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত করতে একটি শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতির পাশাপাশি একটি স্থিতিস্থাপক বেসামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। এই দ্বীপের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা সফল হলে তা পুরো ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় অবদান রাখবে। এই বছরই দ্বীপে একটি জরুরি বেসামরিক স্থানান্তর মহড়াও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতের্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিশংসন (ইমপিচমেন্ট) মামলার বিচার সোমবার (৬ জুলাই) দেশটির সিনেটে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বহুল আলোচিত এই বিচারকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিচারকে ঘিরে রাজধানী ম্যানিলায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সিনেট প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সিনেটের ইমপিচমেন্ট আদালত সারা দুতের্তেকে বিচার শুরুর দিন ব্যক্তিগতভাবে অথবা তার আইনজীবীর মাধ্যমে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। উদ্বোধনী অধিবেশনে অভিযোগপত্র উপস্থাপন, প্রাথমিক শুনানি এবং পরবর্তী বিচার কার্যক্রমের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। আদালত উভয় পক্ষের প্রস্তুতি শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণের পর্যায়েও অগ্রসর হবে। সারা দুতের্তের বিরুদ্ধে সরকারি গোপন তহবিলের অপব্যবহার, অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জন এবং প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র, ফার্স্ট লেডি ও সাবেক এক স্পিকারের বিরুদ্ধে হুমকিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তিনি শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার লক্ষ্যেই এই ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ফিলিপাইনের সংবিধান অনুযায়ী, সিনেটে উপস্থিত সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে দোষী সাব্যস্ত হলে সারা দুতের্তে ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ হারাবেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো সরকারি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অযোগ্য ঘোষিত হতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বিচার কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ফিলিপাইনের নিরাপত্তা বাহিনী বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় হাজার হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে আদালতের কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালিত হয় এবং সম্ভাব্য বিক্ষোভ বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এই বিচার ফিলিপাইনের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশটির জনগণ, রাজনৈতিক মহল এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এখন সিনেটে চলতে যাওয়া এই ইমপিচমেন্ট বিচার প্রক্রিয়ার দিকে, যার ফলাফল দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের চরম বিপর্যয়ের পর দলে আছড়ে পড়েছে ভাঙনের প্রবল সুনামি। দলের অধিকাংশ বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আলাদা দল গঠন করেছেন এবং লোকসভা সাংসদদের একটি বড় অংশ তৃতীয় ব্লক তৈরি করে ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস’-এর দাবি তুলেছেন। এমন নজিরবিহীন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়েও নিজের অনমনীয় মনোভাব বজায় রেখেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক বিরোধীদের দিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁকে থামাতে হলে বিরোধীদের তাঁকে হত্যা করতে হবে। তৃণমূলের দলীয় প্রতীক তাঁর এবং তাঁর অনুগত শিবিরের কাছেই থাকবে বলে জোর দাবি করে মমতা দলত্যাগীদের 'বিশ্বাসঘাতক' আখ্যা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, দলের প্রতীক কোথাও যাচ্ছে না এবং এটি পেতে হলে বিদ্রোহীদের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে। শনিবার তৃণমূল শিবিরে আরও একটি বড় ধাক্কা লাগে, যখন দলের রাজ্য সভাপতি ও মমতার অন্যতম শীর্ষ অনুগত নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য পদত্যাগ করেন। গত শুক্রবার তৃণমূলের মূল কার্যালয় দখল করে নেওয়া ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরেই পরবর্তীতে চন্দ্রিমাকে দেখা যায়। চন্দ্রিমার পদত্যাগ প্রসঙ্গে মমতা জানান, ছেলে আগেই তৃণমূল বিরোধী শিবিরে যোগ দেওয়ায় চন্দ্রিমা তাঁকে বাস্তব পরিস্থিতি এবং পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা আগেই জানিয়েছিলেন। তবে বিদ্রোহীদের তরফ থেকে আসা কোনো উপদেষ্টা পদের প্রস্তাব তিনি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি কখনোই তাদের সাথে হাত মেলাবেন না। দলের কার্যালয় দখলের এবং তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে মমতা মনে করিয়ে দেন, ওই অফিসটি ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তাঁদের লিজ নেওয়া রয়েছে। কোনো ব্যক্তি দল ছাড়লেই দলের প্রতিষ্ঠানটি বিলুপ্ত হয়ে যায় না। এটি দলের সম্পত্তি এবং ‘মা, মাটি, মানুষ’-এর এই অধিকার কেউ জোর করে দখল করতে পারে না। ২০১১ সালে দীর্ঘ বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন দলত্যাগীদের আদর্শগত অবস্থান নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, মূলত বিজেপির চাপের মুখেই বিদ্রোহীরা দল ছেড়েছেন, কিন্তু তিনি বা তাঁর দল কখনোই এমন চাপের কাছে মাথা নত করবেন না। তৃণমূলের আদর্শ সম্পূর্ণ বিজেপি-বিরোধী—এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি ক্ষোভের সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি নিজেই যাঁদের মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন, মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে তাঁরা কীভাবে এমন বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারেন! তিনি আরও বলেন, এখন যারা বিজেপির সাথে আছেন, তৃণমূলের বিজেপি-বিরোধী আদর্শের কারণে তাদের সাথে এভাবে চলতে পারে না। দলের এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের বিদায়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, তিনি নিজেই এখন জাতীয় ও রাজ্য স্তরে দলের সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। এখন থেকে তাঁর কালীঘাটের বাসভবনে অবস্থিত কার্যালয়টিই তৃণমূলের মূল কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হবে। উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর থেকেই মমতার নেতৃত্ব এবং তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে দলে এই ভাঙন শুরু হয়। ইতোমধ্যেই ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ক এবং ২০ জনেরও বেশি লোকসভা সাংসদ মমতার নেতৃত্বাধীন দল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। দলত্যাগ প্রসঙ্গে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, মমতার প্রতি তাঁর সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা থাকলেও দলে পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থার অভাবেই তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।