অর্থনীতি

মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধ শেষ করতে প্রস্তুত, তবে চায় ভবিষ্যতের হামলার বিরুদ্ধে নিশ্চয়তা

ইরান চলমান সংঘাতের অবসানে সদিচ্ছা দেখাচ্ছে, তবে ভবিষ্যতে একই ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি না হওয়া নিশ্চিত করতে চায়। এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।   আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেজেশকিয়ান ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা-র সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে বলেন, “সংঘাতের অবসান ঘটাতে আমাদের প্রয়োজনীয় সদিচ্ছা রয়েছে। তবে স্থায়ী সমঝোতার জন্য অপরিহার্য শর্ত পূরণ হতে হবে, বিশেষ করে ভবিষ্যতে আগ্রাসন যেন পুনরায় না ঘটে, সেই নিশ্চয়তা থাকতে হবে।”   ইরান দীর্ঘদিন ধরে জানিয়েছে, কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া তারা কোনো সমঝোতায় যেতে আগ্রহী নয়। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা তাদের জন্য প্রধান শর্ত।   ইরানের যুদ্ধ শেষের সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়ার পরই বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মার্কিন শেয়ারবাজারে ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ সূচক ২.১ শতাংশ বেড়ে ৪৯,১৬৪.৫৫ পয়েন্টে উঠেছে। একই সময়ে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ২.৫ শতাংশ বেড়ে ৬,৫০৩.০৮ পয়েন্টে পৌঁছেছে। নাসডাক কম্পোজিট সূচক প্রযুক্তি খাতের নেতৃত্বে ৩.৬ শতাংশ উত্থান দেখিয়ে ২১,৫৩৩.১৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। সংগৃহীত ছবি
‘অন্তর্বর্তী সরকারের গোপন চুক্তির কারণে রাশিয়ার তেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি নিতে হচ্ছে’—ড. দেবপ্রিয়

অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে করা এক গোপন চুক্তির কারণে রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্র-এর অনুমতি নিতে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) কার্যালয়ে আয়োজিত ‘নতুন সরকারের প্রথম বাজেট নিয়ে ভাবনা’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। সংলাপটির আয়োজন করে সিটিজেনস প্ল্যাটফর্ম ফর এসডিজিস, বাংলাদেশ।   ড. দেবপ্রিয় বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট এমন এক নীতিগত পরিবেশে তৈরি হয়েছে, যেখানে সরকারের কার্যকর প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা সীমিত। তার ভাষায়, বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তির কিছু ধারা—বিশেষ করে ‘নন-মার্কেট কান্ট্রি’ সম্পর্কিত বিধান—বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি কৌশলকে সংকুচিত করছে।   তিনি জানান, তুলনামূলক কম দামের উৎস থেকে তেল আমদানি, যেমন রাশিয়া, এখন আর সহজ নয়। এসব ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক ছাড় প্রয়োজন হচ্ছে, যা বৈশ্বিক বাজারের অস্থির সময়ে বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতে, জ্বালানি সংকট এখন দেশের রাজস্বনীতি, বৈদেশিক লেনদেন ও মুদ্রানীতিতে একযোগে চাপ সৃষ্টি করছে। বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-এর সংস্কার শর্তের মধ্যে একটি অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে।তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণের শর্ত পূরণ এবং একই সঙ্গে বড় অঙ্কের ভর্তুকি বজায় রাখা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।   জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে বছরে প্রায় ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত আমদানি ব্যয় হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১ দশমিক ১ শতাংশের সমান। এতে চলতি হিসাবের ঘাটতি বাড়ার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে এবং টাকার অবমূল্যায়নের ঝুঁকি বাড়তে পারে।   তিনি আরও বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে, কারণ বাংলাদেশের মোট রেমিট্যান্সের বড় একটি অংশ ওই অঞ্চল থেকেই আসে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারকে কঠিন নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে উল্লেখ করে ড. দেবপ্রিয় বলেন, রাজস্ব সুরক্ষায় জ্বালানি কর কাঠামো বজায় রাখা হবে, নাকি ভোক্তাদের চাপ কমাতে তা হ্রাস করা হবে—এই দ্বিধায় রয়েছে সরকার।   এদিকে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-এর প্রায় ৫৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকার আর্থিক ঘাটতি মোকাবিলায় কিছু ক্ষেত্রে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের পুরো প্রভাব অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রয়োগ করা হলে উচ্চ মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।   ড. দেবপ্রিয় আরও বলেন, জ্বালানি খাতে অনিশ্চয়তা ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ কমে বর্তমানে জিডিপির প্রায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।   পরিশেষে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এমন নীতিগত পদক্ষেপ প্রয়োজন, যাতে রাজস্ব শৃঙ্খলা, বৈদেশিক স্থিতিশীলতা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে। অন্যথায় এই সংকট বড় ধরনের সামষ্টিক অর্থনৈতিক অস্থিরতায় রূপ নিতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের প্রভাব মার্কিন চাকরির বাজারে, বাড়ছে অনিশ্চয়তা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র-এর শ্রমবাজারে। এক বছরের স্থবিরতার পর বাজারে যে সামান্য স্থিতিশীলতার আশা দেখা যাচ্ছিল, নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাত তা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।   ইরান ও ইসরায়েল-সংক্রান্ত উত্তেজনার জেরে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি-তে সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে, যা জ্বালানি ব্যয় বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা জোরদার করেছে।   অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের দাম দীর্ঘ সময় ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে থাকলে তা বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে। এতে ব্যবসা ও বিনিয়োগে ধীরগতি আসার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে কর্মী ছাঁটাই শুরু করতে পারে।   বর্তমানে শ্রমবাজারে একটি ‘অপেক্ষমাণ’ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিয়োগ কম হলেও বড় আকারে ছাঁটাইও দেখা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনিশ্চয়তার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন নিয়োগ পরিকল্পনা স্থগিত রাখছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, বছরের প্রথমার্ধে চাকরি বৃদ্ধির হার সীমিত থাকবে এবং বেকারত্ব ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মন্দার ঝুঁকিও প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে মাত্র ১ লাখ ১৬ হাজার, যা সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। যদিও মূল্যস্ফীতি হ্রাস, সুদের হার কমানো এবং নতুন করনীতির কারণে চলতি বছরে শ্রমবাজারে উন্নতির আশা তৈরি হয়েছিল।   তবে নতুন সংঘাত সেই সম্ভাবনাকে দুর্বল করে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার ‘স্থিতিশীল হলেও স্থবির’ অবস্থায় রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
ছবি: আমেরিকা বাংলা
১০ বছরে বাণিজ্যের আড়ালে বাংলাদেশ থেকে পাচার ৬৮ বিলিয়ন ডলার

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে গত এক দশকে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের তথ্য উঠে এসেছে এক গবেষণায়। ২০১৩ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময়ে প্রায় ৬৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন (৬ হাজার ৮৩০ কোটি) ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়েছে বলে জানিয়েছে গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই)।   বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) প্রকাশিত সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, আমদানি ও রপ্তানিতে পণ্যের মূল্য বা পরিমাণে অসত্য তথ্য দেওয়ার মাধ্যমে যা ‘ট্রেড মিস-ইনভয়েসিং’ নামে পরিচিত এই অর্থ পাচার করা হয়েছে।   প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কর ফাঁকি, মুনাফা স্থানান্তর এবং বিদেশে পুঁজি সরানোর উদ্দেশ্যে আমদানিতে অতিরিক্ত মূল্য দেখানো (ওভার ইনভয়েসিং) এবং রপ্তানিতে কম মূল্য দেখানোর (আন্ডার ইনভয়েসিং) মাধ্যমে এই কারসাজি করা হয়।   জিএফআই-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য মূল্যের গরমিলের দিক থেকে শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ।   বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, পাচার হওয়া অর্থের বড় একটি অংশ উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের সময় ঘটেছে। মোট অর্থের মধ্যে প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রে গরমিলের মাধ্যমে সরানো হয়েছে।   প্রতিবেদনটি বলছে, বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্প ও আমদানিনির্ভর খাতগুলোতে এ ধরনের অনিয়ম বেশি দেখা যায়। ফলে এই প্রবণতা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে তুলনা করলে দেখা যায়, একই সময়ে ভারত থেকে বাণিজ্যের আড়ালে প্রায় ১ দশমিক ০৬ ট্রিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যা অঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কায় প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের গরমিল ধরা পড়েছে।   পুরো এশিয়া অঞ্চলের চিত্র তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু ২০২২ সালেই উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে বাণিজ্যের আড়ালে প্রায় ১৬৯ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে।   গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে, এই প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরে চলমান এবং তা কমানোর সুস্পষ্ট কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। ফলে কার্যকর নীতি ও কঠোর নজরদারি ছাড়া এই আর্থিক অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
পত্রিকা
পত্রিকা: ‘জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় আত্মবিশ্বাসী সরকার, মাঠের পরিস্থিতি ভিন্ন’

ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার আজকের শিরোনামগুলোতে উঠে এসেছে রাজনৈতিক জবাবদিহি, জ্বালানি সংকট, মানবিক বিপর্যয়, স্বাস্থ্যসেবার অব্যবস্থাপনা এবং অর্থনৈতিক অনিয়মের চিত্র। নিচে আজকের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পত্রিকার প্রধান সংবাদ বিস্তারিত তুলে ধরা হলো-   বণিক বার্তা: ‘জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় আত্মবিশ্বাসী সরকার, মাঠের পরিস্থিতি ভিন্ন’   মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   সরকার স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে এলএনজি আমদানি করছে এবং এপ্রিল মাসের জন্য প্রয়োজনীয় কার্গো সংগ্রহের চেষ্টা করছে।   তবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে, আমদানিনির্ভরতার কারণে বাংলাদেশ জ্বালানি খাতে বড় ঝুঁকির মুখে রয়েছে। যুগান্তর: ‘বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক: একাধিক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী জবাবদিহির মুখে’   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার গঠনের এক মাসের মাথায়ই বিএনপির একাধিক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে জবাবদিহির মুখে পড়তে হয়েছে। শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের বৈঠকে তাদের কাছে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।   প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অন্তত ছয়জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর কাছে তাদের দায়িত্ব পালনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়।   বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, সরবরাহ ঘাটতি এবং তা মোকাবিলার পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনায় প্রাণহানি নিয়েও সড়ক ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।   পররাষ্ট্র খাত নিয়েও আলোচনা হয়, যেখানে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়। বৈঠকে মন্ত্রীদের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।   মানবজমিন: ‘পুরনো পোশাকই ফিরছে পুলিশে’ ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর পরিবর্তন আনা পুলিশের পোশাক আবারও পরিবর্তনের পথে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নির্ধারিত আয়রন গ্রে রঙের পোশাক নিয়ে বাহিনীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।   উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যন্ত অনেকেই নতুন পোশাকের রং ও মান নিয়ে আপত্তি জানান। এ নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ–এর সদস্যদের মধ্যে জরিপ চালানো হয়।   জরিপের ভিত্তিতে আবার আগের গাঢ় নীল রঙ এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় হালকা সবুজ রঙের পোশাক ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   সমকাল: ‘ইউরোপে যাওয়ার পথে সাগরে সুনামগঞ্জের ১০ জনের মৃত্যু’ উত্তর আফ্রিকার লিবিয়া থেকে সাগরপথে ইউরোপে যাওয়ার পথে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে অন্তত ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে সুনামগঞ্জের ১০ জন রয়েছেন।   স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে অসুস্থ হয়ে পড়েন যাত্রীরা। পরে অনেকেই মারা যান এবং পাচারকারীরা মৃতদেহ সাগরে ফেলে দেয়।   নিহতদের মধ্যে দিরাই, দোয়ারাবাজার ও জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দারা রয়েছেন।   কালের কণ্ঠ: ‘রামেক হাসপাতালে আইসিইউ অব্যবস্থাপনা: ১৮ দিনে ৫১ শিশুর মৃত্যু’ রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ সংকটের কারণে ১৮ দিনে ৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   এই শিশুরা সবাই আইসিইউ শয্যার অপেক্ষমাণ তালিকায় ছিল। চিকিৎসকরা জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউতে নেওয়ার সুপারিশ করলেও শয্যার অভাবে তা সম্ভব হয়নি।   অধিকাংশ শিশু সাধারণ ওয়ার্ডেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়, যা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।   প্রথম আলো: ‘ঋণখেলাপি ছিলেন, এখন সংসদে’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঋণখেলাপি থাকা সত্ত্বেও অনেকে এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য হয়েছেন।   আইন অনুযায়ী ঋণখেলাপিদের প্রার্থী হওয়ার কথা না থাকলেও, আদালতের স্থগিতাদেশ ও ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ নিয়ে অনেকেই নির্বাচনে অংশ নেন।   নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে অনেকেই ঋণ সমস্যার সমাধান করে ফেলেন, যা আইন প্রয়োগের দুর্বলতা নির্দেশ করে।   নিউ এইজ: ‘পেট্রল পাম্পে ট্যাগ অফিসার, ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন’ জ্বালানি তেল মজুত ঠেকাতে সরকার পেট্রল পাম্পে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ এবং ডিপোগুলোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   দেশজুড়ে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় নজরদারি বাড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরসহ সারাদেশে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হবে।   দ্য ডেইলি স্টার: ‘ভুল চালানে ১০ বছরে বাংলাদেশের ক্ষতি ৬৮ বিলিয়ন ডলার’ ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থা গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ভুল চালান বা মিসইনভয়েসিংয়ের কারণে বাংলাদেশ প্রায় ৬৮ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছে।   প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৬.৮ বিলিয়ন ডলার এভাবে দেশ থেকে বেরিয়ে গেছে, যা মোট বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য অংশ।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রবণতা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে ধস: এক মাসেই কমল ২৫ শতাংশ

বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অস্থিরতার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে চলতি বছরের শুরুতেই বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। সবশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জানুয়ারি মাসে ইইউভুক্ত দেশগুলোয় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ২৫ দশমিক ২৫ শতাংশ। ইউরোস্ট্যাটসের সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত বছরের জানুয়ারিতে যেখানে বাংলাদেশ ১৯১ কোটি ইউরোর পোশাক রপ্তানি করেছিল, এ বছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৪৩ কোটি ইউরোতে। শুধু আর্থিক মূল্যেই নয়, রপ্তানি করা পোশাকের পরিমাণের দিক থেকেও ধস নেমেছে প্রায় সাড়ে ১৭ শতাংশ। সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো, এ সময়ে প্রতি কেজি পোশাকের গড় দাম কমেছে ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ। ইউরোপের বাজারে পোশাক আমদানির সামগ্রিক চিত্রই এখন নিম্নমুখী। গত বছরের তুলনায় ইইউর মোট আমদানি কমেছে ১৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে: চীন: শীর্ষস্থানে থাকলেও তাদের রপ্তানি কমেছে ৬ দশমিক ৯০ শতাংশ। তুরস্ক: তৃতীয় অবস্থানে থাকা দেশটির রপ্তানি কমেছে ২৯ শতাংশ। ভারত ও ভিয়েতনাম: এই দুই দেশের রপ্তানি কমেছে যথাক্রমে ১৫ শতাংশ ও ৭ শতাংশ। তবে ভিয়েতনাম ও ভারতের মতো প্রতিযোগী দেশগুলো তাদের পণ্যের দাম কিছুটা বাড়াতে পারলেও, বাংলাদেশের পণ্যের দাম উল্টো কমেছে, যা পোশাক শিল্প মালিকদের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত

বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহত করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। জরুরি চাহিদা মেটাতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে মোট ৩ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি। বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির এক ভার্চুয়াল সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জানানো হয়, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনার ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতায় দেশে যেন জ্বালানি সংকট তৈরি না হয়, সেজন্য এই আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এই ডিজেল সংগ্রহ করবে। এর মধ্যে 'এপি এনার্জি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড' থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন এবং 'সুপারস্টার ইন্টারন্যাশনাল (গ্রুপ) লিমিটেড' থেকে ২ লাখ মেট্রিক টন উন্নত মানের ডিজেল আমদানি করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈশ্বিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এই আমদানির মূল লক্ষ্য।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত: ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে বড় ধসের আশঙ্কা

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ইউরোপ এবং যুক্তরাজ্যের ব্যবসা-বাণিজ্যে মারাত্মক ধস নামতে শুরু করেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত 'পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স' বা পিএমআই-এর জরিপ থেকে এই উদ্বেগের চিত্র সামনে এসেছে।  তথ্যমতে, যুদ্ধের কারণে উৎপাদন খরচ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং ব্যবসায়িক আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়ায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থমকে গেছে। এসএন্ডপি গ্লোবালের প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্রিস উইলিয়ামসন জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা গত মার্চ মাসে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। এতে একদিকে যেমন উৎপাদন থমকে গেছে, অন্যদিকে মুদ্রাস্ফীতি লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যা যুদ্ধের স্থায়িত্বের ওপর নির্ভর করে আরও ভয়াবহ হতে পারে। একই চিত্র দেখা গেছে ইউরোজোনের ২১টি দেশেও। জ্বালানির আকাশচুম্বী দাম এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বিগত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বাড়ছে উৎপাদন খরচ। অর্থনীতিবিদরা একে ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ বা স্থবির মুদ্রাস্ফীতির সংকেত হিসেবে দেখছেন, যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থেমে থাকলেও নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকে।  ফলে সাধারণ মানুষের আয় না বাড়লেও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে কয়েক গুণ। যদিও বর্তমান সূচক এখনো পতনের একদম শেষ সীমানায় পৌঁছায়নি, তবে গত কয়েক মাসের তুলনায় এটি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য এক অশনিসংকেত।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
অর্থমন্ত্রী ড. আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারেই ফিরবে অর্থনৈতিক স্বস্তি: বাজেটে বড় পরিবর্তনের আভাস অর্থমন্ত্রীর

দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করতে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী ড. আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিগত সরকারগুলোর রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে বড় ধরনের সংস্কার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে, যার প্রতিফলন দেখা যাবে আগামী বাজেটে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) আইএমএফ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। এর আগে আইএমএফ-এর এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। অর্থমন্ত্রী জানান, ব্যাংকিং খাত, শেয়ার বাজার এবং ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাতের বর্তমান শোচনীয় অবস্থা থেকে উত্তরণে একের পর এক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করা এবং উৎপাদন খরচ কমানোর ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে সরকার। এছাড়া থমকে যাওয়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে পুনরায় সচল করতে বাজেটে বিশেষ দিকনির্দেশনা থাকবে। ঋণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে ড. আমির খসরু বলেন, আইএমএফ-এর শর্তগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় যা সম্ভব নয়, তা ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করা হবে। হুট করে সব পরিবর্তন চাপিয়ে না দিয়ে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় নিজস্ব চিন্তাভাবনা অনুযায়ী সংস্কার করা হবে। জ্বালানি আমদানিতে অতিরিক্ত অর্থ সংস্থানের বিষয়ে ওয়াশিংটনে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি তেল সরবরাহ ২৫% বেশি, আতঙ্কিত না হয়ে সাশ্রয়ের আহ্বান মন্ত্রীর

দেশে জ্বালানি তেল সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সংযত ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। সোমবার গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় বর্তমানে দেশে প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে তেল সংগ্রহ না করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।   মন্ত্রী বলেন, সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে সংশ্লিষ্টরা দিন-রাত কাজ করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি তেলের মূল্য প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও সরকার এখনো ভোক্তাপর্যায়ে মূল্য বৃদ্ধি করেনি। বরং বেশি দামে আমদানি করেও ভর্তুকি দিয়ে সরবরাহ বজায় রাখা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ না পড়ে।   সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা রক্ষায় জনগণের সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সবাই যদি প্রয়োজন অনুযায়ী তেল ব্যবহার করেন, তাহলে সংকট তৈরি হবে না। মজুত পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের মজুত একটি চলমান প্রক্রিয়া, যেখানে নিয়মিত আমদানি ও সরবরাহ অব্যাহত থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু পাম্প বন্ধ থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।   আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ও অনুমতির জটিলতার কারণে অনেক দেশই জ্বালানি সরবরাহে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সম্ভাব্য পাম্প বন্ধের খবর প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নানা ধরনের আশঙ্কা তৈরি হলেও বাস্তবে দেশে তেল সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। তিনি পুনরায় সবাইকে ধৈর্য ধরার এবং সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে কথা বলেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।  ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধাবস্থাতেও দেশে তেলের দাম অপরিবর্তিত: অর্থমন্ত্রী

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও সরকার তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।   রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের মেহেদিবাগে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব সরকার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। বর্তমান সময়ে নতুন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ ও সরবরাহ নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।   অর্থমন্ত্রী আরও জানান, সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের মাধ্যমে ঈদযাত্রার সময় কোথাও তেলের সংকট হয়নি এবং পরিবহন খাতের ভাড়া বৃদ্ধিও ঘটেনি। তিনি বলেন, এবারের ঈদ উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে। পোশাক খাতের শ্রমিকদের আগাম বেতন পরিশোধের ফলে কোনো অসন্তোষ দেখা দেয়নি, যা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির একটি ইতিবাচক সংকেত।   সরকারের জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, নিম্নবিত্ত ও কৃষকদের জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঋণ মওকুফ এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের জন্য চলমান ভাতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি সবাইকে সংযম, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ফাইল ফটো।
ঈদের পর ত্রিমুখী সংকটে নতুন সরকার: অর্থনীতি ও রাজনীতিতে কঠিন পরীক্ষার আভাস

দীর্ঘ ছুটির আমেজ কাটিয়ে ঈদ পরবর্তী সময়ে এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দেশের নতুন সরকার। মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র থেকে শুরু করে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি—সব মিলিয়ে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ এখন সরকারের সামনে পাহাড়সম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, স্থবির অর্থনীতিতে গতি আনা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করাই হবে এই মুহূর্তের প্রধান কাজ। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের অস্থিরতা ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ছে হু হু করে। এর ফলে এপ্রিল-মে মাসের তীব্র গরমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সেচ মৌসুমে কৃষি উৎপাদন সচল রাখা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম জানিয়েছেন, অফিস-আদালত ও কলকারখানা পূর্ণোদ্যমে চালু হলে বিদ্যুতের চাহিদা কয়েকগুণ বাড়বে, যা সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে। অর্থনীতির টানাপোড়েন ও রিজার্ভ সংকট বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, একদিকে রাজস্ব আয়ে ঘাটতি, অন্যদিকে চড়া দামে জ্বালানি কেনা—এই দুইয়ের চাপে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। নিত্যপণ্যের লাগামহীন দাম এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে। জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, এখনই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত না হলেও যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিকল্প ভাবা ছাড়া উপায় থাকবে না। রাজনৈতিক মেরুকরণ ও সংস্কারের চাপ কেবল অর্থনীতি নয়, রাজনৈতিক অঙ্গনও উত্তপ্ত হওয়ার আভাস দিচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদের মতে, প্রশাসনে অতিরিক্ত দলীয়করণ জুলাই সনদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে, যা নতুন করে আন্দোলনের ক্ষেত্র তৈরি করবে। সব মিলিয়ে, আসন্ন বাজেটে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতের সম্প্রসারণের মাধ্যমে সরকার কীভাবে এই সংকট উত্তরণ করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ডলারের বিপরীতে রুপির রেকর্ড পতন, ইতিহাসের সর্বনিম্নে ভারতীয় মুদ্রা

মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মান আরও কমে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। শুক্রবার আন্তব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারের বিপরীতে রুপির দর প্রায় ৬০ পয়সা কমে দাঁড়িয়েছে ৯৩ দশমিক ৪৯ রুপিতে।   লেনদেনের শুরুতে প্রতি ডলার ৯২ দশমিক ৯২ রুপিতে কেনাবেচা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই রুপির মান ৯৩-এর নিচে নেমে যায় এবং পরে আরও অবনতি ঘটে। এর ফলে এটি এখন পর্যন্ত রুপির সর্বনিম্ন মান হিসেবে রেকর্ড গড়েছে।   এর আগে গত বুধবার রুপির দর ৪৯ পয়সা কমে ৯২ দশমিক ৮৯-এ নেমে এসেছিল, যা ছিল আগের সর্বনিম্ন। তারও কয়েকদিন আগে ৯২ দশমিক ৪৮ রুপিতে লেনদেন হয়েছিল। অর্থাৎ খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিকবার রেকর্ড ভেঙেছে রুপি।   বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডলারের শক্তিশালী অবস্থান, বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (এফআইআই) অর্থ প্রত্যাহার এবং অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি—এই তিনটি কারণে রুপির ওপর চাপ বেড়েছে।   বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে।   আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৯ ডলার ছাড়িয়েছে, যা রুপির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। এমনকি বাজারে আশঙ্কা করা হচ্ছে, তেলের দাম ১৮০ ডলার পর্যন্তও পৌঁছাতে পারে।   এদিকে ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের শক্তি নির্দেশক ডলার সূচক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৯ দশমিক ৪০-এ, যা বৈশ্বিক বাজারে ডলারের শক্তিশালী অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
নতুন রেকর্ড, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম দেড় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে বিগত দেড় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (AAA) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ দেশটিতে প্রতি গ্যালন রেগুলার গ্যাসের দাম ৪ সেন্ট বেড়ে ৩.৮৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২২ সালের ১৭ অক্টোবরের পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রে তেলের সর্বোচ্চ মূল্য। এর আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে যে রেকর্ড উল্লম্ফন দেখা দিয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি সেই ভয়াবহতাকেও মনে করিয়ে দিচ্ছে। বিশেষত, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মাত্র ১৯ দিনের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম প্রতি গ্যালনে ৯০ সেন্ট পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশটির আটটি অঙ্গরাজ্যে প্রতি গ্যালন তেলের গড় দাম ৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।  ক্যালিফোর্নিয়া, হাওয়াই এবং ওয়াশিংটনের মতো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে এই দাম ৫ ডলারের গণ্ডি অতিক্রম করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ফাইল ফটো।
ভরিতে ২৫ হাজার টাকা কমল স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম প্রায় ২৫ হাজার টাকা হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক সর্বশেষ নির্ধারিত মূল্যে এই বড় পরিবর্তনের খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।   বাজুস-এর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমানে বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লক্ষ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা। অথচ মাত্র এক সপ্তাহ আগে, গত ১১ই মার্চ এই মানের স্বর্ণের দাম ছিল ২ লক্ষ ৮৭ হাজার ২৬২ টাকা।   অন্যান্য ক্যারেটের ক্ষেত্রেও দাম কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। বর্তমানে বাজারে:   ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লক্ষ ৫০ হাজার ৩৬৮ টাকা।   ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লক্ষ ১৪ হাজার ৬১৮ টাকা।   উল্লেখ্য যে, গত ১১ই মার্চের পর থেকে মাত্র এক সপ্তাহে মোট পাঁচবার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার প্রতিবারই দাম কিছুটা করে কমেছে। গত এক বছরে স্বর্ণের বাজারে লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি দেখা গেলেও, সাম্প্রতিক এই দরপতন বাজারে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এই নিম্নমুখী প্রবণতা কতদিন স্থায়ী হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দামে রেকর্ড লাফ: সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি

ইরান যুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (AAA) এর তথ্য অনুযায়ী, আজ যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাসের গড় দাম ৩.৭০ ডলারে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের আশেপাশে অবস্থান করছে। গত শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার ২.৬৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৩.১৪ ডলারে বন্ধ হয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ৩.১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৮.৭১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। যুদ্ধের শুরু থেকেই এই কৌশলগত জলপথটি কার্যত বন্ধ রয়েছে। ফলে এই অঞ্চল থেকে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ দেশগুলোর বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যুদ্ধ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ডিসেম্বরে যেখানে গ্যাসের দাম ২০২১ সালের পর প্রথমবারের মতো ৩ ডলারের নিচে নেমেছিল, এখন তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।  কেবল জ্বালানি নয়, জাহাজ ভাড়া এবং সারের দাম বাড়ার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমনকি জ্বালানি তেলের এই ঊর্ধ্বগতির প্রভাবে বিমান ভাড়াতেও বড় ধরনের উল্লম্ফন লক্ষ্য করা গেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করায় ক্ষুব্ধ ইউরোপীয় মিত্ররা

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন বিশ্ববাজারে তেলের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে, অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়ার ওপর চাপ বজায় রাখতে চাওয়া ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ, ২০২৬) মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় জানানো হয়, সমুদ্রে আটকা পড়া বা ট্রানজিটে থাকা রুশ তেল এবং পেট্রোলিয়াম পণ্য কেনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশকে ৩০ দিনের জন্য বিশেষ ছাড় (Waiver) দেওয়া হচ্ছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে জানান, ইরান যুদ্ধের ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা স্থিতিশীল করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটনের এই ঘোষণার পর শুক্রবার সকালে এশীয় বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমতে দেখা গেছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্সিয়াল দূত কিরিল দিমিত্রিভ জানিয়েছেন, এই ছাড়ের ফলে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল রুশ অপরিশোধিত তেল বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে, যা প্রায় এক দিনের বিশ্ব চাহিদার সমান। মস্কো যুক্তরাষ্ট্রের এই বাস্তবসম্মত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপে জার্মানি ও ফ্রান্সসহ প্রধান ইউরোপীয় মিত্ররা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ইউরোপীয় দেশগুলোর মতে, রাশিয়ার আয়ের প্রধান উৎস তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করা হবে। তারা মনে করছে, মুদ্রাস্ফীতি এবং অভ্যন্তরীণ তেলের দাম কমাতে গিয়ে ওয়াশিংটন দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিচ্ছে। সম্প্রতি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন চাপের মুখে ছিল। সমালোচকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আসন্ন নির্বাচন এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই রাশিয়ার সাথে এই সাময়িক সমঝোতার পথ বেছে নিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ৩০ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
রাশিয়ান তেলের উপর যে কারণে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্ব অর্থনীতিতে চলমান অস্থিরতা এবং তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন এনেছে যুক্তরাষ্ট্র।  ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং লোহিত সাগরের অস্থিরতার জেরে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায়, রাশিয়ার তেল ও পেট্রোলিয়াম আমদানির ওপর আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের যে অর্থনৈতিক প্রভাব পড়ছে, তা মোকাবিলা করতেই ৩০ দিনের জন্য এই ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, এই স্বল্পমেয়াদী সিদ্ধান্তের ফলে পুতিন সরকার খুব বেশি আর্থিক সুবিধা লাভের সুযোগ পাবে না। বিপরীত মেরুতে অবস্থান নিয়ে যুক্তরাজ্যের জ্বালানিমন্ত্রী মাইকেল শ্যাঙ্কস এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাজ্য কোনোভাবেই রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সরাবে না। শ্যাঙ্কসের মতে, এই ধরনের নমনীয়তা ভ্লাদিমির পুতিনকে ইউক্রেন যুদ্ধে আরও অর্থ বিনিয়োগের রসদ জোগাবে। এদিকে ক্রেমলিন এই ঘটনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। মস্কোর মতে, জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে এটি একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ এবং এতে উভয় দেশের স্বার্থই জড়িত।  উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে ইরানের হুমকি এবং সাম্প্রতিক উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার- ১৩ মার্চ ২০২৬

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমেই সম্প্রসারিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক লেনদেনে মুদ্রা বিনিময়ের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাণিজ্যিক লেনদেন সহজ করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার জানা জরুরি।   শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার নিম্নরূপ—   বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশি টাকা ইউএস ডলার (USD) ১২৩.১২ ইউরো (EUR) ১৪১.৮০ ব্রিটিশ পাউন্ড (GBP) ১৬৪.৪৫ অস্ট্রেলিয়ান ডলার (AUD) ৮৭.০২ জাপানি ইয়েন (JPY) ০.৭৭৫ কানাডিয়ান ডলার (CAD) ৯০.৩০ সুইডিশ ক্রোনা (SEK) ১৩.১৬ সিঙ্গাপুর ডলার (SGD) ৯৬.২৫ চীনা ইউয়ান রেনমিনবি (CNY) ১৭.৯২ ভারতীয় রুপি (INR) ১.৩৩ শ্রীলঙ্কান রুপি (LKR) ২.৫৪ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (MYR) ৩১.৩০ সৌদি রিয়াল (SAR) ৩২.৮১ কাতারি রিয়াল (QAR) ৩৩.৬০ কুয়েতি দিনার (KWD) ৪০০.২৬ ওমানি রিয়াল (OMR) ৩১৭.০০ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম (AED) ৩৩.৩৪ বাহরাইনি দিনার (BHD) ৩২৫.৭৬ সুইস ফ্রাঁ (CHF) ১৫৩.৬২ দক্ষিণ কোরিয়ান ওন (KRW) ০.০৮২   মুদ্রার বিনিময় হার যে কোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে।   সূত্র: গুগল

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল
অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে ভারত

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বিশ্বজুড়ে যখন জ্বালানি নিরাপত্তার শঙ্কা বাড়ছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এলো প্রতিবেশী দেশ ভারত। বাংলাদেশে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের জন্য ঢাকা যে অনুরোধ জানিয়েছিল, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে নয়াদিল্লি। বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপও একই ধরনের অনুরোধ করেছে। বর্তমানে ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং শোধনাগারগুলোর সক্ষমতা যাচাই করে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ভারত ও বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সহযোগিতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জয়সওয়াল বলেন, ২০০৭ সাল থেকে ভারতের নুমালিগড় শোধনাগার থেকে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ২০১৭ সালে দুই দেশের মধ্যে হওয়া আনুষ্ঠানিক চুক্তির অধীনে বর্তমানে সড়ক, রেল ও পাইপলাইনের মাধ্যমে এই সরবরাহ প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্ন রয়েছে। সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেই বৈঠকেই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জ্বালানির চাহিদা তুলে ধরা হয়। ভারতের এই ইতিবাচক সাড়া এ অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
বাংলাদেশসহ ১৫ দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য তদন্ত শুরু

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন তাদের প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন তদন্ত শুরু করেছে। সেকশন ৩০১-এর আওতায় শুরু হওয়া এই তদন্তের তালিকায় বাংলাদেশ, ভারত ও চীনসহ ১৫টি দেশের নাম রয়েছে। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এই ঘোষণা দেন। সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পূর্ববর্তী কিছু শুল্কনীতি অবৈধ ঘোষণা করার পর হোয়াইট হাউজ এই পাল্টা পদক্ষেপ নিল। আদালতের রায়ে বলা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন ব্যবহার করে ঢালাও শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই। তবে দমে না গিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এবার 'অন্যায্য বাণিজ্যচর্চা'র অভিযোগ তুলে নতুন আইনি পথে হাঁটছে। বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানান, এই তদন্তের মাধ্যমে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমের মধ্যেই চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর ওপর নতুন করে উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। এমনকি ফেব্রুয়ারি মাসে আরোপিত অস্থায়ী শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ওয়াশিংটন। তদন্তের তালিকায় দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো—বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। যদি তদন্তে কোনো দেশের বিরুদ্ধে অন্যায্য বাণিজ্যের প্রমাণ মেলে, তবে সেই দেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর চড়া আমদানি শুল্ক চাপাবে যুক্তরাষ্ট্র। এতে বাংলাদেশের মতো তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলোর জন্য মার্কিন বাজারে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। মজার বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও এই তদন্ত তালিকা থেকে কানাডাকে বাদ রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই তদন্তের মাধ্যমে মূলত ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্ববাজারে তাদের শুল্ক নীতিকে আরও জোরালোভাবে কার্যকর করার সুযোগ খুঁজছে। আগামী সপ্তাহে প্যারিসে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকের আগে এই ঘোষণা বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১২, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

Top week

ফাইল ফটো।
আমেরিকা

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0