যুক্তরাষ্ট্রে জন্মহার আবারও ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ২০২৫ সালের সর্বশেষ অস্থায়ী তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশে প্রায় ৩৬ লাখ ৬ হাজার ৪০০টি শিশুর জন্ম হয়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ১ শতাংশ কম। একই সঙ্গে ১৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী প্রতি এক হাজার নারীর বিপরীতে জন্মের হার নেমে এসেছে ৫৩ দশমিক ১-এ, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। এই তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (CDC) ন্যাশনাল সেন্টার ফর হেলথ স্ট্যাটিসটিকস।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান নেওয়ার প্রবণতা কমছে এবং মানুষ আগের তুলনায় অনেক দেরিতে পরিবার গঠন করছেন। সর্বশেষ চূড়ান্ত হিসাবে দেশটির মোট প্রজনন হার (Total Fertility Rate) দাঁড়িয়েছে প্রতি নারীর জন্য প্রায় ১ দশমিক ৬ শিশু। অথচ দীর্ঘমেয়াদে অভিবাসন ছাড়া একটি দেশের জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে সাধারণভাবে প্রয়োজন প্রতি নারীর গড়ে প্রায় ২ দশমিক ১টি সন্তান। ফলে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে সেই ‘রিপ্লেসমেন্ট লেভেল’-এর অনেক নিচে অবস্থান করছে।
সাম্প্রতিক আদমশুমারির তথ্যও দেখাচ্ছে, নারীরা আগের তুলনায় অনেক পরে মা হচ্ছেন। ২০২৪ সালে ৩০ থেকে ৩৪ বছর বয়সী নারীদের প্রায় ৪০ শতাংশের কখনো সন্তান হয়নি, যেখানে ২০১৪ সালে এই হার ছিল প্রায় ২৯ শতাংশ। একই সময়ে ২৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে সন্তান না থাকার হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তবে গবেষকদের মতে, এর অর্থ এই নয় যে এসব নারী কখনোই মা হবেন না। বরং অনেকেই ব্যক্তিগত ও আর্থিক কারণে সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন। ২০২৫ সালে ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের মধ্যে জন্মহার কিছুটা বেড়েছে, কিন্তু কম বয়সী নারীদের জন্মহার দ্রুত কমে যাওয়ায় সামগ্রিক প্রবণতা বদলায়নি।
জনসংখ্যাবিদদের মতে, অধিকাংশ আমেরিকান এখনো সন্তান চান। কিন্তু উপযুক্ত জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়া, আর্থিক স্থিতিশীলতা, সাশ্রয়ী মূল্যের বাসস্থান, নির্ভরযোগ্য শিশু পরিচর্যা এবং সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবার মতো বিষয়গুলো অনেককে পরিবার গঠনের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে বাধ্য করছে। পাশাপাশি বিয়ের গড় বয়স বাড়ছে এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাও এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে কম জন্মহার দেশের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ ভবিষ্যতে কর্মক্ষম তরুণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমে গেলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, বিশেষ করে সোশ্যাল সিকিউরিটির মতো ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়তে পারে। কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা কমে গেলে অবসরপ্রাপ্তদের জন্য অর্থায়নও আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
তবে জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু জন্মহার বাড়ানোই সমাধান নয়। বরং যারা সন্তান নিতে চান, তারা যেন নিরাপদ সম্পর্ক, আর্থিক সক্ষমতা এবং প্রয়োজনীয় সামাজিক সহায়তা পান—এমন পরিবেশ নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
ঘরের দীর্ঘদিনের পোষা প্রাণী যে এভাবে নিজের সন্তানের ওপর হিংস্র হয়ে উঠবে, তা কখনো কল্পনাও করতে পারেননি যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের অ্যান আরবার শহরের বাসিন্দা হেদার হ্যারিস ও নিকোলাস হ্যারিস দম্পতি। তাদের মাত্র ১১ মাস বয়সী শিশুকন্যা সাভানা হ্যারিসের ওপর হামলা চালিয়ে গালের একটি বড় অংশের মাংস খুবলে নিয়েছে তাদেরই পোষা জার্মান শিকারি প্রজাতির ওয়াইমারেনার কুকুর। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর শিশুটিকে বাঁচাতে বেশ কয়েকটি জটিল অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। তবে ঘটনাটির পেছনে মায়ের দাবি আরও চমকপ্রদ—তার মতে, কুকুরটি তাকে এতটাই অপছন্দ করত যে প্রতিশোধ নিতেই সে তার নিষ্পাপ মেয়ের ওপর আক্রমণটি চালায়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম 'কেনেডি নিউজ অ্যান্ড মিডিয়া' এবং 'পিপল'-এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে হেদার ও নিকোলাস দম্পতি মাত্র আট সপ্তাহ বয়সী 'রেমিংটন' নামের একটি ওয়াইমারেনার প্রজাতির কুকুর ঘরে আনেন। হেদারের স্বামী নিকোলাস ছোটবেলা থেকেই এই প্রজাতিটি পছন্দ করতেন। তবে কুকুরটি ধীরে ধীরে তার স্বামীর প্রতি অত্যন্ত আসক্ত হয়ে উঠলেও হেদারকে একেবারেই দেখতে পারত না। হেদার জানান, রেমিংটন তার স্বামীর খুব কাছের হলেও তার প্রতি এক ধরনের বিরূপ মনোভাব দেখাত। এর আগে অন্য একটি পোষা কুকুরের ওপর আক্রমণ করায় তাকে পশু চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় এবং প্রায় আট মাস তাকে মেজাজ শান্ত রাখার ওষুধ (মুড স্ট্যাবিলাইজার) খাইয়ে রাখা হয়েছিল। ২০২৩ সালে এই দম্পতির কোল আলো করে আসে কন্যাসন্তান সাভানা। এর ফলে পরিবারের গতিশীলতা কিছুটা বদলে যায়। ২০২৪ সালের অক্টোবরে ঘটে সেই মর্মান্তিক ঘটনা। তখন ১১ মাস বয়সী সাভানা তার ওয়াকারে চড়ে ঘরের রান্নাঘরে ঘুরছিল। হেদার জানান, তিনি সব সময় সতর্ক থাকতেন যেন শিশুটিকে ওই কুকুরের সাথে একা না রাখা হয়। হঠাৎ করেই তিনি রেমিংটনের গর্জন শুনতে পান এবং পরক্ষণেই মেয়ের বিকট চিৎকার শুনে দৌড়ে ঘরে যান। সেখানে গিয়ে যা দেখেন, তা তাকে স্তব্ধ করে দেয়। রেমিংটন ততক্ষণে সাভানার গালে কামড় দিয়ে এক টুকরো মাংস ছিঁড়ে নিচে ফেলে দিয়েছে। চারপাশ রক্তে ভেসে যাচ্ছিল এবং শিশুটি ব্যথায় অনবরত চিৎকার করছিল। তাত্ক্ষণিকভাবে সাভানাকে শিশুদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা বায়োপ্রকৌশলভিত্তিক কৃত্রিম ত্বক প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে গালের কোষ পুনর্গঠনের চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে তার মুখমণ্ডলের ক্ষতের দাগ কমাতে আরও একটি অস্ত্রোপচার করা হয়। বর্তমানে দুই বছর বয়সী সাভানার মুখে আগামী মাসে আরও একটি চূড়ান্ত অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা রয়েছে। হেদার জানান, রেমিংটনের কামড়টি স্নায়ুর এত কাছাকাছি ছিল যে সামান্য এদিক-ওদিক হলেই হয়তো তার মেয়ের জীবনই চলে যেত। চিকিৎসকরা যথাসাধ্য চেষ্টা করলেও শিশুটির গালে সারা জীবন এই ক্ষতের চিহ্ন থেকে যাবে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে ও পরিবারের নিরাপত্তায় রেমিংটনকে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে মেরে ফেলা হয় (ইউথানেশিয়া)। পুরো ঘটনার পেছনের কারণ বলতে গিয়ে হেদার বলেন, "আমার মনে হয় এই আক্রমণটি মূলত আমার দিকেই নিশানা করা ছিল। সাভানা জন্মানোর পর থেকে কুকুরটি আমার স্বামীর প্রতি আরও বেশি ব্যাকুল হয়ে ওঠে। আমি অনুভব করতাম, আমাকে আঘাত করার জন্য সে আমার মেয়েকে বেছে নিয়েছিল।" ঘটনাটি থেকে শিক্ষা নিয়ে অন্যান্য অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে হেদার সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, "ঘরে যদি ছোট বাচ্চা থাকে এবং পোষা প্রাণীর মধ্যে কোনো ধরনের সহিংস বা আগ্রাসী মনোভাব দেখা যায়, তবে তাকে অবিলম্বে ঘর থেকে সরিয়ে নেওয়া উচিত। কোনো ধরনের ঝুঁকি নেওয়া মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়।"
নিজের জন্মভূমির গণ্ডি পেরিয়ে অন্য কোনো দেশে নতুন করে জীবন সাজানোর স্বপ্ন দেখেন অনেকেই। ভিন্ন জীবনযাত্রা, নতুন কর্মসংস্থান আর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির স্বাদ পেতে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যেও এখন বিদেশে পাড়ি জমানোর ঝোঁক আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। আমেরিকান কর্মীদের জন্য বাসযোগ্য ও কাজের পরিবেশ উপযোগী এমন সেরা দেশগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'কান্ট্রি নেভিগেটর'। গবেষণায় কর্মসংস্থান, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং কাজের সংস্কৃতির মতো বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করে সুইজারল্যান্ডকে শীর্ষ স্থানে রাখা হয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক এই প্রতিবেদনে জানানো হয়, বর্তমানে ওই দেশগুলোতে কতজন মার্কিন নাগরিক বসবাস করছেন, প্রতি বছর আমেরিকা থেকে স্থানান্তরের জন্য কত মানুষ তথ্য খুঁজছেন, শ্রমবাজারের সক্ষমতা, বেকারত্বের হার, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ কতটা মেলবন্ধন তৈরি করে—এইসব গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড বিচার করে ১০ নম্বরের স্কেলে স্কোর নির্ধারণ করা হয়েছে। ১০ এর মধ্যে ৮.৩৪ নম্বর পেয়ে তালিকায় সবার ওপরে জায়গা করে নিয়েছে ইউরোপের পর্বতঘেরা দেশ সুইজারল্যান্ড। তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি এক লাখ বাসিন্দার বিপরীতে বর্তমানে প্রায় ৪৭৫ জন আমেরিকান বাস করছেন। এছাড়া প্রতি বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সুইজারল্যান্ডে স্থানান্তরিত হওয়ার জন্য ৩১,৭০০-এর বেশি ইন্টারনেট অনুসন্ধান (সার্চ) চালানো হয়। দেশটির জনসেবা, উন্নত পরিকাঠামো এবং উচ্চ নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে সুইজারল্যান্ডের বৃহত্তম শহর জুরিখকে অভিবাসীদের জন্য বিশ্বের অন্যতম সেরা শহর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ গোলার্ধের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশ নিউজিল্যান্ড। তাদের সার্বিক স্কোর ৮.২২। দীর্ঘদিন ধরেই প্রবাসীদের পছন্দের তালিকায় থাকা এই দেশে প্রতি এক লাখ বাসিন্দার মধ্যে প্রায় ৬২১ জন আমেরিকান বসবাস করছেন, যা গবেষণায় পাওয়া সর্বোচ্চ হারগুলোর একটি। প্রতি বছর প্রায় ৬০,৯০০ বার মার্কিন নাগরিকরা নিউজিল্যান্ডে বসবাসের তথ্য জানতে অনুসন্ধান চালান, যা সুইজারল্যান্ডের অনুসন্ধানের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। ৮.১৬ নম্বর পেয়ে তৃতীয় স্থান দখল করেছে আয়ারল্যান্ড। নতুন বাসিন্দা আকর্ষণে দেশটি তাদের বিশেষ পুনঃবাসন সুবিধাসহ নানা প্রণোদনা কর্মসূচি চালু করায় আন্তর্জাতিক অভিবাসীদের মধ্যে আয়ারল্যান্ডের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। প্রতিবেদনে বেশ কিছু চমকপ্রদ ও ব্যতিক্রমী তথ্যও উঠে এসেছে। ভৌগোলিকভাবে আমেরিকার খুব কাছে হওয়ায় এবং যাতায়াত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কানাডা তালিকায় পঞ্চম স্থানে নেমে এসেছে। যদিও আমেরিকা থেকে স্থানান্তরের অনুসন্ধানে সবচেয়ে এগিয়ে কানাডা, যার বার্ষিক অনুসন্ধান সংখ্যা ১ লাখ ৫ হাজারেরও বেশি (যা সুইজারল্যান্ডের অনুসন্ধানের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি)। তবুও কানাডায় ৬.৯ শতাংশ উচ্চ বেকারত্বের হার এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় তুলনামূলক মাঝারি স্কোর (৭৬ শতাংশ) থাকায় দেশটি শীর্ষ চারে স্থান পায়নি। অন্য একটি আশ্চর্যজনক তথ্য হলো, কাজের সংস্কৃতি এবং যোগাযোগের দিক দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সাংস্কৃতিক মিল পাওয়া গেছে ফিনল্যান্ডের। এই গবেষণায় কর্মক্ষেত্রের আচরণের পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া 'কালচারাল ডিসটেন্স' স্কোরে ফিনল্যান্ড মাত্র ০.৪ নম্বর পেয়েছে, যা তালিকায় থাকা চারটি ইংরেজিভাষী দেশসহ অন্য সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। কান্ট্রি নেভিগেটর-এর গবেষণা অনুযায়ী মার্কিন নাগরিকদের বসবাসের জন্য সেরা ১০টি দেশের তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো: ১. সুইজারল্যান্ড ২. নিউজিল্যান্ড ৩. আয়ারল্যান্ড ৪. নেদারল্যান্ডস ৫. কানাডা ৬. নরওয়ে ৭. ডেনমার্ক ৮. অস্ট্রেলিয়া ৯. সিঙ্গাপুর ১০. যুক্তরাজ্য প্রতিবেদনে বলা হয়, উন্নত কর্ম পরিবেশ, নিখুঁত নাগরিক সুবিধা এবং সামাজিক নিরাপত্তার কারণে এই দেশগুলো শুধু মার্কিন নাগরিকদের জন্যই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে যেকোনো প্রবাসীর জন্যই স্বপ্নভূমি হয়ে উঠেছে।
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে যাত্রী নামাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৫০ বছর বয়সী ফর হায়ার গাড়িচালক রুহুল আমিন। শুক্রবার ভোরে ফোর্ট গ্রিন এলাকায় একটি ছোটখাটো সড়ক দুর্ঘটনার পর সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে এক ব্যক্তি তার গাড়ির কাছে এসে মুখে গুলি করে পালিয়ে যায়। অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। নিউইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভার্স তাকে এমডি আমিন নামে শনাক্ত করেছে। বাংলাদেশি কমিউনিতে তিনি রুহুল আমিন নাসির নামে পরিচিত বলে কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ভোর ৪টার কিছু পর ব্রুকলিনের ফোর্ট গ্রিনের নর্থ পোর্টল্যান্ড অ্যাভিনিউ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। সে সময় আমিন রাতের শিফটে কাজ করছিলেন। সিবিএস নিউইয়র্ক ও এনওয়াইওয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাত্রী নামানোর সময় আমিনের গাড়ির সঙ্গে একটি মেডিকেল পরিবহন ভ্যানের ছোটখাটো সংঘর্ষ হয়। এরপর সেখানে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন আমিন। পুলিশ সূত্রের বরাতে এনওয়াইওয়ান জানায়, বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে পাশের হুইটম্যান হাউসেস এলাকা থেকে এক ব্যক্তি বেরিয়ে এসে আমিনের গাড়ির কাছে যায়। ওই ব্যক্তি গাড়ির জানালায় নক করার পর তাকে গুলি করে। গুলিটি আমিনের মুখের ডান পাশে লাগে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আমিনকে নিউইয়র্ক প্রেসবিটারিয়ান ব্রুকলিন মেথডিস্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। শনিবার সকালে নিউজ ১২ জানিয়েছে, তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। নিউইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভার্সের প্রতিষ্ঠাতা ফার্নান্দো মাতেও এনওয়াইওয়ানকে জানান, আমিন বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন এবং বর্তমানে কুইন্সে বসবাস করেন। স্ত্রী ও সন্তানদের জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি প্রায় ১৬ বছর ধরে গাড়ি চালিয়ে আসছেন। ঘটনার পর নিউইয়র্ক সিটি ট্যাক্সি অ্যান্ড লিমোজিন কমিশন চালকের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, লাইসেন্সধারী চালকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয় এবং প্রত্যেক চালকের নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে কাজ করার অধিকার রয়েছে। নিউইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভার্স জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহের মধ্যে কর্মরত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হওয়া এটি দ্বিতীয় চালকের ঘটনা। আমিনের পরিবারের সহায়তায় তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে হামলাকারীকে শনাক্ত করতে তথ্যের জন্য পুরস্কার ঘোষণার পরিকল্পনাও রয়েছে সংগঠনটির। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার পর বন্দুকধারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। শনিবার পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। হামলাকারীর পরিচয় ও ঘটনার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা জানতে তদন্ত চলছে।