যুক্তরাষ্ট্রে হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা বাতিলের পথ খুলে দেওয়ায় দেশটির প্রবীণ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা খাতে কর্মীসংকট আরও গভীর হতে পারে। এই খাতের প্রায় ৩০ শতাংশ কর্মী অভিবাসী হওয়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষের কাজের অনুমতি হারানোর আশঙ্কা রোগী, প্রবীণ ব্যক্তি, পরিবার এবং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান—সবার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য ও প্রবীণসেবা খাতের সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট গত ২৫ জুন হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা TPS বাতিলের সিদ্ধান্ত মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার আবেদন নাকচ করেন। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনকে সুরক্ষা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যদিও এ নিয়ে আইনি লড়াই এখনো শেষ হয়নি।
TPS এমন একটি মানবিক কর্মসূচি, যার আওতায় যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা গুরুতর অস্থিতিশীলতার কারণে নিজ দেশে নিরাপদে ফিরতে না পারা নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকেরা যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকভাবে বসবাস ও বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি পান।
সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পর হাইতির তিন লাখের বেশি TPS সুবিধাভোগীর বৈধ অবস্থান ও কাজের অনুমতি নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা বিভাগ ১০ জুলাই হাইতিয়ান TPS সুবিধাভোগীদের নির্দিষ্ট কাজের অনুমতিপত্রের মেয়াদ সাময়িকভাবে ২৪ জুলাই পর্যন্ত বাড়িয়েছে। সিরিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের সংশ্লিষ্ট কাজের অনুমতির মেয়াদও স্বল্প সময়ের জন্য বাড়ানো হয়েছে। এই সাময়িক সময়সীমা সংকটের স্থায়ী সমাধান নয় বলে মনে করছেন অভিবাসী অধিকারকর্মী ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুরক্ষা হারালে অনেক হাইতিয়ান কর্মীকে কেয়ারগিভার, নার্সিং সহকারী এবং হোম কেয়ার কর্মীর চাকরি ছাড়তে হতে পারে। এতে আগে থেকেই জনবলসংকটে থাকা নার্সিং হোম, সহায়তাপ্রাপ্ত আবাসনকেন্দ্র এবং বাড়িভিত্তিক পরিচর্যা প্রতিষ্ঠানগুলো আরও চাপে পড়তে পারে।
স্বাস্থ্যনীতি গবেষণা সংস্থা কেএফএফের ২০২৪ সালের তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২৩ লাখ সরাসরি পরিচর্যাকর্মী প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দীর্ঘমেয়াদি সেবা দিয়ে থাকেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ অভিবাসী। বাড়িভিত্তিক পরিচর্যা ব্যবস্থায় অভিবাসী কর্মীর হার আরও বেশি—প্রায় ৩৩ শতাংশ। নার্সিং প্রতিষ্ঠানে এ হার ২৫ শতাংশ এবং অন্যান্য আবাসিক পরিচর্যা কেন্দ্রে ২৩ শতাংশ।
অভিবাসী সরাসরি পরিচর্যাকর্মীদের মধ্যে প্রায় ৬ শতাংশ হাইতিতে জন্মগ্রহণ করেছেন। মেক্সিকো, ডোমিনিকান রিপাবলিক, ফিলিপাইন, জ্যামাইকা ও চীন থেকেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ এই খাতে কাজ করেন। নিউইয়র্কে সরাসরি পরিচর্যাকর্মীদের প্রায় ৬০ শতাংশই অভিবাসী, যা যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
কেয়ারগিভাররা সাধারণত প্রবীণ, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের খাবার খাওয়ানো, গোসল করানো, পোশাক পরানো, চলাফেরায় সহায়তা, ওষুধ ব্যবস্থাপনা এবং দৈনন্দিন প্রয়োজন পূরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। অনেক রোগী ও প্রবীণ ব্যক্তির পক্ষে এসব সহায়তা ছাড়া নিজ বাড়িতে স্বাধীনভাবে থাকা সম্ভব হয় না।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। জনসংখ্যা পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশের বেশি মানুষের বয়স হবে ৬৫ বছর বা তার ওপরে। কিন্তু সেই হারে পরিচর্যাকর্মীর সংখ্যা বাড়ছে না। ফলে কর্মী হারানোর যেকোনো ঘটনা সেবা ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
প্রবীণসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর জাতীয় সংগঠন লিডিংএজ বলেছে, বিদেশে জন্ম নেওয়া কর্মীরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রবীণ পরিচর্যা ব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ। অভিজ্ঞ কর্মী হারালে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন রোগী ভর্তি সীমিত করা, সেবার পরিধি কমানো অথবা কর্মরত কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
ডেলাওয়ারে কর্মরত হাইতিয়ান-আমেরিকান লাইসেন্সধারী প্র্যাকটিক্যাল নার্স নিক্সন পিয়েরে-লুই দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, একজন কর্মী চলে গেলে তাঁর দায়িত্ব বাকি কর্মীদের বহন করতে হয়। এতে শুধু প্রতিষ্ঠানের ওপর নয়, রোগী এবং আগে থেকেই চাপে থাকা সহকর্মীদের ওপরও প্রভাব পড়ে। প্রয়োজনীয় পরিচর্যা সময়মতো না পেলে রোগীর অসুস্থতা, সংক্রমণ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
খাতটির সংকটের পেছনে শুধু অভিবাসননীতি নয়, কম বেতন ও কঠিন কর্মপরিবেশও বড় কারণ। কেএফএফের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সরাসরি পরিচর্যাকর্মীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের বার্ষিক আয় ৩৫ হাজার ডলারের কম। প্রায় ৩৯ শতাংশ খণ্ডকালীন কাজ করেন। অনেক প্রতিষ্ঠান Medicaid ও Medicare Advantage কর্মসূচি থেকে নির্ধারিত হারে অর্থ পাওয়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী বেতন বাড়িয়েও কর্মী ধরে রাখতে পারে না।
সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য, রেস্তোরাঁ, খুচরা বিক্রয় ও আতিথেয়তা খাতের সঙ্গে কর্মীর জন্য প্রতিযোগিতা করতে হলেও প্রবীণসেবা প্রতিষ্ঠানের আয় বাড়ানোর সুযোগ সীমিত। ফলে অভিজ্ঞ কেয়ারগিভার হারালে দ্রুত নতুন কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ে।
হাইতির TPS মেয়াদ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস হলেও সিনেটে এখনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এ কারণে হাইতিয়ান কর্মী, তাঁদের পরিবার এবং নিয়োগদাতাদের অনিশ্চয়তা কাটেনি।
পরিস্থিতিটির প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির ওপরও পড়তে পারে। বাড়িভিত্তিক পরিচর্যা বা নার্সিং সেবার ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশি প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কর্মী পাওয়া কঠিন হলে সেবার অপেক্ষা ও পারিবারিক ব্যয় বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বৈধভাবে কাজের অনুমতি থাকা এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ বা রাজ্যভিত্তিক সনদধারী বাংলাদেশিদের জন্য কেয়ারগিভিং ও হোম কেয়ার খাতে কর্মীর চাহিদা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষা প্রত্যাহারকে নতুন কর্মসংস্থানের সাধারণ সুযোগ হিসেবে দেখার অবকাশ নেই। প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ বিপুলসংখ্যক কর্মী একসঙ্গে কাজ হারালে তাঁদের জায়গা দ্রুত পূরণ করা সম্ভব নয়। এর সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হতে পারে সেই সব প্রবীণ, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী মানুষকে, যাঁরা প্রতিদিনের মৌলিক প্রয়োজনের জন্য কেয়ারগিভারদের ওপর নির্ভরশীল।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
নিউইয়র্ক সিটির ৯১ শতাংশ উচ্চতম ভবনে ত্রয়োদশ তলা বা ১৩ নম্বর ফ্লোরটি এড়িয়ে যাওয়া হয়। অনলাইন ক্যাসিনো ম্যাকলাকের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিশ্বজুড়ে সংখ্যার কুসংস্কার মানুষের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে এটি তারই একটি জলজ্যান্ত প্রমাণ। তেরো সংখ্যাটিকে অলুক্ষুণে মনে করায় অনেক ডেভেলপার ভবন তৈরির সময় ১২ তলার পর সরাসরি ১৪ তলা নম্বর ব্যবহার করেন অথবা ফ্লোরটির নাম পরিবর্তন করে '১২এ' রাখেন। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব অ্যাপার্টমেন্টে সরাসরি ১৩ নম্বরটি রয়ে গেছে, সেগুলোর বিক্রি সাধারণত একই ভবনের সমমানের অন্য ইউনিটগুলোর তুলনায় কিছুটা কম হয়। পশ্চিমা সংস্কৃতিতে জেসাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতাকারী জুডাস ইসকারিয়টকে শেষ ভোজের ১৩তম অতিথি হিসেবে গণ্য করার পর থেকেই মূলত এই সংখ্যাটিকে দুর্ভাগ্যের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। মার্কিন ইতিহাসভিত্তিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি শুক্রবার ১৩ তারিখে আমেরিকানরা ভ্রমণ বা বড় ধরনের খরচ কমিয়ে দেওয়ায় দেশটির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্ভাব্য ক্ষতি হয় শত শত কোটি ডলার। কুসংস্কারের এই প্রভাব কেবল আবাসন খাতেই সীমাবদ্ধ নয়; জার্মানির লুফথানসা, এয়ার ফ্রান্স এবং ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের মতো বিখ্যাত আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাও তাদের ফ্লাইটে ১৩ নম্বর সারিটি সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে থাকে। অন্যদিকে, পূর্ব এশীয় সংস্কৃতিতে 'চার' সংখ্যাটিকে মৃত্যুর সমার্থক মনে করা হয়, কারণ এর উচ্চারণ চীনা ভাষায় মৃত্যুর কাছাকাছি। তাই হাসপাতাল, হোটেল বা অ্যাপার্টমেন্ট থেকে এই সংখ্যাটি বাদ দেওয়ার পাশাপাশি দেশটির বেশিরভাগ গাড়ির লাইসিন্স প্লেট থেকেও এটি সরিয়ে ফেলা হয়। এর বিপরীতে 'আট' সংখ্যাটিকে সৌভাগ্যের প্রতীক মনে করা হয়, কারণ এর উচ্চারণ সমৃদ্ধির শব্দের সঙ্গে মিলে যায়। চীনের চেংদুতে আবাসন বাজারের ওপর চালানো এক গবেষণায় দেখা গেছে, আট সংখ্যাযুক্ত বা শেষ হওয়া ফ্লোরের অ্যাপার্টমেন্টগুলো প্রতি বর্গমিটারে বেশি দামে বিক্রি হয় এবং অন্যান্য ফ্লোরের তুলনায় দ্রুত বিক্রি সম্পন্ন হয়। এমনকি সৌভাগ্যের আশায় বিশেষ ফোন নম্বরগুলোও চড়া দামে নিলামে বিক্রি হওয়ার নজির রয়েছে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
স্পেনের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী এবং ভবিষ্যৎ রানি প্রিন্সেস লিওনর মাত্র ২০ বছর বয়সেই সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর তিন বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। ভবিষ্যতে স্পেনের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হয়েছে। লিওনর ২০২৩ সালের আগস্টে জারাগোজার জেনারেল মিলিটারি একাডেমিতে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেন। পরের বছর তিনি মারিনের নৌ সামরিক একাডেমিতে যোগ দেন এবং প্রায় পাঁচ মাস প্রশিক্ষণ জাহাজ হুয়ান সেবাস্তিয়ান দে এলকানো-তে সমুদ্রে কাটিয়ে নৌজীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এরপর শেষ বছর তিনি সান হাভিয়ারের জেনারেল এয়ার অ্যান্ড স্পেস একাডেমিতে বিমান চালনার প্রশিক্ষণ নেন। সেখানে তিনি পিলাটাস পিসি-২১ প্রশিক্ষণ বিমান উড়িয়ে একক উড্ডয়নও সফলভাবে সম্পন্ন করেন। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সর্বোচ্চ সম্মানগুলোর মধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদক লাভ করেন। এর মধ্যে রয়েছে গ্র্যান্ড ক্রস অব মিলিটারি মেরিট, গ্র্যান্ড ক্রস অব নেভাল মেরিট এবং গ্র্যান্ড ক্রস অব অ্যারোনটিক্যাল মেরিট (হোয়াইট ডিস্টিংশন)। একই সম্মান ১৯৮৮ সালে তাঁর বাবা রাজা ষষ্ঠ ফেলিপেও অর্জন করেছিলেন। লিওনর স্পেনের রাজপরিবারের ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় লিখেছেন। তিনি প্রথম রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে মৌলিক প্যারাশুট প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে প্যারাট্রুপার হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেছেন। সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি ২০২৭ সালের জুলাইয়ে সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীতে লেফটেন্যান্ট এবং নৌবাহিনীতে এনসাইন পদে কমিশন পাবেন। এরপর তিনি মাদ্রিদের কার্লোস তৃতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক অধ্যয়ন শুরু করবেন। রাজপরিবার জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি ভবিষ্যৎ রানি হিসেবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বও পালন করবেন। আধুনিক স্পেনের সাংবিধানিক রাজতন্ত্রে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগে লিওনরের এই সামরিক ও একাডেমিক প্রস্তুতি তাঁর নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি চারজন কর্মীর একজন এমন চাকরিতে আটকে আছেন, যা তারা ছেড়ে দিতে চান। তবে চাকরি হারালে স্বাস্থ্যবিমার সুবিধাও হারানোর আশঙ্কায় তারা সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। নতুন এক জরিপে উঠে এসেছে, স্বাস্থ্যবিমা ধরে রাখার প্রয়োজনই লাখো মার্কিন কর্মীর চাকরি পরিবর্তনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওয়েস্ট হেলথ-গ্যালাপ সেন্টার অন হেলথকেয়ার ইন আমেরিকার সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৪ শতাংশ কর্মী—সংখ্যায় প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ—শুধু নিয়োগকর্তা-প্রদত্ত স্বাস্থ্যবিমা হারানোর ভয়ে অপছন্দের চাকরিতে রয়ে গেছেন। গবেষকরা এই পরিস্থিতিকে ‘জব লক’ নামে অভিহিত করেছেন। ২০২১ সালে এ হার ছিল ১৬ শতাংশ, অর্থাৎ পাঁচ বছরে এটি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জরিপে আরও দেখা গেছে, যাদের দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা রয়েছে বা চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ বেশি, তাদের মধ্যে এই প্রবণতা আরও বেশি। দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত কর্মীদের ২৯ শতাংশ জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যবিমা হারানোর আশঙ্কায় তারা চাকরি পরিবর্তন করতে পারছেন না। আর যাদের স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় নিয়ে তীব্র আর্থিক চাপ রয়েছে, তাদের প্রায় অর্ধেকই একই কারণে বর্তমান চাকরিতে আটকে আছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে অধিকাংশ কর্মজীবী মানুষের স্বাস্থ্যবিমা সরাসরি চাকরির সঙ্গে যুক্ত থাকায় চাকরি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন হয়ে পড়ে। এতে শুধু ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার নয়, নতুন ব্যবসা শুরু করা, ভালো চাকরির সুযোগ গ্রহণ কিংবা শ্রমবাজারে স্বাভাবিক গতিশীলতাও বাধাগ্রস্ত হয়। ওয়েস্ট হেলথ পলিসি সেন্টারের প্রেসিডেন্ট টিম ল্যাশ বলেন, শুধুমাত্র স্বাস্থ্যবিমা ধরে রাখার জন্য মানুষকে এমন চাকরিতে থাকতে বাধ্য হওয়া, যা তারা আর করতে চান না, তা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় ও প্রাপ্যতা নিয়ে গভীর সংকটের ইঙ্গিত দেয়। স্বাস্থ্যসেবার খরচ এখন শুধু চিকিৎসা নয়, মানুষের কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও প্রভাবিত করছে। জরিপটি ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ৫ হাজার ৬৬০ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত হয়। এর মধ্যে নিয়োগকর্তার স্বাস্থ্যবিমার ওপর নির্ভরশীল কর্মীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।