যুক্তরাষ্ট্রের ‘চিলড্রেন্স হেলথকেয়ার অব আটলান্টা’ থেকে চুরি হওয়া ৫৩ লাখ ডলার পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে রোনাল্ড ডিবলার নামের এক সাবেক অ্যাকাউনট্যান্টকে কারাদণ্ড দিয়েছে ফেডারেল আদালত। ৬৬ বছর বয়সী ডিবলার আটলান্টার একজন ব্যবসায়ী এবং সাবেক সার্টিফাইড পাবলিক অ্যাকাউনট্যান্ট (সিপিএ)। চলতি বছরের শুরুর দিকে একটি জুরিবোর্ড তাকে এই অর্থ পাচারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছিল।
আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, অজ্ঞাত এক হ্যাকার চিলড্রেন্স হেলথকেয়ার অব আটলান্টার একটি ফার্নিচার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ই-মেইল সিস্টেমে অবৈধভাবে প্রবেশ করে এই প্রতারণার সূত্রপাত করে। ওই হ্যাকার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মী সেজে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বোকা বানায় এবং একটি বৈধ পেমেন্টের নামে ৫৩ লাখ ডলার ডিবলারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠাতে বাধ্য করে।
প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, একটি নির্দিষ্ট কমিশনের বিনিময়ে ডিবলার এই অর্থ বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নিতে রাজি হন এবং লেনদেনের জন্য তিনি একটি নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্টও খোলেন। কিন্তু ব্যাংক যখন পুরো অর্থ একসঙ্গে স্থানান্তর করতে অস্বীকৃতি জানায়, তখন ডিবলার প্রায় ৩৫ লাখ ডলার ক্যাশিয়ার চেকে রূপান্তর করেন এবং তা ডাকযোগে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠিয়ে দেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং ওই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কয়েক দিনের মধ্যেই এই বিশাল প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারে। তারা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তদন্তে ডিবলারের অ্যাকাউন্টের সন্ধান পাওয়া যায়। প্রসিকিউটরদের দাবি, তারা শেষ পর্যন্ত প্রায় ৪০ লাখ ডলার উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।
ইউএস অ্যাটর্নি থিওডোর এস. হার্টজবার্গ বলেন, ডিবলার ব্যাংকিং ব্যবস্থা সম্পর্কে তার পেশাদারি জ্ঞান কাজে লাগিয়ে এমন একটি অলাভজনক শিশু হাসপাতাল থেকে চুরি যাওয়া অর্থ পাচার করেছেন, যা মূলত জর্জিয়ার শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের কল্যাণে নিবেদিত। যারা আমাদের গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানায় এবং যারা তাদের চুরি করা অর্থ পাচারে সহায়তা করে, তাদের সবাইকে এমন কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দেন।
গুরুতর এই অপরাধের দায়ে বিচারক রোনাল্ড ডিবলারকে চার বছরের কারাদণ্ড এবং কারামুক্তির পর আরও দুই বছর নজরদারিতে (সুপারভাইজড রিলিজ) রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এর পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ হিসেবে তাকে ৬ লাখ ৮২ হাজার ডলারেরও বেশি অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে এক গর্ভবতী নারী হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গাড়ির ভেতরে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। প্রসবের সময় ঘনিয়ে এলেও তাকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার পর ঘটে এই অপ্রত্যাশিত ঘটনা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যারিজোনার ওই নারী প্রসব বেদনা নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণের পর তাকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতাল ছাড়ার কিছু সময় পরই তার প্রসব ব্যথা দ্রুত বেড়ে যায়। বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় গাড়ির ভেতরেই শিশুটির জন্ম হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি ছিল একই সঙ্গে ভয়াবহ ও আবেগপূর্ণ। তারা আশা করেননি যে এত দ্রুত প্রসব শুরু হয়ে যাবে এবং হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রসবের সময় নির্ধারণ করা অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে শেষ পর্যায়ের গর্ভাবস্থায় ব্যথার ধরন, জরায়ুমুখের পরিবর্তন এবং অন্যান্য লক্ষণ দেখে চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেন একজন রোগীকে হাসপাতালে রাখা প্রয়োজন কি না। তবে প্রসবের কাছাকাছি সময়ে কোনো নারীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়ার আগে তার শারীরিক অবস্থা, প্রসবের অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্মদানের সময় হাসপাতাল, চিকিৎসক এবং রোগীর মধ্যে যোগাযোগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হয়ে থাকে। বিশেষ করে প্রসবের সময় নির্ধারণ, ব্যথা নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার বিষয়গুলো নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় নানা ধরনের নীতিমালা অনুসরণ করা হয়। অ্যারিজোনার এই ঘটনা আবারও সামনে এনেছে প্রসবকালীন জরুরি প্রস্তুতির গুরুত্ব। চিকিৎসকদের মতে, প্রসবের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নেওয়া এবং পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এখনও দুই বছরের বেশি দূরে। ডেমোক্রেটিক পার্টি প্রার্থী ঠিক না করলেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সেই আলোচনায় নতুন করে সামনে এসেছেন নিউইয়র্কের কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ, যিনি ‘এওসি’ নামেই বেশি পরিচিত। ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাম্পশায়ারের ২২ জুলাই প্রকাশিত সাম্প্রতিক জরিপে সম্ভাব্য ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের মধ্যে ২২ শতাংশ সমর্থন নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন এওসি। ২১ শতাংশ সমর্থন নিয়ে তার ঠিক পেছনে সাবেক পরিবহনমন্ত্রী পিট বুটিজেজ। তবে এটি নিউ হ্যাম্পশায়ারভিত্তিক একটি জরিপ, জাতীয় জরিপ নয়। এওসি এখনো ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণাও দেননি। কে এই এওসি? আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজের জন্ম ১৯৮৯ সালের ১৩ অক্টোবর নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে। তার পারিবারিক শিকড় পুয়ের্তো রিকোয়। বাবা ছিলেন ছোট ব্যবসায়ী ও স্থপতি। মা পরিবার চালাতে গৃহপরিচারিকার কাজও করেছেন। এওসি বোস্টন ইউনিভার্সিটিতে অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে পড়াশোনা করেন। শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় ডেমোক্রেটিক সিনেটর টেড কেনেডির কার্যালয়ে শিক্ষানবিশ হিসেবেও কাজ করেন। কলেজে পড়ার সময় ক্যানসারে তার বাবার মৃত্যু পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি বদলে দেয়। বাড়ি ঋণের কারণে হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকিতে পড়লে পরিবারকে সহায়তা করতে এওসি রেস্তোরাঁয় খাবার পরিবেশন ও বারটেন্ডারের কাজ করেন। বারটেন্ডার থেকে কংগ্রেসে: ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বার্নি স্যান্ডার্সের প্রচারে স্বেচ্ছাসেবক সংগঠক হিসেবে কাজ করেন এওসি। এরপর ২০১৭ সালে নিউইয়র্কের ১৪তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচনে লড়ার প্রচার শুরু করেন। সে সময়ও তিনি ম্যানহাটনের একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করছিলেন। অর্থাৎ নির্বাচনী প্রচার এবং রেস্তোরাঁর চাকরি কিছু সময় পাশাপাশি চালিয়েছেন। ২০১৮ সালের জুনে ডেমোক্রেটিক প্রাথমিক নির্বাচনে তিনি প্রায় দুই দশক ধরে কংগ্রেসে থাকা এবং দলের অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা জো ক্রাউলিকে পরাজিত করে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন। একই বছরের সাধারণ নির্বাচনেও জয় পান। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ২৯ বছর বয়সে কংগ্রেসে দায়িত্ব নেওয়ার সময় তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কংগ্রেসে দায়িত্ব নেওয়া সর্বকনিষ্ঠ নারী। কেন এত আলোচিত? এওসি ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশের অন্যতম পরিচিত মুখ। অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো, শ্রমিকের মজুরি ও অধিকার, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, সাশ্রয়ী আবাসন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার পক্ষে তিনি সোচ্চার। অভিবাসন প্রশ্নেও তার অবস্থান তুলনামূলক উদার। নথিবিহীন অভিবাসীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার আইনি পথ তৈরি, শিশু বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসা নথিবিহীন অভিবাসীদের সুরক্ষা এবং অভিবাসন ব্যবস্থা সংস্কারের পক্ষে তিনি কথা বলেছেন। গাজায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়েও তিনি সোচ্চার এবং ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার বিভিন্ন দিকের সমালোচনা করেছেন। বাংলাদেশিদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ? এওসির নির্বাচনী এলাকা নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস ও কুইন্সের অংশ নিয়ে গঠিত, যেখানে বড় অভিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস। অভিবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, বাড়িভাড়া, শ্রমিকের মজুরি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মতো যেসব বিষয় তিনি সামনে আনেন, সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অনেক বাংলাদেশি পরিবারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এওসি শেষ পর্যন্ত ২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট পদে লড়বেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। একটি অঙ্গরাজ্যের জরিপ দিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভবিষ্যৎ প্রার্থীও নির্ধারণ করা যায় না। তবে রেস্তোরাঁয় কাজ করতে করতে নির্বাচনী প্রচার শুরু করা সেই তরুণী আট বছরের মধ্যে সম্ভাব্য হোয়াইট হাউস প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে আসায় তার রাজনৈতিক উত্থান নতুন করে নজর কাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফাস্ট-ফুড ফ্রাইড চিকেনের প্রতিযোগিতায় আবারও শীর্ষস্থান দখল করেছে ফিলিপাইনের জনপ্রিয় ফাস্ট-ফুড ব্র্যান্ড জলিবি। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ইউএসএ টুডের ১০ বেস্ট রিডার্স’ চয়েস অ্যাওয়ার্ডে জলিবির বিখ্যাত ‘চিকেনজয়’ যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ফাস্ট-ফুড ফ্রাইড চিকেন হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার এই স্বীকৃতি পেল জলিবি। এর বিশেষ স্বাদ, মচমচে বাইরের আবরণ এবং ভেতরের নরম ও রসালো মাংসের কারণে গ্রাহকদের ভোটে তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে প্রতিষ্ঠানটির এই জনপ্রিয় খাবার। ইউএসএ টুডের পাঠকভিত্তিক এই জরিপে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জনপ্রিয় ফাস্ট-ফুড রেস্তোরাঁর ফ্রাইড চিকেনের স্বাদ, মান এবং গ্রাহক জনপ্রিয়তা মূল্যায়ন করা হয়। এতে প্রতিযোগী অন্যান্য ব্র্যান্ডকে পেছনে ফেলে জলিবির চিকেনজয় প্রথম স্থান অর্জন করে। জলিবি একটি ফিলিপাইনি ফাস্ট-ফুড প্রতিষ্ঠান। ১৯৭৮ সালে যাত্রা শুরু করা এই কোম্পানি বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলিবির জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়েছে। এশীয় স্বাদের সঙ্গে আধুনিক ফাস্ট-ফুডের সমন্বয় জলিবিকে অন্য ব্র্যান্ডগুলোর তুলনায় আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। বিশেষ করে তাদের মচমচে ফ্রাইড চিকেন যুক্তরাষ্ট্রের গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ফাস্ট-ফুড বাজারে আধিপত্য রাখা বড় বড় ব্র্যান্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেও জলিবি নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। সেরা ফ্রাইড চিকেনের তালিকায় জলিবির পর স্থান পেয়েছে পোল্লো কামপেরো, লিস ফেমাস রেসিপি চিকেন এবং চার্চ’স টেক্সাস চিকেনের মতো পরিচিত ব্র্যান্ড। জলিবির এই অর্জন শুধু একটি খাবারের জনপ্রিয়তার স্বীকৃতি নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে আন্তর্জাতিক ফাস্ট-ফুড ব্র্যান্ডগুলোর ক্রমবর্ধমান প্রভাবেরও একটি উদাহরণ। ফিলিপাইনের এই প্রতিষ্ঠান এখন বিশ্বজুড়ে ফাস্ট-ফুড শিল্পে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করছে।