যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার বাড়ি কিনতে চান? ডাউন পেমেন্ট নিয়ে যা জানা জরুরি
অনেক প্রবাসীর ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনতে হলে আগে থেকেই বাড়ির মূল্যের ২০ শতাংশ জমা রাখতে হবে। এই ধারণার কারণে অনেকেই বছরের পর বছর অপেক্ষা করেন, অথচ বাস্তবে তাদের বাড়ি কেনার সুযোগ হয়তো আগেই ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরো (CFPB) বলছে, অনেক ক্ষেত্রে কনভেনশনাল মর্টগেজের জন্য মাত্র ৩% ডাউন পেমেন্ট দিয়েও বাড়ি কেনা সম্ভব। আবার FHA (Federal Housing Administration) ঋণের ক্ষেত্রে ৩.৫% ডাউন পেমেন্টেও যোগ্য ক্রেতারা বাড়ি কিনতে পারেন।
তবে শুধু ডাউন পেমেন্ট থাকলেই হবে না। ঋণদাতারা আপনার আয়, ক্রেডিট স্কোর, চাকরির স্থিতিশীলতা, ঋণের পরিমাণ এবং মাসিক খরচও বিবেচনা করেন। তাই বাড়ি কেনার পরিকল্পনা থাকলে আগে থেকেই ক্রেডিট স্কোর উন্নত করা এবং অপ্রয়োজনীয় ঋণ কমানো গুরুত্বপূর্ণ।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ক্লোজিং কস্ট। অনেকেই ডাউন পেমেন্টের জন্য টাকা জমালেও ক্লোজিং কস্টের কথা ভুলে যান। CFPB-এর তথ্য অনুযায়ী, বাড়ি কেনার সময় ক্লোজিং কস্ট সাধারণত বাড়ির মূল্যের ২% থেকে ৫% পর্যন্ত হতে পারে। অর্থাৎ ৪ লাখ ডলারের একটি বাড়ির ক্ষেত্রে কয়েক হাজার থেকে ২০ হাজার ডলারেরও বেশি অতিরিক্ত খরচ হতে পারে।
যাদের ডাউন পেমেন্ট জোগাড় করতে সমস্যা হচ্ছে, তাদের জন্যও রয়েছে সুখবর। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হাজার হাজার Down Payment Assistance Program চালু রয়েছে। অনেক অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকার প্রথমবারের বাড়ি ক্রেতাদের অনুদান, স্বল্পসুদে ঋণ কিংবা ক্লোজিং কস্ট সহায়তা দিয়ে থাকে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশে ২,৬০০-এরও বেশি ডাউন পেমেন্ট সহায়তা কর্মসূচি চালু রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়ি কেনার আগে শুধু ডাউন পেমেন্ট নয়, জরুরি তহবিলও রাখা জরুরি। কারণ নতুন বাড়িতে ওঠার পর মেরামত, আসবাবপত্র, ইউটিলিটি সংযোগ এবং অন্যান্য অপ্রত্যাশিত খরচ সামনে আসতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের জ্যাকসনে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ২৯ বছর বয়সী তাসিয়া ফরচুনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের পর রাজ্যের মেডিকেল পরীক্ষক তাসিয়ার মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার পরই গ্রেপ্তার করা হয় ওই ব্যক্তিকে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম জার্কুয়েস র্যাটলিফ। তাঁর বয়স ৫১ বছর। তাসিয়া ফরচুনকে হত্যার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আগামী সোমবার আদালতে তাঁর প্রথম হাজিরা হওয়ার কথা রয়েছে। গত ৩ আগস্ট জ্যাকসনের একটি পরিত্যক্ত বাড়ির বাইরে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাসিয়ার মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশের ভাষ্য, মরদেহে তখন পচন ধরার বিভিন্ন পর্যায়ের চিহ্ন ছিল। জ্যাকসন পুলিশের প্রধান রাশাল ব্র্যাকনি শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে জানান, আগের রাতে রাজ্যের মেডিকেল পরীক্ষকের কার্যালয় তাসিয়ার মৃত্যুকে আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করে। এরপরই তদন্তে নতুন করে গতি আসে। পুলিশ দুটি তল্লাশি পরোয়ানা এবং একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। একটি নির্দিষ্ট স্থানে র্যাটলিফকে খুঁজতে গিয়ে পুলিশ তাঁকে না পেয়ে সদর দপ্তরে ফিরছিল। এ সময় শহরের একটি রাস্তায় হাঁটারত অবস্থায় তাঁকে দেখতে পেয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাসিয়ার সঙ্গে র্যাটলিফের কোনো ধরনের পরিচয় বা সম্পর্ক ছিল। তবে তাদের সম্পর্কের ধরন কী ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি পুলিশ প্রধান। ব্র্যাকনি বলেন, তাসিয়াকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে বা হত্যার পেছনে ঠিক কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে এখনই কোনো অনুমান করতে চায় না পুলিশ। তদন্তে পাওয়া প্রমাণের ভিত্তিতেই সবকিছু পরিষ্কার হবে। তিনি বলেন, “এই গ্রেপ্তার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে এটিই তদন্তের শেষ নয়।” তাসিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় এরই মধ্যে প্রায় ১৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। পাশাপাশি ফরেনসিক আলামত সংগ্রহ এবং বিভিন্ন সূত্র ধরে তদন্ত চালানো হয়েছে। তাসিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় কমিউনিটিতেও ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়। কারণ, এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে মিসিসিপিতে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় আরও দুজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২১ বছর বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষার্থী ট্রে রিডকে ডেল্টা স্টেট ইউনিভার্সিটির কাছে এবং ভিক্সবার্গে ৩০-এর কোঠায় থাকা গৃহহীন শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি কোরি জুকাটিসকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে তদন্ত শেষে কর্তৃপক্ষ তাদের দুজনের মৃত্যুকেই আত্মহত্যা বলে জানিয়েছিল। তাসিয়ার ঘটনায় অবশ্য তদন্তের চিত্র ভিন্ন। ময়নাতদন্তে তাঁর মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এরই মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে পুলিশ প্রধান স্পষ্ট করে বলেছেন, র্যাটলিফের গ্রেপ্তারকে তদন্তের সমাপ্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তদন্ত এখনো চলছে এবং সামনে আরও গ্রেপ্তার হতে পারে।
নিউইয়র্কে স্বাস্থ্যবিমা না থাকলেও কম খরচে চিকিৎসার সুযোগ, প্রবাসীদের যা জানা জরুরি
৫ হাজার ডলারের চেক নিয়ে প্রশ্ন, সাংবাদিকের দিকে তেড়ে গেলেন ট্রাম্প, বললেন, 'নট ইউ'
২ যুগের মার্কিন যুদ্ধে ৩ হাজার নিহতের বদলায় প্রাণ গেছে ৪৫ লাখ মানুষের
যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে ২০২৩ সালে আসা সোমালিয়ার নাগরিক অ্যাডাম আবদুল্লাহকে কিউবার গুয়ানতানামো বে-তে পাঠিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। ৩১ বছর বয়সী আবদুল্লাহর কোনো ক্রিমিনাল রেকর্ড নেই। তিনি বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ও সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর নিয়ে মিনেসোটার সেন্ট পলে অটো মেকানিক হিসেবে কাজ করছিলেন। মিনেসোটা পাবলিক রেডিওর সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় আবদুল্লাহ জানান, গত ১২ ডিসেম্বর ফেডারেল এজেন্টরা তাকে আটক করে। ওই সময় মিনেসোটার টুইন সিটিজ এলাকায় ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ অভিযান চলছিল। আইসিইর নিয়মিত চেক-ইনেও তিনি অংশ নিতেন বলে জানিয়েছে এমপিআর নিউজ। আবদুল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে প্রথমে জানানো হয়েছিল সোমালিয়ায় ডিপোর্ট করা হবে। কিন্তু প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তাকে হাত ও পায়ে শেকল পরিয়ে একটি বিমানে নেওয়া হয় গুয়ানতানামো বে-তে। সেখানে তাকে ক্যাম্প সিক্সে রাখা হয়েছে। গুয়ানতানামোর এই সামরিক কারাগার মূলত ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর সন্ত্রাসবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আটক রাখার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, গুয়ানতানামোতে তার সঙ্গে আরও সাতজন সোমালি নাগরিক আটক আছেন। সেখানে ফোনে কথা বলার সুযোগ সীমিত এবং বাইরে শরীরচর্চার সুযোগও কম বলে তিনি জানান। তার আইনজীবী মার্ক প্রোকোশ এমপিআর নিউজকে বলেন, ক্লায়েন্টের সঙ্গে পাঁচ থেকে ১০ মিনিটের ফোন কলে যোগাযোগ করতে হচ্ছে এবং এসব কল আইনজীবী ও মক্কেলের গোপনীয় যোগাযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে কি না, সেটিও সবসময় পরিষ্কার নয়। গুয়ানতানামো বে-তে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আটকের নীতিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে আইনি চ্যালেঞ্জও চলছে। ২০২৫ সালে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নসহ অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে গুয়ানতানামোতে অভিবাসন আটক ব্যবস্থা স্থানান্তর করে সরকার কঠোর ও শাস্তিমূলক পরিবেশ তৈরি করেছে এবং আটক ব্যক্তিদের আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগও সীমিত করা হয়েছে। মামলাটি এখনো চলমান। আবদুল্লাহর ঘটনা গুয়ানতানামো বে-তে অভিবাসন আটক ব্যবস্থাকে আবারও আলোচনায় এনেছে। তবে তার ব্যক্তিগত অভিবাসন মামলার চূড়ান্ত আইনি অবস্থান এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরানো বা সোমালিয়ায় ডিপোর্ট করার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি।
ভাইকে বিয়ে করে যুক্তরাষ্ট্রে আনার অভিযোগ, ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে
৯/১১ হামলায় সৌদি যোগসূত্রের অভিযোগ, ২৫ বছর পরও জবাব চান নিহতদের স্বজনেরা
অবৈধ অভিবাসীর হাতে নারীর মৃত্যু, প্রশ্নের মুখে ক্যালিফোর্নিয়ার অভিবাসন নীতি
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসপ্তাহ ৪০ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ৩২ ঘণ্টা করার প্রস্তাব উঠেছে কংগ্রেসে। নতুন এই বিল পাস হলে নির্দিষ্ট শ্রেণির কর্মীরা সপ্তাহে ৩২ ঘণ্টার বেশি কাজ করলে অতিরিক্ত সময়ের জন্য দেড় গুণ হারে পারিশ্রমিক পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে এটি কার্যকর হলে সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে সপ্তাহে চার দিন কাজ করতে হবে, এমন নয়। ‘থার্টি-টু আওয়ার ওয়ার্কউইক অ্যাক্ট’ নামের বিলটি ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রতিনিধি পরিষদে পুনরায় উত্থাপন করেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি মার্ক তাকানো। একই উদ্যোগে সিনেটে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভার্মন্টের স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপিত বিলটি শিক্ষা ও কর্মশক্তি বিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটির মূল লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার সীমা ধীরে ধীরে ৪০ ঘণ্টা থেকে ৩২ ঘণ্টায় নামিয়ে আনা। তবে পরিবর্তনটি একবারে হবে না। বিল অনুযায়ী, আইন কার্যকর হওয়ার পর প্রথম পর্যায়ে সপ্তাহে ৩৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করলে অতিরিক্ত সময়ের পারিশ্রমিক প্রযোজ্য হবে। দ্বিতীয় বছরে সীমা হবে ৩৬ ঘণ্টা এবং তৃতীয় বছরে ৩৪ ঘণ্টা। এরপর চতুর্থ পর্যায় থেকে ৩২ ঘণ্টার বেশি কাজ করলেই অতিরিক্ত সময়ের পারিশ্রমিক দেওয়ার নিয়ম কার্যকর হবে। বর্তমান মার্কিন ফেডারেল আইনে অধিকাংশ অতিরিক্ত সময়ের পারিশ্রমিকের আওতাভুক্ত কর্মীকে সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টার বেশি কাজের জন্য স্বাভাবিক মজুরির অন্তত দেড় গুণ দিতে হয়। প্রস্তাবিত আইনে এই সীমা কমে ৩২ ঘণ্টায় নেমে আসবে। অর্থাৎ, আইনটি পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পর কোনো আওতাভুক্ত কর্মী সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজ করলে ৩২ ঘণ্টার পরের ৮ ঘণ্টার জন্য অতিরিক্ত সময়ের পারিশ্রমিক পাওয়ার কথা। একই সঙ্গে দিনে আট ঘণ্টার বেশি কাজের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো কর্মী দিনে আট ঘণ্টার বেশি এবং সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টা কাজ করলে অতিরিক্ত সময়ের জন্য স্বাভাবিক হারের দেড় গুণ পারিশ্রমিক দিতে হবে। ১২ ঘণ্টার বেশি কাজের ক্ষেত্রে তা দ্বিগুণ হারে দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। তবে প্রস্তাবটি সরাসরি চার দিনের কর্মসপ্তাহ বাধ্যতামূলক করছে না। কোনো প্রতিষ্ঠান চাইলে ৩২ ঘণ্টার কাজ চার দিনে ভাগ করে দিতে পারে, আবার প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যভাবেও কর্মঘণ্টা সাজাতে পারে। মূল পরিবর্তনটি হবে অতিরিক্ত সময়ের পারিশ্রমিকের নিয়মে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিলটি সব কর্মীর ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য হবে না। এটি ১৯৩৮ সালের ফেয়ার লেবার স্ট্যান্ডার্ডস অ্যাক্ট সংশোধনের মাধ্যমে কার্যকর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ওই আইনে ইতিমধ্যেই কিছু নির্বাহী, প্রশাসনিক ও পেশাজীবী কর্মীসহ নির্দিষ্ট শ্রেণির কর্মী অতিরিক্ত সময়ের পারিশ্রমিকের নিয়ম থেকে অব্যাহতি পান। ফলে নতুন প্রস্তাবটিও সংশ্লিষ্ট আইনি শ্রেণিবিন্যাসের আওতাভুক্ত কর্মীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। প্রস্তাবে কর্মীদের বেতন ও সুবিধা সুরক্ষার বিষয়টিও রাখা হয়েছে। কর্মসপ্তাহের নতুন সীমার আওতায় আসার কারণে কোনো কর্মীর মোট সাপ্তাহিক পারিশ্রমিকের হার বা অন্যান্য সুবিধা কমিয়ে দেওয়ার সুযোগ না রাখার কথা বলা হয়েছে। ৩২ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহের ধারণাটি যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নয়। মার্ক তাকানো ২০২১ সালেও একই ধরনের বিল প্রতিনিধি পরিষদে তুলেছিলেন। ২০২৪ সালে বার্নি স্যান্ডার্স সিনেটে এ বিষয়ে আলাদা বিল উত্থাপন করেন। এর আগে ২০২৩ সালেও প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাবটি আবার তোলা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমান ৪০ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহও একদিনে চালু হয়নি। ১৯৩৮ সালের ফেয়ার লেবার স্ট্যান্ডার্ডস অ্যাক্টে শুরুতে অতিরিক্ত সময়ের সীমা ৪৪ ঘণ্টা নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে তা ধাপে ধাপে কমে ৪০ ঘণ্টায় আসে, যা দীর্ঘদিন ধরে দেশটির প্রচলিত ফেডারেল মানদণ্ড। প্রস্তাবটির সমর্থকদের যুক্তি হলো, প্রযুক্তি, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নতির ফলে কর্মীদের উৎপাদনশীলতা বেড়েছে। তাই প্রযুক্তি থেকে পাওয়া উৎপাদনশীলতার সুফলের একটি অংশ কর্মীদের কম কর্মঘণ্টা ও উন্নত জীবনযাপনের মাধ্যমে পাওয়া উচিত। স্যান্ডার্স বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কারণে অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। তাঁর মতে, এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতির আর্থিক সুফল শুধু বড় প্রতিষ্ঠান বা ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কর্মজীবী পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়নেও ব্যবহার করা উচিত। তবে প্রস্তাবটির বিরোধিতাও রয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের এক সিনেট শুনানিতে রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি সতর্ক করেছিলেন, বেতন অপরিবর্তিত রেখে কর্মঘণ্টা কমানো হলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শ্রম ব্যয় বাড়তে পারে। এর ফলে কিছু প্রতিষ্ঠান পণ্যের দাম বাড়াতে, নতুন নিয়োগ কমাতে কিংবা অন্য জায়গায় কাজ সরিয়ে নিতে পারে বলে তিনি যুক্তি দেন। এদিকে কম কর্মঘণ্টার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঞ্চল ও বিশ্বের অন্যান্য দেশেও হয়েছে। ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সান জুয়ান কাউন্টি ২০২৩ সালে কর্মীদের একটি অংশের জন্য ৩২ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহ চালু করে। পরে ২০২৫ সালের শেষ দিকে কাউন্টি কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা এই ব্যবস্থা স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এতে অসুস্থতাজনিত ছুটি কমা এবং চাকরির আবেদন বাড়ার মতো কিছু ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। তবে কর্মসূচিতে কর্মীদের সময়সূচি ও জনসেবা চালু রাখার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যার কথাও স্বীকার করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যেও ২০২২ সালে ৬১টি প্রতিষ্ঠান প্রায় ২ হাজার ৯০০ কর্মীকে নিয়ে কম কর্মঘণ্টার একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালায়। সেখানে বেতন না কমিয়ে কাজের সময় ২০ শতাংশ কমানো হয়েছিল। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের প্রতিবেদনে ওই পরীক্ষায় অসুস্থতাজনিত ছুটি এবং কর্মী চলে যাওয়ার হার কমার কথা উঠে আসে। তবে সেটি ছিল স্বেচ্ছামূলক পরীক্ষা, কোনো জাতীয় আইন নয়। বর্তমান বিলটি এখনো আইন হয়নি। প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপনের পর এটি সংশ্লিষ্ট কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। এরপর কমিটির পর্যালোচনা, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের অনুমোদন এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরসহ আরও কয়েকটি ধাপ পেরোতে হবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের জন্য ৩২ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহ কবে বাস্তবে কার্যকর হবে, তা এখনই নিশ্চিত নয়। সূত্র: নিউজউইক
বিয়ের অনুষ্ঠানস্থলে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত বর, হাসপাতালেই বিয়ে সারলেন নবদম্পতি
২৫ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস, গ্রিন কার্ডের আবেদন চলাকালে আইসের হাতে আটক