৮ বিলিয়ন ডলারে বদলে যাচ্ছে নিউইয়র্কের পেন স্টেশন, নামের সঙ্গে কি যুক্ত হচ্ছে ‘ট্রাম্প’?
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের প্রাণকেন্দ্রে প্রতিদিন লাখো মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র পেন স্টেশন এবার বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে। প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনায় পুরোনো ও দীর্ঘদিন ধরে সমালোচিত এই স্টেশনকে আধুনিক, প্রশস্ত ও দৃষ্টিনন্দন ট্রানজিট হাবে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে বিশাল এই সংস্কার প্রকল্পের পাশাপাশি নতুন আরেকটি বিষয় আলোচনায় এসেছে। পেন স্টেশনের নামও পরিবর্তন করতে চায় প্রশাসন। আর সেই নতুন নামের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম যুক্ত হতে পারে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি বুধবার কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট কমিটিগুলোর নেতাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে পেন স্টেশনের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি প্রশাসনের অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডাফি কংগ্রেসকে আমট্রাককে নিউইয়র্ক পেন স্টেশনের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে নতুন নাম কী হবে, সেটি চিঠিতে উল্লেখ করেননি পরিবহনমন্ত্রী। পরিবহন বিভাগের মুখপাত্ররা সংবাদমাধ্যমকে চিঠিটি দিলেও সম্ভাব্য নতুন নাম নিয়ে পরবর্তী প্রশ্নের জবাব দেননি।
এ কারণেই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, পেন স্টেশনের নতুন নাম কি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে হতে পারে?
এই জল্পনা একেবারে নতুন নয়। ডাফি এর আগেও পেন স্টেশনের সঙ্গে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার ধারণার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। গত বছর তাকে সম্ভাব্য “ট্রাম্প স্টেশন” নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছিলেন, নামটি শুনতে ভালো লাগে।
এ বছরের শুরুতে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটকেও পেন স্টেশনে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনিও সেই সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করেননি।
তবে এখন পর্যন্ত পেন স্টেশনের নাম “ট্রাম্প স্টেশন” বা ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে করার কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ এবং ট্রাম্পের নামে নামকরণ, দুটি বিষয়কে আলাদাভাবে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমটি এখন প্রশাসনের ঘোষিত অগ্রাধিকারের অংশ, দ্বিতীয়টি এখনো সম্ভাবনা ও রাজনৈতিক আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ পেন স্টেশন
নিউইয়র্কে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের কাছে পেন স্টেশন নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন খুব একটা নেই। নিউ জার্সি, লং আইল্যান্ড বা যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন শহর থেকে ম্যানহাটনে যাতায়াতকারী বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রতিদিনের পথ এই স্টেশনের মধ্য দিয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগের হিসাবে, প্রতিদিন ছয় লাখের বেশি যাত্রী পেন স্টেশন ব্যবহার করেন। আমট্রাক, নিউ জার্সি ট্রানজিট এবং লং আইল্যান্ড রেল রোডের ট্রেন চলাচলের কারণে এটি নিউইয়র্ক অঞ্চলের রেল যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দু। পরিবহন বিভাগ এটিকে পশ্চিম গোলার্ধের সবচেয়ে ব্যস্ত ট্রানজিট হাব হিসেবে উল্লেখ করেছে।
অথচ যাত্রীসংখ্যা ও গুরুত্বের তুলনায় বর্তমান পেন স্টেশনের পরিবেশ নিয়ে বহু বছর ধরে অভিযোগ রয়েছে। নিচু ছাদ, ভূগর্ভস্থ করিডোর, ভিড়, জটিল চলাচলের পথ এবং পর্যাপ্ত খোলা জায়গার অভাব নিয়ে নিউইয়র্কবাসী ও যাত্রীরা দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ জানিয়ে আসছেন।
নতুন পেন স্টেশন কেমন হবে
গত ৮ জুন পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি, আমট্রাক এবং প্রকল্পের মাস্টার ডেভেলপার পেন ট্রান্সফরমেশন পার্টনার্স নতুন পেন স্টেশনের ডিজাইন প্রকাশ করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমান স্টেশনকে শুধু সাজানো নয়, যাত্রীদের অভিজ্ঞতাই আমূল বদলে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এইটথ অ্যাভিনিউয়ের দিকে বড় নতুন প্রবেশপথ ও ট্রেন হল থাকবে। ভেতরের চলাচলের পথ আরও সহজ করা হবে, অপেক্ষার জায়গা বাড়ানো হবে এবং স্টেশনের বিভিন্ন অংশে দৃশ্যমানতা উন্নত করা হবে।
বর্তমান স্টেশনের যেসব জায়গায় পথ হঠাৎ শেষ হয়ে যায় বা যাত্রীদের ঘুরে যেতে হয়, সেগুলোও কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি স্টেশন তৈরি করা, যেখানে প্রথমবার আসা যাত্রীও তুলনামূলক সহজে নিজের ট্রেন, প্ল্যাটফর্ম বা বের হওয়ার পথ খুঁজে নিতে পারবেন।
ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনও তার বর্তমান অবস্থানেই থাকবে। নির্মাণকাজ চলার সময় ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন এবং স্টেশন ব্যবহারকারী রেল সার্ভিসগুলো চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ মূল নির্মাণকাজ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে।
কারা তৈরি করবে নতুন পেন স্টেশন
২০২৬ সালের মে মাসে পেন ট্রান্সফরমেশন পার্টনার্সকে প্রকল্পের মাস্টার ডেভেলপার হিসেবে নির্বাচন করা হয়। হালমার ও স্কানস্কার নেতৃত্বে গঠিত যৌথ উদ্যোগটি নতুন স্টেশনের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ফেডারেল সরকার ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ এগিয়ে নিতে অর্থ দিয়েছে। পরিবহন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে ৪৩ মিলিয়ন ডলার ফেডারেল গ্র্যান্ট দেওয়া হয়। এরপর গত মে মাসে ডিজাইন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের কাজ এগিয়ে নিতে আরও ২০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা আসে।
জুলাইয়ে ফেডারেল রেলরোড অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের একটি প্রাথমিক গবেষণায় বলা হয়েছে, বিদ্যমান অবকাঠামোতে কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে পেন স্টেশনে ঘণ্টায় ট্রেন পরিচালনার সক্ষমতা সর্বোচ্চ ৩২টি পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব হতে পারে। এই গবেষণার ফল ভবিষ্যতের ট্র্যাক ও স্টেশন ডিজাইন তৈরিতেও ব্যবহার করা হচ্ছে।
পেন স্টেশনের নাম কোথা থেকে এলো
আজকের “Penn Station” নামটির সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা রাজনীতিকের সম্পর্ক নেই। নামটি এসেছে Pennsylvania Railroad থেকে।
এই রেল কোম্পানিই বিংশ শতাব্দীর শুরুতে নিউইয়র্কে মূল Pennsylvania Station নির্মাণ করেছিল। ১৯১০ সালে চালু হওয়া সেই স্টেশন ছিল বিশাল ও জমকালো স্থাপত্যের জন্য বিখ্যাত। উঁচু ছাদ, বিশাল কলাম এবং খোলা পরিসরের কারণে ভবনটি নিউইয়র্কের অন্যতম স্থাপত্য নিদর্শনে পরিণত হয়েছিল।
কিন্তু ১৯৬৩ সালে মূল ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। পরে ওই এলাকার ওপর ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন নির্মিত হয় এবং পেন স্টেশনের বড় অংশ চলে যায় ভূগর্ভে।
মূল পেন স্টেশন ধ্বংস নিউইয়র্কের ইতিহাসে অত্যন্ত বিতর্কিত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই ঘটনা শহরের ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণের আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
এবারের নতুন ডিজাইনে সেই হারিয়ে যাওয়া স্থাপত্যের কিছু বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা রয়েছে। প্রকাশিত রেন্ডারিংয়ে বড় প্রবেশপথ, কলাম এবং আগের তুলনায় অনেক বেশি খোলামেলা পরিবেশ দেখা গেছে।
ট্রাম্পের নাম নিয়ে বিতর্ক কেন
নাম পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আসার পর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। ম্যানহাটনের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য জেরি ন্যাডলার এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। সমালোচকদের বক্তব্য, বিপুল অর্থের অবকাঠামো প্রকল্পে যাত্রীসেবা, নির্মাণ ব্যয় ও সময়সীমাই অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যায় থাকা পেন স্টেশনকে আধুনিক ও বিশ্বমানের ট্রানজিট হাবে রূপ দেওয়াই তাদের লক্ষ্য।
প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও গত কয়েক বছরে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিবহন বিভাগ পেন স্টেশন পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন আনে। এরপর আমট্রাককে সামনে রেখে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এখন নাম পরিবর্তনের বিষয়টি কংগ্রেসের সামনে তোলায় পেন স্টেশনকে ঘিরে অবকাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি রাজনৈতিক আলোচনাও আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য দুটি। প্রথমত, প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনায় নিউইয়র্ক পেন স্টেশনের বড় ধরনের রূপান্তর এগিয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, ট্রাম্প প্রশাসন স্টেশনটির নাম পরিবর্তন করতে চায়।
কিন্তু শত বছরের বেশি সময় ধরে পরিচিত “Penn Station” নামটি শেষ পর্যন্ত বদলাবে কি না এবং বদলালে সেখানে “Trump” নাম যুক্ত হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। নিউইয়র্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াত কেন্দ্রগুলোর একটির নতুন চেহারার পাশাপাশি তাই এখন নজর থাকবে তার ভবিষ্যৎ নামের দিকেও।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreডালাসে রিপাবলিকান পার্টির প্রথম মিডটার্ম কনভেনশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থকদের নভেম্বরে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভোট না দিলে তাদের ‘জাহান্নামে’ যেতে হবে। ১০ সেপ্টেম্বর টেক্সাসের ডালাসে আমেরিকান এয়ারলাইন্স সেন্টারে অনুষ্ঠিত কনভেনশনের শেষ দিনে ট্রাম্পের বক্তব্যে ২০২৬ সালের মিডটার্ম নির্বাচনকে ঘিরে রিপাবলিকানদের ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ট্রাম্প সমর্থকদের হাত তুলে নভেম্বরে ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করতে বলেন। এরপর রসিকতার সুরে তিনি বলেন, ভোট না দিলে কী হবে, তা তারা জানেন এবং ভোট না দিলে ‘জাহান্নামে’ যেতে হবে। রিপাবলিকান পার্টির এই নজিরবিহীন মিডটার্ম কনভেনশন ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর ডালাসে অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের বড় জাতীয় রাজনৈতিক কনভেনশন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বছরেই অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৬ সালের মিডটার্ম নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের এমন জাতীয় কনভেনশন আয়োজন তাই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য ছিল ট্রাম্পের জনপ্রিয় সমর্থকগোষ্ঠীকে সক্রিয় করা এবং কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার জন্য ভোটারদের উৎসাহিত করা। সমাপনী বক্তব্যে ট্রাম্প শুধু ভোটের আহ্বানেই থামেননি। অর্থনৈতিক চাপের বিষয়টিও তুলে ধরে তিনি আবারও প্রতিশ্রুতি দেন, রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানকে ৫ হাজার ডলারের একটি চেক দেওয়া হবে। তবে এই অর্থ কোথা থেকে আসবে বা কীভাবে বিতরণ করা হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা দেননি। স্বাস্থ্যসেবা নিয়েও নতুন প্রতিশ্রুতি দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, বড় হেলথ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোকে অর্থ দেওয়ার পরিবর্তে সেই অর্থ সরাসরি আমেরিকানদের দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে তারা নিজেদের হেলথ কেয়ার খরচ মেটাতে পারেন। পাশাপাশি ট্যাক্স কাট স্থায়ী করা এবং প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম কমানোর প্রচেষ্টার কথাও বলেন তিনি। ডালাসের এই কনভেনশনকে ঘিরে রিপাবলিকানদের মূল লক্ষ্য ছিল নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচনের আগে দলীয় সমর্থকদের আরও সক্রিয় করা। তবে ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে পুরো নির্বাচনী কৌশল সাজানো নিয়ে দলের ভেতরেও কিছু উদ্বেগ রয়েছে। কয়েকজন রিপাবলিকান নেতা মনে করছেন, ট্রাম্পের শক্তিশালী সমর্থকগোষ্ঠীকে ভোটকেন্দ্রে আনতে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও স্বতন্ত্র ভোটারদের কাছে তার জনপ্রিয়তা নির্বাচনী ফলাফলে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালের মিডটার্ম নির্বাচন ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাই রিপাবলিকানদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তাই ডালাসের কনভেনশনে ট্রাম্পের বক্তব্যকে দলীয় ভোটারদের সংগঠিত করার পাশাপাশি নিজের প্রেসিডেন্সিকে কেন্দ্র করে নির্বাচনকে একটি গণভোটের রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
বিয়ের পথে দুর্ঘটনা, হাসপাতালের বিছানাতেই বিয়ে
গ্র্যাজুয়েশন শেষেই বাড়ি কেনার সুযোগ! যুক্তরাষ্ট্রের সাশ্রয়ী ৫ শহরের তালিকা জেনে নিন
যুক্তরাষ্ট্রে গৃহঋণের সুদহার ১৪ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় কিশোর বয়সে যমজ বোনের সঙ্গে মিলে মাকে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত তাসমিয়াহ হোয়াইটহেড কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। ৩০ বছরের সাজা হলেও প্রায় ১২ বছর পর গত ৫ আগস্ট প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে তাঁকে। তাসমিয়াহ ও তাঁর যমজ বোন জাসমিয়াহ হোয়াইটহেড ২০১০ সালের ১৩ জানুয়ারি তাঁদের মা জারমেকা ‘নিকি’ হোয়াইটহেডকে হত্যা করেন। রকডেল কাউন্টির বাড়িতে ওই ঘটনার সময় মাকে ৫০ থেকে ৮০ বার ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। এ ঘটনার পর দুই বোনকে ‘টুইস্টেড টুইনস’ নামে ডাকা শুরু হয়। তাসমিয়াহর বয়স এখন ৩৩ বছর। তিনি ‘টাস’ নামে পরিচিত। জর্জিয়ার সংশোধন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ আগস্ট তাঁকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। ২০১৪ সালে তিনি হত্যার অভিযোগে দোষ স্বীকার করে সমঝোতার ভিত্তিতে সাজা পান। সমঝোতার আওতায় তাঁর বিরুদ্ধে থাকা হত্যা মামলা স্বেচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে নামিয়ে আনা হয়। তাঁকে ওই অভিযোগে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর সঙ্গে অপরাধের সময় ছুরি রাখার জন্য আরও পাঁচ বছর এবং সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার জন্য আরও পাঁচ বছরের সাজা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে তাঁর সাজা দাঁড়ায় ৩০ বছর। তাসমিয়াহ কারাগারে যাওয়ার আগে বিচারপূর্ব আটকসহ মোট ১৬ বছর সাজা ভোগ করেছেন। ২০১৭ সাল থেকেই তিনি প্যারোলের জন্য যোগ্য ছিলেন। তবে প্যারোল বোর্ড তাঁর মুক্তির অনুমোদন দেওয়ার আগে আরও প্রায় নয় বছর কারাগারে থাকতে হয়। ২০১০ সালের ওই ঘটনার সময় যমজ দুই বোনের বয়স ছিল কিশোরী। তাঁদের মা কিছুদিন আগে তাঁদের আবার নিজের সঙ্গে থাকতে দিয়েছিলেন। এর আগে দুই বোনের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ায় তাঁরা অন্য জায়গায় ছিলেন বলে তদন্তে জানা যায়। ঘটনার দিন স্কুলে যেতে দেরি হওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে দুই বোনের ঝগড়া হয়। পরে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। দুই বোনের দাবি ছিল, তাঁদের মা রান্নার পাত্র দিয়ে হুমকি দিয়েছিলেন। এরপর তাঁরা মাকে ধরে ফেলেন এবং মারামারি শুরু হয়। তাসমিয়াহ তদন্তকারীদের জানিয়েছিলেন, প্রথমে তিনি একটি পাত্র দিয়ে মায়ের মাথায় আঘাত করেন। পরে রান্নাঘর থেকে একটি ছুরি নিয়ে মাকে আঘাত করেন। জাসমিয়াহর ভাষ্য অনুযায়ী, মারামারির সময় তাঁদের মা তাঁর বুকে কামড় দিয়েছিলেন। এরপর তাসমিয়াহ ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। মাকে গুরুতর আহত করার পর দুই বোন তাঁর মরদেহ বাথরুমে নিয়ে গিয়ে পানিভর্তি বাথটাবে রাখেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ ধারণা করেছিল, বাথটাবে নেওয়ার সময়ও তাঁদের মা জীবিত ছিলেন। এরপর দুই বোন স্কুলে চলে যান। স্কুল থেকে ফিরে তাঁরা পুলিশকে ফোন করেন এবং প্রথমে নিজেদের নির্দোষ হিসেবে উপস্থাপন করেন। পুলিশও শুরুতে তাঁদের হত্যার শিকার হিসেবে বিবেচনা করেছিল। তদন্তকারীরা পরে তাঁদের শরীরে থাকা কামড় ও আঁচড়ের চিহ্ন নিয়ে সন্দেহ করেন। দুই বোন এসব চিহ্ন লুকানোর চেষ্টা করেছিলেন। একপর্যায়ে তদন্তকারীরা গাড়িতে একটি গোপন রেকর্ডিং ডিভাইস ব্যবহার করেন। সেখানে দুই বোনকে হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ এবং খুনের অস্ত্র না পাওয়ার বিষয় নিয়ে কথা বলতে শোনা যায় বলে তদন্তে উঠে আসে। ঘটনার প্রায় চার মাস পর দুই বোনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুরুতে তাঁরা হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করলেও ২০১৪ সালে দুজনই সমঝোতার মাধ্যমে অভিযোগ স্বীকার করে সাজা নেন। তাসমিয়াহ মুক্তি পেলেও তাঁর যমজ বোন জাসমিয়াহ এখনো কারাগারে রয়েছেন। একই ধরনের সমঝোতায় সাজা পাওয়া জাসমিয়াহ ২০২৮ সালের মে মাসের আগে প্যারোলের জন্য যোগ্য হবেন না। তাসমিয়াহর মুক্তিতে তাঁদের দাদি লিন্ডা হোয়াইটহেড ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর প্রশ্ন ছিল, একজনকে ৩০ বছরের সাজা দিয়ে এত দ্রুত প্যারোলের সুযোগ দেওয়া হলে নিহত নিকি হোয়াইটহেডের ন্যায়বিচার কোথায়?
বিমানে যাত্রীকে মারধরের অভিযোগ, ডাক্ট টেপে সিটে বেঁধে রাখলেন সহযাত্রীরা
প্রতি বছর ২০ থেকে ৩০ হাজার আমেরিকান ইসলাম গ্রহণ করেন, গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির ঋণের সুদ ১৪ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ, ৭ শতাংশের পথে মর্টগেজের হার
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক এআই নির্মিত পোস্টকে তাঁর ‘ব্রেইন রট’ বা মানসিক অবক্ষয়ের লক্ষণ বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা সারাহ ম্যাথিউজ। তাঁর দাবি, ট্রাম্প এত বেশি মিম ও এআই-নির্মিত কনটেন্ট পোস্ট করছেন যে মানুষ তাঁর এসব অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। সাবেক হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি ম্যাথিউজ বলেন, ট্রাম্প ‘এত বেশি পোস্ট করছেন যে তাঁর কর্মকাণ্ড কতটা অদ্ভুত, তা নিয়ে মানুষের সংবেদনশীলতা কমে গেছে। তাঁর মতে, ৮০ বছর বয়সী একজন প্রেসিডেন্টকে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরে তৈরি করা অসংখ্য এআই কনটেন্ট দেখা ও পুনরায় পোস্ট করতে এতটা সময় ব্যয় করতে দেখা উদ্বেগজনক।‘ শ্রম দিবসের ছুটির সপ্তাহান্তে ট্রাম্প মাত্র ১০ ঘণ্টায় অন্তত ৬০টি পোস্ট করেন। এসবের অনেকগুলোই ছিল এআই-নির্মিত মিম। কোনো পোস্টে তাঁকে রোবটের সঙ্গে দেখা গেছে, কোনোটি ছিল শেয়ারবাজারে তাঁর বিনিয়োগ নিয়ে; আবার একটি পোস্টে মেক্সিকো, কানাডা, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দেখানো মানচিত্রও ছিল। আরেকটি এআই ছবিতে ট্রাম্পকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে আইস হকি খেলতে দেখা যায়। ইরান প্রসঙ্গেও কয়েকটি পোস্টে ট্রাম্পকে যুদ্ধজাহাজ থেকে বিমান হামলা পর্যবেক্ষণ কিংবা মহাকাশ থেকে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপকারী এক যুদ্ধনেতা হিসেবে তুলে ধরা হয়। একটি পোস্টে তাঁকে ওভাল অফিসে বসে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে লাভবান হতে দেখা যায়। ট্রাম্পের এসব পোস্ট নিয়ে অন্য রাজনৈতিক সমালোচকরাও প্রশ্ন তুলেছেন। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য চেলি পিংরি এগুলোকে ‘স্বাভাবিক নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং ট্রাম্পের আচরণ নিয়ে রিপাবলিকানদের আরও কঠোরভাবে প্রশ্ন তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইংল বলেন, ট্রুথ সোশ্যাল এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে ট্রাম্প কোনো পক্ষপাতদুষ্ট গণমাধ্যমের ব্যাখ্যা ছাড়াই সরাসরি মার্কিন জনগণ ও বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ট্রাম্পের সাবেক সহযোগী ম্যাথিউজ প্রথম প্রশাসনের সময় হোয়াইট হাউসে কাজ করেছিলেন। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হামলার পর তিনি পদত্যাগ করেন এবং পরে ওই হামলা তদন্তকারী প্রতিনিধি পরিষদের কমিটির সামনে সাক্ষ্য দেন।
ভোটকেন্দ্রে সশস্ত্র আইসিই এজেন্ট মোতায়েন ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা
টেক্সাস সিনেট জরিপে রিপাবলিকানদের পেছনে ফেলে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা