আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখলেই নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের পক্ষে প্রায় অর্ধেক আমেরিকান, জরিপে চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৩:৫১
যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখলেই নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের পক্ষে প্রায় অর্ধেক আমেরিকান
যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখলেই নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের পক্ষে প্রায় অর্ধেক আমেরিকান

গাজায় সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখলেই তাকে গ্রেপ্তার করা উচিত বলে মনে করেন দেশটির প্রায় অর্ধেক নাগরিক।

 

সম্প্রতি প্রকাশিত এক জরিপের ফলাফলে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সাধারণ আমেরিকানদের পাশাপাশি রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশও এই দাবির পক্ষে সায় দিয়েছেন।

 

প্রকাশিত জরিপের তথ্যানুযায়ী, ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া নাগরিকদের মধ্যে প্রায় এক-চতুর্থাংশ বা ২৫ শতাংশ বিশ্বাস করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা উচিত।

 

অথচ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার জোর দিয়ে বলেছেন, মার্কিন ভূখণ্ডে গাজা যুদ্ধের কোনো অভিযোগ তুলে নেতানিয়াহুকে কখনোই গ্রেপ্তার করতে দেওয়া হবে না।

 

উল্লেখ্য, গাজা সংঘাত তীব্র হওয়ার পর বিগত এক বছরে নেতানিয়াহু বেশ কয়েকবার যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন।

 

মার্কিন প্রশাসনের নীতি ও রাজনৈতিক আশ্বাস সত্ত্বেও সাধারণ আমেরিকান এবং ট্রাম্প সমর্থকদের এক বড় অংশের মাঝে নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তার নিয়ে এমন মনোভাব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

আমেরিকা

View more
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ডা. অদিতি সাহা অনন্যা
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন বাংলাদেশি নবীন চিকিৎসক

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ডা. অদিতি সাহা অনন্যা নামের এক বাংলাদেশি তরুণ চিকিৎসক। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করে চিকিৎসা পেশার নতুন অধ্যায় শুরু করার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তার এমন করুণ ও অকাল মৃত্যুতে পরিবার, সহপাঠী ও গোটা চিকিৎসক সমাজে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহত অদিতির গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলায়; তিনি তার বাবা বাবুল সাহার একমাত্র কন্যাসন্তান ছিলেন।   পারিবারিক ও সহপাঠীদের সূত্রে জানা গেছে, ডা. অদিতি সাহা অনন্যা রাজধানীর জহিরুল হক শিকদার মেডিক্যাল কলেজের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। সেখান থেকে সফলভাবে এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর সম্প্রতি স্বামীর সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। সেখানে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক 'ইউনাইটেড স্টেটস মেডিক্যাল লাইসেন্সিং এক্সামিনেশন' (USMLE) সফলভাবে সম্পন্ন করে একটি স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এই মেধাবী তরুণী।   সবশেষ চলতি বছরের জুলাই মাসেই যুক্তরাষ্ট্রে ইন্টারনাল মেডিসিনে রেসিডেন্সি শুরু করেছিলেন ডা. অদিতি। চিকিৎসক হিসেবে নিজের বর্ণিল স্বপ্নযাত্রায় সবেমাত্র পা রেখেছিলেন তিনি, কিন্তু শিকাগোর সড়কে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা অকালেই কেড়ে নেয় তার সম্ভাবনাময় জীবন। তার মৃত্যুর দুঃসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর দেশে ও প্রবাসে অবস্থানরত সহপাঠী, সহকর্মী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে গভীর শোক ও স্তব্ধতা বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তাকে একজন মেধাবী, মানবিক ও নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক হিসেবে স্মরণ করে তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৫:১৪
যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখলেই নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের পক্ষে প্রায় অর্ধেক আমেরিকান

যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখলেই নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের পক্ষে প্রায় অর্ধেক আমেরিকান, জরিপে চাঞ্চল্যকর তথ্য

জেফরি এপস্টিন ও তার প্রেমিকা

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের জন্য বেলারুশীয় প্রেমিকার ভুয়া সমকামী বিয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন জেফরি এপস্টিন

জর্জিয়ার চাটুগা কাউন্টি স্কুল জেলায় সপ্তাহে পাঁচ দিনের বদলে চার দিন ক্লাস চালু করায় মিলছে একের পর এক সুফল। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে চার দিনের অফিস নিয়ে যখন বিতর্ক, তখন চার দিনের ক্লাসে মিলছে ইতিবাচক ফল

নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো শাহ্ চন্দ্রপুরী জাকের কল্যাণ ফাউন্ডেশনের বার্ষিক পুনর্মিলনী। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে শাহ্ চন্দ্রপুরী জাকের কল্যাণ ফাউন্ডেশনের বার্ষিক পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে শাহ্ চন্দ্রপুরী জাকের কল্যাণ ফাউন্ডেশন আমেরিকা ইনকর্পোরেশনের বার্ষিক পুনর্মিলনী। গত ২৬ জুলাই স্থানীয় একটি মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে চন্দ্রপাড়া পাক দরবার শরীফের বিপুলসংখ্যক আশেক, জাকের ও শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেন।   অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ফাউন্ডেশনের মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী। এতে বাংলাদেশের ফরিদপুরে সম্প্রতি প্রায় চার হাজার অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরা হয়। আয়োজকদের মতে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মানবসেবায় সংগঠনের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে প্রবাসী জাকেরদের অবহিত করা হয়।   শাহ্ চন্দ্রপুরী জাকের কল্যাণ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন জামানার মোজাদ্দেদ হযরত মাওলানা শাহ্ সুফী সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ শাহ্ চন্দ্রপুরী (রহ.)। মহান সাধক হযরত খাজা এনায়েতপুরী (রহ.)-এর নেসবতভুক্ত দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারকে স্বাবলম্বী করে তোলা প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম লক্ষ্য। ফাউন্ডেশনের দাবি অনুযায়ী, তারা বছরজুড়ে সাদকা-ই-জারিয়াভিত্তিক স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা সহায়তা এবং দুর্যোগকবলিত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।   আয়োজকরা জানান, আত্মশুদ্ধি, দিল জিন্দা, নামাজে হুজুরি অর্জন এবং মানবসেবার আদর্শকে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে হযরত মাওলানা সৈয়দ কামরুজ্জামান শাহ্ চন্দ্রপুরী নকশবন্দী মোজাদ্দেদী (রহ.)-এর নির্দেশনায় যুক্তরাষ্ট্রেও ফাউন্ডেশনটি একটি অলাভজনক দাতব্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।   পুনর্মিলনী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আমন্ত্রিত বক্তারা আত্মশুদ্ধি, দিল জিন্দা এবং সালাতে একনিষ্ঠতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, একজন মুমিনের চরিত্র গঠনে মিথ্যা, অন্যের হক নষ্ট করা, পরনিন্দা, হারাম উপার্জন ও হারাম ভক্ষণসহ সব ধরনের আত্মঘাতী আচরণ পরিহার করা জরুরি।   বক্তারা উপস্থিত সবার প্রতি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়, ওজিফা পালন, মোরাকাবা চর্চা এবং দান-সদকার মাধ্যমে মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান।   অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে পবিত্র ফাতেহা শরীফ, মিলাদ শরীফ, কিয়াম ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিশ্বশান্তি, মানবজাতির কল্যাণ এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা হয়। দোয়ার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এই ধর্মীয় ও সামাজিক মিলনমেলার সমাপ্তি ঘটে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৩:০
হোয়াইট হাউসে বৈঠকের ঠিক আগে নেতানিয়াহুর ওপর বিরক্তি ও হতাশা প্রকাশ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

হোয়াইট হাউসে বৈঠকের আগে নেতানিয়াহুর ওপর ট্রাম্পের ক্ষোভ প্রকাশ

ভাড়ার মেয়াদ শেষ হওয়ায় সান ডিয়েগোর ঐতিহাসিক বারিও লোগান এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ডাকঘরটি আগামী ৭ আগস্ট বন্ধ হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

ডাকঘর বন্ধের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ সান ডিয়েগোর বাসিন্দারা, সেবা সংকটের শঙ্কা

সিএনএন সাংবাদিক কেইটলান কলিন্সের প্রাপ্ত সাংবাদিকতা পুরস্কারকে ‘ভুয়া’ বলে মন্তব্য করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

পুরস্কারকে ‘ভুয়া’ বললেন ট্রাম্প, পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় যা বললেন সিএনএন সাংবাদিক

কানাডা ভ্রমণ শেষে মিশিগানে ফেরার পথে ভুল পরিচয়ের জেরে মার্কিন সীমান্তে হেনস্তার শিকার হয়েছেন এক এইচ-১বি ভিসা ধারী। ছবি: সিবিপি ফটোগ্রাফি
নামের ভুলে মার্কিন সীমান্তে আটক এইচ-১বি ভিসাধারী, আধাঘণ্টা পর মিলল মুক্তি

কানাডা সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় ভুল পরিচয়ের কারণে এক এইচ-১বি ভিসাধারী ভ্রমণকারীকে আটক করে হাতকড়া পরায় যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা সংস্থা। পরে আঙুলের ছাপ ও পরিচয় যাচাই শেষে এটি নামের বিভ্রান্তি ছিল বলে নিশ্চিত হয়ে প্রায় ৩০ মিনিট পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।   প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি সপ্তাহান্তে ডেট্রয়েট-উইন্ডসর সীমান্তে ঘটে। ভ্রমণকারী প্রথমবারের মতো সড়কপথে কানাডা সফর করে মিশিগানে ফিরছিলেন। তার এইচ-১বি ভিসার মেয়াদ শেষ হতে তখনও এক মাসের বেশি সময় বাকি ছিল।   সীমান্তে নিয়মিত জিজ্ঞাসাবাদের পর এক কর্মকর্তা তাকে গাড়ি থেকে নামতে বলেন। বাইরে অপেক্ষমাণ দুই কর্মকর্তা তার হাতে হাতকড়া পরিয়ে একটি আটককক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তার শরীর তল্লাশি করা হয়। পরে হাতকড়া খুলে অন্য কক্ষে নিয়ে আঙুলের ছাপ নেওয়া হয় এবং নাম, কানাডা সফরের উদ্দেশ্য ও ভ্রমণসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য জানতে চাওয়া হয়।   কিছুক্ষণ পর কর্মকর্তারা বুঝতে পারেন, তারা যাকে খুঁজছিলেন এই ভ্রমণকারী তিনি নন। পরিচয় যাচাইয়ে দেখা যায়, একই বা কাছাকাছি নামের আরেক ব্যক্তির সঙ্গে বিভ্রান্তির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। এরপর তাকে আরও কিছু সাধারণ প্রশ্ন করা হয় এবং কম্পিউটারে তথ্য যাচাই শেষে প্রায় ৩০ মিনিট পর জানিয়ে দেওয়া হয় যে এটি কেবল পরিচয়গত বিভ্রান্তি ছিল। এরপর তাকে যেতে দেওয়া হয়।   ঘটনার পর ওই ভ্রমণকারী নিজের অভিজ্ঞতা অনলাইনে প্রকাশ করে জানতে চান, ভবিষ্যতেও এমন সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন কি না। তার পোস্টের জবাবে অনেকেই জানান, মিশিগান সীমান্তে একই ধরনের পরিচয় বিভ্রান্তির কারণে তারা অতীতে অতিরিক্ত জিজ্ঞাসাবাদ বা আটকের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের পুনরাবৃত্ত পরিচয়জনিত বিভ্রান্তির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির মাধ্যমে সহায়তার আবেদন করা যায়। এছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অন্টারিওর এক সংগীতশিল্পী একই নামের এক অপরাধীর সঙ্গে বিভ্রান্তির কারণে ডেট্রয়েট সীমান্তে আটক হয়েছিলেন। কয়েক ঘণ্টা পর তার পরিচয় নিশ্চিত হলে তাকেও ছেড়ে দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশের সময় পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা সংস্থার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৮, ২০২৬ ১০:৫৪
সন্তানের জন্মের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে হাসপাতালে থেকেই ভার্চুয়ালি বিয়ে সম্পন্ন করলেন এক মার্কিন দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত

সন্তানের জন্মের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিয়ে, একসঙ্গে উদযাপন দুই সুখের মুহূর্ত

জর্জিয়ার চাটুগা কাউন্টি স্কুল জেলায় সপ্তাহে পাঁচ দিনের বদলে চার দিন ক্লাস চালু করায় মিলছে একের পর এক সুফল। ছবি: সংগৃহীত

জর্জিয়ার স্কুলে পাঁচ দিনের বদলে চার দিন ক্লাস, মিলছে একের পর এক সুফল

গ্র্যান্ড হেভেন টাউনশিপে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের পর ওই বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

মিশগানে স্ত্রী ও ছয় সন্তানকে গুলি করে হত্যার পর বাড়িতে আগুন দিল বাবা

0 Comments