সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

নিউইয়র্কে ৯/১১ হামলার পর টানা ৪০ দিন বিনা ভাড়ায় ট্যাক্সি চালিয়েছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত গুরবিন্দর

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৮:৩১
ভারতীয় বংশোদ্ভূত ট্যাক্সিক্যাব চালক গুরবিন্দর সিং
ভারতীয় বংশোদ্ভূত ট্যাক্সিক্যাব চালক গুরবিন্দর সিং

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর যখন পুরো নিউইয়র্ক শহর শোক ও স্তব্ধতায় আচ্ছন্ন, তখন এক অনন্য মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ট্যাক্সিক্যাব চালক গুরবিন্দর সিং। হামলার দিন সকালেও তিনি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন।

 

এরপর শহরের মানুষের দুর্দশা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সংকট দেখে তিনি নিজের উপার্জনের কথা না ভেবে টানা ৪০ দিন বিনামূল্যে ট্যাক্সি চালিয়েছেন। সেসময় যাদের জরুরি যাতায়াতের প্রয়োজন ছিল, তাদের কাউকেই ফেরাননি এবং কারো কাছ থেকেই কোনো ভাড়া নেননি এই মহানুভব চালক। সম্প্রতি এক্সে শাবোস কেস্টেনবাউম নামের এক যাত্রীর পোস্টের মাধ্যমে ২৫ বছর পর এই নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের গল্পটি নতুন করে বিশ্ববাসীর সামনে এসেছে।

 

পঁয়ত্রিশ বছর আগে ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো গুরবিন্দর সিং এখনো নিউইয়র্কে ট্যাক্সি চালান। শাবোস কেস্টেনবাউমের সাথে যাত্রাপথে তিনি তার সেদিনের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন এবং নিউইয়র্কের তৎকালীন মেয়র রুডি জুলিয়ানির দেওয়া একটি প্রশংসাপত্রও দেখান। ওই চিঠিতে বিপদের সময় শহরের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য গুরবিন্দরকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন মেয়র।

 

২৫তম বার্ষিকীতে গুরবিন্দর বিশ্ববাসীর প্রতি একটি বার্তাও দিয়েছেন— "সব মানুষকে ভালোবাসুন এবং সম্মান করুন।" সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা অভিবাসীদের অবদানের কথা স্মরণ করে গুরবিন্দরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। সাধারণ মানুষের এই ধরনের নিঃস্বার্থ সেবাই যে যেকোনো বড় বিপর্যয় মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় হাতিয়ার, গুরবিন্দরের গল্পটি তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজিত হ্যালোইন অনুষ্ঠানে সোভিয়েত ইউনিয়নের সামরিক বাহিনীর পোশাকের আদলে সেজে হাজির হয়েছে এক শিশু
হোয়াইট হাউসে সোভিয়েত সেনাবাহিনীর পোশাকে শিশু, ট্রাম্পের হ্যালোইন অনুষ্ঠানে আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজিত হ্যালোইন অনুষ্ঠানে সোভিয়েত ইউনিয়নের সামরিক বাহিনীর পোশাকের আদলে সেজে হাজির হয়েছে এক শিশু। তার সঙ্গে ছিল রাশিয়ার ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা আরেক শিশু। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুই শিশুকে স্বাগত জানান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। অনুষ্ঠানের ভিডিও প্রকাশের পর শিশুদের ব্যতিক্রমী পোশাক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এবং ইউক্রেনের সংবাদমাধ্যম ইউক্রেইনস্কা প্রাভদার প্রতিবেদনে ঘটনাটি উঠে এসেছে। হোয়াইট হাউসের আনুষ্ঠানিক ভিডিওতেও দুই শিশুকে দেখা যায়। একটি শিশু সোভিয়েত আমলের সামরিক ইউনিফর্মের মতো পোশাক পরে এসেছিল। তার মাথায় ছিল সোভিয়েত সামরিক টুপির আদলে তৈরি একটি ক্যাপ। অন্য শিশুটি পরেছিল রাশিয়ার ঐতিহ্যবাহী সারাফান পোশাক এবং কোকোশনিকের মতো মাথার সাজ।   হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অন্য শিশুদের মতো তারাও প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডির কাছ থেকে মিষ্টি সংগ্রহ করতে এগিয়ে যায়। এ সময় মেলানিয়া ট্রাম্প সোভিয়েত সামরিক পোশাক পরা শিশুটির টুপির দিকে নজর দেন এবং সেটি স্পর্শ করেন। পরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও মেলানিয়া তাদের মিষ্টি দেন। পুরো ঘটনাটি হোয়াইট হাউসের সরাসরি সম্প্রচারে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি আলোচনায় আসে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনে সোভিয়েত সামরিক পোশাকের উপস্থিতি অনেকের নজর কাড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ বিষয়টিকে হ্যালোইনের সাধারণ সাজসজ্জা হিসেবে দেখেছেন, আবার কেউ সোভিয়েত সামরিক প্রতীকের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে শিশু দুটির পরিচয় কিংবা তারা কেন এ ধরনের পোশাক বেছে নিয়েছিল, সে সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তাদের পোশাক নির্বাচনের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য জড়িত ছিল, এমন প্রমাণও পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটিকে রাজনৈতিক সমর্থন বা প্রতিবাদের প্রকাশ হিসেবে বিবেচনা করার ভিত্তি নেই। হ্যালোইন উপলক্ষে প্রতিবছর হোয়াইট হাউসে শিশু ও পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় শিশুরা বিভিন্ন চরিত্র, ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব, সুপারহিরো কিংবা কল্পনাপ্রসূত সাজে অংশ নেয়। প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডি শিশুদের স্বাগত জানান এবং তাদের হাতে চকলেট ও অন্যান্য মিষ্টি তুলে দেন।   হোয়াইট হাউসের ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী, এবারের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় ২৯ অক্টোবর বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত। এতে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের পরিবার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পরিবার, পালক ও দত্তক পরিবার এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সন্তানদের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়। অনুষ্ঠানের জন্য হোয়াইট হাউসের সাউথ লন ও সাউথ পোর্টিকো এলাকায় বিশেষ সাজসজ্জা করা হয়। শিশুদের জন্য বিভিন্ন স্টলে মিষ্টি, উপহার এবং বিনোদনমূলক কার্যক্রমের ব্যবস্থা ছিল। মার্কিন বিমানবাহিনীর সংগীতশিল্পীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি সংস্থা শিশুদের জন্য বিশেষ আয়োজন করে।   সংবাদমাধ্যম হ্রোমাদস্কের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে প্রায় ছয় হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। বিভিন্ন বয়সী শিশুরা বার্বি, ব্যাটম্যান, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং ফায়ারফাইটারসহ নানা ধরনের পোশাকে হাজির হয়। সেই ভিড়ের মধ্যেই সোভিয়েত সামরিক পোশাক ও রাশিয়ার ঐতিহ্যবাহী সাজে আসা দুই শিশু আলাদা করে নজর কাড়ে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সোভিয়েত সামরিক বাহিনী রেড আর্মি নামে পরিচিত ছিল। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তি ঘটে। তবে সাবেক সোভিয়েত রাষ্ট্রগুলোতে সামরিক পোশাক ও প্রতীকের ঐতিহাসিক গুরুত্ব এখনো রয়েছে।   বিশেষ করে ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সোভিয়েত সামরিক প্রতীকের ব্যবহার একটি সংবেদনশীল বিষয়। ইউক্রেনসহ পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সোভিয়েত আমলের ইতিহাস ও প্রতীক নিয়ে ভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। এ কারণেই হোয়াইট হাউসের হ্যালোইন অনুষ্ঠানে এমন পোশাকের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজরে এসেছে। তবে হ্যালোইন মূলত একটি উৎসব, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন ধরনের পোশাক পরে আনন্দ উদযাপন করেন। হোয়াইট হাউসের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিশুদের পোশাকও সেই উৎসবের অংশ ছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিংবা মেলানিয়া ট্রাম্প শিশুদের পোশাকের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে কোনো মন্তব্য করেছেন বলে নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ পাওয়া যায়নি।   হোয়াইট হাউসের আনুষ্ঠানিক ভিডিওতে ধারণ করা সংক্ষিপ্ত ঘটনাটি এখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হচ্ছে। শিশুদের পরিচয় অপ্রকাশিত থাকলেও সোভিয়েত সামরিক পোশাকের আদলে সাজা এক শিশুর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাক্ষাতের দৃশ্য এবারের হ্যালোইন অনুষ্ঠানের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।    

প্রকাশ: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ২:২৬
নিউইয়র্কে রবিবার মিটার পার্কিং ফ্রি

নিউইয়র্কে রবিবার মিটার পার্কিং ফ্রি, জরিমানা এড়াতে জানুন গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম

নিউইয়র্ক পুলিশের ইউনিফর্মে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’

নিউইয়র্ক পুলিশের ইউনিফর্মে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’! আবেগ আপ্লুতপ্রবাসীদের মধ্যে গর্বের অনুভূতি

মিশিগানের হ্যামট্রামেকে মেয়র নির্বাচিত বাংলাদেশি মুহিত মাহমুদ

মিশিগানের হ্যামট্রামেকে মেয়র নির্বাচিত বাংলাদেশি মুহিত মাহমুদ, আদালতের রায়

জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে অনেক পরিবার সঞ্চয় ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে সঞ্চয়ের হার চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন, নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছেন অনেকে

যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে গিয়ে সঞ্চয় কমিয়ে দিচ্ছেন বহু মানুষ। দেশটির ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের হার গত সেপ্টেম্বরে নেমে এসেছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশে, যা প্রায় চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সময়ে জরুরি খরচ মেটানোর মতো অর্থ হাতে না থাকা, মাসিক বিল পরিশোধে সমস্যা এবং স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের কথাও উঠে এসেছে বিভিন্ন জরিপে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিস্থিতি শুধু ব্যক্তিগত আর্থিক নিরাপত্তাকেই নয়, সামগ্রিক অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব ইকোনমিক অ্যানালাইসিসের (বিইএ) ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরে ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের হার ছিল ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। আগস্টে এই হার ছিল ৪ শতাংশ এবং জুলাইয়ে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের হার বলতে কর পরিশোধ ও ব্যয় মেটানোর পর মানুষের হাতে থাকা ব্যবহারযোগ্য আয়ের যে অংশ সঞ্চিত থাকে, তার অনুপাত বোঝায়। একই মাসে মানুষের ব্যক্তিগত আয় বেড়েছে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ, কিন্তু ভোগব্যয় বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ।   বিইএর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে পণ্য কেনাকাটায় ব্যয় বেড়েছে ৩৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার এবং বিভিন্ন সেবায় ব্যয় বেড়েছে ৭৮ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। জ্বালানি, আবাসন, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা ও বিমার মতো প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয়ের চাপও মানুষের সঞ্চয় কমার পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে এবিসি১৩-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে আয় বাড়লেও অনেক পরিবারের হাতে সঞ্চয়ের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ থাকছে না।   পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৬ সালের জুলাই-আগস্টে পরিচালিত এক জরিপেও মানুষের আর্থিক সংকটের চিত্র উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক জানিয়েছেন, তাঁরা যে ধরনের জীবনযাপন করতে চান, তার জন্য তাঁদের বর্তমান আয় যথেষ্ট নয়। ৫৩ শতাংশের কাছে এমন জরুরি তহবিল নেই, যা দিয়ে অন্তত তিন মাসের ব্যয় চালানো সম্ভব। এ ছাড়া ২৭ শতাংশ বলেছেন, সাধারণ কোনো মাসে তাঁরা কিছু বিল পরিশোধ করতে পারেন না অথবা আংশিক পরিশোধ করেন।   জরিপে আরও দেখা গেছে, ৩২ শতাংশ মার্কিন নাগরিক প্রায় প্রতিদিন স্বাস্থ্যসেবার খরচ ও নিজেদের ঋণের পরিমাণ নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। নিম্ন আয়ের মানুষের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন। পিউর তথ্য অনুযায়ী, নিম্ন আয়ের পরিবারের ৮২ শতাংশের বর্তমান আয় তাঁদের কাঙ্ক্ষিত জীবনযাপনের জন্য যথেষ্ট নয়। একই গোষ্ঠীর ৭৭ শতাংশের কাছে তিন মাসের জরুরি ব্যয় মেটানোর মতো সঞ্চয় নেই এবং ৪৯ শতাংশ নিয়মিত মাসিক বিল পরিশোধে সমস্যার কথা জানিয়েছেন।   হিউস্টন অঞ্চলের পরিস্থিতিও একই ধরনের আর্থিক চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাইস ইউনিভার্সিটির কিন্ডার ইনস্টিটিউট ফর আরবান রিসার্চের ২০২৬ সালের বার্ষিক ‘কিন্ডার হিউস্টন এরিয়া সার্ভে’ অনুযায়ী, বছরে ২৫ হাজার ডলারের কম আয় করা পরিবারের ৭৯ শতাংশের পক্ষে হঠাৎ ৪০০ ডলারের খরচ সামলানো কঠিন। হ্যারিস, ফোর্ট বেন্ড ও মন্টগোমারি কাউন্টির প্রায় ৯ হাজার বাসিন্দার মতামতের ভিত্তিতে জরিপটি পরিচালিত হয়। এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে সবচেয়ে বেশি আর্থিক চাপে থাকার চিত্র উঠে এসেছে।   অর্থনীতিবিদদের মতে, মানুষের সঞ্চয় কমে গেলে তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত বৃহত্তর অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। সঞ্চয়ের ঘাটতি পূরণ করতে অনেক পরিবার কেনাকাটা ও অন্যান্য ব্যয় কমিয়ে দেয়। এতে পণ্য ও সেবার চাহিদা কমতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আয় ও কর্মসংস্থানে। সান ডিয়েগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক অ্যালান জিন এবিসি১৩-কে বলেন, মানুষের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কেউ কেউ সঞ্চয় কমাচ্ছেন, আবার কেউ ঋণের ওপর নির্ভর করছেন। এর পেছনে বাড়তি খরচ বড় ভূমিকা রাখছে।   জিনের মতে, যাঁদের আয় স্থিতিশীল এবং চাকরি নিরাপদ, তাঁরা হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে এই চাপ অনুভব করছেন না। কিন্তু অন্যরা যখন পণ্য ও সেবা কেনা কমিয়ে দেন, তখন সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আর প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা কমে গেলে কর্মীদের চাকরিও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ভবিষ্যতে মানুষের সঞ্চয়ের সক্ষমতাকে কতটা প্রভাবিত করে, তা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব ইকোনমিক অ্যানালাইসিস, পিউ রিসার্চ সেন্টার, রাইস ইউনিভার্সিটির কিন্ডার ইনস্টিটিউট ও এবিসি১৩

প্রকাশ: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ০:২
এফএইচএ ঋণে বাড়ি কিনতে যোগ্য ক্রেতাদের ডাউন পেমেন্ট সহায়তা দেবে জিলো হোম লোনস। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৩ অঙ্গরাজ্যে বাড়ি কিনতে ডাউন পেমেন্টের পুরো অর্থ দেবে জিলো, পাঁচ বছর পর ঋণ মওকুফ

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০৩০ সালের নতুন ব্যাচে শিক্ষার্থীদের জাতিগত অনুপাতে পরিবর্তন দেখা গেছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এশীয় শিক্ষার্থী বেড়ে ৪৩.২ শতাংশ, কৃষ্ণাঙ্গ কমে ৯.৩ শতাংশ

নিউ জার্সির কয়েকটি শহরে দেড় লাখ ডলারের মধ্যে বাড়ি কেনার সম্ভাব্য সুযোগ রয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নিউ জার্সিতে দেড় লাখ ডলারের মধ্যে বাড়ি কেনার সুযোগ, তালিকায় রয়েছে ১০ শহর

বাড়ি কেনার সামর্থ্য থাকলেও ভাড়া বাসায় থাকতে আগ্রহী হচ্ছেন নিউ ইয়র্কের অনেক ধনী পরিবার। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
বাড়ি কেনার বদলে ভাড়ায় থাকছেন ধনীরা, নিউ ইয়র্কে বাড়ির মালিকদের চেয়ে দ্রুত বাড়ছে মিলিয়নিয়ার ভাড়াটে

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক মহানগর এলাকায় বাড়ির মালিক হওয়ার চেয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেই বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন উচ্চ আয়ের মানুষের একটি বড় অংশ। বছরে অন্তত ১০ লাখ ডলার আয় করেন, এমন ভাড়াটে পরিবারের সংখ্যা ২০২০ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে বেড়েছে ১৬৭ শতাংশ। ভাড়া আবাসনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রেন্টক্যাফের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অন্য যেকোনো মহানগর এলাকার তুলনায় নিউ ইয়র্কেই এখন সবচেয়ে বেশি উচ্চ আয়ের ভাড়াটে পরিবার রয়েছে।   রেন্টক্যাফের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে নিউ ইয়র্ক মহানগর এলাকায় বছরে অন্তত ১০ লাখ ডলার আয় করা ভাড়াটে পরিবারের সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ২৯৬। ২০২০ সালে এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৭৩০। অর্থাৎ চার বছরে বেড়েছে ৪ হাজার ৫৬৬টি পরিবার। এ তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সান ফ্রান্সিসকোতে এমন পরিবারের সংখ্যা ১ হাজার ৮৬৩, যা নিউ ইয়র্কের তুলনায় অনেক কম। লস অ্যাঞ্জেলেসে রয়েছে ১ হাজার ৫৩২টি পরিবার।   শুধু ভাড়াটের সংখ্যায় নয়, বছরে ১০ লাখ ডলার বা তার বেশি আয় করেন এবং নিজস্ব বাড়িতে থাকেন, এমন পরিবারের সংখ্যাতেও শীর্ষে রয়েছে নিউ ইয়র্ক। ২০২৪ সালে মহানগর এলাকায় এ ধরনের বাড়ির মালিক পরিবার ছিল ৩৩ হাজার ১৩৪টি। ২০২০ সালে সংখ্যাটি ছিল ১৪ হাজার ৩৩৯। চার বছরে বেড়েছে ১৩১ শতাংশ। ভাড়াটে ও বাড়ির মালিক, দুই শ্রেণি মিলিয়ে নিউ ইয়র্ক মহানগর এলাকায় উচ্চ আয়ের পরিবারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৪৩০।   পরিসংখ্যান বলছে, নিউ ইয়র্কের উচ্চ আয়ের পরিবারগুলোর প্রায় পাঁচটির মধ্যে চারটিই নিজস্ব বাড়িতে থাকে। তবে বাড়ির মালিকদের তুলনায় ভাড়াটে পরিবারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এ প্রবণতার পেছনে শুধু বাড়ি কেনার সামর্থ্যের অভাব কাজ করছে না। বরং অনেক ধনী পরিবার ইচ্ছা করেই ভাড়া বাসায় থাকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এতে সহজে স্থান পরিবর্তনের সুযোগ থাকে, বাড়ি কেনাবেচার ঝামেলা এড়ানো যায় এবং বিপুল অর্থ আবাসন খাতে আটকে না রেখে অন্য বিনিয়োগে ব্যবহার করা সম্ভব হয়।   নিউ ইয়র্কের বিলাসবহুল আবাসন বাজারেও এ প্রবণতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। ম্যানহাটনে অভিজাত অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া এক লাখ ডলার বা তারও বেশি পর্যায়ে পৌঁছেছে। অনেক উচ্চ আয়ের ব্যক্তি কয়েক মিলিয়ন ডলারের বাড়ি কেনার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ভাড়া বাসায় থাকছেন। বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি মালিকানার দায় এড়ানোর পাশাপাশি জীবনযাত্রায় নমনীয়তা ধরে রাখাই তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।   একই সঙ্গে বাড়ি কেনা ও ভাড়া থাকার খরচের ব্যবধানও বড় হয়ে উঠেছে। রিয়েলটর ডটকমের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউ ইয়র্ক সিটিতে মাঝারি দামের একটি বাড়ি কিনতে মাসে আনুমানিক ১০ হাজার ৭৩৭ ডলার খরচ হতে পারে। বিপরীতে, সেখানে বাড়ি ভাড়ার মধ্যম চাহিদামূল্য ৩ হাজার ৭৮৫ ডলার। অর্থাৎ বাড়ি কেনার মাসিক ব্যয় ভাড়ার তুলনায় প্রায় ৭ হাজার ডলার বেশি। যদিও এ হিসাব সাধারণ আবাসন বাজারের, শুধু উচ্চ আয়ের পরিবারগুলোর নয়।   নিউ ইয়র্কের এসব ধনী ভাড়াটের সবাই এককভাবে বছরে ১০ লাখ ডলার আয় করেন না। রেন্টক্যাফের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৭ হাজার ২৯৬টি পরিবারের মধ্যে মাত্র ১ হাজার ২৭৪ জন ভাড়াটে ব্যক্তি নিজে বছরে অন্তত ১০ লাখ ডলার আয় করেন। অর্থাৎ অধিকাংশ পরিবারের আয় একাধিক সদস্যের উপার্জন মিলিয়ে ১০ লাখ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। এতে বোঝা যায়, এ শ্রেণির ভাড়াটেদের মধ্যে উচ্চ আয়ের দম্পতি কিংবা একাধিক উপার্জনকারী সদস্যের পরিবারও উল্লেখযোগ্য।   জাতীয় পর্যায়েও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বছরে অন্তত ১০ লাখ ডলার আয় করা ভাড়াটে পরিবারের সংখ্যা বেড়েছে ২২৯ শতাংশ। একই সময়ে বাড়ির মালিক উচ্চ আয়ের পরিবারের সংখ্যা বেড়েছে ১৯৩ শতাংশ। ২০২৪ সালে দেশজুড়ে এমন ভাড়াটে পরিবারের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৮ হাজার ৪০০। তাঁদের মধ্যে মাত্র ৪ হাজার ৪৬২ জন ব্যক্তি নিজে বছরে ১০ লাখ ডলারের বেশি আয় করেন। বাকি পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে একাধিক সদস্যের সম্মিলিত আয় বড় ভূমিকা রেখেছে।   প্রজন্মভিত্তিক হিসাবেও পরিবর্তন স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ আয়ের ভাড়াটে পরিবারের প্রায় ৪৯ শতাংশই সহস্রাব্দ প্রজন্মের, যাদের বয়স সাধারণত ১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে। ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এ প্রজন্মের উচ্চ আয়ের ভাড়াটে পরিবারের সংখ্যা বেড়েছে ৩৯২ শতাংশ। জেনারেশন জেডের অংশ এখনো মাত্র ২ শতাংশ হলেও তাদের সংখ্যা এক ডজনেরও কম থেকে বেড়ে ৪০০ ছাড়িয়েছে। প্রযুক্তি উদ্যোগ, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও অনলাইন কনটেন্টভিত্তিক ব্যবসা থেকে আয় করা তরুণদের এ প্রবণতায় ভূমিকা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   নিউ ইয়র্কের বাইরে সান ফ্রান্সিসকো, লস অ্যাঞ্জেলেস, সান হোসে ও মায়ামিতেও উচ্চ আয়ের ভাড়াটে পরিবারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সান ফ্রান্সিসকোতে এ সংখ্যা বেড়েছে ২৭৩ শতাংশ, লস অ্যাঞ্জেলেসে ৬০৯ শতাংশ এবং সান হোসেতে ২১৫ শতাংশ। মায়ামিতে বেড়েছে ৯৫৫ শতাংশ। তবে সংখ্যার হিসাবে নিউ ইয়র্ক এখনো অন্য সব মহানগর এলাকার চেয়ে অনেক এগিয়ে।   রেন্টক্যাফের এ বিশ্লেষণ যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর ২০২০ ও ২০২৪ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভে এবং আইপিউএমএসের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। এখানে ‘মিলিয়নিয়ার ভাড়াটে’ বলতে ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ নয়, পরিবারের বার্ষিক আয় অন্তত ১০ লাখ ডলার এমন ভাড়া বাসায় থাকা পরিবারকে বোঝানো হয়েছে। ফলে বাড়ি বা বিনিয়োগসহ মোট সম্পদের ভিত্তিতে তাঁদের মিলিয়নিয়ার হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়নি।   সূত্র: রেন্টক্যাফে, নিউ ইয়র্ক পোস্ট।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ২৩:৬
শিক্ষাঋণের সুদের হার কমানোর প্রস্তাব বিবেচনার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে 'স্টুডেন্ট লোনে' সুদ কমানোর প্রস্তাব বিবেচনায় ট্রাম্প, উপকৃত হতে পারেন লাখো ঋণগ্রহীতা

যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইম স্থায়ী হলে শীতকালে সকালে অন্ধকারে স্কুলে যেতে হবে শিশুদের। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী ডেলাইট সেভিং টাইমে অন্ধকারে স্কুলে যেতে হবে শিশুদের, বাড়বে দুর্ঘটনা ঝুঁকি

মাত্র ৩৫০ ডলার মাসিক ভাড়ায় দুই শোবার ঘরের অ্যাপার্টমেন্ট পেয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন ম্যাডিসন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাসে না দেখেই সস্তায় অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া, পরে জানলেন সেটি বৃদ্ধদের আবাসন

0 Comments