যুক্তরাষ্ট্রের হাইস্কুলে পড়ার সুযোগ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের, আবেদন করবেন যেভাবে
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হাইস্কুলে এক সেমিস্টার পড়াশোনার সুযোগ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের কেনেডি-লুগার ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড স্টাডি বা কেএল-ইয়েস কর্মসূচি। ২০২৭ সালের বসন্তকালীন সেমিস্টারের এই কর্মসূচিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে একটি হাইস্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি একটি মার্কিন পরিবারের সঙ্গে বসবাস এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও নেতৃত্বমূলক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। বাংলাদেশে এই কর্মসূচির প্রাথমিক আবেদন বর্তমানে চলছে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকেল ৪টা।
ইয়েস কর্মসূচি হলো যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি। বাংলাদেশে কর্মসূচিটি পরিচালনা করছে আইইএআরএন-বাংলাদেশ। এর আওতায় শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাইস্কুলে পড়াশোনা করবেন এবং একটি মার্কিন পরিবারের সঙ্গে থাকবেন। পাশাপাশি নেতৃত্বের দক্ষতা বাড়ানো, মার্কিন সংস্কৃতি ও সমাজ সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জন এবং নিজেদের দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে মার্কিন কমিউনিটির মানুষকে জানার সুযোগ পাবেন।
২০২৭ সালের বসন্তকালীন সেমিস্টারের জন্য আবেদন করতে হলে শিক্ষার্থীর বয়স ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে হতে হবে। আবেদনকারীর জন্মতারিখ ১৫ জানুয়ারি ২০১০ থেকে ১৫ জানুয়ারি ২০১২-এর মধ্যে হতে হবে। তাকে বর্তমানে বাংলাদেশের কোনো মাধ্যমিক স্কুল বা কলেজের অষ্টম, নবম, দশম অথবা একাদশ শ্রেণিতে পড়তে হবে। বেসরকারি কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচির জন্য আবেদন করতে পারবেন না। একই সঙ্গে আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক ও বাসিন্দা হতে হবে।
শিক্ষাগত ফলাফলের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। আবেদনকারীর গড়ে কমপক্ষে বি গ্রেড বা সমমানের ফলাফল থাকতে হবে এবং কোনো বিষয়ে ফেল করা যাবে না। ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষাগত ফলাফলের নথি জমা দিতে হবে। গত তিন শিক্ষাবর্ষে কোনো বিরতি বা কোনো শ্রেণি পুনরায় পড়ার ইতিহাস থাকলেও আবেদন করা যাবে না। পাশাপাশি শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রের জে-১ বিনিময় ভিসার যোগ্যতা পূরণ করতে হবে এবং ইংরেজিতে কথা বলা ও পড়াশোনা করার মতো পর্যাপ্ত দক্ষতা থাকতে হবে।
আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পূর্ববর্তী ইতিহাসের ক্ষেত্রেও শর্ত রয়েছে। গত পাঁচ বছরে মোট ৯০ দিনের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে আবেদন করা যাবে না। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা এবং অন্য কোনো দেশের নাগরিক হিসেবে বিদেশে পড়াশোনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও এই কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বা মিশনে বর্তমানে কর্মরত কোনো অভিভাবকের সন্তান এবং ইয়েস কর্মসূচির বর্তমান অংশগ্রহণকারীর ভাই বা বোনও এই সুযোগের জন্য যোগ্য নন।
আবেদন প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথমে প্রাথমিক আবেদন জমা দিতে হবে। এরপর বাছাই প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে ইংরেজি ভাষার দক্ষতা পরীক্ষা, তত্ত্বাবধানে লিখিত পরীক্ষা, পূর্ণাঙ্গ আবেদন এবং সাক্ষাৎকার দিতে হবে। অর্থাৎ প্রাথমিক আবেদন জমা দিলেই যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়া যাবে না। শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিযোগিতামূলক মেধাভিত্তিক বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
আবেদন করার আগে শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক পাসপোর্ট আকারের ছবি, জন্মসনদের পরিষ্কার কপি এবং ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ফলাফলের নথি প্রস্তুত রাখতে হবে। এসব নথির নির্ধারিত বৈদ্যুতিন কপি জমা দিতে হবে। এই পর্যায়ে পাসপোর্ট থাকা বাধ্যতামূলক নয়।
প্রাথমিক আবেদন শুরু করতে নির্ধারিত আবেদন ব্যবস্থায় গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের সময় দেওয়া ই-মেইল ঠিকানায় একটি যাচাইকরণ বার্তা পাঠানো হবে। ই-মেইল ঠিকানা যাচাই করার পর আবেদন ব্যবস্থায় প্রবেশ করে শিক্ষার্থী, শিক্ষাগত তথ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে। প্রতিটি অংশের তথ্য পূরণ ও প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পর তা সংরক্ষণ করতে হবে।
সব তথ্য পূরণ করার পর আবেদনটি ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। তথ্য নিশ্চিত করার পর আর পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না। এরপর স্বাক্ষরের পাতা সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর দিতে হবে এবং সেটির পরিষ্কার কপি জমা দিতে হবে। সবশেষে আবেদন জমা দিলে আবেদনকারীর ই-মেইলে নিশ্চিতকরণ বার্তা পাঠানো হবে। সেখানে আবেদনকারীর পরিচিতি নম্বর এবং আবেদনপত্রের একটি কপি পাওয়া যাবে।
এই কর্মসূচিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতের যাওয়া-আসার বিমানভাড়া, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে প্রস্তুতিমূলক প্রশিক্ষণ, মার্কিন পরিবারের সঙ্গে থাকার ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট মাসিক ভাতা, স্বাস্থ্যবিমা এবং কর্মসূচির বিভিন্ন কার্যক্রম ও প্রয়োজনীয় উপকরণের খরচ বহন করা হয়। তবে পাসপোর্ট তৈরির খরচ, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকাদান এবং ব্যক্তিগত অতিরিক্ত খরচ কর্মসূচির আওতায় পড়ে না।
ইয়েস কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সাল থেকে প্রায় ৫৩০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এই কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া নয়, বরং দুই দেশের তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরি করা।
২০২৭ সালের বসন্তকালীন সেমিস্টারের প্রাথমিক আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার বিকেল ৪টা। আবেদন করার আগে শিক্ষার্থীদের বয়স, শ্রেণি, শিক্ষাগত ফলাফল, নাগরিকত্ব, প্রয়োজনীয় নথি এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে আগস্ট মাসে ভোক্তাপণ্যের দাম জুলাইয়ের তুলনায় দ্রুত বেড়েছে। দেশটির শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে ভোক্তা মূল্যসূচক বা সিপিআই মাসিক হিসাবে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে। ফলে গ্যাস, জ্বালানি, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত পরিবারগুলোর মাসিক বাজেটে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে, জুলাইয়ে ভোক্তা মূল্যসূচক বেড়েছিল শূন্য দশমিক ১ শতাংশ। আগস্টে সেই বৃদ্ধির হার বেড়ে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে। তবে বার্ষিক হিসাবে মূল্যস্ফীতির হার জুলাইয়ের মতো আগস্টেও ৩ দশমিক ৪ শতাংশ রয়েছে। অর্থাৎ এক বছরে পণ্য ও সেবার সামগ্রিক দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে, আর আগস্ট মাসে আগের মাসের তুলনায় দাম বৃদ্ধির গতি আরও দ্রুত হয়েছে। আগস্টে মূল্যবৃদ্ধির বড় কারণগুলোর একটি ছিল গ্যাসোলিন। এক মাসে গ্যাসোলিনের দাম ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, আগস্টে সামগ্রিক ভোক্তা মূল্য বৃদ্ধির এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি এসেছে গ্যাসোলিনের দাম বাড়ার কারণে। একই সময়ে সামগ্রিক জ্বালানি খাতের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ১ শতাংশ। গ্যাসোলিনের দাম বাড়ার প্রভাব শুধু গাড়ি চালানোর খরচেই সীমাবদ্ধ থাকে না। যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পরিবহন ও বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায় জ্বালানি ব্যয় গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় জ্বালানির দাম বাড়লে তার প্রভাব অন্যান্য পণ্য ও সেবার দামেও পড়তে পারে। ফলে প্রতিদিনের যাতায়াত থেকে শুরু করে বাজার-সদাই ও পারিবারিক ব্যয় পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাড়তি খরচের চাপ অনুভব করতে পারেন ভোক্তারা। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও এই মূল্যবৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অনেক বাংলাদেশি পরিবারের মাসিক বাজেটের বড় অংশ ব্যয় হয় বাসাভাড়া বা মর্টগেজ, গাড়ি, গ্যাসোলিন, খাবার, হেলথ কেয়ার, ইন্স্যুরেন্স ও সন্তানদের শিক্ষা খাতে। এসব খাতে ব্যয় বাড়লে আয় একই থাকলেও পরিবারের হাতে থাকা অর্থের পরিমাণ কমে যেতে পারে। বিশেষ করে যারা নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য মাসিক খরচ সামলানো আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তবে মূল্যস্ফীতির সব খাতে একই হারে দাম বাড়েনি। খাদ্যের দাম আগস্টে মাসিক হিসাবে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। খাদ্য ও জ্বালানি বাদ দিয়ে মূল মূল্যস্ফীতি বা কোর সিপিআই আগস্টে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কোর মূল্যস্ফীতি ছিল ২ দশমিক ৪ শতাংশ। মূল্যস্ফীতির এই তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফেড সুদের হার বাড়ানো বা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর আগামী বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা জোরালো হয়েছে। সুদের হার বাড়লে এর প্রভাব সাধারণ মানুষের ঋণের খরচেও পড়তে পারে। মর্টগেজ, গাড়ির ঋণ, ক্রেডিট কার্ড এবং ব্যবসায়িক ঋণের সুদ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। অন্যদিকে সুদের হার কমানো হলে ঋণের খরচ কমার সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফলে ফেডের সিদ্ধান্ত শুধু ওয়াল স্ট্রিট বা বড় অর্থনীতির জন্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী সাধারণ পরিবারগুলোর মাসিক বাজেটের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। অর্থনীতিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানুষের আয় ও মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য। পণ্য ও সেবার দাম যদি আয়ের তুলনায় দ্রুত বাড়ে, তাহলে একই পরিমাণ অর্থ দিয়ে আগের মতো পণ্য ও সেবা কেনা সম্ভব হয় না। এর ফলে পরিবারগুলোকে অনেক সময় খরচের অগ্রাধিকার পরিবর্তন করতে হয়, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে হয় এবং মাসিক সঞ্চয়ের পরিমাণ কমিয়ে আনতে হয়। এখন নজর থাকবে ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী বৈঠকের দিকে। আগস্টের মূল্যস্ফীতির তথ্যের পাশাপাশি কর্মসংস্থান, মজুরি, ভোক্তা ব্যয় এবং অর্থনীতির অন্যান্য সূচক বিবেচনা করেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। তবে নতুন পরিসংখ্যান স্পষ্ট করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলোর জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় এখনো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক চাপের বিষয় হয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হাইস্কুলে পড়ার সুযোগ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের, আবেদন করবেন যেভাবে
সিক্রেট সার্ভিস সদস্যরা না থাকলে গলফে ‘চিট’ করার ইচ্ছা পোষণ করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রে ইলহান ওমরের সম্পদ নিয়ে রহস্য, ৩ কোটি ডলার থেকে ১ লাখে নামার ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় ওয়াচডগ গ্রুপ
যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বা বিদেশে অবস্থান করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ১৫ সেপ্টেম্বরের আগে ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে সতর্ক করেছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। কারণ ওই দিন থেকে বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও থাকার নিয়মে বড় পরিবর্তন কার্যকর হচ্ছে। নতুন নিয়মে এফ-১ ও জে-১ শিক্ষার্থীদের আগের মতো ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ বা নির্দিষ্ট শেষ তারিখ ছাড়া থাকার ব্যবস্থা বদলে নির্দিষ্ট মেয়াদের প্রবেশ-অনুমতি চালু হবে। হার্ভার্ডের আন্তর্জাতিক অফিস জানিয়েছে, ১৫ সেপ্টেম্বরের পর আন্তর্জাতিক ভ্রমণ করে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরলে শিক্ষার্থীদের আই-৯৪ নথিতে নতুন ধরনের ‘অ্যাডমিট আনটিল ডেট’ যুক্ত হতে পারে। অর্থাৎ তখন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি একটি নির্দিষ্ট তারিখের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। ফলে বিদেশে যাওয়ার পর ফেরার সময়টি শিক্ষার্থীদের অভিবাসন অবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমান ব্যবস্থায় এফ-১ ও জে-১ শিক্ষার্থীদের সাধারণত ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। এর অর্থ হলো, শিক্ষার্থী নিয়ম মেনে অনুমোদিত পড়াশোনা বা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম চালিয়ে গেলে তার অবস্থানের মেয়াদ নির্দিষ্ট কোনো তারিখের পরিবর্তে সেই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকে। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে এই কাঠামো বাদ দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের ভর্তি-অনুমতি চালু করবে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর বা তার পর যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে প্রবেশ করা এফ-১ ও জে-১ শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ভর্তি করা হবে। সাধারণভাবে এই মেয়াদ শিক্ষার্থীর প্রোগ্রামের সময়কাল বা সর্বোচ্চ চার বছর, যেটি কম, তার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। নির্ধারিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে হলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হতে পারে। তবে ১৫ সেপ্টেম্বরের আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য সরাসরি একই নিয়ম প্রয়োগ করা হবে না। নতুন আইনে তাদের জন্য একটি ট্রানজিশন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর তারিখে যারা এফ বা জে স্ট্যাটাসে থেকে নিয়ম মেনে চলবেন, তারা নির্দিষ্ট শর্তের অধীনে আগের ব্যবস্থার সুরক্ষা পাবেন। এই কারণেই হার্ভার্ডের পরামর্শে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। হার্ভার্ড জানিয়েছে, ১৫ সেপ্টেম্বরের পর বিদেশ ভ্রমণ করে ফিরে আসা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এমন ভ্রমণের পর শিক্ষার্থীদের আই-৯৪ নথিতে থাকা অনুমোদিত থাকার মেয়াদ তাদের প্রোগ্রামের সময়সীমার সঙ্গে মিলিয়ে নির্ধারণ করা হতে পারে। হার্ভার্ডের পরামর্শের অর্থ এই নয় যে ১৫ সেপ্টেম্বরের দিন সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে না পারলে তাদের বৈধ অবস্থান শেষ হয়ে যাবে। বরং বিষয়টি মূলত নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার সময় শিক্ষার্থীর অবস্থান এবং তার পরবর্তী আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত। যারা ওই তারিখের পর বিদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরবেন, তাদের নতুন প্রবেশ-নিয়মের আওতায় পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা কার্যক্রমে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্যও পরিবর্তন আসছে। কারও প্রোগ্রাম নির্ধারিত ভর্তি-সময়ের চেয়ে বেশি দীর্ঘ হলে তাকে অতিরিক্ত সময়ের জন্য অনুমোদন নিতে হতে পারে। ফলে শিক্ষার্থীদের শুধু ভিসার মেয়াদ নয়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আই-৯৪ নথিতে নির্ধারিত অনুমোদিত থাকার তারিখও নিয়মিত যাচাই করতে হবে। মার্কিন সরকারের নতুন নিয়মটি শুধু এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য নয়। এতে জে-১ এক্সচেঞ্জ ভিজিটর এবং আই-শ্রেণির বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের ক্ষেত্রেও ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ ব্যবস্থা বদলে নির্দিষ্ট সময়ের ভর্তি-অনুমতি চালু করা হচ্ছে। নিয়মটি ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। হার্ভার্ডের আন্তর্জাতিক অফিস জানিয়েছে, নতুন নিয়ম নিয়ে শিক্ষার্থী ও স্কলারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় তারা আলাদা পরামর্শ ও তথ্যসেবা চালু করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের আগে নতুন নিয়মের প্রভাব বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে ১৫ সেপ্টেম্বরের আশপাশে যাদের যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যাওয়া বা ফিরে আসার পরিকল্পনা রয়েছে, তাদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ১৫ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অবস্থানের নিয়ম ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ থেকে নির্দিষ্ট মেয়াদের ব্যবস্থায় যাচ্ছে। ফলে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা বা বিদেশ ভ্রমণ শেষে ফিরে আসা শিক্ষার্থীদের আই-৯৪তে নির্দিষ্ট থাকার শেষ তারিখ থাকতে পারে। আর ১৫ সেপ্টেম্বরের আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য থাকবে আলাদা ট্রানজিশন ব্যবস্থা।
মাত্র ৬৮০ গ্রাম ওজন নিয়ে জন্ম, হাসপাতালে ৩৩৪ দিনের লড়াই শেষে বাড়ি ফিরল ‘মিরাকেল বেবি’
মেরিল্যান্ডে বসছে সবচেয়ে বড় ইতালীয় মেলা, ২০ হাজার মানুষের সমাগম ঘিরে জমজমাট প্রস্তুতি
যুক্তরাষ্ট্রে ট্যারিফ আয় ফেরতের চেয়ে বেশি, আগস্টে ফেরত ১০.৫ বিলিয়ন ডলার
আলাস্কার উপকূলের কাছে বরফশীতল পানিতে মাছ ধরার বোট উল্টে যাওয়ার পর সেটির ওপর রাত কাটিয়ে প্রাণে বেঁচে গেছে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর। পরে মার্কিন কোস্টগার্ড তাকে উল্টে যাওয়া বোটের ওপর থেকে জীবিত উদ্ধার করে। এ ঘটনায় কিশোরটির সঙ্গে থাকা দুই নৌযাত্রী মারা গেছেন। ঘটনাটি ঘটে আলাস্কার সেন্ট লরেন্স দ্বীপের কাছে বেরিং সাগরে। ১৮ ফুট দীর্ঘ মাছ ধরার বোটটি শুক্রবার সেন্ট লরেন্স দ্বীপের সাভুঙ্গা এলাকা থেকে যাত্রা করে। রোববার ভোরে বোটটির ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সেটি ফিরে না আসায় রোববার রাতে নিখোঁজ হিসেবে প্রতিবেদন করা হয় এবং উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে কোস্টগার্ডের এইচসি-১৩০ হারকিউলিস বিমানের সদস্যরা সোমবারের আগে অনুসন্ধান শুরু করতে পারেননি। সোমবার সকালে কোস্টগার্ডের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার জনাথন রেশ সেন্ট লরেন্স দ্বীপ থেকে প্রায় চার মাইল দূরে উল্টে যাওয়া বোটটি দেখতে পান। তখন ১৫ বছর বয়সী কিশোরটি বোটটির ওপর বসে ছিল। রেশ ঘটনাটিকে অবিশ্বাস্য বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, এমন পরিস্থিতিতে মানুষ সাধারণত বেঁচে থাকতে পারে না। বিশেষ করে প্রায় ৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা প্রায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পানিতে একটি বোট উল্টে যাওয়ার পর রাত পার করে জীবিত থাকা অত্যন্ত কঠিন। কিশোরটিকে খুঁজে পাওয়ার ঘটনাকে তিনি অলৌকিকের মতো বলে উল্লেখ করেন। কিশোরটিকে দ্রুত উদ্ধারের জন্য কোস্টগার্ডের বিমান থেকে পানিতে সংকেত দেওয়ার সরঞ্জাম ও লাইফ র্যাফট ফেলা হয়। একই সময়ে কাছাকাছি থাকা নর্থওয়েস্ট এক্সপ্লোরার নামের একটি জাহাজকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে ওই জাহাজটি সেখানে পৌঁছে কিশোরটিকে উদ্ধার করে। উদ্ধারের ভিডিওতে দেখা যায়, কিশোরটি উল্টে যাওয়া বোটের ওপর হাঁটু গেড়ে বসে ছিল। পরে একটি দড়ির সাহায্যে তাকে টেনে নর্থওয়েস্ট এক্সপ্লোরার জাহাজে তোলা হয়। কোস্টগার্ড জানিয়েছে, উদ্ধারের সময় কিশোরটির শরীরে হাইপোথার্মিয়ার লক্ষণ ছিল। অন্যদিকে, বোটে থাকা দুই নৌযাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তাদের মরদেহ পানির মধ্য থেকে উদ্ধার করে কিশোরটির সঙ্গে আলাস্কার নোম শহরে নেওয়া হয়। কোস্টগার্ড এখনো নিহত দুই নৌযাত্রী এবং উদ্ধার হওয়া কিশোরটির পরিচয় প্রকাশ করেনি। কোস্টগার্ডের আর্কটিক ডিস্ট্রিক্টের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল বব লিটল এই ঘটনায় নিহতদের পরিবার, বন্ধু ও সংশ্লিষ্ট কমিউনিটির প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কিশোরটিকে জীবিত উদ্ধারে সহায়তা করা নর্থওয়েস্ট এক্সপ্লোরার, বিভিন্ন উদ্ধারকারী দল এবং স্থানীয় সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। উদ্ধারকারী দলের কাছে ঘটনাটি একই সঙ্গে স্বস্তি ও শোকের হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোস্টগার্ডের সদস্যরা কিশোরটিকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করলেও তার সঙ্গে থাকা অন্য দুই নৌযাত্রীকে সময়মতো খুঁজে না পাওয়ায় দুঃখ জানিয়েছেন। তীব্র ঠান্ডার মধ্যে উল্টে যাওয়া বোটের ওপর অবস্থান করে কিশোরটির বেঁচে থাকা এবং শেষ পর্যন্ত উদ্ধার হওয়াকে তারা অত্যন্ত বিরল ঘটনা হিসেবে দেখছেন। সূত্র: এবিসি নিউজ
এআইয়ের সম্ভাব্য ভয়াবহ ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে ট্রাম্প বললেন ‘সব ঠিক হয়ে যাবে’
৩০ বছর পর প্রথমবার ‘স ন্ত্রাসী আদালত’ ব্যবহার করে আফগান নারীকে ডিপোর্ট যুক্তরাষ্ট্রের