সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের হাইস্কুলে পড়ার সুযোগ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের, আবেদন করবেন যেভাবে

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৫:৯
যুক্তরাষ্ট্রের হাইস্কুলে পড়ার সুযোগ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের
যুক্তরাষ্ট্রের হাইস্কুলে পড়ার সুযোগ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হাইস্কুলে এক সেমিস্টার পড়াশোনার সুযোগ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের কেনেডি-লুগার ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড স্টাডি বা কেএল-ইয়েস কর্মসূচি। ২০২৭ সালের বসন্তকালীন সেমিস্টারের এই কর্মসূচিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে একটি হাইস্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি একটি মার্কিন পরিবারের সঙ্গে বসবাস এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও নেতৃত্বমূলক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। বাংলাদেশে এই কর্মসূচির প্রাথমিক আবেদন বর্তমানে চলছে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকেল ৪টা।

 

ইয়েস কর্মসূচি হলো যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি। বাংলাদেশে কর্মসূচিটি পরিচালনা করছে আইইএআরএন-বাংলাদেশ। এর আওতায় শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাইস্কুলে পড়াশোনা করবেন এবং একটি মার্কিন পরিবারের সঙ্গে থাকবেন। পাশাপাশি নেতৃত্বের দক্ষতা বাড়ানো, মার্কিন সংস্কৃতি ও সমাজ সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জন এবং নিজেদের দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে মার্কিন কমিউনিটির মানুষকে জানার সুযোগ পাবেন।

 

২০২৭ সালের বসন্তকালীন সেমিস্টারের জন্য আবেদন করতে হলে শিক্ষার্থীর বয়স ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে হতে হবে। আবেদনকারীর জন্মতারিখ ১৫ জানুয়ারি ২০১০ থেকে ১৫ জানুয়ারি ২০১২-এর মধ্যে হতে হবে। তাকে বর্তমানে বাংলাদেশের কোনো মাধ্যমিক স্কুল বা কলেজের অষ্টম, নবম, দশম অথবা একাদশ শ্রেণিতে পড়তে হবে। বেসরকারি কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচির জন্য আবেদন করতে পারবেন না। একই সঙ্গে আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক ও বাসিন্দা হতে হবে।

 

শিক্ষাগত ফলাফলের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। আবেদনকারীর গড়ে কমপক্ষে বি গ্রেড বা সমমানের ফলাফল থাকতে হবে এবং কোনো বিষয়ে ফেল করা যাবে না। ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষাগত ফলাফলের নথি জমা দিতে হবে। গত তিন শিক্ষাবর্ষে কোনো বিরতি বা কোনো শ্রেণি পুনরায় পড়ার ইতিহাস থাকলেও আবেদন করা যাবে না। পাশাপাশি শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রের জে-১ বিনিময় ভিসার যোগ্যতা পূরণ করতে হবে এবং ইংরেজিতে কথা বলা ও পড়াশোনা করার মতো পর্যাপ্ত দক্ষতা থাকতে হবে।

 

আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পূর্ববর্তী ইতিহাসের ক্ষেত্রেও শর্ত রয়েছে। গত পাঁচ বছরে মোট ৯০ দিনের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে আবেদন করা যাবে না। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা এবং অন্য কোনো দেশের নাগরিক হিসেবে বিদেশে পড়াশোনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও এই কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বা মিশনে বর্তমানে কর্মরত কোনো অভিভাবকের সন্তান এবং ইয়েস কর্মসূচির বর্তমান অংশগ্রহণকারীর ভাই বা বোনও এই সুযোগের জন্য যোগ্য নন।

 

আবেদন প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথমে প্রাথমিক আবেদন জমা দিতে হবে। এরপর বাছাই প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে ইংরেজি ভাষার দক্ষতা পরীক্ষা, তত্ত্বাবধানে লিখিত পরীক্ষা, পূর্ণাঙ্গ আবেদন এবং সাক্ষাৎকার দিতে হবে। অর্থাৎ প্রাথমিক আবেদন জমা দিলেই যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়া যাবে না। শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিযোগিতামূলক মেধাভিত্তিক বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

 

আবেদন করার আগে শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক পাসপোর্ট আকারের ছবি, জন্মসনদের পরিষ্কার কপি এবং ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ফলাফলের নথি প্রস্তুত রাখতে হবে। এসব নথির নির্ধারিত বৈদ্যুতিন কপি জমা দিতে হবে। এই পর্যায়ে পাসপোর্ট থাকা বাধ্যতামূলক নয়।

 

প্রাথমিক আবেদন শুরু করতে নির্ধারিত আবেদন ব্যবস্থায় গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের সময় দেওয়া ই-মেইল ঠিকানায় একটি যাচাইকরণ বার্তা পাঠানো হবে। ই-মেইল ঠিকানা যাচাই করার পর আবেদন ব্যবস্থায় প্রবেশ করে শিক্ষার্থী, শিক্ষাগত তথ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে। প্রতিটি অংশের তথ্য পূরণ ও প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পর তা সংরক্ষণ করতে হবে।

 

সব তথ্য পূরণ করার পর আবেদনটি ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। তথ্য নিশ্চিত করার পর আর পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না। এরপর স্বাক্ষরের পাতা সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর দিতে হবে এবং সেটির পরিষ্কার কপি জমা দিতে হবে। সবশেষে আবেদন জমা দিলে আবেদনকারীর ই-মেইলে নিশ্চিতকরণ বার্তা পাঠানো হবে। সেখানে আবেদনকারীর পরিচিতি নম্বর এবং আবেদনপত্রের একটি কপি পাওয়া যাবে।

 

এই কর্মসূচিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতের যাওয়া-আসার বিমানভাড়া, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে প্রস্তুতিমূলক প্রশিক্ষণ, মার্কিন পরিবারের সঙ্গে থাকার ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট মাসিক ভাতা, স্বাস্থ্যবিমা এবং কর্মসূচির বিভিন্ন কার্যক্রম ও প্রয়োজনীয় উপকরণের খরচ বহন করা হয়। তবে পাসপোর্ট তৈরির খরচ, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকাদান এবং ব্যক্তিগত অতিরিক্ত খরচ কর্মসূচির আওতায় পড়ে না।

 

ইয়েস কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সাল থেকে প্রায় ৫৩০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এই কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া নয়, বরং দুই দেশের তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরি করা।

 

২০২৭ সালের বসন্তকালীন সেমিস্টারের প্রাথমিক আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার বিকেল ৪টা। আবেদন করার আগে শিক্ষার্থীদের বয়স, শ্রেণি, শিক্ষাগত ফলাফল, নাগরিকত্ব, প্রয়োজনীয় নথি এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্কে ৭৩২ ডলার থেকে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়ার সুযোগ, ব্রঙ্কসে শুরু আবাসন লটারি
নিউইয়র্কে ৭৩২ ডলার থেকে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়ার সুযোগ, ব্রঙ্কসে শুরু আবাসন লটারি

নিউইয়র্ক সিটিতে বসবাসরত স্বল্প ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করতে নতুন আবাসন লটারি চালু হয়েছে। নিউইয়র্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পিক্স১১-এর তথ্য অনুযায়ী, শহরের ব্রঙ্কস এলাকার চারটি আবাসিক ভবনে এক থেকে তিন শয়নকক্ষের মোট ৩০টি অ্যাপার্টমেন্টের জন্য এই লটারি উন্মুক্ত করা হয়েছে।   মরিস হাইটস, ইউনিভার্সিটি হাইটস এবং হান্টস পয়েন্ট এলাকার ১৬৪৭ পপহ্যাম অ্যাভিনিউ, ৮৪৪ ফেইল স্ট্রিট, ২২৭৫ লরিং প্লেস নর্থ এবং ৩০ ওয়েস্ট ১৮২তম স্ট্রিটের ভবনগুলোতে এই সুযোগ পাওয়া যাবে। আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীরা নিউইয়র্ক সিটির সরকারি আবাসন পোর্টাল 'এনওয়াইসি হাউজিং কানেক্ট'-এর মাধ্যমে নিজেদের সদস্যসংখ্যা ও বার্ষিক আয়ের ভিত্তিতে এই লটারিতে আবেদন করতে পারবেন।   এই লটারির আওতায় সবচেয়ে সাশ্রয়ী এক শয়নকক্ষের দুটি অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৭৩২ ডলার, যার জন্য এক থেকে তিন সদস্যের পরিবারের বার্ষিক আয় ২৯ হাজার ৪১৮ থেকে ৪৫ হাজার ৮১০ ডলারের মধ্যে হতে হবে (সম্পদের সর্বোচ্চ সীমা ৫০ হাজার ৮৮০ ডলার)।   এ ছাড়া এক শয়নকক্ষের আরও নয়টি অ্যাপার্টমেন্ট ১ হাজার ৩৬৯ ডলারে এবং পাঁচটি অ্যাপার্টমেন্ট ২ হাজার ৫ ডলারে ভাড়া নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, যেগুলোর জন্য আয়ের সীমা যথাক্রমে ৫১ হাজার ২৫৮ থেকে ৭৬ হাজার ৩৫০ ডলার এবং ৭৩ হাজার ৬৩ থেকে ১ লাখ ৬ হাজার ৮৯০ ডলার।   দুই শয়নকক্ষের ক্ষেত্রে ১ হাজার ৬২৭ ডলার ও ২ হাজার ৩৯০ ডলার ভাড়ার দুটি শ্রেণি রাখা হয়েছে, যেখানে দুই থেকে পাঁচ সদস্যের পরিবারের বার্ষিক আয়ের নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বড় পরিবারের জন্য রয়েছে ১ হাজার ৮৬৩ ডলার ভাড়ার তিন শয়নকক্ষের একটি অ্যাপার্টমেন্ট, যেখানে তিন থেকে সাতজন সদস্য থাকতে পারবেন।   আবাসন প্রকল্পগুলোর নির্দিষ্ট কিছু ভবনে বাসিন্দাদের জন্য বাড়তি সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৪৪ ফেইল স্ট্রিটের অ্যাপার্টমেন্টে নিজস্ব লন্ড্রি ব্যবস্থা এবং ১৬৪৭ পপহ্যাম অ্যাভিনিউ ও ৩০ ওয়েস্ট ১৮২তম স্ট্রিটের ভবনে এলিভেটর সুবিধা রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়ার সঙ্গেই ঘর গরম রাখার গ্যাসের খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে দৈনন্দিন ব্যবহারের বিদ্যুৎ বিল ভাড়াটিয়াদের নিজেদেরই আলাদাভাবে পরিশোধ করতে হবে। প্রতিটি ক্যাটাগরিতে আবেদনকারীদের জন্য আয়ের পাশাপাশি সম্পদের নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ সীমাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, যা যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত করা হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ১৯:৬
ব্রুকলিনের ২৭ বছর বয়সী নারী আইএসের হয়ে একে-৪৭ চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন, দোষী সাব্যস্ত

ব্রুকলিনের ২৭ বছর বয়সী নারী আইএসের হয়ে একে-৪৭ চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন, দোষী সাব্যস্ত

যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ মাইল দূরে বসে ক্যানসার রোগীর অস্ত্রোপচার, রোবট দিয়ে প্রস্টেট অপসারণ

যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ মাইল দূরে বসে ক্যানসার রোগীর অস্ত্রোপচার, রোবট দিয়ে প্রস্টেট অপসারণ

যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টারে চোরদের হানা, হলিউডি কায়দায় চুরি ১০ কোটি ডলারের এআই সরঞ্জাম

যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টারে চোরদের হানা, হলিউডি কায়দায় চুরি ১০ কোটি ডলারের এআই সরঞ্জাম

মেক্সিকো উপকূলে নৌকাডুবি, উত্তাল সাগরে একাই ১৬ জনের প্রাণ বাঁচালেন মার্কিন কোস্টগার্ড সাঁতারু
মেক্সিকো উপকূলে নৌকাডুবি, উত্তাল সাগরে একাই ১৬ জনের প্রাণ বাঁচালেন মার্কিন কোস্টগার্ড সাঁতারু

মেক্সিকোর এনসেনাডা উপকূল থেকে ১৪০ মাইল পশ্চিমে একটি নৌকাডুবির ঘটনায় উত্তাল মহাসাগর থেকে ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন মার্কিন কোস্টগার্ডের এক সাহসী সাঁতারু। গত ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার) ২৭ জন যাত্রী নিয়ে নৌকাটি উল্টে যাওয়ার পর এই উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।   দীর্ঘক্ষণ পানিতে ভেসে থাকা এই ১৬ যাত্রীকে একাই উদ্ধার করেন ২৪ বছর বয়সী কোস্টগার্ড রেসকিউ সুইমার জশ ল। তবে নিখোঁজ থাকা বাকি ১১ জনের সন্ধান না পাওয়ায় অবশেষে তাদের উদ্ধারকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।   উদ্ধার অভিযানের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জশ ল জানান, রাতের অন্ধকারে সাগরের ছয় থেকে আট ফুট উঁচু ঢেউয়ের সঙ্গে টানা দুই ঘণ্টা লড়াই করতে হয়েছে তাঁকে। এ সময় মাথার ওপর থাকা একটি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারের সার্চলাইটের আলোই ছিল তাঁর একমাত্র ভরসা।   চরম ক্লান্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আমি তখন প্রচণ্ড ক্লান্তিতে ভুগছিলাম এবং আমাদের ঘুমও খুব কম হয়েছিল। কিন্তু ওই মানুষগুলো যে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তার তুলনায় আমার কষ্ট কিছুই ছিল না। আমি শুধু এটাই মাথায় রেখেছিলাম।" যাত্রীদের কেউ কেউ বাঁচার তাগিদে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে ছিলেন, আবার অনেকেই বয়া বা নৌকার ভাঙা অংশ আঁকড়ে ধরে ভাসছিলেন।   শেষ পর্যন্ত ‘বাডি টো’ নামের বিশেষ সাঁতার কৌশল (যাত্রীকে চিত করে ভাসিয়ে টেনে আনা) ব্যবহার করে একে একে ১৬ জনকে নিরাপদে নিয়ে আসেন তিনি।   উদ্ধারকৃতরা সবাই মেক্সিকোর নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছে সান দিয়েগোতে অবস্থিত মেক্সিকান কনস্যুলেট। কোস্টগার্ড জানিয়েছে, জীবিত উদ্ধার হওয়া কয়েকজনের শরীরে হাঙরের কামড়ের মতো ক্ষতও দেখা গেছে। হেলিকপ্টারে করে সান দিয়েগোর কোস্টগার্ড স্টেশনে আনার পর তাঁদের সরাসরি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।   চিকিৎসা শেষে কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) কর্মকর্তাদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে ইতিমধ্যেই প্রায় অর্ধেক যাত্রীকে মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মার্কিন কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী এবং মেক্সিকান কর্তৃপক্ষের যৌথ দল প্রায় ৮৯ ঘণ্টা ধরে ২,৪৪১ বর্গমাইল এলাকায় তল্লাশি চালানোর পর নিখোঁজ ১১ জনের উদ্ধারকাজ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। কোস্টগার্ডের ধারণা, উল্টে যাওয়া নৌকাটি মূলত অবৈধ মানব পাচারের রুটেই চলাচল করছিল।   বর্তমানে এই ঘটনার নেপথ্যে একটি ফেডারেল তদন্ত চলমান রয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ১৬:৫৫
যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্যদের আনতে চান? জানুন পিটিশন, যোগ্যতা ও আবেদনের ধাপ

যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্যদের আনতে চান? জানুন পিটিশন, যোগ্যতা ও আবেদনের ধাপ

যুক্তরাষ্ট্রে মিলি মুন ডায়াপার নিয়ে শত শত অভিযোগ, শিশুদের ত্বকে র‍্যাশ ও র ক্তপাতের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রে মিলি মুন ডায়াপার নিয়ে শত শত অভিযোগ, শিশুদের ত্বকে র‍্যাশ ও র ক্তপাতের দাবি

নিউইয়র্কে অবৈধ চেক ক্যাশিংয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার নারী, জব্দ ৮ লাখ ৭৫ হাজার ডলার

নিউইয়র্কে অবৈধ চেক ক্যাশিংয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার নারী, জব্দ ৮ লাখ ৭৫ হাজার ডলার

ফ্লোরিডায় ৩ বছরের শিশুর গোলের পর গোল, প্রতিভা সহ্য করতে না পেরে পুলিশ ডাকলেন লিগ কর্মকর্তারা
ফ্লোরিডায় ৩ বছরের শিশুর গোলের পর গোল, প্রতিভা সহ্য করতে না পেরে পুলিশ ডাকলেন লিগ কর্মকর্তারা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় মাত্র তিন বছর বয়সী এক শিশুর দুর্দান্ত ফুটবল খেলা নিয়ে রীতিমতো তুলকালাম কাণ্ড ঘটে গেছে। শিশুটি মাঠে খুব ভালো খেলছিল বলে তাকে খেলা থেকে বের করে দিতে পুলিশ ডাকা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন তার বাবা-মা। ফ্লোরিডার উইন্টার পার্কে ঘটা এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঘটনার অন্য একটি দিকও সামনে এসেছে, যেখানে লিগ কর্তৃপক্ষ শিশুটির বাবা-মায়ের আচরণের দিকে আঙুল তুলেছে।   ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে নেভাদা নামের ওই শিশুটিকে বিপক্ষ দলের বিপক্ষে একের পর এক গোল করতে দেখা যায়। এর পরপরই পুলিশ আসার দৃশ্য দেখানো হয়। নেভাদার বাবা ডন ভিডিওতে অভিযোগ করেন, ছেলে বেশিক্ষণ বল নিজের কাছে রাখছিল এবং অতিরিক্ত ভালো খেলছিল বলেই কর্তৃপক্ষ পুলিশ ডেকেছে।   তবে উইন্টার পার্ক পুলিশের প্রকাশ করা বডি-ক্যামেরা ও ৯১১ কলের রেকর্ডে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। 'আইনাইন স্পোর্টস' লিগের এক কর্মকর্তা পুলিশকে জানান, নেভাদা দারুণ খেলোয়াড় হলেও সে মাঠে অন্যদের ধাক্কা দিচ্ছিল। তিনি পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে নেভাদার বাবা-মা অন্য অভিভাবকদের সঙ্গে তর্কে জড়ান এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন।   এর আগেও অন্য শিশুদের খেলার সুযোগ দিতে নেভাদাকে মাঠ থেকে তোলায় তার বাবা-মা কর্মকর্তাকে অপমান করেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়। ঘটনার পর লিগ কর্তৃপক্ষ নেভাদাকে বাতিল করে তাদের রেজিস্ট্রেশন ফি ফেরত দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি শান্তিপূর্ণভাবে মিটে গেছে এবং কাউকে গ্রেপ্তার বা বলপ্রয়োগ করে বের করে দেওয়া হয়নি।   ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বিখ্যাত শিশু শিক্ষাবিদ ও ইউটিউবার 'মিস র‍্যাচেল' তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে একে বর্ণবাদী ও হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি নেভাদাকে তার শোতে আমন্ত্রণ জানানোর পাশাপাশি ক্রীড়াজগতের মানুষদের শিশুটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।   সাবেক এনএফএল তারকা রবার্ট গ্রিফিন থ্রি এবং বব মার্লির মেয়ে সেডেলা মার্লিও নেভাদার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এদিকে, নেভাদার মা মারটাসিয়া জানান, এই ঘটনায় তার ছেলে মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছে এবং ওই মাঠে আর খেলতে যেতে চাইছে না। তবে সুখবর হলো, আগামী জানুয়ারিতে অরল্যান্ডোতে সাবেক পেশাদার ফুটবলার এডি জনসনের একটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে যোগ দিতে যাচ্ছে নেভাদা। তার ফুটবলের প্রতিভা বিকাশে সহায়তার জন্য খোলা একটি 'গোফান্ডমি' ক্যাম্পেইনে এরই মধ্যে সাড়ে ২০ হাজার ডলারের বেশি অনুদান জমা পড়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ১৫:২৯
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে সুপ্রিম কোর্টের সমর্থন, ক্ষমতা হারালেন অভিবাসন বিচারকেরা

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে সুপ্রিম কোর্টের সমর্থন, ক্ষমতা হারালেন অভিবাসন বিচারকেরা

নিউইয়র্কে আইসিইর তল্লাশি নিয়ে স্প্যানিশ ভাষায় ভিডিও, মামদানির বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ রিপাবলিকানরা

নিউইয়র্কে আইসিইর তল্লাশি নিয়ে স্প্যানিশ ভাষায় ভিডিও, মামদানির বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ রিপাবলিকানরা

অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পুলিশের চুক্তি বাতিলের দাবি, টেক্সাসে সরব স্থানীয় বাসিন্দারা

অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পুলিশের চুক্তি বাতিলের দাবি, টেক্সাসে সরব স্থানীয় বাসিন্দারা

0 Comments