ট্রেকিং স্টিক শরীর ভেদ করেও ১৬ কিলোমিটার হাটলেন পর্বতারোহী
যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা অঙ্গরাজ্যের সর্বোচ্চ পর্বত গ্রানাইট পিকে ট্রেকিং করতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েও অবিশ্বাস্যভাবে নিজের জীবন বাঁচিয়েছেন এক পর্বতারোহী। ট্রেকিং স্টিক শরীর ভেদ করে ঢুকে যাওয়ার পরও তিনি প্রায় ১৬ কিলোমিটার (১০ মাইল) দুর্গম পাহাড়ি পথ হেঁটে নিরাপদ স্থানে পৌঁছান।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, ৩২ বছর বয়সী ডেভিড সিফালদি নামের ওই ব্যক্তি মন্টানার বিলিংস শহরের একজন নার্স। গত ২০ জুলাই দুই বন্ধুকে নিয়ে ১২ হাজার ৮০০ ফুটের বেশি উচ্চতার গ্রানাইট পিকে আরোহণের সময় ঢিলা পাথরে পা পিছলে পড়ে যান। এ সময় তার হাতে থাকা স্টিলের মাথাযুক্ত ট্রেকিং স্টিকটি বাম বাহুর নিচ দিয়ে শরীর ভেদ করে পিঠের দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর নিজের চিকিৎসা–জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সিফালদি দ্রুত আঘাতের অবস্থা মূল্যায়ন করেন। তিনি বুঝতে পারেন, ট্রেকিং স্টিকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বা ফুসফুসে আঘাত করেনি। এরপর উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারের জন্য অপেক্ষা না করে দুই সঙ্গীর সহায়তায় পাহাড় থেকে নিজেই নেমে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে তারা ট্রেইলহেডে পৌঁছান। সেখান থেকে গাড়িতে করে প্রথমে একটি চিকিৎসাকেন্দ্র এবং পরে বিলিংসের হাসপাতালে নেওয়া হয় সিফালদিকে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার শরীর থেকে ট্রেকিং স্টিকটি সফলভাবে অপসারণ করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য, স্টিকটি অল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এড়িয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটেনি।
সিফালদি জানান, একজন নার্স হিসেবে তার অভিজ্ঞতাই সংকটময় মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করেছে। একই সঙ্গে তার দুই সঙ্গীর উপস্থিতি ও সহায়তাও ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার পরও সিফালদি দ্রুত সুস্থ হয়ে কাজে ফিরেছেন। তবে ভবিষ্যতে আরও চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। তিনি সুস্থ হলে আবারও গ্রানাইট পিকে ফিরে অসমাপ্ত আরোহণ শেষ করার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর এক কর্মকর্তা ও তার পরিবারের সদস্যদের তথ্য প্রকাশ করে হু ম কি দেওয়ার অভিযোগে গুয়াতেমালার নাগরিক হোসে এলিয়েসো বালান-জোকয়কে আটক করেছে আইসিই। সংস্থাটির দাবি, বালান প্রকাশ্য একটি ফেসবুক গ্রুপে ওই কর্মকর্তার স্ত্রী ও সন্তানদের স্কুলসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেন এবং এক শিশুকে লক্ষ্যবস্তু করার ইঙ্গিত দেন। আইসিই জানিয়েছে, বালানের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের একটি ডিইউআই (মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো) দণ্ডের রেকর্ডও রয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগগুলোকে আদালতে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে নয়, আইসিইর অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত। সংস্থাটি বলেছে, আইসিই কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে হু ম কি কে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হবে এবং এ ধরনের হু ম কি র জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। বর্তমানে বালান আইসিইর হেফাজতে রয়েছেন বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
ইরানসহ বিদেশে অভিযানে ৪০৬ মার্কিন সেনা আ হ ত, ৪ জন সেনা নি হ তের তথ্য প্রকাশ পেন্টাগনের
কম দামে বিমানের টিকিট পেতে কখন কাটবেন? যে কৌশলে সাশ্রয় হতে পারে অনেক টাকা
গ্রিন কার্ড নিয়ে উদ্বেগ নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক সিটির মামলা
নিউইয়র্ক সিটিতে দুই বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিনামূল্যের 2-K চাইল্ডকেয়ার ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচি চালু হয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির প্রথম ধাপে প্রায় ২ হাজার শিশু পূর্ণদিবস ও বছরব্যাপী বিনামূল্যের সেবা পাচ্ছে। মেয়র জোহরান মামদানি ও গভর্নর ক্যাথি হোকুলের যৌথ উদ্যোগে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির লক্ষ্য ভবিষ্যতে নিউইয়র্ক সিটির সব পরিবারের জন্য 2-K সুবিধা নিশ্চিত করা। প্রথম ধাপের কর্মসূচিতে স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ছাড়া চার বরোর নির্দিষ্ট এলাকায় শিশুদের ভর্তি করা হয়েছে। বেশিরভাগ কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত, বছরে ২৬০ দিন সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে কর্মজীবী বাবা-মায়েদের জন্য শিশুদের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি কাজে যাওয়ার সুযোগও তৈরি হচ্ছে। এই কর্মসূচির চাহিদা যে কতটা বেশি, তা আবেদনসংখ্যাতেই স্পষ্ট। প্রথম ধাপে মাত্র ২ হাজারের কিছু বেশি আসনের বিপরীতে ৫ হাজার ৭০০টির বেশি আবেদন জমা পড়ে। অর্থাৎ প্রতি আসনের জন্য প্রায় তিনটি আবেদন ছিল। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত পরিবারগুলোর ৮২ শতাংশ তাদের পছন্দের শীর্ষ তিনটির মধ্যে কোনো একটি কর্মসূচিতে জায়গা পেয়েছে এবং অর্ধেকের বেশি পরিবার পেয়েছে তাদের প্রথম পছন্দের আসন। পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সাশ্রয়ও এই কর্মসূচির অন্যতম বড় দিক। নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের কার্যালয়ের হিসাবে, একটি বিনামূল্যের 2-K আসন একটি পরিবারকে গড়ে বছরে প্রায় ২৬ হাজার ডলার সাশ্রয় করতে পারে। কর্মসূচির উদ্বোধনের দিন মামদানি বলেন, এর মাধ্যমে পরিবারগুলো অন্তত ২০ হাজার ডলারের বার্ষিক চাইল্ডকেয়ার ব্যয় থেকে মুক্তি পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। উদ্বোধনের সময় মামদানি বলেন, এই কর্মসূচির ফলে বাবা-মায়েদের সন্তানদের চাইল্ডকেয়ারের খরচ নিয়ে আগের মতো দুশ্চিন্তা করতে হবে না। তিনি এটিকে নিউইয়র্কের পরিবারের আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি কর্মজীবী বাবা-মায়েদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে তুলে ধরেন। প্রথম দিনের অভিজ্ঞতায় কিছু পরিবার জানিয়েছে, বিনামূল্যের এই সেবা তাদের কাজে ফেরার বা অতিরিক্ত কাজের চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি করেছে। তবে শুরুতেই চাহিদা সরবরাহের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় অপেক্ষমাণ তালিকাও তৈরি হয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বরের সরকারি সংবাদ সম্মেলনে মামদানি জানান, কিছু কেন্দ্রে ১০০ জনের বেশি শিশুর ওয়েটলিস্ট ছিল এবং অতিরিক্ত আসন তৈরি হওয়ায় ওয়েটলিস্ট থেকে পরিবারগুলোকে অফার দেওয়া শুরু হয়েছে। কর্মসূচিটি চালুর আগে অবশ্য কিছু প্রশাসনিক সমস্যাও সামনে এসেছিল। চাইল্ডকেয়ার সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থ পরিশোধে বিলম্ব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। আগস্টে মামদানি প্রশাসন এই সমস্যা সমাধানে ৪৩ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এবং চাইল্ডকেয়ার প্রদানকারীদের পেমেন্ট দ্রুত করার উদ্যোগ ঘোষণা করে। 2-K কর্মসূচির পরবর্তী ধাপ আরও বড়। নিউইয়র্ক স্টেট প্রথম বছরে এই কর্মসূচিতে ৭৩ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করছে। ২০২৭ সালে আসনসংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ১২ হাজার শিশুকে সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এবং স্ট্যাটেন আইল্যান্ডও তখন অন্তর্ভুক্ত করার কথা। গভর্নর হোকুল জানিয়েছেন, দ্বিতীয় বছরে এ কর্মসূচির জন্য ৪২৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। মামদানির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো তার প্রথম মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নিউইয়র্ক সিটির যে কোনো পরিবারের জন্য 2-K আসন নিশ্চিত করা। তবে প্রথম ধাপের তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি হওয়ায় ভবিষ্যতে আসন বাড়ানোর পাশাপাশি পর্যাপ্ত চাইল্ডকেয়ার সেন্টার, কর্মী ও অর্থায়ন নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে। সব মিলিয়ে, নিউইয়র্কের নতুন 2-K কর্মসূচি শুধু দুই বছর বয়সী শিশুদের বিনামূল্যের প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ নয়; কর্মজীবী পরিবারগুলোর চাইল্ডকেয়ার ব্যয় কমানো এবং বাবা-মায়েদের কর্মক্ষেত্রে থাকার সুযোগ তৈরির একটি বড় সামাজিক কর্মসূচি হিসেবেও দেখা হচ্ছে। প্রথম ধাপের বিপুল চাহিদা এর প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্ট করেছে। সূত্র: নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের কার্যালয়, নিউইয়র্ক স্টেট, Chalkbeat New York, NBC New York, FOX 5 New York।
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ৯০টি ক্ষুদ্র ভূমিকম্প, লস অ্যাঞ্জেলেসের বিস্তীর্ণ এলাকায় কম্পন
অভিবাসীদের নিয়ে ট্রাম্পের নতুন নীতির বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক সিটির মামলা
মিয়ামিতে তিন গাড়ির ওপর হঠাৎ ধসে পড়ল বিশাল ক্রেন, আ হত ৪ জন
মার্কিনদের জন্য ৫ হাজার ডলারের এককালীন অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হবে—এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, এমনটাই দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুধু তা-ই নয়, এই বিপুল অর্থের জোগান কোথা থেকে আসবে, সেটিও তিনি ‘ঠিক কীভাবে’ জানেন বলে জানিয়েছেন। রোববার আয়ারল্যান্ডের কাউন্টি ক্লেয়ারের শ্যানন বিমানবন্দর ছাড়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ট্রাম্প। এ সময় তাকে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে আমেরিকানদের ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে ট্রাম্প বলেন, “৫ হাজার ডলারের চেক দেওয়া হচ্ছে।” অর্থাৎ বিষয়টি কেবল প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ নয়, এটি বাস্তবায়নের পথেই রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। কিন্তু এত বিপুল অর্থের জোগান আসবে কোথা থেকে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে ট্রাম্পের উত্তর ছিল আরও কৌতূহলোদ্দীপক। তিনি বলেন, “আমরা কীভাবে এর অর্থ পরিশোধ করব, তা আমি ঠিক জানি।” এরপর অবশ্য অর্থের উৎস নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়ে দ্রুত প্রসঙ্গ পরিবর্তন করেন তিনি। ট্রাম্প আরও জোর দিয়ে বলেন, ৫ হাজার ডলারের এই অর্থপ্রদান ‘১০০ শতাংশ’ হবে। এর আগে তার ‘বিগ বিউটিফুল বিল’ এবং সামরিক সদস্যদের জন্য ১ হাজার ৭৭৬ ডলার দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েও অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেগুলো বাস্তবায়িত হয়েছে—এমন যুক্তি দেখিয়ে ৫ হাজার ডলারের পরিকল্পনাও বাস্তবায়নের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও কম নয়। ডেমোক্র্যাটরা বলছে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের প্রভাবিত করতেই এমন অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্পের দাবি, নির্বাচনের আগে তিনি এই অর্থ দিতে চান না। কারণ ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে এই অর্থ দেওয়ার সক্ষমতা তাদের থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তার ভাষায়, ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে দেশ ‘ছিন্নভিন্ন’ হয়ে যাবে এবং তারা এই অর্থ দিতে পারবে না। বিপরীতে নিজের নেতৃত্বের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তিনি সবসময় অর্থ উপার্জন করেছেন এবং এখন দেশের জন্যও অনেক অর্থ উপার্জন করছেন। তবে ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অর্থের জোগান। বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, প্রস্তাবটি বাস্তবায়নে মোট ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি প্রয়োজন হতে পারে। এর পাশাপাশি ২০২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতিও প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার। ট্রাম্প এর আগে দাবি করেছিলেন, এই অর্থ দেওয়ার জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। কিন্তু রিপাবলিকান হাউস স্পিকার মাইক জনসন এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছেন। রোববার সিএনএনের স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন অনুষ্ঠানে জনসন বলেন, এই অর্থ দেওয়ার জন্য কংগ্রেসকে পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি ট্রাম্পের প্রস্তাবকে ‘সৃজনশীল ধারণা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি অনেক মানুষকে উৎসাহিত করেছে। তবে বাস্তবায়নের আগে এর বিস্তারিত পরিকল্পনা ঠিক করতে হবে। অর্থাৎ ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ট্রাম্পের আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট হলেও, সেই টাকা আসবে কোথা থেকে এবং কীভাবে দেওয়া হবে—সেই প্রশ্নের পূর্ণ উত্তর এখনো সামনে আসেনি।
ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ার হুমকি প্যারামাউন্টের, বড় ধাক্কার শঙ্কা অর্থনীতিতে
ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি যেন ‘যত গর্জে তত বর্ষে না’