আমেরিকা

ভর্তির সুযোগ না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট হ্যাক!

সামিয়া আঁখি প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ৭:২৩
ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করা এক রহস্যময় হ্যাকার। ছবি:সংগৃহীত
ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করা এক রহস্যময় হ্যাকার। ছবি:সংগৃহীত

ভারতের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটি কানপুর ও আইআইটি মাদ্রাজের ওয়েবসাইটে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে আলোচনায় আসা এক তরুণের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে তার প্রযুক্তিগত দক্ষতা মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইআইটি কানপুর। প্রতিষ্ঠানের ভাষ্য, পরীক্ষায় যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারলে আগামী শিক্ষাবর্ষে ভর্তির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আইআইটি কানপুরের নতুন চালু হওয়া ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন সাইবার সিকিউরিটি প্রোগ্রামে আবেদন করেছিলেন ওই তরুণ। তার অভিযোগ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও ভর্তি প্রক্রিয়ার হ্যাকাথন ধাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি।

 

প্রাথমিক বাছাইয়ে বাদ পড়ার পর তিনি আইআইটি কানপুর ও আইআইটি মাদ্রাজের ওয়েবসাইটে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে একটি বার্তা রেখে যান। সেখানে লেখা ছিল, “এই সাইট হ্যাক করা হয়েছে। আমার শুধু একটি ন্যায্য সুযোগ প্রয়োজন।”

 

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওয়েবসাইটে প্রবেশের স্ক্রিনশট প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন, কারও ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে নয়; বরং নিজের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা প্রদর্শন করতেই তিনি এ কাজ করেছেন।

 

আইআইটি কানপুরের পরিচালক মণীন্দ্র আগরওয়াল জানিয়েছেন, আবেদনকারীর পূর্ব অভিজ্ঞতা ভর্তি নীতিমালায় নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ না করায় তাকে নির্বাচিত করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া চলতি শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রমও ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

 

তবে ঘটনাটিকে শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলার বিষয় হিসেবে না দেখে সম্ভাবনাময় প্রতিভা মূল্যায়নের সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এজন্য ওই তরুণকে ক্যাম্পাসে ডেকে একটি বিশেষ দক্ষতা মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। সেখানে তিনি প্রয়োজনীয় সক্ষমতা দেখাতে পারলে আগামী শিক্ষাবর্ষে ভর্তির আবেদন ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে।

 

আইআইটি কানপুর আরও জানিয়েছে, পরীক্ষার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ওই তরুণকে বোঝাবেন যে, প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকলেও অনুমতি ছাড়া কোনো কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশ করা আইন ও পেশাগত নৈতিকতার দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।

 

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক বা ওয়েবসাইটে মালিকের অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা অধিকাংশ দেশেই আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত করলেও দায়িত্বশীলভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নৈতিক চর্চা বা ‘রেসপনসিবল ডিসক্লোজার’। আইআইটি কানপুরের এই সিদ্ধান্ত তাই একদিকে সম্ভাবনাময় মেধাকে মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে সাইবার নৈতিকতা সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
মেলানিয়া ট্রাম্প। ছবি:সংগৃহীত
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধবিচ্ছিন্ন আরও পাঁচ শিশুর পরিবারে ফেরা, মেলানিয়া ট্রাম্পের ভূমিকায় প্রশংসনীয় ভূমিকা

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া আরও পাঁচ শিশুকে তাদের স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, শিশুদের পুনর্মিলনে এটি তার উদ্যোগে সম্পন্ন হওয়া ধারাবাহিক মানবিক প্রচেষ্টার সর্বশেষ সাফল্য।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেলানিয়া ট্রাম্পের কার্যালয় জানিয়েছে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় পাঁচ শিশুকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে চলমান যোগাযোগের মাধ্যমে আরও বিচ্ছিন্ন শিশুদের ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। এ তথ্য হোয়াইট হাউসের বক্তব্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।   এক বিবৃতিতে মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধে বিচ্ছিন্ন হওয়া শিশুদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া বর্তমান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ইস্যু। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজনৈতিক ও সামরিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও উভয় পক্ষ শিশুদের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।    ইউক্রেন সরকার দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর হাজার হাজার ইউক্রেনীয় শিশুকে রাশিয়া বা রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মস্কোর দাবি, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে শিশুদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার মানবিক উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলো এ ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছে।    শিশুদের প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গুরুত্ব পেয়েছে। যুদ্ধ চলাকালে শিশুদের জোরপূর্বক স্থানান্তরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছে। রাশিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।    হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, মেলানিয়া ট্রাম্প গত বছর থেকে এ মানবিক উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। তার কার্যালয় জানিয়েছে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং যুদ্ধের কারণে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া আরও শিশুদের নিরাপদে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে আনতে কাজ চলছে।

সামিয়া আঁখি প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ৮:৬
লতিফ সিদ্দিকীকে আদলতে তুলার সময়। ছবি:সংগৃহীত

আদালতকে বলতে চাইলাম ফাঁসি দিয়ে দেন, প্রস্তুত আছি: লতিফ সিদ্দিকী

ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করা এক রহস্যময় হ্যাকার। ছবি:সংগৃহীত

ভর্তির সুযোগ না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট হ্যাক!

"হাসপাতালে পিঠে বিলিয়ার্ড/পুল কিউ (লাঠি) এক ব্যক্তির নাটকীয় দৃশ্য।" ছবি:সংগৃহীত

ট্রেকিং স্টিক শরীর ভেদ করেও ১৬ কিলোমিটার হাটলেন পর্বতারোহী

বিট কয়েন ও বিমান। ছবি:সংগৃহীত
এমিরেটসে এবার বিটকয়েনে টিকিটের মূল্য পরিশোধ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুগের সূচনা

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা এমিরেটস এবার যাত্রীদের জন্য ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে টিকিটের মূল্য পরিশোধের সুযোগ চালু করছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রথম বড় পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন হিসেবে এ উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি, যা ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় নতুন এক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।   মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এমিরেটস জানায়, প্রাথমিকভাবে ‘ক্রিপ্টো ডটকম পে’ সেবার মাধ্যমে এই সুবিধা দেওয়া হবে। যাত্রীরা এমিরেটসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে টিকিটের মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। এ তথ্য প্রকাশ করেছে দ্য ন্যাশনাল।   প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ওয়েবসাইটে টিকিটের মূল্য আগের মতোই সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুদ্রা দিরহামে প্রদর্শিত হবে। তবে অর্থ পরিশোধের সময় ক্রিপ্টো ডটকম পে ব্যবহার করে বিটকয়েন বা সমর্থিত অন্য কোনো ডিজিটাল মুদ্রার মাধ্যমে সমপরিমাণ অর্থ পরিশোধ করা যাবে।   যদিও এমিরেটস নির্দিষ্ট করে কোন কোন ক্রিপ্টোকারেন্সি গ্রহণ করা হবে, তা জানায়নি। তবে ক্রিপ্টো ডটকম প্ল্যাটফর্মে বর্তমানে ৪০০টির বেশি ডিজিটাল সম্পদের লেনদেন হয়। এর মধ্যে বিটকয়েন, ইথেরিয়াম, সোলানা, টেদার (ইউএসডিটি), ইউএসডি কয়েন (ইউএসডিসি) এবং প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব টোকেন ক্রোনোসও রয়েছে।   এমিরেটসের ডেপুটি প্রেসিডেন্ট ও প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আদনান কাজিম বলেন, নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তিনির্ভর গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ এবং ভ্রমণকে আরও সহজ ও আধুনিক করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এখন অনেক যাত্রীই মোবাইলের মাধ্যমে ভ্রমণ পরিকল্পনা ও অর্থ লেনদেন সম্পন্ন করতে চান। এয়ারলাইনগুলোরও সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা উচিত।   তিনি আরও বলেন, দুবাই ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে বৈশ্বিক আর্থিক প্রযুক্তি (ফিনটেক) কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার যে লক্ষ্য সরকার নিয়েছে, এমিরেটসের এই উদ্যোগ সেই কৌশলেরই অংশ।   ডিজিটাল সম্পদের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সম্প্রসারণে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতোমধ্যে ভার্চুয়াল অ্যাসেটস রেগুলেটরি অথরিটি (ভারা) গঠন করেছে। পাশাপাশি দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল সেন্টার (ডিআইএফসি) এবং আবুধাবি গ্লোবাল মার্কেট (এডিজিএম) ক্রিপ্টো ও ব্লকচেইনভিত্তিক বিনিয়োগকে উৎসাহ দিয়ে আসছে।   সিঙ্গাপুরভিত্তিক ক্রিপ্টো ডটকমের দাবি, বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশে তাদের ১৫ কোটির বেশি নিবন্ধিত ব্যবহারকারী রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বাজারেও প্রতিষ্ঠানটি কয়েক বছর ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।   অবশ্য সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিমান টিকিট কেনার ক্ষেত্রে ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার একেবারেই নতুন নয়। ২০২৫ সালের মে মাসে দেশটির স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা এয়ার এরাবিয়া প্রথম এ ধরনের সেবা চালু করে। পরে জুলাইয়ে এমিরেটস ও দুবাই ডিউটি ফ্রি ক্রিপ্টো ডটকমের সঙ্গে অংশীদারত্বের জন্য একটি সমঝোতা চুক্তি সই করে। সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় এবার আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রীদের জন্য ক্রিপ্টো পেমেন্ট সুবিধা চালুর ঘোষণা দিল এমিরেটস।   ক্রিপ্টো ডটকমের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এরিক আনজিয়ানি বলেন, এমিরেটসের সঙ্গে এই অংশীদারত্ব সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে বৈশ্বিক ভ্রমণ খাতে ডিজিটাল মুদ্রার ব্যবহার আরও বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।

সামিয়া আঁখি প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ৬:৪৫
গাড়ি বহর। ছবি:সংগৃহীত

সিলেটে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা

ক্রিস্টোফার নোলান বিখ্যাত ব্রিটিশ-আমেরিকান চলচ্চিত্র পরিচালক, চিত্রনাট্যকার এবং প্রযোজক। ছবি:সংগৃহীত

স্মার্টফোন ব্যবহার করেন না, ই মেইলও নয়! তবু ৫ হাজার কোটি টাকার মালিক

ফেডারেল রিজার্ভ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ছবি:সংগৃহীত

ফেডের সুদহার অপরিবর্তিত, ঋণ ও মর্টগেজে নেই স্বস্তি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ওষুধ। ছবি:সংগৃহীত
২০২৭ থেকে শেষ হচ্ছে মেডিকেয়ার পার্ট-ডি ভর্তুকি, ওষুধ বিমার খরচ বাড়তে পারে লাখো মার্কিন প্রবীণের

যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেয়ারের প্রেসক্রিপশন ওষুধবিষয়ক ‘পার্ট-ডি’ কর্মসূচির জন্য দেওয়া অস্থায়ী ফেডারেল ভর্তুকি ২০২৬ সালের পর আর নবায়ন করা হবে না। এর ফলে ২০২৭ সাল থেকে স্ট্যান্ড-অ্যালোন পার্ট-ডি ওষুধ বিমা পরিকল্পনায় থাকা প্রায় আড়াই কোটি মার্কিন প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী উপকারভোগীর একটি বড় অংশকে বেশি প্রিমিয়াম গুনতে হতে পারে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (সিএমএস)। এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য হিল, রয়টার্সসহ একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম।   সিএমএস জানিয়েছে, প্রেসক্রিপশন ওষুধের বিমা বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে বাইডেন প্রশাসনের সময় চালু করা অস্থায়ী ‘পার্ট-ডি প্রিমিয়াম স্ট্যাবিলাইজেশন’ কর্মসূচি ২০২৬ সালেই শেষ হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, বাজার এখন আগের তুলনায় স্থিতিশীল এবং বীমা কোম্পানিগুলোর সরকারি অতিরিক্ত সহায়তা ছাড়াই পরিকল্পনার মূল্য নির্ধারণ করার সক্ষমতা রয়েছে।   সিএমএসের প্রশাসক ডা. মেহমেত ওজ বলেন, এই ভর্তুকি কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা এখন আর নেই। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ উপকারভোগীর মাসিক প্রিমিয়াম বৃদ্ধি ১০ ডলারের কম থাকবে এবং অনেকেই পরিকল্পনা পরিবর্তনের মাধ্যমে কম খরচের বিকল্পও বেছে নিতে পারবেন।   তবে স্বাস্থ্যনীতি বিশ্লেষক ও ভোক্তা সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, ভর্তুকি প্রত্যাহারের ফলে অনেক বীমা পরিকল্পনার প্রিমিয়াম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে যেসব প্রবীণ স্ট্যান্ড-অ্যালোন পার্ট-ডি পরিকল্পনার ওপর নির্ভরশীল, তাদের ওপর এর প্রভাব বেশি পড়তে পারে।   ২০২২ সালের ইনফ্লেশন রিডাকশন অ্যাক্টের আওতায় মেডিকেয়ার পার্ট-ডিতে ওষুধের বার্ষিক নিজস্ব ব্যয়ের সীমা নির্ধারণসহ বেশ কিছু বড় পরিবর্তন আনা হয়। এসব পরিবর্তনের ফলে বীমা কোম্পানিগুলোর আর্থিক দায় বেড়ে যাওয়ায় বাজারে আকস্মিক প্রিমিয়াম বৃদ্ধি ঠেকাতে অস্থায়ী ভর্তুকি চালু করা হয়েছিল। সেই কর্মসূচির মেয়াদই ২০২৬ সালে শেষ হচ্ছে।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের চূড়ান্ত প্রিমিয়াম ও বিভিন্ন পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য আগামী শরতে উন্মুক্ত নিবন্ধন (ওপেন এনরোলমেন্ট) শুরুর আগে প্রকাশ করা হবে। সে সময় উপকারভোগীরা চাইলে কম খরচের অন্য পার্ট-ডি পরিকল্পনা অথবা প্রেসক্রিপশন ওষুধ সুবিধাসহ মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনায় পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন।   ভর্তুকি কর্মসূচি বন্ধের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টার অংশ হলেও এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভব করতে পারেন নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল প্রবীণ নাগরিকরা। ফলে ২০২৭ সালের নতুন প্রিমিয়াম ঘোষণা এবং উন্মুক্ত নিবন্ধন পর্বের দিকে এখন নজর রাখছেন লাখো মেডিকেয়ার গ্রাহক।

সামিয়া আঁখি প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ৫:৩৩
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কুয়েতের উত্তরাঞ্চলে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলায় একজন কর্মী নিহত হওয়ার পাশাপাশি স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কুয়েতে চীনা প্রতিষ্ঠানের ভবনে নিহত ১, সংঘাতের নতুন মাত্রা

নির্বাচনে জোরালো প্রচারে আবার মাঠে নামছেন ইলন মাস্ক

নির্বাচনে জোরালো প্রচারে আবার মাঠে নামছেন ইলন মাস্ক

এআই দৌড়ে বড় বাজি ট্রাম্পের, পুরোনো পারমাণবিক স্থাপনায় গড়ে উঠছে বিশাল ডেটা সেন্টার

এআই দৌড়ে বড় বাজি ট্রাম্পের, পুরোনো পারমাণবিক স্থাপনায় গড়ে উঠছে বিশাল ডেটা সেন্টার

0 Comments