ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ার হুমকি প্যারামাউন্টের, বড় ধাক্কার শঙ্কা অর্থনীতিতে
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে প্যারামাউন্ট তাদের প্রধান কার্যালয় ও কার্যক্রম সরিয়ে নিলে অঙ্গরাজ্যটির অর্থনীতিতে বছরে ২১ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রায় ৫৮ হাজার কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির (ডব্লিউবিডি) সঙ্গে প্যারামাউন্টের সম্ভাব্য একীভূতকরণ নিয়ে চলমান অ্যান্টিট্রাস্ট বিতর্কের মধ্যে ফাঁস হওয়া একটি প্রাথমিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে এমন সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের ইনস্টিটিউট ফর অ্যাপ্লাইড ইকোনমিকস প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। এতে প্যারামাউন্ট ক্যালিফোর্নিয়া থেকে তাদের কার্যক্রম সরিয়ে নিলে অঙ্গরাজ্যের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রথম হাতে পায় মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো।
ডব্লিউবিডির সঙ্গে প্যারামাউন্টের একীভূতকরণ নিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টার নেতৃত্বে ১২টি ডেমোক্র্যাট অঙ্গরাজ্যের আইনি পদক্ষেপের পর। অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগ, এই একীভূতকরণ হলে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন খাতে প্রতিযোগিতা কমে যেতে পারে।
চুক্তিটি বাস্তবায়িত না হলে আগামী ১ অক্টোবর থেকে প্যারামাউন্টকে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে তাদের প্রধান কার্যালয় ও হাজার হাজার কর্মসংস্থান সরিয়ে নিতে হতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটি ইঙ্গিত দিয়েছে। সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে জর্জিয়া, টেনেসি ও টেক্সাসের নামও আলোচনায় এসেছে।
প্রতিবেদনে সবচেয়ে বড় প্রভাব হিসেবে কর্মসংস্থানের বিষয়টি উঠে এসেছে। প্যারামাউন্ট ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকা তাদের সব কার্যক্রম সরিয়ে নিলে অঙ্গরাজ্যটিতে স্থায়ীভাবে ২৮ হাজার ৯৯০ থেকে সর্বোচ্চ ৫৭ হাজার ৯৮০টি পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান কমে যেতে পারে। এর মধ্যে প্যারামাউন্টের সরাসরি কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং কর্মীদের ব্যয়ের মাধ্যমে সৃষ্ট কর্মসংস্থানও অন্তর্ভুক্ত।
এ ধরনের পরিবর্তনের ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বছরে ১০ দশমিক ৬ বিলিয়ন থেকে ২১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমতে পারে। একই সঙ্গে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারের কর রাজস্ব বছরে প্রায় ৫৮৫ মিলিয়ন থেকে ১ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব হিসাব মূলত সবচেয়ে বড় সম্ভাব্য প্রভাবের একটি চিত্র। এর কারণ, প্যারামাউন্ট অঙ্গরাজ্যভিত্তিক পরিচালন ব্যয় ও কর্মসংস্থানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে না। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির মোট পরিচালন ব্যয় ছিল প্রায় ১৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।
বিশ্লেষণে ধারণা করা হয়েছে, প্যারামাউন্টের মোট পরিচালন ব্যয়ের ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ ক্যালিফোর্নিয়ার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। অর্থের হিসাবে এর পরিমাণ বছরে প্রায় ৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন থেকে ১১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার।
এদিকে একীভূতকরণসংক্রান্ত প্রায় ১ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত ফি ও অর্থায়ন ব্যয় সামাল দিতে প্যারামাউন্ট যদি ক্যালিফোর্নিয়ায় ব্যয় কমায়, সেক্ষেত্রেও অর্থনীতিতে প্রভাব পড়তে পারে। পাঁচ বছরে সমান হারে ব্যয় কমানো হলে প্রতিবছর ৫৫০ থেকে ১ হাজার ১১০টি পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণ কর্মসংস্থান এবং ২০২ দশমিক ৭ মিলিয়ন থেকে ৪০৫ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কমতে পারে।
প্যারামাউন্ট ও ডব্লিউবিডির সম্ভাব্য একীভূতকরণ নিয়ে আইনি বিরোধের সূত্রপাত হয় গত ১৩ জুলাই। সেদিন ১২টি অঙ্গরাজ্য চুক্তিটি রোধ করতে আইনি পদক্ষেপ নেয়। তাদের দাবি, একীভূতকরণ হলে বড় পরিসরের সিনেমা, সম্ভাব্য ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র এবং বেসিক কেবল চ্যানেলের স্বত্ব বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা কমে যেতে পারে।
অন্যদিকে, মার্কিন বিচার বিভাগ গত জুনে নিজস্ব পর্যালোচনা শেষ করলেও একীভূতকরণ ঠেকাতে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়নি। বিভাগের মূল্যায়ন ছিল, এই চুক্তির ফলে স্ট্রিমিং, প্রচলিত টেলিভিশন কিংবা চলচ্চিত্র নির্মাণ, প্রযোজনা ও বিতরণ খাতে প্রতিযোগিতার ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই।
এদিকে ৩০ সেপ্টেম্বরের পর চুক্তি সম্পন্ন হলে ডব্লিউবির শেয়ারহোল্ডারদের অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার শর্ত রয়েছে। এলএইডিইসির প্রতিবেদনের হিসাবে, ১ অক্টোবর থেকে এই অতিরিক্ত অর্থ বা ‘টিকিং ফি’ বাবদ প্যারামাউন্টকে প্রতিদিন প্রায় ৭ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হতে পারে।
বিরোধ নিরসনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে প্যারামাউন্ট একীভূত প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে অন্তত ৩০টি সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে পাঁচ বছরে ক্যালিফোর্নিয়ায় ১ হাজার ২০ থেকে ২ হাজার ৭৬০টি চাকরির সমপরিমাণ কর্মসংস্থান এবং ৩৭৭ দশমিক ৭ মিলিয়ন থেকে ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে।
.ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় বলেছে, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি এবং ব্যবসার জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান। তাদের মতে, শক্তিশালী অ্যান্টিট্রাস্ট আইন প্রয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতা ও ভোক্তাদের সুবিধা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
.তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে প্যারামাউন্টের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreমার্কিনদের জন্য ৫ হাজার ডলারের এককালীন অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হবে—এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, এমনটাই দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুধু তা-ই নয়, এই বিপুল অর্থের জোগান কোথা থেকে আসবে, সেটিও তিনি ‘ঠিক কীভাবে’ জানেন বলে জানিয়েছেন। রোববার আয়ারল্যান্ডের কাউন্টি ক্লেয়ারের শ্যানন বিমানবন্দর ছাড়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ট্রাম্প। এ সময় তাকে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে আমেরিকানদের ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে ট্রাম্প বলেন, “৫ হাজার ডলারের চেক দেওয়া হচ্ছে।” অর্থাৎ বিষয়টি কেবল প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ নয়, এটি বাস্তবায়নের পথেই রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। কিন্তু এত বিপুল অর্থের জোগান আসবে কোথা থেকে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে ট্রাম্পের উত্তর ছিল আরও কৌতূহলোদ্দীপক। তিনি বলেন, “আমরা কীভাবে এর অর্থ পরিশোধ করব, তা আমি ঠিক জানি।” এরপর অবশ্য অর্থের উৎস নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়ে দ্রুত প্রসঙ্গ পরিবর্তন করেন তিনি। ট্রাম্প আরও জোর দিয়ে বলেন, ৫ হাজার ডলারের এই অর্থপ্রদান ‘১০০ শতাংশ’ হবে। এর আগে তার ‘বিগ বিউটিফুল বিল’ এবং সামরিক সদস্যদের জন্য ১ হাজার ৭৭৬ ডলার দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েও অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেগুলো বাস্তবায়িত হয়েছে—এমন যুক্তি দেখিয়ে ৫ হাজার ডলারের পরিকল্পনাও বাস্তবায়নের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও কম নয়। ডেমোক্র্যাটরা বলছে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের প্রভাবিত করতেই এমন অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্পের দাবি, নির্বাচনের আগে তিনি এই অর্থ দিতে চান না। কারণ ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে এই অর্থ দেওয়ার সক্ষমতা তাদের থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তার ভাষায়, ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে দেশ ‘ছিন্নভিন্ন’ হয়ে যাবে এবং তারা এই অর্থ দিতে পারবে না। বিপরীতে নিজের নেতৃত্বের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তিনি সবসময় অর্থ উপার্জন করেছেন এবং এখন দেশের জন্যও অনেক অর্থ উপার্জন করছেন। তবে ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অর্থের জোগান। বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, প্রস্তাবটি বাস্তবায়নে মোট ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি প্রয়োজন হতে পারে। এর পাশাপাশি ২০২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতিও প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার। ট্রাম্প এর আগে দাবি করেছিলেন, এই অর্থ দেওয়ার জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। কিন্তু রিপাবলিকান হাউস স্পিকার মাইক জনসন এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছেন। রোববার সিএনএনের স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন অনুষ্ঠানে জনসন বলেন, এই অর্থ দেওয়ার জন্য কংগ্রেসকে পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি ট্রাম্পের প্রস্তাবকে ‘সৃজনশীল ধারণা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি অনেক মানুষকে উৎসাহিত করেছে। তবে বাস্তবায়নের আগে এর বিস্তারিত পরিকল্পনা ঠিক করতে হবে। অর্থাৎ ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ট্রাম্পের আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট হলেও, সেই টাকা আসবে কোথা থেকে এবং কীভাবে দেওয়া হবে—সেই প্রশ্নের পূর্ণ উত্তর এখনো সামনে আসেনি।
ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ার হুমকি প্যারামাউন্টের, বড় ধাক্কার শঙ্কা অর্থনীতিতে
ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি যেন ‘যত গর্জে তত বর্ষে না’
কফির কাপ নিয়ে ক্লাসে প্রবেশে সাসপেন্ড মার্কিন ছাত্রী, নতুন নিয়ম ঘিরে স্কুলে চরম বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৫ সালের নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ফেডারেল কারাগারে ট্রান্সজেন্ডার বন্দীদের আবাসন ও চিকিৎসা নীতিতে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নীতিতে বন্দীদের কারাগারে রাখার ক্ষেত্রে জন্মের সময় নির্ধারিত লিঙ্গকে ভিত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে নারী কারাগারে থাকা কিছু ট্রান্সজেন্ডার নারী বন্দীকে পুরুষদের কারাগারে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। ট্রাম্প ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে জারি করা নির্বাহী আদেশে ফেডারেল কারাগারে নারী বন্দীদের জন্য নির্ধারিত স্থানে পুরুষদের আটক বা রাখার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে নির্দেশ দেন। একই আদেশে ফেডারেল ব্যুরো অব প্রিজনসকে চিকিৎসা নীতি সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং বন্দীদের শারীরিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে কোনো চিকিৎসা, ওষুধ বা চিকিৎসা পদ্ধতিতে ফেডারেল অর্থ ব্যয় না করার কথা বলা হয়। ফেডারেল ব্যুরো অব প্রিজনসের নীতিমালা অনুযায়ী, বন্দীদের কোনো কারাগারে স্থানান্তর বা পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, কারাগারের ধারণক্ষমতা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয় বিবেচনা করা হয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতে তাদের বিভিন্ন নীতি পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এর আগে ব্যুরো অব প্রিজনসের ২০২৩ সালের ক্লিনিক্যাল গাইডলাইনে ট্রান্সজেন্ডার ও জেন্ডার ননবাইনারি বন্দীদের জন্য জেন্ডার অ্যাফার্মিং কেয়ারের বিভিন্ন নির্দেশনা ছিল। ওই নীতিতে চিকিৎসার প্রয়োজন অনুযায়ী হরমোন থেরাপি, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বিপরীত লিঙ্গের জন্য নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে রাখার বিষয়টি বিবেচনার সুযোগ ছিল। নতুন প্রশাসনিক নীতির ফলে এসব ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাহী আদেশে আরও বলা হয়েছে, ফেডারেল কারাগারে বন্দীদের আবাসন ও অন্যান্য আলাদা স্থান নির্ধারণে জেন্ডার আইডেন্টিটির পরিবর্তে জন্মের সময় নির্ধারিত লিঙ্গকে ভিত্তি করতে হবে। প্রশাসনের ভাষ্য, এর উদ্দেশ্য হলো ফেডারেল সরকারের নীতিতে জৈবিক লিঙ্গকে ভিত্তি করা এবং নারী বন্দীদের জন্য নির্ধারিত কারাগার ও অন্যান্য ব্যক্তিগত পরিসরের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। তবে বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক রয়েছে। ট্রান্সজেন্ডার অধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, বন্দীদের জেন্ডার আইডেন্টিটি উপেক্ষা করে আবাসন নির্ধারণ করলে তাদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, কারাগারে নারী ও পুরুষদের আলাদা রাখার ক্ষেত্রে জৈবিক লিঙ্গভিত্তিক নীতি নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় প্রয়োজনীয়। ফেডারেল ব্যুরো অব প্রিজনস বর্তমানে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন নীতিমালা পর্যালোচনা করছে। ফলে ট্রান্সজেন্ডার বন্দীদের আবাসন, চিকিৎসা এবং কারাগারে দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনায় আরও পরিবর্তন আসতে পারে।
নিউইয়র্কে সাবওয়ে ট্র্যাকে বসে ছিলেন তরুণ-তরুণী, ট্রেনের ধাক্কায় নিহত
উচ্চশিক্ষিত আমেরিকানদের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস, নির্বাচনের আগে বিপাকে রিপাবলিকানরা
৬.৯ মিলিয়ন ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতিতে মার্কিন চিকিৎসকের সাড়ে ৩ বছরের কারাদণ্ড
ক্যালিফোর্নিয়ায় হঠাৎ অসুস্থতা, দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দ্রুত সঠিক জায়গায় পৌঁছানো। জীবন-হুমকির পরিস্থিতিতে ৯১১ নম্বরে কল করতে বলা হয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্য বা আচরণগত সংকটে ৯৮৮ নম্বরে কল বা খুদে বার্তা পাঠিয়ে ২৪ ঘণ্টা সহায়তা পাওয়া যায়। বিষক্রিয়া বা কোনো বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শের ক্ষেত্রে বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের ১-৮০০-২২২-১২২২ নম্বরেও ২৪ ঘণ্টা বিনামূল্যে পরামর্শ পাওয়া যায়। জরুরি নম্বরগুলো এক নজরে ৯১১ — জীবন-হুমকির জরুরি পরিস্থিতি, দুর্ঘটনা বা গুরুতর অসুস্থতা ৯৮৮ — মানসিক স্বাস্থ্য সংকট ও আত্মহত্যা প্রতিরোধে জরুরি সহায়তা ১-৮০০-২২২-১২২২ — বিষক্রিয়া বা বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ক্যালিফোর্নিয়ায় হাসপাতালের সংখ্যা অনেক এবং হাসপাতালের ধরনও এক নয়। ক্যালিফোর্নিয়া জনস্বাস্থ্য বিভাগ বিভিন্ন ধরনের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ও নিয়ন্ত্রণ করে। এর মধ্যে সাধারণ জরুরি চিকিৎসা হাসপাতাল এবং মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালও রয়েছে। রাজ্যের লাইসেন্সপ্রাপ্ত হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তথ্য খুঁজতে স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত সরকারি তথ্যভান্ডার ব্যবহার করা যায়। সেখানে হাসপাতালের লাইসেন্স, অবস্থান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া যায়। এসব তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ হওয়ায় পুরনো অনলাইন তালিকার তুলনায় সরকারি তথ্যভান্ডার বেশি নির্ভরযোগ্য। জরুরি পরিস্থিতিতে কোন নম্বরে কল করতে হবে, সেটি আগে থেকেই জানা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কেউ অচেতন হয়ে পড়লে, শ্বাসকষ্ট হলে, গুরুতর আঘাত পেলে বা জীবন ঝুঁকিতে থাকলে ৯১১ নম্বরে কল করতে হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষিত কর্মীরা প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ বা ফায়ার সার্ভিস পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারেন। মানসিক স্বাস্থ্য সংকট, আত্মহত্যার চিন্তা, তীব্র মানসিক অস্থিরতা বা আচরণগত স্বাস্থ্যসংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতিতে ৯৮৮ নম্বরে কল বা খুদে বার্তা পাঠানো যায়। অনলাইন কথোপকথনের মাধ্যমেও সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই সেবা দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন চালু থাকে। কোনো ওষুধ, রাসায়নিক, পরিষ্কারক পণ্য, উদ্ভিদ বা অন্য কোনো সম্ভাব্য বিষাক্ত পদার্থ শরীরে প্রবেশ করলে বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের ১-৮০০-২২২-১২২২ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। এই সেবা বিনামূল্যে এবং ২৪ ঘণ্টা চালু। তবে আক্রান্ত ব্যক্তি অচেতন হয়ে গেলে, খিঁচুনি হলে বা শ্বাস নিতে সমস্যা হলে অপেক্ষা না করে ৯১১ নম্বরে কল করতে হবে। হাসপাতাল খোঁজার সময় শুধু দূরত্ব নয়, হাসপাতালটি কী ধরনের চিকিৎসা দেয় সেটিও দেখা জরুরি। কোনো হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা জরুরি বিভাগ থাকলেও সেখানে সব ধরনের বিশেষায়িত চিকিৎসা নাও পাওয়া যেতে পারে। গুরুতর পরিস্থিতিতে তাই নিজের মতো করে দূরের কোনো বিশেষায়িত হাসপাতাল খোঁজার পরিবর্তে ৯১১-এর জরুরি সহায়তা নেওয়া নিরাপদ। স্বাস্থ্যবিমা থাকা রোগীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হাসপাতালটি তাদের স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনার আওতাভুক্ত কি না। জরুরি নয় এমন চিকিৎসার ক্ষেত্রে হাসপাতালে যাওয়ার আগে নিজের স্বাস্থ্যবিমা কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে কোন হাসপাতাল ও চিকিৎসক পরিকল্পনার আওতাভুক্ত, তা জেনে নেওয়া যেতে পারে। এতে চিকিৎসার সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে আগাম ধারণা পাওয়া সম্ভব। তবে জীবন-হুমকির জরুরি পরিস্থিতিতে চিকিৎসা নিতে দেরি করা উচিত নয়। গুরুতর অসুস্থতা বা আঘাতের ক্ষেত্রে আগে জরুরি চিকিৎসা নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। যাদের মেডি-ক্যাল আছে বা মেডি-ক্যালের জন্য আবেদন করেছেন, তাদের জন্যও জরুরি চিকিৎসা পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যাওয়া যায়। কিছু যোগ্য আবেদনকারী হাসপাতাল থেকেই সাময়িক মেডি-ক্যাল সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন। স্বাস্থ্যবিমা না থাকলেও চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ সম্পর্কে হাসপাতালের আর্থিক সহায়তা বিভাগ বা দাতব্য চিকিৎসা সহায়তা কর্মসূচির সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে। অনেক হাসপাতাল যোগ্য রোগীদের জন্য চিকিৎসার খরচ কমানো বা পরিশোধে সহায়তার ব্যবস্থা রাখে। এ বিষয়ে চিকিৎসা নেওয়ার আগে বা বিল পাওয়ার পর হাসপাতালের আর্থিক সহায়তা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর প্রস্তুতি হলো নিজের বাসার কাছের হাসপাতাল ও জরুরি বিভাগের নাম, ঠিকানা এবং ফোন নম্বর আগে থেকেই ফোনে সংরক্ষণ করে রাখা। একই সঙ্গে ৯১১, ৯৮৮ এবং বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের নম্বরও ফোনে সংরক্ষণ করে রাখা ভালো। হাসপাতালের ঠিকানা, চিকিৎসাসেবা, লাইসেন্সের অবস্থা বা জরুরি বিভাগের কার্যক্রম পরিবর্তিত হতে পারে। তাই পুরনো ব্লগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা অননুমোদিত তালিকার ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ও সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করা উচিত। জীবন-হুমকির জরুরি পরিস্থিতিতে হাসপাতালের তালিকা খুঁজতে সময় নষ্ট না করে সরাসরি ৯১১ নম্বরে কল করুন।
মাঝ আকাশে পোশাক খুলে অ শা লীন আচরণের অ ভি যোগ, মিয়ামিতে আ টক নারী
সন্তান পালনে এক অভিভাবক ঘরে থাকলে যেসব রাজ্যে খরচ কম