আইসিইর আটক নিয়ে প্রশ্ন তোলার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বরখাস্ত, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সাবেক বিচারকের মামলা
আইসিইর হাতে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীকে আটকের ঘটনায় সম্ভাব্য আইন লঙ্ঘন ও ডিউ প্রসেস নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানোর প্রায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক এক ইমিগ্রেশন জজ। ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো ইমিগ্রেশন কোর্টের সাবেক বিচারক ক্লোয়ি ডিলন এ অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা করেছেন।
৯ সেপ্টেম্বরের পর দায়ের করা মামলায় ডিলন দাবি করেছেন, ২০২৫ সালের আগস্টে তাকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে তিনি প্রায় তিন বছর সান ফ্রান্সিসকোতে ইমিগ্রেশন জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার অভিযোগ অনুযায়ী, বরখাস্ত হওয়ার আগে তিনি কর্মক্ষেত্রে ভালো মূল্যায়ন পেয়েছিলেন এবং হাজারো ইমিগ্রেশন মামলা পরিচালনা করেছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় তার আদালতে হাজির হওয়া এক ব্যক্তিকে ঘিরে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি কোনো অ্যাটর্নি ছাড়াই আদালতে হাজির হয়েছিলেন। শুনানি শেষে আদালত থেকে বের হওয়ার পর তাকে আইসিই আটক করে। বিষয়টি জানার পর ডিলন সংশ্লিষ্ট ফাইল আবার পর্যালোচনা করেন।
ফাইল পর্যালোচনার পর ডিলনের ধারণা হয়, ওই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং একা ছিলেন। ফলে তিনি সম্ভবত ফেডারেল আইনের আওতায় একজন আনঅ্যাকম্পানিড মাইনর হিসেবে বিবেচিত হওয়ার যোগ্য ছিলেন। ডিলনের অভিযোগ, এমন অবস্থায় তাকে দ্রুত ডিপোর্টেশনের প্রক্রিয়া বা expedited removal-এ নেওয়া আইনগতভাবে সম্ভব নাও হতে পারে। তার আগে করা অ্যাসাইলাম অ্যাপ্লিকেশনও নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বিবেচনার সুযোগ পাওয়ার কথা ছিল বলে তিনি মনে করেন।
মামলায় বলা হয়েছে, ওই ঘটনার দিনই ডিলন তার সুপারভাইজারকে ইমেইল করে বিষয়টি জানান। সেখানে তিনি আইসিইর আটকের ঘটনায় সম্ভাব্য আইন লঙ্ঘন এবং ডিউ প্রসেসের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন। কিন্তু এর প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পরই তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের চিঠি দেওয়া হয়। ডিলনের দাবি, তার বরখাস্তের সঙ্গে আগের ওই অভিযোগের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে এবং এটি ছিল হুইসেলব্লোয়িংয়ের কারণে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা।
ডিলনের মামলায় হুইসেলব্লোয়ার প্রোটেকশন অ্যাক্ট, প্রথম সংশোধনীসহ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের বিভিন্ন সুরক্ষা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বরখাস্তের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার চেয়েছেন। মামলাটি ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা হয়েছে।
তবে ডিলনের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের এক মুখপাত্র বলেছেন, চলমান মামলা বা কর্মীদের বিষয়ে সাধারণত তারা মন্তব্য করে না। তবে ডিলনের অভিযোগকে তারা সরাসরি মিথ্যা বলে দাবি করেছে।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট ও ইমিগ্রেশন কোর্টের কার্যক্রম নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। ২০২৫ সালের শুরু থেকে একাধিক ইমিগ্রেশন জজকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সময়ে ইমিগ্রেশন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি এবং ডিপোর্টেশন কার্যক্রম জোরদারের ওপর প্রশাসনের গুরুত্ব বেড়েছে।
আনঅ্যাকম্পানিড মাইনরদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আইনে বিশেষ কিছু সুরক্ষা রয়েছে। একা যুক্তরাষ্ট্রে আসা শিশু বা কিশোরদের জন্য অ্যাসাইলামসহ বিভিন্ন ধরনের ইমিগ্রেশন রিলিফের সুযোগ থাকতে পারে এবং তাদের মামলায় নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করার প্রয়োজন হয়। ফলে আইসিই কোনো আনঅ্যাকম্পানিড মাইনরকে আটক করার পর তাকে কোন প্রক্রিয়ায় ডিপোর্টেশনের মুখোমুখি করা যাবে, তা নিয়ে আইনি প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
ডিলনের মামলা এখনো আদালতে বিচারাধীন। ফলে তিনি যে প্রতিশোধমূলকভাবে বরখাস্ত হয়েছেন বা আইসিইর আটক বেআইনি ছিল, তা আদালত এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করেনি। তবে অভিযোগটি ইমিগ্রেশন জজদের স্বাধীনতা, ডিউ প্রসেস এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট নীতির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ইপসিল্যান্টি এলাকার ১৫ বছর বয়সী জাহনিয়া ট্রেডওয়েলের গল্প এখন অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। ছোটবেলায় মায়ের সঙ্গে খাবার সহায়তা নিতে তাঁকেও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হতো। সেই অভিজ্ঞতাই একদিন তাঁকে অন্য মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা দেয়। ২০২৩ সালে স্বেচ্ছাসেবার কাজ শুরু করে এ পর্যন্ত প্রায় ৫৫০ ঘণ্টা সময় দিয়েছেন মানুষের সেবায়। স্থানীয় একটি খাদ্য সহায়তা কেন্দ্রে খাবার সাজানো, প্যাকেট তৈরি এবং অসচ্ছল পরিবারের মধ্যে খাবার বিতরণ করেন তিনি। একসময় সাধারণ স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ শুরু করলেও এখন কেন্দ্রটির ব্যবস্থাপনায়ও দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন স্বেচ্ছাসেবীদের প্রশিক্ষণ দিতেও সহায়তা করছেন। জাহনিয়া জানান, প্রথম দিন খাদ্য সহায়তা কেন্দ্রে গিয়ে তিনি অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। ভবনের বাইরে শত শত মানুষ খাবারের অপেক্ষায় গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখনই তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর মতো অনেক পরিবারেরই সহায়তা প্রয়োজন। তবে তাঁর মানবিক কাজ শুধু খাবার বিতরণে সীমাবদ্ধ নয়। ‘গার্লস অন দ্য রান’ নামের একটি কর্মসূচিতে তিনি ছোট মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও উৎসাহ দেন। খেলাধুলা, দলীয় কার্যক্রম এবং বিভিন্ন অনুশীলনের মাধ্যমে মেয়েদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে কাজ করেন। একসময় যে মেয়েটি নিজেই আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভুগতেন, আজ তিনি অন্য মেয়েদের সাহস জোগাচ্ছেন। একজন বড় বোনের মতো পাশে থেকে নতুন বন্ধু তৈরি ও দলীয় কাজে অংশ নিতে উৎসাহ দেন। মানুষের জন্য এই ধারাবাহিক কাজের স্বীকৃতিও পেয়েছেন জাহনিয়া। ২০২৬ সালের ওয়াশটেনাও কাউন্টির ‘ইয়াং সিটিজেন অব দ্য ইয়ার’ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তিনি। ভবিষ্যতে শিশু চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন এই কিশোরী। পাশাপাশি আরও খাদ্য সহায়তা কেন্দ্র ও শিশুদের জন্য পরিচালিত কর্মসূচিতে যুক্ত থাকতে চান। জাহনিয়ার গল্পের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—একসময় যে হাত সাহায্য নিয়েছিল, সেই হাতই আজ অন্যের হাতে সাহায্য তুলে দিচ্ছে। তাঁর বয়স মাত্র ১৫ বছর, কিন্তু মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা ও দায়িত্ববোধ অনেকের জন্য অনুকরণীয়।
কুমড়া কিনলেই পাশে দাঁড়ানো হচ্ছে ক্ষুধার্ত পরিবারের, ২৬ বছরের মানবিক উদ্যোগ
শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে জয় করে নিউইয়র্ক ম্যারাথনে নামছেন ১৯ বছরের সাহসী তরুণ
ইবোলা আতঙ্কে যুক্তরাষ্ট্রগামী সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রীদের জন্য নতুন নিয়ম সিডিসির
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের লায়ারলি এলাকায় গভীর রাতে একটি বাড়িতে ভয়াবহ আগুন লাগে। ঘরের ভেতরে তখন ঘুমিয়ে ছিলেন এক দম্পতি, তাঁদের ১২ দত্তক সন্তান এবং ১০ বছর বয়সী এক নাতনি। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় পুরো পরিবার প্রাণঘাতী বিপদের মুখে পড়ে। ঠিক সেই সময় ওই এলাকার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন আলাবামার বাসিন্দা ক্যাসি স্পার্কস। সঙ্গে ছিলেন তাঁর ১৩ বছর বয়সী ছেলে। পথনির্দেশক যন্ত্রের নির্দেশনায় রাস্তা পরিবর্তন করে ওই এলাকায় আসেন তিনি। পথে বাড়িটিতে আগুন জ্বলতে দেখে গাড়ি থামান। এরপর আরেক পথচারীর সহায়তায় বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন ক্যাসি। ঘুমন্ত পরিবারের সদস্যদের জাগিয়ে তোলেন এবং দ্রুত বাইরে বের হতে সাহায্য করেন। বাড়ির কর্তা জেমস বার্ক, তাঁর স্ত্রী লারিটা, ১২ দত্তক সন্তান ও নাতনিকে নিরাপদে সরিয়ে আনতে সহযোগিতা করেন।এভাবে একজন অপরিচিত মানুষের সাহসিকতায় রক্ষা পায় একটি পুরো পরিবার। আগুনে বাড়িটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। পরিবারের তিনটি গাড়িও পুড়ে যায়। তবে সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়, পরিবারের কোনো সদস্য প্রাণ হারাননি।এই দম্পতির মানবিক কাজের ইতিহাসও অনন্য। জেমস ও লারিটা বার্ক গত ১৫ বছরে পাঁচ শতাধিক শিশুকে পালক পরিচর্যা দিয়েছেন। নিজেদের সন্তানদের পাশাপাশি অসংখ্য অসহায় শিশুর জীবন গড়তে ভূমিকা রেখেছেন তাঁরা। আগুনে ঘরবাড়ি হারানোর পর পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় মানুষ। নতুন করে থাকার জায়গা খুঁজে দিতে অর্থ সংগ্রহ শুরু হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই ১১ হাজার ডলারের বেশি অনুদান জমা পড়ে। উদ্ধারকারী ক্যাসি স্পার্কস মনে করেন, সেদিন পথ পরিবর্তন করে ওই এলাকায় যাওয়া হয়তো কোনো বিশেষ কারণেই হয়েছিল। আর জেমস বার্কের কাছে সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা—বাড়ি ও সম্পদ হারালেও তাঁর পরিবারের সবাই বেঁচে আছেন।একটি দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে তাঁদের ঘর, কিন্তু একজন অপরিচিত মানুষের সাহসিকতা এবং মানুষের ভালোবাসা ফিরিয়ে দিয়েছে নতুন করে বেঁচে থাকার আশা।
যুক্তরাষ্ট্রে ওয়ার্ক পারমিট নবায়নে স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা বন্ধ, প্রভাব পড়বে অভিবাসীদের ওপর
বড় যুদ্ধের প্রস্তুতিতে বিপুল গণকবর খোঁড়ার মহড়া শুরু যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর
হ্যালোইন অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের উড়োজাহাজের আকস্মিক উড্ডয়ন, চমকে গেলেন অনেকে
বিনিয়োগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে বিদেশি নাগরিকদের জন্য ইবি-৫ অভিবাসী বিনিয়োগকারী কর্মসূচির আবেদন প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছে দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস)। এ কর্মসূচিতে আবেদন করতে কোন পর্যায়ে কোন ফরম জমা দিতে হবে, কীভাবে শর্তসাপেক্ষ স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায় এবং পরবর্তী সময়ে সেই শর্ত তুলে নেওয়ার আবেদন করতে হয়—পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করেছে সংস্থাটি। ইবি-৫ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বিনিয়োগের বিনিময়ে বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং যোগ্য পরিবারের সদস্যরা গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ পান। তবে শুধু বিনিয়োগ করলেই সরাসরি স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায় না। আবেদনকারীকে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে একাধিক ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। প্রথমে বিনিয়োগের ধরন অনুযায়ী আবেদন জমা দিতে হয়। এরপর ভিসা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত আবেদনকারীরা অবস্থান পরিবর্তনের আবেদন করতে পারেন, আর বিদেশে থাকা ব্যক্তিরা কনস্যুলার প্রক্রিয়ায় অভিবাসী ভিসার জন্য আবেদন করেন। প্রথম ধাপ: বিনিয়োগের ধরন অনুযায়ী আবেদন ইবি-৫ প্রক্রিয়ার শুরুতে আবেদনকারীকে দুটি ফরমের মধ্যে একটি জমা দিতে হয়। নিজ উদ্যোগে বা স্বতন্ত্রভাবে বিনিয়োগ করলে জমা দিতে হবে ফরম আই-৫২৬ (ইমিগ্র্যান্ট পিটিশন বাই স্ট্যান্ডঅ্যালোন ইনভেস্টর)। আর ইউএসসিআইএস অনুমোদিত আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে বিনিয়োগ করলে প্রয়োজন হবে ফরম আই-৫২৬ই (ইমিগ্র্যান্ট পিটিশন বাই রিজিওনাল সেন্টার ইনভেস্টর)। অর্থাৎ, আবেদনকারী কোন পদ্ধতিতে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করছেন, তার ওপর নির্ভর করবে কোন ফরম ব্যবহার করতে হবে। দুটি ফরমের উদ্দেশ্য একই হলেও বিনিয়োগের কাঠামো আলাদা। স্বতন্ত্র বিনিয়োগকারীর আবেদন এবং আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীর আবেদন আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়। দ্বিতীয় ধাপ: যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান পরিবর্তন অথবা বিদেশ থেকে ভিসার আবেদন প্রাথমিক বিনিয়োগ আবেদন জমা দেওয়ার পরবর্তী ধাপ নির্ভর করবে আবেদনকারীর অবস্থান এবং অভিবাসী ভিসা পাওয়ার সুযোগের ওপর। যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অবস্থান করছেন, তাঁদের জন্য রয়েছে ফরম আই-৪৮৫। এর মাধ্যমে তাঁরা স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে নিবন্ধন অথবা নিজেদের অভিবাসন অবস্থান পরিবর্তনের আবেদন করতে পারেন। তবে এ আবেদন জমা দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট ইবি-৫ শ্রেণিতে অভিবাসী ভিসা তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়ার সুযোগ থাকতে হবে। শর্ত পূরণ হলে আই-৫২৬ বা আই-৫২৬ই আবেদনের সঙ্গে একই সময়ে আই-৪৮৫ জমা দেওয়া যায়। প্রাথমিক আবেদন বিবেচনাধীন থাকলেও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এ সুযোগ রয়েছে। আবার প্রাথমিক আবেদন অনুমোদনের পরও আই-৪৮৫ জমা দেওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাস করছেন এবং যাঁদের আই-৫২৬ বা আই-৫২৬ই আবেদন অনুমোদিত হয়েছে, তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মাধ্যমে ফরম ডিএস-২৬০ জমা দিতে পারেন। এটি অভিবাসী ভিসার আবেদন। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভিসা পেলে তাঁরা বিদেশ থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি চাইতে পারবেন। তৃতীয় ধাপ: দুই বছরের শর্তসাপেক্ষ গ্রিন কার্ড আই-৪৮৫ আবেদন অনুমোদিত হলে অথবা ডিএস-২৬০ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইবি-৫ অভিবাসী ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর বিনিয়োগকারী শর্তসাপেক্ষ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পান। তাঁর যোগ্য পরিবারের সদস্যরাও এ সুবিধার আওতায় আসতে পারেন। তবে এ পর্যায়ে গ্রিন কার্ডের মেয়াদ হয় দুই বছর। অর্থাৎ, প্রথমবার অনুমোদন পাওয়ার পরই বিনিয়োগকারী নিঃশর্ত স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যান না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মসূচির শর্ত পূরণ করে পরবর্তী আবেদন জমা দিতে হয়। শেষ ধাপ: শর্ত তুলে নিতে আই-৮২৯ ফরম দুই বছরের শর্তসাপেক্ষ স্থায়ী বসবাসের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বিনিয়োগকারীকে ফরম আই-৮২৯ (পিটিশন বাই ইনভেস্টর টু রিমুভ কন্ডিশনস অন পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট স্ট্যাটাস) জমা দিতে হয়। দ্বিতীয়বার্ষিকী বা দুই বছর পূর্ণ হওয়ার ঠিক আগের ৯০ দিনের মধ্যে এ আবেদন করতে হবে। ইউএসসিআইএস আবেদনটি অনুমোদন করলে বিনিয়োগকারীর স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা থেকে শর্ত তুলে নেওয়া হয়। একই আবেদনে অন্তর্ভুক্ত যোগ্য পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রেও শর্ত প্রত্যাহার করা হয়। এর ফলে তাঁদের শর্তসাপেক্ষ গ্রিন কার্ড নিঃশর্ত স্থায়ী বসবাসের মর্যাদায় রূপ নেয়। ইবি-৫ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এ কর্মসূচিতে বিনিয়োগকারীদের নতুন বাণিজ্যিক উদ্যোগে বিনিয়োগ করতে হয় এবং নির্ধারিত কর্মসংস্থান সৃষ্টির শর্তও পূরণ করতে হয়। তাই আবেদন করার আগে বিনিয়োগের ধরন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ভিসার প্রাপ্যতা এবং প্রতিটি ফরম জমা দেওয়ার সময়সীমা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। ইউএসসিআইএসের প্রকাশিত নির্দেশনায় আবেদন থেকে শুরু করে শর্তসাপেক্ষ গ্রিন কার্ড পাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে শর্ত তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া তুলে ধরা হয়েছে। তবে এটি সবার জন্য একইভাবে প্রযোজ্য কোনো স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন নয়। আবেদনকারীর বিনিয়োগের ধরন, অভিবাসন অবস্থা এবং ভিসা পাওয়ার সুযোগের ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপ।
ডিভি লটারি চালুর নির্দেশে স্থগিতাদেশ, ২০২৭ সালের গ্রিন কার্ড আবেদন নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা
যুক্তরাষ্ট্রে খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় না খেয়ে থাকছেন অনেকে, বিপাকে সাধারণ পরিবার