সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

পেন স্টেটের ফ্র্যাট হাউসে কোকেন ভাগ করে করা হচ্ছে প্যাকেট, ক্যাম্পাসে বাড়ছে মাদকঝুঁকি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ২:৪৮
পেন স্টেটের ফ্র্যাট হাউসে কোকেন ভাগ করে করা হচ্ছে প্যাকেট
পেন স্টেটের ফ্র্যাট হাউসে কোকেন ভাগ করে করা হচ্ছে প্যাকেট

যুক্তরাষ্ট্রের পেন স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের জড়িত একটি বড় কোকেন পাচার চক্রের অভিযোগ সামনে আসার পর কলেজ ক্যাম্পাসে মাদক ব্যবহারের বিস্তার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পেনসিলভানিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে দুইটি অফ ক্যাম্পাস ফ্র্যাটারনিটি হাউসকে কেন্দ্র করে কোকেন কেনাবেচার অভিযোগে ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ জন ওই সময় পেন স্টেটের শিক্ষার্থী ছিলেন। 

 

তদন্তকারীদের অভিযোগ, ডেল্টা আপসিলন ও সিগমা চি ফ্র্যাটারনিটি হাউসে কোকেন এনে তা ভাগ করে প্যাকেট করা হতো। পরে মূলত পেন স্টেটের শিক্ষার্থীদের কাছেই এসব মাদক বিক্রি করা হতো। তদন্তে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত দুই মূল সরবরাহকারী ফিলাডেলফিয়া ও নিউইয়র্কে নিয়মিত যাতায়াত করে বড় পরিমাণ কোকেন সংগ্রহ করতেন। 

 

পেনসিলভানিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ডেভ সানডের কার্যালয় জানিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন ফ্র্যাটারনিটির নতুন সদস্য বা pledges ছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, তাদের কেউ কেউ ফ্র্যাটারনিটিতে অন্তর্ভুক্তির অংশ হিসেবে কোকেন কাটিং ও প্যাকেজিংয়ের কাজে যুক্ত হয়েছিলেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং সব আসামিই আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন, যতক্ষণ না আদালতে তাদের দোষ প্রমাণিত হয়। 

 

মামলার অন্যতম অভিযুক্ত অ্যাগোস্টিনো অ্যাবাতিয়েলোকে তদন্তকারীরা চক্রটির প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তার বিরুদ্ধে কোকেন সরবরাহ ও ষড়যন্ত্রসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আগস্টে তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং তার প্রাথমিক কোর্ট হিয়ারিংয়ে জামিন নাকচ করা হয়। পরে সেপ্টেম্বরে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলো কাউন্টি কোর্টে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। 

 

তদন্তে উঠে এসেছে আরও একজন গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্তের নাম, থমাস রবিনসন। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালে গোপন তথ্যদাতার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি ডেল্টা আপসিলন হাউস থেকে কোকেন বিক্রি করতেন এবং বিভিন্ন লেনদেনে পেমেন্ট অ্যাপ ব্যবহার করা হয়েছিল। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

 

এই মামলায় রবিনসনের বাবার বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি মাদক ও নগদ অর্থ থাকা একটি সেফ লুকিয়ে প্রমাণ গোপন এবং তদন্তে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধেও অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। 

 

পেন স্টেটের ঘটনাটি কলেজ ক্যাম্পাসে মাদক পাচারের বৃহত্তর প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে মাদক পাচারের পৃথক তদন্তে শিক্ষার্থীদের জড়িত থাকার ঘটনাও সামনে এসেছে। তবে পেন স্টেটের এই মামলাকে কেন্দ্র করে পুরো যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদক ব্যবহারের হার বেড়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো জাতীয় পর্যায়ের প্রমাণ এই তদন্ত একাই দেয় না।

 

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা অবশ্য সতর্ক করছেন, কলেজ বয়সী তরুণদের মধ্যে কোকেনের পাশাপাশি অন্যান্য স্টিমুল্যান্ট ও ভেজাল মাদকের ব্যবহারও উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে অবৈধ মাদকে অন্য ক্ষতিকর উপাদান মিশে থাকার ঝুঁকি থাকায় ব্যবহারকারীরা কী গ্রহণ করছেন, তা অনেক সময় নিশ্চিতভাবে জানেন না।

 

পেন স্টেটের ঘটনাটি এখনো চলমান আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। সেপ্টেম্বরে কয়েকজন অভিযুক্তের মামলা কাউন্টি কোর্টে পাঠানো হয়েছে এবং আরও কয়েকজনের প্রাথমিক শুনানি অক্টোবরের জন্য নির্ধারিত রয়েছে। ফলে তদন্তে উঠে আসা অভিযোগগুলোর পূর্ণ সত্যতা আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমেই নির্ধারিত হবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ওয়ার্ক পারমিট নবায়নে স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা বন্ধ
যুক্তরাষ্ট্রে ওয়ার্ক পারমিট নবায়নে স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা বন্ধ, প্রভাব পড়বে অভিবাসীদের ওপর

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যসহ নির্দিষ্ট শ্রেণির অভিবাসীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন স্থায়ী করেছে দেশটির সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নবায়নের আবেদন করলেও আগের মতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজের অনুমতির মেয়াদ বাড়বে না। ফলে নতুন অনুমোদন পেতে দেরি হলে অনেক অভিবাসীকে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখতে হতে পারে। এই পরিবর্তন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ এইচ-১বি ভিসাধারীদের যোগ্য স্বামী বা স্ত্রী এবং গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য, যাঁরা আলাদা ওয়ার্ক পারমিটের ওপর নির্ভরশীল।   যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস, ইউএসসিআইএস, নতুন চূড়ান্ত বিধিমালার মাধ্যমে আগের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর প্রথম অন্তর্বর্তী নিয়ম কার্যকর করা হয়েছিল। পরে ২০২৬ সালের অক্টোবরে সেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট শ্রেণির ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের আবেদনে স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা বন্ধের নীতি স্থায়ী রূপ পেয়েছে। আগের নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসী তাঁদের এমপ্লয়মেন্ট অথরাইজেশন ডকুমেন্ট বা ইএডি কার্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নবায়নের আবেদন করলে সর্বোচ্চ ৫৪০ দিন পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা পেতে পারতেন। ইউএসসিআইএসের কাছে আবেদন বিচারাধীন থাকলেও যোগ্য আবেদনকারীরা নির্দিষ্ট শর্তে চাকরি চালিয়ে যেতে পারতেন। এতে নতুন কার্ড হাতে পেতে দেরি হলেও অনেকের আয় বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি কমত। কিন্তু ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর বা তার পরে জমা দেওয়া নির্দিষ্ট শ্রেণির নবায়ন আবেদনের ক্ষেত্রে সেই স্বয়ংক্রিয় সুবিধা আর প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ সময়মতো আবেদন জমা দেওয়া এবং ইউএসসিআইএসের কাছ থেকে রিসিট নোটিশ পাওয়া মানেই কাজের অনুমতির মেয়াদ বেড়ে যাওয়া নয়। পুরোনো অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে নতুন অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কাজ বন্ধ রাখতে হতে পারে, যদি তাঁর অন্য কোনো বৈধ কাজের অনুমতি না থাকে। নতুন নিয়মের প্রভাব পড়তে পারে এইচ-৪ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ব্যক্তিদের ওপর। সাধারণত এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত বিদেশি পেশাজীবীদের স্বামী বা স্ত্রী এবং নির্দিষ্ট পরিবারের সদস্যরা এইচ-৪ স্ট্যাটাসে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারেন। তবে সব এইচ-৪ ভিসাধারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজের অনুমতি পান না। নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী স্বামী বা স্ত্রী ইউএসসিআইএসের কাছে আলাদা ইএডি কার্ডের আবেদন করতে পারেন। এইচ-৪ ভিসাধারী কোনো ব্যক্তির কাজের অনুমতি যদি ইএডি কার্ডের ওপর নির্ভর করে, তাহলে নবায়ন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব তাঁর চাকরির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের কার্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার কাছাকাছি, তাঁদের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার সময় এবং ইউএসসিআইএসের সিদ্ধান্ত পাওয়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই ধরনের সমস্যায় পড়তে পারেন গ্রিন কার্ডের জন্য অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস আবেদন জমা দেওয়া ব্যক্তিরা। তাঁদের মধ্যে অনেকে আই-৪৮৫ আবেদন বিচারাধীন থাকা অবস্থায় আলাদা ওয়ার্ক পারমিট ব্যবহার করে চাকরি করেন। এই শ্রেণির আবেদনকারীদের জন্যও নির্দিষ্ট শর্তে আগে স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা ছিল। নতুন নিয়মে সেই সুবিধা বন্ধ হওয়ায় অনুমোদন পেতে দেরি হলে কর্মজীবনে বিরতি তৈরি হতে পারে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন নিয়ম সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নয়। যেসব অভিবাসী তাঁদের নিজস্ব ভিসা স্ট্যাটাসের ভিত্তিতেই কাজের অনুমতি পান, তাঁদের ক্ষেত্রে ইএডি কার্ডের নিয়ম আলাদা হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী এল-২ এবং ই ভিসাধারীদের স্বামী বা স্ত্রীরা তাঁদের বৈধ স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে কাজের অনুমতি পেতে পারেন। ফলে ইএডি কার্ডের স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা বন্ধ হওয়া মানেই তাঁদের সবার কাজের অনুমতি বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। নতুন বিধিমালায় আগের আবেদনকারীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। যাঁরা ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবরের আগে যোগ্য শ্রেণিতে সময়মতো ইএডি নবায়নের আবেদন করেছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রে আগের স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা বহাল থাকতে পারে। তবে আবেদনটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়া, সঠিক ক্যাটাগরিতে থাকা এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করা জরুরি। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, যোগ্য পুরোনো আবেদনকারীরা তাঁদের মেয়াদোত্তীর্ণ ইএডি কার্ডের সঙ্গে নির্দিষ্ট আই-৭৯৭সি রিসিট নোটিশ ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ৫৪০ দিনের স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধার প্রমাণ দেখাতে পারেন। তবে এই সুবিধা সব ধরনের ইএডি কার্ডের জন্য প্রযোজ্য নয়। আবেদনকারীর ক্যাটাগরি এবং রিসিট নোটিশের তারিখের ওপর যোগ্যতা নির্ভর করে। এ ছাড়া টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা টিপিএসের মতো নির্দিষ্ট কর্মসূচির আওতায় কিছু ব্যক্তির জন্য আলাদা আইন বা ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত নির্দেশনার মাধ্যমে ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ বাড়ানোর ব্যবস্থা থাকতে পারে। এসব বিশেষ সুবিধা নতুন সাধারণ নিয়মের বাইরে বিবেচিত হতে পারে। তাই শুধু ইএডি কার্ডের মেয়াদ দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরির সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নতুন নিয়মের উদ্দেশ্য হলো কাজের অনুমতি নবায়নের আগে আবেদনকারীর যোগ্যতা এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য যাচাই নিশ্চিত করা। সরকারের অবস্থান হচ্ছে, শুধু নবায়নের আবেদন জমা দেওয়ার ভিত্তিতে নতুন মেয়াদের কাজের অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া উচিত নয়। নতুন সময়ের জন্য অনুমোদন দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় যাচাই সম্পন্ন করতে চায় কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে এই পরিবর্তনের কারণে অভিবাসী কর্মী এবং তাঁদের নিয়োগকর্তাদের জন্য বাস্তব সমস্যার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ইউএসসিআইএসের আবেদন প্রক্রিয়াকরণে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। কোনো কর্মীর বর্তমান ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন অনুমোদন না এলে তাঁকে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে বিরত থাকতে হতে পারে। এতে পরিবারের নিয়মিত আয়, রেন্ট, মর্টগেজ এবং অন্যান্য খরচ পরিচালনায় চাপ তৈরি হতে পারে। নিয়োগকর্তাদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে কর্মী নিয়োগের সময় এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে কাজের অনুমতি যাচাই করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কোনো কর্মীর বৈধ কাজের অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে এবং অন্য কোনো অনুমোদন না থাকলে নিয়োগকর্তা তাঁকে আগের মতো কাজে বহাল রাখতে পারবেন না। ফলে কর্মী ও প্রতিষ্ঠান উভয়েরই আগাম পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য এই পরিবর্তনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বাংলাদেশি পেশাজীবী এইচ-১বি ভিসায় কাজ করেন এবং তাঁদের যোগ্য স্বামী বা স্ত্রী এইচ-৪ স্ট্যাটাসে বসবাস করেন। আবার অনেকে গ্রিন কার্ডের আবেদন বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ইএডি কার্ডের মাধ্যমে চাকরি করছেন। এসব পরিবারের কোনো সদস্যের কাজের অনুমতি নবায়নে বিলম্ব হলে তা পারিবারিক আয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই যাঁদের ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ আগামী কয়েক মাসের মধ্যে শেষ হবে, তাঁদের এখন থেকেই নবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ইউএসসিআইএস সাধারণত যোগ্য আবেদনকারীদের বর্তমান ইএডি কার্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার সর্বোচ্চ ১৮০ দিন আগে নবায়নের আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ দেয়। তবে আবেদন আগে জমা দিলেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনুমোদন পাওয়া নিশ্চিত নয়। নবায়নের জন্য সাধারণত ফর্ম আই-৭৬৫ ব্যবহার করা হয়। আবেদনকারীর বর্তমান অভিবাসন স্ট্যাটাস, কাজের অনুমতির ক্যাটাগরি এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক নথির ওপর আবেদন প্রক্রিয়া নির্ভর করে। ভুল ক্যাটাগরি নির্বাচন, অসম্পূর্ণ তথ্য কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতির কারণে আবেদন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত বিলম্ব হতে পারে। ইউএসসিআইএসের অনলাইন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আবেদনকারীরা তাঁদের মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ফর্মের প্রসেসিং টাইম এবং সরকারি নির্দেশনা নিয়মিত যাচাই করা যেতে পারে। কোনো আবেদন দীর্ঘদিন বিচারাধীন থাকলে নির্দিষ্ট শর্তে কেস ইনকোয়ারি করার সুযোগও রয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে কিছু আবেদনকারী দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের অনুরোধ করতে পারেন। তবে এক্সপেডাইট রিকোয়েস্ট অনুমোদন করা হবে কি না, তা ইউএসসিআইএসের নিজস্ব নীতিমালা এবং আবেদনকারীর পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। শুধু চাকরি হারানোর আশঙ্কা থাকলেই দ্রুত অনুমোদন নিশ্চিত হয় না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানের অনুমতি শেষ হয়ে যাওয়া সব সময় একই বিষয় নয়। কোনো ব্যক্তি বৈধ অভিবাসন স্ট্যাটাস বজায় রেখেও সাময়িকভাবে কাজ করার অনুমতি হারাতে পারেন। আবার কিছু ভিসা ক্যাটাগরিতে ইএডি কার্ড ছাড়াও কাজের অনুমতি থাকতে পারে। তাই ব্যক্তির নির্দিষ্ট অভিবাসন পরিস্থিতি অনুযায়ী নিয়ম বুঝতে হবে। ২০২৬ সালের অক্টোবরে চূড়ান্ত করা এই বিধিমালা মূলত ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া পরিবর্তনকে স্থায়ী করেছে। এটি নতুন করে সব বিদেশি কর্মীর কাজের অনুমতি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নয়। বরং নির্দিষ্ট শ্রেণির ইএডি নবায়ন আবেদনকারীদের জন্য আগের স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির ব্যবস্থা বন্ধ করা হয়েছে। যাঁরা বর্তমানে এইচ-৪, গ্রিন কার্ড আবেদনকারী কিংবা অন্য কোনো ইএডিনির্ভর ক্যাটাগরিতে কাজ করছেন, তাঁদের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি হলো কার্ডের মেয়াদ, আবেদন জমা দেওয়ার তারিখ এবং নিজের ক্যাটাগরির নিয়ম যাচাই করা। প্রয়োজনে অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে আগেভাগে নবায়নের ব্যবস্থা করলে অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মবিরতির ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ৯:৩৪
বড় ধরনের যুদ্ধে বিপুলসংখ্যক সেনাসদস্য নিহত হলে তাঁদের বিশেষ মহড়া চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী

বড় যুদ্ধের প্রস্তুতিতে বিপুল গণকবর খোঁড়ার মহড়া শুরু যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর

হোয়াইট হাউসের ওপর দিয়ে উড়ছে এয়ার ফোর্স ওয়ান

হ্যালোইন অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের উড়োজাহাজের আকস্মিক উড্ডয়ন, চমকে গেলেন অনেকে

ইবি-৫ বিনিয়োগ কর্মসূচিতে গ্রিন কার্ডের আবেদন

যুক্তরাষ্ট্রে ইবি-৫ বিনিয়োগকারী ভিসায় গ্রিন কার্ড, আবেদন থেকে স্থায়ী হওয়ার পুরো প্রক্রিয়া

ডিভি লটারি নিয়ে নতুন আইনি অনিশ্চয়তা
ডিভি লটারি চালুর নির্দেশে স্থগিতাদেশ, ২০২৭ সালের গ্রিন কার্ড আবেদন নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ অর্থবছরের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি চালুর নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন দেশটির নবম সার্কিট আপিল আদালত। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য লটারির নিবন্ধন শুরুর সময় আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন চালুর যে নির্দেশনা ছিল, আপিল আদালতের সিদ্ধান্তে আপাতত তা কার্যকর থাকছে না।   বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর দেওয়া আদেশে আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিম্ন আদালতের নির্দেশ স্থগিত করেন। সরকারের করা আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। ফলে ডিভি-২০২৭ লটারির নিবন্ধন কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। এর আগে ১৪ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত ডিভি-২০২৭ কর্মসূচি চালুর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই আদেশ অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের সময়সূচি ঘোষণা এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু করার কথা ছিল। পাশাপাশি ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচিত ব্যক্তিদের তাঁদের আবেদনের যোগ্যতা সম্পর্কে জানানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। তবে পররাষ্ট্র দপ্তর ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিল করে এবং তা কার্যকর স্থগিত রাখার আবেদন জানায়। নবম সার্কিট আপিল আদালতের তিন বিচারকের প্যানেল সরকারের জরুরি আবেদন মঞ্জুর করে। প্যানেলে ছিলেন বিচারক এম. মার্গারেট ম্যাককিওন, এন. র‌্যান্ডি স্মিথ ও হলি এ. থমাস। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, মামলাটি পরিচালনাকারী রেড ঈগল ল নামের একটি অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচি পরিচালনাসংক্রান্ত আইনের আওতায় মামলা করার উপযুক্ত স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষ—এমনটি প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটি ডিভি লটারিতে নির্বাচিত ব্যক্তিদের আইনি প্রতিনিধিত্ব করে থাকে। তবে মামলায় কোনো সম্ভাব্য লটারি আবেদনকারীকে বাদী হিসেবে যুক্ত করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে এমন কোনো আবেদনকারীর প্রতিনিধিত্ব করছে বলেও দাবি করেনি। বিচারকদের মতে, ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলক কম অভিবাসী পাঠায়—এমন দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য অভিবাসনের সুযোগ তৈরি করা। কোনো আইন প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা এই আইনের উদ্দেশ্য নয়। ফলে শুধু সম্ভাব্য মক্কেল হারানোর আশঙ্কার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির মামলা করার আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তবে আদালত একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে। পররাষ্ট্র দপ্তর কেন ডিভি-২০২৭ লটারির নিবন্ধন চালু করেনি, সেই ব্যর্থতাকে আদালত সমর্থন করছে না। অর্থাৎ, নিবন্ধন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে বৈধ বলে চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হয়নি। আদালতের বর্তমান আদেশের মূল বিষয় হলো, মামলাটি করার ক্ষেত্রে বাদী প্রতিষ্ঠানের আইনগত অধিকার নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিচারক এন. র‌্যান্ডি স্মিথ পৃথক সম্মতিমূলক মতামতে আরও বলেছেন, রেড ঈগল ল সংবিধানের আওতায় মামলা করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত অবস্থানও প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। তাঁর মতে, প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির দাবি অনুমাননির্ভর। কারণ কোনো ব্যক্তি প্রথমে লটারিতে আবেদন করবেন কি না, নির্বাচিত হবেন কি না এবং শেষ পর্যন্ত ভিসার যোগ্যতা পূরণ করবেন কি না—এসব বিষয় নিশ্চিত নয়। মামলাটির বাদী প্রতিষ্ঠানটি ২০২৬ সালের আগস্টে পররাষ্ট্র দপ্তরের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ ছিল, কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই ডিভি-২০২৭ লটারির নিবন্ধন বন্ধ রাখা হয়েছে, যা প্রশাসনিক আইনবিধির সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ। নিম্ন আদালত প্রাথমিকভাবে তাদের পক্ষে নির্দেশ দিলেও আপিল আদালতের নতুন সিদ্ধান্তে সেই নির্দেশ আপাতত স্থগিত হয়ে গেল। রেড ঈগল ল-এর মালিক কার্টিস মরিসন জানিয়েছেন, তাঁরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রে এফ-১, এইচ-১বি বা অন্য কোনো অ-অভিবাসী ভিসায় অবস্থান করছেন—এমন একজন বিদেশি নাগরিককে মামলার বাদী হিসেবে যুক্ত করার চেষ্টা করছেন। তবে সম্ভাব্য বাদীকে প্রশাসনের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের আশঙ্কায় ভীত না হওয়ার শর্তও দিয়েছেন তিনি। ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার মানুষকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়া হয়। মূলত যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের হার তুলনামূলক কম, সেসব দেশের নাগরিকেরা নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে এই লটারিতে অংশ নিতে পারেন। লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত হওয়া মানেই গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হওয়া নয়; নির্বাচিত ব্যক্তিদের পরবর্তী ধাপে ভিসার আবেদন করতে হয় এবং সব শর্ত পূরণ করতে হয়। ১৯৮০-এর দশকে এ ধরনের কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে ১৯৯০ সালের ২৯ নভেম্বর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের স্বাক্ষরিত ইমিগ্রেশন অ্যাক্টের মাধ্যমে ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচি আইনি ভিত্তি পায়। নবম সার্কিট আপিল আদালত এখন মামলাটির পরবর্তী শুনানির জন্য সময়সূচি প্রকাশ করবে। সেই প্রক্রিয়ায় সরকারের আপিলের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আসার কথা। তত দিন পর্যন্ত ডিভি-২০২৭ লটারির নিবন্ধন চালুর কোনো নিশ্চিত সময়সূচি থাকছে না। তবে আদালতের এই আদেশকে ডিভি কর্মসূচি স্থায়ীভাবে বাতিলের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আপিলের ফলাফল এবং পররাষ্ট্র দপ্তরের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করবে ২০২৭ সালের লটারি নিয়ে পরবর্তী পরিস্থিতি।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ৫:৫৫
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই নিয়মিত খাবার খাওয়ার খরচ সামলাতে পারছেন না। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় না খেয়ে থাকছেন অনেকে, বিপাকে সাধারণ পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রায় ৪৩ শতাংশ কিশোর-কিশোরী গত এক বছরে কোনো না কোনো জুয়ায় অংশ নিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ৪৩ শতাংশ কিশোর জুয়ায় জড়িয়েছে, নতুন জরিপে উদ্বেগজনক তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে গড় ব্যালেন্স প্রায় ১৬ হাজার ৮৯১ ডলার হলেও মধ্যম ব্যালেন্স মাত্র ২ হাজার ৮০০ ডলার। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে চেকিং অ্যাকাউন্টে গড়ে ১৬ হাজার ৮৯১ ডলার, জেনে নিন বাস্তবতা

কারাগার থেকে জন্ম নেওয়া অরোরা স্কাই কাস্টনার মেধার জোরে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির সুযোগ পেয়ে নজর কেড়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
কারাগারে জন্ম নেওয়া তরুণী ১৮ বছর বয়সেই ফুল ফান্ডে হার্ভার্ডে ভর্তির অনন্য গল্প

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একটি কারাগারে জন্ম নেওয়া অরোরা স্কাই কাস্টনার নিজের মেধা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির সুযোগ পান। ২০২৩ সালে কনরো হাই স্কুল থেকে অসাধারণ ফলাফল নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন করেন তিনি। নিজের জীবনের কঠিন শুরুর কথা তুলে ধরে হার্ভার্ডে ভর্তির আবেদনের ব্যক্তিগত রচনায় লিখেছিলেন মাত্র একটি বাক্য, ‘আমার জন্ম কারাগারে।’   টেক্সাসের গ্যালভেস্টন কাউন্টি জেলে জন্ম হয় অরোরার। তখন তাঁর মা সেখানে কারাভোগ করছিলেন। জন্মের কয়েক দিন পর বাবা তাঁকে কারাগার থেকে নিয়ে আসেন। এরপর টেক্সাসের কনরো শহরে বাবার কাছেই বেড়ে ওঠেন তিনি। বাইপোলার ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত বাবা একাই মেয়েকে বড় করেন। মায়ের সঙ্গে অরোরার কোনো নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৪ বছর বয়সে মাত্র একবার মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল।   শৈশব থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী ছিলেন অরোরা। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি। ২০২৩ সালের ২৫ মে কনরো হাই স্কুল থেকে নিজের ব্যাচের তৃতীয় সর্বোচ্চ ফলাফল নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন করেন। অসাধারণ একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে অর্জন করেন সামা কাম লাউডে সম্মাননা।   তবে অরোরার এই সাফল্যের পেছনে শুধু তাঁর নিজের পরিশ্রম নয়, গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল একজন মেন্টরেরও। স্কুলের একটি কমিউনিটি মেন্টরিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে মোনা হ্যাম্বির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষের দেওয়া একটি নোট থেকে প্রথম অরোরার কথা জানতে পারেন হ্যাম্বি। নোটটি পড়ে তাঁর মনে হয়েছিল, মেয়েটি অত্যন্ত মেধাবী। হিউস্টন ক্রনিকলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সেই নোটটি এখনো তাঁর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।   মেন্টর হিসেবে অরোরার পাশে দাঁড়ান মোনা হ্যাম্বি। নিয়মিত যোগাযোগের পাশাপাশি পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তাঁকে উৎসাহ দিতে থাকেন। তাঁদের সম্পর্ক শুধু স্কুলে সপ্তাহে একদিন দুপুরের খাবার খাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। অরোরার স্বপ্ন পূরণে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেন হ্যাম্বি ও তাঁর স্বামী। ২০২২ সালের মার্চে তাঁরা অরোরাকে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস ঘুরিয়ে দেখাতে নিয়ে যান।   হার্ভার্ডের ক্যাম্পাসে সেই সফর অরোরার সিদ্ধান্তকে আরও দৃঢ় করে। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির আর্লি অ্যাকশন প্রক্রিয়ায় আবেদন করেন এবং ভর্তির সুযোগ পান। তাঁর জন্য পূর্ণ শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থাও হয়। কারাগারে জন্ম নেওয়া এবং একক অভিভাবকের পরিবারে বেড়ে ওঠা এই তরুণীর শিক্ষাজীবনের সাফল্য তখন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় আসে।   নিজের বেড়ে ওঠার পরিবেশের সঙ্গে মেন্টরের পরিবারের পরিবেশের পার্থক্যের কথাও তুলে ধরেছেন অরোরা। তিনি জানান, হ্যাম্বির পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে ভিন্ন ধরনের জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর। সেই অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচকভাবেই দেখেছেন তিনি। অরোরার কাছে মেন্টরের সহযোগিতা শুধু পড়াশোনার পরামর্শ ছিল না, বরং নিজের ভবিষ্যৎকে আরও বড় পরিসরে কল্পনা করার সুযোগও তৈরি করেছিল।   ২০২৩ সালে প্রকাশিত অরোরার এই জীবনকাহিনি শিক্ষা ও মেন্টরশিপের গুরুত্বকে নতুনভাবে সামনে নিয়ে আসে। হার্ভার্ডে পড়াশোনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আইন নিয়ে কাজ করার আগ্রহের কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। কারাগারে জন্মের পর বাবার কাছে বেড়ে ওঠা থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া পর্যন্ত তাঁর যাত্রায় ছিল ব্যক্তিগত অধ্যবসায়, পারিবারিক সহযোগিতা এবং একজন মেন্টরের দীর্ঘদিনের সমর্থন।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ৪:৩৩
বিশ্বভ্রমণের স্বপ্ন পূরণ করতে বাড়ি ও সম্পত্তি বিক্রি করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পল ও লিন মন্টোয়া দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত

সব সম্পত্তি বিক্রি করে বিশ্বভ্রমণে মার্কিন দম্পতি, মাঝপথে জাহাজ ছাড়ার নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় মসজিদ সম্প্রসারণের সরকারি বৈঠকে আজানের রেকর্ডিং বাজানোর কারণে এক নারীকে সভাকক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

ফ্লোরিডায় মসজিদ সম্প্রসারণ নিয়ে বৈঠকে আজান বাজানোয় নারীকে বের করে দিল পুলিশ

পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে দাম্পত্য সম্পর্কের ইতি টেনেছেন নিউইয়র্কপ্রবাসী সংগীতশিল্পী রোকসানা মির্জা ও মোহাম্মদ আজাদ। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে সংগীতশিল্পী রোকসানা মির্জা ও রিয়েলটর মোহাম্মদ আজাদের বিচ্ছেদ

0 Comments