কোভিডের উৎস ও চীনে গবেষণা নিয়ে প্রশ্নে নীরব ফাউচি, শুনানিতে একের পর এক নাটকীয় ঘটনা
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (এনআইএআইডি)-এর প্রাক্তন প্রধান ড. অ্যান্থনি ফাউচি সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের এক শুনানিতে রিপাবলিকান সেনেটরদের হতবাক করে দিয়েছেন। কোভিড-১৯ মহামারী সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থাকতে তিনি শুনানির শুরুতেই মার্কিন সংবিধানের 'ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট' বা পঞ্চম সংশোধনীর আইনি অধিকার প্রয়োগ করেন। সাধারণত কোনো সাক্ষী এই অধিকার প্রয়োগ করলে শুনানি সেখানেই শেষ হয়ে যায়। তবে এক্ষেত্রে সেনেট হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটির রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট সদস্যরা ফাউচিকে প্রায় চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যান।
চেয়ারম্যান র্যান্ড পলের নেতৃত্বে রিপাবলিকানরা মহামারীর উৎস, ফাউচির প্রকাশ্য মন্তব্য ও ব্যক্তিগত মতের বৈপরীত্য এবং ভাইরাসের সংক্রমণ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী ঝুঁকিপূর্ণ 'গেইন অফ ফাংশন' গবেষণায় অর্থায়নের বিষয়ে কঠোর জবাবদিহি দাবি করেন। অন্যদিকে, কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা এই শুনানিকে 'পক্ষপাতদুষ্ট' বলে আখ্যায়িত করে এর সমালোচনা করেন।
শুনানি শেষে সেনেটর র্যান্ড পল ঘোষণা করেন যে, আগামী সপ্তাহে ফাউচির বিরুদ্ধে কংগ্রেস অবমাননার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। একইসঙ্গে তিনি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কর্তৃক ফাউচিকে দেওয়া বিশেষ ক্ষমার (পার্ডন) বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। পলের দাবি, ফাউচি যদি সত্য কথা বলতেন এবং রুটিনমাফিক রেকর্ড ধ্বংস করার কথাও স্বীকার করতেন, তাহলেও তার কোনো আইনি ঝুঁকি থাকতো না। তবে ড. ফাউচি তার প্রারম্ভিক বিবৃতিতে র্যান্ড পলের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, তাকে কারাগারে পাঠানোর বিষয়ে পলের এক ধরনের 'প্রকাশ্য উন্মাদনা' রয়েছে এবং তাকে হেনস্তা করার উদ্দেশ্যেই ব্যক্তিগত ডায়েরি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে।
শুনানি চলাকালে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন ঘটনার জন্ম হয়। সিআইএ-এর অর্থায়ন, চীনে বিতর্কিত গবেষণা এবং তার প্রাক্তন উপদেষ্টা ডেভিড মোরেন্সের কেন্দ্রীয় সরকারের রেকর্ড ধ্বংস করার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো এড়িয়ে যেতে ফাউচি অন্তত ১১১ বার 'ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট'-এর আশ্রয় নেন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে শুনানির আধা ঘণ্টা পার হওয়ার পর, যখন ফাউচির আইনজীবী ডেভিড শার্টলার একটি বিবৃতি পড়ার চেষ্টা করেন। চেয়ারম্যান র্যান্ড পল তাকে থামিয়ে দেন এবং উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর ইউএস ক্যাপিটল পুলিশের সাহায্যে তাকে শুনানি কক্ষ থেকে বের করে দেন।
রিপাবলিকান সেনেটররা মহামারী চলাকালীন ফাউচির নেওয়া বিভিন্ন নীতি ও লকডাউনের তীব্র সমালোচনা করেন। সেনেটর বার্নি মোরেনো মাস্ক ছাড়া ফুটবল খেলা দেখতে যাওয়ায় এক পরিবারের গ্রেপ্তারের ঘটনা উল্লেখ করে ফাউচির চরম সমালোচনা করেন। পাশাপাশি, সেনেটর অ্যাশলি মুডি ফাউচির সদ্য প্রকাশিত ব্যক্তিগত ডায়েরির সূত্র ধরে দাবি করেন যে, ফাউচি প্রকাশ্যে লকডাউনের কথা অস্বীকার করলেও বাস্তবে তিনিই নিউইয়র্কের মেয়র এবং প্রেসিডেন্টকে লকডাউন দিতে প্ররোচিত করেছিলেন। এছাড়াও, সেনেটর জশ হাউলি ফাউচির বিরুদ্ধে সরকারি কর্মীদের ব্যবহার করে ব্যক্তিগতভাবে ১০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থমূল্যের নগদ পুরস্কার সংগ্রহের অবৈধ চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ আনেন।
শুনানির সবচেয়ে অস্বস্তিকর মুহূর্তটি তৈরি হয় যখন সেনেটর জনি আর্নস্ট অভিযোগ করেন যে, ফাউচি করোনা গবেষণায় ইঁদুরের শরীরে গর্ভপাত হওয়া ভ্রূণের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছিলেন। আর্নস্ট জানান, গবেষকরা এই ইঁদুরগুলোর নাম দিয়েছিলেন 'বিএলটি-এল', যা মূলত ইঁদুরের ভেতরে মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের একটি 'স্যান্ডউইচ' তৈরি করার সমতুল্য একটি অমানবিক প্রক্রিয়া। এই চরম বিতর্কিত অভিযোগের বিষয়েও ড. ফাউচি কোনো উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং নিজের নীরবতা বজায় রাখেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreমানসিক স্বাস্থ্য মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও অন্তত ৭০ জন রিক্রুটকে পুলিশ একাডেমিতে বেআইনিভাবে রেখে দেওয়ার অভিযোগে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (NYPD) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে তার পদ থেকে নীরবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। 'ক্যান্ডিডেট অ্যাসেসমেন্ট ডিভিশন'-এর প্রধান ইন্সপেক্টর টেরেল অ্যান্ডারসনকে এই অভিযোগে গত ১২ মে হাউজিং ইউনিটে বদলি করা হয়। ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর (IAB) চলমান তদন্তে জানা গেছে, মানসিক পরীক্ষায় ফেল করা ওই অযোগ্য রিক্রুটদের মধ্যে নিউইয়র্ক পুলিশের সাবেক লেফট্যানেন্ট কোয়াথিশা এপসের ভাতিজা এমিলিও অ্যান্ডিনোও রয়েছেন। উল্লেখ্য, কোয়াথিশা এপস সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর 'ওভারটাইমের বিনিময়ে যৌনতা' কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে গত ডিসেম্বরে পদত্যাগ করেন। সূত্র জানায়, এপস ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে তার ভাতিজাকে একাডেমিতে টিকিয়ে রাখার জন্য অ্যান্ডারসনকে ফোন করেছিলেন। তবে তদন্তকারীদের কাছে অ্যান্ডারসনের দাবি, পুলিশ বাহিনীতে চরম কর্মী সংকট থাকায় শূন্যস্থান পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চাপেই তিনি অযোগ্য প্রার্থীদের রেখে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। অ্যাকাডেমিতে অপর এক রিক্রুটকে চড় মারার অভিযোগে গত মাসে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পরও অ্যান্ডিনো এখনও সেখানে বহাল আছেন। উল্টো তিনি তার ফুফুর ওই কেলেঙ্কারির জেরে বৈষম্য ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন দাবি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। তাদের আইনজীবী এরিক স্যান্ডার্স দাবি করেছেন যে, এটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিশোধের একটি নজির। এদিকে, কর্মী সংকটে ধুঁকতে থাকা নিউইয়র্ক পুলিশে ২০০০ সালের ৪০,২০০ জন সদস্য থেকে বর্তমানে সংখ্যাটি ৩৪,৪৭৫-এ নেমে এসেছে। এই সংকট সামাল দিতে এবং আগামী বছরের মধ্যে ৩৫ হাজার পুলিশের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ রিক্রুটদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার মতো কিছু মানদণ্ড শিথিল করেছেন। অপরদিকে, কোয়াথিশা এপসকে ওভারটাইমের বিনিময়ে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করার অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক চিফ অফ ডিপার্টমেন্ট জেফরি ম্যাড্রেও বিতর্কের মুখে আকস্মিকভাবে অবসরে গেছেন। সব মিলিয়ে একের পর এক কেলেঙ্কারি ও কর্মী সংকটে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ এখন চরম ভাবমূর্তি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
একসময় সমুদ্র শাসন করত আমেরিকা, এখন চীনের ৪০০০ জাহাজের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র বানাচ্ছে মাত্র ১৫টি
মামদানির বিচারিক কমিটিতে নেই কোনো ইহুদি সদস্য, আছেন বিতর্কিত আসামিদের আইনজীবীরা
নিউইয়র্কে দিনের পর দিন অনাহারে রেখে অটিস্টিক কিশোরকে হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার মা-নানি
সারা জীবন আবাসন খাতে বর্ণবৈষম্য দূর করার পক্ষে সোচ্চার থাকলেও, প্রাক্তন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস এবার ক্যালিফোর্নিয়ায় এমন একটি বিলাসবহুল বাড়ি কিনেছেন, যে এলাকায় কৃষ্ণাঙ্গ বা অন্যান্য বর্ণের মানুষের উপস্থিতি প্রায় নেই বললেই চলে। জানা গেছে, ক্যালিফোর্নিয়ার পয়েন্ট ডুমে নামক অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও অভিজাত সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় ৮.১৫ মিলিয়ন ডলার খরচ করে ৪ হাজার বর্গফুটের এই বিশাল সম্পত্তিটি কিনেছেন তিনি। অত্যাধুনিক এই বাড়িটিতে সমুদ্রের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করার সুবিধার পাশাপাশি একাধিক ওয়াইন ফ্রিজ, ব্যক্তিগত গলফ গ্রিন এবং অন্তত পাঁচটি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে বাড়িটির অবস্থান। পয়েন্ট ডুমে এলাকাটি সেন্সাস ট্র্যাক্ট ৮০০৪.০৮ এর অন্তর্গত, যেখানে ২০১৯ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী কৃষ্ণাঙ্গদের হার ছিল মাত্র ০.২ শতাংশ এবং শ্বেতাঙ্গদের হার প্রায় ৯৪ শতাংশ। কমলা হ্যারিসের এমন এলাকা নির্বাচনের বিষয়টি অনেককেই অবাক করেছে, কারণ অতীতে তিনি কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত এলাকায় বসবাসের গুরুত্ব নিয়ে একাধিকবার মন্তব্য করেছেন। ২০১৯ সালে ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ওয়াশিংটন ডিসি এবং হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়ার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন যে, নিজের সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে বেড়ে ওঠা এবং তাদের সাথে থাকার অনুভূতি সম্পূর্ণ আলাদা। সেখানে বৈচিত্র্যের চেয়েও নিজের মতাদর্শ ও সংস্কৃতির মানুষের সংখ্যাধিক্য তার কাছে বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল। অথচ বর্তমানে তিনি এমন একটি এলাকায় স্থায়ী হচ্ছেন, যেখানে সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালের একটি রিভিউতে দাবি করা হয় যে, কৃষ্ণাঙ্গ ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের ওই এলাকার সৈকতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার জন্য এক ধরনের অদৃশ্য প্রাচীর তৈরি করে রাখা হয়েছে। অথচ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের একটি বড় সময় কমলা হ্যারিস এই ধরনের বর্ণবাদ ও বৈষম্যের দেয়াল ভাঙার কাজেই ব্যয় করেছেন। ২০১২ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল থাকাকালীন তিনি আবাসন বৈষম্যের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়া প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে এবং পরবর্তীতে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ঐতিহাসিকভাবে সুবিধাবঞ্চিত এলাকাগুলোর জন্য বিপুল অঙ্কের সহায়তা তহবিলের প্রস্তাব করেছিলেন। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় তার আফ্রিকান-আমেরিকান পরিচয় নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছিল, তেমনি ২০২৪ সালের নির্বাচনেও রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে কৃষ্ণাঙ্গ পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কৈশোরে শ্বেতাঙ্গ অধ্যুষিত এলাকা বার্কলে এবং পরবর্তীতে মন্ট্রিয়লে বেড়ে উঠলেও, প্রচারণার সময় অকল্যান্ডের সাথে নিজেকে যুক্ত করায় তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। আর এবার এমন একটি একচেটিয়া শ্বেতাঙ্গ এলাকায় বিপুল অর্থের বিনিময়ে বাড়ি কেনার সিদ্ধান্তটি তার অতীত আদর্শ ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির সাথে সাংঘর্ষিক বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কোভিডের উৎস ও চীনে গবেষণা নিয়ে প্রশ্নে নীরব ফাউচি, শুনানিতে একের পর এক নাটকীয় ঘটনা
ক্যালিফোর্নিয়ার প্যাসিফিক প্যালিসেইডসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভবনে ঢুকে পড়ল ট্রাক, ক্যাবে আটকা চালক
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনে পারিবারিক ছুটিতে পেটব্যথা থেকে ধরা পড়ল বিরল রোগ, প্রাণ গেল ৫ বছরের শিশুর
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন খাত ও সাপ্লাই চেইনকে সুরক্ষিত রাখতে এবং সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসী ট্রাক চালকদের লাইসেন্স বাতিলের পর সৃষ্ট শূন্যস্থান পূরণে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন "ফ্রিডম হলার্স" (Freedom Haulers) নামে একটি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সাবেক সামরিক সদস্যদের (ভেটেরান) কমার্শিয়াল ট্রাক ড্রাইভিং পেশায় নিয়োগ দেওয়া। পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এবং ভেটেরান অ্যাফেয়ার্স, যুদ্ধ ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় এই ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে। "ফ্রিডম হলার্স" প্রোগ্রামের অধীনে, যেসব ভেটেরানের সামরিক বাহিনীতে ভারী যানবাহন (২.৫ টনের বেশি) চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে, তারা সরাসরি কমার্শিয়াল ড্রাইভিং লাইসেন্সের (CDL) জন্য স্কিল টেস্ট বা রোড টেস্ট ছাড়াই আবেদন করতে পারবেন। আর যাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই, তারা জিআই বিলের (GI Bill) মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কমার্শিয়াল ড্রাইভিং স্কুলে প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন। শুধু তাই নয়, প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময়ে তারা আবাসন ভাতাও পেতে পারেন। গত বছর থেকে মার্কিন পরিবহন মন্ত্রণালয় ট্রাক ড্রাইভারদের ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা যাচাই এবং লাইসেন্সের বৈধতা নিয়ে কড়াকড়ি শুরু করে। অদক্ষ ও অবৈধভাবে ইস্যু করা লাইসেন্সধারী প্রায় হাজার হাজার অভিবাসী চালকের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। পরিবহন মন্ত্রী শন ডাফি এই উদ্যোগ সম্পর্কে বলেন, "আমাদের রাস্তা থেকে বিপজ্জনক বিদেশি চালকদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং আমেরিকার ট্রাকিং শিল্পে ভেটেরানদের যুক্ত করে দেশের সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করা হবে।" এই উদ্যোগের ফলে ট্রাক ড্রাইভিং পেশায় একটি বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ভেটেরানদের শৃঙ্খলা, দক্ষতা এবং মানসিক দৃঢ়তা এই পেশার জন্য অত্যন্ত উপযোগী বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের স্বপ্ন পূরণে সিনেটে নতুন বিল, উপকৃত হতে পারেন ৮০ লাখ অভিবাসী
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় পানিতে ডুবে ‘মৃত’ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর মর্গে শ্বাস নিতে শুরু করল ১৮ মাসের শিশু