ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের হয়রানিতে নীরব থাকায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মামলা করলেন মাহমুদ খলিল
ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মী মাহমুদ খলিল কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ফেডারেল দেওয়ানি অধিকার মামলা করেছেন। সোমবার নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় তিনি অভিযোগ করেছেন, ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থী ও অধিকারকর্মীদের দীর্ঘদিনের হয়রানি, হুমকি ও ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। খলিলের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নিষ্ক্রিয়তা তাকে ও অন্য শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানোর পরিবেশ তৈরি করেছে।
মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে করা হয়েছে। খলিলের সঙ্গে আরও কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী ও ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি মামলায় অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলার কারণে তারা নিয়মিত হয়রানি ও হুমকির মুখে পড়লেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের অভিযোগ যথাযথভাবে আমলে নেয়নি। মামলায় কলাম্বিয়ার বিরুদ্ধে বৈষম্য, হয়রানির বিষয়ে উদাসীনতা এবং অভিযোগ করার পর প্রতিশোধমূলক আচরণের অভিযোগও আনা হয়েছে।
খলিল সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বৈষম্যমূলক ও উদাসীন আচরণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তার অভিযোগ, শিক্ষার্থীরা একাধিকবার প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ও হয়রানির বিষয়ে সহায়তা চাইলেও প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি। মামলায় বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতির মধ্যেই ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি প্রকাশ করে তাদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর ঘটনা ঘটে।
খলিলের মামলায় ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া বিভিন্ন ঘটনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কলাম্বিয়ার ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের ছবি ও পরিচয় প্রকাশ করে একটি ট্রাক ঘোরানো হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহারের পাশাপাশি তাদের অনলাইনেও লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। এই ধরনের ঘটনাকে শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানো ও তাদের রাজনৈতিক মত প্রকাশ নিরুৎসাহিত করার অংশ হিসেবে দেখছেন বাদীরা।
এরপর গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ ও ক্যাম্প গড়ে ওঠে। খলিল তখন বিক্ষোভকারীদের অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন এবং শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে যোগাযোগের দায়িত্বেও যুক্ত ছিলেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের অনেক কর্মকাণ্ডকে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ৮ মার্চ খলিলকে তার কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ভবনের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা আটক করেন। সে সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করছিলেন। খলিল যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ ছিল না। আটকের পর তাকে ইমিগ্রেশন হেফাজতে রাখা হয়।
খলিল প্রায় ১০৪ দিন ইমিগ্রেশন হেফাজতে ছিলেন। এই সময়ের মধ্যে তার প্রথম সন্তানের জন্ম হয় এবং তিনি সন্তানের জন্মের সময় উপস্থিত থাকতে পারেননি। পরে ২০২৫ সালের জুনে তিনি হেফাজত থেকে মুক্তি পান। তবে মুক্তির পরও তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের আইনি প্রক্রিয়া বন্ধ হয়নি।
২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলস খলিলের বহিষ্কার-সংক্রান্ত আপিল খারিজ করে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ দেয়। এরপর তার আইনজীবীরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফিফথ সার্কিট কোর্ট অব আপিলসে আবেদন করেন। একই সঙ্গে তার পৃথক ফেডারেল মামলার আইনি প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। মে মাসে তার আইনজীবীরা জানান, তৃতীয় সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের পর্যালোচনা চাইবেন।
কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় নতুন মামলার নির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেনি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে প্রত্যেক শিক্ষার্থী ও সদস্য যেন নিরাপদ, স্বাগত ও সহায়তা পাওয়ার মতো পরিবেশে থাকতে পারেন, সেটি তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বৈষম্য ও হয়রানি থেকে ক্যাম্পাস কমিউনিটিকে সুরক্ষা দেওয়া এবং অভিযোগ এলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়।
খলিলের নতুন মামলাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ক্যাম্পাস নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। মামলাটিতে আদালতের কাছে ক্ষতিপূরণসহ বিভিন্ন প্রতিকার চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থী সংগঠনের ওপর নেওয়া কিছু বিশ্ববিদ্যালয় পদক্ষেপ পুনর্বিবেচনার দাবিও রয়েছে। এখন আদালতে অভিযোগগুলোর আইনগত ভিত্তি ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দায় কতটা রয়েছে, সেটিই পরবর্তী ধাপে নির্ধারিত হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের ট্র্যান্সজেন্ডার জামাতা জোনাথান ম্যাককিনসিকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত এক বৃদ্ধা তার জামিন আবেদনে চাঞ্চল্যকর দাবি তুলেছেন। ৭৭ বছর বয়সী শিলি চেন নামের ওই নারী তার মুক্তির জন্য এই হত্যাকাণ্ডের পুরো দায়ভার তার স্বামী এবং সহ-অভিযুক্ত শাউইয়ং ঝাংয়ের ওপর চাপিয়েছেন। গত সেপ্টেম্বরে ডাবলিন স্পোর্টস গ্রাউন্ডের পার্কিং লটে নিউইয়র্ক টাইমসের কর্মকর্তা ম্যাককিনসিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। চেনের আইনজীবী কার্টিস ব্রিগস আদালতে দাবি করেছেন, ম্যাককিনসিকে প্রথম গুলিটি চেন করেননি, বরং তার স্বামী ঝাং-ই এই মারাত্মক গুলি চালান। আইনজীবীর ভাষ্যমতে, চেন শুধু দেখেছিলেন যে তার স্বামী ম্যাককিনসিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছেন। এরপর স্বামী হামলার শিকার হতে পারেন ভেবে গাড়ি থেকে নেমে চেন ম্যাককিনসির নিথর শরীরে আরও কয়েকটি গুলি চালান। আইনজীবী জানান, চেন তার স্বামীর নির্দেশেই সেখানে গিয়েছিলেন এবং ভেবেছিলেন তারা শুটিং রেঞ্জে যাওয়ার জন্য বন্দুক সাথে নিচ্ছেন। অন্যদিকে, পুলিশি তদন্তে জানা গেছে যে, ঝাংয়ের মনে বদ্ধমূল ধারণা ছিল ম্যাককিনসি তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছেন, যাতে তিনি 'পূর্ণ স্বাধীনতা' পেতে পারেন। এমনকি ঝাংয়ের ধারণা ছিল, এর আগে সাইকেল চালানোর সময় দুবার তার ওপর যে গাড়ির ধাক্কা লেগেছিল, তার পেছনেও ম্যাককিনসির হাত ছিল। তদন্তে দম্পতির অ্যাপার্টমেন্ট থেকে চাঞ্চল্যকর সব আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেখানে ম্যাককিনসির এমন কিছু ছবি পাওয়া যায়, যেগুলোর মুখ কেটে ফেলা হয়েছিল এবং বুকে ও ডান চোখে কালো দাগ দিয়ে চিহ্নিত করা ছিল, যা পরে তার শরীরে হওয়া গুলির ক্ষতের সাথে মিলে যায়। চেনের আইনজীবীরা দাবি করেছেন যে, ঝাং ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রম রোগে ভুগছিলেন। চেন বর্তমানে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে ভুগছেন উল্লেখ করে তার আইনজীবী বলেন, সান্তা রিটা কারাগারে রাখা হলে তা এই বৃদ্ধার জন্য 'মৃত্যুদণ্ড' হতে পারে। আগামী ৪ নভেম্বর তার জামিন আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোরে আগুনে পুড়ল মসজিদ, আগেই পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন অভিযুক্ত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ময়লার ব্যাগে মিলল অজ্ঞাত ব্যক্তির ম রদেহ, তদন্তে পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রে ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে বিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ ‘সত্য’, দাবি ডেমোক্র্যাট নেতার
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে মুসলিম আমেরিকানদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কংগ্রেসনাল, অঙ্গরাজ্য এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পদে ডজনখানেক মুসলিম আমেরিকান প্রার্থী এবার ব্যালটে লড়াই করছেন। প্রার্থীদের বিজয়ী করতে এবং ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে টানতে বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনও জোরালোভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। মুসলিম নেটওয়ার্ক টিভির (এমএনটিভি) তথ্যমতে, এবারের নির্বাচনে অন্তত ৫১ জন মুসলিম আমেরিকান ব্যালটে রয়েছেন, যার মধ্যে ১১ জন লড়ছেন কংগ্রেসের জন্য। মিশিগান থেকে ডেমোক্রেটিক পার্টির হয়ে লড়ছেন আবদুল এল-সায়েদ; তিনি নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে ইতিহাস গড়বেন। এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি পদে মুসলিম প্রার্থীদের প্রথম হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদের মধ্যে নিউজার্সির প্রথম মুসলিম কংগ্রেস সদস্য হিসেবে অ্যাডাম হামাউই, নিউইয়র্কের স্টেট লেজিসলেচারে প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান হিসেবে আবীর কাওয়াস এবং টেক্সাস তথা আমেরিকান সাউথের প্রথম মুসলিম কাউন্টি এক্সিকিউটিভ হিসেবে লেটিশিয়া প্লামার নির্বাচিত হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন। এর বাইরেও মুসলিম কমিউনিটিতে পরিচিত নামের আরও প্রায় ৫০ জন প্রার্থীর কথা জানা গেছে, তবে তাদের অংশগ্রহণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (কেয়ার)-এর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশজুড়ে ২২৫ জন মুসলিম আমেরিকান নির্বাচিত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংগঠনটি গত আগস্টে 'মুসলিমস.ভোট' (Muslims.Vote) নামে একটি নির্দলীয় প্রচারণা শুরু করেছে, যার মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধন ও ভোটাধিকার প্রয়োগে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এবারের নির্বাচনী চক্রে ২০ লাখ নতুন মুসলিম ভোটার নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। তারা ধারণা করছে, ১২টি অঙ্গরাজ্যের প্রায় ২৫ লাখ নিবন্ধিত মুসলিম ভোটার কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। উল্লেখ্য, মিশিগানের আগস্ট প্রাইমারির আগে কেয়ার ৪৮ হাজারেরও বেশি মুসলিম ভোটারের কাছে 'রোবোকল' প্রচারণার মাধ্যমে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিল। মাঠপর্যায়ের সংগঠকদের মতে, ভোটারদের অগ্রাধিকারের জায়গাগুলোতে নানা ভিন্নতা রয়েছে। চলতি মাসে ওহাইওর কলম্বাসে অনুষ্ঠিত একটি সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা গাজা যুদ্ধ, অভিবাসন নীতি এবং বাকস্বাধীনতার মতো বিষয়গুলোকে তাদের প্রধান উদ্বেগের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। পাশাপাশি ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতার কথাও উঠে এসেছে; যার মধ্যে ভোটকেন্দ্রের কাছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি, যাতায়াত সমস্যা, আইডি সংক্রান্ত কড়াকড়ি এবং ভোটার নিবন্ধনের সময়সীমার বিষয়টি অন্যতম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের পাশে দাঁড়াতে মুসলিম, খ্রিষ্টান ও ইহুদি নেতাদের সম্মেলন
যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম কমিউনিটির জন্য নতুন উদ্যোগ, দুই সন্তানের মা গড়ে তুললেন হালাল সারকিউটারি ব্যবসা
পঞ্চাশের কোঠায় এসে যুক্তরাষ্ট্রের গোছানো জীবন ছেড়ে নেদারল্যান্ডসে নতুন ঠিকানা মার্কিন দম্পতির
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি স্কুলের ১২ শিক্ষার্থী হারিকেন-পরবর্তী পুনরুদ্ধার কাজে অংশ নিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লোরিডার প্যানহ্যান্ডল এলাকার বাসিন্দাদের সহায়তায় তিন দিনের স্বেচ্ছাসেবী অভিযানে অংশ নেয় তারা। কেসউইক ক্রিশ্চিয়ান স্কুলের নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সামারিটানস পার্সের সঙ্গে কাজ করে। ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, শিক্ষার্থীরা ফ্লোরিডা ও আলাবামা অঙ্গরাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকার বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়ে সহায়তা করেছে। হারিকেন ইসাইয়াসের আঘাতে বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে, বাড়িঘর ও যানবাহনের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে এবং রাস্তাঘাটে ছড়িয়ে পড়ে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ। এসব সরিয়ে নিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের কাজ ছিল কাটা গাছের ডালপালা ও কাঠের টুকরো সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যাওয়া, যাতে ভারী যন্ত্রের সাহায্যে সেগুলো সরানো যায়। কয়েক দিনের পরিশ্রমে তারা কয়েক শ পাউন্ড কাঠ ও ধ্বংসাবশেষ সরাতে সক্ষম হয়। দলটির সঙ্গে ছিলেন স্কুলের ঊর্ধ্বতন বিভাগের প্রধান লি মর্টিমার। তিনি জানান, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের যে মানবিক মূল্যবোধ শেখানো হয়, বাস্তবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সেগুলো প্রয়োগ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থী ম্যাগি রচফোর্ডের কাছে এই স্বেচ্ছাসেবা ছিল ব্যক্তিগত অনুভূতির বিষয়। কয়েক বছর আগে তাঁর দাদাও হারিকেনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। তখন পরিবারের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বুঝেছিলেন, দুর্যোগের পর মানুষের সহায়তা কতটা প্রয়োজন। ম্যাগি জানান, অন্য কোনো মানুষ যদি তাঁর দাদার পাশে আরও বেশি করে দাঁড়াতেন, তাহলে ভালো লাগত। সেই ভাবনা থেকেই এবার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। আরেক শিক্ষার্থী বিলি হেনরি জানান, মানুষের প্রয়োজনের সময়ে সহযোগিতা করতে পেরে তিনি আবেগাপ্লুত হয়েছেন। কয়েকজন বাসিন্দা শিক্ষার্থীদের সহায়তা পেয়ে কেঁদেও ফেলেন। এই অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের কাছে শুধু স্বেচ্ছাসেবার কাজ ছিল না; বরং জীবনের অনিশ্চয়তা, মানুষের প্রতি সহমর্মিতা এবং নিজের যা আছে তার মূল্য বোঝারও শিক্ষা দিয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আবার বড় ধরনের দুর্যোগ হলে আরও শিক্ষার্থীকে এমন মানবিক কাজে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে তরুণদের এই অংশগ্রহণ স্থানীয় পর্যায়ে নতুন আশার বার্তা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকিতে স্ত্রীকে প্লাস্টিকের ব্যাগে শ্বাসরোধে হ ত্যার চেষ্টা, অভিযুক্ত ৯২ বছরের বৃদ্ধ
নিউইয়র্কে স্কুলে বুলিংয়ের অভিযোগ করায় ১৫ বছরের কিশোরকে গু লি করে হ ত্যা, দাবি বাবার